১৪ আগস্ট, ২০২১

কারবালা পর্ব-০৩ : মুসলিম বিন আকিলের মর্মান্তিক শাহদাত



তখন হেজাজ নামে প্রদেশের অধীনে মক্কা ও মদিনা শহর ছিল। মদিনা ছিল কেন্দ্র। ওলিদ বিন উতবা ছিলেন হেজাজের গভর্নর। ইয়াজিদের আনুগত্য এড়ানোর জন্য আবু বকর রা.-এর নাতি আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের রা. মদিনা ছেড়ে মক্কায় চলে যান। সেখানে তার সাথে হুসাইন রা. তাঁর পরিবারসহ যুক্ত হন।

বাইয়াত করাতে না পারায় ও মদিনার নিয়ন্ত্রণ সঠিকভাবে রাখতে না পারায় ইয়াজিদ ওলিদ বিন উতবাকে বরখাস্ত করেন এবং সে স্থানে নতুন নিয়োগ দেন আমর বিন সাঈদকে। আমর ছিল কঠোর প্রকৃতির মানুষ। আমর বিন সাঈদ মদিনায় দায়িত্ব গ্রহণ করে মদিনাবাসীকে শাসালেন তারা যাতে আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের রা.-কে সাহায্য না করেন। এছাড়াও তিনি মক্কা আক্রমণ করে ইবনে যুবায়ের রা. ও হুসাইন রা.-কে শায়েস্তা করার প্রতিজ্ঞা করেন। এটি ছিল জিলকদ মাস, যখন আরবের মানুষ হজ্বের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এই মাসে যুদ্ধ নিষিদ্ধ। তাই আমর বিন সাঈদ হজ্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইলো। এদিকে ইবনে যুবায়ের রা. মক্কায় ইয়াজিদের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেছেন। ফলে সেখানের কেউ ইয়াজিদের পক্ষে বাইয়াত নেয়নি। হেজাজের নায়েবে গভর্নরের অফিস ছিল মক্কায়। নায়েবে গভর্নরের নাম হারিস বিন খালিদ। ইবনে যুবায়ের রা. তাকে ইমামতিতে বাধা দিয়ে হুসাইন রা.-কে ইমামতি করার জন্য আহ্বান জানান। আমর বিন সাঈদ অপেক্ষা করতে রাজি থাকলেও ইয়াজিদ মোটেই রাজি ছিল না। তিনি আমর বিন সাঈদকে নির্দেশ দিলেন ইবনে যুবায়ের রা.-কে যেন গ্রেপ্তার করে তার দরবারে হাজির করা হয়। সাথে এটাও বলেছেন, সে এখন বাইয়াত নিলে গ্রহণ করা হবে না। তার গর্দানে বেড়ি পরিয়ে যাতে দামেশকে ইয়াজিদের কাছে হাজির করা হয়। হেজাজের গভর্নর উনাইস বিন আমরকে প্রধান করে ৭০০ জন সৈন্যের একটি বাহিনী তৈরি করে, যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয় অবিলম্বে আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের রা.-কে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসা। উনাইস বিন আমরের বাহিনী মক্কার কাছাকাছি এলে ইবনে যুবায়ের রা. তাদের বাধা দেন। মক্কার সন্নিকটে উভয় বাহিনীর যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে ইয়াজিদ বাহিনী পরাজিত হয় ও পালিয়ে যায়। রমজান মাস থেকেই ইরাক (কুফা) থেকে নানান প্রতিনিধি দল ও অনেক চিঠি হুসাইন রা.-এর আসতে থাকে। ইরাকবাসী যখন জানতে পারলো হুসাইন রা. বাইয়াত হন নি তখন তাদের উতসাহ বেড়ে যায়। তারাও তাদের সংকল্পে অটুট থাকে। তারাও বাইয়াত নেয় নি ইয়াজিদের। গোটা কুফাবাসী ইয়াজিদের আনুগত্য থেকে বিরত রইলো এবং তারা হুসাইন রা.-এর হাতে খিলাফতের বাইয়াত নিতে প্রস্তুত। চিঠির পর চিঠি আসতে লাগল। এভাবে পাঁচ শতাধিক চিঠি হুসাইন রা. এর কাছে এসে জমা হল। প্রকৃত অবস্থা যাচাই করার জন্য হুসাইন রা. তাঁর চাচাতো ভাই মুসলিম বিন আকীলকে পাঠালেন। মুসলিম কুফায় গিয়ে দেখলেন, আসলেই লোকেরা হুসাইনকে খলিফা হিসেবে চাচ্ছে। লোকেরা মুসলিমের হাতেই হুসাইনের পক্ষে বাইয়াত নেওয়া শুরু করলো। কুফার একজন আমীর হানী বিন উরওয়ার ঘরে বাইয়াত সম্পন্ন হল। তারা জান মাল দিয়ে খিলাফতের মর্যাদা রক্ষা করার শপথ গ্রহণ করলো। মুসলিম বিন আকিলের কাছে হুসাইন রা.-এর পক্ষে জিহাদ করার জন্য বাইয়াত গ্রহণকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তেই লাগলো। এই সংখ্যা যখন আঠারো হাজার অতিক্রম করলো তখন মুসলিম বিন আকিল চিঠি লিখলেন হুসাইন রা.-কে। জানালেন ইরাকবাসী প্রস্তুত। তারা খিলাফতের জন্য বাইয়াত নিয়েছে। পত্র পাওয়ামাত্র যেন হুসাইন রা. ইরাকের পথে রওনা হন। এদিকে কুফার গভর্নর ছিলেন নুমান বিন বশির রা.। তিনি হিজরতের পরে জন্মগ্রহণকারী ১ম আনসার সাহাবি। উসমান রা. হত্যার বিচার চেয়ে তিনি মুয়াবিয়া রা. পক্ষাবলম্বন করেন। মুয়াবিয়া রা. তাকে কুফার গভর্নর নিযুক্ত করেন। ইয়াজিদ ক্ষমতায় এলে নুমান বিন বশির রা. কুফার জনগণকে ইয়াজিদের আনুগত্য করাতে সক্ষম হন নাই। মুসলিম বিন আকিল কুফায় এসে হুসাইন রা.-এর পক্ষে গোপনে বাইয়াত নিচ্ছিলেন, এই খবর নুমান বিন বশির রা.-এর কাছে পৌঁছলে তিনি তা এড়িয়ে যান ও গুরুত্বারোপ করেননি। তিনি তার খুতবায় মতভিন্নতা পরিহার ও ঐক্যবদ্ধ থাকার নসিহত করেছিলেন। তিনি কারো বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেন নি। এই খবর ইয়াজিদের কাছে পৌঁছলে ইয়াজিদ অত্যন্ত রাগান্বিত হন এবং নুমান বিন বশির রা.-কে গভর্নর পদ থেকে বরখাস্ত করেন। একইসাথে কুফাবাসীকে শায়েস্তা করার জন্য নিষ্ঠুর প্রকৃতির লোক বসরার গভর্নর উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদকে কুফার গভর্নরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন। অর্থাৎ ইবনে জিয়াদ এখন দুই প্রদেশের গভর্নর। ইয়াজিদের শাসনামলে নুমান বিন বশির রা. নিষ্ক্রিয় থাকেন। তার মৃত্যুর পর তিনি মক্কাভিত্তিক খিলাফতের খলিফা আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের রা.-এর অনুগত হন। এই অপরাধে উমাইয়া সৈন্যরা তাঁকে খুন করে। ইয়াজিদ কুফার পরিস্থিতি তার অনুকূলে আনার জন্য দ্রুত কুফায় যাওয়ার জন্য উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদকে যাওয়ার নির্দেশ দেন। উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ কুফায় গিয়ে পৌঁছলেন। ১৭ জন সৈন্যসহ উবাইদুল্লাহ কুফার গেইটে যখন পৌঁছলো তখন তার মুখ ঢাকা ছিল। কুফার জনগণ ভেবেছে হুসাইন রা. এসে গেছেন। মুহূর্তেই জনগণ তাকে ঘিরে জমায়েত হয়ে গেল ও উল্লাস করতে লাগলো। উবায়দুল্লাহ তার পরিচয় দিয়ে সবাইকে সরে যেতে বললো। কুফাবাসীর মন খারাপ হলো। এদিকে নুমান বিন বশির রা. গুজব শুনে গভর্নর হাউসের দরজা বন্ধ করে দিল। উবাদুল্লাহ প্রবেশ করতে চাইলে তিনি হুসাইন মনে করে বলেন, এই আমানত আমি আপনার হাতে দিতে পারি না। উবাইদুল্লাহ ধমক দিয়ে দরজা খুলতে বললে তিনি বুঝতে পারেন এটা হুসাইন রা. নয়। তিনি দরজা খুললেন, বরখাস্ত হওয়ার খবর পেলেন। উবাইদুল্লাহকে চাবি দিয়ে তিনি বের হয়ে চলে গেলেন। ইয়াজিদ উবাইদুল্লাহকে নির্দেশ দিলেন যেন মুসলিম বিন আকিল ও তার স্থানীয় আশ্রয়দাতাদের হত্যা করা অথবা নির্বাসন দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণ করে উবাইদুল্লাহ মসজিদে সবাইকে সমবেত হতে বললেন। এরপর জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকা ও শাসকের অনুগত হওয়ার জন্য আহ্বান জানালেন। মুসলিম বিন আকিলসহ অন্যান্য রাষ্ট্রবিরোধীদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য বললেন। যাদের আশ্রয়ে তারা থাকবে তাদের মৃত্যদণ্ড দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিলেন। গোয়েন্দারা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো মুসলিম বিন আকিলের সন্ধানে। উবাইদুল্লাহর গোয়েন্দারা নিশ্চিত হলো হানী বিন উরওয়ার ঘরে হুসাইন রা.-এর পক্ষে বাইয়াত নেওয়া হচ্ছে। একজন গোয়েন্দা হুসাইন রা.-এর পক্ষে বাইয়াত নেওয়ার ভান করে মুসলিম বিন আকিলের সাথে দেখা করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। হানি বিন উরওয়া ছিলেন কুফার একজন আমীর। তিনি ছিলেন প্রভাবশালী। তার অনেক অনুসারী ছিল। উবাইদুল্লাহ শাসক হয়ে আসার পর প্রায় সব আমীর তার সসাথে দেখা করলেও হানি দেখা করেননি। এতে উবাইদুল্লাহ তার সৈন্যদের হানিকে নিয়ে আসতে বললো। হানি জানালো সে অসুস্থ। সুস্থ হলে সে দেখা করতে আসবে। কিন্তু উবাইদুল্লাহ তাকে সে সুযোগ দেয়নি। আসতে বাধ্য করে। উবাইদুল্লাহ হানিকে মুসলিম বিন আকিলের বাইয়াত ও অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে হানি উত্তর দিতে অস্বীকার করেন ও মুসলিম বিন আকিলের সন্ধান জানে না বলে জানান। এই সময় বাইয়াত নেওয়া ঐ গোয়েন্দা যখন সামনে এসে দাঁড়ায় তখন হানি হতবুদ্ধি হয়ে যায়। উবাইদুল্লাহ হানি ভয়ংকর আঘাত করে। এতে তার মুখমণ্ডল রক্তাক্ত হয়ে যায়। হানির লোকেরা জমায়েত ও শোরগোল করতে থাকে। উবাইদুল্লাহ তার প্রতিনিধির মাধ্যমে জানায় হানি জীবিত আছে। তাকে কেবল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকে রাখা হয়েছে। কেউ যেন হইচই করে নিজের বিপদ না ডাকে। হানির লোকেরা পিছিয়ে গেল। এদিকে মুসলিম বিন আকিল এই খবর শুনতে পেয়ে কুফার রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তিনি তার হাতে বাইয়াত নেওয়াদের একটি সাংকেতিক বাক্য শিখিয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন যখন সময় আসবে তখন তিনি 'ইয়া মনসুর, আমুতু' বলে সংকেত দিবেন। তখন সবাই একযোগে অস্ত্রহাতে বেরিয়ে পড়বে। রাস্তায় বেরিয়ে মুসলিম সাংকেতিক বাক্য উচ্চারণ করলেন। মুহূর্তের মধ্যে কুফাবাসীরা সবাই সাংকেতিক বাক্য বলতে লাগলো। অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৪০০০ যোদ্ধা ইয়াজিদের গভর্নর উবাইদুল্লাহর বিরুদ্ধে ও হানিকে উদ্ধার করতে সমবেত হয়ে গেল। অতঃপর মুসলিম বিন আকিল চার হাজার সমর্থক নিয়ে অগ্রসর হয়ে দুপুরের সময় উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদের প্রাসাদ ঘেরাও করলেন। হানিকে ফিরিয়ে দিতে বললেন। এটা এমন সময়ে হলো যখন কুফার আমীররা উবাইদুল্লাহর সাথে ছিল। উবাইদুল্লাহ তাদের ওপর প্রেসার ক্রিয়েট করলো ও তাদের জিম্মি করলো যাতে তারা তাদের আত্মীয় ও অনুসারীদের ফিরে যেতে বলে। আমীররা একের পর এক প্রাসাদের জানালা দিয়ে তাদের অনুসারী ও আত্মীয় ফিরে গিয়ে তাদের জান বাঁচাতে অনুরোধ করতে থাকলো। এতে অনেকে ফিরে গেল। এরপর একসময় উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ প্রাসাদে দাঁড়িয়ে এক ভাষণ দিলেন। তাতে তিনি ইয়াজিদের সেনাবাহিনীর ভয় দেখালেন। তিনি এমন ভীতি প্রদর্শন করলেন যে, লোকেরা ইয়াজিদের ধরপাকড় এবং শাস্তির ভয়ে কুফার লোকেরা আস্তে আস্তে পলায়ন করতে শুরু করল। যারা যাচ্ছিল না তাদের স্ত্রী-স্বজনরা এসে তাদের ভালোবাসা ও ভয় দেখিয়ে নিয়ে গেল। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর মুসলিম বিন আকীল দেখলেন,আল্লাহর একজন বান্দাও তার সাথে অবশিষ্ট নেই। এবার তাকে গ্রেপ্তার করা হল। উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ তাকে হত্যার আদেশ দিলেন। শহীদ হওয়ার পূর্বে মুসলিম বিন আকিল ব্যাপক নির্যাতনের মুখোমুখি হলেন। এক পর্যায়ে মুসলিম তার মৃত্যু নিশ্চিত বুঝতে পেরে ইবনে যিয়াদের কাছে ওসিয়ত করার জন্য চাইলেন। উবাইদুল্লাহ অনুমতি দিলে তিনি কুফায় থাকা উমর বিন সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাসকে ডাকলেন। তাকে বললেন, কুফায় এক ব্যাক্তির কাছে আমার ৭০০ দিরহাম ঋণ আছে। তুমি পরিশোধ করে দিও। ইবনে যিয়াদ থেকে আমার লাশ চেয়ে নিয়ে দাফন করবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হুসাইন রা.-কে এখানকার পরিস্থিতি জানিয়ে দিবে। আমি তাঁকে কুফায় আসতে লিখে পাঠিয়েছে। উমর বিন সা'দ এসব কথা ইবনে যিয়াদকে জানালে সে অনুমতি দিল ওসিয়ত পুরো করতে। এরপর ইবনে যিয়াদ প্রাসাদের সর্বোচ্চ স্থানে নিয়ে গেল মুসলিমকে। সেখানে শিরচ্ছেদ করে তাকে প্রাসাদ থেকে ফেলে দেওয়া হলো। শাহদাতের পূর্বে মুসলিম বিন আকিল তাকবির, তাহলিল, তাসবীহ ও ইস্তেগফার পড়ছিলেন। মুসলিমকে হত্যা করার পর উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ হানি বিন উরওয়াকেও হত্যা করে। শুধু তাই নয়, ইয়াজিদের পাঠানো সন্ত্রাসী ইবনে যিয়াদ খুঁজে খুঁজে কুফার বহু আলেম ও সৈনিক যারা হুসাইন রা.-এর পক্ষে জনমত গঠন করেছিলেন তাদের হত্যা করেছে। ইবনে যিয়াদ মুসলিম বিন আকিলের মাথা দামেশকে পাঠিয়ে খুশি করেছে ইয়াজিদকে। ইয়াজিদ তা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছে। ইয়াজিদের বাবা মুসলিমের বাবার কাটা মাথার প্রদর্শনী করেছে। আর ইয়াজিদ করেছে মুসলিমের কাটা মাথার প্রদর্শনী। মুসলিম বিন আকিলের শাহদাতের দিন ছিল যিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ আরাফার দিবসে। এর আগেই মুসলিমের চিঠি পেয়েছিলেন হুসাইন রা.। সেই চিঠির ওপর ভিত্তি করে যিলহাজ্জ মাসের ৮ তারিখ অর্থাৎ মুসলিমের শাহদাতের আগের দিন হুসাইন রা. মক্কা থেকে কুফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিলেন। ৬০ হিজরির শেষ মাসে হুসাইন রা. তার পরিবারকে সাথে নিয়ে রওনা হয়েছিলেন। তার প্রায় একমাস পরে ৬১ হিজরির প্রথম মাস মহররমের ২ তারিখ ইরাকের কারবালা প্রান্তরে তাঁবু স্থাপন করেন। কারবালা ছিল কুফা থেকে ৭০ কিলোমিটার উত্তরে। হুসাইন রা. তাঁর পরিবার ও অনুসারীদের নিয়ে প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে কুফার কাছাকাছি কারবালায় পৌঁছেন। এখানেই ১০ মহররম তাঁর সাথে ইয়াজিদের সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে যুদ্ধ হয়।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন