দ্বীন প্রতিষ্ঠায় রাসূল সা. লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দ্বীন প্রতিষ্ঠায় রাসূল সা. লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২০ অক্টো, ২০২১

রাসূল সা.-এর মৃত্যুর পর যা ঘটেছিল মদিনায়




আজ ১২ রবিউল আউয়াল। ১১ হিজরির এই দিনে আমাদের নেতা মুহাম্মদ সা. দুনিয়া থেকে ইন্তেকাল করেন। অনেকের মতে আজকের এই দিনে রাসূল সা. জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তবে প্রসিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য মতামত হচ্ছে মুহাম্মদ সা. ৯ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেছেন। মুহাম্মদ সা. বহুবার বলেছেন তিনি সোমবারে জন্মগ্রহণ করেছেন। সেই হিসেবেও ৯ রবিউল আউয়াল সঠিক হয়। আমুল ফিল বা হস্তির বছরে ১২ রবিউল আউয়াল ছিল বৃহস্পতিবার।

মুহাম্মদ সা. আয়িশা রা.-এর কোলে মাথা রাখা অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর ইন্তেকালে সাহাবারা হতাশ হয়ে কান্না করতে থাকে। তখন উমার ইবনুল খাত্তাব রা. দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন, “কতকগুলো মুনাফিক বলে বেড়াচ্ছে যে, রাসুল সা. মারা গেছেন। আল্লাহর কসম, তিনি মারা যাননি। তিনি কেবল মূসা আ.-এর মত সাময়িকভাবে আল্লাহর কাছে গিয়েছেন। মূসা আ. চল্লিশ দিনের জন্য আল্লাহর কাছে গিয়েছিলেন। তখন প্রচার করা হয়েছিল যে, তিনি মারা গেছেন। অথচ তার পরে তিনি ফিরে এসেছিলেন। আল্লাহর কসম, মূসার আ. মত রাসূলুল্লাহ সা. আবার ফিরে আসবেন। তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, যারা বলছে যে, তিনি মারা গেছেন তাদের হাত পা কেটে দেওয়া হবে।

আবু বকর রা. মুহাম্মদ সা.-এর ইন্তিকালের খবর পেয়ে ছুটে এলেন। উমার রা. তখন ঐ কথা বলে চলেছেন। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে তিনি আয়িশার রা.-এর ঘরে রাসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে চলে গেলেন। তখন তাঁকে একটি কাপড় দিয়ে ঘরের এক কোণে ঢেকে রাখা হয়েছিল। এগিয়ে গিয়ে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখের কাপড় সরিয়ে চুমু খেলেন। অতঃপর বললেন, “আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। আল্লাহ আপনার জন্য যে মৃত্যু নির্ধারিত করে রেখেছিলেন তা আপনি আস্বাদন করেছেন। এরপর আপনার কাছে আর কখনো মৃত্যু আসবে না।” অতঃপর মুখ ঢেকে দিলেন।

আবু বকর রা. এই ঘটনার জন্য আগেই প্রস্তুত ছিলেন। বিদায় হজ্বে যখন দ্বীন পরিপূর্ণ হয়েছে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তখন থেকেই তিনি জানতেন যে কোনো সময়ই মুহাম্মদ সা. চলে যাবেন। তিনি বাহিরে বেরিয়ে দেখেন উমার রা. সেই একই কথা বলে চলেছেন। তিনি বললেন, “উমার। তুমি ক্ষান্ত হও। চুপ করো।” উমার রা. কিছুতেই থামতে রাজি হচ্ছিলেন না। এ অবস্থা দেখে আবু বকর রা. জনতাকে লক্ষ্য করে কথা বলতে শুরু করলেন। তাঁর কথা শুনে জনতা উমারকে রা.-কে রেখে তাঁর দিকে এগিয়ে এল।

তিনি আল্লাহর প্রশংসা করার পর বললেন, “হে জনমন্ডলী, যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের পূজা করতো সে জেনে রাখুক যে, মুহাম্মাদ মারা গেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদাত করতো সে জেনে রাখুক যে, আল্লাহ চিরঞ্জীব ও অবিনশ্বর।” তারপর তিনি সূরা ইমরানের ১৪৪ নং আয়াত উল্লেখ করেন,
//মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল বৈ আর কিছুই নন। তার পূর্বে বহু রাসূল অতিবাহিত হয়েছেন। তিনি যদি মারা যান কিংবা নিহত হন তাহলে কি তোমরা ইসলাম থেকে ফিরে যাবে? যে ফিরে যাবে সে আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কৃতজ্ঞ লোকদের আল্লাহ যথোচিত পুরস্কার দেবেন।//

আবু বকর রা.-এর এই বক্তব্যের পর সাহাবারা বুঝতে পারলেন রাসূল সা. আর নেই। উমার রা. একদম শান্ত হয়ে বসে পড়লেন, যেন তিনি সব হারিয়ে ফেললেন। তবে অবশ্য অল্পসময় পর সবাই শোক চেপে রেখে স্বাভাবিক হলেন।

আনসারদের একজন নেতা হলেন সা'দ বিন উবাদা রা.। তিনি খাজরাজদের অন্তর্গত বনু সাঈদা গোত্রের প্রধান। তিনি আকাবার ২য় শপথের সময় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। যেসব মানুষের কারণে মদিনায় ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। মুহাম্মদ সা. আনসারদের নেতা হিসেবে তাকে বিবেচনা করতেন। কোনো ব্যাপারে আনসারদের মনোভাব জানতে মুহাম্মদ সা. সবসময় সা'দ বিন উবাদা রা.-কে জিজ্ঞাসা করতেন। তাঁর নেতৃত্বের যোগ্যতা থাকায় শুধু খাজরাজরা নয়, আওস গোত্রের লোকেরাও তাঁকে নেতা মানতেন।

মুহাম্মদ সা.-এর মৃত্যুর পর বনু সাঈদা গোত্রে খাজরাজদের একদল লোক সমবেত হলো। তারা সা'দ বিন উবাদার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে তাকে আমীর ঘোষণা করলো। আলী রা.-এর ঘরে ছিল তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রা. ও যুবাইর ইবনুল আওয়াম রা.। তারা এখন এসব ঝামেলায় জড়াতে চাননি। একদল লোক তাদের আনুগত্য করলো। তারা সম্ভবত আলী রা.-কে পরিবারের সদস্য হিসেবে নেতা মানতে চেয়েছিল। আওস গোত্রের শাখা আব্দুল আশহাল গোত্রের নেতা উসাইদ বিন হুদাইর রা.-এর নেতৃত্বে কিছু সাহাবী আলাদা হয়ে তাকে আমীর ঘোষণা করলো। অল্প সময়ের মধ্যে সাহাবারা তিনভাগ হয়ে গেল। সা'দ বিন উবাদা রা.-এর নেতৃত্বে বেশি মানুষ জমায়েত হলো। তিনজন নেতা দেখা দিলেও মদিনার বেশিরভাগ সাহাবী এই তিনদলের কারো সাথেই যুক্ত হননি। মুহাজিররা সিদ্ধান্ত পাওয়ার জন্য আবু বকর রা.-এর কাছে হাজির হলো।

এই প্রসঙ্গে উমার রা. বলেন, //রাসূলুল্লাহ সা. ইন্তিকালের পর আমরা খবর পেলাম আনসারগণ আমাদের বিরোধিতা করছেন। তাঁরা বনু সাঈদা গোত্রের চত্বরে তাঁদের গণ্যমান্য মুরব্বীদের নিয়ে সমবেত হলেন। আলী রা., তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রা., যুবাইর ইবনুল আওয়াম রা. ও তাঁদের সহচরগণ আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাইলেন। আর আবু বকর রা.-এর কাছে জমায়েত হলেন মুহাজিরগণ। আমি আবু বকরকে বললাম, “আপনি আমাদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের আনসার ভাইদের কাছে চলুন।”

তাদের কাছে যাওয়ার পথে তাদের দু’জন দায়িত্বশীল ব্যক্তির সাথে আমাদের দেখা হলো। তারা আনসারদের মনোভাব জানালেন। অতঃপর আমরা বনু সাঈদা গোত্রে গেলাম। আমরা সেখানে বসলে তাঁদের এক বক্তা আল্লাহর একত্ব ও রাসূলের রিকালাতের সাক্ষ্য দিয়ে এবং আল্লাহ যথোচিত প্রশংসা করে ভাষণ দিতে শুরু করলেন। বললেন, “আমরা আল্লাহর আনসার এবং ইসলামের বীর সেনানী। আর হে মুহাজিরগণ! আপনার আমাদেরই একটি দল। আপনাদের একটি শান্তশিষ্ট মরুচারী দল আমাদের সাথে এসে ইতোমধ্যেই যোগদান করেছে।”

উমার বলেন, আমরা দেখতে পেলাম, তারা আমাদেরকে আমাদের মূল আদর্শ থেকেই বিচ্যুত করতে চাইছে এবং তার ওপর জোরপূর্বক নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যত হয়েছে। আমি এর জবাবে চমৎকার একটা বক্তৃতা তৈরি করলাম এবং তা আমার নিজের কাছে অত্যন্ত যুৎসই মনে হয়েছিল। আমি আবু বকরকে শোনাতে চাইলাম। আবু বকরের মধ্যে এক ধরনের তেজস্বিতা ছিল যার জন্য তাঁকে আমি খুবই ভয় পেতাম এবং যথাসম্ভব তাঁর মনরক্ষা করে চলার চেষ্টা করতাম।

আবু বকর বললেন, “উমার। তুমি কিছু বলো না।” তিনি তাঁদের কথার এত সুন্দরভাবে জবাব দিলেন যে, আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমি যে বক্তব্য তৈরি করে এটি ছিল তার চাইতেও অনেক সুন্দর। তিনি বললেন, “তোমরা নিজেদের মহৎ চারিত্রিক গুণাবলী ও অবদান সম্পর্কে যা বলেছো তা যথার্থ বলেছো। আবার এ কথাও অনস্বীকার্য যে, এই কুরাইশ গোত্রের অবদান না থাকলে আরবরা ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানতে পারতো না। তারা আরবদের মধ্যে মধ্যম ধরনের বংশীয় মর্যাদার অধিকারী এবং তাদের আবাসিক এলাকাও সমগ্র আরব জাতির মধ্যস্থলে অবস্থিত। আমি তোমাদের সবার জন্য এই দুইজনের যেকোনো একজনকে পছন্দ করি। তোমরা এদের মধ্যে যাকে পছন্দ করো তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হও ও বাইয়াত করো।” এই বলে তিনি আমার ও আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহর হাত ধরলেন। তাঁর এই শেষের কথাটি ছাড়া আর কোনো কথা আমার কাছে খারাপ লাগেনি। আল্লাহর কসম, আমার মনে হচ্ছিল, আবু বকর থাকতে অন্য মুসলমান নেতা হতে পারে না।

আবু বকরের এই ভাষণের পর আনসারদের একজন বললেন, “আমরা আরবদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তায় যেমন নির্ভরযোগ্য, মান মর্যাদায়ও তেমনি শ্রেষ্ঠ। সুতরাং আমাদের পক্ষ থেকে একজন এবং তোমাদের (কুরাইশদের) তরফ থেকে আরো একজন আমীর হোক।” এরপর প্রচুর বাকবিতন্ডা হলো এবং বেশ চড়া গলায় কথা কথাবার্তা হতে লাগলো। আমার আশংকা হলো যে, শেষ পর্যন্ত মুসলমানদের দুই গোষ্ঠী মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে একটা বিভেদ বা কলহের সৃষ্টি হয়ে না যায়। আমি (সকল বিতর্কের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে) তৎক্ষণাৎ বললাম, “হে আবু বকর! আপনার হাতখানা বাড়িয়ে দিন।” তিনি বাড়িয়ে দিলেন। আমি তার হাত ধরে বাইয়াত করলাম। এরপর মুহাজিররা বাইয়াত করলেন। তারপর আনসাররাও বাইয়াত করলেন। এরপর আমরা সা’দ ইবনে উবাদাকে বকাঝকা করতে আরম্ভ করলাম। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের একজন বললেন, “তোমরা সা’দ ইবনে উবাদাকে কোণঠাসা করে দিলে।” আমি বললাম, “আল্লাহই সা’দ ইবনে উবাদাকে কোণঠাসা করে দিলেন।”//

নেতা নির্বাচন নিয়ে ঘটে যাওয়া এসব কাণ্ডের কারনে সোমবার গত হয়ে যায়। মঙ্গলবারের রাত চলে আসে। আরবি ক্যালেন্ডার অনুসারে দিন শুরু হয় সূর্য অস্ত যাওয়ার পর সন্ধ্যা থেকে। মঙ্গলবার সকালে আবু বকর রা. নামাজ শেষে মিম্বরে বসলেন। রাসূল সা. অসুস্থ থাকতেই মসজিদে নববিতে আবু বকর রা. ইমামতি করতেন। আমীর হিসেবে বাইয়াত নেওয়ার পরও তার ব্যতিক্রম কিছু হয়নি। আবু বকর রা. কিছু বলার আগে উমার রা. তার অনুমতি কিছু বলার জন্য দাঁড়ালেন।

আল্লাহর প্রশংসা করে তিনি বলেন, “হে জনতা! গতকাল আমি তোমাদেরকে যে কথা বলেছিলাম [অর্থাৎ মুহাম্মদ সা. মারা যাননি, তিনি মুসা আ. মত সাময়িকভাবে অন্তর্ধান হয়েছেন ইত্যাদি ইত্যাদি] তা আমি কুরআন থেকে পাইনি এবং রাসূলুল্লাহু সা.ও আমাকে তা বলেননি। আমার ধারণা ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের সমষ্টিগত জীবনের সকল দিক পুরোপুরিভাবে গুছিয়ে দিয়ে সবার শেষে ইনতিকাল করবেন। কিন্তু আসলে তা ঠিক নয়।

আল্লাহর যে কিতাব দ্বারা তাঁর রাসূল সা.কে নিজের মনোনীত লক্ষ্যে পরিচালিত করেছেন সে কিতাব আল্লাহ তোমাদের মধ্যে বহাল রেখেছেন। এই কিতাবকে যদি তোমরা আঁকড়ে ধর তাহলে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে যেদিকে পরিচালিত করেছেন সেদিকে তোমাদের চালিত করবেন। আজ আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠতম তাঁর কাছেই তোমাদের নেতৃত্ব সমর্পণ করেছেন। তিনি হলেন রাসূলুল্লাহ সা.-এর অন্যতম সঙ্গী, সওর পর্বত গুহায় তাঁর একনিষ্ঠ সহচর। অতএব তোমরা তাঁর কাছে বাইয়াত করে তাঁকে খলিফা বা আমীর হিসাবে গ্রহণ করো।” উমার রা.-এর এই কথার পর সাহাবার একযোগে সবাই বাইয়াত করলো। যারা গতকাল করেছিল তারা আজ আবার বাইয়াত করলো।

অতঃপর আবু বকর রা. বক্তব্য রাখলেন। প্রথমে আল্লাহর যথোচিত প্রশংসা করলেন। তারপর বললেন, “হে জনতা! আমাকে তোমাদের দায়িত্বশীল বানানো হয়েছে। আসলে আমি তোমাদের চেয়ে উত্তম নই। আমি যদি ভাল কাজ করি তাহলে আমাকে সাহায্য করবে। আর যদি অন্যায় করি তাহলে আমাকে শুধরে দেবে। সত্যবাদিতাই বিশ্বস্ততা। আর মিথ্যাবাদিতা হলো বিশ্বাসঘাতকতা। তোমাদের কাছে যে দুর্বল বিবেচিত হয়ে থাকে সে আমার শক্তিশালী যতক্ষণ আমি আল্লাহর ইচ্ছায় তার প্রাপ্য হক না দিতে পারবো। আর তোমাদের মধ্যে যে শক্তিশালী বিবেচিত হয়ে থাকে তার কাছ থেকে যতক্ষণ প্রাপ্য হক আদায় না করবো ততক্ষণ সে আমার কাছে দুর্বল।

মনে রেখ কোনো জাতি আল্লাহর পথে জিহাদ ত্যাগ করলে আল্লাহ তাকে লাঞ্চনা গঞ্জনা ও বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেন। আর অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও নোংরামি যে সমাজে ব্যাপক আকার ধারণ করে সে সমাজকে আল্লাহ বিপদ মুসিবত ও দুর্যোগ দিয়ে ভরে দেন। যতক্ষণ আমি আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের আনুগত্য করবো ততক্ষণ তোমরা আমার কথামতো চলবে। কিন্তু যখন আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করবো তখন তোমাদের আনুগত্য আমার প্রাপ্য হবে না। তোমরা নামাযের প্রতি যত্নবান থেকো আল্লাহ তোমাদের ওপর রহমত নাযিল করুন।”

আবু বকর রা. বাইয়াত সুসম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার দিন জনগণ রাসূলুল্লাহ সা.-এর দাফনের আয়োজন করলো। আলী রা., আব্বাস রা., ফযল ইবনে আব্বাস রা., কুসাম ইবনে আব্বাস রা., উসামা ইবনে যায়িদ রা. ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্ত গোলাম শাকরান রা. তাঁকে গোসল দেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত হলেন। আওস রা. আলী রা.-কে বললেন, “হে আলী! আল্লাহর দোহাই। রাসূলুল্লাহ সা.-এর কাফন-দাফন আমাদের অংশ নিতে দেয়ার ব্যবস্থা করুন।”

আলী রা. বললেন, “এসো।” তিনি এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোসলে অংশগ্রহণ করলেন। গোসলের আয়োজন করতে গিয়ে গোসলের দায়িত্বে নিয়োজিত লোকেরা মতবিরোধের শিকার হলেন। প্রশ্ন ছিল এই যে, অন্যান্য মৃতের মত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় খুলে ফেলে গোসল দেওয়া হবে, না কাপড় গায়ে রেখেই গোসল দেওয়া হবে। এই মতভেদ চলাকালে সহসা আল্লাহ তাদের ওপর ঘুম চাপিয়ে দিলেন। ঘুমের কারণে সকলেরই মুখ রাসূলুল্লাহ সা.-এর বুকের ওপর এসে পড়লো। সেই অবস্থায় ঘরের একপাশ থেকে এক অচেনা ব্যক্তি তাদেরকে বললো, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাপড় গায়ে রেখেই গোসল দাও।” এই কথা শুনে সবাই হতচকিত হয়ে জেগে ওঠলেন এবং সকলেই এই কথা শুনেছেন বলে জানালেন। অতঃপর জামা গায়ে রেখেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গোসল দেওয়া হলো এবং কাপড়ের ওপর দিয়েই গা কচলানো হলো।

রাসূলুল্লাহ সা.-এর গোসল সম্পন্ন হলে তিনটি কাপড় দিয়ে কাফন পরানো হলো। মঙ্গলবার রাসূলুল্লাহ সা.-কে কাফন ও গোসল দিয়ে তাঁর বাড়ীতে তাঁর খাটে শুইয়ে রাখা হলো। এরপর দাফন নিয়ে সাহাবীদের মধ্যে আবার মতান্তর ঘটলো। কেউ বললেন, মসজিদে নববীতে দাফন করবো।” কেউ বললেন, “অন্যান্য সাহাবীদের কবরের পার্শ্বে দাফন করবো।” আবু বকর রা. মীমাংসা করে দিলেন এই বলে যে, রাসূলুল্লাহ সা.-কে আমি বলতে শুনেছি যে, প্রত্যেক নবীকে তার ইনতিকালের জায়গাতে দাফন করা হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সা. যে বিছানার শুয়ে ইনতিকাল করেছিলেন তা তুলে ফেলে তার নীচেই কবর খনন করা হলো।

এরপর শুরু হলো জানাজার নামাজ। রাসূল সা.-এর জানাজার নামাজ অন্য মুসলিমদের মতো জামায়াতবদ্ধভাবে হয়নি। রাসূল সা.-কে তাঁর ছোট্ট ঘর থেকে বের করা হয়নি। তিনি সেখানেই ছিলেন। এরপর একে একে সাহাবারা সেই ঘরে প্রবেশ করলেন ও জানাজার নামাজ পড়লেন। এভাবে প্রথমে সকল পুরুষরা পড়লেন, তারপর মহিলারা অবশেষে শিশু-কিশোররা জানাজার নামাজ পড়লেন। এভাবে কেন হয়েছে তা অনেক চেষ্টা করেও সঠিকভাবে জানতে পারিনি।

এভাবে জানাজার নামাজ পড়তে গিয়ে অনেক সময় লেগেছে। মঙ্গলবারের সূর্য অস্ত গিয়েছে। বুধবারের রাত চলে এসেছে। এরপরও জানাজা চলছিল। মধ্যরাতে জানাজা শেষ হলে মুহাম্মদ সা.-কে কবরস্থ করা হলো। মহানবীকে কবরে শোয়ানোর জন্য রাসূল সা. তিনজন চাচাতো ভাই আলী রা., ফজল রা., কুসাম রা. ও আজাদকৃত দাস শাকরান রা.। আল্লাহর রাসূল সা.-এর ইন্তিকালের পর প্রায় ৪০-৪৫ ঘন্টা পর তাঁর দাফন সম্পন্ন হলো।

দাফন সম্পন্ন হলে আলী রা. আব্বাস রা.-সহ নিকটাত্মীয়রা জানতে পারলো আবু বকর রা. খলিফা হিসেবে বাইয়াত নিয়েছেন। অভিষেক ভাষণও দিয়ে ফেলেছেন। এতে তাঁরা ভীষণভাবে আহত হন। তাঁদের কাছে পুরো প্রেক্ষাপটও জানা ছিল না। তাঁরা মুহাম্মদ সা.-এর লাশের পাশেই ছিলেন এবং লাশ সামলানোকেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে নিয়েছেন। মুহাম্মদ সা. এর রাজনৈতিক উত্তরসূরী নির্ধারিত হয়ে গেল অথচ তার পরিবার কোনো পরামর্শও দিতে পারলো না এটা তাঁদের ব্যথিত করলো।

আলী রা.সহ অন্যদের এই মনঃকষ্ট দূর হতে প্রায় ছয়মাসের মতো সময় লেগেছে। আবু বকর রা. সেসময় নানান সমস্যায় পড়েছিলেন। চারদিকে মানুষ মুরতাদ হয়ে যাচ্ছিল, মিথ্যা নবী দাবীদার বের হয়েছিল, মুসলিমরা জাকাত দিতে অস্বীকার করছিল। এসব পরিস্থিতিতে আলী রা. অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আবু বকর রা.-কে সাহায্য করেছেন এবং মুসলিম রাষ্ট্রের ঐক্য ফিরিয়ে আনতে শক্ত ভূমিকা রেখেছিলেন।

আলী রা.-এর উগ্র অনুসারী শিয়াদের কেউ কেউ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবু বকর রা.-এর খিলাফতকে অস্বীকার করেন। এটা সঠিক নয়। তারা বলতে চান আলী রা. বাধ্য হয়ে আবু বকর রা.-এর আনুগত্য করেছেন। বাস্তবতা হচ্ছে আলী রা. কখনো এই জন্যে বাইয়াত নিতে দেরি করেননি যে, তিনি আবু বকর রা.-কে অযোগ্য মনে করেন বা তাকে অপছন্দ করেন। বরং তারা ঘটনার পরম্পরায় ব্যথিত হয়ে বাইয়াত নিতে দেরি করেছেন।

বস্তুত আলী রা. আবু বকর রা.-কে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন ও ভালোবাসতেন। আবু বকর রা.-এর সাথে মিলিয়ে তিনি তার নাতির নাম রেখেছেন আবু বকর। আলী রা. আবু বকর রা.-কে অপছন্দ করতেন বা তার নেতৃত্ব আন্তরিকভাবে মেনে নেননি এই দাবি ভুয়া ও অগ্রহণযোগ্য।

১০ অক্টো, ২০২১

পর্ব : ৪৫ - নবী সা.-এর মিশন কমপ্লিট

 


দশম হিজরিতে মদিনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ব্যাতিক্রমী খিলাফত রাষ্ট্র / ইসলামিক রাষ্ট্র পূর্ণতা পেল। পুরো আরব জুড়ে ছিল সীমানা। রাষ্ট্রের প্রধান মুহাম্মদ সা. তাবলীগ ও তারবিয়াতের কাজ জোর কদমে চালিয়ে যাচ্ছিলেন। নতুন রাষ্ট্রের সাথে মানুষকে অভ্যস্ত করছেন। নবম হিজরিতে আবু বকর রা.-এর নেতৃত্বে হজ্ব সম্পন্ন হয়। মুসলিমরা কীভাবে হজ্বের নিয়ম-কানুন পালন করবে তা নবম হিজরিতেই মুসলিমদের শেখানো হয়। নবম হিজরিতে ঘোষণা এর পর থেকে অমুসলিমরা কা'বার কাছে আসতে পারবে না। আল্লাহর ঘরে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ মেনে নেওয়া হবে না। 

এরপর দশম হিজরিতে আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ সা.-এর সাকসেসফুল মিশন কমপ্লিটের ঘোষণা দিতে চেয়েছেন। আর সেটা লাখো মানুষের সমাবেশে করতে চেয়েছেন। যাতে মুহাম্মদ সা. তাঁর কষ্টের সুফল নিজে দেখতে পারেন।   

সূরা হজ্বের ২৭-২৯ আয়াত নাজিলের মাধ্যমে সকল মুসলিমকে হজ্ব করার জন্য সাধারণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,  //লোকদেরকে হজ্জের জন্য সাধারণ হুকুম দিয়ে দাও, তারা প্রত্যেকে দূর-দূরান্ত থেকে পায়ে হেঁটে ও উটের পিঠে চড়ে তোমার কাছে আসবে, যাতে এখানে তাদের জন্য যে কল্যাণ রাখা হয়েছে তা তারা দেখতে পায় এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিয্ক দিয়েছেন তার উপর নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে। অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুস্থ-দরিদ্রকে খেতে দাও’। ‘তারপর তারা যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়, তাদের মানতসমূহ পূরণ করে এবং প্রাচীন ঘরের (কা'বা) তাওয়াফ করে’।//

অতঃপর রাসূল সা. মক্কার পথে রওয়ানা হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। এই সফরে তাঁর সব স্ত্রী তাঁর সাথে হজ্ব করেছেন। এটা মুহাম্মদ সা.-এর জন্য ছিল দুনিয়ার পুরস্কার গ্রহণের দিন। তিনি আরাফাতের ময়দানে একটি টিলার ওপর দাঁড়িয়ে লাখো মুসলিমের সামনে ভাষণ দেন। মাত্র দশ বছর আগে মক্কা থেকে পালিয়ে যায় হাতে গোণা কিছু মানুষ। সেই কাফেলা আজ লক্ষ লক্ষ জনতায় পরিণত হয়েছে। এতো মানুষ দেখে মুহাম্মদ সা.-এর অন্তর পরিপূর্ণ হয়ে গেল। 

বক্তব্য দেওয়ার শুরুতে মুহাম্মদ সা. এক দারুণ কাজ করতেন। তিনি জনসাধারণকে কোনো না কোনো প্রশ্ন করতেন? খুব স্বাভাবিক প্রশ্ন। কিন্তু এতে যেটা হতো জনসাধারণ পূর্ণ মনোযোগ দিতেন রাসূল এর কথার দিকে। মহাসম্মেলনের ভাষণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি তার ব্যতিক্রম করলেন না। 

জাবালে নূর টিলায় তিনি ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। দাঁড়িয়ে কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে প্রশ্ন করলেন, এটি কোন মাস? সাহাবারা অবাক হয়ে বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন। সাহাবারা ভেবেছে তিনি মাসের নাম পরিবর্তন করে দিবেন। 

মুহাম্মদ সা. আবার প্রশ্ন করলেন, এটা কি জিলহজ্ব মাস নয়? 
সাহাবারা বললেন, হ্যাঁ! অবশ্যই!

মুহাম্মদ সা. বললেন, এটা কোন শহর? এটা কি মক্কা নয়? 
সাহাবারা বললেন, হ্যাঁ! অবশ্যই!

কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার প্রশ্ন করলেন, এটা কি কুরবানীর দিন নয়? 
সাহাবারা বললেন, হ্যাঁ! অবশ্যই!

লাখো সাহাবা সেদিন মুহাম্মদ সা.-এর এসব প্রশ্ন শুনে থমকে গিয়েছিলেন। পিনপতন নীরবতা শুরু হলো। কেউ বুঝতে পারছে না, মুহাম্মদ সা. এসব প্রশ্নের মাধ্যমে আসলে কী বার্তা দিতে চাইছেন? 

এরপর মুহাম্মদ সা. শুরু করলেন তাঁর মূল ভাষণ....  
হে মানবসমাজ!
আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো। হয়তো আমি আর কখনো এখানে তোমাদের সঙ্গে একত্রিত হতে পারব না। 

হে মানব সকল! 
সাবধান! সকল প্রকার জাহেলিয়াত রহিত করা হলো। নিরাপরাধ মানুষের রক্তপাত চিরতরে হারাম ঘোষিত হল। প্রথমে আমি আমার বংশের পক্ষ থেকে রাবিয়া বিন হারেস বিন আবদুল মুত্তালিবের রক্তের দাবী প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। সে বনি লাইস গোত্রে দুধ পান করার সময় হুযাইল তাকে হত্যা করেছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে ’সুদ’ কে চির দিনের জন্য হারাম ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। আমি আজ আমার চাচা আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের যাবতীয় সুদের দাবি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। 

হে লোক সকল! সাবধান! তোমাদের একের জন্য অপরের রক্ত, তার মাল সম্পদ, তার ইজ্জত-সম্মান আজকের দিনের মত, এই হারাম মাসের মত, এ সম্মানিত নগরীর মত পবিত্র আমানত। সাবধান! মানুষের আমানত প্রকৃত মালিকের নিকট পৌঁছে দেবে। 

হে মানব সকল! নিশ্চয়ই তোমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ একজন, তোমাদের সকলের পিতা হযরত আদম । আরবের ওপর অনারবের এবং অনারবের উপর আরবের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই, সাদার উপর কালোর আর কালোর উপর সাদার কোন মর্যাদা নেই। ‘তাকওয়াই’ শুধু পার্থক্য নির্ণয় করবে। 

হে লোক সকল! পুরুষদেরকে নারী জাতীর ওপর নেতৃত্বের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তবে নারীদের বিষয়ে তোমরা আল্লাহ তা’য়ালাকে ভয় কর। নারীদের ওপর যেমন পুরুষদের অধিকার রয়েছে তেমনি পুরুষদের উপর রয়েছে নারীদের অধিকার। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর জামিনে গ্রহণ করেছ। তাদের উপর তোমাদের অধিকার হচ্ছে নারীরা স্বামীগৃহে ও তার সতীত্বের মধ্যে অন্য কাউকেও শরিক করবেনা, যদি কোন নারী এ ব্যপারে সীমা লঙ্ঘন করে, তবে স্বামীদেরকে এ ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে যে, তারা স্ত্রীদের থেকে বিছানা আলাদা করবে ও দৈহিক শাস্তি দেবে, তবে তাদের চেহারায় আঘাত করবে না। আর নারীগণ স্বামী থেকে উত্তম ভরণ পোষণের অধিকার লাভ করবে, তোমরা তাদেরকে উপদেশ দেবে ও তাদের সাথে সুন্দর আচরণ করবে। 

হে উপস্থিতি! মুমিনেরা পরষ্পর ভাই আর তারা সকলে মিলে এক অখণ্ড মুসলিম ভ্রাতৃসমাজ। এক ভাইয়ের ধন-সম্পদ তার অনুমতি ব্যতিরেকে ভক্ষণ করবে না। তোমরা একে অপরের উপর জুলুম করবেনা। 

হে মানুষেরা! শয়তান আজ নিরাশ হয়ে পড়েছে। বড় বড় বিষয়ে সে তোমাদের পথভ্রষ্ট করতে সমর্থ হবে না, তবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ে তোমরা সর্তক থাকবে ও তার অনুসারী হবে না। তোমরা আল্লাহর বন্দেগি করবে, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, রমজান মাসের সিয়াম পালন করবে, যাকাত আদায় করবে ও তোমাদের নেতার আদেশ মেনে চলবে, তবেই তোমরা জান্নাত লাভ করবে। 

সাবধান! তোমাদের গোলাম ও অধীনস্থদের বিষয়ে আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর। তোমরা যা খাবে তাদেরকে তা খেতে দেবে। তোমরা যা পরবে তাদেরকেও সেভাবে পরতে দেবে। 

হে লোকসকল! আমি কি তোমাদের নিকট আল্লাহ তা’আলার পয়গাম পৌছে দিয়েছি? 
লোকেরা বলল, “হ্যা” 
তিনি বললেন “আমার বিষয়ে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে। সেদিন তোমরা কী সাক্ষ্য দিবে? 
সকলে এক বাক্যে বললেন, “আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আমাদের নিকট রিসালাতের পয়গাম পৌঁছে দিয়েছেন, উম্মতকে সকল বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন, সমস্ত গোমরাহির আবরণ ছিন্ন করে দিয়েছেন এবং ওহির আমানত পরিপূর্ণভাবে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পালন করেছেন” 

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সা. নিজ শাহাদাত অঙ্গুলি আকাশপানে তুলে তিনবার বললেন, “হে আল্লাহ তা’আলা আপনি সাক্ষী থাকুন, আপনি স্বাক্ষী থাকুন, আপনি সাক্ষী থাকুন”। 

হে মানুষেরা! আল্লাহ তায়ালা তোমাদের সম্পদের মিরাস নির্দিষ্টভাবে বণ্টন করে দিয়েছেন। তার থেকে কম বেশি করবেনা। সাবধান! সম্পদের তিন ভাগের এক অংশের চেয়ে অতিরিক্ত কোন অসিয়ত বৈধ নয়। 

সন্তান যার বিছনায় জন্ম গ্রহণ করবে, সে তারই হবে। ব্যভিচারের শাস্তি হচ্ছে প্রস্তরাঘাত। (অর্থাৎ সন্তানের জন্য শর্ত হলো তা বিবাহিত দম্পতির হতে হবে। ব্যভিচারীর সন্তানের অধিকার নেই)। 

যে সন্তান আপন পিতা ব্যতীত অন্যকে পিতা এবং যে দাস নিজের মালিক ব্যতীত অন্য কাউকে মালিক বলে স্বীকার করে, তাদের উপর আল্লাহ তা’আলা, ফেরেশতাকুল এবং সমগ্র মানব জাতির অভিশাপ এবং তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত কবুল হবে না। 

হে কুরাইশ সম্প্রদায়ের লোকেরা! তোমরা দুনিয়ার মানুষের বোঝা নিজেদের ঘাড়ে চাপিয়ে যেন কিয়ামতে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ না কর। কেননা আমি আল্লাহর আযাবের মোকাবিলায় তোমাদের কোন উপকার করতে পারবো না। তোমাদের দেখেই লোকেরা আমল করে থাকবে। মনে রেখ! সকলকে একদিন আল্লাহ তা’আলার নিকট হাজির হতে হবে। সে দিন তিনি প্রতিটি কর্মের হিসাব গ্রহণ করবেন। তোমরা আমার পরে গোমরাহিতে লিপ্ত হবে না, পরস্পর হানাহানিতে মেতে উঠবনা। 

আমি সর্বশেষ নবী, আমার পরে আর কোন নবী আসবে না। আমার সাথে ওহির পরিসমাপ্তি হতে যাচ্ছে। হে মানুষেরা! আমি নিঃসন্দেহে একজন মানুষ। আমাকেও আল্লাহ তায়ালার ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যেতে হবে। আমি তোমাদের জন্য দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি যতদিন তোমরা এই দুটি বস্তু আঁকড়ে থাকবে, ততদিন তোমরা নিঃসন্দেহে পথভ্রষ্ট হবে না। একটি আল্লাহর কিতাব ও অপরটি রাসূলের সুন্নাহ। 

হে মানব মন্ডলী! তোমরা আমির বা নেতার আনুগত্য করো এবং তার কথা শ্রবণ করো যদিও তিনি হন হাবশি ক্রীতদাস। যতদিন পর্যন্ত তিনি আল্লাহর কিতাব অনুসারে তোমাদের পরিচালিত করেন, ততদিন অবশ্যই তাঁর কথা শুনবে, তাঁর নির্দেশ মানবে ও তাঁর প্রতি আনুগত্য করবে। আর যখন তিনি আল্লাহর কিতাবের বিপরীতে অবস্থান গ্রহণ করবে, তখন থেকে তাঁর কথাও শুনবেনা এবং তাঁর আনুগত্যও করা যাবে না। 

সাবধান! তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকবে। জেনে রেখো, তোমাদের পূর্ববর্তীগণ এই বাড়াবড়ির কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে। 

আবার বললেন, আমি কি তোমাদের নিকট আল্লাহর দ্বীন পৌছে দিয়েছি? সকলে বললেন, “নিশ্চয়ই”। হে উপস্থিতগণ! অনুপস্থিতদের নিকট আমার এ পয়গাম পৌছে দেবে। হয়তো তাদের মধ্যে কেউ এ নসিহতের উপর তোমাদের চেয়ে বেশি গুরুত্বের সাথে আমল করবে। আসসালামু আলাইকুম। বিদায়।

এই ঐতিহাসিক ভাষণকে সামারি করলে আমরা ১৯টি নির্দেশনা পাই। 

১. জাহেলী রীতি অনুসারে সকল প্রকার শিরক নিষিদ্ধ হলো।

২. প্রতিশোধের বংশানুক্রমিক ধারা রহিত করা হলো এবং নিরাপরাধ ব্যক্তি হত্যা নিষিদ্ধ হলো। 

৩. সকল প্রকার সুদ নিষিদ্ধ হলো। 

৪. মুসলিমদের নিজেদের মধ্যে রক্তপাত, সম্পদ দখল, সম্মান নষ্ট করা নিষিদ্ধ হলো। 

৫. আমানত রক্ষা করে চলতে হবে। 

৬. মানুষের মধ্যে জাতিগত (ভাষা, বর্ণ, গোত্র, এলাকা) ভেদাভেদ চলবে না। শুধু তাকওয়ার ভিত্তিতে মর্যাদা নির্ধারিত হবে।

৭. স্ত্রীদের অধিকার যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। স্ত্রীরা সতিত্ব বজায় রাখবে। স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করতে হবে। 

৮. মুমিনরা নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বজায় রাখবে। 

৯. কোনো অবস্থায়ই কারো সাথে জুলুম করা যাবে না। 

১০. ছোট-খাটো বিষয়ে মতপার্থক্য করতে গিয়ে ফিরকা সৃষ্টি করা যাবে না। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো (আল্লাহর আনুগত্য, নামাজ, রোজা, যাকাত ও নেতার আনুগত্য) যথাযথভাবে আদায় করতে হবে।

১১. অধীনস্থদের সাথে ভালো আচরণ করতে ও পার্থক্য সৃষ্টি করা যাবে না। 

১২. উত্তরাধিকার সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে কমবেশি করা যাবে না। এক তৃতীয়াংশের বেশি ওসিয়ত করে উত্তরাধিকারদের বঞ্চিত করা যাবে না। 

১৩. জিনা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া যাবে না। 

১৪. নিজের পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা পরিচয় দেওয়া যাবে না। 

১৫. প্রত্যেককে নিজের কাজের হিসেব দিয়েই জান্নাতে যেতে হবে। এই ব্যাপারে নবী সা. দায়িত্ব নেবেন না। 

১৬. কুরআন ও সুন্নাহকে সর্বক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হবে। 

১৭. বৈধ নেতার আনুগত্য করতে হবে। অবৈধ নেতার আনুগত্য করা যাবে না। বৈধ/অবৈধ এর মানদণ্ড নির্ধারিত হবে কুরআন সুন্নাহ দ্বারা। 

১৮. অমুসলিমকে মুসলিম বানানোর ক্ষেত্রে জোর করা যাবে না। 

১৯. রাসূলের এই ভাষণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

ভাষণের পর আল্লাহর রাসূল সা.-এর ওপর সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াত নাজিল হয়। সেখানে খাবার সংক্রান্ত কিছু বিধি-বিধান বলার পর দ্বীন পরিপূর্ণ করে দেওয়ার ঘোষণা আসে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 
//তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোস্ত, আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করা পশু, গলা চিপে মারা যাওয়া জন্তু, প্রহারে মারা যাওয়া জন্তু, উপর থেকে পড়ে মারা যাওয়া জন্তু, অন্যপ্রাণীর শিং এর আঘাতে মারা যাওয়া জন্তু এবং হিংস্র পশুতে খাওয়া জন্তু। তবে যা তোমরা যবেহ করতে পেরেছ তা ছাড়া, আর যা মূর্তি পূজার বেদীর উপর বলী দেয়া হয় তা এবং জুয়ার তীর দিয়ে ভাগ্য নির্ণয় করা, এসব পাপ কাজ। আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীনের বিরুদ্ধাচরণে হতাশ হয়েছে; কাজেই তাদেরকে ভয় করো না এবং আমাকেই ভয় করো। 

আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম, আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। অতঃপর কেউ পাপের দিকে না ঝুঁকে ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হলে তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।// 

দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দেওয়ার ঘোষণায় সাহাবারা খুশি হলেন ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। কিন্তু আবু বকর রা. কান্নায় ভেঙে পড়লেন। তিনি সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছেন এই ঘোষণার মাধ্যমে মুহাম্মদ সা. স্বীকৃতি যেমন দেওয়া হয়েছে তেমনি তার কাজ/ মিশন কমপ্লিট এই ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। যেহেতু মিশন কমপ্লিট তাই মুহাম্মদ সা. আর বেশিদিন দুনিয়ায় থাকবেন না। 

সবাই আবু বকর রা.-এর অস্থিরতা দেখে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, দ্বীন পরিপূর্ণ হয়েছে। আমাদের নেতা আর আমাদের মাঝে থাকবেন না। সত্যিই! এই দিনের পর মাত্র একাশি দিন মুহাম্মদ সা. দুনিয়ায় ছিলেন।   


পর্ব : ৪৪ - দারুল ইসলামের সুস্পষ্ট নীতি, তারবিয়াত ও দণ্ডবিধি

 


তাবুক অভিযানের পর তায়েফের মুশরিক ও মদিনার মুনাফিকদের আর কোনো আশা থাকলো না। তারা উপায় না দেখে বিজয়ী ইসলামের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করলো। পুরো আরব উপদ্বীপের অধিকাংশ গোত্র মক্কা বিজয় ও হুনাইনের বিজয়ের পর ইসলামে দাখিল হয়েছে। যারা বাকী ছিল তারাও তাবুক অভিযানের পর মুহাম্মদ সা.-এর নিকট আনুগত্যের বাইয়াত করেছে। আল্লাহর রাসূল সা. দীর্ঘদিন অবরোধ করে যাদের নমনীয় করতে পারেন নি সেই তায়েফবাসী নিজ দায়িত্বে এসে ইসলাম গ্রহণ করলো। এভাবে হাজারো মানুষ ইসলামের পতাকাতলে শামিল হতে শুরু করলো। সমগ্র আরব ইসলামী রাষ্ট্র তথা দারুল ইসলামে পরিণত হয়।

ইসলামের সূচনাকালে যে সব লোকের হৃদয়ে ইসলামের সত্যতা আসন পেতে নিতো এবং যারা পুরোপুরি বুঝে-শুনে ইসলাম গ্রহণ করতো, কেবল তারাই এ আন্দোলনের সহায়তা করতে এগিয়ে আসতো। কিন্তু এ পর্যায়ে ইসলামের প্রভাব চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় দলে দলে লোকেরা ইসলামের মধ্যে দাখিল হতে লাগলো। দেশের পর দেশ, জনপদের পর জনপদ ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নিলো। এর ফলে খুব কম লোকই পুরোপরি বুঝে-শুনে ইসলাম গ্রহণের সুযোগ পেলো; বরং বেশির ভাগ লোকই অল্প কিছু জেনে-শুনে ইসলামের সহায়তা করতে প্রস্তুত হয়ে গেলো। এভাবে হাজার হাজার লোক ইসলামী সমাজের অন্তর্ভুক্ত হতে লাগলো।

দৃশ্যত এই পরিস্থিতিটা ছিলো ইসলামের শক্তি বৃদ্ধির লক্ষণ। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো জনসমষ্টি ইসলামের মূলনীতিগুলোকে উত্তমরূপে বুঝতে না পারবে এবং এবং ইসলাম কর্তৃক অর্পিত নৈতিক দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত না হবে, ততোক্ষণ সে ইসলামী সমাজের পক্ষে দুর্বলতারই কারণ হয়ে থাকবে। তাবুক অভিযানকালে এমনি পরিস্থিতিরই কিছুটা আভাস পাওয়া গিয়েছিলো। তাই এই কারণে ইসলামী রাষ্ট্রকে আভ্যন্তরীণ দুর্বলতা থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ প্রদান করা হলো। আর তা হলো, জনসাধারণের মধ্য থেকে কিছু লোককে ইসলামী রাষ্ট্রের কেন্দ্র মদিনায় আসতে হবে এবং এসব কেন্দ্র থেকে ইসলামের শিক্ষা -দীক্ষা ও তার বিস্তারিত নিয়ম-কানুন শিখে তাদেরকে সত্যিকার ইসলামী ভাবধারা বুঝতে হবে। অতঃপর মুসলিম জন-মানসে সঠিক ইসলামী চেতনা জাগ্রত করার ও তাদেরকে আল্লাহর নির্দেশাবলী সম্পর্কে অবহিত করানোর উদ্দেশ্যে এই শিক্ষাপ্রাপ্ত লোকদেরকে নিজ নিজ জনপদে ফিরে গিয়ে জনগণের শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

এই সাধারণ ইসলামী শিক্ষার অর্থ কেবল লোকদেরকে কিছু লেখা-পড়া শেখানোই ছিলো না; বরং লোকদের মধ্যে দ্বীনী চেতনা সৃষ্টি এবং ইসলামী ও অন ইলামী জীবন পদ্ধতির পার্থক্যবোধ জাগিয়ে তোলাই ছিলো এর মূল উদ্দেশ্য। নবম হিজরিতে তাই আল্লাহর রাসূল সা. তারবিয়াতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাবুক যুদ্ধে কিছু নিষ্ঠাবান সাহাবাদের পদচ্যুতির ফলে মুহাম্মদ সা. এই বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেন।

নবম হিজরিতে ইসলামী দন্ডবিধির প্রসার হয়। অনেকগুলো আইন ও নিয়ম জারি হয়। প্রচুর জনগণ ইসলামের আওতায় থাকায় অনেক মোকদ্দমা আল্লাহর রাসূল সা.-এর দরবারে দায়ের হতো। মুহাম্মদ সা. এগুলোর সমাধান করতেন। কিছু সমস্যার সমাধান আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়।

আয়িশা রা.-এর বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়ার ঘটনায় নিয়ম তৈরি হয়েছিল কোনো মহিলার বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ আনলে অবশ্যই চারজন সাক্ষী হাজির করতে হবে। নতুবা এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর ফলে একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়। কেউ একাকী কাউকে অনৈতিকতা করতে দেখলেও তা সাক্ষীর অভাবে বলতে পারতো না। বাইরের মানুষের ব্যপারে অভিযোগ না করে চুপ থাকা যায়, এভোয়েড করা যায় কিন্তু নিজের স্ত্রীর ব্যাপারে যদি এরকম কিছু দেখা যায় সেক্ষেত্রে চুপ থাকা তো কষ্টের। এটা তো সহ্য করা যায় না।

নিজের স্ত্রীর চরিত্রহীনতা দেখলে কি করবে? হত্যা করলে তো উল্টো শাস্তি লাভের যোগ্য হয়ে যাবে। সাক্ষী খুঁজতে গেলে তাদের আসা পর্যন্ত অপরাধী সেখানে অপেক্ষা করতে যাবে কেন? আর সবর করলে তা করবেইবা কেমন করে। তালাক দিয়ে স্ত্রীকে বিদায় করে দিতে পারে। কিন্তু এর ফলে না মেয়েটির কোন বস্তুগত বা নৈতিক শাস্তি হলো, না তার প্রেমিকের। আর যদি তার অবৈধ গর্ভসঞ্চার হয়, তাহলে অন্যের সন্তান নিজের গলায় ঝুললো।

এ প্রশ্নটি প্রথমে হযরত সা’দ ইবনে উবাদাহ রা. একটি কাল্পনিক প্রশ্নের আকারে পেশ করেন। তিনি এতদূর বলে দেন, আমি যদি আল্লাহ না করুন নিজের ঘরে এ অবস্থা দেখি, তাহলে সাক্ষীর সন্ধানে যাবো না বরং তলোয়ারের মাধ্যমে তখনই এর হেস্তনেস্ত করে ফেলবো। এর কিছুদিন পরেই এমন কিছু মামলা দায়ের হলো যেখানে স্বামীরা স্বচক্ষেই এ ব্যাপার দেখলো এবং নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এর অভিযোগ নিয়ে গেলো। আনসারদের এক ব্যক্তি মুহাম্মদ সা.-এর সামনে হাযির হয়ে বলেন, হে আল্লাহর রসূল! যদি এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সাথে পরপুরুষকে পায় এবং সে স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সাক্ষী ছাড়া, তাহলে আপনি তার বিরুদ্ধে কি মিথ্যা অপবাদের “হদ” জারি করবেন?

তাদের কাউকে হত্যা করলে আপনি তাকে হত্যা করবেন। নীরব থাকলে সে চাপা ক্রোধে ফুঁসতে থাকবে। শেষমেশ সে করবে কি? এ কথায় রসূলুল্লাহ্ সা. দোয়া করেন, হে আল্লাহ! এ বিষয়টির ফায়সালা করে দাও। হেলাল ইবনে উমাইয়াহ রা. এসে নিজের স্ত্রীর ব্যাপারে অভিযোগ করে বলেন, তিনি তাকে নিজের চোখে ব্যভিচারে লিপ্ত থাকতে দেখেছিলেন। নবী সা. বলেন, “প্রমাণ আনো, অন্যথায় তোমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদের শাস্তি জারি হবে।”

এতে সাহাবীদের মধ্যে সাধারণভাবে পেরেশানী সৃষ্টি হয়ে যায় এবং হেলাল রা. বলেন, সেই আল্লাহর কসম যিনি আপনাকে নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন, আমি একদম সঠিক ঘটনাই তুলে ধরছি, আমার চোখ এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে এবং কান শুনেছে। আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ আমার ব্যাপারে এমন হুকুম নাযিল করবেন যা আমার পিঠ বাঁচাবে। এ ঘটনায় আল্লাহ তায়ালা সূরা নূরের ৬ থেকে ৯ নং নাজিল করেন। এখানে মীমাংসার যে পদ্ধতি দেয়া হয়েছে তাকে ইসলাম আইনের পরিভাষায় “লি’আন” বলা হয়।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, //আর যারা নিজদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অথচ নিজেরা ছাড়া তাদের আর কোন সাক্ষী নেই, তাহলে তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য হবে আল্লাহর নামে চারবার সাক্ষ্য দেবে যে, সে নিশ্চয়ই সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। আর পঞ্চমবারে সাক্ষ্য দেবে যে, সে যদি মিথ্যাবাদী হয়, তবে নিশ্চয় তার উপর আল্লাহর লা‘নত।

আর তারা স্ত্রীলোকটি থেকে শাস্তি রহিত করবে, যদি সে আল্লাহর নামে চারবার সাক্ষ্য দেয় যে, নিশ্চয় তার স্বামী মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। আর পঞ্চমবারে সাক্ষ্য দেবে যে, যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয়, তবে নিশ্চয় তার উপর আল্লাহর গজব।//

এ আয়াত নাজিল হবার পর হেলাল ও তার স্ত্রী দু’জনকে নবীর আদালতে হাযির করা হয়। রসূলুল্লাহ্ সা. প্রথমে আল্লাহর হুকুম শুনান। তারপর বলেন, “খুব ভালভাবে বুঝে নাও, আখেরাতের শাস্তি দুনিয়ার শাস্তির চাইতে কঠিন।” হেলাল বলেন, “আমি এর বিরুদ্ধে একদম সত্য অভিযোগ দিয়েছি।” স্ত্রী বলে, “এ সম্পূর্ণ মিথ্যা।” রসূলুল্লাহ্ সা. বলেন, “বেশ, তাহলে এদের দু’জনের মধ্যে লি’আন করানো হোক।”

সে অনুসারে প্রথমে হেলাল উঠে দাঁড়ায়। তিনি কুরআনী নির্দেশ অনুযায়ী কসম খাওয়া শুরু করেন। এ সময় নবী সা. বারবার বলতে থাকেন, “আল্লাহ্ জানেন তোমাদের মধ্যে অবশ্যই একজন মিথ্যেবাদী। তারপর কি তোমাদের মধ্য থেকে কেউ তাওবা করবে?” পঞ্চম কসমের পূর্বে উপস্থিত লোকেরা হেলালকে বললো, “আল্লাহকে ভয় করো। দুনিয়ার শাস্তি পরকালের শাস্তির চেয়ে হালকা। এ পঞ্চম কসম তোমার ওপর আখিরাতের শাস্তি ওয়াজিব করে দেবে।”

কিন্তু হেলাল বলেন, যে আল্লাহ এখানে আমার পিঠ বাঁচিয়েছেন তিনি পরকালেও আমাকে শাস্তি দেবেন না। একথা বলে তিনি পঞ্চম কসমও খান।

তারপর তার স্ত্রী ওঠে। সেও কসম খেতে শুরু করে। পঞ্চম কসমের পূর্বে তাকেও থামিয়ে বলা হয়, “আল্লাহকে ভয় করো, আখেরাতের আযাবের তুলনায় দুনিয়ার আযাব বরদাশত করে নেয়া সহজ। এ শেষ কসমটি তোমার ওপর আল্লাহর আযাব ওয়াজিব করে দেবে।” একথা শুনে সে কিছুক্ষণ থেমে যায় এবং ইতস্তত করতে থাকে। লোকেরা মনে করে নিজের অপরাধ স্বীকার করতে চাচ্ছে। কিন্তু তারপর সে বলতে থাকে। “আমি চিরকালের জন্য নিজের গোত্রকে লাঞ্ছিত করবো না।” তারপর সে পঞ্চম কসমটিও খায়।

অতঃপর নবী সা. তাদের উভয়ের মধ্যে ছাড়াছাড়ি করে দেন এবং ফায়সালা দেন, এর সন্তান (যে তখন মাতৃগর্ভে ছিল) মায়ের সাথে সম্পর্কিত হবে। বাপের সাথে সম্পর্কিত করে তার নাম ডাকা হবে না। তার বা তার সন্তানের প্রতি অপবাদ দেবার অধিকার কারোর থাকবে না। যে ব্যক্তি তার বা তার সন্তানের প্রতি অপবাদ দেবে সে মিথ্যা অপবাদের শাস্তির অধিকারী হবে। ইদ্দতকালে তার খোরপোশ ও বাসস্থান লাভের কোন অধিকার হেলালের ওপর বর্তায় না। কারণ তাকে তালাক বা মৃত্যু ছাড়াই স্বামী থেকে আলাদা করা হচ্ছে।

আরেকটি ঘটনা হলো, মায়েজ ইবনে মালেক রা. নবী সা.-এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সা.! আমাকে পবিত্র করুন। তিনি বললেন, আক্ষেপ তোমার প্রতি, চলে যাও, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং তওবা করো। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি চলে গেলেন এবং সামান্য একটু দূরে গিয়েই আবার ফিরে আসলেন এবং আবারও বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে পবিত্র করুন। নবী সা. এইবারও তাঁকে পূর্বের ন্যায় বললেন। এইভাবে তিনি যখন চতুর্থবার এসে বললেন, তখন রাসূলুল্লাহ সা. জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা! আমি তোমাকে কোন জিনিস হতে পবিত্র করবো?

তিনি বললেন, জিনা হতে। তাঁর কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সা. সাহাবা জিজ্ঞেস করলেন, লোকটি কি পাগল? লোকেরা বলল, না, তিনি পাগল নন। তিনি আবার বললেন, লোকটি কি মদ পান করেছে? তৎক্ষণাৎ এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তাঁর মুখ শুঁকে দেখেন; কিন্তু মদের কোন গন্ধ তাঁর মুখ হতে পাওয়া গেল না। অতঃপর তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি সত্যই জিনা করেছ? তিনি বললেন,জি হাঁ। এর পর তিনি রজমের নির্দেশ দিলেন, তখন তাঁকে রজম করা হল।

এই ঘটনার দুই তিন দিন পর রাসূলুল্লাহ সা. (সাহাবাদের সম্মুখে) এসে বললেন, তোমরা মায়েয ইবনে মালেকের জন্য ইস্তেগফার করো (ক্ষমা প্রার্থনা কর)। কেননা সে এমন তওবাই করেছে, যদি তা সমস্ত উম্মতের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হয়, তবে উহা সকলের জন্য যথেষ্ট হবে।

অতঃপর আয্দ বংশের গামেদী গোত্রীয় একটি মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে পবিত্র করুন। তিনি বললেন, তোমার প্রতি আক্ষেপ! চলে যাও, আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার কর এবং তওবা কর। তখন মহিলাটি বলল, আপনি মায়েয ইবনে মালেককে যেভাবে ফিরিয়ে দিয়েছেন আমাকেও কি সেভাবে ফিরিয়ে দিতে চান? দেখুন, আমার এই গর্ভ যিনার! তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি (সত্যই গর্ভবতী)? মহিলাটি বলল, জি হাঁ।

নবী সা. মহিলাটিকে বললেন, তুমি চলে যাও এবং সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো। অতঃপর সন্তান প্রসবের পর যখন আসলো, তখন বললেন, আবারও চলে যাও এবং তাকে দুধ পান করাও এবং দুধ ছাড়ান পর্যন্ত অপেক্ষা কর। পরে যখন বাচ্চাটির দুধ খাওয়া বন্ধ হয়, তখন মহিলাটি বাচ্চার হাতে এক খন্ড রুটির টুকরা দিয়ে তাকে সঙ্গে করে রাসূল সা.-এর খেদমতে উপস্থিত হলো। এইবার মহিলাটি বললো, হে আল্লাহর নবী! এই দেখুন (বাচ্চাটির) দুধ ছাড়ান হয়েছে, এম কি সে নিজের হাতের খানাও খেতে পারে। তখন রাসূল সা. বাচ্চাটিকে একজন মুসলমানের হাতে তুলে দিলেন।

অতঃপর লোকদেরকে নির্দেশ করলেন, তারা মহিলাটিকে রজম করল। খালেদ ইবনে ওলীদ রা. সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তার মাথায় একখন্ড পাথর নিক্ষেপ করতেই রক্ত ছিটে এসে তাঁর মুখমন্ডলের উপর পড়ল। তাই তিনি মহিলাটিকে ভৎর্সনা ও তিরস্কার করে গাল-মন্দ করলেন, (এটা শুনে) নবী করীম সা. বললেন, হে খালেদ, থামো! সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! অবশ্যই মহিলাটি এমন তওবা করেছে, যদি কোন বড় জালেমও এই ধরনের তওবা করে, তারও মাগফেরাত হয়ে যাবে। অতঃপর তিনি তার জানাযা পড়ার আদেশ করলেন, অতঃপর তার জানাযা পড়লেন এবং তাকে দাফনও করলেন।

এভাবে নবম হিজরিতে ঘটা অনেকগুলো মোকদ্দমা থেকে ইসলামী দন্ডবিধি আইনের বিকাশ হয়। ইসলামে অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়াটা মুখ্য নয় বরং অপরাধবোধ তৈরি করে ন্যায়ের পথে ফিরে আসাটা এবং সমাজকে অন্যায় থেকে দূরে রাখাই মুখ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

ইসলামী দণ্ডবিধির তিনটি ধারা রয়েছে। কিসাস, হুদুদ ও তাজির। যেসব অপরাধের শাস্তিকে আল্লাহর হক হিসাবে নির্ধারণ করে জারি করেছে, সেসব শাস্তিকে ‘হুদুদ’ বলা হয় এবং যেসব শাস্তিকে বান্দার হক হিসেবে জারি করেছে, সেগুলোকে ‘কিসাস’ বলা হয়। কিসাসের শাস্তি হুদূদের মতই সুনির্ধারিত। প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ সংহার করা হবে এবং জখমের বিনিময়ে সমান জখম করা হবে। কিন্তু পার্থক্য এই যে, হুদূদকে আল্লাহর হক হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ক্ষমা করলেও তা ক্ষমা হবে না। কিন্তু কিসাস এর বিপরীত। কিসাসে বান্দার হক প্রবল হওয়ার কারণে হত্যাকারীকে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর অধিকারে ছেড়ে দেয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি ইচ্ছা করলে কিসাস হিসাবে তাকে মৃত্যুদণ্ড করাতে পারে। যখমের কিসাসও একই রকম।

যেসব অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ হয়নি সে জাতীয় শাস্তিকে বলা হয় ‘তাজির’ তথা ‘দণ্ড’। তাজির বা দণ্ডগত শাস্তিকে অবস্থানুযায়ী লঘু থেকে লঘুতর, কঠোর থেকে কঠোরতর এবং ক্ষমাও করা যায়। এ ব্যাপারে বিচারকদের ক্ষমতা অত্যন্ত ব্যাপক। কিন্তু হুদুদের বেলায় কোনো বিচারকই সামান্যতম পরিবর্তন, লঘু অথবা কঠোর করার অধিকারী নয়। স্থান ও কাল ভেদেও এতে কোনো পার্থক্য হয় না। শরী’আতে হুদুদ মাত্র পাঁচটি: ডাকাতি, চুরি, ব্যভিচার, ব্যভিচারের অপবাদ ও মদপান। এর মধ্যে প্রথম চারটির শাস্তি কুরআনে বর্ণিত রয়েছে। পঞ্চমটি হাদিস দ্বারা নির্ধারিত।

দ্বীন কায়েমের সংগ্রামে নিয়োজিত দাঈদের ইসলামী দণ্ডবিধি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা আবশ্যক। ইসলামী রাষ্ট্রের আবশ্যিক কাজগুলোর মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি হল শরীআতের দন্ডবিধি বাস্তবায়ন করা।

নবম হিজরিতে মুহাম্মদ সা. হজ্ব করেননি, তিনি দারুল ইসলামকে মেরামতের জন্য মদিনায় থেকে গেছেন। তবে আবু বকর রা.-এর নেতৃত্বে একদল প্রতিনিধিকে তিনি মক্কায় হজ্বে শামিল হওয়ার জন্য প্রেরণ করেন। আবু বকর রা.-এর নেতৃত্বে হজ্ব কাফেলা রওনা হওয়ার পর মুহাম্মদ সা.-এর কাছে ওহি আসে ও সূরা তাওবার ১ থেকে ৫ আয়াত নাজিল হয় এবং আরব থেকে সমস্ত মুশরিকদের উচ্ছেদ করার ঘোষণা আসে।

এ সময় সমগ্র আরব ভুমির শাসন ক্ষমতা মুসলিমদের হাতে নিবদ্ধ ছিলো। তাদের মুকাবিলা করার মতো উল্লেখযোগ্য কোনো শক্তি বর্তমান ছিলো না। তাই এবার ইসলামী হুকুমতের অভ্যন্তরীণ নীতি ঘোষণার সময় এলো। মুহাম্মদ সা. দারুল ইসলামের আভ্যন্তরীণ নীতি ঘোষণার জন্য আলী রা.-কে নির্দেশনা সহকারে হজ্বে পাঠালেন। তিনি দ্রুত রাস্তা অতিক্রম হাজিদের সাথে মিলিত হলেন। আবু বকর রা. এর নেতৃত্বে মুসলিমরা হজ্ব করেন। নবম হিজরির ১০ জিলহজ্ব আবু বকর রা.-এর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি দারুল ইসলামের নীতি ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার মূলকথাগুলো ছিল,

১. যে ব্যক্তি দ্বীন-ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
২. এ বছরের পর কোনো মুশরিক কা’বা গৃহে হজ্জ করতে আসতে পারবে না।
৩. কাউকে নগ্ন হয়ে বায়তুল্লাহর চারদিকে তওয়াফ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
৪. যাদের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (স)-এর চুক্তি রয়েছে এবং যারা চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বাস ভঙ্গ করেনি, তাদের সঙ্গে চুক্তির শর্তানুযায়ীই ব্যবহার করা হবে এবং তার মেয়াদ পূর্ণ করা হবে।
৫. কিন্তু যারা চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসলামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বেছে নিয়েছে তাদের জন্যে আর মাত্র চার মাসের অবকাশ রয়েছে। এই অবকাশের ভেতর হয় মুসলমানদের সঙ্গে লড়াই করে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে হবে, নচেত দেশ ছেড়ে তাদেরকে চলে যেতে হবে অথবা বুঝে-শুনে আল্লাহর দ্বীনকে গ্রহণ করে ইসলামী ব্যবস্থাপনায় শামিল হতে হবে।
৬. কা’বার তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা সম্পূর্ণ তওহীদবাদীদের হাতে থাকবে। এতে মুশরিকদের কোনো অধিকার থাকবে না। এবার থেকে কা’বার ভেতর কোনো মুশরিকানা প্রথা পালন করা যাবে না; এমন কি কোনো মুশরিকরা এই পবিত্র ঘরের নিকটে পর্যন্ত আসতে পারবে না।

দ্বীন প্রতিষ্ঠায় রাসূল সা. - পর্ব ৪৪