কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৫ ফেব, ২০১৫

অনিবার্য বিপ্লব

(শহীদ মোল্লাহ আব্দুল কাদের রাহিমাহুল্লাহ স্মরনে)

আমার সমগ্র সত্তা আজ হাহাকার করছে
না, কোন নারীর জন্য নয়।
কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির জন্য নয়
এক সর্বাত্মক বিপ্লবের জন্য।
আমার চোখ দুটো আজ সূর্য দেখছে
এক বিপ্লবস্নাত সোনালী সূর্য
আমার এতদিনকার স্বপ্ন গুলো গতি হারিয়ে ফেলছে
এলোমেলো হয়ে বলছে, বিপ্লব চাই ! বিপ্লব !!
আমার শ্রবনেন্দ্রিয় চিৎকার করে বলছে
আমি আর পারছি না
আমি শুনতে পাচ্ছি, আমি শুনতে পাচ্ছি।
এক অনিবার্য বিপ্লবের প্রতিধ্বনি।
আমার নাসারন্ধ্র উন্মাদের মত বলছে
আমি এক বিপ্লবের কথা বলছি,
যার থেকে আসে শুধু তাজা রক্তের গন্ধ।
আমি কোনভাবেই তা অতিক্রম করতে পারছি না।
আমার সমগ্র লোহিত কণিকা আর্তনাদ করছে
বলছে, আমরা আর পারছি না
আমাদের মুক্ত করে দাও
রঞ্জিত করে দেব কালো রাজপথ ।।
এতক্ষণে বিবেক বলে উঠলো
ঐ তো ঐ শুরু হয়ে গেল
কাদের মোল্লাহ শুরু করে দিল
তুমি যাচ্ছ কবে?

১০ জানু, ২০১৫

দিন দিন বিপ্লবী হয়ে উঠছি


বাবার আদরে হয়েছি বড়ো।
মায়ের শাসন করে জড়ো।
বোনের মিষ্টি আদুরে হাসিতে
পেয়েছি প্রশ্রয় অতি বড়।
না ছিল ক্ষুদা, না ছিল জরা।
না ছিল অভাব, কেবলি সুখের পারা।
কবিতা গল্প উপন্যাস পড়ে কাটিয়েছি দিন।
বিপ্লবী হবো, ভাবিনি কোন দিন।
আমি দেখেছি আশীতিপর বৃদ্ধের কষ্ট
আমি দেখেছি মায়ের কান্না
আমি দেখেছি বোনের আহাজারি
দেখেছি কোর্টের প্রাঙ্গনে বিচারের প্রহসন
নিরাপরাধ শিক্ষককে বানানো হয়েছে
হাজারো নারীর ধর্ষনকারী।
কক্সবাজারে আমি নীল সমুদ্র দেখিনি।
দেখেছি লাল স্রোতধারা
নিজের ছোট দোকানখানা বাঁচাতে
ছুটিয়েছে রক্তের ফোয়ারা।
দেখেছি মায়ের সামনে ছেলেকে
রাষ্টীয় বাহিনীর মার খেয়ে যাওয়া
প্রিয়তমা স্ত্রী থেকে বিদায় না নিয়ে
পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া।
আমি দেখেছি নিরপরাধ একজন মানুষ
যিনি ধীরে ধীরে হেঁটে চলছেন
তুলে নিতে গলায় ফাঁসির দড়ি।
বিবেকের চাপে সব আয়েশ ভুলে
ধীরে ধীরে হয়ে গেলাম এক বিপ্লবী
ভেঙ্গে দিতে সকল শৃঙ্খল, স্বৈরাচারী।

৭ জানু, ২০১৫

মানুষ না, মেশিন

 হে অস্ত্রধারী শিকারী 
তুমি কাকে শিকার করছো? 
কাকে নিশানা করে তুমি চালাচ্ছ গুলি?
তোমার এই উর্দি, এই অস্ত্র
এগুলো তো আমার টাকায় কেনা!!
তোমাকে অস্ত্র দেয়া হয়েছে
তুমি সীমান্ত পাহারা দেবে
বহিঃশত্রুদের মারবে।
অথচ, অথচ তুমি মারছো
তোমার বাবাকে, তোমার মা কে
তোমার ভাইকে তোমার বোন কে।
তোমাকে জিন্দানখানা দেয়া হয়েছে
কথা ছিল তুমি বন্দি করবে
সন্ত্রাসীদের, মাস্তানদের, মদখোরদের
আজ তুমি তাদের দিচ্ছ ছেড়ে
বন্দি করছো মানবতাবাদীদের
বেড়ি নামের লোহার শিকল
পরিয়ে দিচ্ছ সূর্যসন্তানদের পায়ে।
তুমি কাঁদানো গ্যাস ছুঁড়ছো,
পীপার স্প্রে করছো
জাতির বিবেকের চোখে
দেখো, দেখো কি লাল হয়েছে
তাদের সম্ভাবনাময় চোখ।
আমি স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছি
সেই চোখে জাতির সর্বনাশ।
আমি জানি তুমি অসহায়
সামান্য কিছু পাবার আশায়
নাদান পেটকে শান্তিতে রাখার আশায়
তুমি করেছ বিবেক বিসর্জন।
আজ তোমার পা বাকশালের পা
তোমার হাত স্বৈরাচারের হাত
তোমার আঙ্গুল যা দিয়ে ট্রিগার টানো
সেটা ফ্যাসিবাদের আঙ্গুল।
তুমি মানুষ না, মেশিন।

৬ ডিসে, ২০১২

ফররুখ কর বিশ্রাম

কবি ফররুখ এবার কর তুমি বিশ্রাম,
পাঞ্জেরিকে ডাকতে হবেনা ফেলে ঘাম।
ফররুখ এবার দাও তুমি আরামের ঘুম।
ফেরদাঊসের মাটিকে দিয়ে চুম।
পাঞ্জেরিকে নিয়ে করোনা আর
দুঃখ কিংবা অযথা দুশ্চিন্তা।
পাঞ্জেরি মোদের এসে গেছে
দেখিয়ে দিয়েছে রাস্তা।
ঐ দেখ সাঈদী হাঁটে নির্ভিক পদে,
হাতে আল্লাহ্‌র কালাম লয়ে।
গোলাম আযম আজও জেলে,
এই অশীতিপর বয়সে।
মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, নিজামী,
আরো আছে সেই সারিতে
কাদের মোল্লা, কাশেম আলী।
দীপ্ত পায়ে তাদের পথে হাঁটি।
এবার ফররুখ কর বিশ্রাম।
বিপ্লবের প্রহর গুণতে গুণতে,
আর ফেলতে হবে না
অনেক সাধের রক্তঘাম।।

১১ নভে, ২০১২

রক্ত-লাশের খায়েশ


"আমি রক্ত চাই, অনেক রক্ত!
লাল রক্ত, সাদা রক্ত
কালো হয়ে যাওয়া গাঢ় রক্ত।
গরম প্রবাহমান রক্ত
জমাটবদ্ধ ঠান্ডা রক্ত।

আমি লাশ চাই, একটা নয়,
দুইটা নয়, তিনটা নয়
অগনিত লাশ চাই
পুড়ে যাওয়া লাশ চাই,
ভর্তা হয়ে যাওয়া লাশ চাই,
গলাকাটা লাশ চাই,
হাঁ করা লাশ চাই,
চোখ খোলা লাশ চাই,
চোখ বন্ধ করা লাশ চাই,
থেতলে যাওয়া লাশ চাই,
হাত কাটা লাশ চাই,
পা কাটা লাশ চাই,
এসিড দগ্ধ লাশ চাই,
বুলেট বিদ্ধ লাশ চাই।


আমি বাংলাদেশ
রক্ত আর লাশ খাব
এটাই আমার খায়েশ।