১১ ফেব, ২০২২

ছাত্রশিবিরের সভাপতিদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামী ছাত্রশিবির ৪৫ বছর পার করেছে। এই বছরগুলোতে ছাত্রশিবির ৩১ জন কেন্দ্রীয় সভাপতি পেয়েছে। এরা প্রায় ইসলামী আন্দোলনে ভূমিকা রেখে চলেছেন। এর মধ্যে একজন জামায়াতের সাথে যুক্ত হননি। আরেকজন জামায়াত ত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। এই দুইজন বাদে বাকীরা জামায়াতের সাথে যুক্ত আছে। জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করা দুইজনের মধ্যে একজন ইসলামপন্থী রাজনীতি করেন অন্যজন সেক্যুলার রাজনীতি করেন।    


১. শহীদ মীর কাসেম আলী

মীর কাসেম আলীকে দায়িত্ব দিয়েই ইসলামী ছাত্রশিবির তার যাত্রা শুরু করে। ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭ সাল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ পর্যন্ত তিনি সভাপতি ছিলেন। এদেশে রাবেতাসহ ইসলামী এনজিওগুলোর কার্যক্রম শুরু করা থেকে শুরু করে ইসলামী ব্যাংক ও ইবনে সিনার মতো প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে তাঁর ভূমিকা ছিল। ফ্যাসীবাদী হাসিনা সরকার সাজানো ও কথিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় তাঁকে হত্যা করেছে ২০১৬ সালে। শাহদাতের সময় তিনি জামায়াতের সর্বোচ্চ ফোরাম 'কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে'র সদস্য ছিলেন। তিনি মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।


২. শহীদ মুহাম্মদ কামারুজ্জামান 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২য় সভাপতি ছিলেন শহীদ কামারুজ্জামান। তিনি অক্টোবর ১৯৭৮ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন। তিনি ঢাবিতে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দৈনিক সংগ্রামের নির্বাহী সম্পাদক এবং 'সাপ্তাহিক সোনার বাংলার' সম্পাদক ছিলেন। ১১ এপ্রিল ২০১৫ সালে তাঁকে হত্যা করে স্বৈরাচার হাসিনা সরকার। তাঁর বাড়ি শেরপুর জেলায়।


৩. মাওলানা মুহাম্মদ আবু তাহের

৩য় সভাপতি হিসেবে ছাত্রশিবির পেয়েছে মাওলানা আবু তাহের ভাইকে। তিনি ১০ মে ২০২০ সালে ইন্তেকাল করেন। তিনি শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন। আল জাবের ইনস্টিটিউট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। মাওলানা আবু তাহের চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শমসের পাড়া মেডিকেল হাসপাতালসহ বহু ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ার সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি অক্টোবর ১৯৭৯ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৮১ পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রাম।  


৪. মুহাম্মদ এনামুল হক মঞ্জু 

এনামুল হক মঞ্জু ভাই অক্টোবর ১৯৮১ থেকে জানুয়ারী ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইরানে ঘটে যাওয়া ইসলামী বিপ্লবে আন্দোলিত হয় ছাত্রশিবির। এই নিয়ে ছাত্রশিবির কিছু দায়িত্বশীল ও জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সাথে মতবিরোধ হয়। সেই সূত্র ধরে মাত্র সাড়ে তিন মাসেই তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি জামায়াতের সাথে যুক্ত হন এবং ১৯৯১ সালে কক্সবাজার ১ আসন জামায়াতের মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি কক্সবাজার জামায়াতের সাথে কাজ করেন। 


৫. আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চু 

এনামুল হক মঞ্জু ভাইয়ের পদত্যাগে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সভাপতি হন ঢাকা ভার্সিটির সভাপতি থাকা আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চু। তিনি জানুয়ারী ১৯৮২ থেকে মে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন। বাচ্চু ভাই বিপ্লবের সমর্থক ছিলেন। ইরানের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা নিয়ে এদেশে ইসলামী বিপ্লব করতে চেয়েছেন। এই চাওয়ার মধ্যে ছিলেন আল্লামা সাঈদীও। কিন্তু জামায়াতের শুরার সিদ্ধান্ত ছিল মাত্র ৫% সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল করা অনুচিত হবে। অন্যায় হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রায় সবাই মুসলিম হওয়ায় বিপ্লব করতে হলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে ও হত্যা করতে হবে, যেটা উচিত নয়। মুসলিম মধ্যে ক্ষমতা পাবে তারাই যাদের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় আসবে। অস্ত্রের জোরে মুসলিমদের নেতা হওয়ার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে জামায়াত। কিন্তু কেউ কেউ সেটা মানতে রাজি হননি তৎকালীন সরকারকে তাগুত হিসেবে বিবেচনা করে। 


জামায়াতের সিদ্ধান্ত ইসলামী ছাত্রশিবির মানতে বাধ্য কিনা এই মর্মে ছাত্রশিবিরে মতবিরোধ তৈরি হয়। এই মতবিরোধের জেরেই এনামুল ভাই পদত্যাগ করেন। বাচ্চু ভাই দেখলেন ছাত্রশিবিরের বেশিরভাগের ইচ্ছা বিপ্লবে দিকে। কিন্তু তারা যখন  বিদায় নিয়ে জামায়াতে যোগ দেয় তখন তাদের বিপ্লবের ইচ্ছে নষ্ট হয়ে যায়। তাই বাচ্চু ভাই জামায়াতের লেজুড়বৃত্তি ত্যাগ করতে চেয়েছেন।


এই পরিস্থিতিতে তিনি বিপ্লবের চেতনা টিকিয়ে রাখতে দুই সংগঠনের মধ্যবর্তী একটি সংগঠন গোপনে প্রতিষ্ঠা করেন। এর নাম দেন যুবশিবির। তাঁর ইচ্ছে ছিল ছাত্রশিবির শেষ করে বিপ্লবী কর্মীরা যুবশিবিরে যোগ দেবে। এতে বিপ্লবের চেতনা ঠিক থাকবে। মূলত এই যুবশিবিরই হবে ইরানী বিপ্লবের ১ম সারির যোদ্ধা। 


এই গোপন সংগঠনের কথা ফাঁস হয়ে গেলে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়। এবার অভিযোগ আসে আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চু ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ। কার্যকরী পরিষদের অধিবেশনে আলোচনা করা ছাড়া নতুন সংগঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে অনাস্থার শিকার হন। অনাস্থার প্রেক্ষিতে সংবিধান অনুযায়ী কার্যকরী পরিষদ বনাম কেন্দ্রীয় সভাপতি ভোট হয়। সদস্যদের ভোটে হেরে যান বাচ্চু ভাই। তাঁর সদস্য পদ বাতিল হয় এবং তিনি ছাত্রশিবির ছাড়তে বাধ্য হন। 


বাচ্চু ভাই ও যুবশিবিরের ভাইরা এই ইতিহাসকে ভায়োলেট করেছেন। তারা ইরানী বিপ্লবের ইস্যু গোপন করে ৮২'র ঘটনার জন্য শুধু জামায়াতের লেজুড়বৃত্তিকেই ইস্যু করেন এখন। মাঝেমধ্যে একাত্তরকেও অযাচিতভাবে টেনে আনেন। 


ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর তিনি কিছুদিন যুবশিবিরকে টেনে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখানে কোনো সফলতা না পেয়ে খেলাফত মজলিসে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি খেলাফত মজলিসের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর ছিলেন। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়। 


৬. সাইফুল আলম খান মিলন 

বাচ্চু ভাইয়ের সদস্যপদ বাতিল হওয়ার পর সদস্যদের ভোটে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন মিলন ভাই। মিলন ভাই মে ১৯৮২ সাল থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে ফিতনা দূর হয় এবং ছাত্রশিবির তার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসে। কর্মজীবনে মিলন ভাই ইবনে সিনার পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদ সদস্য।      


৭. মুহাম্মদ তাসনিম আলম 

ইসলামী ছাত্রশিবির ৭ম কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে পায় মুহাম্মদ তাসনিম আলমকে। তিনি অক্টোবর ১৯৮৪ সাল থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য। তিনি সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ছিলেন। তাঁর বাড়ি নাটোরে। 


৮. ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ্ মোহাম্মদ তাহের 

৮ম কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ্ মোহাম্মদ তাহের। তিনি অক্টোবর ১৯৮৫ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ডা. তাহের ১৯৮৮-৯২ পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামী ফেডারেশন অফ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন (আইআইএফএসও) এর এশিয়ার ডিরেক্টর নির্বাচিত হন। পরে তিনি ১৯৯২-১৯৯৫ পর্যন্ত আইআইএফএসও এর নির্বাচিত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আইআইএফএসও'র মহাসচিবের পাশাপাশি তিনি একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার ওয়ামী (বিশ্বব্যাপী মুসলমান যুব পরিষদ) -এর পরিচালক ছিলেন। তিনি একজন ব্যবসায়ী। তিনি ২০০১ সালে কুমিল্লা-১২ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  


৯. মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম 

মাওলান শামসুল ইসলাম অক্টোবর ১৯৮৭ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। শামসুল ইসলাম আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সালে তিনি চট্টগ্রাম -১৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর। 


১০. ডা. আমিনুল ইসলাম মুকুল

ইসলামী ছাত্রশিবিরে দশম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডা. আমিনুল ইসলাম মুকুল। তিনি অক্টোবর ১৯৮৯ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি প্রবাসে আছেন এবং সেখানে জামায়াতের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সময়ে ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সেশন 'অক্টোবর থেকে সেপ্টেম্বর' পরিবর্তিত হয়ে 'জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর' করা হয়।   


১১. আবু জাফর মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ 

এগারোতম সভাপতি হিসেবে আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ জানুয়ারী ১৯৯২ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯২ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে জনপ্রিয় জাতীয় কিশোর পত্রিকা 'কিশোর কণ্ঠ' প্রকাশিত হয়। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে তিনি দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের পরিচালক। জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরীর নায়েবে আমীর। তাঁর বাড়ি ভোলায়। 


১২. ব্যারিস্টার হামিদ হোসাইন আজাদ 

ব্যরিস্টার হামিদ হোসাইন আজাদ দ্বাদশ সভাপতি হিসেবে জানুয়ারী ১৯৯৩ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৩ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি লন্ডনে প্রবাস জীবন ও আইন পেশায় নিয়োজিত হন। সেখানে জামায়াতের কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হন এবঙ্গ ইন্টারন্যশনাল দাওয়াহ কার্যক্রমের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক আন্তর্জাতিক চ্যারিটি সংস্থা “মুনতাদা এইড” এর সিইও। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামে। 


১৩. রফিকুল ইসলাম খাঁন 

রফিকুল ইসলাম খাঁন জানুয়ারী ১৯৯৪ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৫ পর্যন্ত তেরোতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন ব্যবসায়ী। তিনি তাঁর জন্মস্থান সিরাজগঞ্জে নানান সামাজিক সংগঠন ও বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।    


১৪. মুহাম্মদ শাহজাহান 

চৌদ্দতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি জানুয়ারী ১৯৯৬ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি কক্সবাজার ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাড়ি কক্সবাজার।


১৫. মতিউর রহমান আকন্দ 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের পনেরতম সভাপতি ছিলেন মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি জানুয়ারী ১৯৯৮ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আইনপেশার সাথে জড়িত। এছাড়া ঢাকার ফুয়াদ আল খতীব হাসপাতালের এমডি ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের নির্বাহী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহ।


১৬. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের 

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ছিলেন ষোলতম কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি জানুয়ারী ২০০০ থেকে ডিসেম্বর ২০০০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি। যুবায়ের ভাই তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নোয়াখালীতে সফর করেন। তিনি ছিলেন আমার দেখা প্রথম কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি আইনপেশা ও অন্যান্য ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাড়ি সিলেটে।  


১৭. নুরুল ইসলাম বুলবুল 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সতেরতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নুরুল ইসলাম বুলবুল ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০০১ থেকে ডিসেম্বর ২০০২ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য। তাঁর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। 


১৮. মুজিবুর রহমান মনজু 

জামায়াতের সাথে না থাকা আরেকজন কেন্দ্রীয় সভাপতি হলেন মুজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি ছাত্রশিবিরের আঠারতম সভাপতি। জানুয়ারি ২০০৩ থেকে ডিসেম্বর ২০০৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দিগন্ত টেলিভিশনে কর্মরত ছিলেন। জামায়াতে যতদিন ছিলেন ততদিন প্রকাশ্যে ও অন্তরালে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সমালোচনা করতেন। এভাবে সমালোচক হিসেবে নাম করেন। ২০১৭ সালে জামায়াতের সাবেক আমীর শহীদ নিজামীর মিথ্যা সমালোচনা করে আবার আলোচনায় আসেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জামায়াত ভাঙার ষড়যন্ত্রের কারণে তাঁর রুকন পদ স্থগিত করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি জামায়াত থেকে বের হয়ে যান। বর্তমানে তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টি নামে একটি উদ্যমী রাজনৈতিক দলের সদস্য সচিব। তাঁর বাড়ি ফেনী। 


১৯. মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন 

মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ইসলামী ছাত্রশিবিরের উনিশতম সভাপতি। তিনি জানুয়ারী ২০০৪ থেকে ডিসেম্বর ২০০৫ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর। তাঁর বাড়ি সিলেটে। 


২০. ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশতম সভাপতি ছিলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০০৬ থেকে ডিসেম্বর ২০০৭ পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর হাতে ২০০৭ সালে আমার সদস্য শপথ হয়। তিনি বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেডে কর্মরত। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য। তাঁর বাড়ি পটুয়াখালীতে।


২১. মো. জাহিদুর রহমান 

একুশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. জাহিদুর রহমান ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০০৮ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইবনে সিনায় কর্মরত। বর্তমানে তিনি জামায়াতের শুরা সদস্য। তাঁর বাড়ি মানিকগঞ্জ।  


২২. ড. মুহাম্মাদ রেজাউল করিম 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের বাইশতম সভাপতি ছিলেন রেজাউল করিম ভাই। তিনি জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সহকারী সম্পাদক। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি। তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। 


২৩. ডা. ফখরুদ্দীন মানিক 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৩তম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফখরুদ্দিন ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০১১ থেকে ডিসেম্বর ২০১১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাড়ি ফেনী।  


২৪. মুহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন 

নির্যাতিত নেতা দেলোয়ার ভাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৪তম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জানুয়ারী ২০১২ থেকে ডিসেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি গ্রেপ্তার হন ও ভয়াবহ নির্যাতনের মুখোমুখি হন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি। তাঁর বাড়ি ঠাকুরগাঁও। 


২৫. মুহাম্মাদ আব্দুল জাব্বার 

মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার ভাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৫তম কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি জানুয়ারী ২০১৪ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রাম।


২৬. আতিকুর রহমান 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের ছাব্বিশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আতিকুর রহমান ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শ্রমিক সংগঠন 'বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনে'র কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জামায়াতের শুরা সদস্য। তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। 


২৭. ইয়াসিন আরাফাত 

ইয়াসিন আরাফাত ভাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাতাশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জানুয়ারী ২০১৭ থেকে ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জামায়াতের শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লায়। 


২৮. ড. মোবারক হোসাইন 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের আটাশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোবারক হোসাইন ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০১৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের শুরা সদস্য ও থানা আমীর। তাঁর বাড়ি কুমিল্লায়।   


২৯. পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম 

সিরাজুল ইসলাম ভাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঊনত্রিশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জানুয়ারী ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বুয়েট থেকে তিনি ছিলেন একমাত্র সভাপতি। তিনি একটি অনলাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের জনশক্তি ও ইঞ্জিনিয়ার ফোরামের দায়িত্বশীল। তাঁর বাড়ি পাবনায়।


৩০. সালাহউদ্দিন আইউবী 

ছাত্রশিবির থেকে সর্বশেষ বিদায় নিয়েছেন তিরিশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সালাহদ্দিন আইয়ুবি। তিনি জানুয়ারী ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জামায়াতের গাজীপুর মহানগরীতে যোগ দিয়েছেন। তাঁর বাড়ি গাজীপুর।    


৩১. হাফেজ রাশেদুল ইসলাম 

রাশেদুল ইসলাম ভাই ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব নিয়েছেন। ৩১ জন সভাপতির মধ্যে তিনি একমাত্র কুরআনে হাফেজ। তাঁর বাড়ি শেরপুর।


৯টি মন্তব্য:

  1. ধন্যবাদ লেখককে অনেক কষ্ট করে ইনফরমেশনগুলি কালেক্ট করে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

    উত্তরমুছুন
  2. জাযাকাল্লাহ ভাই, অনেক অজানা জানলাম..

    উত্তরমুছুন
  3. আল্লাহ আপনাকে জাঝাকাল্লাহ দান করুক।

    উত্তরমুছুন
  4. অনেক ধন্যবাদ লেখককে, এতোকষ্ট করে তথ্য সংগ্রহ আমাদেরকে জানতে সাহায্য করার জন্য।

    উত্তরমুছুন
  5. সভাপতিরা কে কোথায় পড়েছে সেটা থাকলে আরো তথ্যবহুল হতো।

    উত্তরমুছুন
  6. আবরার হত্যার পর সিরাজুল ইসলাম ভাই এর কিছু হাসপাতালের কিছু ছবি প্রকাশিত হয়। কী ঘটেছিলো বুয়েটে তাঁর সাথে?
    ভাই এর অনলাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাই

    উত্তরমুছুন
  7. সম্মানিত লেখকের লেখায় একজন কেন্দ্রীয় সভাপতির পরিচিতির ক্ষেত্রে একটু তথ্যগত ভুল রয়েছে আমার জানামতে৷ সেটা হচ্ছে- ২২তম কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম ভাই সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার সম্পাদক নন, উনি হচ্ছেন সহকারী সম্পাদক। উল্লেখ্য সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার বর্তমানে কোন সম্পাদক নেই। পত্রিকাটির বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হচ্ছেন- অধ্যাপক মোঃ তাসনীম আলম, যিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    উত্তরমুছুন