২০১৩ সালে যখন শাপলা চত্বরে গণহত্যা হয় তখন আমি চট্টগ্রাম জেলে। কারাগারে থাকলেও হেফাজতের ঘটনা প্রবাহ একেবারেই আমাদের চোখের সামনে ছিলো। হেফাজতে ইসলামের এই ঘটনাক্রমের সাথে জামায়াতে ইসলামী ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
মূলত মহান মনিব জামায়াতকে বিপদমুক্ত করতেই হেফাজতে ইসলামকে দৃশ্যপটে হাজির করেছিলেন। এটা ছিল মহামহিম আল্লাহ তায়ালার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে হেফাজতে ইসলাম প্রাসঙ্গিকতার শুরু ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখ। সেদিন শহীদ কাদের মোল্লা রহ.এর যাবজ্জীবন রায় দেয় তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আমি তখন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম-এর ছাত্র। সেদিন আমরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করি। বিক্ষোভে আবিদ ভাই, ইমরান ভাইসহ শত শত ভাই গুলিবিদ্ধ হয়। আবিদ ভাই ও ইমরান ভাই শহীদ হয়ে যান। আমিসহ অন্তত ১৫ জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এরেস্ট হই।
মুরাদপুরে পাঁচলাইশ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস আমাকে এরেস্ট করে দুই পায়ে গুলি করে। সম্ভবত চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় মারাত্মক সংঘর্ষ হয়। ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শাহবাগে বিকেল থেকে জমায়েত হতে থাকে রাম ও বামপন্থীরা। মূলত কমিউনিটি ব্লগগুলোতে ইমরান এইচ সরকার সবাইকে শাহবাগে আসার জন্য আহবান করে। এরই প্রেক্ষিতে ইসলামবিদ্বেষী ব্লগাররা জমায়েত হতে থাকে। তাদের দাবি ছিলো, যেভাবেই হোক কাদের মোল্লা রহ.-কে ফাঁসী দিতে হবে।
মূলত এটি ভারতের একটি পরিকল্পনা। ভারত যখন দেখেছে মিথ্যা অভিযোগ এনে জামায়াত নেতাদের ফাঁসী দেওয়া যাবে না, তখন তারা আওয়ামী এক্টিভিস্ট দিয়ে এই আন্দোলনের সুত্রপাত ঘটিয়েছে। তাদের দাবি ছিলো, বিচার চাই না, ফাঁসী চাই। আওয়ামী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যে জমে ওঠে। অন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য 'গণজাগরণ মঞ্চ' নামে কমিটি গঠিত হয়।
শাহবাগে হাজার হাজার মানুষ রাতদিন অবস্থান করতে থাকে কাদের মোল্লার ফাঁসীর দাবিতে। অল্প সময়ের মধ্যে জামায়াত রাজনীতিতে মারাত্মকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। সকল মিডিয়া ও সরকারের প্রচারের কারণে জামায়াত গণমানুষের রোষানলে পতিত হয়। আমাদের প্রধান জোট সঙ্গী বিএনপি আমাদের পক্ষে ভূমিকা রাখা তো দূরের কথা, একটি বিবৃতি পর্যন্ত দেয়নি আমাদের পক্ষে। আমরা সত্যিকারভাবে একা হয়ে পড়ি। মনে হচ্ছিল আমরা আর এদেশে রাজনীতি করতে পারবো না।
গণজাগরণ মঞ্চের কুশীলবরা সবাই ইসলামবিদ্বেষী। ফলে তারা সমানভাবে জামায়াত ও ইসলামকে অপমান করতে শুরু করলো। এতে সুবিধা হলো আমাদের। কওমি মাদরাসাগুলোতে গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হতে থাকলো।
এদিকে ভারত ভেবেছিলো গণজাগরণ মঞ্চের সাথে জামায়াতের নিয়মিত সংঘর্ষ হবে। কিন্তু তা হয়নি। আসলে জামায়াত ঘটনা প্রবাহের আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে গিয়েছে। হুট করে জামায়াতের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া জনমত কীভাবে মোকাবেলা করবে তার কোনো তাল খুঁজে পায় না জামায়াত। তারা নিজেদের পরিণতি নিয়ে আল্লাহর কাছে সমর্পন করে।
আমি তখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন ছিলাম। প্রথমত দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হয়ে পড়ে আছি হাসপাতালে। শুধু পা নয়, পুলিশের এলোপাথাড়ি পিটুনিতে সারা শরীর একটা বিষের টুকরা। দ্বিতীয়ত অপপ্রচারের ও মিথ্যার মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়ে গেছে। এই দুই কষ্টে বুকটা খাঁ খাঁ করতো। হাসপাতালের বেডে পড়ে পড়ে আল্লাহর কাছে শুধু এই দোয়াই করতাম, আল্লাহ তুমি মুজিজা দিয়ে আমাদের উদ্ধার করো। তোমার কুদরত দেখাও।
আমি আমার আগের অনেক লেখায় জানিয়েছি এদেশের জঙ্গী কার্যক্রম পরিচালনা করে ভারত। ভারত ভেবেছিলো শিবির বনাম গণজাগরণ মঞ্চ সংঘর্ষ হবে, আর সেই সংঘর্ষ কেন্দ্র করে যদি গণজাগরণ মঞ্চের কেউ মারা যায় তবেই তাদের আন্দোলন আরো জনপ্রিয় হবে। কিন্তু কিংকর্তব্যবিমুঢ় জামায়াত তেমন কিছুই করে না। অতঃপর তারা তাদের পরিচালিত জঙ্গীদের কাজে লাগিয়ে এক অখ্যাত ব্লগার রাজিব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করে। এখানে একটা কথা গুরুত্বপূর্ণ যে, চরমপন্থী কার্যক্রমের সাথে রুট লেভেলে যারা যুক্ত তারা ইসলামকে ভালোবেসেই কাজ করে। কিন্তু তাদের যারা পরিচালনা করে তারাই মূল সন্ত্রাস। যাই হোক, এই ঘটনা ঘটেছে ১৫ ফেব্রুয়ারি।
লাশ নিয়ে মিছিল সমাবেশ করে গণজাগরণ মঞ্চ। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন আরো বেগবান হয়। আমরা ভয় পেতে থাকি, সিনিয়র নেতাদের হত্যা করবে ৭১ এর বানোয়াট ইস্যু দিয়ে। তরুণ নেতাদের এখন রাজিব হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে হত্যা করা হবে। বেগম খালেদা জিয়া তো আগে থেকেই চুপ। ইসলামপন্থীদের মধ্যে যারা আমাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো তারাও রাজিব হত্যার পর সেইফ সাইডে চলে গেছে। আমরা আরো কোণঠাসা হয়ে গেলাম। আগে তো ছিলাম একাত্তরের খুনী। এখন রানিং খুনীতে পরিণত হলাম।
কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা ভিন্ন। নিহত ব্লগার রাজিবের আল্লাহ তায়ালা, নবী সা. ও ইসলাম নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল লেখা ফাঁস হয়ে গেলো। বিভিন্ন ব্লগে ও ফেসবুকে ইসলামপন্থীরা প্রচার করতে লাগলো। দৈনিক আমার দেশ ও নয়া দিগন্ত রাজিবের সেই অশ্লীল লেখা ফাঁস করে জনগণকে জানিয়ে দিলো। আল্লাহ তায়ালা শাহবাগীদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে দিলেন। আস্তে আস্তে শাহবাগের উপস্থিতি কমতে থাকে।
আমার দেশ পত্রিকা ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমান দারুণ ভূমিকা রাখে আমাদের পক্ষে জনমত তৈরিতে। মাহমুদুর রহমান বিভিন্ন কওমি মাদরাসায় সফর করে তাদেরকে ঈমানী চেতনায় উজ্জীবিত হতে অনুরোধ করেন।
এরপর এলো ১৯ ফেব্রুয়ারি। হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী এক খোলা চিঠি লিখলেন গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে। আমার দেশ, নয়াদিগন্ত ফলাও করে ছাপলো সে চিঠি। সারাদেশে এর প্রভাব হলো ব্যাপক।
জামায়াত এই চিঠি লাখ লাখ কপি ছাপিয়ে সারাদেশে বিতরণ করলো। জনমত ঘুরে গেলো। হেফাজতে ইসলাম ও শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ মুখোমুখী হয়ে গেলো। ইসলামপন্থী ও ইসলামবিরোধী এই দুই বাইনারিতে বিভক্ত হয়ে গেলো দেশ। আল্লাহ তায়ালা জামায়াতকে তার কঠিন অবস্থা থেকে বের করে আনলেন। দেশের মানুষ আবার জামায়াতের প্রতি সিম্পেথাইজড হয়ে গেলো।
মূলত মহান মনিব জামায়াতকে বিপদমুক্ত করতেই হেফাজতে ইসলামকে দৃশ্যপটে হাজির করেছিলেন। এটা ছিল মহামহিম আল্লাহ তায়ালার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে হেফাজতে ইসলাম প্রাসঙ্গিকতার শুরু ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখ। সেদিন শহীদ কাদের মোল্লা রহ.এর যাবজ্জীবন রায় দেয় তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আমি তখন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম-এর ছাত্র। সেদিন আমরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করি। বিক্ষোভে আবিদ ভাই, ইমরান ভাইসহ শত শত ভাই গুলিবিদ্ধ হয়। আবিদ ভাই ও ইমরান ভাই শহীদ হয়ে যান। আমিসহ অন্তত ১৫ জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এরেস্ট হই।
মুরাদপুরে পাঁচলাইশ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস আমাকে এরেস্ট করে দুই পায়ে গুলি করে। সম্ভবত চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় মারাত্মক সংঘর্ষ হয়। ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শাহবাগে বিকেল থেকে জমায়েত হতে থাকে রাম ও বামপন্থীরা। মূলত কমিউনিটি ব্লগগুলোতে ইমরান এইচ সরকার সবাইকে শাহবাগে আসার জন্য আহবান করে। এরই প্রেক্ষিতে ইসলামবিদ্বেষী ব্লগাররা জমায়েত হতে থাকে। তাদের দাবি ছিলো, যেভাবেই হোক কাদের মোল্লা রহ.-কে ফাঁসী দিতে হবে।
মূলত এটি ভারতের একটি পরিকল্পনা। ভারত যখন দেখেছে মিথ্যা অভিযোগ এনে জামায়াত নেতাদের ফাঁসী দেওয়া যাবে না, তখন তারা আওয়ামী এক্টিভিস্ট দিয়ে এই আন্দোলনের সুত্রপাত ঘটিয়েছে। তাদের দাবি ছিলো, বিচার চাই না, ফাঁসী চাই। আওয়ামী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যে জমে ওঠে। অন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য 'গণজাগরণ মঞ্চ' নামে কমিটি গঠিত হয়।
শাহবাগে হাজার হাজার মানুষ রাতদিন অবস্থান করতে থাকে কাদের মোল্লার ফাঁসীর দাবিতে। অল্প সময়ের মধ্যে জামায়াত রাজনীতিতে মারাত্মকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। সকল মিডিয়া ও সরকারের প্রচারের কারণে জামায়াত গণমানুষের রোষানলে পতিত হয়। আমাদের প্রধান জোট সঙ্গী বিএনপি আমাদের পক্ষে ভূমিকা রাখা তো দূরের কথা, একটি বিবৃতি পর্যন্ত দেয়নি আমাদের পক্ষে। আমরা সত্যিকারভাবে একা হয়ে পড়ি। মনে হচ্ছিল আমরা আর এদেশে রাজনীতি করতে পারবো না।
গণজাগরণ মঞ্চের কুশীলবরা সবাই ইসলামবিদ্বেষী। ফলে তারা সমানভাবে জামায়াত ও ইসলামকে অপমান করতে শুরু করলো। এতে সুবিধা হলো আমাদের। কওমি মাদরাসাগুলোতে গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হতে থাকলো।
এদিকে ভারত ভেবেছিলো গণজাগরণ মঞ্চের সাথে জামায়াতের নিয়মিত সংঘর্ষ হবে। কিন্তু তা হয়নি। আসলে জামায়াত ঘটনা প্রবাহের আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে গিয়েছে। হুট করে জামায়াতের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া জনমত কীভাবে মোকাবেলা করবে তার কোনো তাল খুঁজে পায় না জামায়াত। তারা নিজেদের পরিণতি নিয়ে আল্লাহর কাছে সমর্পন করে।
আমি তখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন ছিলাম। প্রথমত দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হয়ে পড়ে আছি হাসপাতালে। শুধু পা নয়, পুলিশের এলোপাথাড়ি পিটুনিতে সারা শরীর একটা বিষের টুকরা। দ্বিতীয়ত অপপ্রচারের ও মিথ্যার মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়ে গেছে। এই দুই কষ্টে বুকটা খাঁ খাঁ করতো। হাসপাতালের বেডে পড়ে পড়ে আল্লাহর কাছে শুধু এই দোয়াই করতাম, আল্লাহ তুমি মুজিজা দিয়ে আমাদের উদ্ধার করো। তোমার কুদরত দেখাও।
আমি আমার আগের অনেক লেখায় জানিয়েছি এদেশের জঙ্গী কার্যক্রম পরিচালনা করে ভারত। ভারত ভেবেছিলো শিবির বনাম গণজাগরণ মঞ্চ সংঘর্ষ হবে, আর সেই সংঘর্ষ কেন্দ্র করে যদি গণজাগরণ মঞ্চের কেউ মারা যায় তবেই তাদের আন্দোলন আরো জনপ্রিয় হবে। কিন্তু কিংকর্তব্যবিমুঢ় জামায়াত তেমন কিছুই করে না। অতঃপর তারা তাদের পরিচালিত জঙ্গীদের কাজে লাগিয়ে এক অখ্যাত ব্লগার রাজিব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করে। এখানে একটা কথা গুরুত্বপূর্ণ যে, চরমপন্থী কার্যক্রমের সাথে রুট লেভেলে যারা যুক্ত তারা ইসলামকে ভালোবেসেই কাজ করে। কিন্তু তাদের যারা পরিচালনা করে তারাই মূল সন্ত্রাস। যাই হোক, এই ঘটনা ঘটেছে ১৫ ফেব্রুয়ারি।
লাশ নিয়ে মিছিল সমাবেশ করে গণজাগরণ মঞ্চ। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন আরো বেগবান হয়। আমরা ভয় পেতে থাকি, সিনিয়র নেতাদের হত্যা করবে ৭১ এর বানোয়াট ইস্যু দিয়ে। তরুণ নেতাদের এখন রাজিব হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে হত্যা করা হবে। বেগম খালেদা জিয়া তো আগে থেকেই চুপ। ইসলামপন্থীদের মধ্যে যারা আমাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো তারাও রাজিব হত্যার পর সেইফ সাইডে চলে গেছে। আমরা আরো কোণঠাসা হয়ে গেলাম। আগে তো ছিলাম একাত্তরের খুনী। এখন রানিং খুনীতে পরিণত হলাম।
কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা ভিন্ন। নিহত ব্লগার রাজিবের আল্লাহ তায়ালা, নবী সা. ও ইসলাম নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল লেখা ফাঁস হয়ে গেলো। বিভিন্ন ব্লগে ও ফেসবুকে ইসলামপন্থীরা প্রচার করতে লাগলো। দৈনিক আমার দেশ ও নয়া দিগন্ত রাজিবের সেই অশ্লীল লেখা ফাঁস করে জনগণকে জানিয়ে দিলো। আল্লাহ তায়ালা শাহবাগীদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে দিলেন। আস্তে আস্তে শাহবাগের উপস্থিতি কমতে থাকে।
আমার দেশ পত্রিকা ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমান দারুণ ভূমিকা রাখে আমাদের পক্ষে জনমত তৈরিতে। মাহমুদুর রহমান বিভিন্ন কওমি মাদরাসায় সফর করে তাদেরকে ঈমানী চেতনায় উজ্জীবিত হতে অনুরোধ করেন।
এরপর এলো ১৯ ফেব্রুয়ারি। হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী এক খোলা চিঠি লিখলেন গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে। আমার দেশ, নয়াদিগন্ত ফলাও করে ছাপলো সে চিঠি। সারাদেশে এর প্রভাব হলো ব্যাপক।
জামায়াত এই চিঠি লাখ লাখ কপি ছাপিয়ে সারাদেশে বিতরণ করলো। জনমত ঘুরে গেলো। হেফাজতে ইসলাম ও শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ মুখোমুখী হয়ে গেলো। ইসলামপন্থী ও ইসলামবিরোধী এই দুই বাইনারিতে বিভক্ত হয়ে গেলো দেশ। আল্লাহ তায়ালা জামায়াতকে তার কঠিন অবস্থা থেকে বের করে আনলেন। দেশের মানুষ আবার জামায়াতের প্রতি সিম্পেথাইজড হয়ে গেলো।

0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন