২৭ নভেম্বর, ২০২০

বঙ্গকথা পর্ব-৬৭ : শেখ মুজিব কেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারলেন না?




এদেশে প্রচলিত আছে ইয়াহিয়া খান সরকার শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নি বা করতে চায় নি। যা সর্বৈব মিথ্যে কথা। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই শেখ মুজিবুর রহমান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো দুজনকেই অভিনন্দন জানিয়ে ইয়াহিয়া বার্তা পাঠিয়েছিলেন। নির্বাচনের আগের মাসগুলোতে সামরিক আদালতে যারা বিভিন্ন অভিযোগে দণ্ডিত হয়েছিলেন, তাদের অনেককেই সাধারণ ক্ষমার আওতায় ছেড়ে দেওয়া হয় । 

ইয়াহিয়া শেখ মুজিবের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে খুবই উদগ্রীব ছিলেন। এ জন্য তিনি তার মন্ত্রিসভার সদস্য মাহমুদ হারুনকে ঢাকায় পাঠান। মাহমুদ হারুন হলেন ইউসুফ হারুনের ভাই এবং শেখ মুজিবের একজন আস্থাভাজন ব্যক্তি। শেখ মুজিবকে ইসলামাবাদে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়। পাকিস্তানের ভাবি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রেসিডেন্ট তাকে রাজধানীতে স্বাগত জানাতে চেয়েছিলেন। তিনি মুজিব সবাইকে অবাক করে দিয়ে রাজধানী বা ইসলামাবাদে যেতে অপারগতা জানান।  

এদিকে শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে এদেশীয় মুসলিম লীগের তিন পক্ষ, পিডিপি ও নেজামে ইসলামের নেতারা। তারা আগে থেকে নির্বাচিত হওয়া জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। কিন্তু অভিনব কেন্দ্র দখলের বিরুদ্ধে তাদের প্রস্তুতি ছিল না। কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের একটি স্বীকারোক্তি আছে তা কমেন্টে দেওয়া হলো। ভুট্টো প্রথমে এদের অভিযোগকে আমলে পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচন পুনরায় দাবি করেন। ইয়াহিয়া খান এসব অভিযোগে কান দেননি। কিন্তু যখন মুজিব পশ্চিম পাকিস্তানে যেতে অস্বীকার করলো তখন 'এদিক আমার ওদিক তোমার' বলে দেশকে বিচ্ছিন্ন করার ইঙ্গিত দিলেন তখন ভুট্টো পুর্ব পাকিস্তানের পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি থেকে সরে এসে মুজিবকে স্বাগত জানালো। 

অনেকেই বলে থাকেন মুজিব ঢাকাকে পাকিস্তানের কেন্দ্র বা রাজধানী হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। তাই তিনি ইসলামাবাদ যাননি। এই দাবিটিও মিথ্যে। কারণ মুজিব নির্বাচনের পর বহু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিন্তু কখনো সরাসরি কিংবা ইঙ্গিতেও বলেননি তিনি ঢাকাকে পাকিস্তানের রাজধানী হিসেবে দেখতে চান। অতএব পাকিস্তানে না যাওয়াটা ছিল তার ষড়যন্ত্রের ফল অথবা তার রাজনৈতিক দুর্বলতা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারার জন্য প্রথমে শেখ মুজিব নিজেই দায়ি। হয় তিনি ভারতীয় ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত অথবা তিনি পুরো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারেননি।  

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো মনে করতেন, তার সঙ্গে সমঝোতা না করে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে পারবে না। ২০ ডিসেম্বর লাহোরে পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলি চেম্বারসের সামনে পিপিপির এক সমাবেশে তিনি বলেন, তার দলের সহযোগিতা ছাড়া সংবিধান ও কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করা যাবে না। জাতীয় পরিষদে বিরোধী দলের আসনে বসার জন্য পিপিপি প্রস্তুত নয়। তিনি আরও বলেন, পিপিপির পক্ষে আরও পাঁচ বছর (পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত) অপেক্ষা করা সম্ভব নয়।' 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো পাঞ্জাব ও সিন্ধুর মানুষ জীবন বাজি রেখে আইয়ুব খানকে ক্ষমতা থেকে হটিয়েছে শেখ মুজিবকে নেতা হিসেবে পাওয়ার জন্য নয়। তাই শুরু থেকেই পিপলস পার্টি মুজিবের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করা ছাড়া সংসদে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা স্পষ্ট করে। পরদিন ভুট্টোর বক্তব্যের প্রতিবাদ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের রায় পেয়েছে এবং আওয়ামী লীগ একাই সংবিধান তৈরি ও কেন্দ্রে সরকার গঠনের ক্ষমতা রাখে। পাকিস্তানে বিজয় লাভ করার পরও প্রধানমন্ত্রী হতে না পারার ২য় কারণ ভুট্টো ও পিপলস পার্টি।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রায় ১২ জন জেনারেল শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধী ছিলেন বলে মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী তথ্য দিয়েছেন। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আকবর খান শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে বিরোধী ছিলেন। তাদের কাছে ১৯৬৭ সালে ক্যু-এর পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছিলো। যার মাধ্যমে লে. ক. মোয়াজ্জেম ভারতের কাছে পুর্ব পাকিস্তানের ক্যান্টনম্যান্ট হস্তান্তরের ষড়যন্ত্র করেছিলো। 

সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেলদের কাছে মুজিবের ভারত কানেকশনের ব্যাপারে স্পষ্ট প্রমাণ ছিল। তারা তাই ইয়াহিয়া খানকে শেখ মুজিবের কাছে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ছাড়তে বারণ করেছিলো। তারা নিশ্চিত ছিল ক্ষমতা পেলে মুজিব ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে, এমনও হতে পারে পাকিস্তান ভারতের অধিনস্ত হয়ে যাবে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান মনে করতেন ভারতের সাথে ষড়যন্ত্রের জন্য দায়ী আওয়ামীলীগের কিছু চরমপন্থী সদস্য। তিনি মনে করতেন মুজিব চাইলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তাই তিনি বিভিন্ন আলাপচারিতায় মুজিবকে চরমপন্থী ও ভারতপন্থীদের দ্বারা প্রভাবিত না হতে অনুরোধ করেছেন। পাকিস্তানে বিজয় লাভ করার পরও প্রধানমন্ত্রী হতে না পারার ৩য় কারণ সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য। 

নির্বাচনের পরে ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক জনসভায় আওয়ামী লীগের নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে দলীয় শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শেখ মুজিব। নৌকা আকৃতির একটি বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সবাই মঞ্চে ছিলেন। শপথনামায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ছয় দফা ও এগারো দফার ভিত্তিতে স্বায়ত্তশাসনসংবলিত সংবিধান তৈরি করতে অঙ্গীকার করেন। শপথ নেওয়া শেষ হলে শেখ মুজিব উপস্থিত জনতাকে আহ্বান করে বলেন, কেউ যদি বাংলার মানুষের সঙ্গে বেইমানি করে তবে তোমরা তাকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলবে।' শেখ মুজিব জয় বাংলা’ ও ‘জয় পাকিস্তান' বলে ভাষণ শেষ করেছিলেন।

শপথ অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। মঞ্চের সামনে সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত স্থানের পাশে তাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, ভারত ও ইরান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। চীন ও রাশিয়ার দূতাবাস প্রতিনিধির অনুপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রমনার বটমূলে ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের একটি সম্মিলনের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে সদ্যনির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রলীগের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বসন্ত রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ উপস্থিত হতে পারেননি। তার বদলে ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আ ফ ম মাহবুবুল হক সভা পরিচালনা করেন। সভা শুরু হওয়ার আগে ২০-২৫ জনের একটি দল স্লোগান দিতে দিতে সভা প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে। তাদের স্লোগানগুলো ছিল : 
বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো-বাংলাদেশ স্বাধীন করো, 
মুক্তিফৌজ গঠন করো—বাংলাদেশ স্বাধীন করো, 
লাল সূর্য উঠেছে—বীর জনতা জেগেছে, 
মুক্তির একই পথ—সশস্ত্র বিপ্লব, 
স্বাধীন করো স্বাধীন করো-বাংলাদেশ স্বাধীন করো, 
শেখ মুজিবের মন্ত্র-সমাজতন্ত্র। 

খেয়াল করে দেখুন, তারিখটা ৪ জানুয়ারি। তখনো নির্বাচন পুরোপুরি শেষ হয় নি। অনেক দুর্গত অঞ্চলে ডিসেম্বরে নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। তখনো আরো নয়টি আসনে নির্বাচন বাকী। ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তর করবে কি করবে না এমন আশংকা তখনো দেখা দেয় নি, এমন সময় ছাত্রলীগের একদল সদস্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সামনে রেখে দেশ বিরোধী জঙ্গী শ্লোগান দিয়ে দেশকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিলো। এরাই নিউক্লিয়াস। 

নিউক্লিয়াস চেয়েছিলো মুজিব যাতে প্রাদেশিক শাসন ক্ষমতা পায়। তাই তারা প্রচুর ভোট ডাকাতি করেছিলো। কিন্তু ডাকাতির ফল হিসেবে মুজিব পুরো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ম্যান্ডেট পেয়ে যায়। তারা যখন দেখলো শেখ মুজিব টোটাল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছে তখন তারা তা ঠেকাতে চেয়েছিলো। কারণ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলে বাংলাকে আলাদা করে তাদের সমাজতন্ত্র কায়েমের খায়েস ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই তারা কোনো প্রয়োজন ছাড়াই দেশবিরোধী জঙ্গী কার্যক্রম শুরু করে। পাকিস্তানে বিজয় লাভ করার পরও প্রধানমন্ত্রী হতে না পারার ৪র্থ কারণ সমাজতন্ত্রী নিউক্লিয়াস।  

নিউক্লিয়াসের এই শ্লোগানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের শুধু একজন নেতা কথা বলেছিলেন। তিনি হলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি ছেলেদের দেশবিরোধী কথা থেকে দূরে থাকতে বলেছেন ও ধমক দিয়েছেন। নিউক্লিয়াসের ছেলেদের সমর্থন দিয়েছেন তাজউদ্দিন আহমদ। শেখ মুজিব পুরো বিষয়কে ইচ্ছেকৃতভাবে এড়িয়ে গেছেন। আমার ধারণা তিনি তখনো ঠিক করতে পারেননি নির্বাচনের ফলাফল অনুসারে প্রধানমন্ত্রী হবেন নাকি দেশ ভাগ করে ফেলবেন! 

৯ জানুয়ারি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী টাঙ্গাইলের সন্তোষে একটি জাতীয় সম্মেলন ডাকেন। সম্মেলনে তিনি লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান দাবি করেন। উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে নভেম্বরে পল্টনের এক জনসভায়ও তিনি এ দাবি উচ্চারণ করেছিলেন। তবে তার এসব কথাবার্তাকে আর গুরুত্ব দেওয়ার কিছু ছিল না। তিনি ইতোমধ্যে তার আজব কর্মকাণ্ড ও প্রতারণার কারণে জনগণের রোষানলে ছিলেন। ভোটের বাক্সে লাথি মারার ঘোষণা দিয়ে তিনি রাজনীতি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। 

নির্বাচনের সব কর্মকাণ্ড শেষ হওয়ার পরপরই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বিজয়ী প্রধান দুটি দলের নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সিদ্ধান্ত নেন। যেহেতু মুজিব রাজধানী যেতে চায় নি তাই প্রেসিডেন্ট নিজেই ঢাকায় এসেছেন ১১ জানুয়ারি। এতে তার ক্ষমতা হস্তান্তরের সদিচ্ছার প্রমাণ পাওয়া যায়। তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন সেনাসদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ মহিউদ্দিন পীরজাদা, ব্রিগেডিয়ার ইস্কান্দার উল করিম ও লে. কর্নেল মাহমুদ। করিম ও মাহমুদ দুজনই ছিলেন বাঙালি। করিম প্রেসিডেন্টের সচিবালয়ে বসতেন এবং মাহমুদ ছিলেন পীরজাদার স্টাফ অফিসার। করিমকে পীরজাদার ডান হাত মনে করা হতো।

ইয়াহিয়া খান রওনা হওয়ার আগে করাচি বিমানবন্দরে এবং ঢাকায় পৌছে সাংবাদিকদের সঙ্গে বেশ খোলামেলাভাবেই বলেন, তিনি ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করতে উৎসুক। ঢাকায় পৌঁছে ইয়াহিয়া তার সাহায্যকারী দলের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সভা করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন লে. জেনারেল পীরজাদা, মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ও ব্রিগেডিয়ার ইস্কান্দার করিম। 

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন কামাল হোসেন, তাজউদ্দীন আহমদ ও খন্দকার মোশতাক আহমদ। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া শেখ মুজিবের সঙ্গে কোলাকুলি করলেন। প্রেস ফটোগ্রাফারদের ফটোসেশন চলল অনেকক্ষণ ধরে। তারপর ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করলেন। ইয়াহিয়া খান ভুট্টোর মানসিকতা, ইসলামাবাদসহ পশ্চিম পাকিস্তানে আওয়ামী লীগের অবস্থান ইত্যাদি বিষয় বিবেচনার আলোকে সমাধানের তিনটি বিকল্প প্রস্তাব রাখেন। প্রথমত সেনাবাহিনীর সহায়তায় শেখ মুজিব পাকিস্তান পরিচালনা করবে। দ্বিতীয়ত ভুট্টোর সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে সরকার গঠন। তৃতীয়ত পশ্চিম পাকিস্তানের ভুট্টোর দল ছাড়া অন্য দলগুলোর সাথে জোট করে ক্ষমতা শেয়ার করা।   

যেহেতু মুজিবের পশ্চিমের অর্থাৎ মূল ভুখণ্ডে কোনো অবস্থান নেই তাই তিনি ভালো করেই জানতেন এই বিকল্প প্রস্তাবের বাইরে একা পাকিস্তান শাসন করা তার জন্য সম্ভব না। তাই তিনি শুরুতেই ১ম প্রস্তাবে রাজি হলেন। এই প্রস্তাবের আওতায় ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট ও মুজিব প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। প্রেসিডেন্টের কাছে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, বিচারবিভাগ ও অর্থের দায়িত্ব রাখতে চেয়েছে ইয়াহিয়া ও সেনাবাহিনী। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর যে উদ্বেগ রয়েছে মুজিবের প্রতি তা দূর হবে।  

শেখ মুজিব তার দলের অন্যান্য নেতাদের সাথে প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করলেন। এরপর পুনরায় ১৪ জানুয়ারি আবার দেখা করতে চেয়েছেন প্রেসিডেন্টের সাথে। সে মিটিং-এ মুজিব স্পষ্ট করেন তার ও তার দলের পক্ষে ইয়াহিয়া খানকে নামেমাত্র প্রেসিডেন্ট ছাড়া আর কিছু ভাবা যাচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে মুজিব ভারতের প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। এরপর আর আলোচনা আগায় নি। ইয়াহিয়া খান ২য় প্রস্তাবের দিকে অগ্রসর হন। ১৫ জানুয়ারি তিনি ফিরে যান পশ্চিমে। সেখানে করাচি বিমানবন্দরে তিনি মুজিবকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। 

এরপর তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের বিজয়ী প্রার্থী ভুট্টোকে প্রেসিডেন্ট ভবনে ডাকেন ও মুজিবের সাথে সমঝোতায় রাজি হতে অনুরোধ করেন। আলোচনা আরো চলতে থাকে ভুট্টো ও ইয়াহিয়ার মধ্যে। লারকানায় ভুট্টোর পৈত্রিক বাড়িতে ইয়াহিয়া খান ভুট্টোকে মুজিবের সাথে আলোচনা করে ক্ষমতা ভাগাভগি করার ব্যাপারে রাজি করেন। ২৭ জানুয়ারি ভুট্টো ঢাকায় এসে মুজিবের সাথে আলোচনা শুরু করেন। 

এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করার মতো। যেহেতু মুজিব নির্বাচনে জিতেছেন তাই ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে শেখ মুজিবের ভূমিকা থাকা উচিত ছিল একটিভ ভূমিকা। তার পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিলো। কিন্তু তা মোটেও দেখা যায়। তার ভূমিকা ছিল প্যাসিভ। সে ঢাকায় বসে আছে। কারো সাথেই আলোচনার উদ্যোগ নিচ্ছে না। এই সমস্যাকেই আমি ১ম সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছি।    

ভুট্টো-মুজিব আলোচনা এগোয়নি। আসলে মুজিব কী চাচ্ছিলেন তা তিনি নিজেও জানতেন না। তিনি ভুট্টোর সাথে কোয়ালিশন করতে রাজি হয়েছেন অথচ ভুট্টোকে কোনো ক্ষমতার অংশীদার করতে চান নি। এই সমস্যা কী মুজিবের একার ছিল? আমরা যদি একটু পেছনের দিকে যাই দেখতে পাবো ১৯৩৭ সাল থেকে এই বাংলায় নির্বাচনে যারাই জিতেছে কেউ তাদের অংশীদারদের ছাড় দিতে পারে নি বলে স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে পারে নি। ইংরেজ আমলে শেরে বাংলা ও সোহরাওয়ার্দি প্রায়ই মন্ত্রীসভা গড়তেন আর ভাঙতেন। পাকিস্তান আমলে ৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে জেতার পর শেরে বাংলা ও আতাউর রহমান খান তিন বছরে পাঁচের বেশি মন্ত্রীসভা তৈরি করতে হয়েছে। অবশেষে স্পিকারকে খুন করে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। 

ভুট্টো মুজিবের কাছে প্রথমে উপপ্রধানমন্ত্রী পদ চেয়েছেন। মুজিব রাজি না হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ চেয়েছেন। মুজিব তাতেও রাজি ছিলেন না। ভুট্টোকে ব্যবহার করে মুজিব পশ্চিম পাকিস্তানের নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন বিনিময়ে শুধু একটি মন্ত্রনালয় (কৃষিমন্ত্রী) দিতে চেয়েছেন। ভুট্টো শুধু একটি মন্ত্রীতে রাজি হয়েছেন যদি পররাষ্ট্র হয়। আর তা না হলে মন্ত্রীসভায় আওয়ামী লীগ ও পিপলস পার্টির সমান সংখ্যক মন্ত্রী চেয়েছেন। মুজিব কৃষি ছাড়া আর কোনো মন্ত্রনালয় দিতে রাজি হননি। ভুট্টো ফিরে যান। 

ইয়াহিয়া খান দুই দলকেই দ্রুত সমঝোতায় আসতে চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের সাথে একটি বিমান ছিনতাই নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং বিমান চলাচল কিছুদিন বন্ধ থাকে। তাই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কিছুদিন বন্ধ থাকে। 

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সমস্যা নিরসনে মুজিব একটিভ ভূমিকা নিতে চান। তিনি মার্কিন দূতের কাছে যান আলোচনা করতে। তাকে সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী মানতে চান। মুজিব ভুট্টোর ক্ষমতাকে ছোট করে দেখেছেন। ভুট্টো পশ্চিমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে ফেলেছে আন্দোলন করে। ইয়াহিয়া খানের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করছে। চাপের মুখে ইয়াহিয়া খান তার মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেন। এর মাধ্যমে ইয়াহিয়া ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত করেন। রাজনীতিবিদেরা যদি সমঝোতা করতে না পারে আবারো সেনা শাসন আসার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হলো। মুজিবও দেখতে পারলেন ভুট্টোর অব্যাহত আন্দোলনে তার জন্য পশ্চিম পাকিস্তান হারাম হয়ে যাচ্ছে। এদিকে মার্কিন দূত আর্চার ব্লাডের কাছে যাওয়ায় নিউক্লিয়াস অত্যন্ত ক্ষেপে গিয়েছে। 

যাই হোক ১ মার্চ বেলা একটায় রেডিওতে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। রেকর্ডকৃত ঘোষণাটি প্রেসিডেন্টের নামে পাঠ করা হলেও প্রেসিডেন্ট এতে কণ্ঠ দেননি। বেতার ঘোষণার অংশবিশেষ ছিল এ রকম:

//বিগত কয়েক সপ্তাহে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু আমাকে দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে যে ঐকমত্যে পৌঁছানোর পরিবর্তে আমাদের কোনো কোনো নেতা অনমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন। এটি দুর্ভাগ্যজনক। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক মোকাবিলা একটি দুঃখজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

...সংক্ষেপে বলতে গেলে পরিস্থিতি এই দাঁড়িয়েছে যে পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল অর্থাৎ পাকিস্তান পিপলস পার্টি এবং আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদান না করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া ভারত কর্তৃক সৃষ্ট সাধারণ উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সার্বিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অতএব, আমি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান পরবর্তী কোনো তারিখের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আমি বারবার উল্লেখ করেছি যে শাসনতন্ত্র কোনো সাধারণ আইন নয়, বরং এটি হচ্ছে একত্রে বসবাস করার একটি চুক্তিবিশেষ। অতএব, একটি সুষ্ঠু ও কার্যকর শাসনতন্ত্র প্রণয়নের ব্যাপারে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান উভয়ের পর্যাপ্ত অংশীদারি থাকা প্রয়োজন।

...শাসনতন্ত্র প্রণয়নের ব্যাপারে যুক্তিসংগত সমঝোতায় উপনীত হওয়ার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের আরও কিছু সময় দেওয়া উচিত। এ সময় দেওয়ার পর আমি একান্তভাবে আশা করি যে তারা একে কাজে লাগাবেন এবং সমস্যার একটি সমাধান বের করবেন। আমি পাকিস্তানি জনগণকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিতে চাই যে ইতিপূর্বে বর্ণিত পরিস্থিতি শাসনতন্ত্র প্রণয়নের পক্ষে সহায়ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি, অনতিবিলম্বে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বানে কোনোরূপ ইতস্তত করব না।//

৩ মার্চের সংসদ অধিবেশন স্থগিত হলে পূর্ব পাকিস্তানে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। শেখ মুজিব হরতাল ঘোষণা করেন। সারা বাংলাকে নরকে পরিণত করে নিউক্লিয়াসের পরিকল্পনায় আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় ভারতের বিহার থেকে আসা মুহাজিরদের ওপর চলে অবর্ণনীয় নির্যাতন ও গণহত্যা।       

এতো এতো খারাপ পরিস্থিতির মধ্যেও হাল ছাড়েননি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। তিনি ১৫ মার্চ ঢাকায় উড়ে এলেন। ১৬ মার্চ মুজিব-ইয়াহিয়া একান্ত বৈঠক হলো এক ঘণ্টা। ১৭, ১৯ ও ২০ মার্চও দুজনের মধ্যে কথা হয়। তাঁদের দুজনের সঙ্গেই ছিল নিজ নিজ পরামর্শক টিম। তারা জানাল, কয়েকটি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, যার ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট একটা ফরমান জারি করবেন। ২১ মার্চ ভুট্টো ঢাকায় আসেন। এবার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে ভুট্টো ও মুজিবের মধ্যে সমঝোতা করে দিতে চান ইয়াহিয়া। আলোচনা অনেক এগিয়েছে। শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। 
 
এরপর কিছু নাটকীয় ঘটনা ঘটল। শেখ মুজিবের স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা যুবনেতা আবদুর রাজ্জাককে (নিউক্লিয়াস প্রতিষ্ঠাতাদের একজন) ডেকে বললেন, ‘তোমরা এখনো বসে আছ? তোমাদের নেতা কিন্তু আপস করে ফেলেছে।’ এতে  নিউক্লিয়াসের মধ্যে তৎপরতা শুরু হলো। ২২ মার্চ রাতে তাঁরা ধরনা দিলেন শেখ মুজিবের কাছে। শেখ মুজিবের সঙ্গে তাঁদের আলাপচারিতা উঠে এসেছে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজের বয়ানে:

২২ মার্চ রাতে আমরা ৩২ নম্বরে গেলাম। রাত তখন ১০টা হবে। বঙ্গবন্ধু স্যান্ডো গেঞ্জি আর লুঙ্গি পরে খাটে শুয়ে আছেন। আমরা মেঝের ওপর বসলাম। তিনি এক হাতের ওপর মাথা ভর দিয়ে কাত হয়ে আধশোয়া অবস্থায় কথা বলতে লাগলেন। আমি বললাম, ‘স্বাধীনতা ঘোষণা করে দ্যান।’ বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘অনেক ভেবেছি, কোথাও সাপোর্ট নাই। ইন্ডিয়া সাপোর্ট দিতে পারে, নাও পারে। রাশিয়া দিবে কি না জানি না। আমেরিকা সাপোর্ট দিবে না। চায়না-হুজুরকে (মওলানা ভাসানী) বলছি, নেগেটিভ।’ ঠিক এই সময় সিরাজ ভাই (সিরাজুল আলম খান) উঠে বেরিয়ে গেলেন। ফিরলেন ৪০-৪৫ মিনিট পর। বললেন, ‘কনফেডারেশনের প্রস্তাব দিলে কেমন হয়? এতে পাকিস্তান থাকবে, কিন্তু ইয়াহিয়া এটা মানবে না। সুতরাং, আমাদের কাজটা হয়ে যাবে।’ বঙ্গবন্ধু মুচকি হেসে সিরাজ ভাইকে বললেন, ‘অ, তুই বুঝি মোস্তাকের (খন্দকার মোশতাক আহমদ) কাছে গেছিলি?’ 

একটা চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে ছাত্রসমাজের একটি অংশের চাপ ছিল। ছাত্রদের দাবি ছিল, গণ-আন্দোলন নিয়ে কোনো আপোস চলবে না। শেখ মুজিব কেন্দ্রের ক্ষমতা নেওয়া অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘোর বিরোধী ছিল নিউক্লিয়াস। প্রধানমন্ত্রী হওয়াটাকেই তারা আপোষ হিসেবে দেখেছে।

চরম সিদ্ধান্ত নেয় নিউক্লিয়াস। তারা মুজিবের ওপর ভরসা রাখে না। কারণ মুজিব ভুট্টোর সাথে কোয়ালিশন করে প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। ২৩ তারিখ ভারত, রাশিয়া ও আমেরিকার মিডিয়ায় একটি খবর লিড নিউজ করে ছাপা হয়। বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিচ্ছে পূর্ব পাকিস্তান। প্রমাণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্র হাতে প্যারেডরত ছাত্র-ছাত্রীদের একটি ছবি প্রকাশিত হয়। এই নিয়ে শুধু পাকিস্তান নয় সারা পৃথিবীতে আলোড়ন তৈরি হয়। ভুট্টোর কথা সত্য প্রমাণিত হয়। ভুট্টো এতো দিন বলে আসছিল আওয়ামী লীগ গোঁয়ার্তুমি ও আলোচনা নামে সময় ক্ষেপন করছে। তারা পাকিস্তান ভেঙে দিতে চায়। তারা মুশরিকদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়।  

ইয়াহিয়া খান হতাশ হয়ে পড়লেন। ২২ তারিখের ক্ষমতা হস্তান্তরের সকল প্রক্রিয়া ২৪ তারিখে বন্ধ হয়ে গেল। ভুট্টো মুজিবের সাথে আর কোনো আলোচনা করতে রাজি না থেকে পশ্চিমে চলে যান। ২৪ মার্চ সন্ধ্যা ছয়টায় আওয়ামী লীগের আলোচক দল ইয়াহিয়ার পরামর্শক দলের সঙ্গে আবার বৈঠক করে। ওই বৈঠকে দেশের নাম ‘কনফেডারেশন অব পাকিস্তান’ হতে হবে বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই মিটিং-এ শেখ মুজিব ছিল না। ইয়াহিয়া খান ধৈর্য ধরে ঢাবির ঘটনা জানতে চান। তারা এটাকে কিছু উগ্রবাদীদের কাজ বলে উল্লেখ করেন। 

মুজিব পড়ে যায় বিপদে। নিউক্লিয়াস বিদেশি মিডিয়ার কাছে ছবি পাঠিয়ে মুজিবের সমস্ত রাজনৈতিক কাজের ইতি ঘটিয়ে দিল। মুজিব পালিয়ে না গিয়ে গ্রেফতার হওয়ার প্রস্তুতি নিলেন। ইয়াহিয়া খান সকল আলোচনা বন্ধ করে দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান। আর সেনাবাহিনী দেশদ্রোহীদের খোঁজার জন্য অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনা করে। মুজিব প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য যে চারটি সমস্যা ছিল। এর মধ্যে ইয়াহিয়া খান তার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে ১ম তিনটি সমস্যা দূর করে ফেলেছেন। কিন্তু ৪র্থ বাধা নিউক্লিয়াসের কাছে হেরে যান মুজিব ও ইয়াহিয়া খান। তারা মুজিবকে দেশদ্রোহী হিসেবে প্রমাণ করেছে। একজন দেশদ্রোহী তো আর দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে না! 

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন