২১ ফেব, ২০২২

একটি প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাই


মূল ঘটনায় যাওয়ার আগে একটি ভিন্ন ঘটনায় নজর দেই। ২৪ নভেম্বর যাত্রাবাড়ি, ১৯৭৪ সাল, ভয়ানক বিস্ফোরণ হয় একগুচ্ছ বোমার। বোমার নাম আলোচিত নিখিল বোমা। সে বোমার জনক নিখিল রঞ্জন সাহা। বুয়েটের মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের তরুণ লেকচারার। জাসদ করতেন। ২৬ নভেম্বর হরতালকে কেন্দ্র করে দেশকে ব্যাপক অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা গ্রহন করে জাসদ। প্রচুর বোমা দরকার। কিন্তু বোমা বানাবে কে?

সেই গুরুদায়িত্ব গ্রহন করে নিখিল। নিখিল আগে থেকেই বোমা বানায়। পদ্ধতিও ছিল স্থুল। পাতলা এক টুকরো মার্কিন কাপড় চিনি দিয়ে ভিজিয়ে এবং পরে শুকিয়ে মাড় দেয়া কাপড়ের মত করে শক্ত করা হতো। এর ভেতর ধাতব স্প্রিন্টার ঢুকিয়ে দেয়া হতো। তারপর মেশানো হতো পটাশিয়াম ক্লোরেট। জ্যাকেটের মধ্যে কয়েকটা ফোকর রাখা হতো। প্রতিটি ফোকরে অ্যম্পুলের ভেতর থাকতো সালফিউরিক এসিড। এটা ডেটোনেটরের কাজ করতো।

সলতের মধ্যে আগুন লাগিয়ে ছুঁড়ে দিলে তৎক্ষণাৎ কাজ করতো। আর যদি টাইম বোমা বানানোর প্রয়োজন পড়তো তবে কনডম ব্যবহার করা হতো। সেক্ষেত্রে অ্যম্পুলগুলো কনডমে রাখা হতো। হিসেব করে দেখা গেল কনডম থেকে গড়িয়ে এসিড বেরিয়ে আসতে দু'মিনিট সময় লাগে। যদি মনে করা হতো দু'মিনিট পর বিস্ফোরন করা লাগবে তাহলে একটা কনডম, আর যদি চার মিনিট তাহলে দুটো কনডম ব্যবহার করা হতো।

নিখিল তার দুই সহযোগী কাইয়ুম আর নয়নকে নিয়ে বোমা তৈরি করে যাচ্ছিল। হঠাৎ ভুলবশত একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এরপর তৈরি হয়ে যাওয়া একে একে অনেকগুলো। কাইয়ুম ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। মারাত্মক আহত হয় নিখিল। নয়ন নিখিলকে নিয়ে হাসপাতালে যায়।

মাইনুদ্দিন খান বাদলের বাবা পুলিশের বড় অফিসার। সেই পাওয়ার খাটিয়ে নিখিলের বন্ধু সেজে পরদিন তাকে দেখতে যায় বাদল। নিখিল জানায় পুলিশের লোকেরা তার ডায়েরি পেয়েছে। তাই নিখিল বাদলসহ অন্যান্য নেতাদের সরে থাকতে বলেছে। নিখিল আরো জানিয়েছে সে এখনো কিছু পুলিশকে বলেনি। তবে পুলিশ বেপরোয়াভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যাচ্ছে। বাদল ঠিক এই তথ্যের জন্যই সেখানে গিয়েছে। এর পরদিন একটু সুস্থ হয়ে ওঠা বুয়েটের শিক্ষক নিখিল বিষ প্রয়োগে খুন হন। নিখিলের কাছ থেকে জাসদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা মুজিবের পুলিশের কাছে চলে যাবে তাই জাসদই তাকে হাসপাতালে খুন করে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে।[১]

নিখিলের আলোচিত সৃষ্টি এবং যাদের জন্য সৃষ্টি তারাই হত্যা করে নিখিলকে। এভাবেই মৃত্যুবরণ করে নিখিল ও নিখিলের হতদরিদ্র খেতমজুর বাবার পরিবারের স্বপ্ন। নিখিলদের বাড়ি ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জিলার নবীনগর থানার বিটনগর গ্রামে।

আরেক সহকর্মী কাইয়ুম থাকতেন পলাশীর সরকারি কলোনীতে। রেডিওতে খবর শুনে তার মা যাত্রাবাড়িতে যান লাশ দেখতে। কাইয়ুমের বাবা সরকারি চাকুরি করতেন, থাকতেনও সরকারি কোয়ার্টারে। কাইয়ুমের মা মানুষের জটলার মধ্যে দাঁড়িয়ে তার ছেলেকে দেখেছিলেন। কিন্তু মুজিবের পুলিশের ভয়, কাইয়ুমের বাবার চাকুরি ও কোয়ার্টার নিয়ে ঝামেলা হতে পারে এজন্য নিজের ছেলে বলে পরিচয় দেয়ার সাহস পাননি। জাসদের পক্ষ থেকেও কেউ যে এগিয়ে আসবে এমন কাউকে পাওয়া যায়নি। 

আজকের মূল ঘটনা নিখিল কিংবা বোমা নয়। ১৯৭৪ সালে যারা জাসদ করতো তাদের বড় ভাইরা ২২ বছর আগে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন করেছিল। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মৃত্যুবরণ করেন রফিক, সালাম, বরকত, ওহিউল্লাহরা। এদের কারা হত্যা করেছে এই প্রশ্ন আমি নতুন করে তুলতে চাই। 

সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে জড়ো হয়। তারা ১৪৪ ধারা জারির বিপক্ষে স্লোগান দিতে থাকে এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সমাবেশ চালাতে থাকে। পুলিশ অস্ত্র হাতে সভাস্থলের চারদিক ঘিরে রাখে। পুলিশের নমনীয় অবস্থান দেখে ছাত্রলীগ তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সমাবেশে যোগ দেয়। বিভিন্ন অনুষদের ডীন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ঐসময় উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রলীগ যোগ দিলে সমাবেশের আকার অনেক বড় হয়ে যায়। তাই এগারটার দিকে ছাত্ররা গেটে জড়ো হয়ে প্রশাসনের প্রতিবন্ধকতা ভেঙে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ছাত্রদের সতর্ক করে দেয়। অনেক ছাত্র ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে গেলেও বাকিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পুলিশ দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। উপাচার্য তখন পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ বন্ধ করতে অনুরোধ জানান এবং ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেন। উপাচার্যের কথা পুলিশ শুনলেও বিচ্ছিন্নতাবাদী, জাতীবাদী ও বাম্পন্থী ছাত্ররা শুনেনি। [২] 

পুলিশ পিছিয়ে গেলে ছাত্ররা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। এ সময় কয়েকজনকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার শুরু করলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এবার পুলিশ  অনেক ছাত্রকে গ্রেফতার করে এবং তেজগাঁও নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়। দুপুরের দিকে আইন পরিষদের সদস্যরা আইনসভায় যোগ দিতে এলে ভাষা আন্দোলনকারীরা তাদের বাধা দেয়। অনেককে হেনস্তা করে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিন্তু পরিস্থিতির ভয়ানক পরিবর্তন ঘটে যখন ছাত্ররা দলবল নিয়ে আইনসভার (পার্লামেন্ট) দখল নিতে যায়। 

আইনসভার ওপর বাম ছাত্ররা ক্ষ্যাপা কারণ বাংলা আইনসভার বাঙালি সদস্যরা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে পছন্দ করেনি। বাম ছাত্ররা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়া শুরু করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।[৩] এ সময় ছাত্রদের আক্রমণে লুটিয়ে পড়ে সেক্রেটারিয়েটের পিয়ন[৪] আব্দুস সালাম। যাকে এখন ভাষা শহীদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের সামলাতে ব্যর্থ হয়ে আইনসভার সদস্য নিরাপত্তায় গণপরিষদ ভবনের দিকে অগ্রসররত মিছিলের উপর পুলিশ গুলি চালায়। এতে অনেকে আহত হয় এবং প্রতিবাদকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়। 

প্রচলিত ইতিহাসে বলা হয় পুলিশের গুলিবর্ষণে রফিক উদ্দিন, আব্দুল জব্বার এবং আবুল বরকত গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এছাড়া অহিউল্লাহ নামেও একজন বালক পুলিশের গুলিতে নিহত হন। 

বর্তমান জগন্নাথ হল ছিল ১৯৫২ সালের সেক্রেটারিয়েট ও আইনসভা [৫]। সেখানে হামলা চালিয়েছে ভাষা আন্দোলনকারীরা। সেক্রেটারিয়েটের পিয়ন আব্দুস সালাম নিহত হওয়ার পর পুলিশ নিরাপত্তা রক্ষার্থে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি চালায়। যারা সেসময় প্রমিনেন্ট ভাষা আন্দোলনকারী ও সামনের সারিতে ছিল তারা কেউ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে প্রমাণ ইতিহাসে নেই। একাধিক ভাষা আন্দোলনকারীদের বয়ানে এটা সুস্পষ্ট যে, বর্তমান শহীদ মিনার এলাকায় শুধুমাত্র সংঘর্ষ হয়। 

তাহলে ঢাকা মেডিকেলের হোস্টেলে কেন কথিত ভাষা আন্দোলনকারীরা মৃত্যুবরণ করলো? প্রশ্ন তুলতে চাই কারা তাদের হত্যা করলো? 

আমরা যদি সেসময় খুন হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় নিতে চাই তাহলে প্রশ্নের যৌক্তিকতা আরো স্পষ্ট হবে। প্রথমে খুন হন ঢাকা মেডিকেলের হোস্টেলে খুন হন রফিক উদ্দিন। হোস্টেলের ভেতর গিয়ে পুলিশ গুলি চালিয়েছে এমন অভিযোগ কখনোই পাওয়া যায় নি। অভিযোগ ছিল পুলিশ মিছিলে গুলি চালিয়েছে। অথচ রাস্তায় মিছিলে থাকা কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি। রফিক ১৯৪৯ সালে বায়রা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাশ করেন। পরে স্থানীয় দেবেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন কিন্তু পড়ালেখা শেষ করেন নি। [৬] 

ঢাকায় এসে বাবার সাথে প্রেসের ব্যবসায়ে যুক্ত হন। তিনি ছাত্র ছিলেন না। তার ভাষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকার রেকর্ডও ছিল না। যদিও নতুনভাবে এই আওয়ামী সরকার আসার পর রফিককে জগন্নাথ কলেজের হিসাব বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। অথচ তার উচ্চ মাধ্যমিক পাশের খবর নেই।

এরপর আব্দুল জব্বারের লাশের খবর পাওয়া যায়। তিনি ২১ ফেব্রুয়ারির আগের দিন তার ক্যন্সার আক্রান্ত শাশুড়িকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন চিকিৎসা করাতে। তিনি পাকিস্তান সরকারের আনসার বাহিনীতে চাকুরি করতেন। আনসার কমান্ডার আব্দুল জব্বার ঢাকা মেডিকেলে ছিলেন। তাকে সেখানেই কে বা কারা গুলি করে হত্যা করে। তার লাশ ঢাকা মেডিকেলের হোস্টেলে পড়ে ছিল। সেখান থেকে জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। [৭]

ময়মনসিংহ থেকে আসা সরকারি চাকুরে এই আব্দুল জব্বারের ভাষা আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাকেও খুন হতে হলো অজানা কারনে সংঘর্ষের স্থান থেকে দূরে। 

আবুল বরকত ছিলেন ২১ ফেব্রুয়ারি খুন হওয়া একমাত্র ছাত্র। যিনি ঢাবিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন। তিনি আমাদের দেশের মানুষ নন, মুহাজির ছিলেন। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান ভাগ হলে তাঁর পরিবার ভারত থেকে ঢাকায় এসে বসবাস শুরু করেন। প্রচলিত ইতিহাস মতে তিনি ভাষা আন্দোলনকারী ছিলেন এবং পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু একাধিক ভাষা সৈনিকদের জবানিতে পাওয়া যায় তিনি ভাষা আন্দোলনবিরোধী ও পুলিশের ইনফর্মার ছিলেন।[৮][৯] এই দাবির পক্ষে প্রমিনেন্ট মানুষ হলেন দুইজন, ভাষা আন্দোলনের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ তোয়াহা (সভাপতি, কমিউনিস্ট পার্টি) এবং ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক। এই আবুল বরকতও ঘটনাস্থলে নিহত না হয়ে মেডিকেলের হোস্টেলে খুন হন। 

যাই হোক সর্বশেষ ২১ ফেব্রুয়ারিতে খুন হন অহিউল্লাহ নামের একজন শিশু। বয়স আট কি নয় বছর। তার বাবা হাবিবুর রহমান পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রি। ঢাকার নবাবপুর রোডে খোশমহল রেস্টুরেন্টের সামনে গুলিবিদ্ধ হয় নিষ্পাপ এ শিশুটি। ঘাতকের গুলি লাগে অহিউল্লাহর মাথায়। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে অহিউল্লাহ। তার মৃত্যুর কারণও অজানা। 

খুন হওয়া মানুষদের পরিচিতি, অবস্থান, খুন হওয়ার স্থান নির্দেশ করে এরা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে খুন হয়নি। ঘোলাটে পরিস্থিতির সুযোগে কেউ তাদের খুন করেছে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নুরুল আমিনের পুলিশকে এখনই দায়মুক্তি দিতে চাই না। তবে জোরালো সন্দেহ প্রকাশ করছি। ২১ ফেব্রুয়ারির মৃতরা কি আসলেই পুলিশের গুলিতে ইন্তেকাল করেছে? নাকি কমিউনিস্টরা পরিস্থিতি তাদের পক্ষে নিয়ে আসার জন্য কিছু নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে? 

উপরের নিখিলের ঘটনা উল্লেখ করেছি শুধু এটা অনুধাবন করার জন্য যে, বাম সন্ত্রাসীরা যে কোনো কাজ করতে পারে। এমনকি নিজ দলের বড় সম্পদকেও অবলীলায় খুন করতে পারে।

তথ্যসূত্র : 
১. জাসদের উত্থান পতন / মহিউদ্দিন আহমেদ / পৃষ্ঠা ১৪৫ 
২. ১৪৪ ধারা ভঙ্গ / জাহীদ রেজা নূর / প্রথম আলো / ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
৩. পূর্ববাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি / ৩য় খন্ড / বদরুদ্দীন উমর / সূবর্ণ প্রকাশন / পৃ. ২৩৩ 
৪. ভাষা আন্দোলন / বাংলাপিডিয়া 
৫. The All-Pakistan Legal Decisions. 1949. p. 6.
৬. আহমদ, রফিক উদ্দিন / বাংলাপিডিয়া 
৭. জববার, আবদুল / বাংলাপিডিয়া 
৮. ভাষা আন্দোলন : সাতচল্লিশ থেকে বায়ান্ন / মোস্তফা কামাল/  পৃ.-৮১
৯. সাক্ষাৎকারে সরদার ফজলুল করিম/ https://arts.bdnews24.com/archives/2092


১৬ ফেব, ২০২২

খিলাফত পর্ব-১৯ : উমার রা.-এর সময়ে সুবিচারের কিছু নমুনা

উমার রা. সত্যের ব্যাপারে অনেক কঠোর ছিলেন। তিনি শাসন ও শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে কাউকে তোয়াক্কা করতেন না। তাঁর এই কঠোরতাকে তিনি নিজেই ভয় পেতেন মাঝে মধ্যে। তাঁর কাছে মনে হতো তিনি অন্যান্য বাদশাহদের মতো বাদশাহ হয়ে গেছেন। এই অনুভূতি তাঁকে পীড়া দিত। তখন তিনি হন্য হয়ে অভিজ্ঞ সাহাবাদের কাছে জিজ্ঞাসা করতেন তোমাদের কী মনে হয়, আমি কি খলিফা থেকে বাদশাহ হয়ে গেছি? 

উত্তরে এক সাহাবা তাঁকে জানালেন, এই দু'য়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। খলিফা যা নেয় তা ন্যয়সঙ্গতভাবে নেয়। যা দেয় তাও ন্যয়সঙ্গতভাবে দেয়। আলহামদুলিল্লাহ আপনি এরকম। বাদশাহরা জুলুম করে। একজনেরটা নিয়ে আরেকজনকে দেয়। আরেকবার সালমান ফারসি রা.-কে উমার রা. একই কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাষ্ট্র থেকে ১ দিরহামও যদি বেশি নেন অথবা ১ দিরহামও যদি অন্যায়ভাবে খরচ করেন তবে আপনি খলিফা নন, বাদশাহ। উমার রা. এই অনুভূতিই তাঁকে খলিফা হিসেবে মহিমান্বিত করে তুলেছে। 

উমার রা.-এর ১০ বছরের শাসনামল ছিল তাই আদর্শ রাষ্ট্রের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মহানবী সা. -এর সময়ে একই সমাজের মানুষ নিয়ে ছোট রাষ্ট্র গঠিত হওয়ায় রাষ্ট্রের অনেক বিষয় বিকশিত হওয়ার দরকার হয়নি। যা উমার রা.-এর সময়ে পূর্ণাঙ্গতা পায়। আবার আবু বকর রা. ছিলেন মাত্র আড়াই বছরের খলিফা। এই আড়াই বছরে তিনি বিদ্রোহ দমন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ব্যয় করতে হয়েছে। ফলে তাঁর সময়েও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা বিকশিত হয় নি। 

শুরাভিত্তিক সিদ্ধান্ত :
ইসলামে স্বৈরাচারিতার স্থান নেই। মুহাম্মদ সা. আল্লাহর মনোনীত রাসূল হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনায় শুরার সাহায্য নিতেন। এমনও হতো যে, মুহাম্মদ সা.-এর নিজের প্রস্তাবনা বাদ পড়ে যেত। উমার রা.-ও সেভাবে শুরাভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন। শুরা মেম্বার নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি কখনোই তোষামোদকারীদের স্থান দিতেন না। এক্ষেত্রে তিনি ইসলামের প্রাথমিক সময়ের মুসলিদের গুরুত্ব দিতেন। তবে মেইন ফোকাস ছিল কুরআনের জ্ঞান। যাদের কুরআনের জ্ঞান বেশি ছিল তারাই শুরা মেম্বার হতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যুবক হোক কি বয়স্ক, কেউ যদি কুরআনের জ্ঞানে জ্ঞানী হতেন, তিনি উমারের পরামর্শ সভার সদস্য হওয়ার সুযোগ পেতেন। উমার রা. নিজে পরামর্শ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন এবং প্রাদেশিক গভর্নরদেরও একইভাবে প্রদেশ পরিচালনার নির্দেশ দিতেন। 

সমতা : 
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি মানুষ সমান। লিঙ্গ, বর্ণ, বংশ, ভাষা, ক্ষমতা ইত্যাদি দিয়ে ভেদাভেদ হারাম। উমার রা. এর শাসনামলে একবার মদিনায় দুর্ভিক্ষ শুরু হয়। সেসময় উমার রা. অভাবীদের দুঃখ ভাগ করে নিতে নিজের লাইফস্টাইল একেবারে গরীবদের কাতারে নামিয়ে এনেছেন। তিনি নিজে ও তাঁর পরিবারের জন্য ঘি, দুধ ও দই নিষিদ্ধ করে দেন। নতুন পোষাকও নিষিদ্ধ করে দেন। তিনি বলেন, তারা যে কষ্টে ভুগছে, আমি যদি সে কষ্টে না ভুগি তবে কীভাবে তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হবো? 

উমার রা. সাধারণত ঘি আর রুটি খেতেন। কিন্তু যখন বাজারে ঘি অপ্রতুল হয়ে যেত, বেশি দাম হয়ে যেত তখন তিনি জলপাইয়ের তেল দিয়ে রুটি খেতেন। এতে তাঁর পেটের সমস্যা। গুড়গুড় ডাক দিত। তিনি পেটকে শাসিয়ে বলতেন, যত পারো গুড় গুড় করো, কিন্তু লোকেরা যতক্ষণ না ঘি খেতে পারবে ততক্ষণ তুমিও ঘি পাবে না। 

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, একবার উমার হজে গেলে সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া তাকে কিছু খাবার পরিবেশন করলেন। বড় এক থালা ভর্তি খাবার নিয়ে হাজির হলো চারজন দাস।  উমার রা. খাবার শুরু করতে গিয়ে দেখলেন ঐ কর্মচারীরা দাঁড়িয়ে আছেন। উমার রা. জিজ্ঞেস করলেন, তারা কি আপনার সাথে খেতে বসবে না?  তিনি উত্তর করলেন, না। তারা তো আমাদের অধস্তন। এতে উমার রা. ক্ষিপ্ত হন। তিনি বলেন, এসব লোক কারা যারা দাসদের ওপরে নিজেদেরকে প্রাধান্য দেয়। আল্লাহ যেন তাদের শাস্তি দেন। এই বলে তিনি দাসদের নির্দেশ দেন, তোমরা আমাদের সাথে খেতে বসো। 

উমার রা. একবার বাইতুলমালের সম্পদ বিতরণ করছিলেন। প্রচুর ভিড়। সবাই লাইন ধরে নিজেদের হক বুঝে নিচ্ছিল। এমন সময় প্রখ্যাত সাহাবী সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস রা. লাইন ভেঙ্গে সামনে চলে এলেন। উমার রা. তাঁর হাতের লাঠি দিয়ে তাঁকে গুঁতো দিয়ে ভয়ঙ্করভাবে তিরস্কার করলেন। জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবীর ব্যাপারেও উমার রা. কোনো ছাড় দেননি।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা : 
যদিও উমার রা. কঠোর শাসক ছিলেন তবুও সাধারণ মানুষ তাঁর আমলে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও শাসকের সমালোচনা করতে পারতেন। কারণ তাঁর কঠোরতা ছিল হকের খাতিরে। তাঁর শাসনে বহু মানুষ রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। উমার রা. তাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবাদের মুখে তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেছিলেন। একবার তিনি বিয়ের মোহরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করতে চাইলেন এবং সেটা হলো ৪০ উকিয়া। তিনি বলেছেন এর বেশি যদি কোনো নারী মোহর নেয় তবে বাড়তি মোহর বাইতুল মালে জমা হবে। কিন্তু মহিলাদের যৌক্তিক প্রতিবাদের মুখে পিছু হটেছেন উমার রা.। 

একবার বাইতুলমাল থেকে সকল জনগণের জন্য কাপড় বরাদ্দ হয়। সকলে সমান কাপড় পায়। ঐ কাপড় দিয়ে পরিপূর্ণ জোব্বা তৈরি করা যায়নি। কিন্তু কিছুদিন পর দেখা গেল ঐ কাপড় দিয়ে উমার রা. পরিপূর্ণ জোব্বা তৈরি করে খুতবা দিতে দাঁড়িয়েছেন। তখন এক লোক দাঁড়িয়ে বললো, হে আমীরুল মু'মিনিন! আল্লাহকে ভয় করুন। আমি আপনার খুতবা শুনবো না। উমার রা. বললেন, কেন হে আল্লাহর বান্দা? বাইতুলমালের কাপড় দিয়ে আমাদের কারো জামা হয় নি। আপনার কীভাবে হলো? উমার রা. বললেন, এর জবাব আমার ছেলে আব্দুল্লাহ দিবে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. দাঁড়িয়ে বললেন, আমি আমার কাপড় আমার বাবাকে দিয়েছি। তাতে তার পরিপূর্ণ জামা তৈরি হয়েছে। 

এবার উমার রা. বললেন, এবার কি আপনারা আমার খুতবা শুনবেন? সবাই সমস্বরে বললো। ইয়া আমিরুল মুমিনিন! অবশ্যই। আমরা আপনার কথা শুনবো ও মানবো। উমার রা.-এর শাসনামলে তাঁর বিরুদ্ধে ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে কেউ ভয় পেত না। কতটা সুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে অর্ধেক পৃথিবীর শাসকের সামনে চোখ চোখ রেখে প্রতিবাদ করতো সাধারণ জনগণ।  

হিজরি সন গণনা : 
১৬ হিজরির শাবান মাসের ঘটনা। তখন অবশ্য ১৬ হিজরি বলে কিছু ছিল না। একটি অফিসিয়াল সার্কুলার হাজির হলো উমার বিন খাত্তাব রা.-এর সামনে। সেখানে মাসের নাম লেখা ছিল কিন্তু সনের নাম ছিল না। উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হলো এটি কোন সনের সার্কুলার! উমার রা. বললেন এটি এখনই সমস্যা তৈরি করছে। ভবিষ্যতে তো এটি বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়াবে। এর সমাধান কী? এর কোন সদুত্তর পাওয়া যায় নি সেসময়। 

তৎকালীন আরবে সুনির্দিষ্ট কোন সন প্রথা প্রচলিত ছিল না। বিশেষ ঘটনার নামে বছরগুলোর নামকরণ করা হতো। যেমন- বিদায়ের বছর, অনুমতির বছর, ভূমিকম্পের বছর, হস্তীর বছর ইত্যাদি। মহানবী সা. যখন পৃথিবীতে এসেছেন আরববাসী তখন ‘হস্তীর বছর’ থেকে কাল গণনা করছিল। এরপর ফিজার যুদ্ধ দিয়েও সাল গণনা হতো। যেমন তারা বলতো হস্তীর বছরের তিন বছর পরে আমার মেয়ের জন্ম। ফিজার যুদ্ধের আগের বছর আমাদের বিয়ে হয়েছে ইত্যাদি। 

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমার ফারুক রা. যখন খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন বহু দূর-দূরান্ত পর্যন্ত নতুন নতুন রাষ্ট্র ও ভূখন্ড ইসলামী খেলাফতের অন্তর্ভুক্ত হয়। রাষ্ট্রের জরুরি দলিল, কাগজপত্র ইত্যাদিতে কোন সন উল্লেখ না থাকায় অসুবিধার সৃষ্টি হতো। আবার বসরার (ইরাক) গভর্নর মুসা আল আশয়ারি রা. রাষ্ট্রনায়ক উমার ফারুক রা.-কে লিখে পাঠালেন, আপনি পাঠানো চিঠিতে সন না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। তিনি এক্ষেত্রে গ্রিসকে অনুসরণ করার পরামর্শ দেন।  

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমীরুল মুমেনিন একটি বিশেষজ্ঞ মিটিং আহ্বান করলেন এই সমস্যা সমাধানে। এখানে বিজ্ঞ সাহাবা ও পন্ডিত ব্যক্তিদের আহ্বান জানান হয়েছে।  সোলার ক্যালেন্ডার নাকি লুনার ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হবে? কোন ঘটনাকে সাক্ষী রেখে বছর গণনা শুরু হবে? কোন মাসকে প্রথম মাস হিসেবে ধরা হবে? ইত্যাদি সব জটিল সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে সেই মিটিং-এ।        

হিজরতের ১৬ বছর পর ১০ জমাদিউল আউয়ালে আসলো সেই ঐতিহাসিক দিন। যেহেতু আরবের মানুষ ও সাহাবীরা চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করতো এবং আমাদের ইবাদতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তারিখ চাঁদের সাথে সম্পর্কিত তাই সৌর ক্যালেন্ডার বাদ পড়ে যায় শুরুতেই। মহানবী সা.-এর জন্ম, নব্যুয়ত, হিজরত ও মৃত্য—এ চারটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার যেকোন একটি হতে হিজরি সন গণনা করার প্রস্তাব উত্থাপিত হলো। 

কিন্তু সমস্যা হলো জন্ম ও নবুয়তের তারিখ নিয়ে মতপার্থক্য আছে। আর মৃত্যু শোকের সিম্বল। অতএব হিজরতের মাধ্যমেই সন গণনা শুরু করার পক্ষে সাহাবার একমত হলেন। হিজরতের বছর থেকে সন গণনার পরামর্শ দেন বিজ্ঞ সাহাবী সাইয়্যেদেনা আলী রা.। কারণ ঐদিন থেকে আমাদের নবী হজরত মুহাম্মদ সা. শাসনক্ষমতা গ্রহণ করতে শুরু করেন এবং মুসলিমরা রাষ্ট্রীয় শক্তি অর্জন করে। সেজন্যই দিনটি মুসলিমদের কাছে চিরস্মরণীয়। আর পবিত্র মাস মহররমকে ১ম মাস হিসেবে নির্ধারণ করতে একমত হন সাহাবারা।

সিদ্ধান্ত হলো যে বছর মুহাম্মদ সা. হিজরত করে মদিনায় এসেছেন সে বছরের মহররমের ১ তারিখ থেকে হিজরি বর্ষ গণনা করা হবে। হিসেব করে দেখা গেল ১ হিজরির ১ মহররম অর্থাৎ প্রথম দিনটি ছিল জুমাবার, জুলিয়ান দিনপঞ্জি অনুসারে ১৬ জুলাই ৬২২ খ্রিস্টাব্দ। আর এই সিদ্ধান্তটি নেয়া হয় ঘটনার ১৬ বছর পর ৯ জুন ৬৩৭ সালে। সেদিনই বিশেষজ্ঞরা হিসেব করে দেখলো সেদিন ছিল ১০ জমাদিউল আউয়াল, ১৬ হিজরি। 

গোপন বৈঠকের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা : 
একবার মদিনায় থাকা কুরাইশরা নিজেদের নিয়ে একটি ঘরে গোপন সভা করেছিল। খবর পেয়ে উমার রা. তাদের সতর্ক করে দিলেন। ঘোষণা করে দিলেন এমন বৈঠক যেন আর কেউ না করে। এগুলো বিচ্ছিন্নতাবাদের জন্ম দিবে। মুসলিমদের মধ্যে গ্রুপিং তৈরি হবে ও ঐক্য বিনষ্ট হবে। তিনি আরো বলেছেন, তোমাদের বৈঠকগুলো উন্মুক্ত করে দাও। সবাই মিলে একসাথে বসো। এতে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা বাড়বে, মানুষের কাছে তোমাদের সম্মান বাড়বে। 

বাজার ব্যবস্থাপনা : 
উমার রা. এর সময়ে মুসলিমদের বাজারে প্রচুর বিদেশী নওমুসলিম ও অমুসলিম ব্যবসায়ী আসতো। উমার রা. তাদেরকে ইসলামী নিয়মকানুন ও নিষিদ্ধ সুদ সম্পর্কে শিক্ষা দিতেন ও তাদেরকে ইসলামী অর্থব্যবস্থা মেনে চলতে বাধ্য করতেন। মজুদদারী, প্রতারণা ও জুলুম ঠেকাতে বাজারে টহলের ব্যবস্থা করতেন। কেউ যাতে অতিরিক্ত দাম না হাঁকে সেই ব্যবস্থা রাখতেন। ব্যবসায়ীদের মালপত্রের নিরাপত্তা ও এক শহর থেকে আরেক যাতায়াতের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম করে দিয়েছেন। 

মুসাফিরদের জন্য ব্যবস্থাপনা : 
উমার রা. সময়ে এক শহর থেকে আরেক শহরে যাতায়াতের মধ্যবর্তী বসতিগুলোতে মুসাফিরখানা তৈরি করেছেন, যাতে মুসাফিররা বিপদে পড়লে এখান থেকে সাহায্য পায়। তারা এখানে ঘোড়া বদলের সুযোগ পেত। বিশ্রামের সুযোগ পেত। এছাড়া উমার রা. গরীব মুসাফিরদের জন্য বাইতুলমাল থেকে উটের ব্যবস্থা রেখেছিলেন। যাতে তারা প্রয়োজনীয় সফর করতে পারে। 

ব্যবসা :
উমার রা.-এর সময়ে মুসলিমদের আয় বেড়ে যায়। রাষ্ট্র থেকে যে ভাতা পেত তাতে অনেকের জিবিকা নির্বাহ হয়ে যেত। তাই তারা আর ব্যবসার দিকে নজর দিত না। এই সুযোগে মুসলিমদের বাজারে বিদেশী ব্যবসায়ীদের আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়। এই বিষয় নিয়ে উমার রা. বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি কুরাইশদের কড়া নির্দেশ দেন তারা যাতে নিষ্ঠার সাথে ব্যবসা করে ও ব্যবসা ছেড়ে না দেয়।  ব্যবসায়ীরা অজুহাত দেখিয়ে বললেন, বিজয় দানের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের ব্যবসায়ের ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। উমার রা. বলেন, হে কুরাইশরা! এভাবে তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর কাউকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দিয়ো না। বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্ষমতার তিনভাগের এক ভাগ। আল্লাহর কসম করে বলছি, যদি এভাবে চলতে থাকে তোমরা তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। 

রাতের টহল : 
উমার রা.-এর সুশাসনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো তিনি জনগণের পরিস্থিতি দেখতে রাতে টহল দিতেন। এই টহলে তিনি যেমন অপরাধীদের পাকড়াও করতে পারতেন তেমনি অভাবী মানুষদের সন্ধান পেতেন। তিনি টহলের সময় কাউকে বিপদ্গ্রস্থ অবস্থায় পেলে সাহায্য করতেন। এরকম টহলের কারণে অনেক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন, অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

টহল দেওয়ার সময় তিনি এক ঘর থেকে প্রায়ই বাচ্চার কান্না শুনতে পেলেন। এরপর সেই ঘরে গিয়ে বাচ্চার মাকে জিজ্ঞেস করলেন কেন বাচ্চা এভাবে কাঁদছে। বাচ্চার মা উত্তর করলো, সে দুধ ছাড়ানোর চেষ্টা করছে এই কারনে বাচ্চা কাঁদছে। তিনি বাচ্চার বয়স জানতে চাইলেন। বয়স শুনে তিনি বললেন, দুধ ছাড়ানোর জন্য তাড়াহুড়ো করো না। মা উত্তর করলো, দুধ না ছাড়ালে তো আপনি তার ভাতা দিবেন না। তখন নিয়ম ছিল কোনো শিশু জন্ম নেওয়ার পর যখন তার দুধ ছাড়ানো হবে তখন থেকে সে নাগরিক ভাতা পাবে। 

গরীব মায়েরা তাই আগে দুধ ছাড়ানোর চেষ্টা করতো যাতে বাচ্চার নাগরিক ভাতা উত্তোলন করা যায়। পরদিন ফজর নামাজ পড়তে গেলে আরেক বাচ্চা এতো কেঁদেছিল যে, নামাজে ডিস্টার্ব হয়েছে। নামাজ শেষ উমার রা. মনে মনে বললেন, হতভাগা উমার! কত মুসলিম বাচ্চাকে না জানি তুমি মেরে ফেলছো! এরপর ঘোষক দিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানালেন, কোনো মা যাতে দুধ ছাড়ানোর ব্যাপারে তাড়া না করে। আর এখন থেকে বাচ্চা জন্ম নেওয়ার সাথে সাথেই তার ভাতা চালু হয়ে যাবে। 

এক বাড়িতে এক গৃহবধূর কান্নার আওয়াজ পেলেন। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন, ঐ মহিলা যুদ্ধে থাকা স্বামীর জন্য কান্না করছিল। রাতেই তিনি তার মেয়ে উম্মুল মুমিনিন হাফসা রা.-এর ঘরে গেলেন। জিজ্ঞাসা করলেন একজন মেয়ে তার স্বামীর অনুপস্থিতি কতদিন সহ্য করতে পারে? উত্তরে তাঁর মেয়ে বললেন, বড়জোর তিন মাস। চতুর্থ মাসে তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাবে। এরপর উমার রা. নিয়ম করলেন, কোনো সৈন্য যাতে চার মাসের বেশি সময় পরিবার থেকে দূরে না থাকে। 

শিক্ষাকেন্দ্র ও মসজিদ স্থাপন : 
উমার রা. মক্কা মদিনাসহ নতুন বিজিত সব শহরে প্রচুর মসজিদ ও শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। যাতে মুসলিমরা ইসলামে মূল চেতনা থেকে বিচ্যুত না হয়। জ্ঞান বিজ্ঞানে যাতে এগিয়ে থাকে। তবে ফিকহ ও ফতওয়ার জন্য তিনি মদিনাকেই নির্দিষ্ট করেছেন। যাতে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। 

অবকাঠামো উন্নয়ন : 
উমার রা. অবকাঠামো উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি মসজিদে নববীকে বড় করেন। এর জন্য তিনি আব্বাস রা.-এর ঘরকে অধিগ্রহণ করেন। মসজিদকে শক্ত ও মজবুত করেন। মেঝে আগে ছিল মাটির ও ধুলোময়। উমার রা. সেখানে পাথর বসিয়ে পাকা মেঝে তৈরি করে দেন। এতে মুসল্লিদের ইবাদাত করা সহজ ও আরামদায়ক হয়। কাবা শরিফেও তিনি সংস্কার করেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেন। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ডাক ও কুরিয়ার ব্যবস্থা চালু করেন। কৃষির স্বার্থে পুরো মুসলিম সাম্রাজ্যে পানি সরবরাহের জন্য প্রচুর খাল খনন করেন। এর মাধ্যমে পানি মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থাও সুগম হয়।   

১১ ফেব, ২০২২

ছাত্রশিবিরের সভাপতিদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামী ছাত্রশিবির ৪৫ বছর পার করেছে। এই বছরগুলোতে ছাত্রশিবির ৩১ জন কেন্দ্রীয় সভাপতি পেয়েছে। এরা প্রায় ইসলামী আন্দোলনে ভূমিকা রেখে চলেছেন। এর মধ্যে একজন জামায়াতের সাথে যুক্ত হননি। আরেকজন জামায়াত ত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। এই দুইজন বাদে বাকীরা জামায়াতের সাথে যুক্ত আছে। জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করা দুইজনের মধ্যে একজন ইসলামপন্থী রাজনীতি করেন অন্যজন সেক্যুলার রাজনীতি করেন।    


১. শহীদ মীর কাসেম আলী

মীর কাসেম আলীকে দায়িত্ব দিয়েই ইসলামী ছাত্রশিবির তার যাত্রা শুরু করে। ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭ সাল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ পর্যন্ত তিনি সভাপতি ছিলেন। এদেশে রাবেতাসহ ইসলামী এনজিওগুলোর কার্যক্রম শুরু করা থেকে শুরু করে ইসলামী ব্যাংক ও ইবনে সিনার মতো প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে তাঁর ভূমিকা ছিল। ফ্যাসীবাদী হাসিনা সরকার সাজানো ও কথিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় তাঁকে হত্যা করেছে ২০১৬ সালে। শাহদাতের সময় তিনি জামায়াতের সর্বোচ্চ ফোরাম 'কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে'র সদস্য ছিলেন। তিনি মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।


২. শহীদ মুহাম্মদ কামারুজ্জামান 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২য় সভাপতি ছিলেন শহীদ কামারুজ্জামান। তিনি অক্টোবর ১৯৭৮ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন। তিনি ঢাবিতে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দৈনিক সংগ্রামের নির্বাহী সম্পাদক এবং 'সাপ্তাহিক সোনার বাংলার' সম্পাদক ছিলেন। ১১ এপ্রিল ২০১৫ সালে তাঁকে হত্যা করে স্বৈরাচার হাসিনা সরকার। তাঁর বাড়ি শেরপুর জেলায়।


৩. মাওলানা মুহাম্মদ আবু তাহের

৩য় সভাপতি হিসেবে ছাত্রশিবির পেয়েছে মাওলানা আবু তাহের ভাইকে। তিনি ১০ মে ২০২০ সালে ইন্তেকাল করেন। তিনি শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন। আল জাবের ইনস্টিটিউট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। মাওলানা আবু তাহের চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শমসের পাড়া মেডিকেল হাসপাতালসহ বহু ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ার সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি অক্টোবর ১৯৭৯ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৮১ পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রাম।  


৪. মুহাম্মদ এনামুল হক মঞ্জু 

এনামুল হক মঞ্জু ভাই অক্টোবর ১৯৮১ থেকে জানুয়ারী ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইরানে ঘটে যাওয়া ইসলামী বিপ্লবে আন্দোলিত হয় ছাত্রশিবির। এই নিয়ে ছাত্রশিবির কিছু দায়িত্বশীল ও জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সাথে মতবিরোধ হয়। সেই সূত্র ধরে মাত্র সাড়ে তিন মাসেই তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি জামায়াতের সাথে যুক্ত হন এবং ১৯৯১ সালে কক্সবাজার ১ আসন জামায়াতের মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি কক্সবাজার জামায়াতের সাথে কাজ করেন। 


৫. আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চু 

এনামুল হক মঞ্জু ভাইয়ের পদত্যাগে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সভাপতি হন ঢাকা ভার্সিটির সভাপতি থাকা আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চু। তিনি জানুয়ারী ১৯৮২ থেকে মে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন। বাচ্চু ভাই বিপ্লবের সমর্থক ছিলেন। ইরানের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা নিয়ে এদেশে ইসলামী বিপ্লব করতে চেয়েছেন। এই চাওয়ার মধ্যে ছিলেন আল্লামা সাঈদীও। কিন্তু জামায়াতের শুরার সিদ্ধান্ত ছিল মাত্র ৫% সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল করা অনুচিত হবে। অন্যায় হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রায় সবাই মুসলিম হওয়ায় বিপ্লব করতে হলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে ও হত্যা করতে হবে, যেটা উচিত নয়। মুসলিম মধ্যে ক্ষমতা পাবে তারাই যাদের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় আসবে। অস্ত্রের জোরে মুসলিমদের নেতা হওয়ার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে জামায়াত। কিন্তু কেউ কেউ সেটা মানতে রাজি হননি তৎকালীন সরকারকে তাগুত হিসেবে বিবেচনা করে। 


জামায়াতের সিদ্ধান্ত ইসলামী ছাত্রশিবির মানতে বাধ্য কিনা এই মর্মে ছাত্রশিবিরে মতবিরোধ তৈরি হয়। এই মতবিরোধের জেরেই এনামুল ভাই পদত্যাগ করেন। বাচ্চু ভাই দেখলেন ছাত্রশিবিরের বেশিরভাগের ইচ্ছা বিপ্লবে দিকে। কিন্তু তারা যখন  বিদায় নিয়ে জামায়াতে যোগ দেয় তখন তাদের বিপ্লবের ইচ্ছে নষ্ট হয়ে যায়। তাই বাচ্চু ভাই জামায়াতের লেজুড়বৃত্তি ত্যাগ করতে চেয়েছেন।


এই পরিস্থিতিতে তিনি বিপ্লবের চেতনা টিকিয়ে রাখতে দুই সংগঠনের মধ্যবর্তী একটি সংগঠন গোপনে প্রতিষ্ঠা করেন। এর নাম দেন যুবশিবির। তাঁর ইচ্ছে ছিল ছাত্রশিবির শেষ করে বিপ্লবী কর্মীরা যুবশিবিরে যোগ দেবে। এতে বিপ্লবের চেতনা ঠিক থাকবে। মূলত এই যুবশিবিরই হবে ইরানী বিপ্লবের ১ম সারির যোদ্ধা। 


এই গোপন সংগঠনের কথা ফাঁস হয়ে গেলে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়। এবার অভিযোগ আসে আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চু ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ। কার্যকরী পরিষদের অধিবেশনে আলোচনা করা ছাড়া নতুন সংগঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে অনাস্থার শিকার হন। অনাস্থার প্রেক্ষিতে সংবিধান অনুযায়ী কার্যকরী পরিষদ বনাম কেন্দ্রীয় সভাপতি ভোট হয়। সদস্যদের ভোটে হেরে যান বাচ্চু ভাই। তাঁর সদস্য পদ বাতিল হয় এবং তিনি ছাত্রশিবির ছাড়তে বাধ্য হন। 


বাচ্চু ভাই ও যুবশিবিরের ভাইরা এই ইতিহাসকে ভায়োলেট করেছেন। তারা ইরানী বিপ্লবের ইস্যু গোপন করে ৮২'র ঘটনার জন্য শুধু জামায়াতের লেজুড়বৃত্তিকেই ইস্যু করেন এখন। মাঝেমধ্যে একাত্তরকেও অযাচিতভাবে টেনে আনেন। 


ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর তিনি কিছুদিন যুবশিবিরকে টেনে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখানে কোনো সফলতা না পেয়ে খেলাফত মজলিসে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি খেলাফত মজলিসের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর ছিলেন। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়। 


৬. সাইফুল আলম খান মিলন 

বাচ্চু ভাইয়ের সদস্যপদ বাতিল হওয়ার পর সদস্যদের ভোটে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন মিলন ভাই। মিলন ভাই মে ১৯৮২ সাল থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে ফিতনা দূর হয় এবং ছাত্রশিবির তার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসে। কর্মজীবনে মিলন ভাই ইবনে সিনার পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদ সদস্য।      


৭. মুহাম্মদ তাসনিম আলম 

ইসলামী ছাত্রশিবির ৭ম কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে পায় মুহাম্মদ তাসনিম আলমকে। তিনি অক্টোবর ১৯৮৪ সাল থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য। তিনি সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ছিলেন। তাঁর বাড়ি নাটোরে। 


৮. ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ্ মোহাম্মদ তাহের 

৮ম কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ্ মোহাম্মদ তাহের। তিনি অক্টোবর ১৯৮৫ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ডা. তাহের ১৯৮৮-৯২ পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামী ফেডারেশন অফ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন (আইআইএফএসও) এর এশিয়ার ডিরেক্টর নির্বাচিত হন। পরে তিনি ১৯৯২-১৯৯৫ পর্যন্ত আইআইএফএসও এর নির্বাচিত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আইআইএফএসও'র মহাসচিবের পাশাপাশি তিনি একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার ওয়ামী (বিশ্বব্যাপী মুসলমান যুব পরিষদ) -এর পরিচালক ছিলেন। তিনি একজন ব্যবসায়ী। তিনি ২০০১ সালে কুমিল্লা-১২ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  


৯. মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম 

মাওলান শামসুল ইসলাম অক্টোবর ১৯৮৭ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। শামসুল ইসলাম আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সালে তিনি চট্টগ্রাম -১৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর। 


১০. ডা. আমিনুল ইসলাম মুকুল

ইসলামী ছাত্রশিবিরে দশম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডা. আমিনুল ইসলাম মুকুল। তিনি অক্টোবর ১৯৮৯ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি প্রবাসে আছেন এবং সেখানে জামায়াতের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সময়ে ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সেশন 'অক্টোবর থেকে সেপ্টেম্বর' পরিবর্তিত হয়ে 'জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর' করা হয়।   


১১. আবু জাফর মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ 

এগারোতম সভাপতি হিসেবে আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ জানুয়ারী ১৯৯২ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯২ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে জনপ্রিয় জাতীয় কিশোর পত্রিকা 'কিশোর কণ্ঠ' প্রকাশিত হয়। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে তিনি দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের পরিচালক। জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরীর নায়েবে আমীর। তাঁর বাড়ি ভোলায়। 


১২. ব্যারিস্টার হামিদ হোসাইন আজাদ 

ব্যরিস্টার হামিদ হোসাইন আজাদ দ্বাদশ সভাপতি হিসেবে জানুয়ারী ১৯৯৩ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৩ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি লন্ডনে প্রবাস জীবন ও আইন পেশায় নিয়োজিত হন। সেখানে জামায়াতের কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হন এবঙ্গ ইন্টারন্যশনাল দাওয়াহ কার্যক্রমের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক আন্তর্জাতিক চ্যারিটি সংস্থা “মুনতাদা এইড” এর সিইও। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামে। 


১৩. রফিকুল ইসলাম খাঁন 

রফিকুল ইসলাম খাঁন জানুয়ারী ১৯৯৪ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৫ পর্যন্ত তেরোতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন ব্যবসায়ী। তিনি তাঁর জন্মস্থান সিরাজগঞ্জে নানান সামাজিক সংগঠন ও বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।    


১৪. মুহাম্মদ শাহজাহান 

চৌদ্দতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি জানুয়ারী ১৯৯৬ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি কক্সবাজার ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাড়ি কক্সবাজার।


১৫. মতিউর রহমান আকন্দ 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের পনেরতম সভাপতি ছিলেন মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি জানুয়ারী ১৯৯৮ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আইনপেশার সাথে জড়িত। এছাড়া ঢাকার ফুয়াদ আল খতীব হাসপাতালের এমডি ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের নির্বাহী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহ।


১৬. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের 

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ছিলেন ষোলতম কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি জানুয়ারী ২০০০ থেকে ডিসেম্বর ২০০০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি। যুবায়ের ভাই তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নোয়াখালীতে সফর করেন। তিনি ছিলেন আমার দেখা প্রথম কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি আইনপেশা ও অন্যান্য ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাড়ি সিলেটে।  


১৭. নুরুল ইসলাম বুলবুল 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সতেরতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নুরুল ইসলাম বুলবুল ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০০১ থেকে ডিসেম্বর ২০০২ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য। তাঁর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। 


১৮. মুজিবুর রহমান মনজু 

জামায়াতের সাথে না থাকা আরেকজন কেন্দ্রীয় সভাপতি হলেন মুজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি ছাত্রশিবিরের আঠারতম সভাপতি। জানুয়ারি ২০০৩ থেকে ডিসেম্বর ২০০৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দিগন্ত টেলিভিশনে কর্মরত ছিলেন। জামায়াতে যতদিন ছিলেন ততদিন প্রকাশ্যে ও অন্তরালে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সমালোচনা করতেন। এভাবে সমালোচক হিসেবে নাম করেন। ২০১৭ সালে জামায়াতের সাবেক আমীর শহীদ নিজামীর মিথ্যা সমালোচনা করে আবার আলোচনায় আসেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জামায়াত ভাঙার ষড়যন্ত্রের কারণে তাঁর রুকন পদ স্থগিত করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি জামায়াত থেকে বের হয়ে যান। বর্তমানে তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টি নামে একটি উদ্যমী রাজনৈতিক দলের সদস্য সচিব। তাঁর বাড়ি ফেনী। 


১৯. মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন 

মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ইসলামী ছাত্রশিবিরের উনিশতম সভাপতি। তিনি জানুয়ারী ২০০৪ থেকে ডিসেম্বর ২০০৫ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর। তাঁর বাড়ি সিলেটে। 


২০. ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশতম সভাপতি ছিলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০০৬ থেকে ডিসেম্বর ২০০৭ পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর হাতে ২০০৭ সালে আমার সদস্য শপথ হয়। তিনি বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেডে কর্মরত। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য। তাঁর বাড়ি পটুয়াখালীতে।


২১. মো. জাহিদুর রহমান 

একুশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. জাহিদুর রহমান ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০০৮ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইবনে সিনায় কর্মরত। বর্তমানে তিনি জামায়াতের শুরা সদস্য। তাঁর বাড়ি মানিকগঞ্জ।  


২২. ড. মুহাম্মাদ রেজাউল করিম 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের বাইশতম সভাপতি ছিলেন রেজাউল করিম ভাই। তিনি জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সহকারী সম্পাদক। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি। তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। 


২৩. ডা. ফখরুদ্দীন মানিক 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৩তম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফখরুদ্দিন ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০১১ থেকে ডিসেম্বর ২০১১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাড়ি ফেনী।  


২৪. মুহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন 

নির্যাতিত নেতা দেলোয়ার ভাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৪তম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জানুয়ারী ২০১২ থেকে ডিসেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি গ্রেপ্তার হন ও ভয়াবহ নির্যাতনের মুখোমুখি হন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি। তাঁর বাড়ি ঠাকুরগাঁও। 


২৫. মুহাম্মাদ আব্দুল জাব্বার 

মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার ভাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৫তম কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি জানুয়ারী ২০১৪ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রাম।


২৬. আতিকুর রহমান 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের ছাব্বিশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আতিকুর রহমান ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শ্রমিক সংগঠন 'বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনে'র কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জামায়াতের শুরা সদস্য। তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। 


২৭. ইয়াসিন আরাফাত 

ইয়াসিন আরাফাত ভাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাতাশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জানুয়ারী ২০১৭ থেকে ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জামায়াতের শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লায়। 


২৮. ড. মোবারক হোসাইন 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের আটাশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোবারক হোসাইন ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০১৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের শুরা সদস্য ও থানা আমীর। তাঁর বাড়ি কুমিল্লায়।   


২৯. পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম 

সিরাজুল ইসলাম ভাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঊনত্রিশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জানুয়ারী ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বুয়েট থেকে তিনি ছিলেন একমাত্র সভাপতি। তিনি একটি অনলাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের জনশক্তি ও ইঞ্জিনিয়ার ফোরামের দায়িত্বশীল। তাঁর বাড়ি পাবনায়।


৩০. সালাহউদ্দিন আইউবী 

ছাত্রশিবির থেকে সর্বশেষ বিদায় নিয়েছেন তিরিশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সালাহদ্দিন আইয়ুবি। তিনি জানুয়ারী ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জামায়াতের গাজীপুর মহানগরীতে যোগ দিয়েছেন। তাঁর বাড়ি গাজীপুর।    


৩১. হাফেজ রাশেদুল ইসলাম 

রাশেদুল ইসলাম ভাই ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব নিয়েছেন। ৩১ জন সভাপতির মধ্যে তিনি একমাত্র কুরআনে হাফেজ। তাঁর বাড়ি শেরপুর।