৫ মে, ২০২৬

শাপলা গণহত্যার আদ্যোপান্ত, পর্ব ০২

 

এদিকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ থেকে আমাদের ওপর নতুন জুলুম শুরু হয়েছে। ডাক্তার নামের আওয়ামী লীগের কিছু পান্ডা, তারা চাইছিলো না আমরা চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসা নেই। আমরা ৪/৫ জন গুরুতর আহতরা চিকিৎসাধীন ছিলাম। ডা. সৌম্য বিশ্বাস নামে এক পান্ডা আমাদের হাসপাতাল থেকে বের করে কারাগারে পাঠিয়ে দিতে উঠে পড়ে লেগেছিলো।

একদিকে শরীরের যন্ত্রণা, অন্যদিকে এইসব জুলুমে রাজনীতির দিকে নজর দিতে পেরেছি কম। আসন্ন কারাগার কেমন হবে তা তো কিছুই জানি না। অজানা ভয় কাজ করছিলো। কারাগারের অভিজ্ঞতা নিয়ে আতাউর রহমান সরকার ভাইয়ের লেখা একটি বই ছিলো। আম্মু সেখান থেকে পড়ে পড়ে আমাকে কারগারের বিভিন্ন বিষয় অবহিত করছিলেন। অবশেষে ২১ ফেব্রুয়ারি আমরা হাসপাতাল ছেড়ে কারাগারে যেতে বাধ্য হই।

কারাগারে যাওয়ার পর আমি হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফি'র লেখা সেই খোলা চিঠি পড়ার সুযোগ পাই।

শাহ আহমদ শফী তার খোলা চিঠিতে বলেন,

"জাতির আবেগ-অনুভূতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নাস্তিক ও ইসলামের দুশমনরা তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করে ইসলামের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। দেশব্যাপী বেহায়াপনা, উলঙ্গপনা, ব্যভিচার ছড়িয়ে দিয়ে মুসলমানদের ঈমান-আমল ও সভ্যতা-সংস্কৃতি ধ্বংসে নতুন আরেক ষড়যন্ত্র শুরু করছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার হাজারবার হোক, তাতে আমাদের কোন আপত্তি নেই, কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে আলেমসমাজ, মাদ্রাসা, দাড়ি-টুপি, পর্দা তথা দ্বীন-ইসলামের বিরুদ্ধে যে কোন ষড়যন্ত্রে এদেশের আলেমসমাজ ও তৌহিদী জনতা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না। তিনি সরকারের প্রতি অবিলম্বে ইসলাম, মুসলমান, নামাযী, দাড়ি-টুপিধারীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সকল অপতৎপরতা বন্ধের আহবান জানান।"

খোলা চিঠির শুরুতে শাহবাগ আন্দোলনে ১৪ টি ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়। যথা:

১. শাহবাগে অগ্নিপূজক ও পৌত্তলিকদের অনুকরণে মুসলমানদের সন্তান সন্ততিদের দ্বারা মোমবাতি প্রজ্বলন।
২. নামাজের সময়সহ দিনরাত অনবরত মাইকে গান বাজনা।
৩. জাগরণ মঞ্চের মূল উদ্যোক্তা আসিফ মহিউদ্দীনসহ স্বঘোষিত নাস্তিকদের ব্লগে আল্লাহ ও রাসূল স. তথা ইসলাম সম্পর্কে চরম অবমাননাকার ব্লগ লেখা ও জঘন্য মন্তব্য।
৪. নারী-পুরুষের উদ্দাম নৃত্য, অবাধ যৌনাচার, অশ্লীলতা, মদ, গাজা সেবন ইত্যাদি অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড।
৫. মক্কা মদিনার ইমাম ও খতিবদের বিশেষ পোশাক কোবা পরিয়ে ফাঁসির অভিনয়।
৬. শাহবাগ চত্বরের মঞ্চ থেকে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক ও দেশের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে হত্যার হুমকি ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ।
৭. দাড়ি-টুপি পরিহিত ব্যক্তির গলায় রশি বেঁধে রাসূলের সুন্নাত ও ইসলামের প্রতীকসমূহের অবমাননা।
৮. কোমলমতি শিশুদের দিয়ে অপরাধ প্রবণতামূলক স্লোগান শিক্ষা দেয়া।
৯. বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশের আবহমান ইসলামি সংস্কৃতির বিপরীতে ভারতীয় সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রদর্শনী।
১০. সব ধরনের ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের উস্কানি দিয়ে দেশকে অনিবার্য সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়া।
১১. গভীর রাত পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থানকারী তরুণ-তরুণীদের অবাধ মিলামিশা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে।
১২. সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকি দেয়া সত্ত্বেও শাহবাগ চত্বর নিয়ে এক শ্রেণীর গণমাধ্যমে দৃষ্টিকটু ও সীমা ছাড়ানো মাতামাতি।
১৩. রাজধানীর বারডেম ও বঙ্গবন্ধু হাসপাতালের রোগীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও রাস্তা বন্ধ করা অমানবিক পদক্ষেপ।
১৪. স্বঘোষিত নাস্তিক ব্লগারদের ইসলাম অবমাননার প্রমাণ/প্রতিবেদন তুলে ধরে দেয়া পোস্ট/লেখা প্রকাশ করার কারণে সম্প্রতি নিরপেক্ষ অনেক ইসলামী ব্লগ সরকার কর্তৃক বন্ধ করে দেয়া।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে কাদিয়ানী উত্থানের অভিযোগ এনে আল্লামা শফি বলেন,
"যুদ্ধাপরাধের বিচার মূলত রাজনৈতিক ইস্যু হওয়ায় আমরা সে সম্পর্কে কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দিই নাই। কিন্তু অনুসন্ধানে আমরা খুঁজে পেয়েছি। একই মঞ্চে ঘাদানিক নেতা, নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী শাহরিয়ার কবীর এবং আহমদিয়া মুসলিম জামায়েত (কাদিয়ানী) নায়েবে আমীর আব্দুল আওয়াল খান পাশাপাশি বসে অনুষ্ঠান করেছে। বর্তমান যুদ্ধাপরাধের বিচারের পেছনে কাদিয়ানীরাও পরোক্ষভাবে বামপন্থী ও সরকারি সমর্থনে সক্রিয় রয়েছে। বামপন্থী শাহরিয়ার কবীরের মতো মুশরিক ও মুরতাদরা একদিকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, আর অন্যদিকে কাদিয়ানীদের মতো মুরতাদ সংগঠনকে সাথে নিয়ে ইসলাম বিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তাদের এ অবস্থান সম্পূর্ণ স্ববিরোধী।"

খোলা চিঠিতে ইসলাম অবমাননাকারী অনলাইন চক্রের উল্লেখ করে বলা হয়েছে,
"মুক্তমনা একটি চরম ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের ওয়েবসাইট। এ ওয়েবসাইটে ইসলাম ও মহানবী (স.) সম্পর্কে কটূক্তি ও নানা ধরনের অবমাননাকর পোস্ট দেওয়া হয়। শাহবাগ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এ ওয়েবসাইটটি এখন আরো বেপারোয়া হয়ে উঠেছে। মুক্তমনার বিভিন্ন পেইজে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। মুক্তমনা “আগামী নির্বাচনে ধর্মভিত্তিক দলের অংশগ্রহণ বাতিল কর- মুক্তমনা” এ ধরনের ইসলাম বিরোধী নানা স্লোগান বড় করে লেখা রয়েছে। আর মুক্তমনাকে যাবতীয় সাহায্য ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

এই পতিত সংগঠনটি মুক্তমনা ওয়েবসাইটকে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপের কারণে ‘জাহানারা ইমাম স্মৃতিপদক-২০০৭’ পুরস্কার প্রদান করেছিল। মুক্তমন ই-বুকে অবিশ্বাসের দর্শন, বিবর্তনের পথ ধরে, সমকামিতা, যে সত্য বলা হয়নি, ইসলাম ও শরিয়া প্রভৃতি বই পাওয়া যায় যেগুলো ইসলাম কোরআন ও মহানবী (স) -এর চরিত্র সম্পর্কে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ ও অশ্লীল কটূক্তিতে ভরা। সেই মুক্তমনার সাথে সংশ্লিষ্ট মুরতাদ নাস্তিকরাই বর্তমান শাহবাগ নাটকের মূল কেন্দ্রে রয়েছে। শাহবাগের পেছনে যেসব ব্লগার ও অ্যাক্টিভিটিস্ট রয়েছে তাদের মধ্যে রাজীব আহমেদ একজন। ব্লগার ‘থাবা বাবা’ ছদ্মনামে থাকা তার পোস্টগুলোতে সে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ‘মোহাম্মক’ বলে ব্যঙ্গ করেছে। মোহাম্মকের সফেদ লুঙ্গী, ঢিলা ও কুলুখ, সিজদা, মদ ও মোহাম্মকসহ অসংখ্য এমন সব অশ্লীল পোস্ট পাওয়া যায় যেগুলো মহানবী (স.)-এর বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইউরোপীয় ব্যঙ্গচিত্রকেও হার মানায়।

ব্লগার আরিফুর রহমান ইংল্যান্ডে থাকেন, বর্তমানে লিখেছেন ওস্কার ও বিভিন্ন ‘নিক' নামে (সামহোয়্যার ইন ব্লগ)। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম স্ট্রাটেজি ফোরামের নেতা। আরেকজন নাস্তিক ব্লগার নিঝুম মজুমদারের সাথে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগ দেন। শাহবাগ আন্দোলনের প্রধান উদ্যোক্তা আসিফ মহীউদ্দিন এখন বাংলাদেশের উদীয়মান নাস্তিক হুমায়ুন আজাদ। শাহবাগ নাটকের অন্তরালে তৎপর তথাকথিত অনলাইন অ্যাক্টিভিটিস্টদের মধ্যে অন্যতম হলো চরম ইসলাম বিদ্বেষী প্রসিদ্ধ ব্লগ সামহোয়্যার ইন-এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্লগাররা।"

শাহবাগ আন্দোলনে নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে আল্লামা শফি বলেন,
"শাহবাগের তথাকথিত জাগরণ মঞ্চে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছেন ইসলাম ও দেশবিরোধী অসংখ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহরিয়ার কবীর, বিশিষ্ট বাম বুদ্ধিজীবী মুনতাসীর মামুন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মূর্তি স্থাপনের নেপথ্য নায়ক জাফর ইকবাল, ফতোয়া নিষিদ্ধের রায় প্রদানকারী সাবেক বিচারপতি গোলাম রব্বানী, হিন্দু নাস্তিক অজয় রায়, বাম ঘরানার চিহ্নিত কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দ, ইসলামবিরোধী নারীনীতি প্রণয়ন ও সংবিধান থেকে 'আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' বাক্যটি বাদ দেয়ার নেপথ্যে সক্রিয় ব্যক্তিরাই শাহবাগ নাটকের পৃষ্ঠপোষক ও মূল কুশীলব।"

এই চিঠিতে সরকারের প্রতি ৪টি দাবি জানানো হয়। যথা:
১. সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে চলমান সব আন্দোলনের প্রতি যেভাবে ব্যাপক সহানুভূতি প্রদর্শন করছে অনুরূপভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশের জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে ইসলাম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. আল্লাহ, রাসূল, কুরআন, দাড়ি-টুপি, পর্দা-হিজাব প্রভৃতি ইসলাম প্রতীক অবমাননার মাধ্যমে বিরাজিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. প্রকাশ্য রাজপথে দাড়ি-টুপিধারী পথচারীকে অপমান করার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় তাওহীদি জনতার গণজমায়েত, সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং ও গণঅবস্থানের গণতান্ত্রিক অধিকার দিতে হবে। কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টির যেকোনো কর্মসূচীতে কোনো বাধা দেয়া যাবে না। অন্যথায় দেশের লাখো মুসলিম জনতা সকল বাধা অতিক্রম করে ঈমান-আক্বীদা ও ধর্মীয় প্রতীকসমূহের মর্যাদা রক্ষায় সর্বাত্মক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

চিঠির শেষে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আল্লামা শফি বলেন,
"দেশের সর্বস্তরের মুমিন - মুসলমান জনগণের উদ্দেশে আমরা বলতে চাই শাহবাগকেন্দ্রিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে বিচার না করে; বিশেষ কোনো দল / গোষ্ঠীর পক্ষে - বিপক্ষে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে সরলীকরণে না গিয়ে, এর অর্ন্তর্নিহিত রূপ ও চরিত্র অনুধাবন করুন। শাহবাগ চত্বরের কথিত জাগরণ মঞ্চের বিগত দুই সপ্তাহের কার্যক্রমকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে পরিষ্কার হয়ে গেছে-এটা মোটেও স্বাধীনতার স্বপক্ষ - বিপক্ষের লড়াই নয়। এবং দলমতের উর্ধ্বে উঠে নিজের ঈমান, আক্বীদা-বিশ্বাস ও ইসলামের প্রতীকসমূহের হেফাজতের পক্ষে সোচ্চার ও জোরালো ভূমিকা রাখুন। নাস্তিক, মুরতাদ ও ইসলামবিরোধী অপশক্তির আস্ফালনের বিরুদ্ধে সারা দেশে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলুন।"

আল্লামা শাহ আহমদ শফির এক চিঠিতে সারাদেশে ইসলামপন্থীদের ঐক্য তৈরি হলো। তারা ইসলাম রক্ষায় আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। ব্যাতিক্রম ছিল ফরিদ উদ্দিন মাসুদ এবং চরমোনাই। শোলাকিয়ার ইমাম ফরিদ উদ্দিন মাসুদ লজ্জাহীনভাবে শাহবাগী নাস্তিকদের সাথে সম্পৃক্ত হলেন।

চরমোনাই-এর পীর রেজাউল করিম রাজনৈতিক মানুষ। তিনি বুঝতে পেরেছেন হেফাজতের এই তৎপরতায় ইসলামের সাথে সাথে জামায়াতও বিপদ বেঁচে যাবে। তাই তারা হেফাজতে ইসলামের সাথে একাত্মতা করেন নি। তবে তাদের অবস্থান শাহবাগ বিরোধীই ছিলো। কিন্তু চরমোনাইয়ের বেশ কিছু নেতা কর্মী ফউ মাসুদের সাথে গিয়ে শাহবাগে নাস্তিকদের সাথে একাত্ম হয়েছে। সেখানে থেকেছে। নাচ-গান ও অশ্লীলতার মধ্যে গিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে, আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে শ্লোগান তুলেছে।

হেফাজতে ইসলামের এই উত্থানে হালে পানি পায় জামায়াত। জামায়াতের কর্মীরা তখন হেফাজতের কর্মীতে পরিণত হয়। দলমত নির্বিশেষে আল্লামা শফি ইসলামপন্থীদের অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন।

হেফাজতে ইসলামের উত্থানের পর জনমত ঘুরে যেতে থাকে। ফলে বিএনপিও কথা বলার মওকা পায়। ২০ ফেব্রুয়ারি বিএনপি'র মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শাহবাগের বিরুদ্ধে ইঙ্গিতে কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার শাহবাগে ভেলকিবাজী শুরু করেছে। ২১ ফেব্রুয়ারি বিএনপি'র আরেক সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ বলেন, জোর করে বিচার আদায় করা যায় না।

হেফাজতের ১ম কর্মসূচি ছিল ২২ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার। আর সেদিন জুমআর নামাজের পর শাহবাগে আল্লাহর রাসূলের অবমাননার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ছিল। চট্টগ্রাম বাদে বাইতুল মোকাররমসহ বাংলাদেশের সব স্থানে হেফাজতে ইসলামের মিছিলে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। বেশ কয়েকজন শাহদাতবরণ করেন। বাইতুল মোকাররম পরিণত হয় রণক্ষেত্রে।

হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া দেখে বিএনপি তার দোদুল্যমনতা পরিহার করে। তারা সরাসরি শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। ২২ ফেব্রুয়ারিতে পুলিশি হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি'র আরেক সিনিয়র নেতা মরহুম মওদুদ আহমেদ বলেন, বিএনপি সারাদেশে গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে 'গণতন্ত্র মঞ্চ' প্রতিষ্ঠা করবেন।

২২ ফেব্রুয়ারি যদিও জামায়াতের বেশ ক'জন শাহদাতবরণ করে, শত শত কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়, হাজার হাজার এরেস্ট হয় তারপরেও জামায়াত হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। জামায়াত তার মিত্রদের কাছে পায়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, জামায়াতের বিরুদ্ধে টানা পনের দিনের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির পর জামায়াতের পক্ষে দেশের মানুষ কথা বলতে শুরু করে। শাহবাগের আন্দোলনকারীদের জামায়াত ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে।

গণজাগরণ মঞ্চের নেতারা বিভিন্ন ব্লগে আল্লাহ তায়ালা ও নবী রাসূলদের বিরুদ্ধে অশ্লীল কথা বলায় শাহবাগ আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সাধারণ মানুষ।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন