৮ অক্টোবর, ২০১৫

এরশাদ কাহিনী


লে. জে. হু. মু. এরশাদ ১৯৫২ সালে যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। দীর্ঘ তেরো বছর চাকুরীর পর ১৯৬৫ তে পান মেজর পদ। একাত্তরের পুরো সময় জুড়ে ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানে। মাঝখানে ছুটি নিয়ে পূর্বপাকিস্তান এসেছিলেন। যুদ্ধে যোগ না দিয়ে আবার ফিরে যান পশ্চিম পাকিস্তানে। তিনি সেসময় দায়িত্ব পালন করেন কোর্ট মার্শালে।

স্বাধীনতার পরপরই তিনি ফিরে আসেন নি। তিনি এসেছেন ৭৩ সালে। সেই বছরই যোগ দেন বাংলাদেশ আর্মিতে। এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন পাকিস্তানের প্রতি একান্ত অনুগত এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী কিভাবে এতদিন পরে এসে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারে? এর উত্তর অনেক হতে পারে, তবে আমার কাছে যেটা সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য মনে হয় তাহলো মুজিব ফ্রিডম ফাইটার সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিশ্বাস করতোনা। তাই সে সেনাবাহিনীতে কিছু লোককে চাচ্ছিল যারা একান্তই তার হয়ে কাজ করবেন। এইরকম অনেক লোককে রিক্রুটমেন্ট করেছেন মুজিব। তার মধ্যে অন্যতম এরশাদ।

৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অন্যরকম সাহস নিয়ে আসছিল। তারা এখন ক্যু করতে ভয় পায়না। তাই ৭৫ এ কয়েকটি ক্যু করে ফ্রিডম ফাইটাররা। এই বিষয়টা মুজিবের মত জিয়াও তার বিবেচনায় এনেছেন। ক্ষমতা অধিগ্রহন করার পর জিয়া কর্ণেল তাহের সহ চারশত ছয়জন ফ্রিডম ফাইটারকে হত্যা করেছেন যৌক্তিক কারনেই। যার ফলে ক্যু এর ভয় জিয়াকে তাড়া করে ফিরতো।

মুজিব হত্যাকান্ডের সময় এরশাদ এক প্রশিক্ষনে ভারতে ছিলেন। জিয়া ক্ষমতা গ্রহনের পর তাকে ভারত থেকে নিয়ে আসেন। তাকে রাতারাতি মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করে উপ-সেনাপ্রধানের পদে অধিষ্ঠিত করেন। অথচ সব দিক দিয়ে এই বিবেচনায় এগিয়ে ছিলেন মেজর মঞ্জুর। জিয়ার সাথে কোন দন্ধই ছিলনা মঞ্জুরের। হয়তো ফ্রিডম ফাইটার বলেই জিয়া রিস্ক নিতে চাননি।

ইহাই বাংলাদেশের ফ্রিডম ফাইটার। কেউ কাউরে বিশ্বাস করেনা। কিভাবে করবে? তারা সবাইতো বিশ্বাস ভঙ্গকারী। সিদ্ধান্তটি নিঃসন্দেহে খারাপ। যোগ্য লোককে বঞ্চিত করে এরশাদের মত অযোগ্য, চরিত্রহীন ও করাপ্ট লোককে দায়িত্ব প্রদান কোনভাবেই ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারেনা। এর চরম মূল্য দিতে হয়েছে জিয়াকে। বিপুল জনপ্রিয়তাও তাকে সেইভ করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার লোভ এরশাদকে প্রায় পাগল করে দিয়েছিল। সেই সাথে আছে মাথা গরম ফ্রিডম ফাইটাররা।

জিয়ার এক ভুলে দেশ ধূর্ত স্বৈরাচারের কবলে পড়েছে ৯ বছর। তার ছেলে তারেকের প্রায় সেরকম ভুলে দেশ ভয়ংকর ড্রাকুলার কবলে পড়ে আছে। কবে উদ্ধার হবে আল্লাহ জানে।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন