২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

ডাকাত থেকে মন্ত্রী : একটি মোটিভেশনাল গল্প



বাংলাদেশকে আলাদা করে একটি কম্যুনিস্ট রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনা হয়েছিলো ৭১ এর অনেক আগেই। যার নাম নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াস ছিলো গোপন সংগঠন। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সিরাজুল আলম খান যাদেরকে সশস্ত্র বিপ্লবের জন্য যোগ্য মনে করতেন তাদেরকে বামপন্থী আদর্শে উজ্জীবিত করতেন এবং গোপন সংগঠন নিউক্লিয়াসে অন্তর্ভুক্ত করে নিতেন।

১৯৬৬ সালে সেই নিউক্লিয়াসের সদস্য হন একজন ছাত্রলীগ নেতা। যাকে হাত পাকানোর জন্য নিউক্লিয়াসের পক্ষ থেকে ডাকাতি করতে বলা হয়। তার কাজ ছিলো ধনী মানুষদের থেকে ডাকাতি করে সম্পদ আহরণ করা এবং তা নিউক্লিয়াসের ফান্ডে জমা দেয়া। ১৯৭১ সালে সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ার পরিকল্পনা তারা করে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জয়দেবপুরে একটি সশস্ত্র কমিটি তৈরি করে। এই নিয়ে ডাকাতের মুখে শুনুন সেই কাহিনী

//২ মার্চ রাতে তৎকালীন থানা পশু পালন কর্মকর্তা আহম্মেদ ফজলুর রহমানের সরকারি বাসায় তৎকালীন মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ হাবিব উল্ল্যাহ এক সর্বদলীয় সভা আহবান করেন। সভায় আমাকে আহবায়ক করে এবং মেশিন টুলস্ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা জনাব নজরুল ইসলাম খানকে কোষাধ্যক্ষ করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট এক সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সদস্য হন সর্বজনাব আয়েশ উদ্দিন, মোঃ নুরুল ইসলাম, মোঃ আঃ ছাত্তার মিয়া (চৌরাস্তা) থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম হজরত আলী মাস্টার (চৌরাস্তা), মোঃ শহীদ উল্লাহ বাচ্চু (মরহুম), হারুন-অর-রশিদ ভূঁইয়া (মরহুম), শহিদুল ইসলাম পাঠান জিন্নাহ (মরহুম), শেখ আবুল হোসেন (শ্রমিক লীগ), থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. সাঈদ বকস্ ভূঁইয়া (মরহুম)। কমিটির হাই কমান্ড (উপদেষ্টা) হন জনাব মো. হাবিব উল্ল্যাহ (মরহুম), শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা এম এ মুত্তালিব এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নেতা বাবু মনিন্দ্রনাথ গোস্বামী (মরহুম)।

৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার পূর্বেই আমরা এ কমিটি গঠন করেছিলাম। পেছনের ইতিহাস এই যে, আমি ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে ‘স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস’ -এর সাথে সম্পৃক্ত হই। নিউক্লিয়াসের উদ্দ্যেশ্য ছিল সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করা। যা ১৯৬২ সালেই ছাত্রলীগের মধ্যে গঠিত হয়েছিল। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যেই সশস্ত্র যুদ্ধ করে পাকিস্তানিদের বিতাড়িত করে বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য বাঙালি সৈন্যদের মধ্যেও নিউক্লিয়াস গঠিত হয়েছিল ১৯৬৪ সালে। যার বিস্তৃত বিবরণ পাওয়া যাবে পাকিস্তানিদের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট স্ব-ঘোষিত ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের দায়ের করা ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান’ মামলায় যা বিখ্যাত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের সাথে জড়িত থাকার কারণেই বুঝতে পেরেছিলাম যে, সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবার এটাই মাহেন্দ্রক্ষণ।// (১)

এই কমিটি শুধু জয়দেবপুর নয়, সারাদেশে আওয়ামীলীগ এই কমিটি গঠন করে যার অগ্রভাগে ছিলো নিউক্লিয়াস নামের জঙ্গী সংগঠন। ৩ মার্চ থেকে সারাদেশে বিহারীদের উপর গণহত্যা চলতে থাকে। এরপরও পাকিস্তান সেনাবাহিনী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ও আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে কোনো জোরালো অভিযানে নামে নি। ওরা সেনাবাহিনীকে ক্ষেপাতে না পেরে সেনাবাহিনীর উপরই আক্রমণ চালানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নেই। ঢাকায় কয়েকটি স্থানে অনেকজন সেনাসদস্য বেসামরিক অবস্থায় আওয়ামীলীগ কর্তৃক লাঞ্ছিত হয়। মার্কিন দূতাবাসে হামলা করে নিউক্লিয়াস।

সারাদেশে সেনাবাহিনীর উপর বিনা উস্কানীতে আক্রমন করেছিলো বাঙ্গালীদের একটা অংশ। সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে জয়দেবপুরে ঐ ডাকাতের নেতৃত্বে। গাজিপুরে সমরাস্ত্র কারখানার নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য ব্রিগেডিয়ার জাহানজেবের নেতৃত্বে একদল সৈন্য সেখানে পৌঁছানোর আগে আওয়ামীলীগ কর্মীরা জয়দেবপুরে ব্যরিকেড সৃষ্টি করে। ব্যরিকেডের জন্য তারা একটি ট্রেনের বগি ব্যবহার করে। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে জাহানজেবের নেতৃত্বে সৈন্যদল। তারা ব্যরিকেড সরিয়ে সেখানে পৌঁছায়। নিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখে জাহানজেব আরবাব আবার যখন হেডকোয়ার্টারে ফিরে যাচ্ছিলেন তখন বিশৃংখলাকারীরা সৈন্যদলকে আবারো ঘিরে ফেলে। বন্দুক, শর্টগান, লাঠি, বোমা ইত্যাদি নিয়ে হামলা চালায়। জাহানজেব বাঙ্গালী অফিসার লে. ক. মাসুদকে গুলি চালাতে নির্দেশ দিলেন। মাসুদ ইতস্তত করলে অপর বাঙ্গালী অফিসার শফিউল্লাহ তার সৈন্যদের নিয়ে পাল্টা আক্রমন চালালে কিছু মানুষ নিহত হয় বাকীরা পালিয়ে যায়। মাসুদকে পরে ঢাকায় এসে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। এই পরবর্তিতে সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। শেখ মুজিব খুন হওয়ার সময় তিনি সেনাপ্রধান ছিলেন।

সেই ঘটনার বর্ণনা শুনুন ডাকাতের মুখেই,
//রেল গেইটের ব্যারিকেড সরানোর জন্য ২য় ইস্ট বেঙ্গলের রেজিমেন্টকে বিগ্রেডিয়ার জাহান জেব আদেশ দেয়। কৌশল হিসেবে বাঙালি সৈন্যদের সামনে দিয়ে পেছনে পাঞ্জাবি সৈন্যদের অবস্থান নিয়ে মেজর শফিউল্লাহকে জনতার উপর গুলি বর্ষণের আদেশ দেয়। বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যরা আমাদের উপর গুলি না করে আকাশের দিকে গুলি ছুড়ে সামনে আসতে থাকলে আমরা বর্তমান গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উপর অবস্থান নিয়ে বন্দুক ও চাইনিজ রাইফেল দিয়ে সেনাবাহিনীর উপর গুলি বর্ষণ শুরু করি। শফিউল্লাহর গুলিতে জয়দেবপুরে শহীদ হন নেয়ামত ও মনু খলিফা, আহত হন চত্বরের সন্তোষ, ডা. ইউসুফসহ শত শত বীর জনতা। পাক বাহিনী কার্ফু জারি করে এলোপাথারি গুলিবর্ষণ শুরু করলে আমাদের প্রতিরোধ ভেঙ্গে পড়ে। আমরা পিছু হটলে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করে ব্যারিকেড পরিস্কার করে ব্রিগেডিয়ার জাহান জেব চান্দনা চৌরাস্তায় এসে আবার প্রবল বাধার সম্মুখীন হন। নামকরা ফুটবল খেলোয়াড় হুরমত এক পাঞ্জাবি সৈন্যেকে পেছন দিয়ে আক্রমণ করে। আমরা সৈন্যের রাইফেল কেড়ে নেই। কিন্তু পেছনে আর এক পাঞ্জবি সৈন্য হুরমতের মাথায় গুলি করে হুরমত সেখানেই শাহাদাৎ বরণ করেন। বর্তমানে সেই স্থানে চৌরাস্তার মোড়ে ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ নামে ভাষ্কর্য স্থাপিত হয়েছে।// (১)

পরদিন শেখ মুজিব আলোচনা চলাকালে পাক বাহিনীর আক্রমণে ১৯ মার্চের নিহতের কথা উল্লেখ করলে জেনারেল ইয়াহিয়া খান উল্লেখ করে যে, জয়দেবপুর জনতা সেনাবাহিনীর উপর আধুনিক অস্ত্র ও চাইনিজ রাইফেল দিয়ে আক্রমণ করেছে এবং এতে পাকিস্তানি বাহিনীর অনেক সৈন্য আহত হয়েছে। তিনি আওয়ামী কর্মীদের কাছে এই অস্ত্র কোথা থেকে এসেছে? কারা দিয়েছে? কোথায় প্রশিক্ষণ নিয়েছে? কেন সেনাবাহিনীর উপর আক্রমণ হয়েছে যেখানে আমরা আলোচনার টেবিলে? এমনসব প্রশ্ন রাখেন। মুজিব উত্তর করতে ব্যর্থ হন ও প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চান।

এই ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সেক্টর কমান্ডার কে এম শফিউল্লাহ বলেন,
//১৯ মার্চ সকাল দশটায় তার ইউনিটকে জানানো হয় ব্রিগেড কমান্ডার মধ্যহ্নভোজে আসছেন এবং নিকটবর্তী গাজিপুর সমরাস্ত্র কারখানা পরিদর্শন করবেন। কিন্তু জনতা প্রায় ৫০০ ব্যরিকেড বসিয়ে সৈন্যদের আটকে দেয়। এগুলো সরিয়ে তারা আসলেও ফিরে যাওয়ার সময় জয়দেবপুরে মজবুত ব্যরিকেড সৃষ্টি করলে লে. ক. মাসুদ তাদের বুঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। এমন সময় দুজন বাঙ্গালী সৈনিক জাহানজেবকে জানায় তাদেরকে বেধড়ক পিটিয়েছে, অস্ত্র গোলাবারুদ ছিনিয়ে নিয়েছে। এবার জাহানজেব গুলি করার নির্দেশ দিলে মঈন তার সৈন্যদের গুলি করতে বলে। তবে বাংলায় বলে দেয় ফাঁকা গুলি করার জন্য। এরপরও পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রনে না এলে এবার জাহানজেব কার্যকরভাবে গুলি করার নির্দেশ দেন। তারাও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। দু’জন নিহত হয়। শফিউল্লাহ আরো জানান, গাজিপুরের পরিস্থিতিও ছিল উত্তেজনাকর। রাস্তায় ব্যরিকেড দেয়া হয়েছিল। সমরাস্ত্র কারখানার আবাসিক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার করিমুল্লাকে আটকে ফেলে বাঙ্গালীরা। আবাসিক পরিচালককে উদ্ধার করতে আমরা সেনা প্রেরণ করেছিলাম।// (২)

সেই থেকে উত্থান শুরু হয় ঐ ডাকাতের। মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক তান্ডব চালায় সারা জয়দেবপুর মহকুমাসহ সারা গাজীপুরে। বহু আলেম-ওলামা, মসজিদের ইমাম তার হাতে খুন হয়। তার নিজস্ব ডাকাত বাহিনী বড় হতে থাকে। যুদ্ধের পর তার ক্ষমতা বাড়তে থাকে, একইসাথে বাড়তে থাকে তার অত্যাচার। মুক্তিযোদ্ধা ডাকাতেরা সারাদেশেই অত্যাচার চালাতে থাকে। তবে আমি যে ডাকাতের কথা নিয়ে আলোচনা করছি সে ডাকাত ছিলো বিখ্যাত। তার সন্ত্রাসের কিছু কথা উল্লেখ আছে সাংবাদিক Anthony Mascarenhas- এর বই Bangladesh : Legacy of Blood বইতে। আরো উল্লেখ আছে হুমায়ুন আহমেদের দেয়াল বইতে।

এক নবদম্পতি গাড়ীতে করে যাচ্ছিল। টঙ্গীর আওয়ামীলীগ নেতা ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোজাম্মেল দলবলসহ গাড়িটি আটক করে। ড্রাইভার আর নববধূর স্বামীকে হত্যা করে, মেয়েটিকে সবাই মিলে ধর্ষণ করে, অতঃপর তিনদিন পর তাঁর লাশ পাওয়া যায় টঙ্গি ব্রীজের নীচে। পৈশাচিক এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় সর্বত্র। বিশেষ অভিযানে দায়িত্বরত মেজর নাসেরের হাতে মোজাম্মেল ধরা পড়ে। (৩) মোজাম্মেল মেজরকে বলে- ঝামেলা না করে আমাকে ছেড়ে দিন, আপনাকে তিন লাখ টাকা দেবো। বিষয়টা সরকারি পর্যায়ে নেবেন না। স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমি ছাড়া পাবো। আপনি পড়বেন বিপদে। আমি তুচ্ছ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকে জড়াতে চাই না। মেজর নাসের হুঙ্কার ছাড়লেন, এটা তুচ্ছ বিষয়? আমি অবশ্যই তোমাকে ফাঁসিতে ঝোলাবার ব্যবস্থা করবো। তোমার তিন লাখ টাকা তুমি তোমার গুহ্যদ্বারে ঢুকিয়ে রাখো!
এরপরের কাহিনী অতি সরল।

হুমায়ুন আহমেদ বলেন,
//কুখ্যাত সন্ত্রাসী মোজাম্মেলের বাবা, দুই ভাই গেল বঙ্গবন্ধুর কাছে। তিনি ঢোকা মাত্র মোজাম্মেল এর বাবা ও দুই ভাই কেঁদে মুজিবের পায়ে পড়লো। টঙ্গি আওয়ামীলীগের সভাপতিও পায়ে ধরার চেষ্টা করলেন। পা খুঁজে পেলেন না। পা মোজাম্মেলের আত্মীয় স্বজনের দখলে!
বঙ্গবন্ধু বললেন, ঘটনা কি বল?
টঙ্গি আওয়ামী লীগের সভাপতি বললেন, আমাদের মোজাম্মেলকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। মেজর নাসের তাকে ধরেছে। নাসের বলেছে ৩ লাখ টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দিবে।
মিথ্যা মামলাটা কি?
মোজাম্মেল এর বাবা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, খুনের মামলা লাগায়া দিছে।
মুজিব জিজ্ঞাসিলেন, ঘটনা কি ?
টঙ্গি আ’লীগের সভাপতি বললেন, আমাদের সোনার ছেলে মোজাম্মেল মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে।
মেজর নাসির তাকে ধরে নিয়ে গেছে। বলেছে তিন লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দিবে। কাঁদতে কাঁদতে আরো বললো, এই মেজর আ’লীগের নাম শুনলেই তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে। সে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে, টঙ্গিতে আমি আ’লীগের কোন শূয়োর রাখবো না। বঙ্গবন্ধু, আমি নিজেও এখন ভয়ে অস্থির! টঙ্গিতে থাকি না। ঢাকায় চলে আসছি। (ক্রন্দন)

এবার হুঙ্কার ছাড়লেন মুজিব, কান্দিস না। কান্দার মত কিছু ঘটে নাই। আমি এখনো বাইচ্যা আছি তো, মইরা যাই নাই। এখনি ব্যবস্থা নিতাছি। অতঃপর মোজাম্মেলকে তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন এবং মেজর নাসেরকে টঙ্গি থেকে সরিয়ে দেবার জরুরী আদেশ দেয়া হলো। মোজাম্মেল ছাড়া পেয়ে মেজর নাসেরকে তার বাসায় পাকা কাঁঠাল খাওয়ার নিমন্ত্রন করেছিল।// (৪)

শেখ হাসিনা এখনো মুজিবের মতো সেই টাইপের সন্ত্রাসী হয়ে উঠতে সক্ষম হয়নি যে, একজন ধর্ষককে হুংকার ছেড়ে ছেড়ে দিবে। আপনারা যারা শেখ মুজিবরে আব্বা ডাকেন এটা তাদের জন্য। আর সেই ডাকাতের নাম আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন তার নাম মোজাম্মেল। যে এখন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী। হাসিনা তাকে মন্ত্রী বানিয়েছে।

সূত্র :
১- মুুক্তিযুদ্ধের সর্বপ্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ ১৯ মার্চ ’৭১/ ভোরের কাগজ/ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
২- ডেড রেকনিং/ শর্মিলা বসু/ পৃ- ৪২
৩- Bangladesh Legacy of Blood/ Anthony Mascarenhas/ p 48
৪- দেয়াল/ হুমায়ুন আহমেদ/ পৃ- ৮৫-৮৬

২টি মন্তব্য:

  1. কতটুকু সত্য বা অসত্য জানি না, তবে তখনকার সময়ে এই রকম বা তার চেয়েও জঘন্য অপরাধ মূলক ঘটনা হয়েছে, শুনেছি এগুলোর কোন বিচার তো হয় না-ই, মানুষ বাচার জন্য দেশ ত্যাগ করেও অনেকে চলে গেছে৷

    উত্তরমুছুন
  2. আমার কাছে পিওর সত্য বলে মনে হচ্ছে

    উত্তরমুছুন