৯ এপ্রিল, ২০২১

পর্ব : ১০ - প্রত্যাখ্যানের শিকার হলেন মুহাম্মদ সা.

 


প্রায় ৩ বছর অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত হওয়ার পর মুহাম্মদ সা. নতুন পরিকল্পনা হাতে নিলেন। তিনি পর্যবেক্ষণ করে দেখলেন, মক্কায় সবার কাছে দাওয়াত পৌঁছে গেছে। এবার মক্কার বাইরে দাওয়াত দিতে হবে। নতুন পরিকল্পনা অনুসারে প্রথমেই তায়েফ যাওয়ার প্ল্যান করেছিলেন। এরপর অন্যান্য গোত্র ও স্থানে যাওয়ার পরিকল্পনা তিনি হাতে নিয়েছিলেন।


নবুয়তের দশম বছরের শুরুর দিকে নবী সা. তায়েফ যাত্রা করেন। তায়েফ মক্কা থেকে ৬০ মাইল দূরে অবস্থিত। সাথে ছিল পালকপুত্র জায়েদ বিন হারেসা রা.। তায়েফ তিনি পায়ে হেঁটে যাত্রা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল পথে যার সাথেই দেখা হবে তাকেই ইসলামের দাওয়াত দিবেন। যাওয়ার পথে তিনি বহু মানুষ ও গোষ্ঠীকে ইসলামের দাওয়াত দিইয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কেউই তাঁর দাওয়াত গ্রহন করেনি। 


তায়েফ পৌঁছার পর রাসূলুল্লাহ সা. সেখানের প্রভাবশালী সাকিফ গোত্রের তিনজন সর্দারের কাছে যান। এরা পরস্পর ভাই। এদের নাম ছিল আবদে ইয়ালিল, মাসউদ এবং হাবিব। রাসূলুল্লাহ সা. তাদের কাছে পৌঁছে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এবং ইসলামকে সাহায্য করার আহবান জানান। জবাবে একজন টিপ্পনির সুরে বললো, কাবার পর্দা সে ফেড়ে দেখাক যদি আল্লাহ তাকে রাসূল করে থাকেন। এর মানে হলো তুমি যদি সত্যিই নবী হয়ে থাকো তবে কা'বার গিলাফ ছিড়ে ফেলার সাহস দেখাও।


অন্য একজন বললো, আল্লাহ তায়ালা কি তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে পেলেন না? তৃতীয়জন বলল আমি তোমার সাথে কোন কথাই বলতে চাই না, কেননা তুমি যদি নবী হয়ে থাকো, তাহলে তোমার কথা রদ করা আমার জন্য বিপজ্জনক হবে। আর তুমি যদি আল্লাহর নামে মিথ্যা কথা রটাও তবে সেক্ষেত্রেও তোমার সাথে আমার কথা বলাই উচিত নয়। এসব শুনে রাসূলুল্লাহ সা. উঠে দাঁড়ালেন এবং ফিরে গেলেন।


মুহাম্মদ সা. তায়েফে দশদিন অবস্থান করেন। এ সময়ে তিনি তায়েফের সকল গোত্রীয় সর্দারদের কাছে যান এবং প্রত্যেককে দ্বীনের দাওয়াত দেন। কিন্তু সবাই এক কথা বলল যে, তুমি আমাদের শহর থেকে বেরিয়ে যাও। শুধু এ কথা বলেই তারা ক্ষান্ত হয়নি বরং উচ্ছৃংখল বালকদের রাসূল সা.-কে আঘাতের জন্য উসকানি দিয়েছিল। তিনি ফেরার সময় ওসব দুর্বৃত্ত বালক তাঁর পেছনে লেগে গেলো। তারা রাসূলুল্লাহ সা.-কে গালাগাল করছিল, হাততালি দিচ্ছিল ও হৈ চৈ করছিল। কিছুক্ষণের মধ্যে এত বালক এবং দুর্বৃত্ত লোক জড়ো হল যে, পথের দুধারে লাইন লেগে গেল। তারা একইসাথে গালাগাল দিতে এবং ঢিল ছুঁড়তে লাগলো। 


মারাত্মক বিপদে পড়ে গেলেন রাসূল সা.। আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে গেলেন প্রিয় নবী। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান থেতলে গেল। তাঁর দুই পা রক্তাক্ত হয়ে জুতা রক্তে ভরে গেলো। এদিকে হযরত জায়েদ ইবনে হারেসা রা. ঢাল হিসেবে নবী সা.-কে আগলে রাখতে গিয়ে তিনি আগেই আহত হয়ে পড়ে গেলেন। তার মাথাসহ বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হলো। তায়েফবাসী রাসূল সা.-এর দূরাবস্থা দেখে হাততালি দিচ্ছিল। 


আল্লাহর রাসূল সা. ও জায়েদ রা. তায়েফ থেকে বের হয়ে একটি খেজুর বাগানে আশ্রয় নিলেন। এই বাগানটি ছিল তায়েফ থেকে তিন মাইল দূরে। বাগানটির মালিক ছিল মক্কার উতবা, শাইবা এবং রবিয়াদের। রাসূলুল্লাহ সা. এ বাগানে ঢুকে যাওয়া পর সন্ত্রাসীরা ফিরে গেল। আল্লাহর হাবিব আমাদের প্রিয় নবী খুব অসহায় হয়ে পড়লেন। এতো কষ্ট এতো নির্যাতন আর আগে কোনোদিন সহ্য করতে হয়নি। বিধ্বস্ত অবস্থায় তিনি একটি দেয়ালে হেলান দিয়ে আঙ্গুর গাছের ছায়ায় বসে পড়লেন। 


কিছুটা শান্ত হওয়ার পর প্রিয় নবী চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে হাত ওঠালেন। তিনি একটি দোয়া করলেন। বললেন, 

//হে আল্লাহ তায়ালা! 

আমি তোমার কাছে আমার দুর্বলতা, অসহায়তা এবং মানুষের কাছে আমার মূল্যহীনতা সম্পর্কে অভিযোগ করছি। 

হে দয়ালু দাতা, তুমি দুর্বলদের প্রভু, তুমি আমারও প্রভু! তুমি আমাকে কার কাছে ন্যস্ত করেছ? 

আমাকে কি এমন অচেনা কারো হাতে ন্যস্ত করছো যে আমার সাথে রুক্ষ ব্যবহার করবে? নাকি কোনো শত্রুর হাতে ন্যস্ত করছো যাদেরকে তুমি আমার মালিক করে দিয়েছো? 


হে আল্লাহ! যদি তুমি আমার ওপর অসন্তুষ্ট না হও, তবে আমার কোন দুঃখ নেই! আফসোসও নেই। তোমার ক্ষমাশীলতা আমার জন্য প্রশস্ত ও প্রসারিত করো। আমি দ্রুত তোমার সেই আলোর আশ্রয় চাই, যা দ্বারা অন্ধকার দূর হয়ে আলোয় চারিদিক ভরে যায়। 


হে আল্লাহ! দুনিয়া ও আখিরাতের সকল বিষয় তোমার হাতে ন্যস্ত। তুমি আমার ওপর অভিশাপ নাযিল করবে বা ধমকাবে। সর্বঅবস্থায় তোমার সন্তুষ্টি কামনা করি। সকল ক্ষমতা ও শক্তি শুধু তোমারই। তোমার শক্তি ছাড়া কারো কোনো শক্তি নেই।//


রাবিয়ার পুত্ররা মুহাম্মদ সা.-এর এই দুরাবস্থা দেখে দয়াশীল হলো। আত্মীয়তার কথা ভেবে তাদের মন নরম হয়ে গেল। নিজেদের খৃস্টান ক্রীতদাস আদাসের হাতে এক থোকা আঙ্গুর দিয়ে বললো, লোকটিকে দিয়ে এসো। ক্রীতদাস আদাস আঙ্গুরের থোকা রাসূলুল্লাহ সা.-কে দেওয়ার পর তিনি বিসমিল্লাহ বলে খেতে শুরু করলেন।


আদাস বলল, খাওয়ার সময় এ ধরনের কথা তো এখানের লোকজনরা বলে না। রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তুমি কোথাকার অধিবাসী? তোমার ধর্ম কি ? 

সে বলল, আমার বাড়ী নিনোভায়, ধর্ম ঈসায়ী। রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তুমি পুণ্যশীল বান্দা হযরত ইউসুফের এলাকার অধিবাসী। আদাস বললো, আপনি ইউসুফকে কি করে চেনেন? নবী সা. বললেন, তিনি ছিলেন আমার ভাই, তিনি ছিলেন নবী, আমিও নবী। একথা শুনে আদাস রাসূলুল্লাহ সা.-এর উপর ঝুঁকে পড়লো। খুব দ্রুত রাসূল সা.-এর মাথা, হাত ও পায়ে চুম্বন করলো।


এ অবস্থা দেখে রবিয়ার দুই পুত্র নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল, এই লোক এবার আমাদের ক্রীতদাসদের মাথা বিগড়ে দিয়েছে। মনিবদের কাছে ফিরে গেলে তারা আদাসকে জিজ্ঞাসা করলো, কিরে কি ব্যাপার? আদাস বলল, আমার বিবেচনায় পৃথিবীতে এই লোকের চেয়ে ভাল লোক আর নেই। তিনি আমাকে এমন একটি কথা বলেছেন, যে কথা নবী ছাড়া অন্য কারো পক্ষেই জানা সম্ভব নয়। রাবিয়ার পুত্ররা বলল, দেখো আদাস! এই লোক যেন তোমাকে তোমার ধর্ম বিশ্বাস থেকে সরাতে না পারে। তোমার ধর্ম এ লোকের ধর্মের চেয়ে ভালো।


কিছুক্ষণ অবস্থানের পর যখন ক্ষতস্থান থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হলো তখন নবী সা. বাগান থেকে বেরিয়ে মক্কার পথে রওয়ানা হলেন। মানসিকভাবে তিনি ছিলেন বিপর্যস্ত। কিছুদূর যাওয়ার পর আল্লাহর নির্দেশে হযরত জিবরাঈল আ. এলেন এবং তাঁর সাথে পাহাড়ের ফেরেশতারাও ছিলেন। তারা আল্লাহর রাসূলের কাছে অনুমতি চাইতে এসেছিলেন যে, যদি তিনি বলেন, তবে এর তায়েফবাসীদেরকে দুটি পাহাড়ের মধ্যে পিষে দেবেন।


এই প্রসঙ্গে আমাদের মা আয়িশা বলেন, আমি রাসূলকে একদিন জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ওহুদের দিনের চেয়ে মারাত্মক কোন দিন আপনার জীবনে এসেছিল কি? 

তিনি বললেন, আমি যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দিন ছিল তায়েফের দিন। আমি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছি কিন্তু তারা আমার দাওয়াত গ্রহন করেনি। আমি দুঃখ কষ্ট ও মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে মাথা তুলে দেখি মাথার ওপরে এক টুকরো মেঘ। ভালভাবে তাকিয়ে দেখি সেখানে জিবরাঈল আ.। 


তিনি আমাকে বললেন, আপনার কওম আপনাকে যা যা বলেছে আল্লাহ তায়ালা সবই শুনেছেন। আপনার কাছে পাহাড়ের ফেরেশতাদের পাঠানো হয়েছে। এরপর পাহাড়ের ফেরেশতারা আমাকে আওয়াজ দিলেন। সালাম জানালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি চান তবে আমরা ওদেরকে দুই পাহাড়ের মধ্যে পিষে দেব। নবী সা. বললেন, না আমি আশা করি আল্লাহ তায়ালা ওদের বংশধরদের মধ্যে এমন মানুষ সৃষ্টি করবেন যারা শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তার সাথে কাউকে শরীক করবে না। 


উম্মতের প্রতি রাসূল সা.-এর ভালোবাসা এই ঘটনায় আমরা খুব উপলব্ধি করতে পারি। মুহাম্মদ সা.-এর এই জবাবে তার দূরদর্শিতা, বিচক্ষণতা, অনুপম ব্যক্তিত্ব ও উত্তম মানবিক চেতনার প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সাহায্যে তাঁর মন শান্ত হয়ে গেলো। রাসূলুল্লাহ সা. মক্কার পথে পা বাড়ালেন। ওয়াদীয়ে নাখলা নামক জায়গায় এসে তিনি থামলেন। নাখলায় রাসূলুল্লাহ সা. কয়েক দিন কাটান। সেখানে আল্লাহ জ্বিনদের দুটি দল তাঁর কাছে প্রেরণ করেন। পবিত্র কোরআনের দুই জায়গায় সূরা আহকাফ এবং সূরা জ্বিনে এদের কথা উল্লেখ রয়েছে।


সূরা আহকাফের ২৯-৩১ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, //স্মরণ করো, আমি তোমার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম একদল জ্বিনকে যারা কোরআন পাঠ শুনছিল। যখন ওরা তার কাছে উপস্থিত হলো, ওরা একে অপরকে বলতে লাগলো চুপ করে শ্রবণ করো। যখন কোরআন পাঠ সমাপ্ত হল ওরা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেলো এক একজন সতর্ককারীরূপে। এমন এক কিতাবের পাঠ শ্রবণ করেছি যা অবতীর্ণ হয়েছে মূসা আ.-এর ওপর। এটি পূর্ববর্তী কিতাবকে সমর্থন করে এবং সত্য ও সরল পথের দিকে পরিচালিত করে। হে আমাদের সম্প্রদায়, আমাদের দিকে আহবানকারীর প্রতি সাড়া দাও এবং তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দেবেন এবং মর্মন্তুদ শাস্তি থেকে তোমাদের রক্ষা করবেন।


সূরা জিন এ আল্লাহ তায়ালা বলেন, বল আমার প্রতি ওহী প্রেরিত হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করেছে এবং বলেছে আমরা তো এক বিস্ময়কর কোরআনে শ্রবণ করেছি, যা সঠিক পথ নির্দেশ করে, ফলে আমরা এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি, আমরা কখনো আমাদের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থির করব না, সূরা জিন এর পনেরটি আয়াত পর্যন্ত এর বর্ণনা রয়েছে।


জিনদের আগমন এবং ইসলাম গ্রহন প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকে ছিল দ্বিতীয় সাহায্য। এ ঘটনার বর্ণনা সম্পর্কিত অন্যান্য আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় রাসূলকে দ্বীন কায়েমের সাফল্যের ব্যাপারে সুসংবাদ দিয়েছেন এবং একথা সুস্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, পৃথিবীর কোন শক্তিই দ্বীন ইসলামের সাফল্য ও অগ্রগতির পথে অন্তরায় হয়ে টিকতে পারবে না। 


এই সাহায্য এবং সুসংবাদের ফলে তায়েফের খারাপ ব্যবহারজনিত দুঃখ কষ্টদূর হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহর রাসূল দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হলেন যে, মক্কায় তাকে ফিরে যেতে হবে এবং নতুন উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে দ্বীনের দাওয়াত দিতে হবে। এ সময় হযরত জায়েদ ইবনে হারেসা রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কী করে মক্কায় যাবেন? মক্কার অধিবাসীরা তো আপনাকে মক্কায় ঢুকতে দিবে না। হে জায়েদ, তুমি যে অবস্থা দেখছো, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো উপায় আল্লাহ তায়ালা বের করে দেবেন। আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই তার দ্বীনকে সাহায্য এবং তাঁর নবীকে জয়যুক্ত করবেন।


রাসূলুল্লাহ সা. নাখলা থেকে রওয়ানা হয়ে মক্কার অদূরে হেরা গুহায় অবস্থান করলেন। সেখান থেকে খাজায়া গোত্রের একজন লোকের মাধ্যমে আখনাস ইবনে শোরাইককে এ পয়গাম পাঠালেন যে, আখনাস যেন তাকে আশ্রয় দেন। কিন্তু আখনাস আশ্রয় দিতে অপারগতা প্রকাশ করলো। এরপর নবী সা. সুহাইল ইবনে আমরের কাছেও একই বার্তা পাঠালেন। কিন্তু সেও অক্ষমতা প্রকাশ করলো। এরপর মুহাম্মদ সা. মুতয়াম ইবনে আদীর কাছে বার্তা পাঠালেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি রাজি আছি। 


এরপর মুতায়াম অস্ত্র সজ্জিত হয়ে নিজের সন্তান এবং গোত্রের লোকদের ডেকে একত্রিত করলেন। সবাই একত্রিত হওয়ার পর বললেন, তোমরা অস্ত্রসজ্জিত হয়ে কাবাঘরের সামনে যাও, কারণ আমি মুহাম্মাদকে আশ্রয় দিয়েছি। এরপর মুতয়াম রাসূলুল্লাহ সা.-কে খবর পাঠিয়ে বললেন, আপনি মক্কার ভেতরে আসুন। রাসূলুল্লাহ সা. খবর পাওয়ার পর জায়েদ রা.-কে সঙ্গে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন। মুতয়াম ইবনে আদী তার ঘোড়ার ওপর দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন, কুরাইশের লোকেরা শোন! আমি মুহাম্মদকে আশ্রয় দিয়েছি। কেউ যেন এরপর তাকে বিরক্ত না করে। 


নবী সা. হাজরে আসওয়াদ চুম্বন এবং দুই রাকায়াত নামাজ আদায় করলেন। নামাজ আদায়ের পর তিনি নিজের ঘরে ফিরে গেলেন। এ সময় মুতয়াম ইবনে আদী এবং তার সন্তানেরা অস্ত্র সজ্জিত হয়ে রাসূলুল্লাহ সা.-কে ঘিরে রাখলো এবং আল্লাহর রাসূল ঘরে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত তারা তাঁর সঙ্গে ছিল। এ সময় আবু জাহল মুতয়ামকে জিজ্ঞাসা করছিল, তুমি শুধু তাকে আশ্রয় দিয়েছ, না তার অনুসারী অর্থাৎ মুসলমানও হয়ে গেছ? মুতয়াম বললেন, আমি শুধু আশ্রয় দিয়েছি।


রাসূলুল্লাহ সা. মুতয়াম ইবনে আদীর এ উপকার কখনো ভুলেননি। বদরের যুদ্ধের পর মক্কার কাফেররা বন্দি হয়ে আসার পর কয়েকজন বন্দীর মুক্তির সুপারিশ নিয়ে মুতয়ামের পুত্র হযরত খুবায়ব রা. রাসূলুল্লাহ সা.এর কাছে হাজির হলেন। তিনি বলেছিলেন, মুতায়াম ইবনে আদী যদি আজকে বেঁচে থাকতো এবং আমার কাছে এসব দুর্গন্ধময় লোকদের ব্যাপারে সুপারিশ করতো, তবে তার খাতিরে আমি এদের সবাইকে মুক্ত করে দিতাম।


এরপর আল্লাহর রাসূল সা. মক্কার বাইরে বিভিন্ন গোত্রের কাছে নিয়মিত দাওয়াৎ দিতে থাকেন। ইমাম যুহরী বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. যে সকল গোত্রের কাছে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত পেশ করেন, তারা হচ্ছে, বনু আমের ইবনে সায়া, সায়া মোহারেব ইবনে খাছফা, ফাজারাহ, নাসসান, মায়রা, হানিফা, সালিম, আবাস, বনু নছর, বনু আলবাকা, কেলাব, হারেছ ইবনে আজারাহ ও হাজারেমা। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি।


এভাবে মক্কার বাইরের গোত্রগুলো মোটাদাগে আল্লাহর রাসূল সা.-কে প্রত্যাখ্যান করেছে। 

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন