২ নভেম্বর, ২০২২

খিলাফত পর্ব-৩২ : যেমন ছিল উসমান রা.-এর শাসনপদ্ধতি


রাষ্ট্র পরিচালনা তথা শাসনকাজে উসমান রা. কোনো অভিনব পন্থা উদ্ভাবন করেননি। কুরআন, হাদিস ও পূর্বসূরি দুই খলীফার শাসন প্রণালীই ছিল তার আদর্শ। খালীফা হওয়ার পর প্রদত্ত ভাষণে এবং বিভিন্ন দায়িত্বশীল ও পদস্থ ব্যক্তিদের উদ্দেশে প্রেরিত পত্রাবলিতে তার শাসনপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তাঁর শাসন পদ্ধতির ১ম নীতি ছিল পূর্বসূরীদের অনুসরণ। 

পূর্বসূরীদের অনুসরণ :
খালীফা হওয়ার অব্যবহিত পর উসমান রা. যে ভাষণ দেন তা হলো:
অতঃপর আমার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং আমি তা গ্রহণ করেছি। মনে রাখবেন, আমি অনুসরণকারী, নবপন্থা উদ্ভাবক নই। আরো জেনে রাখবেন, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ-এর পর আমার ওপর আপনাদের তিনটি অধিকার রয়েছে: 
(১) ঐসব বিষয়ে আমার পূর্বসূরিদের অনুসরণ যে বিষয়গুলোতে আপনারা একমত হয়ে কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছেন 
(২) যেসব বিষয়ে পরামর্শের ভিত্তিতে কর্মপন্থা নির্ধারিত হয়নি সে বিষয়গুলোতে কল্যাণকামীদের কর্মপন্থার অনুসরণ; এবং 
(৩) আপনারা নিজেদের ওপর শাস্তি অত্যাবশ্যকীয় করে না নিলে আপনাদের কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকা। 
জেনে রাখুন, দুনিয়া সতেজ-সজিব, ইতোমধ্যে তা মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে আর অনেক মানুষও দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়েছে। অতএব আপনারা দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়বেন না এবং তাকে বিশ্বাস করবেন না, কারণ দুনিয়া নিজেই বিশ্বস্ত নয়। জেনে রাখুন, যে দুনিয়াকে ছাড়ে না দুনিয়াও তাকে ছাড়ে না।

খিলাফাতের দায়িত্ব গ্রহণের পর উসমান রা. তাঁর প্রাদেশিক শাসনকর্তা, সেনাপতি, রাজস্ব কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে ফরমান জারি করেন। এসব ফরমানে তাঁর শাসন প্রণালী সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। 

শাসনকর্তাদের প্রতি প্রেরিত উসমান রা.-এর প্রথম পত্রে তিনি বলেন,
//অতঃপর, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাসকদেরকে দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কর আদায়কারী বলে শাসকদেরকে আল্লাহ অগ্রাধিকার দেননি। এই উম্মাহর অগ্রবর্তীদেরকে আল্লাহ্ তত্ত্বাবধায়ক (বা রাখাল) হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, কর আদায়কারী হিসেবে সৃষ্টি করেননি। আমার আশঙ্কা তোমাদের শাসকরা তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার বদলে যেন কর আদায়কারী না হয়ে পড়ো। তারা যদি কর আদায়কারী হয়ে পড়ে তবে লজ্জাশীলতা, আমানতদারী ও বিশ্বস্ততার অবসান হবে। সাবধান! নিশ্চয়ই সর্বাধিক ন্যায়ানুগ কর্মপদ্ধতি হল এই যে, তোমরা মুসলিমদের ব্যাপারে মনোযোগী হবে, তাদেরকে তাদের প্রাপ্য প্রদান করবে এবং রাষ্ট্রের প্রাপ্য তাদের কাছ থেকে আদায় করবে। 

দ্বিতীয় পর্যায়ে তোমরা জিম্মীদের ব্যাপারে মনোযোগী হবে, তাদের প্রাপ্য তাদেরকে প্রদান করবে আর রাষ্ট্রের পাওনা তাদের কাছ থেকে আদায় করবে। অতঃপর আমি শক্রদের ব্যাপারে বলছি যাদের ওপর তোমরা আঘাত হেনে থাক, তাদের ভূমি তোমরা উন্মোচন করবে বিশ্বস্ততার সাথে।//

কেবল কর আদায় করা শাসকদের দায়িত্ব নয়, বরং তাদের উচিত শাসিতদের কল্যাণ সাধন করা। আর এ কারণেই তিনি শাসন পরিচালনার মূলনীতি বাতলে দেন। রাষ্ট্রের প্রাপ্য জনগণের কাছ থেকে আদায় করার পাশাপাশি তাদের প্রাপ্যও আদায় করা। এভাবেই উম্মাহর কল্যাণসাধন সম্ভব। পক্ষান্তরে শাসকরা যদি নিরেট কর আদায়কারীতে পরিণত হয়, তবে লজ্জাশীলতার অবসান হবে এবং আমানতদারী ও বিশ্বস্ততা অবলুপ্ত হবে।

সেনা কমান্ডারদের প্রতি উসমান রা. পত্র লিখে যে বার্তা দেন তা হলো, 
//তোমরা মুসলিমদের রক্ষক, তোমাদের জন্য ‘উমার (রা.) যে নীতি প্রবর্তন করেছিলেন তা আমাদের অগোচরে নয়, বরং আমাদের পরামর্শেই প্রবর্তিত হয়েছিল। ঐ মূলনীতিতে তোমাদের কারো পক্ষ থেকে কোনরূপ পরিবর্তন সাধনের খবর যেন আমার কাছে না পৌঁছে। সে রকম কিছু হলে আল্লাহ তোমাদের অবস্থার পরিবর্তন করবেন এবং তোমাদের স্থলে অন্য জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করবেন। তোমাদের কর্মকাণ্ডের দিকে দৃষ্টিপাত করো; যেসব বিষয়ের তত্ত্বাবধান ও দেখাশোনার দায়িত্ব আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন, আমি তা সম্পাদন করবো।//

ঢাবি অধ্যাপক যুবাইর মু. এহসানুল হক বলেন, এই পত্রে রাষ্ট্রপরিচালনার একটি মূলনীতি উল্লেখ করা হয়েছে, আর তা হল শাসক বা খালীফার পরিবর্তনে হুকুম পরিবর্তিত হয় না। কারণ খালীফা ও শাসকবর্গের সর্বপ্রধান কর্তব্য হল বাস্তব জীবনে ইসলামের বিধানের প্রয়োগ। পত্রটিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে সেটা হলো পূর্ববর্তী খলীফাগণের পরামর্শভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। পরামর্শ গ্রহণের সেই মূলনীতিতে কোনরূপ পরিবর্তন আসবে না। আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার চিরস্থায়ী শর্তের প্রতিও ইঙ্গিত করা হয়েছে এই পত্রে। আল্লাহর সাহায্য ও সুরক্ষা পাওয়ার শর্ত হল ইসলামী শরী'আহএর পরিপালন। তাতে যদি কোন পরিবর্তন আসে তবে আল্লাহর সাহায্য আসবে না, তিনি অন্য জাতিকে মুসলিমদের স্থলে প্রতিষ্ঠিত করবেন। 

উসমান রা. রাজস্ব কর্মকর্তাদের প্রতি পত্র লিখে যে বার্তা দেন তা হলো,
//নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য সহকারে সৃষ্টিকূল সৃষ্টি করেছেন; সুতরাং তিনি সত্য ব্যতীত অন্য কিছুই কবুল করবেন না। সত্যকে আঁকড়ে ধরো আর সত্যের ভিত্তিতে হক প্রদান করো। আর আমানত সংরক্ষণে যত্নবান হও এবং আমানতের প্রথম হরণকারী হয়ো না।  বিশ্বস্ততা! বিশ্বস্ততার ভিত্তিতে কাজ কর। ইয়াতিম ও চুক্তিবদ্ধের ওপর জুলুম করো না। কারণ তাদের ওপর যারা জুলুম করবে আল্লাহই তাদের প্রতিপক্ষ হবেন।// 

রাজস্ব কর্তকর্তাদের প্রতি প্রেরিত এই পত্রে উসমান রা. আমানতদারীর ব্যাপারে সবিশেষ তাকিদ দিয়েছেন। আমানতদারী ও বিশ্বস্ততার ভিত্তিতে রাজস্ব আহরণ ও বিতরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর দু'ধরনের নাগরিকের ব্যাপারে সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছেন: ইয়াতিম ও চুক্তিবদ্ধ; তাদের ওপর জুলুম করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। কারণ তাদের ওপর অত্যাচার করা হলে আল্লাহর আজাব নেমে আসবে। উসমান (রা.)-এর এই পত্রে ইসলামের সৌন্দর্যের এক বিরাট দিক রয়েছে। তিনি চুক্তিবদ্ধ কাফিরদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছেন। 

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি : 
উসমান রা. ঘোষণা দেন যে, তার রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি হল আল কুরআন ও আস-সুন্নাহ' এবং দুই মহান পূর্বসূরির [আবূ বাকর (রা.) ও উমার (রা.)] অনুসরণ। আমি অনুসরণকারী, নবপন্থা উদ্ভাবক নই। আরো জেনে রাখবেন, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ-এর পর আমার ওপর আপনাদের তিনটি অধিকার রয়েছে। ঐসব বিষয়ে আমার পূর্বসূরিদের অনুসরণ যে বিষয়গুলোতে আপনারা একমত হয়ে কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছেন। 

খালিফার জবাবদিহির ক্ষেত্রে নাগরিকের অধিকার :
এই বিষয়টি পরিষ্কার জেনে রাখা ভাল যে, খালিফার ক্ষমতা নিরঙ্কুশ ছিল না; বরং তা ছিল শর্তযুক্ত: প্রথমত: তিনি কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিধানের বিপরীতে কোন নির্দেশ দিতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত: যেসব বিষয়ে মুসলিম উম্মাহ ঐকমত্যে পৌঁছেছেন সেগুলোর বিরোধিতাও তিনি করতে পারবেন না। এর অর্থ খালিফা হলেন জনগণের প্রতিনিধি, তিনি জনগণের পক্ষে ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। জনগণ চাইলে ক্ষমতা প্রয়োগের ইখতিয়ার সম্প্রসারণ ও সঙ্কোচন করতে পারেন। আর এটি প্রয়োগ করা হবে মাজলিসে শূরার মাধ্যমে। 

জনগণের নিকট জবাবদিহির বিষয়টি উসমান (রা.) স্বীকার করে নিয়েছেন এই বলে যে, আল্লাহর কিতাবে যদি তোমরা এটি পাও যে আমার পা শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা উচিত তাহলে তোমরা তাই করবে। একবার খালীফা উসমান রা.-এর কর্মকাণ্ডে ত্রুটি লক্ষ্য করে একদল লোক বিক্ষোভ করলে উসমান রা. জবাবদিহি করে তাদের দাবি পূরণ করেন এবং আপন কর্ম সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেন।

পরামর্শভিত্তিক রাষ্ট্র : 
ইসলামী রাষ্ট্রপরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হল শূরা বা পরামর্শ ব্যবস্থা। মুসলিম শাসকগণ শাসিতদের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন। স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা শাসকবর্গকে পরামর্শের নির্দেশ দিয়েছেন। //আল্লাহর দয়ায় তুমি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছিলে; যদি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতে তবে তারা তোমার আশপাশ হতে সরে পড়তো। সুতরাং তুমি তাদেরকে ক্ষমা করো, এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ কর। অতঃপর তুমি কোন সংকল্প করলে আল্লাহর উপর নির্ভর করবে; যারা নির্ভর করে আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন। (আলকুরআন ৩:১৫৯) 

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, যারা তাদের প্রতিপালকের আহ্বানে সাড়া দেয়, সালাত কায়েম করে, নিজেদের মধ্যে পরামর্শের মাধ্যম নিজেদের কর্ম সম্পাদন করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে (আলকুরআন ৪২: ৩৮)

এই আয়াতগুলোর নির্দেশনায় অনুপ্রাণিত হয়ে উসমান রা. শীর্ষস্থানীয় আনসার ও মুহাজিরদের নিয়ে মাজলিসে শূরা (পরামর্শ সভা) গঠন করেছিলেন। প্রাদেশিক গভর্ণর ও সেনাপতিদেরকেও তিনি একই আদেশ দিয়েছিলেন, তারা যাতে শুরার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। 

ন্যায়বিচার ও সমতা :
ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ইসলামী রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রাষ্ট্রের জনসাধারণের উদ্দেশে 'উসমান (রা.) নিম্নলিখিত ফরমান জারি করেন, তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে, অসৎ কাজ হতে বারণ করবে; কোন মু'মিন যেন নিজেকে লাঞ্ছিত না করে; নিশ্চয় আমি ক্ষমতাবানের বিরুদ্ধে মাযলুম, অসহায় ও দুর্বলের পক্ষে থাকব, ইনশাআল্লাহ।

তিনি সর্বোচ্চ মানের ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আল-ওয়ালীদ ইবনু উকবা কুফার শাসক ছিলেন; বৈপিত্রেয় ভাই হওয়া সত্ত্বেও তিনি তার ওপর মদ্যপানের শাস্তি প্রয়োগ করতে পিছপা হননি। এই অপরাধে তাকে কুফার শাসনকর্তার পদ থেকে অপসারণ করেন। একবার ক্রোধান্বিত হয়ে তাঁর এক খাদেমের কান এত জোরে টেনে ধরেছিলেন সে ব্যথা পেয়েছিল। কৃতকর্মের চিন্তায় ‘উসমান রা. সেই রাতে ঘুমাতে পারেননি, পরের দিন তিনি খাদেমকে নির্দেশ দেন, সে যেন খালীফার কান টেনে ধরে। খাদেম প্রথমে রাজি না হলেও উসমান রা.-এর পীড়াপীড়িতে শেষ পর্যন্ত তার কান টানতে বাধ্য হয়েছিল।

নাগরিক স্বাধীনতা :
উসমান রা.-এর শাসনকালে জনগণ পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করত। ইসলামী শারী'আহ-এর আওতায় জনগণের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হত। আধুনিক যুগে বিভিন্ন দেশের সংবিধানের যেসব বিষয়ে জনগণকে স্বাধীনতা দেওয়া আছে খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগেও জনসাধারণ তা ভোগ করত। বস্তুত ইসলাম মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে আল্লাহর দাসত্বের ছায়ায় প্রকৃত স্বাধীনতা প্রদান করেছে যা অন্য কোন জীবনবিধান দিতে পারেনি। ধর্মীয় স্বাধীনতা, চলাচলের স্বাধীনতা, সম্পদ অর্জন ও ভোগের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ অন্যান্য স্বাধীনতা বিদ্যমান ছিল।

আত্মসমালোচনা ও জওয়াবদিহি :
উসমান রা. নিজে আত্মসমালোচনা বা ইহতিসাব করতেন এবং সরকারী কাজে নিয়োজিত অন্যদেরকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দিতেন। পাশাপাশি তিনি জওয়াবদিহির অনুভূতি ধারণ করে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। জনসাধারণের কাছে তিনি নিজে জওয়াবদিহি করতেন এবং জনগণকেও এর আওতায় আনতেন। উমার রা.-এর ন্যায় উসমান রা.-ও হাজ্জ সমাপনান্তে গভর্ণরদের সাথে সম্মেলনে মিলিত হতেন। প্রদেশসমূহে পত্র মারফত জনগণকে জানিয়ে দেওয়া হয়, খালীফা বা কোন শাসকের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে হাজ্জ সম্মেলনে যেন তা উত্থাপন করা হয়। 

সৎকাজের আদেশ অসৎ কাজের নিষেধ : 
উসমান রা. সবসময় মুসলিমদের উদ্দেশ্যে ভাষণে সৎ কাজের আদেশ ও এর প্রতি উতসাহিত করতেন। অন্যায় ও অসৎ কাজের জন্য কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। 

মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা :
উসমান রা. বলেছেন, তোমরা মদপান হতে বিরত থেকো; কারণ এটি সকল দুষ্কর্মের মূল। পূর্ববর্তী কোন এক জাতির একজন আবেদ (বেশি ইবাদাতকারী) ব্যক্তি মদ্যপানের কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এক ভ্রষ্টা নারী ঐ ব্যক্তির প্রণয়াসক্ত হয়ে তার কাছে নিজের দাসীকে প্রেরণ করল। দাসীটি গিয়ে আবেদ লোকটিকে বলল, আমার মুনিব আপনাকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডেকেছেন। লোকটি দাসীটির সাথে গেল। দাসীটি তাকে নিয়ে একটি ঘরে প্রবেশ করল। যখনই তারা একটি দরজা অতিক্রম করছিল তখনই মেয়েটি সেটি বন্ধ করে দিচ্ছিল। এভাবে তারা মহিলাটির কাছে পৌঁছল। তার কাছে একটি সুদর্শন বালক ও এক কলসি মদ ছিল। 

সে বলল, আমি তোমাকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকি নি। তোমাকে তিনটি কাজের কোন একটি করতে হবে- হয় আমার সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করবে, অথবা এক পেয়ালা মদ পান করবে কিংবা এই বালককে হত্যা করবে। আবেদ লোকটি বলল, আমাকে বরং এক গ্লাস মদ খেতে দাও। মহিলাটি তাকে এক গ্লাস মদ দিল। তারপর লোকটি আরো মদ চাইতে লাগল; মহিলাটি গ্লাসের পর গ্লাস মদ খাইয়ে লোকটিকে নেশায় বুঁদ করে ফেলল। শেষ পর্যন্ত লোকটি মহিলার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করল এবং বালকটিকে হত্যা করল। অতএব তোমরা মদ্যপান থেকে বিরত থাকবে। আল্লাহর কসম ঈমান ও মাদকাসক্তি কখনো একত্রে অবস্থান করতে
পারে না; একটি অপরটিকে তাড়িয়ে দেয়।  

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন