২৯ এপ্রি, ২০২৪

আদর্শ রাষ্ট্র, পর্ব -০১ : আদর্শ রাষ্ট্র ও আদর্শ মুসলিম!


আদর্শ রাষ্ট্রের সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা যার যার আদর্শ অনুযায়ী হবে। আমরা যেহেতু মুসলিম আমাদের আদর্শ রাষ্ট্র হলো সেই রাষ্ট্র যে রাষ্ট্র ইসলামী আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। আরেকটু ব্যাখ্যা করে যদি বলতে হয় তবে বলা যায়, আদর্শ রাষ্ট্র হলো সেই রাষ্ট্র যা ইসলামী আকিদা অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

ইসলামী আকিদা হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ'। কালেমা তাইয়্যেবার বেসিক কথা হলো সকল বিধান দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। তিনিই সকল সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। আর যেহেতু আল্লাহর মনোনীত রাসূল হলেন মুহাম্মদ সা.। সুতরাং তাঁর কথা ও কর্মকে অনুসরণ করতে হবে।

কালিমা তাইয়্যেবাকে মেনে নেওয়া মানে নিচের বিষয়গুলোও মেনে নেওয়া।

১- আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সাহায্যকারী, রক্ষাকর্তা ও পালনকর্তা মনে না করা।
২- আল্লাহ ছাড়া কাউকে কল্যাণের কারণ ও আল্লাহ ছাড়া কাউকে বিপদদাতা মনে না করা।
৩- আল্লাহ ছাড়া কারো নিকট দোয়া, প্রার্থনা ও আশ্রয় খোঁজা যাবে না।
৪- আল্লাহ ছাড়া কারো সামনে মাথা নত করা যাবে না।
৫- আল্লাহ ছাড়া কারো কাউকে সার্বভৌমত্বের মালিক মনে করা যাবে না।
৬- মুহাম্মদ সা. থেকে প্রামাণ্যসূত্রে প্রাপ্ত সকল বিধান দ্বিধাহীনভাবে গ্রহণ করতে হবে।
৭- আল্লাহ ও মুহাম্মদ সা. থেকে প্রাপ্ত আদেশ ও নিষেধকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নিতে হবে।
৮- আল্লাহ ও মুহাম্মদ সা. ছাড়া অন্য কারো নিরঙ্কুশ আনুগত্য করা যাবে না। বরং অন্য যে কাউকেই শরিয়ত দিয়ে বিচার করতে হবে।
৯- আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসার চাইতে অন্য কাউকে বেশি ভালোবাসা যাবে না।
১০- মুহাম্মদ সা. ছাড়া অন্য কারো আনুগত্যের ব্যাপারে এমন মর্যাদা পোষণ না করা যে, তার আনুগত্য করার সাথে ঈমান ও কুফর ফয়সালা জড়িত।

অতএব যে রাষ্ট্রের আকিদা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' সেই রাষ্ট্রই আদর্শ রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ হলো মুহাম্মদ সা. ও খুলাফায়ে রাশিদা শাসিত চল্লিশ বছর। এরপর পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও তা পুরো মুসলিম উম্মাহকে ধারণ করতে পারে নি। সেই থেকে বিভিন্নভাবে আদর্শ মুসলিমরা বিভিন্ন পথে চেষ্টা করে যাচ্ছে আদর্শ রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য।

কারো কর্মপন্থা রাসূল সা. এর মতো হচ্ছে কিছু রাষ্ট্র গঠন করতে পারে নি। কেউ কেউ রাষ্ট্র গঠন করতে পেরেছে অথচ তাদের কর্মপন্থা রাসূল সা.-এর মতো নয়। কারো সফল হওয়ার সাথে সাথে কর্মপন্থাও সঠিক। কেউ সঠিক কর্মপন্থা ও সফলতা কোনোটারই দেখা পায় নি।

আমি সচেতনভাবে 'আদর্শ মুসলিম' শব্দটা ব্যবহার করেছি। এর একটি দুঃখজনক কারণ রয়েছে। বেশীরভাগ মুসলিমই আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে উদ্যোগী নয়। উদ্যোগী তো দূরের কথা অনেক মুসলিম ইসলামী আকিদা সম্পন্ন রাষ্ট্র গঠন করতে ইচ্ছুকই নয়। আবার কেউ কেউ একধাপ এগিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র তথা আদর্শ রাষ্ট্রের বিরোধীতা করে যাচ্ছে। অথচ সবপক্ষই নিজেদের মুসলিম দাবি করে যাচ্ছে। যারা আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে তাদের জন্যই আমি 'আদর্শ মুসলিম' শব্দটা ব্যবহার করতে চাই।

আমি মনে করি যে বা যারা আদর্শ রাষ্ট্রের জন্য কাজ করবে না তারা আদর্শ মুসলিম হওয়াটা দূরহ। কিন্তু সমাজে এমন মুসলিম খুবই এভেইলেবল যারা সমাজ ও রাষ্ট্রের অনৈসলামিক নিয়ম কানুন দেখে, কিন্তু তাদের শরীরে জ্বালাপোড়া করে না। সমাজের অনাচার দেখে তাদের কষ্ট হয় না। শিরক, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, ব্যাভিচার দেখেও তাদের কষ্ট লাগে না। এই সমাজ পরিবর্তনে তারা কোনো ভূমিকাই রাখতে চায় না। তারা মনে করে নিজে নামাজ পড়লে ও রোজা রাখলেই তাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়।

আবার কেউ কেউ বলতে চায়, রাজনীতি নোংরা জায়গা। এখানে ইসলামকে এনে ইসলামকে কলুষিত করার কোনো মানে হয় না। ইসলাম ও রাজনীতি আলাদা। আমাদের খ্রিস্টান, মুশরিক ও ইয়াহুদী শত্রুরা আমাদের এভাবেই দেখতে চায়। যাতে করে আমরা রাজনীতি থেকে দূরে চলে যাই আর তারা আমাদের ওপর রাজত্ব করতে পারে। মুসলিমদের একটি বড় অংশ বুঝে কিংবা না বুঝে ইসলাম ও রাজনীতিকে আলাদা করে দেখতে চায়। তারা কীভাবে আদর্শ মুসলিম হতে পারে!

মহান রাব্বুল আলামীনের অশেষ রহমতে 'আদর্শ রাষ্ট্র' নিয়ে লেখার পরিকল্পনা করেছি। এই পরিকল্পনা অবশ্য বিগত বছরের। কিন্তু নানান ব্যস্ততায় লেখালেখি ও পড়াশোনায় আত্মনিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। একটি ভূখণ্ডে যারা আদর্শিক রাজনীতি করতে চায় তাদের কয়েকটি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক বলে মনে করি।

১. ঐ ভূখণ্ডের রাজনৈতিক ইতিহাস
২. যে আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করবে সে আদর্শ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান
৩. আদর্শ বাস্তবায়িত হয়েছে এমন কোনো প্রায়োগিক রাষ্ট্রের উদাহরণ পর্যালোচনা
৪. বর্তমান পরিস্থিতিকে আমলে নিয়ে আদর্শ রাষ্ট্রের রূপরেখা

১ম অর্জিতব্য জ্ঞানের ব্যাপারে আমি একটি বই লিখেছি 'বঙ্গকথা' নামে, যা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। ২য় অর্জিতব্য জ্ঞানের ব্যাপারে 'দ্বীন প্রতিষ্ঠায় রাসূল সা.' নামে একটি ধারাবাহিক লেখা লিখেছি। ৩য় অর্জিতব্য জ্ঞানের ব্যাপারে 'রাশিদুন খিলাফত' নামে ধারাবাহিক লেখা তৈরি করেছি। সর্বশেষ অর্জিতব্য জ্ঞানের ব্যাপারে 'আদর্শ রাষ্ট্র' নামে ধারাবাহিক লেখা আজ শুরু করলাম। সাথে থাকুন। আপনাদের প্রতিক্রিয়া আমাকে সমৃদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্রের রূপরেখা #আদর্শ_রাষ্ট্র : পর্ব-০১

আগের লেখাগুলোর লিংক কমেন্ট বক্সে দেওয়া হয়েছে।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন