১৩ জুলাই, ২০২১

বিষয়ভিত্তিক আয়াত হাদিস

 


উলুমুল কুরআন

আল কুরআনের পরিচয়


আভিধানিক অর্থ :

আল-কুরআন ((اَلْقُرْاٰنُ শব্দটি আরবি, যা قَرْأٌ কিংবা  قَرْنٌ  শব্দ থেকে উৎপন্ন।  قَرْأٌ  (পড়া) শব্দ থেকে আসলে قُرْاٰنُ শব্দের অর্থ হয় অধিক পঠিত। আর قَرْنٌ (মিলিত থাকা) শব্দ থেকে আসলে قُرْاٰنُ শব্দের অর্থ হয়; পরিপূর্ণভাবে মিলিত ও সংযুক্ত। যেহেতু কুরআন মাজিদ সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ এবং এর আয়াত অর্থ ও বিষয়বস্তুর মাঝে পরিপূর্ণ মিল রয়েছে, তাই এর নাম اَلْقُرْاٰنُ। 


পারিভাষিক অর্থ : 

মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির হেদায়াতের জন্য জিবরাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে মুহাম্মাদ  #   -এর নবুওয়াতের দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে যে কিতাব নাজিল হয়েছে তার সমষ্টি আল কুরআন।

اَلْمَنَارِ  গ্রন্থকার বলেন-

هُوَ الْكِتَابُ الْمَنَزَّلُ عَلٰى الرَّسُوْلِ ﷺ الْمَكْتُوْبُ فِيْ الْمَصَاحِفِ الْمَنْقُوْلُ عَنْهُ نَقْلًا مُتَوَاتِرًا بِلَا شُبْهَةٍ-

কুরআন হচ্ছে সে গ্রন্থ যা রাসূল #   -এর ওপর অবতীর্ণ যাকে মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং সন্দেহমুক্ত প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকভাবে রাসূল  #     থেকে বর্ণিত হয়েছে।

মহান আল্লাহর বাণী :  هٰذَا بَيَانٌ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَّمَوْعِظَةٌ لِّلْمُتَّقِيْنَ“এটা মানুষের জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং আল্লাহভীরুদের জন্য পথপ্রদর্শক ও উপদেশ।” (আলে ইমরান : ১৩৮)

আল কুরআনের কয়েকটি নাম

১।  اَلْهُدٰى (আল হুদা) পদপ্রদর্শক : هُدًى لِّلْمُتَّقِيْنَ  

২।  اَلْكِتَابُ  (আল কিতাব) গ্রন্থ  : هُوَ الَّذِيْ أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ  

৩।  اَلْفُرْقَانُ  (আল ফুরকান) পার্থক্যকারী :

 اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلىٰ عَبْدِه  

৪।   اَلْنُوْرُ(আন নূর) আলো : قَدْ جَائَكُمْ مِّنَ اللهِ نُوْرٌ وَّكِتَابٌ مُّبِيْنٌ  

৫।)  اَلْذِّكْرُ আয্-যিকর) উপদেশ   : وَإِنَّهُ لَذِكْرٌ لَّكَ وَلِقَوْمِكَ  

৬।  كِتَا بٌ مُّبِيْنٌ(কিতাবুম মুবিন) সুস্পষ্ট কিতাব : حٰم وَالْكِتَابِ الْمُبِيْنِ  

৭। اَلْكَلَامُ  (আল কালাম) কথাবার্তা : حَتّىٰ يَسْمَعَ كَلَامَ اللهِ  

৮।  اَلْحِكْمَةُ (আল হিকমাহ) প্রজ্ঞা : وَيُعَلِّهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ  

৯।  اَلْبَيَانُ (আল বায়ান) বর্ণনা: هٰذَا بَيَانٌ لِّلنَّاسِ  

১০।  بُشْرٰى (বুশরা) সুসংবাদ : هُدًى وَّبُشْرٰى لِلْمُؤْمِنِيْنَ  

১১।  حَبْلِ اللهِ(হাবলিল্লাহ) আল্লাহর রজ্জু : وَاعْتَصِمُوْا بِحَبْلِ اللهِ جَمِيْعًا  

১২।  الْحَقَّ (আল হাক্কু) সত্য : فَيَعْلَمُوْنَ اَنَّهُ الْحَقَّ مِنْ رَّبِّهِمْ  

১৩।  الْمَوْعِظَةٌ (আল মাওইযাহ) উপদেশ :

 قَدْجَائَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ 

১৪।اَلْوَحْيُ   (আল ওহি) প্রত্যাদেশ : اِنْ هُوَ إِلَّا وَحْىٌ يُّوْحٰى  

১৫।   اَلشِّفَاءُ (আশ শিফা) উপশমকারী : وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْاٰنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ  



আয়াতের প্রকারভেদ  

হুকুমের দিক থেকে ৩ প্রকার: ১. হালাল ২. হারাম ৩. আমসাল।

অর্থের দিক থেকে ২ প্রকার: ১. মুহ্কামাত ২. মুতাশাবিহাত।

هُوَ الَّذِیْۤ أَنْزَلَ عَلَیْكَ الْكِتٰبَ مِنْهُ اٰیٰتٌ مُّحْكَمٰتٌ هُنَّ اُمُّ الْكِتٰبِ وَ اُخَرُ مُتَشٰبِهٰتٌ (اٰلِ عِمْرَانَ : ৭)

হাদীসের আলোকে আয়াতের প্রকার

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ (رض) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ نَزَلَ الْقُرْآنُ عَلى خَمْسَةِ اَوْجُهٍ حَلاَلٍ وَحَرَامٍ وَمُحْكَمِ وَمُتَشَابِهٍ وَ أَمْثَالٍ فَأَحِلُّوْا الْحَلَالَ وَحَرِّمُوْا الْحَرَامَ وَاعْلَمُوْا بِالْمُحْكَمِ وَآمِنُوْا بِلْمُتَشَابِهِ وَاعْتَبِرُوْ بِالْاَمْثَالِ- (بُخَارِيْ، مُسْلِمْ)


সূরাসমূহকে ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে

সূরা ২ প্রকার। ১. মাক্কি সূরা ও ২. মাদানি সূরা

মাক্কি সূরা : যে সমস্ত সূরা রাসূল  #    এর মাক্কি জীবনে অর্থাৎ হিজরতের পূর্বে নাজিল হয়েছে, সেগুলোকে মাক্কী সূরা বলা হয়। মাক্কী সূরা ৮৬টি।

মাদানি সূরা :  যে সমস্ত সূরা রাসূল  #    এর মাদানি জীবনে অর্থাৎ হিজরতের পরে নাজিল হয়েছে, সেগুলোকে মাদানী সূরা বলা হয়। মাদানী সূরা ২৮টি।


মাক্কি সূরার বৈশিষ্ট্য

১.  সাধারণত সূরা ও আয়াতগুলো ছোট ছোট ও ছন্দময়। 

২. তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাত সংক্রান্ত আলোচনা।

৩. অধিকাংশ ক্ষেত্রে  يَا اَيُّهَا اَلنَّاسُ   (হে মানবজাতি) বলে সম্বোধন।

৪. মাক্কি সূরা ব্যক্তিগঠনে হিদায়াতপূর্ণ

৫. আল-কুরআন সত্যতার প্রমাণ ও ঈমান আকিদার আলোচনা।

৬. মানুষের ঘুমন্ত বিবেক ও নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করে চিন্তাশক্তিকে সত্য গ্রহণে উদ্ধুদ্ধ করা।

৭.ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার শুরুতে  س ও سوف শব্দের ব্যবহার বেশি।



মাদানি সূরার বৈশিষ্ট্য

১.  সাধারণত সূরা ও আয়াতগুলো বড় ও গদ্যময়।

২. অধিকাংশ ক্ষেত্রে  يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا  (হে ঈমানদারগণ) বলে সম্বোধন।

৩. সামাজিক বিধি-বিধান, ফৌজদারি আইন, উত্তরাধিকারী আইন, বিয়ে তালাক ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা।

৪. যুদ্ধ, সন্ধি, গনিমত, জিজিয়া ইত্যাদির বিবরণ।

৫. ইবাদত, আহকামে শরিয়ত ও হালাল-হারামের বর্ণনা।

৬. মুনাফিক ও কাফিরদের সাথে আচরণ সংক্রান্ত আলোচনা।

৭. জাকাত ও ওশরের নিয়ম-কানুন আলোচনা।


কুরআন অধ্যয়নে সমস্যা

১. অন্যান্য সাধারণ গ্রন্থের ন্যায় মনে করা।

২. একই বিষয়ের বারবার উল্লেখ।

৩. কোন বিষয়সূচি না থাকা।

৪. নাজিলের প্রেক্ষাপট না জানা।

৫. নাসিখ-মানসুখ না জানা।

৬. আরবি ভাষা না জানা।

৭. রাসূল  #    -এর বিপ্লবী জীবন সম্পর্কে ধারণা না থাকা।


সমাধানের উপায় 

১. অধ্যয়নের সময় নিরপেক্ষ মনমগজ নিয়ে বসা।

২. আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট ও রাসূল  #   -এর আন্দোলনের বিভিন্ন অবস্থা ও পর্যায় সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান লাভ করা।

৩. নাসিখ- মানসুখ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। 

৪. আরবি ভাষা শেখার চেষ্টা করা।

৫. কুরআন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হওয়া।

৬. ঘরে বসে কুরআন বুঝার চেয়ে কুরআন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরীক হওয়া।




ওহি নাজিলের পদ্ধতি ৭টি

১. সত্য স্বপ্নযোগে   اَوَّلُ مَا بُدِئَ بِه رَسُوْلُ اللهِ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةِ فِي النَّوْمِ

২. ঘন্টাধ্বনির ন্যায়  اَحْيَانًا يَأْتِيْنِىْ مِثْلَ صَلْصَلَةِ الْجَرَسِ

৩. জিবরাইল (আ) এর নিজস্ব আকৃতিতে।

৪. জিবরাইল (আ) কর্তৃক মানুষের আকৃতিতে।

 وَاَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِىَ الْمَلَكُ رَجُلًا

৫. ইসরাফিল (আ) এর মাধ্যমে।

৬. পর্দার অন্তরাল থেকে।

৭. অন্তকরণে ঢেলে দেয়া/ইলহামের মাধ্যমে।

 وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُّكَلِّمَهُ اللهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ اَوْ يُرْسِلَ رَسُوْلًا فَيُوْحِىَ بِاِذْنِه مَا يَشَاءُ (اَلشُّوْر : ٥١)


আল-কুরআন সংকলনের ইতিহাস :

তিন যুগে বিভিন্নভাবে আল-কুরআন সঙ্কলিত হয়েছে।


রাসূল  #    এর যুগ : এ যুগে দুভাবে হয়েছে :

১. মুখস্থ করার মাধ্যমে : হাফিজে কুরআনগণের মধ্যে প্রধানত ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, সালেম ইবনে মাকাল, মুয়ায ইবনে জাবাল, উবাই ইবনে কা’ব, যায়িদ বিন সাবিত, আবু যায়িদ, আবু দারদা "     প্রমুখ।

২. লেখার মাধ্যমে : কাতেবে ওহিগণের মধ্যে প্রধানত ছিলেন আলী ইবনে আবু তালিব, মুয়ায ইবনে জাবাল, উবাই ইবনে কা’ব, যায়িদ বিন সাবিত ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ "   প্রমুখ। তারা পাথর, খেজুরের ডাল, চামড়া ইত্যাদির ওপর আল-কুরআনের আয়াতসমূহ লিখে সংরক্ষণ করতেন।


হজরত আবু বকর "    এর যুগ

ভণ্ডনবি মুসায়লামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে সংঘটিত ইয়ামামার যুদ্ধে অসংখ্য হাফেজে কুরআন শাহাদাত বরণ করেন। এতে আল-কুরআন বিলুপ্তির আশঙ্কায় হজরত ওমর "   -এর পরামর্শক্রমে খলিফা আবু বকর "    হজরত যায়েদ বিন সাবিতের নেতৃত্বে আল-কুরআন সংকলন বোর্ড গঠন করেন। এ বোর্ডের সদস্যগণ কঠোর সাধনা করে আল-কুরআনের লিখিত বিভিন্ন অংশকে হাফেজে কুরআনের সাথে সমন্বয় করে একত্র করেন। যার নাম রাখা হয় মুসহাফে সিদ্দিকী। হজরত আবু বকর "    এর মৃত্যুর পর এ কপিটি হজরত ওমরের কাছে এবং তাঁর ইন্তিকালের পর হজরত হাফসা "    একে সংরক্ষণে রাখেন।


হজরত উসমান (রা) এর যুগ

হজরত ওমর "    ও উসমান "    এর খেলাফতকালে ইসলামী রাষ্ট্রের বিস্তৃতি ঘটায় আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকেরা আল-কুরআন মাজিদকে তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষায় পাঠ করতে থাকেন। এতে আল-কুরআন বিকৃতির আশঙ্কায় হজরত উসমান (রা) আল-কুরআনের বিকৃত অংশগুলো সংগ্রহ করে পুড়িয়ে দেন এবং মুসহাফে সিদ্দিকী এর অনুরূপ সাতটি কপি করে বিভিন্ন প্রদেশে পাঠিয়ে দেন। আজ পর্যন্ত আল-কুরআন মাজিদ সে অবয়বেই বিদ্যমান। এর মধ্যে কোনরূপ পরিবর্তন, পরিবর্ধন হয়নি। কেননা আল্লাহ বলেছেন,

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُوْنَ

“নিশ্চয়ই আমি এ উপদেশবাণী নাজিল করেছি, আমিই এর সংরক্ষণ করব। (সূরা হিজর : ০৯)


কয়েকটি প্রসিদ্ধ তাফসির গ্রন্থের নাম 

১. তাফসির ইবনে আব্বাস- আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)

২. তাফসিরুল কুরআনিল আযীম (তাফসীরে ইবনে কাসীর) ইমাদুদ্দীন ইসমাঈল ইবনে আমর ইবনে কাসীর।

৩. ফাতহুল কাদীর- ইমাম শাওকানী।

৪. তাফসীরে কাশশাফ-জারুল্লাহ যামাখশারী।

৫. মাফাতীহুল গাইব-ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী।

৬. তাফসির জালালাইন- জালালুদ্দীন মহল্লি ও জালালুদ্দীন সুয়ুতি।

৭. আনওয়ারুত তানজিল ওয়া আসরারুত তাবী- নাসিরুদ্দীন বায়যাব।

৮. তাফহীমুল কুরআন- সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী।

৯. ফি জিলালিল কুরআন- সাইয়েদ কুতুব শহীদ।

১০. আল জামে লি আহকামিল কুরআন- ইমাম কুরতুবী।

১১. মায়ারেফুল কুরআন- মুফতি মোহাম্মদ শফী।

১২. জামেউল বায়ান ফি তাফসীরিল কুরআন- ইবনে জারির তাবারি।

১৩. ঞযব গবংংধমব- গঁযধসসধফ অংধফ



প্রথম অতবীর্ণ আয়াত ও সূরা :

সূরা আলাকের ১ম পাঁচ আয়াত-

 اِقْرَأ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ، خَلَقَ الْاِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ .....مَا لَمْ يَعْلَمْ

* পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসাবে ১ম নাজিল হয় সূরা ফাতেহা-

 اَلْحَمْدُ لِـلّـهِ رَبِّ الْعلَمِيْنَ............. غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ


সর্বশেষ অতবীর্ণ আয়াত ও সূরা : এ ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়-

১। বাকারা-২৭৮ (সুদ সংক্রান্ত আয়াত)- يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا اتَّقُوْ اللهَ وَذَرُوْا مَا بَقِىَ مِنَ الرِّبى-

২। বাকারা-২৮২ (ঋণ সংক্রান্ত আয়াত)- يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا إِذَا تَدَايَنْتُمْ بِدَيْنٍ اِلى اَجَلٍ مُسَمَّى فَاكْتُبُوْه

৩। বাকারা-২৮১  وَاتَّقُوْا يَوْمًا تُرْجَعُوْنَ فِيْهِ اِلى اللهِ 

৪। নিসা-১৭৬ - يَسْتَفْتُوْنَكَ قُلِ اللهُ يُفْتِيْكُمْ فِيْ الْكَلَالَةِ

৫। সর্বশেষ নাজিলকৃত পূর্ণাঙ্গ সূরা : সূরা নাসর।

إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ................. إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا


দারসুল কুরআনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ

১. বিশুদ্ধ তিলাওয়াত।

২. সরল অনুবাদ।

৩. সূরার নামকরণ।

৪. নাজিলের সময়কাল।

৫. শানে নুজূল/অবতীর্ণের প্রেক্ষাপট।

৬. নির্বাচিত অংশের বিষয়বস্তু।

৭. ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও তাফসীর।

৮. বর্তমান যুগে আয়াতের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন।

৯. আয়াতের শিক্ষা।

১০. প্রশ্নোত্তর।


সিজদার আয়াতসমূহ :

নং পারা সূরার নাম আয়াত রুকু

আল আরাফ ২০৬ ২৪

১৩ আর রাদ ১৫

১৪ আন নাহল ৪৯-৫০

১৫ বাণী ইসরাইল ১০৭-১০৯ ১২

১৬ মারইয়াম ৫৮

১৭ আল হজ্ব ১৮

১৯ আল ফুরকান ৬০

১৯ আন নামল ২৫-২৬

২১ আস সিজদাহ ১৫

১০ ২৩ আস সোয়াদ ২৪-২৫

১১ ২৪ হা-মীম সিজদাহ ৩৭-৩৮

১২ ২৭ আন নাজম ৬২

১৩ ৩০ আল ইনশিক্বাক্ব ২১

১৪ ৩০ আল আলাক্ব ১৯


ইমাম আবু হানিফার মতে সিজদার আয়াত ১৪টি

ইমাম শাফেয়ীর মতে সিজদার আয়াত ১৫টি, অপরটি হচ্ছে

১৫. পারা-১৭, সূরা-হজ্জ্ব, আয়াত-৭৭, রুকু-১০


এক নজরে আল-কুরআন

১. সূরা -১১৪।

২. মাক্কি সূরা- ৮৬, মতান্তরে  ৮৯।

৩. মাদানি সূরা- ২৮, মতান্তরে ২৫।

৪. আয়াত সংখ্যা- ৬৬৬৬, মতান্তরে ৬২৩৬।

৫. রুকু ৫৫৪, মতান্তর ৫৬১।

৬. সিজদার আয়াত ১৪টি মতান্তরে ১৫টি । 

৭. পারা ৩০।

৮. আল কুরআনের আলোচ্য বিষয় মানুষ (সূরা আহযাব : ৭২)।

৯. ১ম নাজিলের সময়: হিজরি পূর্ব ১৩ সনে, ৬১০ ঈসায়ী।

১০. নাজিলের শেষ সময়: হিজরি ১১ সনে, ৬৩২ ঈসায়ী। 

১১. পূর্ণাঙ্গ আল-কুরআন সর্বপ্রথম গ্রন্থবদ্ধ হয় হিজরি ১২ সনে (৬৩৩ ঈসায়ী), হজরত আবু বকর "    এর পৃষ্ঠপোষকতায়।

১২. আল-কুরআনে হরকত সংযোজন করেন- হাজ্জাজ বিন ইউসুফ, হিজরি ৭৫ সালে (৬৯৪ ঈসায়ী)। 

১৩. মনজিল সংখ্যা -৭টি। 

১৪. আল-কুরআনে (আল্লাহ) শব্দটি ২৫৮৪/২৬৯৯ বার এসেছে । 

১৫. আল-কুরআনে (মুহাম্মাদ) শব্দটি ৪ বার এসেছে।

১৬. আল-কুরআনে (লা ইলাহা ...) শব্দটি ২ বার এসেছে। 

১৭. সূরা “আত-তওবার” শুরুতে বিসমিল্লাহ নেই । 

১৮. সূরা “আত-তওবার” অপর নাম ‘আল-বারাআত’

১৯. সূরা “আন-নামলে” দুইবার  বিসমিল্লাহ উল্লেখ আছে । 

২০. সূরা “মুহাম্মাদ”এর অপর নাম সূরা “কিতাল”। 

২১. সূরা “আল-মু’মিন”এর অপর নাম সূরা “গাফির ”

২২. সূরা “হামিম সিজদাহ ”এর অপর নাম সূরা “ফুসসিলাত”।

২৩. সাহাবাগণের "    মধ্যে হজরত যায়িদ বিন হারিসের "    নাম কুরআনে এসেছে। (সূরা আহযাব- ৩৭)

২৪. আল-কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন (আংশিক) মাওলানা আমীর উদ্দীন বসুনিয়া । 

২৫. আল-কুরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন- মৌলভী নঈম উদ্দীন ১৮৩৬ সালে।

২৬. আল-কুরআনে ২৫ জন নবি-রাসূলের নাম উল্লেখ আছে ।


বিষয়বস্তুর আলোকে আয়াত সংখ্যা :

১. আদেশ সংক্রান্ত আয়াত-১০০০

২. নিষেধ সংক্রান্ত আয়াত-১০০০

৩. সুসংবাদ সংক্রান্ত আয়াত-১০০০

৪. সতর্কবাণী সংক্রান্ত আয়াত-১০০০

৫. উদাহরণ সম্বলিত আয়াত-১০০০

৬. ঘটনাবলী সম্বলিত আয়াত-১০০০

৭. হালাল হারাম সংক্রান্ত আয়াত-৫০০

৮. তাসবীহ সংক্রান্ত আয়াত-১০০

৯. বিবিধ প্রসঙ্গের আয়াত-৬৬


সূরা ফাতিহার কয়েকটি নাম

১. উম্মুল-কুরআন  (اُمٌّ الْقُرْاٰنِ) (আল-কুরআনের জননী)

২. উম্মুল কিতাব (اُمٌّ الْكِتَا بِ )  (কিতাবের জননী)

৩. ফাতেহাতুল কিতা (فَاتِحَةُ الْكِتَا بِ )  (কিতাবের ভূমিকা)

৪. সূরাতুল হামদ (سُوْرَةُ الْحَمْدِ )  (প্রশংসার সূরা)

৫. সূরাতুশ শুকর (سُوْرَةُ الشُّكْرِ )  (কৃতজ্ঞতার সূরা)

৬. সূরাতুশ শিফা  ( سُوْرَةُ الْشِفَا ءِ ) (আরোগ্য লাভের সূরা)

৭. সূরাতুদ দোয়া  ( سُوْرَةُ الدُّعَاءِ ) (প্রার্থনার সূরা) 

৮. সূরাতুল মোনাজাত ( سُوْرَةُ الْمُنَاجَا ةِ )  (মুক্তির দোয়া) 

৯. সূরাতুস সালাত ( سُوْرَةُ الصَّلَا ةِ )    (নামাজের সূরা)

১০. সূরাতুস সুয়াল (سُوْرَةُ السُّوَالِ)  (চাওয়া/প্রশ্নের সূরা)

১১. সূরাতুল কানয (سُوْرَةُ الْكَنْزِ)  (সম্পদের সূরা)

১২. আসসাবউল মাছানী (اَلسَّبْعُ الْمَثَانِىْ)  (অভিনব সাতটি আয়াত)

১৩. সূরাতুস শাফিয়া (سُوْرَةُ الشَّافِيَةِ)  (সুস্থতার সূরা)

১৪. সূরাতুল কাফিয়া (سُوْرَةُ الْكَافِيَةِ )  (যথেষ্ট/যথার্থ সূরা)

১৫. সূরাতুল ওয়াফিয়া (سُوْرَةُ الْوَافِيَةِ)  (পরিপূর্ণ সূরা)


উলুমুল হাদিস

হাদিস কী?

হাদিস আরবি শব্দ। অর্থ নতুন কথা বা কাজ। পরিভাষায়, মহানবি  #   এর কথা, কাজ, অনুমোদন ও মৌনসম্মতিই হাদিস। হাদিসের অপর নাম খবর। হাদিস শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস এবং দলিল। মান জীবন পরিচালনার জন কুরআনের পরেই হাদিসের স্থান। হাদিসও এক ধরনের অহী। দুই প্রকার অহির মাঝে হাদিসের অবস্থান দ্বিতীয় অর্থাৎ অহিয়ে গায়রে মাতলু।

হাদিস হচ্ছে কুরআনুল কারিমের ব্যাখ্যা।

কুরআনের বাণী; وَمَا آتَاكُمْ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْا

“ তোমরা তা গ্রহণ কর যা রাসূল  #    নিয়ে এসেছেন এবং তা থেকে বিরত থাক, যা তিনি নিষেধ করেছেন। (আল হাশর : ০৭)

হাদিস মূলত অহি, কুর আনের বাণী :

وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوٰى اِنْ هُوَ إِلَّا وَحْىٌ يُّوْحىٰ

“তিনি (রাসূল) অহি ব্যতীত কোন কথাই বলেন না। (আন নজম : ৩-৪)


কুরআনের বাণী :

فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ فِیْ شَیْءٍ فَرُدُّوْهُ اِلَی اللّٰهِ وَ الرَّسُوْلِ اِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ ذٰلِكَ خَیْرٌ وَّ اَحْسَنُ تَاْوِیْلًا.

অতপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর, তাহলে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে প্রত্যার্পণ করাওÑ যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর। (সূরা নিসা : ৫৯)


রাসূল   #     এর বাণী :

وَعَنْ مَالِكٍ ابْنِ أَنَسٍ قَال قَال رَسُوْلُ اللهِ ﷺ تَرَكْتُ فِيْكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوْ مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابُ اللهِ وَسُنَّةُ نَبِيِّهِ.

আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতদিন তা ধরে রাখবে ততদিন বিপথগামী হবে না। একটি আল্লাহর কিতাব, অপরটি তাঁর নবির সুন্নাত (কর্মপদ্ধতি, কর্মকৌশল)। (মুয়াত্তা মালেক)


সনদের দিক থেকে হাদিস তিন প্রকার :

১. মারফু (مَرْفُوْعٌ) : যে হাদিসের বর্ণনা সূত্র রাসূলুল্লাহ  #    পর্যন্ত পৌঁছেছে।

২. মাওকুফ (مَوْقُوْفٌ) : যে হাদিসের বর্ণনা সূত্র সাহাবি পর্যন্ত পৌঁছেছে। 

৩. মাকতু (مَقْطُوْعٌ) : যে হাদিসের বর্ণনা সূত্র তাবেয়ি পর্যন্ত পোঁছেছে।


মতনের দিক থেকে হাদিস তিন প্রকার :

১. কাওলি (قَوْلِىْ) : রাসূল  #    এর কথা সংবলিত হাদিসকে কাওলি হাদিস বলে। আদেশ, নিষেধ অথবা অন্যান্য যত প্রকার মৌখিক বর্ণনা তাকে ‘কাওলি’ বলে।

২. ফেলি (فِعْلِىْ) : রাসূল  #    এর বাস্তব জীবনের কর্মমূলক হাদিসকে ফেলি হাদিস বলে। কাজ-কর্ম, আচার-ব্যবহার, উঠা-বসা, লেন-দেন সম্পর্কীয় কথাগুলোকে ফেলি হাদিস বলে।

৩. তাক্বরিরি (تَقْرِيْرِىْ) : সাহাবিগণের যে সব কথা ও কাজের প্রতি রাসূল  #    সমর্থন প্রদান করেছেন তাকে তাক্বরিরি হাদিস বলে। 




বর্ণনাকারী তথা রাবিদের সংখ্যা অনুযায়ী হাদিস চার প্রকার :

১. মুতাওয়াতির (مُتَوَاتِرٌ) : ঐ হাদিস, প্রত্যেক যুগে যার বর্ণনাকারীদের সংখ্যা এত বেশি যে, যাদের মিথ্যাচারে মতৈক্য হওয়া স্বাভাবিকভাবেই অসম্ভব।

২. মাশহুর (مَشْهُوْرٌ) : যে হাদিসের বর্ণনাকারী কোন যুগেই বর্ণনাকারীর সংখ্যা তিনের কম ছিল না।

৩. আযীয (عَزِيْزٌ) : যার বর্ণনাকারীর সংখ্যা কোন যুগেই দুই এর কম ছিল না।

৪. গরিব (غَرِيْبٌ) : যার বর্ণনাকারীর সংখ্যা কোন কোন যুগে একজনে পৌঁছেছে।

 (শেষোক্ত তিন প্রকার হাদিসকে একসাথে ‘খবরে আহাদ’ বলে )।


রাবি বাদ পড়ার দিক থেকে হাদিস দুই প্রকার :

১. মুত্তাসিল (اَلْمُتَّصِلُ)  : শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে হাদিসের রাবি সংখ্যা অক্ষুন্ন রয়েছে, কখনো কোনো রাবি উহ্য থাকে না, এরূপ হাদিসকে মুত্তাসিল হাদিস বলে । 

২. মুনকাতি (اَلْمُنْقَطِعُ) : যে হাদিসের বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন না থেকে মাঝখান থেকে উহ্য রয়েছে এরূপ হাদিসকে মুনকাতি হাদিস বলে।


মুনকাতি হাদিস তিন প্রকার :

১. মুয়াল্লাক (مُعَلَّقٌ) : যে হাদিসের সনদের প্রথম থেকে কোন বর্ণনাকারী উহ্য হয়ে যায় কিংবা গোটা সনদ উহ্য থাকে।।

২. মু‘দাল (مُعْضَلٌ) : যে হাদিসে ধারাবাহিকভাবে দুই বা তদোর্ধ্ব বর্ণনাকারী উহ্য থাকে।

৩. মুরসাল (مُرْسَلٌ) : যে হাদিসের বর্ণনা সূত্রে তাবেয়ি এবং এবং রাসূল  #     এর মাঝখানে সাহাবি রাবির নাম উহ্য হয়ে যায়। অর্থাৎ সনদের শেষাংশর রাবির নাম বাদ পড়ে যায়।


রাবির গুণ অনুযায়ী হাদিস তিন প্রকার

১. সহীহ (صَحِيْحٌ) : যে হাদিস মুত্তাসিল সনদ (অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা সুত্র), রাবি, বিশ্বস্ত, ন্যায়পরায়ণ, নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ স্মরণ শক্তিসম্পন্ন এবং হাদিসটি শায ও মুয়াল্লাল নয়।

২. হাসান (حَسَــنٌ) : স্বচ্ছ স্মরণ শক্তি ব্যতীত সহীহ হাদিসের সমস্ত বৈশিষ্ট্যই যার মধ্যে বিদ্যমান।

৩. দ্বঈফ (ضَــعِيْفٌ) : যে হাদিস উপরোক্ত সকল কিংবা কোন কোনটার  উল্লেখযোগ্য ত্রুটি থাকে তাকে দয়িফ হাদিস বলে।



বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা অনুযায়ী রাবি ৪ প্রকার

১. মুকসিরিন (مُكْثِرِيْنَ): যাদের বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ১০০০ এর উপরে।

২. মুতাওয়াস্সিতিন (مُتَوَسِّطِيْنَ): যাদের বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ৫০০ এর উপরে ১০০০ এর নিচে।

 ৩. মুকিল্লিন (مُقِلِّيْنَ): যাদের বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ৪০ এর উপরে ৫০০ এর নিচে। 

৪. আকাল্লীন (أَقَلِّيْنَ): যারা ৪০ এর কম হাদিস বর্ণনা করেছেন।


ইলমে হাদিসের কিছু পরিভাষা 

সনদ (سَنَدٌ) : হাদিস বর্ণনার ধারাবাহিকতাকে ‘সনদ ’বলে।

মতন (مَتَنٌ) : হাদিসের মূল বক্তব্যকে ‘মতন’ বলে।

সুনান (سُنَنٌ) : যে হাদিস গ্রন্থ ফিকহের তারতীব অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।

মুসনাদ (مُسْنَدٌ) : যে হাদিস গ্রন্থ সাহাবিদর তারতীব অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।

সহীহাইন (صَحِيْحَيْنِ) : বুখারি ও মুসলিম হাদিস গ্রন্থদ্বয়কে একত্রে বলা হয় সহীহাইন।

মুত্তাফাকুন আলাইহি (مُتَّفَكٌ عَلَيْهِ) : একই রাবী কর্তৃক বর্ণিত একই হাদিস বুখারি ও মুসলিম শরীফে যা বর্ণনা করা হয়েছে।

যে হাদিস বুখারি ও মুসলিম শরীফে রয়েছে তাকে বলা হয় মুত্তাফাকুন আলাইহি।

হাফেজ  ( حَافِظْ)  : সনদ ও মতনসহ ১ লক্ষ হাদিস মুখস্থকারী ।

হুজ্জাত (حُجَّةٌ) : সনদ ও মতনসহ তিন লক্ষ হাদিস মুখস্থকারী। 

হাকেম( حَاكِمٌ )  : সনদ ও মতনসহ সমস্ত হাদিস মুখস্থকারী।

রেওয়ায়াত (رِوَايَةٌ) : হাদিস বর্ণনার পদ্ধতিকে ‘রেওয়ায়াত’ বলে।

দেরায়াত (دِرَايَةٌ) : হাদিস বাছাইয়ের পদ্ধতিকে ‘দেরায়াত’ বলে। 

রিজাল ( رِجَالٌ) : হাদিস বর্ণনাকারীর সমষ্টিকে ‘রিজাল’ বলে । 

জামে (اَلْجَامِعْ) : যে গ্রন্থে হাদিসসমূহকে বিষয়বস্তু অনুসারে সাজানো হয়েছে এবং তার মধ্যে নিম্নোক্ত আটটি অধ্যায়ও রয়েছে যেমন-

ছিয়ার, তাফসির, আকাঈদ, ফিতান, আদাব, আশরাত, আহকাম, মানাকিব।

সুনানে আরবায়া (اَلسُّنَنُ الْاَرْبَعَةُ) : আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ এ চারখানা গ্রন্থকে এক সাথে সুনানে আরবায়া বলা হয়।

সিহাহ সিত্তাহ (اَلصِّحَاحُ السِّتَّةُ) : ৬ খানা বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ।

হাদিসে কুদসি (اَلْحَدِيْثُ الْقُدْسِىُّ) : যে হাদিসের ভাব আল্লাহর আর ভাষা রাসূল  #    এর তাই হাদিসে কুদসি।

রাবি (اَلرَّاوِىْ) : হাদিসের  বর্ণনাকারীকে ‘রাবি’ বলে।

আছার (اَثَرٌ ) : সাহাবায়ে কেরামের কথা ও কাজকে আছার বলে । 

শায়খ (اَلشَّيْخُ) : হাদিসের শিক্ষককে শায়খ বলে।

মুহাদ্দিস (اَلْمُحَدِّثُ): সনদ মতনসহ হাদিস চর্চা ও গভীর জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি। 

রিসালাহ (اَلرِّسَالَةُ): মাত্র একটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই যে হাদিস গ্রন্থ রচিত হয়েছে তাকে রিসালাহ বলে। ইবনে খোযাইমা রচিত আল্লাহর একত্ববাদ বিষয়ক গ্রন্থ।

ফকিহ (فَقِيْه) : যারা হাদিসের আইনগত দিক পর্যালোচনা করেছেন তাদেরকে ‘ফকিহ’ বলে।

* পুরুষদের মধ্যে সর্বাধিক হাদিস বর্ণনা করেন হজরত আবু হুরায়রা "     ৫৩৭৪টি।

* মহিলাদের মধ্যে সর্বাধিক হাদিস বর্ণনা করেন হজরত আয়েশা "     ২২১০টি।

* সর্বপ্রথম হাদিস সংকলনকারীর নাম : ইবনে শিহাব যুহরী।

* বুখারি শরিফের পূর্ণ নাম :

 اَلْجَامِعُ الْمُسْنَدُ الصَّحِيْحُ الْمُخْتَصَرُ مِنْ اُمُوْرِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  وَسُنَنِهِ وَاَيَّامِهِ


হাদিসে কুদসি ও আল-কুরআনের মধ্যে পার্থক্য

১. হাদিসে কুদসির ভাব আল্লাহর আর ভাষা রাসূল  #   এর, পক্ষান্তরে আল-কুরআনের ভাব, ভাষা দুটিই আল্লাহ তাআলার।

২. আল-কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন আল্লাহ, যা তিনি ঘোষণা করেছেন, কিন্তু হাদিসে কুদসির ক্ষেত্রে তা বলা হয়নি।

৩. নামাজে আল-কুরআন তেলাওয়াত করা বাধ্যতামূলক, কিন্তু নামাজে হাদিসে কুদসি পড়ার সুযোগ নেই।

৪. আল-কুরআন তেলাওয়াতে প্রতি অক্ষরে ১০ নেকি কিন্তু হাদিসে কুদসির ব্যাপারে এমন কোন ঘোষণা নেই।


হাদিসে কুদসি ও হাদিসে নববীর মধ্যে পার্থক্য

১. যে হাদিসের ভাব আল্লাহর, ভাষা রাসূলের  #    তাকে বলা হয় হাদিসে কুদসি। আর যে হাদিসের ভাব ও ভাষা দুটোই রাসূলের  #   , তাকে বলা হয় হাদিসে নববী।

২. যে হাদিসে আল্লাহ বলেছেন/আল্লাহ নির্দেশ করেছেন ইত্যাদির উল্লেখ রয়েছে তাকে বলা হয় হাদিসে কুদসি।

পক্ষান্তরে রাসূল  #    এর কথা কাজ ও মৌনসম্মতিই হাদিসে নববী।


আশারায়ে মুবাশশারাহ : একসাথে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ সাহাবি

১. হজরত আবু বকর ইবনু আবি কুহাফা "

২. হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব "

৩. হজরত উসমান ইবনু আফফান "

৪. হজরত আলী ইবনু আবি তালিব "

৫. হজরত তালহা বিন ওবায়দিল্লাহ "

৬. হজরত যুবাইর ইবনুল আওয়াম "

৭. হজরত আবদুর রহমান ইবনু আওফ "

৮. হজরত আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ "

৯. হজরত সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস "

১০. হজরত সাঈদ ইবনু যায়িদ "


অধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবিগণ

১. হজরত আবু হুরায়রা "    - ৫৩৭৪

২. হজরত আয়িশা "    - ২২১০

৩. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস "    - ১৬৬০

৪. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর "    - ১৬৩০

৫. হজরত জাবির ইবনে আবদিল্লাহ "    - ১৫৪০

৬. হজরত আনাস ইবনে মালিক "    - ১২৮৬

৭. হজরত আবু সাঈদ খুদরী "    - ১১৭০



উপমহাদেশের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস

১. শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী (রহ.)

২. শাহ আবদুল আজিজ দেহলভী (রহ.)

৩. হোসাইন আহমাদ মাদানি (রহ.)

৪. মুফতি আমিমুল ইহসান (রহ.)

৫. আল্লামা আযিযুল হক (রহ.)

























বিষয়ভিত্তিক আয়াত ও হাদিস


১. তাওহিদ/ اَلتَّوْحِيْدُ

اَلتَّوْحِيْدُ অর্থ একত্ববাদ। জীবনের সবকিছু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করাই তাওহিদের মূলমন্ত্র।

شَهِدَ اللّٰهُ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ إِلَّا هُوَ وَ الْمَلٰٓىِٕكَةُ وَ اُولُوا الْعِلْمِ قَآىِٕمًۢا بِالْقِسْطِ لَاۤ اِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ.

আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই। ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত জ্ঞানীগণও সাক্ষ্য দেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। (আলে ইমরান-১৮)

إِنَّمَا اِلٰهُكُمْ اِلٰهُ وَّاحِدٌ.

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক একক সত্তা। (কাহাফ : ১১০)


আল-কুরআন

 وَ اِلٰهُكُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ لَاۤ اِلٰهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِیْمُ.

১. তোমাদের ইলাহ একই ইলাহ। ঐ রহমান ও রাহিম ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। (সূরা বাকারা- ২:১৬৩)

 وَ هُوَ اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ إِلَّا هُوَ  لَهُ الْحَمْدُ فِی الْاُوْلٰی وَ الْاٰخِرَةِ وَ لَهُ الْحُكْمُ وَ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ.

২. তিনিই এক আল্লাহ, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। দুনিয়া ও আখিরাতের সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য। শাসন কর্তৃত্ব তাঁরই হাতে এবং তাঁরই দিকে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। (সূরা কাসাস- ২৮:৭০)

قُلْ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌۚক্স  اَللّٰهُ الصَّمَدُۚক্স لَمْ یَلِدْ ۙ۬ وَ لَمْ یُوْلَدْۙক্স وَ لَمْ یَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ۠ক্স

৩. (হে রাসূল!) আপনি বলে দিন। তিনিই আল্লাহ, (যিনি) একক (অদ্বিতীয়) আল্লাহ সবার কাছ থেকে অভাবমুক্ত (আর আল্লাহর কাছে সবাই অভাবী)। তাঁর  কোনো সন্তান নেই, তিনিও কারো সন্তান নন। কেউই তাঁর সাথে তুলনার যোগ্য নয়। (সূরা ইখলাস- ১১২:১-৪)

 لَوْ كَانَ فِیْهِمَاۤ اٰلِهَةٌ إِلَّا اللّٰهُ لَفَسَدَتَا ۚ فَسُبْحٰنَ اللّٰهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا یَصِفُوْنَ.

৪. যদি আসমান ও যমীনে আল্লাহ ছাড়া বহু ইলাহ থাকত তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত, সুতরাং তারা যা বলে, আরশের রব আল্লাহ তা থেকে পবিত্র। (সূরা আম্বিয়া - ২১:২২)

وَ هُوَ الَّذِیْ فِی السَّمَآءِ اِلٰهٌ وَّ فِی الْاَرْضِ اِلٰهٌ ؕ وَ هُوَ الْحَكِیْمُ الْعَلِیْمُ

৫. আর তিনিই আসমানে ইলাহ এবং তিনিই যমীনে ইলাহ; আর তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। (সূরা যুখরূফ- ৪৩:৮৪)

هُوَ الْحَیُّ لَاۤ اِلٰهَ إِلَّا هُوَ فَادْعُوْهُ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ ؕ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ.

৬. তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। সুতরাং তোমরা দীনকে তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করে তাঁকে ডাক। সকল প্রশংসা আল¬াহর যিনি সৃষ্টিকুলের রব। (সূরা মুমিন-৪০ : ৬৫)

قُلْ مَنْ رَّبُّ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ قُلِ اللّٰهُ ؕ قُلْ اَفَاتَّخَذْتُمْ مِّنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِیَآءَ لَا یَمْلِكُوْنَ لِأَنْفُسِهِمْ نَفْعًا وَّ لَا ضَرًّا ؕ قُلْ هَلْ یَسْتَوِی الْاَعْمٰی وَ الْبَصِیْرُ ۙ۬ اَمْ هَلْ تَسْتَوِی الظُّلُمٰتُ وَ النُّوْرُ ۚ۬ اَمْ جَعَلُوْا لِلّٰهِ شُرَكَآءَ خَلَقُوْا كَخَلْقِهٖ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَیْهِمْ ؕ قُلِ اللّٰهُ خَالِقُ كُلِّ شَیْءٍ وَّ هُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ.

৭. বল, ‘আসমানসমূহ ও যমীনের রব কে’? বল, ‘আল্লাহ’। তুমি বল, ‘তোমরা কি তাঁকে ছাড়া এমন কিছুকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছ, যারা তাদের নিজদের কোন উপকার অথবা অপকারের মালিক না’? বল, ‘অন্ধ ও দৃষ্টিমান ব্যক্তি কি সমান হতে পারে? নাকি অন্ধকার ও আলো সমান হতে পারে? নাকি তারা আল্লাহর জন্য এমন কতগুলো শরীক নির্ধারণ করেছে, যেগুলো তাঁর সৃষ্টির তুল্য কিছু সৃষ্টি করেছে, ফলে তাদের নিকট সৃষ্টির বিষয়টি একরকম  মনে হয়েছে’? বল, ‘আল্লাহই সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনি  এক, পরাক্রমশালী’। (সূরা রা‘দ-১৩ : ১৬)

اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ اَلْحَیُّ الْقَیُّوْمُ  لَا تَاْخُذُهٗ سِنَةٌ وَّ لَا نَوْمٌ  لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ؕ مَنْ ذَا الَّذِیْ یَشْفَعُ عِنْدَهْۤ إِلَّا بِاِذْنِهٖ یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَ مَا خَلْفَهُمْ ۚ وَ لَا یُحِیْطُوْنَ بِشَیْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖۤ إِلَّا بِمَا شَآءَ وَسِعَ كُرْسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ ۚ وَ لَا یَـُٔوْدُهٗ حِفْظُهُمَا ۚ وَ هُوَ الْعَلِیُّ الْعَظِیْمُক্স

৮. আল্লাহ ঐ চিরজীবী ও চিরস্থায়ী সত্তা, তিনি ছাড়া আর কোন মা’বুদ নেই। তিনি ঘুমান না, এমনকি তাঁর ঘুমের ভাবও হয় না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর দরবারে সুপারিশ করতে পারে? যা কিছু বান্দাদের সামনে আছে তাও তিনি জানেন, আর যা তাদের অগোচরে আছে তাও তিনি জানেন। যা কিছু তাঁর জ্ঞানের মধ্যে আছে তা থেকে কিছুই তাদের আয়ত্তে আসতে পারে না। অবশ্য কোনো বিষয়ের জ্ঞান যদি তিনি নিজেই কাউকে দিতে চান তাহলে আলাদা কথা। তাঁর শাসন আসমান ও জমিন জুড়ে আছে এবং এসবের দেখাশোনার কাজ তাঁকে ক্লান্ত করতে পারে না। তিনি মহান ও শ্রেষ্ঠতম। 

(সূরা বাকারা- ০২:২৫৫)

هُوَ اللّٰهُ الَّذِیْ لَاۤ اِلٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ عٰلِمُ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَةِ ۚ هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِیْمُক্স  هُوَ اللّٰهُ الَّذِیْ لَاۤ اِلٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ اَلْمَلِكُ الْقُدُّوْسُ السَّلٰمُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَیْمِنُ الْعَزِیْزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ ؕ سُبْحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا یُشْرِكُوْنَক্স هُوَ اللّٰهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰی ؕ یُسَبِّحُ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ۚ وَ هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ۠ক্স

৯. তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন মা’বুদ নেই। গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছুই তিনি জানেন। তিনিই রাহমান ও রাহিম। তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই। তিনিই বাদশাহ, অতি পবিত্র, স্বয়ং শান্তি, নিরাপত্তাদাতা, রক্ষক, সবার ওপর বিজয়ী, নিজ হুকুম জারি করায় শক্তিমান এবং অহঙ্কারের অধিকারী। মানুষ তাঁর সাথে যে শিরক করছে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র। তিনিই আল্লাহ, যিনি সৃষ্টির পর পরিকল্পনাকারী, তা বাস্তবায়নকারী ও সে অনুযায়ী রূপদাতা। সব ভালো নাম তাঁরই। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর তাসবিহ করছে। তিনি মহাশক্তিশালী ও সুকৌশলী। (সূরা হাশর- ৫৯:২২-২৪)

تَبٰرَكَ الَّذِیْ بِیَدِهِ الْمُلْكُ ؗ وَ هُوَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرُ- ِ۟الَّذِیْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَ الْحَیٰوةَ لِیَبْلُوَكُمْ اَیُّكُمْ اَحْسَنُ عَمَلًا ؕ وَ هُوَ الْعَزِیْزُ الْغَفُوْرُ.

১০. বরকতময় তিনি যার হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব। আর তিনি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল। (মুলক : ১-২)

وَ عِنْدَهٗ مَفَاتِحُ الْغَیْبِ لَا یَعْلَمُهَاۤ إِلَّا هُوَ ؕ وَ یَعْلَمُ مَا فِی الْبَرِّ وَ الْبَحْرِ ؕ وَ مَا تَسْقُطُ مِنْ وَّرَقَةٍ إِلَّا یَعْلَمُهَا وَ لَا حَبَّةٍ فِیْ ظُلُمٰتِ الْاَرْضِ وَ لَا رَطْبٍ وَّ لَا یَابِسٍ إِلَّا فِیْ كِتٰبٍ مُّبِیْنٍ.

১১. আর তাঁর কাছে রয়েছে গায়েবের চাবিসমূহ, তিনি ছাড়া এ বিষয়ে কেউ জানে না এবং তিনি অবগত রয়েছেন স্থলে ও সমুদ্রে যা কিছু আছে। আর কোন পাতা ঝরে না, কিন্তু তিনি তা জানেন এবং যমীনের অন্ধকারে কোন দানা পড়ে না, না কোন ভেজা এবং না কোন শুষ্ক কিছু; কিন্তু রয়েছে সুস্পষ্ট কিতাবে। (আনআম : ৫৯)

وَ هُوَ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ بِالْحَقِّ ؕ وَ یَوْمَ یَقُوْلُ كُنْ فَیَكُوْنُ ؕ۬ قَوْلُهُ الْحَقُّ ؕ وَ لَهُ الْمُلْكُ یَوْمَ یُنْفَخُ فِی الصُّوْرِ ؕ عٰلِمُ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَةِ ؕ وَ هُوَ الْحَكِیْمُ الْخَبِیْرُ.

১২. আর তিনিই, আসমানসমূহ ও যমীন যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন। আর যেদিন তিনি বলবেন, ‘হও’ তখন হয়ে যাবে। তাঁর কথাই যথার্থ। আর তাঁর জন্যই রয়েছে সেদিনের রাজত্ব, যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে। তিনি গায়েব ও উপস্থিত বিষয়ে পরিজ্ঞাত এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, অধিক অবহিত।

(আনআম : ৭৩)

إِنَّ اللّٰهَ فَالِقُ الْحَبِّ وَ النَّوٰی ؕ یُخْرِجُ الْحَیَّ مِنَ الْمَیِّتِ وَ مُخْرِجُ الْمَیِّتِ مِنَ الْحَیِّ ؕ ذٰلِكُمُ اللّٰهُ فَاَنّٰی تُؤْفَكُوْنَ.

১৩. নিশ্চয় আল্লাহ বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী। তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বেরকারী। তিনিই আল্লাহ, সুতরাং (সৎপথ থেকে) কোথায় তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে?

(আনআম : ৯৫)


আল হাদিস

عَنْ أَبِيْ ذَرٍّ قَالَ أَتِيْتُ النَّبِىَّ صَلَّى الله ﷺ  وَهُوَ نَائِمٌ عَلَيْهِ ثَوْبٌ أَبْيَضُ ثُمَّ أَتَيْتُهُ فَإِذَ هُوَ نَائِمٌ ثُمَّ أَتَيْتُهُ وَقَدْ إِسْتَيْقَظَ فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ فَقَالَ مَا مِنْ عَبْدٍ قَالَ لَا اِلهَ إِلَّا الله ثُمَّ مَاتَ عَلى ذلِكَ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ. قُلْتُ وَاِنْ زَنى وَاِنْ سَرَقَ قَالَ وَاِنْ زَنى وَاِنْ سَرَقَ قُلْتُ وَاِنْ زَنى وَاِنْ سَرَقَ قَالَ وَاِنْ زَنى وَاِنْ سَرَقَ ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ فِيْ الرَّبِعَةِ عَلى رَغْمِ أَنْفِ أَبِيْ ذَرٍّ قَالَ فَخَرَجَ أَبُوْ ذَرٍّ وَهُوَ يَقُوْلُ وَاِنْ رَغِمَ أَنْف أَبِيْ ذَرٍّ (بُخَارِيْ : بَابُ الثِّيَابِ الْاَبْيَضِ) 

১. হজরত আবু যর "     হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন নবি  #    এর নিকট আসলাম তখন তিনি ঘুমন্ত ছিলেন এবং তাঁর ওপর সাদা কাপড় ছিল, অতপর আমি আবার তাঁর কাছে আসলাম তখন ও তিনি ঘুমন্ত ছিলেন। অতপর আবার আসলাম এতক্ষণে তিনি জাগ্রত হয়েছেন, অতপর আমি তাঁর পাশে গিয়ে বসলাম। অতপর তিনি বলেছেন, যে বান্দাই বলবে আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই আর এটার ওপরই মৃত্যুবরণ করবে তাহলে নিশ্চিত সে জান্নাতে যাবে। আমি বললাম, যদি সে যিনা করে, চুরি করে, রাসূল  #    বলেছেন, হ্যাঁ যদিও সে যিনা করে চুরি করে এ কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। অতপর রাসূল  #    চতুর্থবার বলেছেন, আবু যরের নাক ধুলায় মলিন হোক। অতপর আবু যর "     এ কথা বলতে বলতে বেরিয়ে গেলেন যদি আবু যরের নাক ধুলায় মলিন হয়ে যায়। 

(বুখারি, বাবুস সিয়াবিল বীদি : ৫৩৭৯)

عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عَبْدِ اللهِ الثَّقَفِي قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ قُلْ لِىْ فِيْ الْاِسْلَامِ قَوْلًا لَا أَسْأَلُ عَنْهُ أَحَدًا بَعْدَكَ قَالَ قُلْ آمَنْتُ بِاللهِ فَاسْتَقِمْ (مُسْلِمْ : بَابُ جَامِعِ أَوْصَافِ الْاِسْلَامِ)

২. হজরত সুফিয়ান ইবনে আব্দুল্লাহ সাকাফী  "     হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল  #    আমাকে ইসলাম সম্পর্কে এমন কিছু বলুন যে, আমি আপনার পরে আর কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করব না। রাসূল  #    বলেছেন, তুমি বল আল্লাহর প্রতি ঈমান গ্রহণ করেছি অতপর এটার ওপর অবিচল থাক। (মুসলিম : বাবু জামে‘ আওসাফিল ইসলামি : ৫৫)

عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّ اللهُ ﷺ  مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَشْهَدُ أَنْ لَّا اِلهَ إِلَّا اللهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ-

৩. ওসমান ইবনে আফ্ফান "     থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল  #     বলেছেন, যে ব্যক্তি এ বিশ্বাস নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। (মুসলিম : বাবুল ইমান, পৃ. ১০৮)



















২. রিসালাত/اَلرِّسَالَةُ

اَلرِّسَالَةُ অর্থ পৌঁছানো। রিসালাতের মূল কথা হলো নবি রাসূলদের মাধ্যমে আল্লাহর বিধি-বিধানকে মানব জাতির কাছে পৌঁছে দেয়া।


আল-কুরআন

وَ لَقَدْ بَعَثْنَا فِیْ كُلِّ اُمَّةٍ رَّسُوْلًا اَنِ اعْبُدُوا اللّٰهَ وَ اجْتَنِبُوا الطَّاغُوْتَ ۚفَمِنْهُمْ مَّنْ هَدَی اللّٰهُ وَ مِنْهُمْ مَّنْ حَقَّتْ عَلَیْهِ الضَّلٰلَةُ ؕ فَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَانْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِیْنَ.

১. আমি প্রত্যেক উম্মতের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছি এবং তাঁর মাধ্যমে সমাধান করে েিয়ছি যে, আল্লাহর দাস্তব কর এবং তাগুতের দাসত্ব থেকে দূরে থাক। এরপর তাদের মধ্যে কাউকে আল্লাহ হেদায়াত দিয়েছেন এবং কারো ওপর গোমরাহি চেপে বসেছে। কাজেই পৃথিবীতে একটু চলে ফিরে দেখে নাও, মিথ্যা আরোপকারীদের কী পরিণাম হয়েছে। (সূরা নাহল-১৬:৩৬)

هُوَ الَّذِیْۤ اَرْسَلَ رَسُوْلَهٗ بِالْهُدٰی وَ دِیْنِ الْحَقِّ لِیُظْهِرَهٗ عَلَی الدِّیْنِ كُلِّهٖ ؕ وَ كَفٰی بِاللّٰهِ شَهِیْدًاؕক্স

২. তিনিই ওই সত্তা, যিনি তাঁর রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন, যাতে (রাসূল) ঐ দ্বীনকে অন্য দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। আর এ বিষয়ে আল্লাহই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। (সূরা ফাতহ্-৪৮:২৮)

وَ مَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُوْلٌ ۚ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ ؕ اَفَاۡىِٕنْ مَّاتَ اَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلٰی اَعْقَابِكُمْ وَ مَنْ یَّنْقَلِبْ عَلٰی عَقِبَیْهِ فَلَنْ یَّضُرَّ اللّٰهَ شَیْـًٔا ؕ وَ سَیَجْزِی اللّٰهُ الشّٰكِرِیْنَ.

৩. আর মুহাম্মাদ কেবল একজন রাসূল। তার পূর্বে নিশ্চয় অনেক রাসূল বিগত হয়েছে। যদি সে মারা যায় অথবা তাকে হত্যা করা হয়, তবে তোমরা কি তোমাদের পেছনে ফিরে যাবে? আর যে ব্যক্তি পেছনে ফিরে যায়, সে কখনো আল্ল¬াহর কোন ক্ষতি করতে পারে না। আর আল্ল¬াহ অচিরেই কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দেবেন। (সূরা আলে ইমরান-৩ : ১৪৪)

وَ مَاۤ اَرْسَلْنٰكَ إِلَّا كَآفَّةً لِّلنَّاسِ بَشِیْرًا وَّ نَذِیْرًا وَّ لٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَক্স

৪. (হে নবি!) আমি আপনাকে গোটা মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি। কিন্তু বেশির ভাগ লোকই তা জানে না। 

(সূরা সাবা- ৩৪:২৮)

ياَیُّهَا النَّبِیُّ إِنَّاۤ اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّ مُبَشِّرًا وَّ نَذِیْرًا-وَّ دَاعِیًا اِلَی اللّٰهِ بِاِذْنِهٖ وَ سِرَاجًا مُّنِیْرًا.

৫. হে নবি, আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে আর আল্ল¬াহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহবানকারী ও আলোকদীপ্ত প্রদীপ হিসেবে।  (সূরা আহযার- ৩৩ : ৪৫-৪৬)

فَلَا وَ رَبِّكَ لَا یُؤْمِنُوْنَ حَتّٰی یُحَكِّمُوْكَ فِیْمَا شَجَرَ بَیْنَهُمْ ثُمَّ لَا یَجِدُوْا فِیْۤ أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَیْتَ وَ یُسَلِّمُوْا تَسْلِیْمًا

৬. না, হে রাসূল  #   ! আপনার রবের কসম, এরা কখনো ঈমানদার হতে পারবে না; যে পর্যন্ত এরা নিজেদের মতবিরোধের বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে না নেয়, তারপর যে ফয়সালাই আপনি দিন তা মেনে নিতে তাদের মন খুঁত খুঁত না করে এবং তা মনে-প্রাণে গ্রহণ না করে। (সূরা নিসা-০৪: ৬৫)

لَقَدْ مَنَّ اللّٰهُ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ اِذْ بَعَثَ فِیْهِمْ رَسُوْلًا مِّنْ أَنْفُسِهِمْ یَتْلُوْا عَلَیْهِمْ اٰیٰتِهٖ وَ یُزَكِّیْهِمْ وَ یُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ ۚ وَ اِنْ كَانُوْا مِنْ قَبْلُ لَفِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ

৭. অবশ্যই আল্ল¬াহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদের প্রতি একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করে আর তাদেরকে কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দেয়। যদিও তারা ইতঃপূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে ছিল। (সূরা আলে ইমরান-৩ : ১৬৪)

لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُوْلٌ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيْزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيْصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِيْنَ رَءُوْفٌ رَّحِيْمٌ

৮. দেখ! তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন, যিনি তোমাদের মধ্য থেকেই একজন। যা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর তাতে তিনি কষ্ট পান। তিনি তোমাদের হিতকাঙ্খী। ঈমানদারদের জন্য তিনি বড়ই স্নেহশীল ও রহমদিল। (সূরা তাওবা- ০৯:১২৮)

قُلْ یٰاَیُّهَا النَّاسُ اِنِّیْ رَسُوْلُ اللّٰهِ اِلَیْكُمْ جَمِیْعَا ِ۟الَّذِیْ لَهٗ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ۚ لَاۤ اِلٰهَ إِلَّا هُوَ یُحْیٖ وَ یُمِیْتُ ۪ فَاٰمِنُوْا بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهِ النَّبِیِّ الْاُمِّیِّ الَّذِیْ یُؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَ كَلِمٰتِهٖ وَ اتَّبِعُوْهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ.

৯. বল, ‘হে মানুষ, আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল, যার রয়েছে আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আন ও তাঁর প্রেরিত উম্মী নবির প্রতি, যে আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখে। আর তোমরা তার অনুসরণ কর, আশা করা যায়, তোমরা হিদায়াত লাভ করবে। (সূরা আ‘রাফ-৭ : ১৫৮)

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِیْ رَسُوْلِ اللّٰهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ یَرْجُوا اللّٰهَ وَ الْیَوْمَ الْاٰخِرَ وَ ذَكَرَ اللّٰهَ كَثِیْرًؕا

১০. আসলে তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে সুন্দর আদর্শ রয়েছে, এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ ও শেষদিনের আশা করে এবং বেশি করে আল্লাহকে স্মরণ করে। (সূরা আহযাব- ৩৩ঃ২১)

رُسُلًا مُّبَشِّرِیْنَ وَ مُنْذِرِیْنَ لِئَلَّا یَكُوْنَ لِلنَّاسِ عَلَی اللّٰهِ حُجَّةٌۢ بَعْدَ الرُّسُلِ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَزِیْزًا حَكِیْمًا 

১১. আর (পাঠিয়েছি) রাসূলগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে, যাতে আল্লাহর বিপক্ষে রাসূলদের পর মানুষের জন্য কোন অজুহাত না থাকে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা নিসা- ৪ঃ১৬৫)

رَبَّنَا وَ ابْعَثْ فِیْهِمْ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ یَتْلُوْا عَلَیْهِمْ اٰیٰتِكَ وَ یُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ وَ یُزَكِّیْهِمْ ؕ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ.

১২. হে আমাদের রব, তাদের মধ্যে তাদের থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যে তাদের প্রতি আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবে এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবে আর তাদেরকে পবিত্র করবে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (বাকারা : ১২৯)

یٰاَیُّهَا الرَّسُوْلُ بَلِّغْ مَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكَ مِنْ رَّبِّكَ وَ اِنْ لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهٗ وَ اللّٰهُ یَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ إِنَّ اللّٰهَ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الْكٰفِرِیْنَ.

১৩. হে রাসূল, তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার নিকট যা নাজিল করা হয়েছে, তা পৌঁছে দাও আর যদি তুমি না কর তবে তুমি তাঁর রিসালাত পৌঁছালে না। আর আল্লাহ তোমাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না। (মায়েদা : ৬৭)


আল হাদিস

عَنْ جاَبِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَال كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  اِذَ خَطَبَ اِحْمَرَّتْ عَيْنَاهُ وَعَلَا صَوْتُهُ وَاشْتَدَّ غَضَبُهُ حَتّٰى كَاَنَّهُ مُنْذِرُ جَيْشٍ يَقُوْلُ صَبَّحَكُمْ وَمَسَّاكُمْ وَيَقُوْلُ بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ وَيَقْرُنُ بَيْنَ اِصْبَعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوْسْطى وَيَقُوْلُ أمَّا بَعْدُ فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيْثِ كِتَابُ اللهِ وَ خَيْرُ الْهُدى هُدى مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الْاُمُوْرِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ ثُمَّ يَقُوْلُ اَنَا أُوْلى بِكُلِّ مُؤْمِنٍ مِنْ نَفْسِهِ مَنْ تَرَكَ مَالًا فَلِاَهْلِهِ وَمَنْ تَرَكَ دَيْنًا أَوْ ضَيَاعًا فَاِلَىَّ وَعَلَىَّ (مسلم : بَابُ تَخْفِيْفِ الصَّلَاةِ وَالْخُطْبَةِ)

১. হজরত  জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ "    হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল  #    যখন ভাষণ দিতেন তখন তাঁর দু‘চোখ লাল হয়ে যেত এবং তার আওয়াজ উচ্চ হত এবং তাঁর রাগ বৃদ্ধি পেত মনে হয় যেন তিনি কোনো সৈন্য বাহিনীকে সতর্ক করছেন। তিনি বলতেন, আমি এবং কিয়ামত এই দুই আঙুলের মত প্রেরিত হয়েছি এবং তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল একত্র করে দেখালেন। আর বলেছেন, অতপর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব। আর সর্বোত্তম পথপ্রদর্শন হলো মুহাম্মদ  #    এর পথ প্রদর্শন। আর কাজসমূহের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হলো প্রত্যেক নবসৃষ্ট তথা বিদয়াত। আর প্রত্যেক বিদয়াত গোমরাহি। অতপর বললেন, আমি প্রতেকটি মুমিনের জন্য তার নিজের চেয়েও বেশি কল্যাণকামী, দয়াদ্র। যে ব্যক্তি (মৃত্যুবরণের সময়) কোনো সম্পদ রেখে যায়, তা তার পরিবার পরিজনের জন্য। আর যদি কোনো ব্যক্তি কোনো ঋণ বা অবুঝ শিশু রেখে যায়, অতপর তার দায় দায়িত্ব আমারই উপরে। (মুসলিম : বাবু তাখফীফিস সলাতি ওয়াল খুতবাতি : ১৪৩৫)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  اَنَّهُ قَالَ وَالَّذِيْ نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يَسْمَعُ بِىْ اَحَدٌ مِنْ هذِهِ الْاُمَّةِ يَهُوْدِىٌّ وَ لَا نَصْرَانِىٌّ ثُمَّ يَمُوْتُ ولَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِيْ اُرْسِلْتُ بِهِ إِلَّا كَانَ مِنْ اَصْحَابِ النَّارِ-(مسلم : بَابُ وَجُوْبِ الْاِيْمَانِ بِرِسَالَةِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ اِلى جَمِيْعِ النَّاسِ وَنَسْخِ الْمِلَلِ بِمِلَّتِهِ)

২. হজরত আবু হুরায়রা "    রাসূল  #   থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূল  #    বলেছেন, মুহাম্মদের প্রাণ যে সত্তার হাতে, তাঁর কসম দিয়ে বলছি উম্মতের ইয়াহুদি কিংবা নাসারা যেই হোক না কেন, আমার ব্যাপারে শুনবে অতপর সে মৃত্যুবরণ করবে অথচ আমি যে বিষয় নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার ওপর ঈমান আনবে না তাহলে নিশ্চিত সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।  (মুসলিম : বাবু উজুবিল ঈমানি বিরিসালাতি নাবিয়্যিনা মুহাম্মদ সা. জামিয়িন নাসি ওয়া নাসখিল মিলালি বিমিল্লাতিহি : ২১৮)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰى يَـكُوْنَ هَوَاهُ تَبْعًا لِمَا جِئْتُ بِه (اَلْاِبَانَةُ الْكُبْرٰى لِاِبْنِ بَطَّةَ، صَحَّحَهُ الْاَلْبَانِىْ)  

৩. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর "    থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল  # বলেছেন, তোমাদের কেহই ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তার প্রবৃত্তি আমার আনীত দ্বীনের অনুগত না হবে। (ইবানাতুল কুবরা লিইবনি বাত্তাহ : ২১৯)

 عَنْ جَابِرٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  وَالَّذِيْ نَفسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ وَلَوْ بَدَأَ لَكُمْ مُوْسى فَاتْبَعْتُمُوْهُ وَتَرَكْتُمُوْنِىْ لَضَلَلْتُمْ عَنْ سَوَاءِ السَّبِيْلِ وَلَوْ كَانَ حَيًّا وَاَدْرَكَ نُبُوَّتِىْ لَاتَّبَعَنِىْ (سُنَنُ الدَّارِمِىُّ : بَابُ مَا يُتَّقى مِنْ تَفْسِيْرِ حَدِيْثِ النَّبِيِّ، صَحَّحَهُ الْاَلْبَانِى) 

৪. জাবির "   হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি করিম  #    ইরশাদ করেছেন, সে মহান সত্তার শপথ যার মুঠিতে মুহাম্মদে প্রাণ রয়েছে, মূসা (আ.) ও যদি তোমাদের সম্মুখে আত্মপ্রকাশ করেন এবং তোমরা তার অনুসরণ করো আর আমাকে পরিত্যাগ করো তবে তোমরা নিশ্চিতরূপে সঠিক ও সত্য পথ হতে ভ্রষ্ট হয়ে যাবে। বাস্তবিক মূসা (আ.) যদি এখন জীবিত থাকতেন এবং আমার নবুওয়াতের সময় পেতেন, তবে তিনিও আমার অনুসরণ করতেন। (সুনানু দারেমী, বাবু মা ইয়ুত্তাক্বা মিন তাফসীরে হাদীসিন নাবিয়্যি (সা.), ৪৪৩)

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰى اَكُوْنَ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنْ وَّالِدِهِ وَ وَلَدِهِ وَالنَّاسِ اَجْمَعِيْنَ-

৫. আনাস "     থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল  #     বলেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যে পর্যন্ত না আমি তার নিকট তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্তুতি ও সকল মানুষ থেকে অধিক প্রিয় হই। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত : হাদিস নং ৬)










৩. আখেরাত الْآخِرَةُ : 

الْآخِرَةُ  অর্থ পরিণাম, পরকাল, শেষফল/ শেষ পরিণতি। মৃত্যুর পর মুহূর্ত থেকে যে অনন্ত জীবন শুরু হয়, যার শুরু আছে শেষ নেই তাকেই আখেরাত বলে।


আল-কুরআন

وَ مَا الْحَیٰوةُ الدُّنْیَاۤ إِلَّا لَعِبٌ وَّ لَهْوٌ وَ لَلدَّارُ الْاٰخِرَةُ خَیْرٌ لِّلَّذِیْنَ یَتَّقُوْنَ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ.

১. আর দুনিয়ার জীবন খেলাধুলা ও তামাশা ছাড়া কিছু না। আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আখিরাতের আবাস উত্তম। অতএব তোমরা কি বুঝবে না? (সূরা আনআম -৬ : ৩২)

إِنَّ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ زَیَّنَّا لَهُمْ اَعْمَالَهُمْ فَهُمْ یَعْمَهُوْنَ.

২. আসলে যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না তাদের আমলকে আমি তাদের চোখে সুন্দর বানিয়ে দিয়েছি। তাই তারা দিশেহারা হয়ে ফিরছে। (সূরা নামল-২৭:৪)

فَمَنْ یَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَیْرًا یَّرَهٗؕক্স  وَمَنْ یَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا یَّرَهٗ.

৩. অতপর যে বিন্দু পরিমাণ ভালো কাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে। আর যে বিন্দু পরিমাণ খারাপ কাজ করবে, সে তাও দেখতে পাবে। (সূরা যিলযাল-৯৯:৭-৮)

اَلْیَوْمَ نَخْتِمُ عَلَى اَفْوَاهِهِمْ وَ تُكَلِّمُنَاۤ اَیْدِیْهِمْ وَ تَشْهَدُ اَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ.

৪. আজ আমি তাদের মুখ বন্ধ করে দিচ্ছি। তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা সাক্ষ্য দিবে যে, তারা দুনিয়াতে কী কামাই করে এসেছে। (সূরা ইয়াসিন- ৩৬:৬৫) 

تِلْكَ الدَّارُ الْاٰخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِیْنَ لَا یُرِیْدُوْنَ عُلُوًّا فِی الْاَرْضِ وَ لَا فَسَادًا وَ الْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِیْنَ

৫. এই হচ্ছে আখিরাতের নিবাস, যা আমি তাদের জন্য নির্ধারিত করি, যারা যমীনে ঔদ্ধত্য দেখাতে চায় না এবং ফাসাদও চায় না। আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। (সূরা কাসাস-২৮ : ৮৩)

وَ اتَّقُوْا یَوْمًا لَّا تَجْزِیْ نَفْسٌ عَنْ نَّفْسٍ شَیْـًٔا وَّ لَا یُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَّ لَا یُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَّ لَا هُمْ یُنْصَرُوْنَ

৬. আর তোমরা সে দিনকে ভয় কর, যেদিন কেউ কারো কোন কাজে আসবে না। আর কারো পক্ষ থেকে কোন সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না এবং কারও কাছ থেকে কোন বিনিময় নেয়া হবে না। আর তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না। (সূরা বাকারা-২ : ৪৮)

یَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِّنَفْسٍ شَیْـًٔا ؕ وَ الْاَمْرُ یَوْمَىِٕذٍ لِّلّٰهِ۠ক্স

৭. এটা সেই দিন, যেদিন কেউ কারো জন্য কিছু করতে পারবে না এবং সেদিন ফয়সালার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে থাকবে। (সূরা ইন্ফিতার- ৮২:১৯) 

ثُمَّ لَتُسْـَٔلُنَّ یَوْمَىِٕذٍ عَنِ النَّعِیْمِ

৮. তারপর সেদিন অবশ্যই তোমরা নিআমত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (সূরা তাকাসুর-১০২ : ৮)

یَوْمَ یَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ اَخِیْهِۙক্স   وَ اُمِّهٖ وَ اَبِیْهِۙক্স  وَ صَاحِبَتِهٖ وَ بَنِیْهِؕক্স لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ یَوْمَىِٕذٍ شَاْنٌ یُّغْنِیْهِؕক্স

৯. সেদিন মানুষ তার ভাই, মা, বাপ ও বিবি-বাচ্চাদের থেকে পালাতে থাকবে। সেদিন প্রত্যেককে একটি চিন্তা ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে। (সূরা আবাসা- ৮০:৩৪-৩৭)

قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِیْ تَفِرُّوْنَ مِنْهُ فَإِنَّهٗ مُلٰقِیْكُمْ ثُمَّ تُرَدُّوْنَ اِلٰی عٰلِمِ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَةِ فَیُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ۠

১০. বল যে মৃত্যু হতে তোমরা পলায়ন করছ তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। তারপর তোমাদেরকে অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্পর্কে পরিজ্ঞাত আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে। তারপর তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন যা তোমরা করতে। (সূরা জুমুআ-৬২ : ৮)



আল হাদিস

عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَّيْظُرَ اِلى يَوْمِ الْقِيَامَةِ كَاَنَّهُ رَأْىُ عَيْنٍ فَلْيَقْرَأْ إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ وَإِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ وَإِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ- (سُنَنُ التِرْمِذِيْ : بَابُ وَمِنْ سُوْرَةِ إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ)

১. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর "    থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল  #   ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি স্বচক্ষে কিয়ামতের দৃশ্য দেখার আনন্দ উপভোগ করতে চায়, তাহলে তার সূরা তাকভীর, সূরা ইনফিতার, সূরা ইনশিক্বাক পড়া উচিত। (সুনানু তিরমিজি : বাবু ওয়া মিন সূরাতি ইযাশ শামছু কুব্বিরাত, ৩২৫৬)

عَنْ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ  وَاللهِ مَا الدُّنيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا مِثْلُ مَ يَجْعَلُ اَحَدُكُمْ اِصْبَعَهُ هذِهِ وَأَشَارَ يَحْى بِالسَّبَّابَةِ فِيْ الْيَمِّ فَلْيَنْظُرْ بِمَ تَرْجِعُ-(مسلم : بَابُ فَنَاءِ الدُّنْيَا وَبَيَانِ الْحَشْرِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ)

২. হজরত মুস্তাওরিদ বিন শাদ্দাদ "    থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন হজরত নবি করী  #    বলেছেন, পরকালের তুলনায় দুনিয়া শুধু ততটুকু যে, তোমাদের কেহ যদি তার আঙ্গুলি (হাদীসের এক বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া অনামিকা আঙুলে ইশারা করলেন অর্থাৎ কেহ যদি তার অনামিকা আঙুলি) সমুদ্রে ডুবিয়ে বের করে আনে, অতপর সে দেখবে যে, সেই আঙুলি কতটুকু পানি নিয়ে ফিরছে। (মুসলিম : বাবু ফানাইদ দুনিয়অ ওয়াবায়ানিল হাশরি ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি, ৫১০১)

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ النِّسَاءُ وَالرِّجَالُ جَمِيْعًا يَنْظُرُ بَعْضُهُمْ اِلى بَعْضٍ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَا عَائِشَةُ اَلْاَمْرُ أَشَدُّ مِنْ أَنْ يَنْظُرَ بَعْضُهُمْ اِلى بَعْضٍ –(بُخَارِيْ : بَابُ كَيْفَ الْحَشْرُ، مُسْلِمْ : بَابُ فَنَاءِ الدُّنْيَا وَبَيَانِ الْحَشْرِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ)

৩. হজরত আয়েশা "    থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূল  #    কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন মানুষকে নগ্ন পায়ে, উলঙ্গ, খাতনাবিহীন অবস্থায় একত্রিত করা হবে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ #    নাবী-পুরুষ এক সাথে? পরস্পর পরস্পরের দিকে তাকাবে। রাসূল #     বলেছেন, হে আয়েশা! সেদিনকার অবস্থা এত ভয়াবহ যে একজন অন্যের দিকে তাকানোর ফুরসত পাবে না। (বুখারি : বাবু কাইফাল হাশর-৬০৪৬, মুসলিম : বাবু ফানাইদ দুনিয়া ওয়া বায়ানিল হাশরি ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি, ৫১০২)

عَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ لَا تَزُوْلُ قَدَمُ ابْنِ اٰدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّه حَتّٰى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ عَنْ عُمُرِه فِيْمَ أَفْنَاهُ وَعَنْ شَبَابِهِ فِيْمَ أَبْلَاهُ وَمَالِه مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَه وَفِيْمَ أَنْفَقَه وَمَاذَا عَمِلَ فِيْمَا عَلِمَ ـ (اَلتِرْمِذِيْ: بَابُ مَاجَاءَ فِيْ شَاْنِ الْحِسَابِ وَالْقِصَاصِ حَسَّنَهُ الْاَلْبَانِىْ)

৪. হজরত ইবনে মাসউদ "    নবি  #   থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন কোন আদম সন্তানের পা এক কদমও নড়তে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে পাঁচটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা না হবে।

(ক) নিজের জীবনকাল সে কোন কাজে অতিবাহিত করেছে? (খ) যৌবনের শক্তি সামর্থ্য কোথায় ব্যয় করেছে? (গ) ধন-সম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে? (ঘ) কোথায় তা ব্যয় করেছে? (ঙ) এবং সে (দ্বীনের) যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছে সে অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে?

(তিরমিজি : বাবু মাজা’আ ফি শানিল হিসাবি ওয়াল ক্বিসাসি, ২৩৪০)

عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلى أَرْضٍ بَيْضَاءَ عَفْرَاءَ كَقُرْصَةِ النَّقِىِّ لَيْسَ فِيْهَا عَلَمٌ لِاَحَدٍ- (بخارى : بَابُ يَقْبِضُ اللهُ الْاَرْضَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، مُسْلِمْ : بَابٌ فِيْ الْبَعْثِ وَالنُّشُوْرِ وَصِفَةِ الْاَرْضِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ)

৫. হজরত সাহাল বিন সায়াদ "    থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, কিয়ামতের দিন মানব জাতিকে স্বচ্ছ আটার রুটির ন্যায় লালিমাযুক্ত শ্বেবর্ণ জমীনে একত্রিত করা হবে, যেখানে কারও কোন ঘর বাড়ির চিহ্ন থাকবে না। (বুখারি : বাবু ইয়াক্ববিদুল্লাহুল আরদা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি, ৬০৪০, মুসলিম : বাবুন ফিল বা‘সি ওয়ান নুশুরি ওয়া সিফাতিল আরদি ইয়াওমালা ক্বিয়ামতি : ৪৯৯৮)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَال رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَالَ اللهُ أَعْدَدْتُ لِعِبَادِىَ الصَّالِحِيْنَ مَالَا عَيْنٌ رَأَتْ وَ لَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلى قَلْبِ بَشَرٍ فَاقْرَئُوْا اِنْ شِئْتُمْ "فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا اُخْفِي لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ اَعْيٌنٍ-(بُخَارِيْ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ صِفَةِ الْجَنَّةِ، مُسْلِمْ : كِتَابُ الْجَنَّةِ وَصِفَةِ نَعِيْمِهَا وَاَهْلِهَا)

৬. হজরত আবু হুরায়রা "    থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আমি আমার সালেহ বান্দাহদের জন্য এমনসব নিয়ামত তৈরি করে রেখেছি, যা কোন চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান কখনো শুনেনি এবং কোন মানুষের অন্তর কখনো কল্পনাও করতে পারেনি, যদি তোমরা ইছ্ছা করো, নিম্নের আয়াতটি পড়তে পারো। “ কোনো মানুষই জানে না আমি তাদের জন্য কী সব চক্ষু শীতলকারী পরম নিয়ামত গুপ্ত রেখেছি। (বুখারি : বাবু মা জা আ ফি সিফাতিল জান্নাতি : ৩০০৫, মুসলিম : বাবু ন  ফিল বা‘সি ওয়ান নুশুরি ওয়া সিফাতিল আরদি ইয়াওমালা ক্বিয়ামতি : ৪৯৯৮)









৪. ঈমান : الْاِيْمَانُ

الْاِيْمَانُ অর্থ বিশ্বাস করা, আনুগত্য করা, স্বীকৃতি দেয়া, অবনত হওয়া। নবি করিম #    যা কিছু নিয়ে এসেছেন সবকিছুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাকে ঈমান বলে।


আল-কুরআন

اٰمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْهِ مِنْ رَّبِّهٖ وَ الْمُؤْمِنُوْنَ  كُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ مَلٰٓىِٕكَتِهٖ وَ كُتُبِهٖ وَ رُسُلِهٖ  لَا نُفَرِّقُ بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهٖ وَ قَالُوْا سَمِعْنَا وَ اَطَعْنَا  غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَ اِلَیْكَ الْمَصِیْرُ

১. রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্ল¬াহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের ওপর, আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল। (সূরা বাকা-২ : ২৮৫)

لَاۤ اِكْرَاهَ فِی الدِّیْنِ ۙ۫ قَدْ تَّبَیَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَیِّ ۚ فَمَنْ یَّكْفُرْ بِالطَّاغُوْتِ وَ یُؤْمِنْۢ بِاللّٰهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقٰی ۗ لَا انْفِصَامَ لَهَا ؕ وَ اللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ

২. দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই। নিশ্চয়ই হিদায়াত স্পষ্ট হয়েছে ভ্রষ্টতা থেকে। অতএব, যে ব্যক্তি তাগূতকে অস্বীকার করে এবং আল্ল¬াহর প্রতি ঈমান আনে, অবশ্যই সে মজবুত রশি আঁকড়ে ধরে, যা ছিন্ন হবার নয়। আর আল্ল¬াহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা বাকারা-২ : ২৫৬)

إِنَّ اللّٰهَ یُدْخِلُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهٰرُ یُحَلَّوْنَ فِیْهَا مِنْ اَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَّ لُؤْلُؤًا ؕ وَ لِبَاسُهُمْ فِیْهَا حَرِیْرٌ

৩. যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন এমন জান্নাতে, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। যেখানে তাদেরকে সোনার কাঁকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং যেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের। (সূরা হজ্জ-২২ : ২৩)

إِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ الَّذِیْنَ هَادُوْا وَ النَّصٰرٰی وَ الصّٰبِـِٕیْنَ مَنْ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَ عَمِلَ صَلِحًا فَلَهُمْ اَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ۪ۚ وَ لَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَ لَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ

৪. নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, যারা ইয়াহূদী হয়েছে এবং নাসারা ও সাবিঈরাÑ (তাদের মধ্যে) যারা ঈমান এনেছে আল্ল¬াহ ও আখিরাতের দিনের প্রতি এবং নেক কাজ করেছে Ñ তবে তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট তাদের প্রতিদান । আর তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। (সূরা বাকারা-২ : ৬২)

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ ثُمَّ لَمْ یَرْتَابُوْا وَ جٰهَدُوْا بِاَمْوَالِهِمْ وَ أَنْفُسِهِمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الصّٰدِقُوْنَ

৫. মুমিন কেবল তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, তারপর সন্দেহ পোষণ করেনি। আর নিজদের সম্পদ ও নিজদের জীবন দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে। এরাই সত্যনিষ্ঠ। (সূরা হুজুরাত - ৪৯ : ১৫)

قُلْ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ وَ مَاۤ اُنْزِلَ عَلَیْنَا وَ مَاۤ اُنْزِلَ عَلٰۤی اِبْرٰهِیْمَ وَ اِسْمٰعِیْلَ وَ اِسْحٰقَ وَ یَعْقُوْبَ وَ الْاَسْبَاطِ وَ مَاۤ اُوْتِیَ مُوْسٰی وَ عِیْسٰی وَ النَّبِیُّوْنَ مِنْ رَّبِّهِمْ ۪ لَا نُفَرِّقُ بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْهُمْ ؗ وَ نَحْنُ لَهٗ مُسْلِمُوْنَ

৬. বল, ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্ল¬াহর প্রতি এবং যা নাজিল করা হয়েছে আমাদের ওপর, আর যা নাজিল হয়েছে ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাদের সন্তানদের ওপর। আর যা দেয়া হয়েছে মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবিকে তাদের রবের পক্ষ থেকে, আমরা তাদের কারো মধ্যে পার্থক্য করি না এবং আমরা তারই প্রতি আত্মসমর্পণকারী’। (সূরা আলে ইমরান-৩ : ৮৪)

اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ لَمْ یَلْبِسُوْۤا اِیْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ اُولٰٓىِٕكَ لَهُمُ الْاَمْنُ وَ هُمْ مُّهْتَدُوْنَ

৭. যারা ঈমান এনেছে এবং নিজ ঈমানকে যুলমের সাথে সংমিশ্রণ করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত। (সূরা আনআম-৬ : ৮২)

وَ لَوْ اَنَّ اَهْلَ الْقُرٰۤی اٰمَنُوْا وَ اتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَیْهِمْ بَرَكٰتٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَ الْاَرْضِ وَ لٰكِنْ كَذَّبُوْا فَاَخَذْنٰهُمْ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ

৮. আর যদি জনপদসমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি অবশ্যই আসমান ও যমীন থেকে বরকতসমূহ তাদের ওপর খুলে দিতাম; কিন্তু তারা অস্বীকার করল। অতপর তারা যা অর্জন করত তার কারণে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। (সূরা আরাফ-৭ : ৯৬)

اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ الطَّاغُوْتِ فَقَاتِلُوْۤا اَوْلِیَآءَ الشَّیْطٰنِ إِنَّ كَیْدَ الشَّیْطٰنِ كَانَ ضَعِیْفًا۠ক্স

৯. যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, আর যারা কুফরি করেছে তারা তাগুতের পথে লড়াই করে। তাই শয়তানের সাথীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাও। জেনে রাখ, শয়তানের চাল আসলে বড়ই দুর্বল। (সূরা নিসা- ০৪:৭৬)

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا ادْخُلُوْا فِی السِّلْمِ كَآفَّةً وَّ لَا تَتَّبِعُوْا خُطُوٰتِ الشَّیْطٰنِ إِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِیْنٌ.

১০. হে মুমিনগণ, তোমরা ইসলামে পূর্ণরূপে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না । নিশ্চয় সে তোমাদের জন্য স্পষ্ট শত্রু। (বাকারা : ২০৮)

إِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنّٰتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا-خٰلِدِیْنَ فِیْهَا لَا یَبْغُوْنَ عَنْهَا حِوَلًا.

১১. নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের মেহমানদারির জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। তারা সেখান থেকে অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হতে চাইবে না। (কাহাফ : ১০৭-১০৮)

اَللّٰهُ وَلِیُّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا یُخْرِجُهُمْ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوْرِ وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَوْلِیٰٓـُٔهُمُ الطَّاغُوْتُ یُخْرِجُوْنَهُمْ مِّنَ النُّوْرِ اِلَی الظُّلُمٰتِ اُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ النَّارِ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ.

১২. যারা ঈমান এনেছে আল্ল¬াহ তাদের বন্ধু, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কুফরি করে, তাদের অভিভাবক হল তাগূত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারে নিয়ে যায়। তারা আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। (বাকারা : ২৫৭)

مَاۤ اَصَابَ مِنْ مُّصِیْبَةٍ إِلَّا بِاِذْنِ اللّٰهِ وَ مَنْ یُّؤْمِنْۢ بِاللّٰهِ یَهْدِ قَلْبَهٗ وَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ.

১৩. আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন বিপদই আপতিত হয় না। যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, আল্লাহ, তার অন্তরকে সৎপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বজ্ঞ। (তাগাবুন : ১১)


আল হাদিস

عَنْ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ اَنَّهُ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهِ ﷺ  يَقُوْلُ ذَاقَ طَعْمَ الْاِيْمَانِ مَنْ رَضِيَ بِاللهِ رَبًّا وَّبِالْاِسْلَامِ دِيْنًا وَّ بِمُحَمَّدٍ رَسُوْلًا- (مُسْلِمْ : بَابُ الدَّلِيْلِ عَلى أنَّ مَنْ رَضِيَ بِاللهِ ربًّا)

عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰى يُحِبَّ لِاَخِيْهِ مَا يُحِبَّ لِنَفْسِه ـ (بُخَارِيْ)

১. হজরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব "    থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল  #  কে বলতে শুনেছেন, যে পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মদ  #    কে রাসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্টি লাভ করেছে সেই ব্যক্তি ঈমানের প্রকৃত স্বাদ লাভ করেছে।

(মুসলিম, বাবুদ দালিলি আলা আন্না মান রাদিয়া বিল্লাহি রাব্বা : ৪৯)

عَنْ عَمْرٍو بْنِ عَبَسَةَ قَالَ : قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ مَا الْاِيْمَانُ؟ قَالَ الصَّبْرُ وَالسَّمَاحَةُ-(ذَكَرَهُ الْاَلْبَانِىْ فِي السِّلْسِلَةِ الصَّحِيْحَةِ)

২. হজরত আমর বিন আবাসা "    থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবি করিম  #   কে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঈমান কী? তিনি বললেন, সব তথা ধৈর্য ও সহনশীলতা, সামাহাত তথা দানশীলতা ও উদারতাই হচ্ছে ঈমান। (আলবানী ছিলছিলা সহীহায় তা উল্লেখ করেছেন, ৫৫১)

عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتّٰى يُحِبَّ لِاَخَيْهِ مَا يُحَبُّ لِنَفْسِهِ-(بُخَارِيْ : بَابُ مِنَ الْاِيْمَانِ أَنْ يُّحِبَّ لِأَخِيْهِ مَا يُحَبُّ لِنَفْسِهِ، مسلم : بَابُ الدَّلِيْلِ عَلى أَنَّ مِنْ خِصَالِ الْاِيْمَانِ)

৩. হজরত আনাস "   নবি করিম  #   থেকে বর্ণনা করেন, নবি করিম #   ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্য হতে কেহই ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন পছন্দ করে। (বুখারি : বাবু মিনাল ঈমানি আন ইউহিব্বা লি আখিহী মা ইউহিব্বু লিনাফসিহি : ১২, মুসলিম : বাবুদ দালিলি আলা আন্না মিন খিছালিল ঈমান : ৬৪)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو  قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتّٰى يَكُوْنَ هَوَاهُ تَبْعًا لِمَا جِئْتُ بِهِ (اَلْاِبَانَةُ الْكُبْرٰى لِاِبْنِ بَطَّةَ، صَحَّحَهُ الْاَلْبَانِىْ) 


৪. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর "   থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল  # বলেছেন, তোমাদের কেহই ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তার প্রবৃত্তি আমার আনীত দ্বীনের অনুগত না হবে। (ইবানাতুল কুবরা লিইবনি বাত্তাহ : ২১৯)

عَنْ أَبِيْ اُمَامَةَ قَالَ قَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مَا الْاِيْمَانُ قَالَ إِذَا سَرَّتْكَ حَسَنَتُكَ وَ سَائَتْكَ سَيِّئَتُكَ فَأَنْتَ مُؤْمِنٌ، قَالَ : يَا رَسُوْلَ اللهِ فَمَا الْاِثْمُ؟ قَالَ : إِذَا حَاَكَ فِيْ صَدْرِكَ شَيْئٌ فَدَعْهُ- (ذَكَرَهُ الْاَلْبَانِىْ فِي السِّلْسِلَةِ الصَّحِيْحَةِ)

৫. হজরত আবু উমাম "   থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল  #   কে জিজ্ঞেস করল, ঈমান কী? তিনি বললেন, যখন তোমার ভালো কাজ তোমাকে আনন্দিত করবে এবং খারাপ কাজ তোমাকে কষ্ট দেবে তথা অনুতপ্ত করবে তখন তুমি বুঝবে তুমি ঈমানদার ব্যক্তি। ঐ ব্যক্তি বলল, অতপর গুনাহ কী? রাসূল #   বললেন, যখন তোমার হৃদয়ে কোন বিষয় সংশয় সৃষ্টি করে, তখন তা তুমি ছেড়ে দাও। (আলবানী হাদিসটিকে ছিলছিলা সহীহায় উল্লেখ করেছেন : ৫৫০)

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِىْ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ مَثَلُ الْمُؤْمِنِ وَ مَثَلُ الْاِيْمَانِ كَمَثَلِ الْفَرَسِ عَلى أَخَيْهِ يَجُوْلُ ثُمَّ يَرْجِعُ  اِلى أَخِيَّتِهِ وَإِنَّ الْمُؤْمِنَ يَسْهُوْ ثُمَّ يَرْجِعُ اِلى الْاِيْمَانِ، فَاَطْعِمُوْا طَعَامَكُمْ الْأَتْقِيَاءَ، وَوَلَوْا مَعْرُوْفَكُمْ الْمؤْمِنِيْنَ-(صَحِيْحُ ابْنِ حِبَّانٍ : بَابُ التَّوْبَةِ)

৬. হজরত আবু সাঈদ খুদরী "    রাসূল  #   থেকে বর্ণনা করেছেন, ঈমানদার ব্যক্তি ও ঈমানের দৃষ্টান্ত হচ্ছে খুঁটির সাথে (রশি দিয়ে বাঁধা) ঘোড়া, যা চতুর্দিকে ঘুরতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত খুঁটির দিকেই ফিরে আসে। অনুরূপভাবে ঈমানদার ব্যক্তিরাও ভুল করে থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে ঈমানের দিকেই ফির আসে। অতএব তোমরা মুত্তাকি লোকদেরকে তোমাদের খাদ্য খাওয়াও এবং ঈমানদার লোকদে সাথে ভালো ব্যবহার কর। (সহীহ ইবনে হিব্বান : বাবুত তাওবাহ : ৬১৮)

عَنْ عَبَّاسٍ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ذَاقَ طَعْمَ الْاِيْمَانِ مَنْ رَّضِيَ بِاللهِ رَبًّا وَّ بِالْاِسْلَامِ دِيْنًا وَّ بِمُحَمَّدٍ رَسُوْلًا-

৭. আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব "    থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল #    বলেছেন, যে ব্যক্তি পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মদ #    কে নবি হিসেবে মেনে নিয়েছে সে ব্যক্তি ঈমানের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করল। (বুখারি, মুসলিম : বাবুল ঈমান, পৃ. ১১৭)

عَنْ أَبِيْ اُمَامَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مَنْ اَحَبَّ للهِ وَ اَبْغَضَ للهِ وَاعْطٰى للهِ وَ مَنَعَ للهِ فَقَدْ اِسْتَكْمَلَ الْاِيْمَانَ-

৮. আবু উমামাহ "     থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি করিম #     বলেছেন, যে বক্তির ভালোবাসা, শত্রুতা, দান করা এবং না করা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হয়ে থাকে প্রকৃতপক্ষে সেই পূর্ণ ঈমানদার। (বুখারি শরীফ)




























৫. জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য : اَلْهَدَفُ وَالْغَايَةُ


আল-কুরআন

اِنِّیْ وَجَّهْتُ وَجْهِیَ لِلَّذِیْ فَطَرَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ حَنِیْفًا وَّ مَا اَنَا مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ.

১. আমি তো একমুখী হয়ে তাঁর দিকেই আমার মুখ ফিরালাম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি কখনো মুশরিকদের মধ্যে শামিল নই। (সূরা আন’আম- ০৬:৭৯)

قُلْ إِنَّ صَلَاتِیْ وَ نُسُكِیْ وَ مَحْیَایَ وَ مَمَاتِیْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ.

২. (হে রাসূল!) বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার সবরকম ইবাদত, আমার হায়াত, আমার মওত সবকিছুই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য। (সূরা আন’আম- ০৬:১৬২)

وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یَّشْرِیْ نَفْسَهُ ابْتِغَآءَ مَرْضَاتِ اللّٰهِ وَ اللّٰهُ رَءُوْفٌ بِالْعِبَادِ.

৩. অপরদিকে মানুষের মধ্যে কেউ এমনও আছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত বিক্রি করে দেয় এবং এমন বান্দাদের ওপর আল্লাহ বড়ই মেহেরবান। (সূরা বাকারা- ০২:২০৭)

إِنَّ اللّٰهَ اشْتَرٰی مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ أَنْفُسَهُمْ وَ اَمْوَالَهُمْ بِاَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ فَیَقْتُلُوْنَ وَ یُقْتَلُوْنَ وَعْدًا عَلَیْهِ حَقًّا فِی التَّوْرٰىةِ وَ الْاِنْجِیْلِ وَ الْقُرْاٰنِ وَ مَنْ اَوْفٰی بِعَهْدِه مِنَ اللّٰهِ فَاسْتَبْشِرُوْا بِبَیْعِكُمُ الَّذِیْ بَایَعْتُمْ بِه وَ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ.

৪. (আসল ব্যাপার হলো) আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জান ও মাল বেহেশতের বদলে কিনে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, (দুশমনকে) মারে এবং (নিজেরাও) নিহত হয়। তাদেরকে (বেহেশত দেয়ার ওয়াদা) আল্লাহর দায়িত্বে একটি মজবুত ওয়াদা-যা তাওরাত, ইনজিল ও কুরআনে (করা হয়েছে)। ওয়াদা পালনে আল্লাহর চেয়ে বেশি যোগ্য আর কে আছে? সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে যে বেচা-কেনার কারবার করেছ, সে বিষয়ে খুশি হয়ে যাও। এটাই সবচেয়ে বড় সফলতা (সূরা তাওবাহ- ০৯:১১১)

وَ مَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَ الْاِنْسَ إِلَّا لِیَعْبُدُوْنِ.

৫. আমি জিন ও মানবজাতিকে আমার ইবাদত করা ছাড়া আর কারো গোলামির উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি। (সূরা যারিয়াত- ৫১:৫৬)

وَ مَاۤ اُمِرُوْۤا إِلَّا لِیَعْبُدُوا اللّٰهَ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ ۙ۬ حُنَفَآءَ وَ یُقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ یُؤْتُوا الزَّكٰوةَ وَ ذٰلِكَ دِیْنُ الْقَیِّمَةِ.

৬. আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ‘ইবাদাত করে তাঁরই জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে, সালাত কায়েম করে এবং  যাকাত দেয়; আর এটিই হল সঠিক দীন। (সূরা বায়্যিনাহ-৯৮ : ৫)

إِنَّاۤ أَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللّٰهَ مُخْلِصًا لَّهُ الدِّیْنَ.

৭. নিশ্চয় আমি তোমার কাছে যথাযথভাবে এই কিতাব নাজিল করেছি; অতএব আল্লাহর ‘ইবাদাত কর তাঁরই আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। (সূরা যুমার-৩৯ : ২)

إِلَّا ابْتِغَآءَ وَجْهِ رَبِّهِ الْاَعْلٰیۚ - -وَ لَسَوْفَ یَرْضٰی.

৮. কেবল তার মহান রবের সন্তুষ্টির প্রত্যাশায়। আর অচিরেই সে সন্তোষ লাভ করবে। (সূরা লাইল-৯২ : ২০-২১)


আল হাদিস

عَنْ اَبِيْ اُمَامَةَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  اَنَّه قَالَ مَنْ أَحَبَّ لِلّٰهِ وَأَبْغَضَ لِلّٰهِ وَ أَعْطٰى لِلّٰهِ وَمَنَعَ لِلّٰهِ فَقَدْ اِسْتَكْمَلَ الْاِيْمَانَ ـ (اَبُوْ دَاؤُدَ: بَابُ الدَّلِيْلِ عَلٰى زِيَادَةِ الْاِيْمَانِ وَنُقْصَانِهِ)  

১. হজরত আবু উমামা "    রাসূল  #    থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ  #   বলেছেন, যে (কাউকে) ভালোবাসল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, শত্রুতা পোষণ করল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, কিছু দান করল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, আর দান থেকে বিরত থাকল তাও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, সেই ঈমানের পূর্ণতা লাভ করল। (আবু দাউদ, বাবুদ দালিলি আলা যিয়াদাতিল ঈমানি ওয়া নুকসানিহি : ৪৬৮১) 

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لِأَبِيْ ذَرٍّ : اَىُّ عُرَى الْاِيْمَانِ اَوْثَقُ : قَالَ : اللهُ وَرَسُوْلُهُ أَعْلَمُ، قَالَ الْمُوَالَاةُ فِيْ اللهِ، وَالْحُبُّ فِي اللهِ، وَالْبُغْضُ فِي اللهِ ( الْبَيْهَقِىْ : شُعَبُ الْاِيْمَانِ)

২. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে অব্বাস "    থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল  #    হজরত আবু যর "   কে প্রশ্ন করেন, বল ঈমানের কোন রশিটি অধিক মজবুত? তিনি বললেন, আল্লা ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহ    #    বললেন, আল্লাহরই জন্য পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা স্থাপন এবং আল্লাহরই জন্য কারো সাথে ভালোবাসা এবং আল্লাহরই জন্য কারো সাথে শত্রুতা ও মনোমালিন্য করা। (বায়হাকি : শুয়াবুল ঈমান, ৯১৯৩) 

عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيْهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الْاِيْمَانِ أَنْ يَّكُوْنَ اللهُ وَرَسُوْلُهُ أَحَبَّ اِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ وَأَنْ يَّكْرَهَ أَنْ يَعُوْدَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُّقْذَفَ فِي النَّار- ( بُخَارِيْ : بَابُ حَلَاوَةِ الْاِيْمَانِ)

৩. হজরত আনাস বিন "    থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল  #     থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেন, তিনটি জিনিস তেমাদের যার মধ্যে পাওয়া যাবে, সে ঈমানের স্বাদ লাভ করতে পারবে, তা হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার নিকট অন্য সকলের অপেক্ষা অধিক প্রিয় হবেন, সে কাউকে ভালোবসবে একমাত্র আল্লাহর জন্যই এবং সে কখনো কুফরির মধ্যে পুনরায় ফিরে যেতে রাযি হবে না, যেমন রাজি হবে না আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে। (বুখারি : বাবু হালাওয়াতিল ঈমানি, ১৫) 

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ يَقُوْلُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ اَيْنَ الْمُتَحَابُّوْنَ بِجَلَالِىْ الْيَوْمَ أَظِلُّهُمْ فِيْ ظِلِّىْ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّىْ- (مُسْلِمْ : بَابٌ فِيْ فَضْلِ الْحُبِّ فِي اللهِ)

৪. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল  #    বলেছেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন, যারা আমার খাতিরে পরস্পরকে ভালোবাসতে, তারা কোথায়? আজ তোমাদেরকে আমার (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দিব, আজ আমার (আরশের) ছায়া ব্যতীত অন ্য কোন ছায়ায় নেই। (মুসলিম : বাবুন ফী ফাদলিল হুব্বি ফিল্লাহি : ৪৬৫৫)

عَنْ أَبِيْ اِدْرِيْسَ الْخَوْلَانِىِّ اَنَّهُ قَالَ اَنَّهُ قَالَ جِئْتُ اِلى مُعَاذِبْنِ جَبَلٍ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ ثُمَّ قُلْتُ وَاللهِ إِنِّيْ لَاُحِبُّكَ لِلَّهِ فَقَالَ أاللهُ فَقُلْتُ أاَللهِ فَقَالَ أاَللهُ فَقُلْتُ أَاَللهِ فَقَالَ أَاللهِ فَقُلْتُ أَاَللهِ قَالَ فَأَخَذَ بِحُبْوَةِ رِدَائِىْ فَجَبَذَنِىْ اِلَيْهِ وَقَالَ اَبْشِرْ فَإِنِّيْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَ وَجَبَتْ مُحَبَّتِىْ لِلْمُتَحَبِّيْنَ فِي وَالْمُتَجَالِسِيْنَ فِي وَالْمُتَزَاَوِرِيْنَ فِي وَالْمُتَبَاذِلِيْنَ فِي-(مُؤَطَّاْ مَالِكٍ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ الْمُتَحَابِّيْنَ فِي اللهِ)

৫.  হজরত আবু ইদরীস খাওলানী "    থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,  আমি হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল "   এর নিকট গিয়ে তাকে সালাম দিলাম। অতপর বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি বললাম, হ্যাঁ আল্লাহর শপথ! তিনি আবার বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি বললাম, হ্যা আল্লাহর শপথ! তিনি আবার বললেন, আল্লাহর শপথ! বর্ণনাকারী বলেন, অতপর তিনি আমার চাদর ধরে তার দিকে আমাক টান দিলেন এবং বললেন, একটি সুসংবাদ শোন। কেননা আমি রাসূল  #   কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা অনিবার্য, যারা আমার উদ্দেশ্য পরস্পরকে ভালোবাসে, আমার উদ্দেশ্যে একত্রে বসে, আমার খাতিরে পরস্পর সাক্ষাতে মিলিত হয় এবং আমার খাতিরে একে অন্যের জন্য ব্যয় করে। (মুয়াত্তা মালেক : বাবু মা জাআ ফিল মুতাহাব্বিনা ফিল্লাহ : ১৫০৩)

عَنْ عَبَّاسٍ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ذَاقَ طَعْمَ الْاِيْمَانِ مَنْ رَّضِيَ بِاللهِ رَبًّا وَّ بِالْاِسْلَامِ دِيْنًا وَّ بِمُحَمَّدٍ رَسُوْلًا-

৬. আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব "    থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল #    বলেছেন, যে ব্যক্তি পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মদ #    কে নবি হিসেবে মেনে নিয়েছে সে ব্যক্তি ঈমানের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করল। (বুখারি, মুসলিম : বাবুল ঈমান, পৃ. ১১৭)

৬. দাওয়াত : اَلدَّعْوَةُ

اَلدَّعْوَةُ অর্থ ডাকা, আহ্বান করা, আমন্ত্রণ জানানো। ইহকালীন কল্যাণ, পরকালীন তথা আখিরাতের মুক্তির জন্য মানব জাতিকে আল্লাহর বিধানের দিকে আহ্বান করাকে দাওয়াত বলে। অথবা ইসলামী শরীয়তের বিধি-বিধান পালনের জন্য আহ্বান করাকে দাওয়াত বলে।


আল-কুরআন

اُدْعُ اِلٰی سَبِیْلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَ الْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَ جَادِلْهُمْ بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِیْلِه وَ هُوَ اَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِیْنَ.

১. (হে নবি!) হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আপনি মানুষকে আপনার রবের পথে ডাকুন। আর তাদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করতে হলে সুন্দরভাবে করুন। আপনার রবই বেশি জানেন যে, কে তাঁর পথ থেকে সরে আছে, আর কে সঠিক পথে আছে। (সূরা নাহ্ল- ১৬:১২৫)

وَ مَنْ اَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّنْ دَعَا اِلَی اللّٰهِ وَ عَمِلَ صَالِحًا وَّ قَالَ إِنَّنِیْ مِنَ الْمُسْلِمِیْنَ.

২. তার চেয়ে আর কে উত্তম কথার অধিকারী হতে পারে যে (মানুষকে) ডাকে আল্লাহর পথে, সৎকর্ম করে এবং বলে নিশ্চয়ই আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত (হা-মিম আস-সাজদাহ- ৪১:৩৩)

یٰاَیُّهَا الرَّسُوْلُ بَلِّغْ مَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكَ مِنْ رَّبِّكَ ؕ وَ اِنْ لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهٗ ؕ وَ اللّٰهُ یَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ ؕ إِنَّ اللّٰهَ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الْكٰفِرِیْنَ

৩. হে রাসূল, তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার নিকট যা নাজিল করা হয়েছে, তা পৌঁছে দাও আর যদি তুমি না কর তবে তুমি তাঁর রিসালাত পৌঁছালে না। আর আল্লাহ তোমাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না। (সূরা মায়েদা-৫ : ৬৭)

كُنْتُمْ خَیْرَ اُمَّةٍ اُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَ تَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ ؕ وَ لَوْ اٰمَنَ اَهْلُ الْكِتٰبِ لَكَانَ خَیْرًا لَّهُمْ ؕ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُوْنَ وَ اَكْثَرُهُمُ الْفٰسِقُوْنَ.

৪. তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল¬াহর প্রতি ঈমান আনবে। আর যদি আহলে কিতাব ঈমান আনত, তবে অবশ্যই তা তাদের জন্য কল্যাণকর হত। তাদের কতক ঈমানদার। আর তাদের অধিকাংশই ফাসিক। (সূরা আলে ইমরান-৩ : ১১০)

وَ لْتَكُنْ مِّنْكُمْ اُمَّةٌ یَّدْعُوْنَ اِلَی الْخَیْرِ وَ یَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَ یَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ ؕ وَ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ.

৫. আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহ্বান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম। (সূরা আলে ইমরান-৩ : ১০৪)

یٰاَیُّهَا النَّبِیُّ إِنَّا اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّ مُبَشِّرًا وَّ نَذِیْرًاক্স وَّ دَاعِیًا اِلَی اللّٰهِ بِاِذْنِه وَ سِرَاجًا مُّنِیْرًا.

৬. হে নবি! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী বানিয়ে, সুখবরদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে, আল্লাহর অনুমতিতে তাঁর দিকে দাওয়াতদাতা বানিয়ে এবং উজ্জ্বল বাতি হিসাবে। (সূরা আহযাব- ৩৩: ৪৫-৪৬)

قُلْ هٰذِهٖ سَبِیْلِیْۤ اَدْعُوْۤا اِلَی اللّٰهِ ؔ۫ عَلٰی بَصِیْرَةٍ اَنَا وَ مَنِ اتَّبَعَنِیْ ؕ وَ سُبْحٰنَ اللّٰهِ وَ مَاۤ اَنَا مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ

৭. বল, ‘এটা আমার পথ। আমি জেনে-বুঝে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেই এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারাও। আর আল্লাহ পবিত্র মহান এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই’। (সূরা ইউসুফ-১২ : ১০৮)

یٰاَیُّهَا الْمُدَّثِّرُক্স  قُمْ فَأَنْذِرْক্স  وَ رَبَّكَ فَـكَبِّرْ.

৮. হে কম্বল মুড়ি দিয়ে শায়িত ব্যক্তি! ওঠ এবং সাবধান কর এবং তোমার রবের বড়ত্ব প্রচার কর। (সূরা মুদ্দাস্সির-৭৪:১-৩)

فَلِذٰلِكَ فَادْعُ ۚ وَ اسْتَقِمْ كَمَاۤ اُمِرْتَ ۚ وَ لَا تَتَّبِعْ اَهْوَآءَهُمْ ۚ وَ قُلْ اٰمَنْتُ بِمَاۤ أَنْزَلَ اللّٰهُ مِنْ كِتٰبٍ ۚ وَ اُمِرْتُ لِاَعْدِلَ بَیْنَكُمْ ؕ اَللّٰهُ رَبُّنَا وَ رَبُّكُمْ ؕ لَنَاۤ اَعْمَالُنَا وَ لَكُمْ اَعْمَالُكُمْ ؕ لَا حُجَّةَ بَیْنَنَا وَ بَیْنَكُمْ ؕ اَللّٰهُ یَجْمَعُ بَیْنَنَا ۚ وَ اِلَیْهِ الْمَصِیْرُ.

৯. এ কারণে তুমি আহবান কর এবং দৃঢ় থাক যেমন তুমি আদিষ্ট হয়েছ। আর তুমি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না এবং বল, ‘আল্লাহ যে কিতাব নাজিল করেছেন আমি তাতে ঈমান এনেছি এবং তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ আমাদের রব এবং তোমাদের রব। আমাদের কর্ম আমাদের এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের; আমাদের ও তোমাদের মধ্যে কোন বিবাদ-বিসম্বাদ নেই; আল্লাহ আমাদেরকে একত্র করবেন এবং প্রত্যাবর্তন তাঁরই কাছে’। (সূরা শূরা-৪২ : ১৫)

إِنَّا اَرْسَلْنٰكَ بِالْحَقِّ بَشِیْرًا وَّ نَذِیْرًا وَ اِنْ مِّنْ اُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِیْهَا نَذِیْرٌ.

১০. নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সত্য সহকারে সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী হিসেবে পাঠিয়েছি। আর এমন কোন উম্মত গত হয়নি, যাদের মধ্যে কোনো সতর্ককারী আসেনি। (সূরা ফাতির- ৩৫:২৪)

وَ قُلِ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّكُمْ ۫ فَمَنْ شَآءَ فَلْیُؤْمِنْ وَّ مَنْ شَآءَ فَلْیَكْفُرْ ۙ إِنَّاۤ اَعْتَدْنَا لِلظّٰلِمِیْنَ نَارًا ۙ اَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا ؕ وَ اِنْ یَّسْتَغِیْثُوْا یُغَاثُوْا بِمَآءٍ كَالْمُهْلِ یَشْوِی الْوُجُوْهَ ؕ بِئْسَ الشَّرَابُ وَ سَآءَتْ مُرْتَفَقًا.

১১. পরিষ্কার বলে দিন, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এটাই সত্য। এখন যার ইচ্ছা ঈমান আনুক, আর যার ইচ্ছা কুফরি করুক। আমি (অস্বীকারকারী) যালিমের জন্য আগুন তৈরি করে রেখেছি, যার শিখা তাদেরকে ঘিরে ফেলেছে। সেখানে তারা যদি পানি চায় তাহলে এমন পানি দেয়া হবে, যা তেলের মতো এবং যা তাদের চেহারাকে ঝলসিয়ে দেবে। (সেটা) কতই না মন্দ পানীয় এবং বড়ই মন্দ বাসস্থান। (সূরা কাহাফ- ১৮:২৯)





আল হাদিস

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ بَلِّغُوْا عَنِّىْ وَلَوْ ايَةً وَحَدِّثُوْا عَنْ بَنِىْ اِسْرَائِيْلَ وَلَا حَرَجَ وَمَنْ كَذَبَ عَلَىَّ مُتَعَمِّدً افَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَه مِنَ النَّارِ- ــ (بُخَارِيْ: بَابُ مَاذُكِرَ عنْ بَنِىْ اِسْرَائِيْلَ)

১. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর "    থেকে বর্ণিত, নবি করিম  #    ইরশাদ করেন, একটি আয়াত হলেও তা আমার পক্ষ থেকে প্রচার কর। আর বনি ইসলাইল সম্পর্কে আলোচনা কর, তাতে কোন দোষ নেই। যে ব্যক্তি আমার প্রতি ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা আরোপ করে, তার নিজ ঠিকানা জাহান্নামে সন্ধান করা উচিত। (বুখারি, বাবু মা যুকিরা আন বানি ইসরাইল, ৩২০২)

عَنْ ابْنِ مَسْعُوْدٍ يُحَدِّثُ عَنْ اَبِيْهِ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِىَّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يَقُوْلُ نَضَّرَ الله اِمْرً سَمِعَ مِنَّا شَيْئًا فَبَلَّغَهُ كَمَا سَمِعَ فَرُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعى مِنْ سَامِعٍ- (تِرْمِذِيْ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ الْحَثِّ عَلى تَبْلِيغْ السَّمَاعِ)

২. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সভহমংষ "    থেকে বর্ণিত, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, আমি নবি করিম  #   কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন, যে আমার কোন হাদিস শুনেছে এবং যেভাবে শুনেছে, সেভাবেই তা অপরের নিকট পৌঁছিয়েছে। কেননা অনেক সময় যার কাছে দাওয়াত পৌঁছানো হয় সে যার নিকট থেকে শুনেছে তার চেয়ে বেশি রক্ষণাবেক্ষণকারী হয়ে থাকে। (তিরমিজি, বাবু মা জাআ ফিল হাসসি আলা তাবলিগী সামাঈ, ২৫৮১)

عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ يَسِّرُوْا وَلَا تُعَسِّرُوْا  وَبَشِّرُوْا وَلَا تُنَفِّرُوْا ـ (بُخَارِيْ: بَابُ مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى الله ﷺ  يَتَخَوَّلُهُمْ بِالْمَوْعِظَةِ وَالْعِلْمِ كَـىْ لَا يَنْفِرُوْا)

৩. হজরত আনাস ইবনে মালেক "    নবি করিম  #    থেকে বর্ণনা করেছেন, নবি করিম  #    ইরশাদ করেছেন, তোমরা সহজ কর, কঠিন করো না, সুসংবাদ দাও, বীতশ্রদ্ধ করো না। (বুখারি, বাবু মা কানান নাবিয়্যু #   ইয়াতাখাওয়ালুহুম বিল মাওইযাতি ওয়াল ইলমি কায় লা ইয়ানফিরু- ৬৭) 

عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ عَنِ النَّبِيِّ  صَلَّى الله ﷺ  قَالَ وَالَّذِيْ نَفْسِىْ بِيَدِه لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُوْنَه  فَلَا يُسْتَجَابُ لَكُمْ ــ (ترمذى : بَابُ مَا جَاءَ فِي الْاَمْرِ بِالْمَعْرُوْفِ وَالنَّهْىِ عَنِ الْمُنْكَرِ)

৪. হজরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান "    নবি করিম  #   থেকে বর্ণনা করেছেন, নবি করিম  #   এরশাদ করেছেন, আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, যার নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন, অবশ্যই তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দিবে এবং অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে লোককে বিরত রাখবে নতুবা তোমাদের ওপর শিগগিরই আল্লাহর গজব নাজিল হবে। অতপর তোমরা (তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য) দোয়া করতে থাকবে কিন্তু তোমাদের দোয়া কবুল করা হবে না। (তিরমিজি : বাবু মা জাআ ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহি আনিল মুনকারি- ২০৯৫) 

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ مَن رَأى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِه فِاِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فِبِلِسَانِه فِاِنْ لَّمْ يَسْتَطِع فَبِقَلْبِه وَذٰلِكَ اَضْعَفُ الْاِيْمَانِ ــ (مُسْلِمْ : بَابُ بَيَانِ كَوْنِ النَّهْىِ عَنِ الْمُنْكَرِ مِنَ الْاِيْمَانِ)

৫. হজরত আবু সাঈদ খুদরী "    নবি করিম  #    থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ যখন কোন খারাপ কাজ হতে দেখে সে যেন তা হাত দিয়ে প্রতিরোধ করে। যদি সে এ ক্ষমতা না রাখে তবে যেন মুখের কথার দ্বারা (জনমত গঠন করে) তা প্রতিরোধ করে। যদি সে এ ক্ষমতাটুকু না রাখে তবে যেন অন্তরের দ্বারা (পরিকল্পিত উপায়ে) এটা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। (বা এর প্রতি ঘৃণা পোষণ করে) আর এটা হলো ঈমানের দুর্বলতম (নিম্নতম) স্তর। (মুসলিম : বাবু বায়ানি কাওনিন নাহি আনিল মুনকারি মিনাল ঈমানি, ৭০)



عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ  رَضِيَ الله عَنْهُ  اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ مَنْ دَعَا إِلٰى هُدًى كَـانَ لَه مِنَ الْاَجْرِ مِثْلُ اُجُوْرِ مَنْ تَبِعَه لَا يَنْقُصُ ذٰلِكَ مِنْ اُجُوْرِهِمْ شَيْئًا، وَ مَنْ دَعَا إِلٰى ضَلَالَةٍ كَـانَ لَه مِنَ الْاِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَه لَا يَنْقُصُ ذٰلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا- (مُسْلِمْ : بَابُ مَنْ سَنَّ سُنَّةً حَسَنَةً اَوْ سَيِّئَةً وَ مَنْ دَعَا اِلى هُدًى اَوْ ضَلَالَةٍ)

৬. হজরত আবু হুরায়রা "    হতে বর্ণিত। রাসূল  #    বলেছেন, যে হেদায়াতের (সত্য ও সঠিক পথ) দিকে ডাকে, তার জন্য প্রতিদান রয়েছে তাদের সমপরিমাণ, যারা তার অনুসরণ করেছে। এতে তাদের সাওয়াবের একটুও কমবে না। আর যে ভ্রষ্টতার ( গোমরাহী) দিকে ডাকে তার ওপর গুনাহ বর্তাবে তাদের সমপরিমাণ, যারা তার অনুসরণ করেছে। এতে তাদের গুনাহ একটুও হ্রাস পারবে না। (মুসলিম : বাবু মান সান্না সুন্নাতান হাসানাতান আও সায়্যিআতান ওয়ামান দাআ ইলা হুদান আও দলালাতিন, ৪৮৩১)

عَنْ سَهْلِ ابْنِ سَعْدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ وَاللهِ لَانْ يَهْدِىْ الله بِكَ رَجُلَا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ -(اَبُوْ دَاود : بَابُ فَضْلِ نَشْرِ الْعِلْمِ)

৭. হজরত সাহল ইবনে সা‘দ  "    হতে বর্ণিত, নবি করিম  #    বলেছেন, আল্লাহর শপথ! তোমার ডাকে আল্লাহ তাআলা একজন ব্যক্তিকেও হেদায়াত দিয়ে থাকলে তা তোমার জন্য লাল উট (প্রাপ্তি) অপেক্ষা উত্তম। (আবু দাউদ : বাবু ফাদলি নাশারিল ইলমি, ৩১৭৬)

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ  قَالَ يَسِّرُوْا وَ لَا تُعَسِّرُوْا بَشِّرُوْا وَ لَا تُنَفِّرُوْا-

৮. হজরত আনাস "     হতে বর্ণিত, রাসূল #    বলেছেন, সহজ করো, কঠিন করো না, সুসংবাদ দাও বীতশ্রদ্ধ করো না। (বুখারি : বাবুল ইলম, পৃ.৫৭)



৭. সংগঠন : اَلْجَمَاعَةُ

اَلْجَمَاعَةُ অর্থ সাধারণত সংবদ্ধকরণ, দলবদ্ধ জীবন।


আল-কুরআন

وَ اعْتَصِمُوْا بِحَبْلِ اللّٰهِ جَمِیْعًا وَّ لَا تَفَرَّقُوْا ۪ وَ اذْكُرُوْا نِعْمَتَ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ اِذْ كُنْتُمْ اَعْدَآءً فَاَلَّفَ بَیْنَ قُلُوْبِكُمْ فَاَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهٖۤ اِخْوَانًا ۚ وَ كُنْتُمْ عَلٰی شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِّنْهَا ؕ كَذٰلِكَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمْ اٰیٰتِهٖ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ

১. আর তোমরা সকলে আল্ল¬াহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং বিভক্ত হয়ো না। আর তোমরা তোমাদের ওপর আল্ল¬াহর নিয়ামতকে স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পরে শত্রু ছিলে। তারপর আল্ল¬াহ তোমাদের অন্তরে ভালবাসার সঞ্চার করেছেন। অতপর তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই-ভাই হয়ে গেল। আর তোমরা ছিলে আগুনের গর্তের কিনারায়, অতপর তিনি তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করেছেন। এভাবেই আল্ল¬াহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ বয়ান করেন, যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও। (সূরা আল ইমরান - ৩ : ১০৩)

إِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الَّذِیْنَ یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِه صَفًّا كَاَنَّهُمْ بُنْیَانٌ مَّرْصُوْصٌ

২. নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐসব লোককে পছন্দ করেন, যারা তাঁর পথে এমনভাবে কাতারবন্দী হয়ে লড়াই করে, যেন তারা সীসা গলানো মজবুত দেয়াল। (সূরা আস্ সাফ্- ৬১: ০৪)

وَ كَیْفَ تَكْفُرُوْنَ وَ أَنْتُمْ تُتْلٰی عَلَیْكُمْ اٰیٰتُ اللّٰهِ وَ فِیْكُمْ رَسُوْلُهٗ ؕ وَ مَنْ یَّعْتَصِمْ بِاللّٰهِ فَقَدْ هُدِیَ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ۠

৩. আর কিভাবে তোমরা কুফরি কর, অথচ তোমাদের কাছে আল্ল¬াহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হচ্ছে এবং তোমাদের মধ্যে রয়েছে তাঁর রাসূল। আর যে ব্যক্তি আল¬াহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে তাকে অবশ্যই সরল পথের দিশা দেয়া হবে। (সূরা আলে ইমরান- ৩ : ১০১)

وَ لَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِیْنَ تَفَرَّقُوْا وَ اخْتَلَفُوْا مِنْ بَعْدِ مَا جَآئَتْهُمُ الْبَیِّنٰتُ وَ اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِیْمٌ

৪. তোমরা যেন ঐ লোকদের মতো হয়ে না যাও, যারা বহু দলে ভাগ হয়ে গিয়েছে এবং অত্যন্ত স্পষ্ট হেদায়াত পাওয়ার পরও যারা মতভেদে লিপ্ত হয়েছে। যারা এমন আচরণ করেছে তারা সেদিন কঠোর শাস্তি পাবে। (সূরা আলে ইমরান- ০৩: ১০৫)

كُنْتُمْ خَیْرَ اُمَّةٍ اُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَ تَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ لَوْ اٰمَنَ اَهْلُ الْكِتٰبِ لَكَانَ خَیْرًا لَّهُمْ  مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُوْنَ وَ اَكْثَرُهُمُ الْفٰسِقُوْنَক্স

৫. তোমরাই দুনিয়ার ঐ সেরা উম্মত যাদেরকে মানবজাতির হেদায়াত ও সংশোধনের জন্য আনা হয়েছে। তোমরা নেক কাজের আদেশ কর ও মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখ এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ। আহলে কিতাবগণ যদি ঈমান আনত তাহলে তাদের জন্যই তা ভাল ছিল। যদিও তাদের কিছু লোক ঈমানদারও পাওয়া যায়, কিন্তু তাদের বেশির ভাগই নাফরমান। (সূরা আলে ইমরান-০৩: ১১০)

وَ لْتَكُنْ مِّنْكُمْ اُمَّةٌ یَّدْعُوْنَ اِلَی الْخَیْرِ وَ یَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَ یَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَক্স

৬. তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক তো অবশ্যই থাকা উচিত, যারা নেকি ও কল্যাণের দিকে ডাকবে, ভালো কাজের হুকুম দেবে এবং খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখবে। যারা এ কাজ করবে তারাই সফল হবে। (সূরা আলে ইমরান-০৩: ১০৪)

وَ إِنَّ هٰذِهٖۤ اُمَّتُكُمْ اُمَّةً وَّاحِدَةً وَّ اَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُوْنِ

৭. তোমাদের এই দীন তো একই দীন। আর আমি তোমাদের রব, অতএব তোমরা আমাকে কর। (সূরা মুমিনূন-২৩ : ৫২)

شَرَعَ لَكُمْ مِّنَ الدِّیْنِ مَا وَصّٰی بِهٖ نُوْحًا وَّ الَّذِیْۤ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْكَ وَ مَا وَصَّیْنَا بِهٖۤ اِبْرٰهِیْمَ وَ مُوْسٰی وَ عِیْسٰۤی أَنْ اَقِیْمُوا الدِّیْنَ وَ لَا تَتَفَرَّقُوْا فِیْهِ ؕ كَبُرَ عَلَی الْمُشْرِكِیْنَ مَا تَدْعُوْهُمْ اِلَیْهِ ؕ اَللّٰهُ یَجْتَبِیْۤ اِلَیْهِ مَنْ یَّشَآءُ وَ یَهْدِیْۤ اِلَیْهِ مَنْ یُّنِیْبُ

৮. তিনি তোমাদের জন্য দীন বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন; যে বিষয়ে তিনি নূহকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, আর আমি তোমার কাছে যে ওহি পাঠিয়েছি এবং ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে যে নির্দেশ দিয়েছিলাম তা হল, তোমরা দীন কায়েম করবে এবং এতে বিচ্ছিন্ন হবে না। তুমি মুশরিকদেরকে যেদিকে আহবান করছ তা তাদের কাছে কঠিন মনে হয়; আল্লাহ যাকে চান তার দিকে নিয়ে আসেন। আর যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি  হিদায়াত দান করেন। (সূরা শুরা-৪২ : ১৩)


আল হাদিস

عَنِ الْحَارِثِ الْاَشْعَرِىِّ  اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ أَنَا امُرَنَّكُمْ بِخَمْسٍ اَلله أَمَرَنِىْ بِهِنَّ بِالْجَمَاعَةِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَالْهِجْرَةِ وَالْجِهَادِ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ فِإِنَّه  مَنْ خَرَجَ مِنَ الْجَمَاعَةِ قِيْدَ شِبْرٍ فَقَدْ خَلَعَ رِبْقَةَ الْاِسْلَامِ مِنْ عُنُقِه إِلَّا أَن يَّرجِعَ وَمَنْ دَعَا بِدَعْوٰى الْجَاهِلِيَّةِ فَهُوَ مِنْ جُثَاءِ جَهَنَّمَ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ وَاِنْ صَامَ وَصَلّٰى قَالَ وَاِنْ صَامَ وَصَلّٰى  وَزَعَمَ أَنَّه مُسْلِمْ فَادْعُوْا ا لْمُسْلِمِيْنَ بِمَا سَمَّاهُمْ الْمُسْلِمِيْنَ الْمُؤْ مِنِيْنَ عِبَادَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ ـ ( مُسْنَدِ اَحْمَدَ : حَدِيْثُ الْحَارِثِ الْاَشْعَرِىِّ عَنِ النَّبِيِّ )

১ . হজরত হারিসুল আশয়ারী "    থেকে বর্ণিত, নবি করিম  #    বলেছেন, আমি তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি যেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। ১. জামায়াতবদ্ধ হবে ২. নেতার আদেশ মন দিয়ে শুনবে ৩. তার আদেশ মেনে চলবে ৪. আল্লাহর পথে হিজরত করবে ৫. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে, আর তোমাদের মধ্য হতে যে সংগঠন হতে এক বিঘত পরিমাণ দূরে সরে গেল, সে তার গর্দান থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলল তবে যদি ফিরে আসে তা ভিন্ন কথা। আর যে ব্যক্তি (মানুষদেরকে) জাহেলিয়াতের দিক আহবান জানায় সে জাহান্নামি। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ #   ! সে যদি রোজা রাখে, নামাজ পড়ে, এরপরও? রাসূল #    বললেন, যদি রোজা রাখে, নামাজ পড়ে এবং নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করে এরপরও জাহান্নামি হবে। তবে তোমরা মুসলমানদের ডাকো যেভাবে তিনি (আল্লাহ) তাদের নামকরণ করেছেন মুসলিম, মু’মিন এবং আল্লাহর বান্দা হিসেবে। (মুসনাদে আহমাদ: হাদিসুল হারিসিল আশয়ারী আনিন নাবিয়্যি, ১৬৫৪২)।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ إِذَا كَانَ ثَلَاثَةٌ فِيْ سَفَرٍ فَلْيُؤَمِّرُوْا اَحَدَهُمْ ـ (اَبُوْ دَاؤدَ: بَابٌ فِي النِّدَاءِ عِنْدَ النَّفِيْرِ يَا خَيْلَ اللهِ ارْكَبِىْ)

২. হজরত আবু হুরায়রা "    বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, যখন কোন তিনজন ব্যক্তি সফরে থাকে, তখন যেন একজনকে আমির বানিয়ে নেয়। (আবু দাউদ: বাবুন ফিন নিদাই ইনদাল নাফিরি ইয়া খাইলাল্লাহির কাবী, ২২৪২)

عَنْ أَبِيْ ذَرٍّ  قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  مَنْ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ شِبْرًا فَقَدْ خَلَعَ رِبْقَةَ الْاِسْلَامِ مِنْ عُنُقِه ـ اَبُوْ دَاؤدَ: بَابٌ فِيْ قَتْلِ الْخَوَارِجِ)

৩. হজরত আবু যর "    বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, যে সংগঠন থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, সে তার ঘাড় থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলল (আবু দাউদ: বাবুনফী ক্বাতলিল খাওয়ারিজি- ৪১৩১)

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَهَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمِ أَنَّهُ قَالَ مَنْ خَرَجَ مِنَ الطَّاعَةِ وَفَارَقَ الْجَمَاعَةَ فَمَاتَ مَاتَ مِيْتَةً جَاهِلِيَّةً وَ مَنْ قَاتَلَ تَحْتَ رَايَةٍ عِمِيَّةٍ يَغْضَبُ لِعَصَبَةٍ أَوْ يَدْعُوْ اِلى عَصَبَةٍ أَوْ يَنْصُرُ عَصَبَةً فَقُتِلَ فَقِتْلَةٌ جَاهِلِيَّةٌ وَمَنْ خَرَجَ عَلى اُمَّتِىْ يَضْرِبُ بِرَّهَا وَ فَاجِرَهَا وَلَا يَتَحَاشى مِنْ مُؤْمِنِهَا وَلَا يَفِيْ لِذِىْ عَهْدٍ عَهْدَهُ فَلَيْسَ مِنِّىْ وَلَسْتُ مِنْهُ-(مُسْلِمْ : بَابُ وُجُوْبِ مُلَازَمَةِ جَمَاعَةِ الْمُسْلِمِيْنَ)

৪. হজরত আবু হুরায়রা "    নবি করিম  #   থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেন, যে আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গেলা এবং সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল অতপর সে মারা গেল তাহলে সে জাহেলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল। আর গোমরাহীর পতাকাতলে (শামিল হয়ে) যে লড়াই করে বংশপ্রীতির দরুন ক্রুদ্ধ হয়ে কিংবা জাতির দিকে আহ্বান করতে গিয়ে কিংবা জাতিকে সাহায্য করতে গিয়ে। অতপর নিহত হল, এট জাহেলিয়াতের হত্যা (মৃত্যু)। আর যে আমার উম্মতের ভাল-মন্দ লোকদের মারা জন্য বের হয়, এতে সে মুমিনদেরও পরওয়া করে না এবং চুক্তিবদ্ধদের সাথে কৃত প্রতিশ্রুতিও পূরণ করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়, আমিও তার দলভুক্ত নই। (মুসলিম : বাবু উজুবি মুলাযামাতি জামাআতিল মুসলিমীন, ৩৪৩৬)

عَنْ ابْنِ عُمَرَ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ إِنَّ اللهَ لَا يَجْمَعُ اُمَّتِىْ اَوْ قَالَ اُمَّةَ مُحَمَّدٍ ﷺ عَلى ضَلَالَةٍ وَ يَدُ اللهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ وَ مَنْ شَذَّ شَذَّ اِلى النَّارِ-(تِرْمِذِيْ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ لُزُوْمِ الْجَمَاعَةِ)

৫. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর "    হতে বর্ণিত, রাসূল করিম  #    ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতকে গোমরাহির ওপর ঐক্যবদ্ধ করবেন না। আর আল্লাহর হাতে রয়েছে সংঘবদ্ধতা তথা জামায়াতের সাথে। আর যে সংগঠন থেকে একা হয়ে পড়বে, সে জাহান্নামে পতিত হবে। (তিরমিজি, বাবু মা জাআ ফি লুযুমিল জামায়াতি, ২০৯৩)

عَنْ تَمِيْمٍ الدَّارِىْ قَالَ : تَطَاوَلَ النَّاسُ فِيْ الْبِنَاءِ فِيْ زَمَنِ عُمَرَ، فَقَالَ عُمَرَ : يَا مَعْشَرَ الْعُرَيْبِ الْاَرْضِ إِنَّهُ لَا اِسْلَامَ إِلَّا بِجَمَاعَةٍ وَ لَا جَمَاعَةَ إِلَّا بِامَارَةٍ وَلَا اِمَارَةَ إِلَّا بِطَاعَةٍ، فَمَنْ سَوَّدَهُ قَوْمُهُ عَلى الْفِقْهِ كَانَ حَيَاةً لَهُ وَلَهُمْ، وَمَنْ سَوَّدَهُ قَوْمُهً عَلى غَيْرِ فِقْهٍ كَانَ هَلَاكًا لَهُ وَلَهُمْ (سُنَنُ الدَّارِمِىِّ : بَابٌ فِيْ ذِهَابِ الْعِلْمِ)

৬. হজরত তামীম দারী "    হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওমর "    এর যুগে মানুষ সকল অট্টালিকা বানানোর প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হল। অতপর ওমর "      বললেন, হে আরবের অধিবাসীগণ নিশ্চয়ই সংগঠন ছাড়া ইসলাম নেই, নেতৃত্ব ছাড়া সংগঠন নেই আর আনুগত্য ছাড়া নেতৃত্বের অস্তিত্ব নেই।  কোনো জাতি যাকে সঠিক ও গভীর জ্ঞানের ভিত্তিতে নেতা নির্বাচিত করে, সে তার নিজের জন্য এবং তার জাতির জন্য জীবনীশক্তি হিসেবে ভুমিকা রাখে আর যাকে তার জাতি সঠিক ও গভীর জ্ঞানের ওপর ভিত্তি না করেই নেতা বানায়, সে তার নিজের জন্য এবং তার জাতির জন্য ধ্বংসের কারণ হয়। (সুনানে দারেমী, বাবুন ফী যিহাবিল ইলমি-২৫৭)
























৮. প্রশিক্ষণ : اَلتَّعْلِيْمُ

اَلتَّعْلِيْمُ অর্থ জানা, জ্ঞান, বিদ্যা।


আল-কুরআন

هُوَ الَّذِیْ بَعَثَ فِی الْاُمِّیّنَ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ یَتْلُوْا عَلَیْهِمْ اٰیٰتِه وَ یُزَكِّیْهِمْ وَ یُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ وَ اِنْ كَانُوْا مِنْ قَبْلُ لَفِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ

১. তিনিই সেই সত্তা, যিনি সাধারণ জনগোষ্ঠীর মাঝ থেকে তাদেরই একজনকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন, যে তাদেরকে তাঁর (আল্লাহ) আয়াত শোনান, তাদের জীবন পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন। অথচ এর আগে তারা স্পষ্ট গোমরাহিতে পড়ে ছিল। (সূরা জুমুআ-৬২ : ২)

رَبَّنَا وَ ابْعَثْ فِیْهِمْ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ یَتْلُوْا عَلَیْهِمْ اٰیٰتِكَ وَ یُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ وَ یُزَكِّیْهِمْ ؕ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ.

২. হে আমাদের রব, তাদের মধ্যে তাদের থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যে তাদের প্রতি আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবে এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবে আর তাদেরকে পবিত্র করবে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’।

كَمَا اَرْسَلْنَا فِیْكُمْ رَسُوْلًا مِّنْكُمْ یَتْلُوْا عَلَیْكُمْ اٰیٰتِنَا وَ یُزَكِّیْكُمْ وَ یُعَلِّمُكُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ وَ یُعَلِّمُكُمْ مَّا لَمْ تَكُوْنُوْا تَعْلَمُوْنَ.

৩. যেমন (তোমরা এভাবে সফলতা লাভ করেছ) আমি তোমাদের নিকট তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদেরকে আমার আয়াত পড়ে শোনান, তোমাদের জীবনকে সঠিকভাবে গড়ে তোলেন, তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন এবং তোমাদের ঐসব কথা শেখান, যা তোমরা জানতে না। (সূরা বাকারা- ০২: ১৫১)

وَ یُعَلِّمُهُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ وَ التَّوْرٰىةَ وَ الْاِنْجِیْلَ.

৪. (ফেরেশতারা আগের কথার জের টেনে বলল) আল্লাহ তাঁকে কিতাব ও হিকমতের শিক্ষা দিবেন এবং তাওরাত ও ইনজিলের ইলম শেখাবেন। (সূরা আলে ইমরান-০৩: ৪৮)

اَلرَّحْمٰنُক্স عَلَّمَ الْقُرْاٰنَক্স خَلَقَ الْاِنْسَانَক্স عَلَّمَهُ الْبَیَانَ.

৫. অতি বড় মেহেরবান আল্লাহ এ আল-কুরআনের শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কথা বলা শিখিয়েছেন। (সূরা আর-রাহমান-৫৫: ১-৪)

وَ عَلَّمَ اٰدَمَ الْاَسْمَآءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَی الْمَلٰٓىِٕكَةِ فَقَالَ أَنْبِـُٔوْنِیْ بِاَسْمَآءِ هٰؤُلَآءِ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ.

৬. এরপর আল্লাহ আদমকে সব জিনিসের নাম শেখালেন। তারপর এসব জিনিসকে ফেরেশতাদের সামনে পেশ করে বললেন, যদি তোমাদের এ ধারণা সঠিক হয়ে থাকে (যে খলিফা নিয়োগ করলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে) তাহলে এসব জিনিসের নাম বল দেখি। (সূরা বাকারা-০২: ৩১)

وَ لَوْ لَا فَضْلُ اللّٰهِ عَلَیْكَ وَ رَحْمَتُهٗ لَهَمَّتْ طَّآىِٕفَةٌ مِّنْهُمْ أَنْ یُّضِلُّوْكَ ؕ وَ مَا یُضِلُّوْنَ إِلَّاۤ أَنْفُسَهُمْ وَ مَا یَضُرُّوْنَكَ مِنْ شَیْءٍ ؕ وَ أَنْزَلَ اللّٰهُ عَلَیْكَ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ وَ عَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ ؕ وَ كَانَ فَضْلُ اللّٰهِ عَلَیْكَ عَظِیْمًا.

৭. আর তোমার ওপর যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া না হত তবে তাদের মধ্য থেকে একদল তোমাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেই ফেলেছিল! আর তারা নিজদের ছাড়া কাউকে পথভ্রষ্ট করে না এবং তারা তোমার কোনই ক্ষতি করতে পারে না। আর আল্লাহ তোমার প্রতি নাজিল করেছেন কিতাব ও হিকমাত এবং তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা তুমি জানতে না। আর তোমার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ রয়েছে মহান। (সূরা নিসা-৪ : ১১৩)

وَ اتَّقُوا اللّٰهَ ؕ وَ یُعَلِّمُكُمُ اللّٰهُ ؕ وَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ.

৮. আর তোমরা আল্ল¬াহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আল্ল¬াহ তোমাদেরকে শিক্ষা দেবেন। আর আল্ল¬াহ সব বিষয়ে সম্যক জ্ঞানী। (সূরা বাকারা-২ : ২২৮)

اِقْرَاْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِیْ خَلَقَ- خَلَقَ الْاِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ- اِقْرَاْ وَ رَبُّكَ الْاَكْرَمُ-الَّذِیْ عَلَّمَ بِالْقَلَمِ-عَلَّمَ الْاِنْسَانَ مَا لَمْ یَعْلَمْ.

৯. পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক থেকে। পড়, আর তোমার রব মহামহিম। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না। (সূরা আলাক : ১-৫)


আল হাদিস

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ (رضـ) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  تَعَلَّمُوا الْقُرْاٰنَ وَالْفَرَائِضَ وَعَلِّمُوْا النَّاسَ فَإِنِّيْ مَقْبُوْضٌ ـ (تِرْمِذِيْ: بَابٌ مَا جَاءَ فِيْ تَعْلِيْمِ الْفَرَائِضِ، ضَعَّفَهُ الْاَلْبَانِىْ)

১. হজরত আবু হুরায়রা "    থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  #    এরশাদ করেছেন, আল-কুরআন এবং ফারায়েজ শিক্ষা গ্রহণ কর এবং মানুষকে শিক্ষা দাও। নিশ্চয়ই আমাকে উঠিয়ে নেয়া হবে। (তিরমিজি: বাবু মা জা’আ ফি তালিমিল ফারায়েযে, আলবানী একে দুর্বল বলেছেন, ২০১৭)

عَنْ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ أَنَّه بلَغَه أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّ اللهِ ﷺ  قَالَ بُعِثْتُ مُعَلِّمًا لِاُتَمِّمَ حُسْنَ الْاَخْلَاقِ ـ (مُؤْطَّا مَالِكِ : باب مَاجَاءَ فَى حُسْنِ الْخُلْقِ) 

  ২. হজরত ইমাম মালেক (রহ.) থেকে বর্ণিত, তার কাছে এই সংবাদ পৌঁছেছে, রাসূলুল্লাহ #   বলেছেন, আমাকে সুন্দর, বলিষ্ঠ চরিত্রের পরিপূর্ণতা বিধানের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। (মুয়াত্তা মালেক, বাবু মা জা আফি হুসনিল খুলকি)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو : اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ مَرَّ بِمَجْلِسَيْنِ فِيْ مَسْجِدِهِ فَقَالَ : كِلَاهُمَا عَلى خَيْرٍ وَاَحَدُهُمَا اَفْضَلُ مِنْ صَاحِبِهِ أَمَّا هؤُلَآءِ فَيَدْعُوْنَ اللهِ وَيُرَغِّبُوْنَ اِلَيْهِ فَاِنْ شَاءَ اَعْطَاهُمْ وَاِنْ شَاءَ مَنَعَ هُمْ، وَاَمَّا هؤُلَآءِ فَيَتَعَلَّمُوْنَ الْفِقْهَ وَالْعِلْمَ وَيُعَلِّمُوْنَ الْجَاهِلَ فَهُمْ اَفْضَلُ، وَاَنَّمَا بُعِثْتُ مُعَلِّمًا قَالَ ثُمَّ جَلَسَ فِيْهِمْ-(سُنَنُ الدَّارِمِىْ : بَابٌ فِيْ فَضْلِ الْعِلْمِ وَالْعَالِمِ، ضَعَّفَهُ الْاَلْبَانِىْ)

২. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর "    বর্ণনা করেন, একদা রাসূলুল্লাহ  #    মসজিদে নববীতে দুটি মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছিলেন, অতপর বললেন, তারা উভয় মজলিসই কল্যাণের মধ্যে আছে, তবে একটি অপরটির চেয়ে অধিক ভালো। একটি মজলিস আল্লাহকে ডাকছে এবং তার কাছে প্রাপ্তির আশা করছে। আল্লাহ চাইলে তাদেরকেক দিতে পারনে আবার চাইলে নাও দিতে পারনে। অপর মজলিস ফিকহ ও ইলম শিক্ষা লাভ করছে এবং অশিক্ষিতদেরকে তা শিক্ষা দিচ্ছে। আর এরাই উত্তম মজলিস। আর আমি তো শিক্ষকরূপেই প্রেরিত হয়েছি। অতপর তিনি তাদের মাঝে বসে পড়লেন। (সুনানে দারেমী, বাবুন ফি ফাদলিল ইলমি ওয়ালা আলেমি, ৩৫৭, আলবানী একে দুর্বল বলেছেন)

عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ الله عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْاٰنَ وَعَلَّمَه ـ (بُخَارِيْ: بَابُ خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْاٰنَ وَعَلَّمَه)

৪. হজরত উসমান "    থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই হচ্ছে সর্বোত্তম ব্যক্তি যে, নিজে আল-কুরআন মাজিদ শিক্ষা গ্রহণ করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়। (বুখারি, বাবু খায়রুকুম মান তায়াল্লামাল আল-কুরআন ওয়া আল্লামাহু: ৪৬৩৯)

عَنْ أَبِيْ اُمَامَةَ الْبَاهِلِىِّ قَالَ ذُكِرَ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّ اللهُ ﷺ  رَجُلَانِ اَحَدُهُمَا عَابِدٌ وَالْآخَرُ عَالِمٌ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّ اللهُ ﷺ  فَضْلُ الْعَالِمِ عَلى الْعَابِدِ كَفَضْلِىْ عَلى اَدْنَاكُمْ ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّ اللهُ ﷺ  إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ وَاَهْلَ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِيْنَ حَتّٰى النَّمْلَةَ فِيْ جُحْرِهَا وَ حَتّٰى الْحُوْتَ لَيُصَلُّوْنَ عَلى مُعَلَّمِ النَّاسِ الْخَيْرِ-(تِرْمِذِيْ : بَابُ مَ جَاءَ فِيْ فَضْلِ الْفِقْهِ عَلى العِبَادَةِ)

৫. হজরত আবু উমামা আল বাহেলী "    থেকে বর্ণিত। একদা নবি করিম  #    এর নিকট এমন দুই ব্যক্তির বিষয় আলোচনা করা হল, যাদের একজন ছিলেন আবেদ, অন্যজন ছিলেন আলেম। অতপর রাসূল #     বললেন, তোমাদের একজন সাধারণ মুসলমানের তুলনায় আমি যে মর্যাদার অধিকারী, উক্ত আলেম ব্যক্তিও ঐ আবেদের তুলনায় সে মর্যাদার অধিকারী। অতপর রাসূল #     বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা, ফেরেশতাগণ আসমান যমীনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিপীলিকা ও মাছ পর্যন্ত সে ব্যক্তির জন্য দোয়া করে, যে লোকদেরকে কল্যাণের (ইলম) শিক্ষা দান করে। (তিরমিযি : বাবু মা জা আ ফী ফাদলিল ফিকহি আলাল ইবাদাতি-২৬০৯) 



























৯. ইসলামী শিক্ষা আন্দোলন : حَرَكَةُ التَّعْلِيْمِ الْاِسْلَامِى

আল-কুরআন

اِقْرَاْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِیْ خَلَقَক্স خَلَقَ الْاِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍক্স  اِقْرَاْ وَ رَبُّكَ الْاَكْرَمُক্স الَّذِیْ عَلَّمَ بِالْقَلَمِক্স  عَلَّمَ الْاِنْسَانَ مَا لَمْ یَعْلَمْ.

১. পড়ুন (হে রাসূল!) আপনার রবের নাম নিয়ে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি জমাট রক্তের পিণ্ড (ভ্রুণ) থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আপনি পড়ুন, আপনার রব বড়ই দয়ালু। যিনি কলমের সাহায্যে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষকে তিনি এমন জ্ঞান দিয়েছেন, যা সে জানত না। (সূরা আলাক- ৯৬:১-৫)

اَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ اٰنَآءَ الَّیْلِ سَاجِدًا وَّ قَآىِٕمًا یَّحْذَرُ الْاٰخِرَةَ وَ یَرْجُوْا رَحْمَةَ رَبِّهٖ قُلْ هَلْ یَسْتَوِی الَّذِیْنَ یَعْلَمُوْنَ وَ الَّذِیْنَ لَا یَعْلَمُوْنَ ؕ إِنَّمَا یَتَذَكَّرُ اُولُوا الْاَلْبَابِ.

২. যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সিদজাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার রব-এর রহমত প্রত্যাশা করে (সে কি তার সমান যে এরূপ করে না) বল, ‘যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান?’ বিবেকবান লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে। (সূরা যুমার -৩৯ : ৯)

وَ مِنَ النَّاسِ وَ الدَّوَآبِّ وَ الْأَنْعَامِ مُخْتَلِفٌ اَلْوَانُهٗ كَذٰلِكَ ؕ إِنَّمَا یَخْشَی اللّٰهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمٰٓؤُا ؕ إِنَّ اللّٰهَ عَزِیْزٌ غَفُوْرٌ.

৩. আর এমনিভাবে মানুষ, বিচরণশীল প্রাণী ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যেও রয়েছে নানা বর্ণ। বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই আল¬াহকে ভয় করে। নিশ্চয় আল¬াহ মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল। (সূরা ফাতির- ৩৫ : ২৮)

هُوَ الَّذِیْۤ أَنْزَلَ عَلَیْكَ الْكِتٰبَ مِنْهُ اٰیٰتٌ مُّحْكَمٰتٌ هُنَّ اُمُّ الْكِتٰبِ وَ اُخَرُ مُتَشٰبِهٰتٌ ؕ فَاَمَّا الَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ زَیْغٌ فَیَتَّبِعُوْنَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَآءَ الْفِتْنَةِ وَ ابْتِغَآءَ تَاْوِیْلِهٖ ؔۚ وَ مَا یَعْلَمُ تَاْوِیْلَهٗۤ إِلَّا اللّٰهُ ؔۘ وَ الرّٰسِخُوْنَ فِی الْعِلْمِ یَقُوْلُوْنَ اٰمَنَّا بِهٖ ۙ كُلٌّ مِّنْ عِنْدِ رَبِّنَا ۚ وَ مَا یَذَّكَّرُ إِلَّاۤ اُولُوا الْاَلْبَابِ.

৪. তিনিই তোমার ওপর কিতাব নাজিল করেছেন, তার মধ্যে আছে মুহকাম আয়াতসমূহ। সেগুলো কিতাবের মূল, আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ্। ফলে যাদের অন্তরে রয়েছে সত্যবিমুখ প্রবণতা, তারা ফিতনার উদ্দেশ্যে এবং ভুল ব্যাখ্যার অনুসন্ধানে মুতাশাবিহ্ আয়াতগুলোর পেছনে লেগে থাকে। অথচ আল¬াহ ছাড়া কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে পরিপক্ক, তারা বলে, আমরা এগুলোর প্রতি ঈমান আনলাম, সবগুলো আমাদের রবের পক্ষ থেকে। আর বিবেক সম্পন্নরাই উপদেশ গ্রহণ করে। (সূরা আলে ইমরান-৩ : ৭)

وَ مَا كَانَ الْمُؤْمِنُوْنَ لِیَنْفِرُوْا كَآفَّةً ؕ فَلَوْ لَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآىِٕفَةٌ لِّیَتَفَقَّهُوْا فِی الدِّیْنِ وَ لِیُنْذِرُوْا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوْۤا اِلَیْهِمْ لَعَلَّهُمْ یَحْذَرُوْنَ.

৫. আর মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে, তারা সকলে একসঙ্গে অভিযানে বের হবে। অতপর তাদের প্রতিটি দল থেকে কিছু লোক কেন বের হয় না, যাতে তারা দীনের গভীর জ্ঞান আহরণ করতে পারে এবং আপন সম্প্রদায় যখন তাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করবে, তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা (গুনাহ থেকে) বেঁচে থাকে। (সূরা তাওবা -৯ : ১২২)

فَتَعٰلَی اللّٰهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ ۚ وَ لَا تَعْجَلْ بِالْقُرْاٰنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ یُّقْضٰۤی اِلَیْكَ وَحْیُهٗ ؗ وَ قُلْ رَّبِّ زِدْنِیْ عِلْمًا.

৬. সুতরাং আল্লাহ মহান যিনি সত্যিকার অধিপতি; তোমার প্রতি ওহি সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তুমি কুরআন পাঠে তাড়াহুড়া করো না এবং তুমি বল, ‘হে আমার রব, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।’ (সূরা ত্বাহা -২০ : ১১৪)

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا إِذَا قِیْلَ لَكُمْ تَفَسَّحُوْا فِی الْمَجٰلِسِ فَافْسَحُوْا یَفْسَحِ اللّٰهُ لَكُمْ ۚ وَ إِذَا قِیْلَ انْشُزُوْا فَانْشُزُوْا یَرْفَعِ اللّٰهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مِنْكُمْ ۙ وَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ دَرَجٰتٍ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرٌ.

৭. হে মুমিনগণ, তোমাদেরকে যখন বলা হয়, ‘মজলিসে স্থান করে দাও’, তখন তোমরা স্থান করে দেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য স্থান করে দেবেন। আর যখন তোমাদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা উঠে যাও’, তখন তোমরা উঠে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় সমুন্নত করবেন। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত। (সূরা মুজাদালাহ -৫৮ : ১১)

اَفَمَنْ یَّعْلَمُ اَنَّمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكَ مِنْ رَّبِّكَ الْحَقُّ كَمَنْ هُوَ اَعْمٰی إِنَّمَا یَتَذَكَّرُ اُولُوا الْاَلْبَابِ.

৮. যে ব্যক্তি জানে তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা নাজিল হয়েছে, তা সত্য, সে কি তার মত, যে অন্ধ? বুদ্ধিমানরাই শুধু উপদেশ গ্রহণ করে। (সূরা রাদ -১৩ : ১৯)


আল হাদিস

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ (رضـ) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيْضَةٌ عَلٰى كُلِّ مُسْلِمٍ ـ (بَيْهَقِىْ: شُعَبُ الْاِيْمَانِ)

১. হজরত আনাস ইবনে মালেক "   থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল # বলেছেন, জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিম (নর-নারীর) ব্যক্তির ওপর ফরজ (বায়হাকী: শুয়াবুল ঈমান: ১৬১৪)

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ (رضـ)  قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ خَرَجَ فِيْ طَلَبِ الْعِلْمِ كَـانَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ حَتّٰى يَرْجِـعَ ـ (تِرْمِذِيْ: بَابُ فَضْلِ طَلَبِ الْعِلْمِ)

২. হজরত আনাস ইবনে মালেক "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল # বলেছেন, যে ব্যক্তি ইলম (জ্ঞান) অšে¦ষণে বের হয়, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথেই থাকে। (তিরমিযি বাবু ফাদলি তলাবিল ইলমি-২৫৭১)

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدِ الْخُدْرِىْ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ لَنْ يَّشْبَعَ الْمُؤْمِنُ مِنْ خَيْرٍ يَسْمَعُهُ حَتّٰى يَكُوْنَ مُنْتَهَاهُ الْجَنَّةُ- (تِرْمِذِيْ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ فَضْلِ الْفِقْهِ عَلى الْعِبَادَةِ ، ضَعَّفَهُ الْاَلْبَانِىْ)

৩. হজরত আবু সাঈদ খুদরী "    থেকে বর্ণিত। রাসূল #   বলেছেন, মুমিন ব্যক্তি জ্ঞানের কথা শুনে কখনোই পরিতৃপ্ত হয় না, যে পর্যন্ত তার চুড়ান্ত ঠিকানা জান্নাতে সে না পৌঁছে। (তিরমিযি : বাবু মা জাআ ফি ফাদলি ফিকহি আলাল ইবাদাতি, ২৬১০, আলবানী একে দুর্বল বলেছেন)

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا مَاتَ الْاِنْسَانُ اِنْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُه اِلّا مِنْ ثَلَاثَةٍ إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوِ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِه أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْ عُوْ لَه ــ (مُسْلِمْ : بَابُ مَا يَلْحَقُ الْاِنْسَانَ مِنَ الثَّوَابِ بعْدَ وَفَاتِه )

৪. হজরত আবু হুরায়রা "    থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ #    বলেছেন, মানুষ যখন মারা যায় তখন তিন প্রকার আমল ব্যতীত তার সকল আমলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ১. সদকায়ে জারিয়াহ। ২. এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকার লাভ করা যায়। ৩. এমন নেককার সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। (মুসলিম, বাবু মা ইয়ালহাকুল ইনসানা মিনাছ সাওয়াবে বা-দা ওফাতিহি : ৩০৮৪)

عَنْ ابْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِىَّ ﷺ يَقُوْلُ لَا حَسَدَ إِلَّا فِيْ اِثْنَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالًا فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهِ حِكْمَةً فَهُوَ يَقْضِىْ بِهَا وَيُعَلِّمُهَا- (بُخَارِيْ : بَابُ اِنْفَاقِ الْمَالِ فِيْ حَقِّهِ)

৫. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবি করিম #    কে বলতে শুনেছি, দুই ব্যক্তি ছাড়া আর কারোর প্রতি ঈর্ষা করা যায় না। যাকে আল্লাহ ধন সম্পদ দিয়েছেন, তারপর তাকে ঐ ধন সম্পদ আল্লাহর পথে খরচ করার তাওফিকও দান করেছেন এবং যাকে আল্লাহ (দ্বীনের) জ্ঞান দান করেছেন সে উহা দ্বারা ফয়সালা করে এবং লোকদেরকে তা শিখায়। (বুখারি, বাবু ইনফাক্বিল মালি ফি হাক্কিহী : ১৩২০)

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ  اللهِ صَلَّى الله عَلَيْهَ وَسَلَّمَ مَنْ سَلَكَ طَريْقًا يَلْتَمِسْ فِيْهِ عِلْمًا سَهَّلَ الله لَه لَه طَرِيْقًا اِلَى الْجَنَّةِ ــ (تِرْمِذِيْ : بَابُ فَضْلِ طَلْبِ ا لْعِلْمِ

৬. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ #    বলেছেন, যে ব্যক্তি ইলম হাসিল করার জন্য কোন পথে চলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে যাবার পথ সহজ করে দেন। (তিরমিজি, বাবু ফাদলি তলাবিল ইলমি: ২৫৭০)




























১০. জিহাদ/ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ : اَلْجِهَادُ

اَلْجِهَادُ অর্থ কঠোর পরিশ্রম, সর্বশক্তি নিয়োগ, সর্বাত্মক প্রচেষ্টা।


আল-কুরআন

وَ جَاهِدُوْا فِی اللّٰهِ حَقَّ جِهَادِهٖ هُوَ اجْتَبٰىكُمْ وَ مَا جَعَلَ عَلَیْكُمْ فِی الدِّیْنِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ اَبِیْكُمْ اِبْرٰهِیْمَ هُوَ سَمّٰىكُمُ الْمُسْلِمِیْنَ مِنْ قَبْلُ وَ فِیْ هٰذَا لِیَكُوْنَ الرَّسُوْلُ شَهِیْدًا عَلَیْكُمْ وَ تَكُوْنُوْا شُهَدَآءَ عَلَی النَّاسِ فَاَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ وَ اعْتَصِمُوْا بِاللّٰهِ هُوَ مَوْلٰىكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلٰی وَ نِعْمَ النَّصِیْرُ.

২. আর তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ কর যেভাবে জিহাদ করা উচিৎ। তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন। দীনের ব্যাপারে তিনি তোমাদের ওপর কোন কঠোরতা আরোপ করেননি। এটা তোমাদের পিতা ইবরাহীমের দীন। তিনিই তোমাদের নাম রেখেছেন ‘মুসলিম’ পূর্বে এবং এ কিতাবেও। যাতে রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হয় আর তোমরা মানুষের জন্য সাক্ষী হও। অতএব তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে ধর। তিনিই তোমাদের অভিভাবক।  আর তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী। (সূরা হাজ্জ-২২ : ৭৮)

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا هَلْ اَدُلُّكُمْ عَلٰی تِجَارَةٍ تُنْجِیْكُمْ مِّنْ عَذَابٍ اَلِیْمٍক্স  تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِه وَ تُجَاهِدُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ بِاَمْوَالِكُمْ وَ أَنْفُسِكُمْ  ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ.

২. হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ! আমি কি তোমাদেরকে ঐ ব্যবসায়ের কথা বলব, যা তোমাদেরকে কষ্টদায়ক আজাব থেকে বাঁচাবে? তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ওপর ঈমান আন এবং তোমাদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ কর। এটাই তোমাদের জন্য অত্যন্ত ভালো, যদি তোমরা তা জান। (সূরা সাফ্-৬১:১০-১১)

وَ مَنْ جَاهَدَ فَإِنَّمَا یُجَاهِدُ لِنَفْسِه إِنَّ اللّٰهَ لَغَنِیٌّ عَنِ الْعٰلَمِیْنَ.

৩. যে চেষ্টা-সাধনা করবে, সে তা নিজের ভালোর জন্যই করবে। নিশ্চয়ই গোটা সৃষ্টি জগতে কারো কাছে আল্লাহর কোনো ঠেকা নাই। (সূরা আনকাবূত-২৯: ৬)

وَ الَّذِیْنَ جَاهَدُوْا فِیْنَا لَنَهْدِیَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَ إِنَّ اللّٰهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِیْنَ.

৪. আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন। (সূরা আনকাবুত -২৯ : ৬৯)

اِنْفِرُوْا خِفَافًا وَّ ثِقَالًا وَّ جَاهِدُوْا بِاَمْوَالِكُمْ وَ أَنْفُسِكُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ  ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ.

৫. তোমরা বের হও, হালকা অবস্থায়ই হোক আর ভারী অবস্থায়ই হোক এবং তোমাদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ কর। তোমরা যদি জানো তাহলে এটাই তোমাদের জন্য ভালো। (সূরা তাওবা-০৯: ৪১)

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَ ابْتَغُوْۤا اِلَیْهِ الْوَسِیْلَةَ وَ جَاهِدُوْا فِیْ سَبِیْلِهٖ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ

৬. হে মুমিনগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং তার নৈকট্যের অনুসন্ধান কর, আর তার রাস্তায় জিহাদ কর, যাতে তোমরা সফল হও। (সূরা মায়েদা -৫ : ৩৫)

وَ قٰتِلُوْهُمْ حَتّٰی لَا تَكُوْنَ فِتْنَةٌ وَّ یَكُوْنَ الدِّیْنُ لِلّٰهِ فَاِنِ انْتَهَوْا فَلَا عُدْوَانَ إِلَّا عَلَی الظّٰلِمِیْنَ.

৭. আর তাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর যে পর্যন্ত না ফিতনা খতম হয়ে যায় এবং দীন আল¬াহর জন্য হয়ে যায়। সুতরাং তারা যদি বিরত হয়, তাহলে যালিমরা ছাড়া (কারো ওপর) কোন কঠোরতা নেই। (সূরা বাকারা-২ : ১৯৩)

مَا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِهٖۤ إِلَّاۤ اَسْمَآءً سَمَّیْتُمُوْهَاۤ أَنْتُمْ وَ اٰبَآؤُكُمْ مَّاۤ أَنْزَلَ اللّٰهُ بِهَا مِنْ سُلْطٰنٍ اِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلّٰهِ اَمَرَ اَلَّا تَعْبُدُوْۤا إِلَّاۤ اِیَّاهُ ؕ ذٰلِكَ الدِّیْنُ الْقَیِّمُ وَ لٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ.

৮. তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে নিছক কতগুলো নামের ইবাদাত করছ, যাদের নামকরণ তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষরা করেছ, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ প্রমাণ নাজিল করেননি। বিধান একমাত্র আল্লাহরই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, ‘তাঁকে ছাড়া আর করো ইবাদাত করো না’। এটিই সঠিক দীন, কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না’। (সূরা ইউসুফ -১২ : ৪০)

إِنَّ رَبَّكُمُ اللّٰهُ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ فِیْ سِتَّةِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسْتَوٰی عَلَی الْعَرْشِ ۫ یُغْشِی الَّیْلَ النَّهَارَ یَطْلُبُهٗ حَثِیْثًا وَّ الشَّمْسَ وَ الْقَمَرَ وَ النُّجُوْمَ مُسَخَّرٰتٍۭ بِاَمْرِهٖ ؕ اَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَ الْاَمْرُ تَبٰرَكَ اللّٰهُ رَبُّ الْعٰلَمِیْنَ.

৯. নিশ্চয় তোমাদের রব আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতপর আরশে উঠেছেন। তিনি রাত দ্বারা দিনকে ঢেকে দেন। প্রত্যেকটি একে অপরকে দ্রুত অনুসরণ করে। আর (সৃষ্টি করেছেন) সূর্য, চাঁদ ও তারকারাজী, যা তাঁর নির্দেশে নিয়োজিত। জেনে রাখ, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই। আল্লাহ মহান, যিনি সকল সৃষ্টির রব। (সূরা মায়েদা-৭ : ৫৪)

وَعَدَ اللّٰهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مِنْكُمْ وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَیَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِی الْاَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَ لَیُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِیْنَهُمُ الَّذِی ارْتَضٰی لَهُمْ وَ لَیُبَدِّلَنَّهُمْ مِّنْۢ بَعْدِ خَوْفِهِمْ اَمْنًا یَعْبُدُوْنَنِیْ لَا یُشْرِكُوْنَ بِیْ شَیْـًٔا ؕ وَ مَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ.

১০. তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে এ মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে তাদেরকে যমীনের প্রতিনিধিত্ব প্রদান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব প্রদান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দীনকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তিনি তাদের ভয়-ভীতি শান্তি-নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা আমারই ইবাদাত করবে, আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। আর এরপর যারা কুফরি করবে তারাই ফাসিক। (সূরা নুর-২৪ : ৫৫)

لَقَدْ اَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَیِّنٰتِ وَ أَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْمِیْزَانَ لِیَقُوْمَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ ۚ وَ أَنْزَلْنَا الْحَدِیْدَ فِیْهِ بَاْسٌ شَدِیْدٌ وَّ مَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَ لِیَعْلَمَ اللّٰهُ مَنْ یَّنْصُرُهٗ وَ رُسُلَهٗ بِالْغَیْبِ ؕ إِنَّ اللّٰهَ قَوِیٌّ عَزِیْزٌ.

১১. নিশ্চয় আমি আমার রাসূলদেরকে স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও (ন্যায়ের) মানদণ্ড নাজিল করেছি, যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে। আমি আরো নাজিল করেছি লোহা, তাতে প্রচণ্ড শক্তি ও মানুষের জন্য বহু কল্যাণ রয়েছে। আর যাতে আল্লাহ জেনে নিতে পারেন, কে না দেখেও তাঁকে ও তাঁর রাসূলদেরকে সাহায্য করে। অবশ্যই আল্লাহ মহাশক্তিধর, মহাপরাক্রমশালী। (সূরা হাদিদ- ৫৭ : ২৫)

وَ مَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ الْمُسْتَضْعَفِیْنَ مِنَ الرِّجَالِ وَ النِّسَآءِ وَ الْوِلْدَانِ الَّذِیْنَ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا اَخْرِجْنَا مِنْ هٰذِهِ الْقَرْیَةِ الظَّالِمِ اَهْلُهَا  وَ اجْعَلْ لَّنَا مِنْ لَّدُنْكَ وَلِیًّا وَّ اجْعَلْ لَّنَا مِنْ لَّدُنْكَ نَصِیْرًا.

১২. তোমাদের কি হলো যে, তোমরা ঐসব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশুদের খাতিরে আল্লাহর পথে লড়াই করছ না, যাদেরকে দাবিয়ে রাখা হয়েছে এবং যারা ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালিমদের এ জনপদ থেকে উদ্ধার করো। আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারীর ব্যবস্থা কর। (সূরা নিসা-০৪: ৭৫)

اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ الطَّاغُوْتِ فَقَاتِلُوْا اَوْلِیَآءَ الشَّیْطٰنِ إِنَّ كَیْدَ الشَّیْطٰنِ كَانَ ضَعِیْفًا.

১৩. যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, আর যারা কুফরি করেছে তারা তাগুতের পথে লড়াই করে। তাই শয়তানের সাথীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাও। জেনে রাখ, শয়তানের চাল আসলে বড়ই দুর্বল। (সূরা নিসা-০৪: ৭৬)

وَ قُلْ رَّبِّ اَدْخِلْنِیْ مُدْخَلَ صِدْقٍ وَّ اَخْرِجْنِیْ مُخْرَجَ صِدْقٍ وَّ اجْعَلْ لِّیْ مِنْ لَّدُنْكَ سُلْطٰنًا نَّصِیْرًا.

১৪. আর দোয়া করো, হে আমার রব! আমাকে যেখানেই তুমি নিয়ে যাও সত্যতার সাথে নিয়ে নাও এবং যেখান থেকেই বের করো সত্যতার সাথে বের করো এবং তোমার পক্ষ থেকে একটি কর্তৃত্বশীল পরাক্রান্ত ব্যক্তিকে আমার সাহায্যকারী বানিয়ে দাও। (সূরা বানি ইসরাইল-১৭:৮০)

وَ قٰتِلُوْهُمْ حَتّٰی لَا تَكُوْنَ فِتْنَةٌ وَّ یَكُوْنَ الدِّیْنُ لِلّٰهِ فَاِنِ انْتَهَوْا فَلَا عُدْوَانَ إِلَّا عَلَی الظّٰلِمِیْنَ.

১৫. আর তাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর যে পর্যন্ত না ফিতনা খতম হয়ে যায় এবং দীন আল¬াহর জন্য হয়ে যায়। সুতরাং তারা যদি বিরত হয়, তাহলে যালিমরা ছাড়া (কারো ওপর) কোন কঠোরতা নেই। (সূরা বাকারা-২ : ১৯৩)


আল হাদিস

عَنْ اَبِيْ ذَرٍّ (رضـ) قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَىُّ الْاَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ اَلْاِيْمَانُ بِاللهِ وَالْجِهَادُ فِيْ سَبِيْلِه ـ (مُسْلِمْ: بَابُ بَيَانِ كَوْنِ الْاِيْمَانِ بِاللهِ تَعَالٰى أَفْضَلُ الْاَعْمَالِ)

১. হজরত আবুযর গিফারী "    বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল  #, সবচেয়ে উত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান  এবং তার পথে জিহাদ। (মুসলিম : বাবু বায়ানি কাওলিন ঈমানি বিল্লাহি তাআলা আফদালুল আ’মালি- ১১৯)

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ (رضـ) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  أَوَلَا أَدُلُّكَ عَلٰى رَأْسِ الْاَمْرِ وَعُمُوْدِهِ وَذَرْوَةَ سَنَامِهِ أَمَّا رَأْسُ الْاَمْرِ فَالْاِسْلَامُ فَمَنْ أَسْلَمَ سَلِمَ وَأَمَّا عُمُوْدُه فَالصَّلَاةُ وَأَمَّا ذَرْوَةَ سَنَامِهِ فَالْجِهَادُ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ ـ (مُسْنَد اَحْمَدَ: حَدِيْثُ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ الله عَنْهُ) 

২. হজরত মুয়ায ইবনে জাবাল "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  #   বলেছেন, আমি কি তোমাকে দ্বীনের মূল সূত্র, তার খুঁটি এবং সর্বোচ্চ চূড়ার সন্ধান দিব না? রাসূল  #    তার ইতিবাচক সাড়া পেয়ে বললেন, দ্বীনের মূল হলো ইসলাম, সুতরাং যে ইসলাম গ্রহণ করবে সে নিরাপত্তা লাভ করবে, খুঁটি হলো সালাত এবং তার সর্বোচ্চ চূড়া হলো আল্লাহর পথে জিহাদ। (মুসনাদে আহমাদ: হাদিস মুয়ায ইবনে জাবাল "    : ২১০৫৪)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ وَلَمْ يُحَدِّثْ بِه نَفْسَهُ مَاتَ عَلى شُعْبَةِ مِنْ نِفَاقٍ- (مُسْلِمْ : بَابُ ذَمِّ مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ وَلَمْ يُحَدِّثْ نَفْسَهُ بِالْغَزْوِ)

৩. হজরত আবু হুরায়রা "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ #   বলেছেন, যে ব্যক্তি মারা গেল অথট সে জিহাদ করেনি এবং জিহাদ করার মানসিকতাও রাখেনি সে যেন মুনাফিকের মৃত্যুবরণ করল। (মুসলিম : বাবু যাম্মি মান মাতা ওয়ালাম ইয়াগযু : ৩৫৩৩)

عَنْ أَنَسٍ (رضـ) عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى  الله ﷺ  قَالَ جَاهِدُوْا الْمُشْرِ كِيْنَ بِأَمْوَا لِكُمْ وَأَيْدِيْكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ ــ (اَلنَّسَائِىْ : بَابُ وُجُوْبِ الْجِهَادِ)

৪. হজরত আনাস "   থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ #   বলেছেন, তোমরা তোমাদের সম্পদ, হাত ও মুখ দিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো। (নাসায়ী: বাবু উজুবিল জিহাদি: ৩০৪৫)

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ الله عَنْهُ عَنِ النَّبِىّ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ لَغَدْوَةٌ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ أَوْ رَوْ حَةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيْهَا ــ (بُخَارِيْ : بَابُ الْغَدْوَةِ و الرَّوْحَةَ فَىْ سَبِيْلِ اللهِ)

৫. হজরত আনাস ইবনে মালেক "    থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, আল্লাহর পথে একটি সকাল ও একটি বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া ও এর সমস্ত সম্পদ থেকে উত্তম। (বুখারি, বাবুল গাদওয়াতি ওয়ার রাওহাতি ফি সাবিলিল্লাহি: ২৫৮৩)

عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِىَّ صَلَّى الله ﷺ  وَقَدْ وَضَعَ رِجْلَه فِي الْغَرْزِ اىُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ؟ قَالَ كَلِمَةُ حَقٍ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ (نَسَائِى : بَابُ فَضْلِ مَنْ تَكَلَّمَ بَالْحَقِّ عِنْدَ اِمَامٍ جَائِرٍ)

৬. হজরত তারেক ইবনে শিহাব "    থেকে বর্ণিত যে, রাসূল  #    ঘোড়ার জিনে পা রাখার সময় এক ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করল, উত্তম জিহাদ কোনটি? তিনি বললেন, অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলা। (নাসায়ী, বাবু ফাদলি মান তাকাল্লামা বিল হাক্কি ইনদা ইমামিন জায়িরিন : ৪১৩৮)

عَنْ أَبِيْ مُوْسى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ اِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ الرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِلْمَغْنَمِ وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِلذِّكْرِ وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِيُرى مَكَانُهُ فَمَنْ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ؟ قَالَ مَنْ قَاتَلَ لِتَكُوْنَ كَلِمَةُ اللهِ هِىَ الْعُلْيَا فَهُوَ فِي سَبِيْلِ اللهِ- (بُخَارِيْ : بَابُ مَنْ قَاتَلَ لِتَكُوْنَ كَلِمَةُ اللهِ هِىَ الْعُلْيَا)

৭. হজরত আবু মূসা "    থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবি করিম  #    এর নিকট এসে বলল, কোন ব্যক্তি লড়াই করে গনীমতের জন্য, আর কেউ লড়াই করে খ্যাতির জন্য, আবার কেউ লড়াই করে বীত্ব প্রদর্শনের জন্য, এদের মধ্যে কার লড়াই আল্লাহর পথে গণ্য হবে? রাসূল  #    বললেন, যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য লড়াই করে সে-ই আল্লাহর পথে। (বুখারি : বাবু মান কাতালা লি তাকুনা কালিমাতুল্লাহি হিয়াল উলইয়া : ২৫৯৯)

عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ قَالَ اَدْركَنِىْ أَبُوْ عَبْسٍ وَأَنَا أَذهَبُ اِلَى الْجُمُعَةِ فَقَالَ سَمِعْتُ النَّبِىَّ صَلَّى الله عَلَيْهْ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنِ اغْبَرَّتْ قَدَمَاهُ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ حَرَّمَهُ اللهِ عَلَى النَّارِ ــ (بُخَارِيْ : بَابُ الْمَشْىِ اِلَى الْجُمُعَةِ)

৮. হজরত আবায়া ইবনে রিফায়া "    বলেন, আমি জুময়ার দিকে যাওয়ার সময় আবু আবছের সাথে সাক্ষাৎ হলো। অতপর তিনি বললেন, আমি রাসূল  #   কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর পথে যার পদযুগল ধুলোয় মলিন হলো আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন। (বুখারি, বাবুল মাশয়ি ইলাল জুময়াতি: ৮৫৬)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ مَكْلُوْمٍ يُكْلَمُ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ إِلَّا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَكَلْمُهُ يَدْمَى اللَّوْنَ لَوْنَ دَمٍ وَالرِّيْحُ رِيْحُ مِسْكٍ- (بُخَارِيْ : بَابُ الْمِسْكِ)

৯. হজরত আবু হুরায়রা "    বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল  #   বলেছেন, যে কেউ আল্লাহর পথে আঘাতপ্রাপ্ত হলে কিয়ামতের দিন সে এমনভাবে আসবে, তার ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরতে থাকবে এবং রং হবে রক্তের মতো আর ঘ্রান হবে মিশকের মতো। (বুখারি : বাবুল মিশকে : ৫১০৭)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَبِرَسُوْلِهِ وَاَقَامَ الصَّلَاةَ وَصَامَ رَمَضَانَ كَانَ حَقًّا عَلىَ اللهِ أَنْ يُّدخِلَهُ الْجَنَّةَ جَاهَدَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ اَوْ جَلَسَ فِيْ اَرْضِهِ الَّتِىْ وُلِدَ فِيْهَا فَقَالُوْ يَا رَسُوْلَ اللهِ اَفَلَا نُبَشِّرُ النَّاسَ قَالَ إِنَّ فِيْ الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ اَعَدَّهَا اللهُ لِلْمُجَاهِدِيْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ كَمَ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْاَرْضِ فَإِذَا سَاَلْتُمْ اللهَ فَاسْاَلُوْه الْفِرْدَوْسَ فَإِنَّهُ اَوْسَطُ الْجَنَّةِ وَاَعْلَى الْجَنَّةِ اُرَاهُ فَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمنِ وَمِنْهُ تَفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ- (بُخَارِيْ : بَابُ دَرَجَاتِ الْمُجَاهِدِيْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ)

১০. হজরত আবু হুরায়রা "    বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল  #   বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনে, নামাজ কায়েম করে এবং রোযা রাখে, সে আল্লাহর পথে জিহাদ করুক বা জন্মভূমিতে বসে থাকুক, তাকে জান্নাত দান করা আল্লাহর জন্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি এ সুসংবাদ লোকদের জানাবো না? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর পথে জিহাদকারীদের জন্য জান্নাতে একশ‘টি মর্যাদার স্তর তৈরি করে রেখেছেন। যে কোনো দুটি স্তরের মাঝখানে আসমান ও যমীনের ব্যবধান। কাজেই তোমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে ফেরদাউসের জন্য প্রার্থনা করো। কেননা সেটিই জান্নাতের সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম অংশ। এরই উপরিভাগে মহান করুনাময় আল্লাহর আরশ, যেখান থেকে জান্নাতের ঝর্ণাসমূহ প্রবাহিত হচ্ছে। (বুখারি : বাবু দারাজাতিল মুজাহিদীনা ফী সাবীলিল্লাহ : ২৫৮১)

عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ فَقَدْ غَزَا وَمَنْ خَلَفَ غَازِيًا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ بِخَيْرٍ فَقَدْ غَزَا- (بُخَارِيْ : بَابُ فَضْلِ مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا اَوْ خَلَفَهُ بِخَيْرٍ)

১০. হজরত যায়েদ ইবনে খালেদ "    থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল  #   বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথের কোন মুজাহিদকে যুদ্ধ সরঞ্জাম সরবরাহ করে তাকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে দিল, সে নিজেই যেন জিহাদে অংশগ্রহণ করল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথের কোন মুজাহিদের অনুপস্থিতে তার পরিবার পরিজনকে উত্তমরূপে দেখাশুনা করে সেও যেন জিহাদ করল। (বুখারি : বাবু ফাদলি মান জাহ্হাযা গাযিয়ান আও খালাফাহু বিখাইরিন : ২৬৩১)





















১১. সালাত : اَلصَّلَاةُ

আল-কুরআন

وَ اسْتَعِیْنُوْا بِالصَّبْرِ وَ الصَّلٰوةِ وَ إِنَّهَا لَكَبِیْرَةٌ إِلَّا عَلَی الْخٰشِعِیْنَ. الَّذِیْنَ یَظُنُّوْنَ اَنَّهُمْ مُّلٰقُوْا رَبِّهِمْ وَ اَنَّهُمْ اِلَیْهِ رٰجِعُوْنَ.

১. সবর ও নামাজ দ্বারা তোমরা সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই নামাজ খুব মুশকিল কাজ। কিন্তু ঐসব অনুগত লোকদের জন্য মুশকিল নয়, যারা মনে করে যে, শেষ পর্যন্ত তাদেরকে আপন রবের সাথে দেখা করতেই হবে এবং তাঁরই কাছে ফিরে যেতে হবে। (সূরা বাকারা, ০২:৪৫-৪৬)  

حٰفِظُوْا عَلَی الصَّلَوٰتِ وَ الصَّلٰوةِ الْوُسْطٰی ۗ وَ قُوْمُوْا لِلّٰهِ قٰنِتِیْنَ.

২. তোমরা সালাতসমূহ ও মধ্যবর্তী সালাতের হিফাযত কর এবং আল¬াহর জন্য দাঁড়াও বিনীত হয়ে। (সূরা বাকারা, ০২ : ২৩৮)

اُتْلُ مَاۤ اُوْحِیَ اِلَیْكَ مِنَ الْكِتٰبِ وَ اَقِمِ الصَّلٰوةَ ؕ إِنَّ الصَّلٰوةَ تَنْهٰی عَنِ الْفَحْشَآءِ وَ الْمُنْكَرِ وَ لَذِكْرُ اللّٰهِ اَكْبَرُ وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ مَا تَصْنَعُوْنَ.

৩. তোমার প্রতি যে কিতাব ওহি করা হয়েছে, তা থেকে তিলাওয়াত কর এবং সালাত কায়েম কর। নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই তো সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন যা তোমরা কর। (সূরা আনকাবুত-২৯ : ৪৫)

وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ وَ مَا تُقَدِّمُوْا لِأَنْفُسِكُمْ مِّنْ خَیْرٍ تَجِدُوْهُ عِنْدَ اللّٰهِ ؕ إِنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ.

৪. আর তোমরা সালাত কায়েম কর ও যাকাত দাও এবং যে নেক আমল তোমরা নিজদের জন্য আগে পাঠাবে, তা আল্ল¬াহর নিকট পাবে। তোমরা যা করছ নিশ্চয় আল্ল¬াহ তার সম্যক দ্রষ্টা। (সূরা বাকারা-২ : ১১০)

وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ وَ ارْكَعُوْا مَعَ الرّٰكِعِیْنَ.

৫. সালাত কায়েম কর, জাকাত দাও এবং যারা আমার সামনে নত হয় (রুকুকারী) তাদের সাথে তোমরাও নত হও (রুকু কর) (সূরা বাকারা-০২:৪৩)  

اَلَّذِیْنَ اِنْ مَّكَّنّٰهُمْ فِی الْاَرْضِ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتَوُا الزَّكٰوةَ وَ اَمَرُوْا بِالْمَعْرُوْفِ وَ نَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَ لِلّٰهِ عَاقِبَةُ الْاُمُوْرِ.

৬. তারাই ঐ সব লোক, যাদেরকে যদি আমি পৃথিবীতে ক্ষমতা দিই, তাহলে তারা নামাজ কায়েম করে, জাকাত আদায় করে, ভালো কাজের আদেশ দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে। আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহরই হাতে। (সূরা হাজ-২২ : ৪১)

فَإِذَا قَضَیْتُمُ الصَّلٰوةَ فَاذْكُرُوا اللّٰهَ قِیٰمًا وَّ قُعُوْدًا وَّ عَلٰی جُنُوْبِكُمْ فَإِذَا اطْمَاْنَنْتُمْ فَاَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ إِنَّ الصَّلٰوةَ كَانَتْ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ كِتٰبًا مَّوْقُوْتًا.

৭. অতপর যখন তোমরা সালাত পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহর স্মরণ করবে। অতপর যখন নিশ্চিন্ত হবে তখন সালাত (পূর্বের নিয়মে) কায়েম করবে। নিশ্চয় সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয। (সূরা নিসা-০৪ : ১০৩)

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا إِذَا قُمْتُمْ اِلَی الصَّلٰوةِ فَاغْسِلُوْا وُجُوْهَكُمْ وَ اَیْدِیَكُمْ اِلَی الْمَرَافِقِ وَ امْسَحُوْا بِرُءُوْسِكُمْ وَ اَرْجُلَكُمْ اِلَی الْكَعْبَیْنِ ؕ وَ اِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوْا ؕ وَ اِنْ كُنْتُمْ مَّرْضٰۤی اَوْ عَلٰی سَفَرٍ اَوْ جَآءَ اَحَدٌ مِّنْكُمْ مِّنَ الْغَآىِٕطِ اَوْ لٰمَسْتُمُ النِّسَآءَ فَلَمْ تَجِدُوْا مَآءً فَتَیَمَّمُوْا صَعِیْدًا طَیِّبًا فَامْسَحُوْا بِوُجُوْهِكُمْ وَ اَیْدِیْكُمْ مِّنْهُ ؕ مَا یُرِیْدُ اللّٰهُ لِیَجْعَلَ عَلَیْكُمْ مِّنْ حَرَجٍ وَّ لٰكِنْ یُّرِیْدُ لِیُطَهِّرَكُمْ وَ لِیُتِمَّ نِعْمَتَهٗ عَلَیْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ.

৮. হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতে দণ্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসেহ কর এবং টাখনু পর্যন্ত পা (ধৌত কর)। আর যদি তোমরা অপবিত্র থাক, তবে ভালোভাবে পবিত্র হও। আর যদি অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাক অথবা যদি তোমাদের কেউ পায়খানা থেকে আসে অথবা তোমরা যদি স্ত্রী সহবাস কর অতপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর। সুতরাং তোমাদের মুখ ও হাত তা দ্বারা মাসেহ কর। আল্লাহ তোমাদের ওপর কোন সমস্যা সৃষ্টি করতে চান না, বরং তিনি চান তোমাদের পবিত্র করতে এবং তার নিআমত তোমাদের ওপর পূর্ণ করতে, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর। (সূরা মায়েদা-৫ : ৬)

وَ اَقِمِ الصَّلٰوةَ طَرَفَیِ النَّهَارِ وَ زُلَفًا مِّنَ الَّیْلِ إِنَّ الْحَسَنٰتِ یُذْهِبْنَ السَّیِّاٰتِ ذٰلِكَ ذِكْرٰی لِلذّٰكِرِیْنَ.

৯. আর তুমি সালাত কায়েম কর দিবসের দু’প্রান্তে এবং রাতের প্রথম অংশে। নিশ্চয়ই ভালকাজ মন্দকাজকে মিটিয়ে দেয়। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য উপদেশ। (সূরা হুদ -১১ : ১১৪)

اَقِمِ الصَّلٰوةَ لِدُلُوْكِ الشَّمْسِ اِلٰی غَسَقِ الَّیْلِ وَ قُرْاٰنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْاٰنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُوْدًا.

১০. (হে নবি!) সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার হওয়া পর্যন্ত নামাজ কায়েম করুন। আর ফজরের (নামাজে) আল-কুরআন পড়ুন, কেননা ফজরে আল-কুরআন পড়ার সময় (ফেরেশতারা) হাজির থাকে। (সূরা বনি ইসরাইল-১৭:৭৮) 

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا إِذَا نُوْدِیَ لِلصَّلٰوةِ مِنْ یَّوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا اِلٰی ذِكْرِ اللّٰهِ وَ ذَرُوا الْبَیْعَ ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ. فَإِذَا قُضِیَتِ الصَّلٰوةُ فَانْتَشِرُوْا فِی الْاَرْضِ وَ ابْتَغُوْا مِنْ فَضْلِ اللّٰهِ وَ اذْكُرُوا اللّٰهَ كَثِیْرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ.

১১. হে মুমিনগণ, যখন জুমু‘আর দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। আর বেচাÑকেনা বর্জন কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে। অতপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় আর আল্লাহর অনুগ্রহ হতে অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার। (সূরা জুমুআ-৬২ : ৯-১০)

وَ اْمُرْ اَهْلَكَ بِالصَّلٰوةِ وَ اصْطَبِرْ عَلَیْهَا لَا نَسْـَٔلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَ الْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوٰی.

১২. আর তোমার পরিবার-পরিজনকে সালাত আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার ওপর অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে কোন রিয্ক চাই না। আমিই তোমাকে রিয্ক দেই আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য । (সূরা ত্ব হা -২০ : ১৩২)


আল হাদিস

عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بُنِىَ الْاِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لَّا اِلهَ إِلَّا اللهُ وَاَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللهِ وَاِقَامِ الصَّلَاةِ وَاِيْتَاءِ الزَّكَاةِ وَالْحَجِّ وَصَوْمِ رَمَضَانَ- (بُخَارِيْ : بُنِىَ الْاِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ، مُسْلِمْ : بَابُ بَيَانِ اَرْكَانِ الْاِسْلَامِ وَدَعَائِمِهِ الْعِظَامِ)

১. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি  #    বলেছেন, ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর স্থাপিত। ১. এই সাক্ষ্য দেয়া যে আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ #    আল্লাহর রাসূল। ২. নামা কায়েম করা। ৩. যাকাত দেয়া। ৪. হজ্জ করা। ৫. রমজানের রোজা রাখা। (বুখারি : বাবু বুনিয়াল ইসলামু আলা খামছিন : ৭, মুসলিম : বাবু বায়ানি আরকানিল ইসলামি : ২১)

عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا اِيْمَانَ لِمَنْ لَا اَمَانَةَ لَهُ، وَلَا صَلَاةَ لِمَنْ لَا طُهُوْرَ لَهُ، وَلَا دِيْنَ لِمَنْ لَا صَلَاةَ لَهُ، إِنَّمَا مَوْضِعُ الصَّلَاةِ مِنَ الدِّيْنِ كَمَوْضِعِ الرَّأْسِ مِنَ الْجَسَدِ- (اَلْاَوْسَطُ للطَّبْرَانِ : مِنْ اِسْمِهِ اَحْمَد، ضعَّفَهُ الْاَلْبَانِىْ)

২. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি  #    বলেছেন, যার আমানতদারী নেই তার ঈমান নেই। যার পবিত্রতা নেই তার নামাজ নেই, যার নামাজ নেই তার দীন নেই। গোটা শরীরের মধ্যে মাথার যে মর্যাদা, দীন ইসলামে নামাজের সে মর্যাদা। (আল আওসাতু লিত তাবরানী : মিন ইসমিহী আহমাদ, ২৩৮৩, আলবানী হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ اَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عَمَلِهِ صَلَاتُهُ فَاِنْ صَلُحَتْ فَقَدْ اَفْلَحَ وَ أَنْجَحَ وَ اِنْ فَسَدَتْ فَقَدْ خَابَ وَخَسِرَ فَاِنْ انْتَقَصَ مِنْ فَرِيْضَتِهِ شَىْءٌ قَالَ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ اُنْظُرُوْا هَلْ لِّعَبْدِىْ مِنْ تَطَوَّعٍ فَيُكَمَّلَ بِهَا مَا انْتَقَصَ مِنَ الْفَرِيْضَةِ ثُمَّ يَكُوْنُ سَائِرُ عَمَلِهِ عَلَى ذلِكَ- (تِرْمِذِيْ : بَابُ مَا جَاءَ أَنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلَاةُ)

৩. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ  #   কে বলতে শুনেছি কিয়ামতের দিন বান্দার আমর পর্যায়ে সর্বপ্রথম তার নামাজ সম্পর্কে হিসেব নেয়া হবে। তার নামাজ যদি যথাযথ প্রমাণিত হয়, তবে সে সাফল্য লাভ করবে, আর যদি নামাজের হিসেবই খারাপ হয় তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি তার ফরজ ইবাদাতে কোনরূপ ঘাটতি হয়, তখন আল্লাহ বলবেন, তোমরা দেখ আমরা বান্দাহর কোন নফল ইবাদাত আছে কি না? যদি থাকে তাহলে উহার দ্বারা ফরজের ঘাটতি পূরণ করা হবে। অতপর তার অন্যান্য আমলও অনুরূপ বিবেচিত হবে। (তিরমিজি, বাবু মা জা আ আন্না আউয়ালা মা ইউহাসাবু বিহিল আবদু : ৩৭৮)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍوَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ أَنَّهُ ذَكَرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا فَقَالَ مَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا كَاتَنْ لَهُ نُوْرًا وَبُرْهَانًا وَنَجَاةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ لَمْ يُحَافِظُ عَلَيْهَا لَمْ يَكُنْ لَهُ نُوْرًا وَلَا بُرْهَانًا وَلَانَجَاةً وَكَانَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ قَارُوْنَ وَفِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَأُبَىْ بْنِ خَلْفٍ- (رَوَاهُأَحْمَدْ:مُسْنَدُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو)

৪. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর "    নবি কারীম #    থেকে বর্ণনা করেন, একদা তিনি নামাজের প্রসংগ নিয়ে আলোচনা করলেন অতপর তিনি বললেন, যে ব্যক্তি এই নামাজ যথাযথভাবে ও সঠিক নিয়মে বআদায় করতে থাকবে, তাদের জন্য কিয়ামতের দনি একটি নূর অকাট্য দলিল এবং মুক্তি নির্ধারিত হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নামাজ সঠিকভাবে আদায় করবে না, তার জন্য নূর অকাট্য দলিল এবং মুক্তি কিছুই হবে না বরং কিয়ামতের দিন তার পরিণতি হবে কারুন, ফেরাউন, হামান, উবাই ইবনে খালফের সাথে। (মুসনাদে আহমাদ, মুসনাদে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর "    , ৬২৮৮)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ اَنَّ رَسُوْلَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ اَرَاَيْتُمْ لَوْ اَنَّ نَهْرًا بِبَابِ اَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاةٍ هَلْ يَبْقى مِنْ دَرَنِهِ شَىْءً قَالُوْا لَا يَبْقَى مِنْ دَرْنِهِ شَىْءٌ قَالَ فَذلِكَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ يَمْحُوْ اللهُ بِهِنَّ الْخَطَايَا- (مُسْلِمْ : بَابُ الْمَشْىِ اِلى الصَّلَاةِ تُمْحى بِهِ الْخَطَايَا وَ تُرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتُ)

৫. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, তোমাদের কারো বাড়ির সামনে যদি একটি প্রবাহমান নদী থাকে এবং সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে তাহলে তার শরীরে কোন ময়লা থাকতে পারে? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, না। তার শরীরে কোন ময়লাই থাকতে পারে না। রাসূল #    বললেন, এই হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণ। এর সাহায্যে আল্লাহ তাআলা যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেন। (মুসলিম : বাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি তুমহা বিহিল খাতায়া, ১০৭১)

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ رَضِيَ الله عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى الله ﷺ  اَبْرِدُوْا بِالصَّلَاةِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ ـ (بُخَارِيْ : بَابُ صِفَةِ النَّارِ)

৬. হজরত আবু সাঈদ খুদরী "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি  #    বলেছেন, (গরমকালে জোহরের নামাজ গরমের প্রচন্ডতা কমলে) নামাজ ঠান্ডার সময় পড়। কেননা গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের শ্বাস থেকেই উৎসারিত। (বুখারি: বাবু ছিফাতিন নারি, ৩০১৯)।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ مَنْ غَدَا اِلَى الْمَسْجِدِ وَرَاحَ اَعَدَّ اللهُ لَهُ نُزْلَةً مَّنَ الْجَنَّةِ كُلَّمَا غَدَا اَرْوَاحَ- (بُخَارِيْ : بَابُ فَضْلِ مَنْ غَدَا اِلَى الْمَسْجِدِ وَمَنْ رَاحَ)

৭. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। নবি  #    বলেছেন, কোনো ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যাতায়াত করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ততোবার মেহমানদারীর সামগ্রী তৈরি করে রাখেন। (বুখারি : বাবু ফাদলি মান গাদা ইলাল মাসজিদি ওয়ামান রাহা, ৬২২)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ مَنْ تَطَهَّرَ فِيْ بَيْتِهِ ثُمَّ مَشَى اِلَى بَيْتٍ مِّنْ بُيُوْتِ اللهِ لِيَقْضِىَ فَرِيْضَةً مِّنْ فَرَائِضِ اللهِ كَانَتْ خَظْوَاتَاهُ اِحْدَاهُمَا تَحُطُّ خَطِيْئَةً وَالْاُخْرَى تَرْفَعُ دَرَجَةً- (مُسْلِمْ : بَابُ الْمَشْىِ اِلَى الصَّلَاةِ تُمْحَى بِهِ الْخَطَايَا وَتُرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتُ)

৮. হজরত আবু হুরায়রা "  থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল  #    বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের বাড়িতে পবিত্রতা অর্জন করল, অতপর আল্লাহর কোন একটি ফরজ (নামাজ) আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে রওয়ানা হলো, এটি তার পদচারণার প্রতি এক কদমে একটি গুনাহ মাফ এবং পরবর্তি কদমে একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে। (মুসলিম : বাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি তুমহা বিহিলি খাতায়া, ১০৭০)

عَنْ بُرَيْدَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ بَشِّرِ الْمَشَّائِيْنَ فِي الظُّلْمِ اِلَى الْمَسَاجِدِ بِالنُّوْرِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ- (اَبُوْ دَاودَ  : بَابُ مَا جَاءَ فِي الْمَشْيِ اِلَى الصَّلَاةِ فِي الظَّلَامِ)

৯. হজরত বুরাইদা "   থেকে বর্ণিত। নবি  #    বলেছেন, যারা অন্ধকারে মসজিদের দিকে (নামাযের উদ্দেশ্যে) বেশী পদচারণ করে তাদেরকে কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ দিন। (আবু দাউদ : বাবু মা জাআ ফিল মাশয়ি ইলাস সালাতি ফিযযালামি, ৪৭৪)

عَنْ أَبِيْ مُوْسَى قَالَ قَالَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ اَعْظَمُ النَّاسِ اَجْرًا فِيْ الصَّلَاةِ اَبْعَدُهُمْ فَاَبْعَدُهُمْ مَشًى وَالَّذِيْ يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ حَتّٰى يُصَلِّيَهَا مَعَ الْاِمَامِ اَعْظَمُ اَجْرًا مِنَ الَّذِيْ يُصَلِّىْ ثُمَّ يَنَامُ- (بُخَارِيْ : بَابُ فَضْلِ صَلَاةِ الْفَجْرِ فِيْ جَمَاعَةٍ، مُسْلِمْ : بَابُ فَضْلِ كَثْرَةِ الْخَطَا اِلَى الْمَسَاجِدِ)

১০. হজরত আবু মুসা "   থেকে বর্ণিত। নবি  #    বলেন, যে ব্যক্তি মসজিদ থেকে দূরে বাস করে লোকদের মধ্যে (দূর থেকে এসে জামাআতে নামাজ পড়ার কারণে) তারই সাওয়াব বেশীহয়। আর এর চাইতে যে আরো দূরে থাক তার সাওয়াব আরো বেশি হয়। যে ব্যক্তি তাড়াতাড়ি নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে তার চাইতে ঐ ব্যক্তির সাওয়াব বেশি যে ইমামের সাথে নামাজ পড়ার জন্য অপেক্ষা করে। (বুখারি : বাবু ফাদলি সালাতিল ফাজরি ফী জামাআতিন, ৬১৪, মুসলিম : বাবু ফাদলি কাসরাতিল খুতা ইলাল মাসাজিদে, ১৪৬৪)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ صَلَاةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ صَلَاةَ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِيْنَ دَرَجَةً ـ (بُخَارِيْ بَابُ فَضْلِ صَلَاةِ الْجَمَاعَةِ، (مُسْلِمْ: بَابُ فَضْلِ صَلَاةِ الْجَمَاعَةِ وَبَيَانِ التَّشْدِيْدِ فِي التَّخَلَّفِ عَنْهَا)

১১. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর "   থেকে বর্ণিত। রাসূল #   বলেছেন, একাকী নামাজ পড়ার চাইতে জামাআতে নামাজ পড়ার ফজিলত সাতাশ গুণ বেশি। (বুখারি: বাবু ফাদলি সালাতিল জামাআতি, ৬০৯; মুসলিম: বাবু ফাদলি সালাতিল জামাআতি, ১০৩৮)   

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ اَنَّ رَسُوْلَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ اَلَا اَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاةِ قَالُوْا بَلَى يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ اِسْبَاغُ الْوَضُوْءِ عَلَى الْمَكَارِهِ وَكَثْرَةُ الْخُطَا اِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ فَذلِكُمْ الرِّبَاطُ- (مُسْلِمْ : بَابُ فَضْلِ اِسْبَاغُ الْوَضُوْءِ عَلَى الْمَكَارِهِ)

১২. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। রাসূল  #    বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি বিষয়ের কথা বলব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহ মোচন করেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন? সাহাবিগণ বললেন, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, কষ্ট সত্ত্বেও অজু করা, মসজিদে (নামাজের উদ্দেশে) অধিক পদচারণা এবং এক নামাজের পরে অন্য নামাজের অপেক্ষা করা। আর এটিই হচ্ছে সুদৃঢ় বন্ধন। (মুসলিম : বাবু ফাদলি ইসবাতিল উদু আলার মাকারিহি, ৩৬৯)

عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بَيْنَ الْعَبْدِ وَ بَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ-

১৩.  হজরত জাবের "    থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল  #     বলেছেন, বান্দা ঈমানদার ও কুফুরীর মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত ত্যাগ করা। (তিরমিজি : ২৬১৮)

১২. জাকাত : اَلزَّكَاةُ

اَلزَّكَاةُ অর্থ পবিত্র হওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া।


আল-কুরআন

خُذْ مِنْ اَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَ تُزَكِّیْهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَیْهِمْ إِنَّ صَلٰوتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ ؕ وَ اللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ.

১. তাদের সম্পদ থেকে সদাকা নাও। এর মাধ্যমে তাদেরকে তুমি পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে। আর তাদের জন্য দুআ কর, নিশ্চয় তোমার দুআ তাদের জন্য প্রশান্তিকর। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা তাওবা ৯ : ১০৩)

وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ.

২. যারা জাকাতের ব্যাপারে কর্মতৎপর হয়। (সূরা মুমিনূন- আয়াত: ২৩:৪)

وَ مَاۤ اٰتَیْتُمْ مِّنْ رِّبًا لِّیَرْبُوَاۡ فِیْۤ اَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا یَرْبُوْا عِنْدَ اللّٰهِ وَ مَاۤ اٰتَیْتُمْ مِّنْ زَكٰوةٍ تُرِیْدُوْنَ وَجْهَ اللّٰهِ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُضْعِفُوْنَ.

৩. আর তোমরা যে সূদ দিয়ে থাক, মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তা মূলতঃ আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায় না। আর তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাক আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে (তাই বৃদ্ধি পায়) এবং তারাই বহুগুণ সম্পদ প্রাপ্ত। (সূরা রূম-৩০ : ৩৯)

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ.

৪। সালাত কায়েম কর জাকাত দাও এবং যারা আমার সামনে নত হয় (রুকুকারী) তাদের সাথে তোমরাও নত হও (রুকু কর)। (সূরা বাকারা- আয়াত: ০২:৪৩)

الَّذِينَ لَا يُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُم بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ.

৫। যারা জাকাত আদায় করে না, তারাই আখেরাত অস্বীকারকারী। (সূরা হামিম আস সাজদাহ- আয়াত: ৪১:৭)

إِنَّمَا الصَّدَقٰتُ لِلْفُقَرَآءِ وَ الْمَسٰكِیْنِ وَ الْعٰمِلِیْنَ عَلَیْهَا وَ الْمُؤَلَّفَةِ قُلُوْبُهُمْ وَ فِی الرِّقَابِ وَ الْغٰرِمِیْنَ وَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ ابْنِ السَّبِیْلِ فَرِیْضَةً مِّنَ اللّٰهِ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ.

৬. নিশ্চয় সদাকা হচ্ছে ফকীর ও মিসকীনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য; (তা বণ্টন করা যায়) দাস আযাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্ল¬াহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের মধ্যে। এটি আল্ল¬াহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, আর আল্লাহ  মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবা-৯ : ৬০)

یَمْحَقُ اللّٰهُ الرِّبٰوا وَ یُرْبِی الصَّدَقٰتِ وَ اللّٰهُ لَا یُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ اَثِیْمٍ.

৭. আল¬াহ সুদকে মিটিয়ে দেন এবং সদাকাকে বাড়িয়ে দেন। আর আল¬াহ কোন অতি কুফরকারী পাপীকে ভালবাসেন না। (সূরা বাকারা -২ : ২৭৬)

فَاِنْ تَابُوْا وَ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتَوُا الزَّكٰوةَ فَاِخْوَانُكُمْ فِی الدِّیْنِ وَ نُفَصِّلُ الْاٰیٰتِ لِقَوْمٍ یَّعْلَمُوْنَ.

৮. অতএব যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে, তবে দীনের মধ্যে তারা তোমাদের ভাই। আর আমি আয়াতসমূহ যথাযথভাবে বর্ণনা করি এমন কওমের জন্য যারা জানে। (সূরা তাওবা-৯ : ১১)

اَلَّذِیْنَ اِنْ مَّكَّنّٰهُمْ فِی الْاَرْضِ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتَوُا الزَّكٰوةَ وَ اَمَرُوْا بِالْمَعْرُوْفِ وَ نَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَ لِلّٰهِ عَاقِبَةُ الْاُمُوْرِ.

৯. তারা এমন যাদেরকে আমি যমীনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে। (সূরা হাজ : ৪১)

فَاَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ وَ اعْتَصِمُوْا بِاللّٰهِ هُوَ مَوْلٰىكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلٰی وَ نِعْمَ النَّصِیْرُ.

১০. অতএব তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে ধর। তিনিই তোমাদের অভিভাবক।  আর তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী! (সূরা হাজ : ৭৮)

رِجَالٌ لَّا تُلْهِیْهِمْ تِجَارَةٌ وَّ لَا بَیْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللّٰهِ وَ اِقَامِ الصَّلٰوةِ وَ اِیْتَآءِ الزَّكٰوةِ یَخَافُوْنَ یَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِیْهِ الْقُلُوْبُ وَ الْاَبْصَارُ.

১১. সেসব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর যিক্র, সালাত কায়েম করা ও যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা সেদিনকে ভয় করে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে। (সূরা নুর : ৩৭)

وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ.

১২. আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হতে পার। (সূরা নুর : ৫৬)

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا أَنْفِقُوْا مِنْ طَیِّبٰتِ مَا كَسَبْتُمْ وَ مِمَّاۤ اَخْرَجْنَا لَكُمْ مِّنَ الْاَرْضِ وَ لَا تَیَمَّمُوا الْخَبِیْثَ مِنْهُ تُنْفِقُوْنَ وَ لَسْتُمْ بِاٰخِذِیْهِ إِلَّاۤ أَنْ تُغْمِضُوْا فِیْهِ وَ اعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ غَنِیٌّ حَمِیْدٌ.

১৩. হে মুমিনগণ, তোমরা ব্যয় কর উত্তম বস্তু, তোমরা যা অর্জন করেছ এবং আমি যমীন থেকে তোমাদের জন্য যা উৎপন্ন করেছি তা থেকে এবং নিকৃষ্ট বস্তুর ইচ্ছা করো না যে, তা থেকে তোমরা ব্যয় করবে। অথচ চোখ বন্ধ করা ছাড়া যা তোমরা গ্রহণ করো না। আর জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্ল¬াহ অভাবমুক্ত, সপ্রশংসিত। (সূরা বাকারা : ২৬৭)

وَ مَاۤ أَنْفَقْتُمْ مِّنْ نَّفَقَةٍ اَوْ نَذَرْتُمْ مِّنْ نَّذْرٍ فَإِنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُهٗ وَ مَا لِلظّٰلِمِیْنَ مِنْ أَنْصَارٍ.

১৪. তোমরা যা কিছু ব্যয় কর অথবা যে কোন মান্নত কর তা অবশ্যই আল্লাহ জানেন। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। (সূরা বাকারা : ২৭০)







আল হাদিস

عنْ جَرِيْرِبْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ  بَايَعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  عَلٰى اِقَامِ الصَّلَاةِ وَ اِيْتَاءِ الزَّكَاةِ وَ النُصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ ـ (بُخَارِيْ: بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى الله ﷺ  الدِّيْنُ النَّصِيْحَةُ- (مُسْلِمْ : بَابُ بَيَانِ اَنَّ الدِّيْنَ النَّصِيْحَةُ)

১. হজরত জারির ইবনে আবদুল্লাহ "    বলেন, আমি নবি করিম  #   এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেছি নামাজ কায়েম করার জন্য, জাকাত দেয়ার জন্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের কল্যাণ কামনার জন্য। (বুখারি: বাবু ক্বাওলিন নাবিয়্যি আদ দ্বীনু আন নাসিহাতু, ৫৫; মুসলিম: বাবু বায়ানি আন্নাদ দ্বিনা আননাসিহাতু, ৮৩)।

عنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  مَنْ آتَاهُ اللهُ مَالًا فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهُ مُثِّلَ لَهُ مَالُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ لَهُ زَبِيْبَتَانِ يُطُوِّقُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثُمَّ يَأْخُذُ بِلِهْزِمَتَيْهِ يَعْنِىْ بِشِدْقَيْهِ ثُمَّ يَقُوْلُ اَنَا مَالُكَ أَنَا كَنْزُكَ ثُمَّ تَلَا : (لَا يَحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ يَبْخَلُوْنَ)- (بُخَارِيْ : بَابُ اِثْمِ مَانِعِ الزَّكَاةِ)

২. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, আল্লাহ যাকে ধন-সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু সে উহার যাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে একটি ন্যাড়া সর্পে পরিণত করা হবে। তার থাকবে দুটি কালো দাগ। এই সর্প সেই ব্যক্তির গলায় পেঁচিয়ে দেয়া হবে। অতপর সাপ উক্ত ব্যক্তির গলায় ঝুলে তার দুগালে কামড়াতে থাকবে এবং বলবে আমি-ই তোমার মাল, আমি তোমার সঞ্চিত সম্পদ। অতপর তিনি সূরা আলে ইমরানের ১৮০ নং আয়াত তেলাওয়াত করলেন। (বুখারি, বাবু ইসমি মানিয়িয যাকাতি, ১৩১৫)

عنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ لَمَّا تُوُفِي النَّبِيُّ صَلَّى الله ﷺ  وَاسْتُخْلِفَ أَبُوْ بَكْرٍ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ قَالَ عُمَرَ : يَا اَبَا بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسِ وَقَدْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهِ ﷺ  اُمِرْتُ أَنْ اُقَاتِلُ النَّاسَ حَتّٰى يَقُوْلُوْا لَا اِلهَ إِلَّا اللهُ فَقَدْ عَصَمَ مِنِّىْ مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلَّا بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللهِ قَالَ اَبُوْ بَكْرٍ وَاللهِ لَاُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ فَإِنَّ الزَّكَاةِ حَقُّ الْمَالِ وَاللهِ لَوْ مَنَعُوْنِىْ عَنَاقًا كَانُوْ يُؤَدُّوْنَهَا اِلى رَسُوْلِ اللهِ صَلِّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلى مَنْعِهَا قَالَ عُمَرُ فَوَاللهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَاَيْتُ أَنْ قَدْ شَرَحَ اللهُ صَدْرَ أَبِيْ بَكْرٍ لِلْقِتَالِ فَعَرَفْتُ اَنَّهُ الْحَقُّ - (بُخَارِيْ : بَابُ قَتْلِ مَنْ اَبى قَبُوْلَ الْفَرَائِضِ وَ مَا نُسِبُوْ اِلىَ الرِّدَّةِ)

৩. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি করিম  #    যখন ইন্তেকাল করলেন তখন আবু বকর "    খলিফা নিযুক্ত হলেন। অতপর আরবদের মাঝে (যারা কুফরি করবে তারা) কিছু লোক কুফরি করল। ওমর "    হজরত আবু বকর "   কে বললেন, আপনি এই লোকদের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই করতে পারেন অথচ নবি করিম #     বলেছেন, লোকেরা যতক্ষণ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ মেনে না নিবে ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। যদি কেহ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ স্বীকার করে অবশ্য উহার ওপর ইসলামের হক কখনো ধার্য হলে অন্য কথা। আর উহার হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত। তখন হজরত আবু বকর "    বলেন, আল্লাহর শপথ! যে লোকই নামায ও যাকাতের পার্থক্য সৃষ্টি করবে তারই বিরুদ্ধে আমি অবশ্যই যুদ্ধ করব। কেননা যাকাত হচ্ছে মালের হক। আল্লাহর শপথ! যদি রাসুলের সময় যাকাত বাবদ দিত এমন একটি উটের বাচ্চাও দেয়া বন্ধ করে তবে অবশ্যই আমি উহা দেয়া বন্ধ করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব। তখন হজরত ওমর "    বললেন,  আল্লাহর শপথ করে বলছি, উহা আর কিছু নয়, আমার মনে হলো, আল্লাহ যেন আবু বকরের অন্তর যুদ্ধের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন এবং বুঝতে পারলাম যে উহাই ঠিক। (বুখারি, বাবু ক্বাতলি মান আবা কুবুলাল ফারায়িজি, ৬৪১৩)

عَنْ جَابِرٍ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَايَعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ اِقَامِ الصَّلَاةِ وَ اِيْتَاءِ الزَّكَاةِ وَ النَّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ-

৪. হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ "    হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নবি কারীম  #   -এর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করেছি সালাত কায়েম করার, যাকাত দেয়ার এবং প্রতিটি মুসলমানের কল্যাণ কামনা করার জন্য।


























১৩. সাওম : اَلصَّوْمُ

اَلصَّوْمُ অর্থ সংযম, বিরত থাকা, কঠোর সাধনা করা।


আল-কুরআন

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَیْكُمُ الصِّیَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَক্স

১. হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করে দেওয়া হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের নবিগণের উম্মতের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। এর ফলে আশা করা যায়, তোমাদের মধ্যে তাকওয়ার গুণ পয়দা হবে। (সূরা বাকারা ০২:১৮৩)

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِیْ اُنْزِلَ فِیْهِ الْقُرْاٰنُ هُدًی لِّلنَّاسِ وَ بَیِّنٰتٍ مِّنَ الْهُدٰی وَ الْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْیَصُمْهُ وَ مَنْ كَانَ مَرِیْضًا اَوْ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ اَیَّامٍ اُخَرَ یُرِیْدُ اللّٰهُ بِكُمُ الْیُسْرَ وَ لَا یُرِیْدُ بِكُمُ الْعُسْرَ ؗ وَ لِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَ لِتُكَبِّرُوا اللّٰهَ عَلٰی مَا هَدٰىكُمْ وَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ.

২. রমজান ঐ মাস, যে মাসে আল-কুরআন নাজিল করা হয়েছে; যা মানুষের জন্য পুরোটাই হেদায়াত, যা এমন স্পষ্ট উপদেশে পূর্ণ যে, তা সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে। তাই এখন থেকে যে ব্যক্তি এ মাস পায় তার অবশ্য কর্তব্য, সে যেন পুরো মাস রোজা রাখে। আর যে অসুস্থ বা সফরে থাকে, সে যেন অন্য সময় ঐ দিনগুলোর রোজা করে নেয়। আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা-ই চান, যা কঠিন তা তিনি চান না। তোমাদেরকে এ জন্যই এ নিয়ম দেয়া হয়েছে, যাতে তোমরা রোজার সংখ্যা পূর্ণ করতে পার, আর যে হেদায়াত আল্লাহ তোমাদেরকে দিয়েছেন এর জন্য তোমরা আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশ করতে পার এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে পার। (সূরা বাকারা-০২:১৮৫)

اُحِلَّ لَكُمْ لَیْلَةَ الصِّیَامِ الرَّفَثُ اِلٰی نِسَآىِٕكُمْ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَ أَنْتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ عَلِمَ اللّٰهُ اَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُوْنَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَیْكُمْ وَ عَفَا عَنْكُمْ فَالْـٰٔنَ بَاشِرُوْهُنَّ وَ ابْتَغُوْا مَا كَتَبَ اللّٰهُ لَكُمْ وَ كُلُوْا وَ اشْرَبُوْا حَتّٰی یَتَبَیَّنَ لَكُمُ الْخَیْطُ الْاَبْیَضُ مِنَ الْخَیْطِ الْاَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ اَتِمُّوا الصِّیَامَ اِلَی الَّیْلِ وَ لَا تُبَاشِرُوْهُنَّ وَ أَنْتُمْ عٰكِفُوْنَ فِی الْمَسٰجِدِ تِلْكَ حُدُوْدُ اللّٰهِ فَلَا تَقْرَبُوْهَا كَذٰلِكَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ اٰیٰتِهٖ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ یَتَّقُوْنَ.

৩. সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের জন্য পরিচ্ছদ। আল্লাহ জেনেছেন যে, তোমরা নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে। অতপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন। অতএব, এখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হও এবং আল¬াহ তোমাদের জন্য যা লিখে দিয়েছেন, তা অনুসন্ধান কর। আর আহার কর ও পান কর যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কাল রেখা থেকে স্পষ্ট হয়। অতপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর। আর তোমরা মাসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না। এটা আল্ল¬াহর সীমারেখা, সুতরাং তোমরা তার নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবেই আল¬াহ তাঁর আয়াতসমূহ মানুষের জন্য স্পষ্ট করেন যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে। (সূরা বাকারা-২ : ১৮৭)

اَیَّامًا مَّعْدُوْدٰتٍ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَّرِیْضًا اَوْ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ اَیَّامٍ اُخَرَ وَ عَلَی الَّذِیْنَ یُطِیْقُوْنَه فِدْیَةٌ طَعَامُ مِسْكِیْنٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَیْرًا فَهُوَ خَیْرٌ لَّه وَ أَنْ تَصُوْمُوْا خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ.

৪. কয়েকটি নির্দিষ্ট দিনের রোজা। যদি তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হয় অথবা সফরে থাকে, তাহলে সে অন্য সময় যেন এ দিনগুলোর রোজা আদায় করে নেয়। এরপরও যাদের ওপর রোজা একান্ত কষ্টকর হবে তারা যেন ‘ফিদ্ইয়া’ দেয়। এক রোজার ফিদইয়া হলো একজন মিসকিনকে খাওয়ানো। তবে যদি কেউ এর চাইতে বেশি দিয়ে ভাল করতে চায় তাহলে এ অতিরিক্ত কাজ তার জন্য হবে কল্যাণকর অবশ্য তোমরা যদি রোজা রাখতে পার তাহলে সেটাই তোমাদের জন্য ভালো। যদি তোমরা রোজার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে। (সূরা বাকারা-০২:১৮৪)


আল হাদিস

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ  رضـ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  مَنْ صَامَ رَمَضَانَ اِيْمَانًا وَاِحْتِسَابًا غُفِرَ لَه مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه ـ (بُخَارِيْ: بَابُ صَوْمِ رَمَضَانَ اِحْتِسَابًا مِنَ الْاِيْمَانِ، مسلم: باب التَّرْغِيْبِ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَهُوَ التَّرَاوِيْحُ)

১. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ #    বলেছেন, যে লোক রমজান মাসের রোজা রাখবে ঈমান ও চেতনা সহকারে তার পূর্ববর্তী সকল গুনা ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখারি: বাবু সাওমি রামাদানা ইহতিসাবান মিনাল ঈমান, ৩৭; মুসলিম বাবুত তারগিব ফি ক্বিয়ামি রামাদানা, ১২৬৮)

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ  رضـ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  اَتَكُمْ رَمَضَانُ شَهْرٌ مُّبَارَكٌ فَرِضَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ تُفْتَحُ فِيْهِ اَبْوَابُ السَّمَاءِ وَتُغْلَقُ فِيْهِ اَبْوَابُ الْجَحِيْمِ وَتُغَلُّ فِيْهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِيْنِ لِلّهِ فِيْهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِّنْ اَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حَرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ- (نَسَائِىْ : ذِكْرُ الْاِخْتِلَافِ عَلى مَعْمَرِ فِيْهِ)

২. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ #    বলেছেন, তোমাদের নিকট রমজান উপস্থিত। এটি অত্যন্ত বরকতময় মাস। আল্লাহ তাআলা এ মাসে তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। আর অবাধ্য শয়তানগুলো আটক করে রাখা হয়। আল্লাহর জন্য এ মাসে একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়েও অনেক উত্তম। যে লোক রাত্রির কল্যাণ হতে বঞ্চিত হল, সে সত্যই বঞ্চিত ব্যক্তি। (নাসায়ী : যিকরুল ইখতিলাফি আলা মা মারিন ফিহি, ২০৭৯)

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ  رضـ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  اَلصِّيَامُ جُنَّةٌ فَإِذَا كَانَ اَحَدُكُمْ صَائِمًا فَلَا يَرَفَثُ وَلَا يَجْهَلْ فَاِنِ امْرُؤُ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّيْ صَائِمٌ إِنِّيْ صَائِمٌ- (مُوَطَّا : بَابُ جَامِعِ الصِّيَامِ)

৩. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ #    বলেছেন, রোযা ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ কোনদিন রোজা রাখলে তার মুখ থেকে যেন খারাপ কথা বের না হয়, সে যাতে মূর্খতাসুলভ আচরণ না করে। যদি কেউ তার সাথে বিবাদে লিপ্ত হয় কিংবা গালমন্দ করে সে যেন বলে আমি রোজাদার। নিশ্চয়ই আমি রোজাদার। (মুয়াত্তা মালেক, বাবু জামেয়েস সিয়ামি, ৬০২)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمرٍو اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ الصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُوْلُ الصِّيَامُ اَىْ رَبِّ مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِيْ فِيْهِ وَيَقُوْلُ الْقُرْآنُ مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِىْ فِيْهِ قَالَ فَيُشْفَعَانِ- (مُسْنَدِ اَحْمَدَ : مُسْنَدُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو)

৪. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর "   থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ #    বলেছেন, রোজা ও কুরআন রোজাদার বান্দাহর জন্য (আল্লাহর নিকট) কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে আল্লাহ! আমি এ ব্যক্তিকে দিনে খাবার ও অন্যান্য কামনা বাসনা থেকে ফিরিয়ে রেখেছি, আপনি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ করুন। কুরআন বলবে, হে আল্লাহ! আমি এ ব্যক্তিকে রাতের নিদ্রা থেকে ফিরিয়ে রেখেছি, আপনি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। অতপর আল্লাহ তাদের সুপারিশ গ্রহণ করবেন। (মুসনাদে আহমদ, মুসনাদে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, ৬৩৩৭)

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ  رضـ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  مَنْ لَّمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّوْرِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلّٰهِ حَاجَةٌ فِيْ أَنْ يَّدَعَ طَعَامَه وَ شَرَابَه ـ  (بُخْارِىْ: بَابُ مَنْ لَّمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّوْرِ)

৫. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ #   বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং তদনুযায়ী আমল পরিত্যাগ করতে পারল না, তবে এমন ব্যক্তির পানাহার পরিত্যাগ করার আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। (বুখারি, বাবু মান লাম ইয়াদা’ ক্বাওলায যূরি: ১৭৭০)

عَنْ سَهْلٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ  صَلَّى الله ﷺ  قَالَ إِنَّ فِيْ الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَدْخُلُ مِنْهُ اَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ اَيْنَ الصَّائِمُوْنَ فَيَقُوْمُوْنَ لَا يَدْخُلُ مِنْهُ اَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلُوْا اُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلُ مِنْهُ اَحَدٌ- (بُخَارِيْ  : بَابُ الرَّيَّانِ لِلصَّائِمِيْنَ، مُسْلِمْ  : بَابُ فَضْلِ الصِّيَامِ)

৬. হজরত সাহল ইবনে সাদ "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ #   বলেছেন, জান্নাতের একটি দরজা আছে যাকে বলা হয় রাইয়ান। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন একমাত্র রোজাদার লোকেরাই প্রবেশ করবে। তারা ব্যতীত অন্য কেউ এ পথে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন এ বলে ডাক দেয়া হবে রোজাদার লোকেরা কোথায়? তারা যেন এ পথে প্রবেশ করে। এভাবে সকল রোজাদার ভেতরে প্রবেশ করার পর দরজাটি বন্ধ করে দেয়া হবে। অতপর আর কেউ এ পথে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারি; বাবুর রাইয়ান লিস সায়িমীনা, ১৭৬৩, মুসলিম : বাবু ফাদলিস সিয়ামি, ১৯৪৭)

عَنْ اَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِىِّ رضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِىَّ صَلَّى الله ﷺ  يَقُوْلُ مَنْ صَامَ يَوْمًا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ بَعَّدَ اللهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِيْنَ خَرِيْفًا- (بُخَارِيْ : بَابُ فَضْلِ الصَّوْمِ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ، مُسْلِمْ : بَابُ فَضْلِ الصِّيَامِ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ)

৭. হজরত আবু সাঈদ খুদরী "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবি করিম  #   কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তার চেহারাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছর দূরে সরিয়ে রাখবেন। (বুখারি : বাবু ফাদলিস সাওমি ফী সাবিলিল্লাহ, ২৬২৮, মুসলিম : বাবু ফাদলিস সিয়ামি ফী সাবিলিল্লাহ, ১৯৪৯)

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ  رضـ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ عَشْرُ اَمْثَالِهَا اِلَى سَبْعِمِائِةِ ضِعْفٍ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِىْ وَاَنَا اَجْزِىْ بِهِ يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ اَجْلِىْ لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ وَلَخُلُوْفُ فِيْهِ اَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيْحِ الْمِسْكِ- (مُسْلِمْ : بَابُ فَضْلِ الصِّيَامِ)

৮. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ #   বলেছেন, আদম সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব ১০ গুন হতে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু আল্লাহ তাআলা বলেছেন, রোজা এ সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম, কেননা তা কেবল আমারই জন্য আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। রোজা পালনে আমার বান্দা আমারই সন্তোষ লাভের উদ্দেশ্যে স্বীয় ইচ্ছা, বাসনা ও নিজের পানাহার পরিত্যাগ করে থাকে। রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ ১. একটি ইফতারের সময় ২. অপরটি তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। নিশ্চয়ই জেনে রেখ, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরির সুগন্ধি হতেও অনেক উত্তম। (মুসলিম, বাবু ফাদলিস সিয়ামি : ১৯৪৫)













১৪. হজ : اَلْحَجُّ

اَلْحَجُّ অর্থ সংকল্প করা, ইচ্ছা পোষণ করা।


আল-কুরআন

فِیْهِ اٰیٰتٌۢ بَیِّنٰتٌ مَّقَامُ اِبْرٰهِیْمَ وَ مَنْ دَخَلَهٗ كَانَ اٰمِنًا وَ لِلّٰهِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الْبَیْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ اِلَیْهِ سَبِیْلًا وَ مَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللّٰهَ غَنِیٌّ عَنِ الْعٰلَمِیْنَ.

১. তাতে রয়েছে স্পষ্ট নির্দশনসমূহ, মাকামে ইবরাহীম। আর যে তাতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে এবং সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্ল-াহর হজ্জ করা ফরয। আর যে কুফরি করে, তবে আল্ল¬াহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী। (সূরা আলে ইমরান-০২ : ৯৭)

اَلْحَجُّ اَشْهُرٌ مَّعْلُوْمٰتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِیْهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَ لَا فُسُوْقَ وَ لَا جِدَالَ فِی الْحَجِّ وَ مَا تَفْعَلُوْا مِنْ خَیْرٍ یَّعْلَمْهُ اللّٰهُ وَ تَزَوَّدُوْا فَإِنَّ خَیْرَ الزَّادِ التَّقْوٰی وَ اتَّقُوْنِ یٰۤاُولِی الْاَلْبَابِ.

২. হজের সময় নির্দিষ্ট মাসসমূহ। অতএব এই মাসসমূহে যে নিজের ওপর হজ আরোপ করে নিল, তার জন্য হজে অশ¬ীল ও পাপ কাজ এবং ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয়। আর তোমরা ভাল কাজের যা কর, আল¬াহ তা জানেন এবং পাথেয় গ্রহণ কর। নিশ্চয় উত্তম পাথেয় তাকওয়া। আর হে বিবেক সম্পন্নগণ, তোমরা আমাকে ভয় কর। (সূরা বাকারা-২ : ১৯৭)

وَ اَتِمُّوا الْحَجَّ وَ الْعُمْرَةَ لِلّٰهِ فَاِنْ اُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَیْسَرَ مِنَ الْهَدْیِ وَ لَا تَحْلِقُوْا رُءُوْسَكُمْ حَتّٰی یَبْلُغَ الْهَدْیُ مَحِلَّهٗ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَّرِیْضًا اَوْ بِهٖۤ اَذًی مِّنْ رَّاْسِهٖ فَفِدْیَةٌ مِّنْ صِیَامٍ اَوْ صَدَقَةٍ اَوْ نُسُكٍ ۚ فَإِذَاۤ اَمِنْتُمْ فَمَنْ تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ اِلَی الْحَجِّ فَمَا اسْتَیْسَرَ مِنَ الْهَدْیِ فَمَنْ لَّمْ یَجِدْ فَصِیَامُ ثَلٰثَةِ اَیَّامٍ فِی الْحَجِّ وَ سَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ذٰلِكَ لِمَنْ لَّمْ یَكُنْ اَهْلُهٗ حَاضِرِی الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ وَ اعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ شَدِیْدُ الْعِقَابِ.

৩. আর হজ ও উমরা আল্ল¬াহর জন্য পূর্ণ কর। অতপর যদি তোমরা আটকে পড় তবে যে পশু সহজ হবে (তা যবেহ কর)। আর তোমরা তোমাদের মাথা মুণ্ডন করো না, যতক্ষণ না পশু তার যথাস্থানে পৌঁছে। আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ কিংবা তার মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে তবে সিয়াম কিংবা সদাকা অথবা পশু যবেহ এর মাধ্যমে ফিদয়া দেবে। আর যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন যে ব্যক্তি উমরার পর হজ সম্পাদনপূর্বক তামাত্তু করবে, তবে যে পশু সহজ হবে, তা যবেহ করবে। কিন্তু যে তা পাবে না তাকে হজে তিন দিন এবং যখন তোমরা ফিরে যাবে, তখন সাত দিন সিয়াম পালন করবে। এই হল পূর্ণ দশ। এই বিধান তার জন্য, যার পরিবার মাসজিদুল হারামের অধিবাসী নয়। আর তোমরা আল্ল¬াহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্ল¬াহ আজাবদানে কঠোর। (সূরা বাকারা-২ : ১৯৬)

وَ اَذِّنْ فِی النَّاسِ بِالْحَجِّ یَاْتُوْكَ رِجَالًا وَّعَلٰی كُلِّ ضَامِرٍ یَّاْتِیْنَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِیْقٍ.

৪. আর আপনি সকল মানুষের হজের জন্য ডাক দিন। তারা (এ ডাকে সাড়া দিয়ে) দূর-দূরান্ত থেকে পায়ে হেঁটে ও উটে চড়ে আসবে। (সূরা হাজ- ২২ : ২৭)

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَیْتَ اَوِاعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْهِ أَنْ یَّطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَیْرًا  فَإِنَّ الله شَاکِرٌ عَلِیْمٌ.

৫. নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনগুলোর মধ্যে গণ্য। তাই যে আল্লাহর ঘরের হজ বা উমরা করে, তাদের জন্য এ দুটো পাহাড়ের মাঝখানে দৌড়ানো কোনো গুনাহের কাজ নয়। আর যে নিজের মর্জি ও আগ্রহে কোনো ভালো কাজ করবে, আল্লাহর তা জানা আছে এবং তিনি এর মূল্য দেবেন। (সূরা বাকারা- ২ : ১৫৮)

وَ اَذَانٌ مِّنَ اللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖۤ اِلَی النَّاسِ یَوْمَ الْحَجِّ الْاَكْبَرِ اَنَّ اللّٰهَ بَرِیْٓءٌ مِّنَ الْمُشْرِكِیْنَ وَ رَسُوْلُهٗ فَاِنْ تُبْتُمْ فَهُوَ خَیْرٌ لَّكُمْ وَ اِنْ تَوَلَّیْتُمْ فَاعْلَمُوْۤا اَنَّكُمْ غَیْرُ مُعْجِزِی اللّٰهِ وَ بَشِّرِ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِعَذَابٍ اَلِیْمٍ.

৬. আর মহান হজ্জের দিন মানুষের প্রতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে ঘোষণা, নিশ্চয় আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলও। অতএব, যদি তোমরা তাওবা কর, তাহলে তা তোমাদের জন্য উত্তম। আর যদি তোমরা ফিরে যাও, তাহলে জেনে রাখ, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না। আর যারা কুফরি করেছে, তাদের তুমি যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও। (সূরা তাওবা -৯ : ৩)

  اَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَآجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ کَمَنْ اٰمَنَ بِاللهِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَجٰهَدَ فِیْ سَبِیْلِ اللهِ لَا یَسْتَونَ عِنْدَ اللهِ وَالله لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الظّٰلِمِیْنَ .

৭. তোমরা কি হাজিদের পানি পান করানো ও মসজিদে হারামের খেদমত করাকে ঐ লোকদের কাজের সমান মনে করে নিয়েছো, যে ঈমান এনেছে আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি এবং যে আল্লাহর পথে সংগ্রাম করেছে? আল্লাহর কাছে তো এরা দুজন সমান নয়। আর আল্লাহ জালিম কাওমকে হেদায়াত করেন না । (সূরা তাওবা-৯ : ১৯)


আল হাদিস

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ الله عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺمَنْ حَجَّ هٰذَا الْبَيْتَ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَمَا وَلَدَتْه أُمُّه ـ (بُخَارى: بَابُ قَوْلِ اللهِ تَعَالٰى  (فَلَا رَفَثَ) مُسْلِمْ: بَابُ فَضْلِ الْحَجِّ وَ الْعُمْرَةِ وَ يَوْمِ عَرَفَةَ)

১. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ #    বলেছেন, যে ব্যক্তি এ ঘরে হজ করতে এলো, অতপর স্ত্রী সংগম করেনি, কোন প্রকার অশ্লীলতায় নিমজ্জিত হয়নি, তবে সেখান থেকে তেমন পবিত্র হয়ে) ফিরে আসে, যেমন নিষ্পাপ অবস্থায় তার মা তাকে ভূমিষ্ঠ করেছিল। (বুখারি: বাবু ক্বাওলিল্লাহি “ফালা রাফাছা’’ ১৬৯০; মুসলিম: বাবু ফাদলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি: ২৪০৪)

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ الله عَنْهُ قَالَ خَطَبَنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺفَقَالَ اَيُّهَا النَّاسُ قَدْ فَرَضَ اللهُ عَلَيْكُمْ الْحَجُّ فَحُجُّوْا فَقَالَ رَجُلٌ اَكُلَّ عَامٍ يَا رَسُوْلَ اللهِ، فَسَكَتَ حَتّٰى قَالَهَا ثَلَاثًا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَوْ قُلْتُ نَعَمْ لَوْجَبَتْ وَلَمَا اسْتَطَعْتُمْ ثُمَّ قَالَ ذَرُوْنِىْ مَا تَرَكْتُكُمْ فَإِنَّامَ هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلى أَنْبِيَائِهِمْ فَإِذَا اَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ فَاْتُوْا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَدَعُوْهُ- (مُسْلِمْ : بَابُ فَرْضِ الْحَجِّ مَرَّةً فِيْ الْعُمُرِ)

২. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ #    আমাদের সম্মুখে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, হে লোক সকল নিশ্চয়ই! আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ্জ ফরজ করেছেন। অতএব তোমরা হজ্জ কর। অতপর এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল #   , প্রতি বছরই কি হজ্জ পালন করতে হবে? রাসূল #     কিছু বলা থেকে বিরত রইলেন। এভাবে তিনবার প্রশ্ন করার পর রাসূলুল্লাহ #     বললেন, আমি যদি হ্যাঁ বলতাম তাহলে প্রতিবছর হজ্জ পালন আবশ্যক হয়ে যেত। আর তখন তোমরা সক্ষম হতে না। অতপর তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে যা বলি তার ওপর আমাকে ছেড়ে দাও। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীগণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে অধিক প্রশ্ন করার কারণে এবং তাদের নবিদের সাথে মত পার্থক্য করার কারণে। অতএব আমি যখন তোমাদেরকে কোন বিষয়ের নির্দেশ দেই তোমরা সাধ্যমত তা পালন কর। আর যখন কোন বিষয় থেকে নিষেধ করি তা তোমরা বর্জন কর। (মুসলিম : বাবু ফারদিল হাজ্জি মররাতান ফিল উমুরি, ২৩৮০)

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ الله عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺأَىُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ فَقَالَ اِيْمَانٌ بِاللهِ وَرَسُوْلِهِ قِيْلَ ثُمَّ مَذَا قَالَ الْجِهَادُ فِيْ سِبِيْلِ اللهِ قِيْلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ حَجُّ مَبْرُوْرٌ ـ (بُخَارِيْ: بَابُ مَنْ قَالَ إِنَّ الْاِيْمَانَ هُوَ الْعَمَلُ، مُسْلِمْ: بَابَ بَيَانِ كَوْنِ الْاِيْمَانِ بِاللهِ تَعَالٰى أَفْضَلُ الْاَعْمَالِ)

৩. হজরত আবু হুরায়রা "    থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ  #    কে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন আমল অধিক উত্তম? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান। আবার  জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন কবুল হওয়া হজ। (বুখারি: বাবু মান ক্বালা ইন্নাল ঈমানা হুয়াল আমালু, ২৫; মুসলিম: বাবু বায়ানি কাওনিল ঈমানি বিল্লাহি আফদালুল আ’মালি: ১১৮)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ تَابِعُوْا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوْبَ كَمَا يَنْفِيْ الْكِيْرُ خَبَثَ الْحَدِيْدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُوْرَةِ ثَوَابٌ إِلَّا الْجَنَّةُ- (تِرِمِذِىُّ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ ثَوَابِ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ)

৪. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, তোমরা হজ্জ ও ওমরা পরপর সঙ্গে সঙ্গে আদায় কর। কেরনা এ দুটি কাজ দারিদ্র্য ও গুনাহ নিশ্চিহ্ন করে দেয় যেমন, রেত লোহার মরিচা ও স্বর্ণ রৌপ্যের জনজাল দূর করে দেয়। আর কবুল হওয়া হজ্জের সাওয়াব জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়। (তিরিমিযি : বাবু মা জাআ ফী সাওয়াবিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি, ৭৩৮)











১৫. শাহাদাত : اَلشَّهَادَةُ

اَلشَّهَادَةُ অর্থ সাক্ষ্য দেয়া, যিনি উপস্থিত হয়েছেন।


আল-কুরআন

وَلَا تَقُوْلُوْا لِمَنْ یُّقْتَلُ فِیْ سَبِیْلِ اللهِ اَمْوَاتٌ بَلْ اَحْیَآءٌ وَّلٰکِنْ لَّا تَشْعُرُوْنَ.

১. যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদেরকে মৃত বল না। এরা তো আসলে জীবিত। কিন্তু তাদের জীবন সম্পর্কে তোমাদের ধারণা হয় না। (সূরা বাকারা-০২:১৫৪)

وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ قُتِلُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللهِ اَمْوَاتًا بَلْ اَحْیَآءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ یُرْزَقُوْنَ.

২. যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত মনে করো না। তারা তো আসলে জীবিত। তারা তাদের রবের কাছে রিজিক পাচ্ছে। (সূরা আলে ইমরান-০৩:১৬৯)

فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ اَنِّیْ لَاۤ اُضِیْعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنْكُمْ مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰی بَعْضُكُمْ مِّنْۢ بَعْضٍ فَالَّذِیْنَ هَاجَرُوْا وَ اُخْرِجُوْا مِنْ دِیَارِهِمْ وَ اُوْذُوْا فِیْ سَبِیْلِیْ وَ قٰتَلُوْا وَ قُتِلُوْا لَاُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَیِّاٰتِهِمْ وَ لَاُدْخِلَنَّهُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهٰرُ ثَوَابًا مِّنْ عِنْدِ اللّٰهِ وَ اللّٰهُ عِنْدَهٗ حُسْنُ الثَّوَابِ.

৩. অতপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিলেন যে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কোন পুরুষ অথবা মহিলা আমলকারীর আমল নষ্ট করব না। তোমাদের একে অপরের অংশ। সুতরাং যারা হিজরত করেছে এবং যাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং যাদেরকে আমার রাস্তায় কষ্ট দেয়া হয়েছে, আর যারা যুদ্ধ করেছে এবং নিহত হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের ত্রুটিÑবিচ্যুতিসমূহ বিলুপ্ত করে দেব এবং তাদেরকে প্রবেশ করাবো জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ; আল্ল¬াহর পক্ষ থেকে প্রতিদানস্বরূপ। আর আল্ল¬াহর নিকট রয়েছে উত্তম প্রতিদান। (সূরা আলে ইমরান-৩ : ১৯৫)

وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَ رُسُلِهٖۤ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الصِّدِّیْقُوْنَ وَ الشُّهَدَآءُ عِنْدَ رَبِّهِمْ لَهُمْ اَجْرُهُمْ وَ نُوْرُهُمْ وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ الْجَحِیْمِ.

৪. আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান আনে, তারাই তাদের রবের নিকট সিদ্দীক ও শহীদ। তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রতিফল এবং তাদের নূর। আর যারা কুফরি করে এবং আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী। (সূরা হাদীদ-৫৭ : ১৯)

وَمَنْ یُّطِعِ الله وَالرَّسُوْلَ فَاُولٰٓئِكَ مَعَ الَّذِیْنَ أَنْعَمَ الله عَلَیْهِمْ مِّنَ النَّبِیّنَ وَالصِّدِّیْقِیْنَ وَالشُّهَدَآءِ وَالصّٰلِحِیْنَ وَحَسُنَ اُولٰٓئِكَ رَفِیْقًا. 

৫. যারা আল্লাহ ও রাসূলের কথা মেনে চলবে তারা ঐসব লোকের সাথেই থাকবে, যাদের ওপর আল্লাহ নিয়ামত বর্ষণ করেছেন। তাঁরা হলেন-নবি, সিদ্দিক, শহীদ ও সালিহ (নেক) লোকগণ। তাঁরা কতই না ভালো সাথী। (সূরা নিসা-০৪:৬৯)

وَ الَّذِیْنَ هَاجَرُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ثُمَّ قُتِلُوْۤا اَوْ مَاتُوْا لَیَرْزُقَنَّهُمُ اللّٰهُ رِزْقًا حَسَنًا وَ إِنَّ اللّٰهَ لَهُوَ خَیْرُ الرّٰزِقِیْنَ.

৬. আর যারা আল্লাহর পথে হিজরত করে, অতপর নিহত হয় কিংবা মারা যায়, তাদেরকে অবশ্যই আল্লাহ উত্তম রিয্ক দান করবেন। আর নিশ্চয় আল্লাহই সর্বোৎকৃষ্ট রিয্কদাতা। (সূরা হাজ্জ-২২ : ৫৮)

اِنْ یَّمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِّثْلُهٗ وَ تِلْكَ الْاَیَّامُ نُدَاوِلُهَا بَیْنَ النَّاسِ وَ لِیَعْلَمَ اللّٰهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ یَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَآءَ وَ اللّٰهُ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیْنَ.

৭. যদি তোমাদেরকে কোন আঘাত স্পর্শ করে থাকে তবে তার অনুরূপ আঘাত উক্ত কওমকেও স্পর্শ করেছে। আর এইসব দিন আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন করি এবং যাতে আল্ল¬াহ ঈমানদারদেরকে জেনে নেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহীদদেরকে গ্রহণ করেন। আর আল্লাহ যালিমদেরকে ভালবাসেন না। (সূরা আলে ইমরান-৩ : ১৪০)

فَإِذَا لَقِیْتُمُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتّٰۤی إِذَاۤ اَثْخَنْتُمُوْهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَاِمَّا مَنًّۢا بَعْدُ وَ اِمَّا فِدَآءً حَتّٰی تَضَعَ الْحَرْبُ اَوْزَارَهَا ذٰؔلِكَ وَ لَوْ یَشَآءُ اللّٰهُ لَانْتَصَرَ مِنْهُمْ وَ لٰكِنْ لِّیَبْلُوَاۡ بَعْضَكُمْ بِبَعْضٍ وَ الَّذِیْنَ قُتِلُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ فَلَنْ یُّضِلَّ اَعْمَالَهُمْ.

৮. অতএব তোমরা যখন কাফিরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের ঘাড়ে আঘাত কর। পরিশেষে তোমরা যখন তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে পর্যুদস্ত করবে তখন তাদেরকে শক্তভাবে বেঁধে নাও। তারপর হয় অনুগ্রহ না হয় মুক্তিপণ আদায়, যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা রেখে দেয়। এটাই বিধান। আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তোমাদের একজনকে অন্যের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান। আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তিনি কখনো তাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করবেন না। (সূরা মুহাম্মদ -৪৭ : ৪)


আল হাদিস

عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا اَحَدٌ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يُحِبُّ اَنَّ يَّرْجِعَ اِلَى الدُّنْيَا وَلَهُ مَا عَلَى الْاَرْضِ مِنْ شَيْءٍ اِلَّ الشَّهِيْدُ يَتَمَنَّى أَنْ يَرْجِعَ اِلَى الدُّنْيَا فَيُقْتَلَ عَشْرَ مَرَّاتٍ لِمَا يَرَى مِنَ الْكَرَامَةِ- (بُخَارِيْ : بَابُ تَمَنَّى الْمُجَاهِدِ يَرْجِعَ اِلَى الدُّنْيَا)

১. হজরত আনাস ইবনে মালেক "   থেকে বর্ণিত। রাসূলে করিম  #    বলেছেন, জান্নাতে প্রবেশের পরে একমাত্র শহীদ ব্যতীত আর কেউ দুনিয়াতে ফিরে আসতে চাবে না। যদিও তার জন্য দুনিয়ার সবকিছুই নিয়ামত হিসেবে থাকবে। কিন্তু শহীদ সে দুনিয়ায় ফিরে এসে দশবার শহীদি মৃত্যুবরণের আকাক্সক্ষা করবে, কেননা বাস্তবে সে শাহাদাতের মর্যাদা দেখতে পাবে। (বুখারি : বাবু তামান্নাল মুজাহিদি আন ইয়ারজেয়া ইলাদ দুনিয়া, ২৬০৬)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِىَّ ﷺ يَقُوْلُ وَالّذِىْ نَفْسِىْ بَيَدِهِ لَوْ لَا اَنَّ رِجَالًا مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ لَا تَطِيْبُ أَنْفُسَهُمْ أَنْ يَّتَخَلَّفُوْا عَنِّىْ وَلَا اَجِدُ مَ اَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ مَا تَخَلَّفْتُ عَنْ سَرِيَّةٍ تَغْزُوْ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَالَّذِيْ نَفْسِىْ بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ اَنِّىْ اُقْتَلُ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ ثُمَّ اُحْيَا ثُمَّ اُقْتَلُ ثُمَّ اُحْيَا ثُمَّ اُقْتَلُ ثُمَّ اُحْيَا ثُمَّ اُقْتَلُ- (بُخَارِيْ : بَابُ تَمَنَّى الشَّهَادَاةِ)

২. হজরত  আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবি  #    কে বলতে শুনেছি, সে মহান সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, যদি কিছু সংখ্যক মুসলমান এমন না হত যারা আমার সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করাকে আদৌ পছন্দ করবে না এবং যাদের সবাইকে আমি সাওয়ারী জন্তু ও সরবরাহ করতে পারব না বলে আংশকা হত, তাহলে আল্লাহর পথে যুদ্ধরত কোন ক্ষুদ্র সেনাদল থেকেও আমি দূরে থাকতাম না। সে মহান সত্তার শপথ। যার হাতে আমার প্রাণ! আমার নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় হচ্ছে আমি আল্লাহর পথে শহীদ হয়ে যাই অতপর জীবন লাভ করি এবং আবার শহীদ হই, পুনরায় জীবন লাভ করি এবং আবার শহীদ হই। (বুখারি : বাবু তামান্নাশ শাহাদাতি, ২৫৮৮)

عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ اَنَّ اُمَّ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ الْبَرَاءِ وَهِىَ اُمُّ حَارِثَةَ بْنِ سُرَاقَةَ اَتَتِ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَتْ يَا نَبِىَّ اللهِ اَلَا تُحَدِّ ثُنِىْ عَنْ حَارِثَةَ وَكَانَ قُتِلَ يَوْمَ بَدْرٍ اَصَابَهُ سَهْمٌ غَرْبٌ فَاِنْ كَانَ فِيْ الْجَنَّةِ صَبَرْتُ وَاِنْ كَانَ غَيْرَ ذلِكَ اِجْتَهَدْتُ عَلَيْهِ فِي الْبُكَاءِ قَالَ يَا اُمَّ حَارِثَةَ إِنَّهَا جِنَانٌ فِيْ الْجَنَّةِ وَإِنَّ ابْنَكَ اَصَابَ الْفِرْدَوْسَ الْاَعْلَى- (بُخَارِيْ : بَابُ مَنْ اَتَاهُ سَهْمٌ غَرْبٌ فَقَتَلَهُ)

৩. হজরত আনাস ইবনে মালেক "   থেকে বর্ণিত। বারা ইবনে আযেব এর কন্যা উম্মে রুবাই আর তিনি হচ্ছেন হারেসা ইবনে সূরাকার মতো। নবি করিম  #    এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর নবি আমাকে হারেসা সম্পর্কে কিছু বলুন। হারেসা বদরের যুদ্ধে অদৃশ্য তীরের আঘাতে মৃত্যুবরণ করেছে, সে যদি জান্নাতবাসী হয়ে থাকে তবেই ধৈর্য ধারণ করব অন্যথায় আমি তার জন্য আমার অঝোর নয়নে কাঁদব। তিনি বললেন, হে হারেসার মা জান্নাতে অসংখ্য বাগান আছে আর তোমার পুত্র সেখানে সর্বোচ্চ ফেরদাউদ লাভ করেছে। (বুখারি : বাবু মান আতাহু সাহমুন গারবুন ফাক্বাতালাহু : ২৫৯৮) 

عَنْ عَمْرٍو سَمِعَ جَابِرَ ابْنَ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِلنَّبِىِّ ﷺ يَوْمَ اُحُدٍ اَرَاَيْتَ اِنْ قُتِلْتُ فَاَيْنَ اَنَا قَالَ فِيْ الْجَنَّةِ فَاَلْقى تَمَرَاتٍ فِيْ يَدِهِ ثُمَّ قَاتَلَ حَتّٰى قُتِلَ- (بُخَارِيْ : بَابُ غَزْوَةِ اُحُدٍ)

৪. হজরত আমর ইবনে দীনার "   থেকে বর্ণিত। তিনি জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ "   কে বলতে শুনেছেন, ওহুদ যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তি নবি করিম  #   কে বলল, আমি যদি নিহত হই তাহলে, আমার অবস্থা কী হবে? নবিজি বললেন, জান্নাতে থাকবে। তখন সে তার হাতের খেজুরগুলো ছুড়ে ফেলে দিয়ে জিহাদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে লড়াই করল এবং শহীদ হলো। (বুখারি : বাবু গযওয়াতে উহুদ, ৩৭৪০)

عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ خَطَبَ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ اَخَذَ الرَّايَةَ زَيْدٌ فَاُصِيْبَ ثُمَّ اَخَذَهَا جَعْفَرٌ فَاُصِبَ ثُمَّ اَخَذَهَا عَبْدُ اللهِ بْنُ رَوَاحَةَ فَاُصِيْبَ ثُمَّ اَخَذَهَا خَالِدُ بْنُ الْوَلِيْدِ عَنْ غَيْرِ اِمْرَةٍ فَفُتِحَ لَهُ وَ قَالَ مَا يَسَّرْنَا اَنَّهُمْ عِنْدَنَا قَالَ اَيُّوْبُ اَوْ قَالَ مَا يَسُرُّهُمْ اَنَّهُمْ عِنْدَنَا وَعَيْنَاهُ تَذْرِفَانِ- (بُخَارِيْ : بَابُ تَمَنَّى الشَّهَادَةِ)

৫. হজরত আনাস ইবনে মালেক "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন (মুতার যুদ্ধে সেনাদল পাঠানোর পর একদিন) রাসূলুল্লাহ  #    খুতবা দিতে গিয়ে বললেন, যায়েদ পতাকা ধারণ করল অতপর শাহাদাত বরণ করল। তারপর জাফর পতাকা ধারণ করল সেও শহীদ হলো। অতপর আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা পতাকা ধারণ করল কিন্তু সেও শাহাদাত বরণ কর। তারপর খালিদ বিন ওয়ালিদকে কেউ নেতা মনোনীত করা ছাড়াই সে পতাকা ধারণ করল। এতে বিজয় লাভ করল। নবি  #   আরো বললেন, তারা শাহাদাতের মর্যাদা লাভ না করে আমাদের মাঝে থাকলে তা আমাদের জন্য এখনকার চেয়ে আনন্দদায়ক হত না। বর্ণনাকারী আইয়ুব বলেন, নবি করিম #     বলেছিলেন, তারা শহীদ না হয়ে আমাদের মাঝে থাকলে (এখনকার চেয়ে) বেশি আনন্দিত হত না। এ কথাগুলো বলার সময় নবিজির দুচোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। (বুখারি : বাবু তামান্নাশ শাহাদাতি, ২৫৮৯)



























১৬. বাইয়াত : اَلْبَيْعَةُ

اَلْبَيْعَةُ অর্থ লেনদেন, চুক্তি, আনুগত্য, শপথ, অঙ্গীকার।


আল-কুরআন

إِنَّ الَّذِیْنَ یُبَایِعُوْنَكَ إِنَّمَا یُبَایِعُوْنَ اللّٰهَ  یَدُ اللّٰهِ فَوْقَ اَیْدِیْهِمْ  فَمَنْ نَّكَثَ فَإِنَّمَا یَنْكُثُ عَلٰی نَفْسِه وَ مَنْ اَوْفٰی بِمَا عٰهَدَ عَلَیْهُ اللّٰهَ فَسَیُؤْتِیْهِ اَجْرًا عَظِیْمًا.

১. (হে রাসূল!) যারা আপনার হাতে বাইয়াত করছিল তারা (আসলে) আল্লাহর কাছে বাইয়াত করছিল, তাদের হাতের ওপর আল্লাহর হাত ছিল। এখন যে এ ওয়াদা ভঙ্গ করবে এর কুফল তার ওপরই পড়বে। আর আল্লাহর সাথে ওয়াদা করে যে তা পূরণ করবে, আল্লাহ শিগগিরই তাকে বড় পুরস্কার দেবেন। (সূরা ফাত্হ-৪৮ : ১০)  

لَقَدْ رَضِیَ اللّٰهُ عَنِ الْمُؤْمِنِیْنَ اِذْ یُبَایِعُوْنَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِیْ قُلُوْبِهِمْ فَأَنْزَلَ السَّكِیْنَةَ عَلَیْهِمْ وَ اَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِیْبًا.

২. (হে রাসূল!) আল্লাহ তাআলা মু’মিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেলেন, যখন তাঁরা গাছের তলায় আপনার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করছিল। তাদের মনের অবস্থা তাঁর জানা ছিল। তাই তিনি তাদের ওপর সান্ত্বনা নাজিল করলেন এবং পুরস্কার হিসেবে নিকটবর্তী বিজয় দান করলেন।(সূরা ফাত্হ-৪৮:১৮)

إِنَّ اللّٰهَ اشْتَرٰی مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ أَنْفُسَهُمْ وَ اَمْوَالَهُمْ بِاَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ  یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ فَیَقْتُلُوْنَ وَ یُقْتَلُوْنَ وَعْدًا عَلَیْهِ حَقًّا فِی التَّوْرٰىةِ وَ الْاِنْجِیْلِ وَ الْقُرْاٰنِ وَ مَنْ اَوْفٰی بِعَهْدِه مِنَ اللّٰهِ فَاسْتَبْشِرُوْا بِبَیْعِكُمُ الَّذِیْ بَایَعْتُمْ بِه وَ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ.

৩. (আসলে ব্যাপার হলো) আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জান ও মাল বেহেশতের বদলে কিনে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, (দুশমনকে) মারে এবং (নিজেরাও) নিহত হয়। তাদেরকে (বেহেশত দেয়ার ওয়াদা) আল্লাহর দায়িত্ব একটি মজবুত ওয়াদা-যা তাওরাত, ইনজিল ও কুরআনে (করা হয়েছে)। ওয়াদা পালনে আল্লাহর চেয়ে বেশি যোগ্য আর কে আছে? সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে যে বেচাকেনার কারবার করেছ, সে বিষয়ে খুশি হয়ে যাও। এটাই সবচেয়ে বড় সফলতা। (সূরা তাওবা-০৯: ১১১)

یٰاَیُّهَا النَّبِیُّ إِذَا جَآءَكَ الْمُؤْمِنٰتُ یُبَایِعْنَكَ عَلٰی أَنْ لَّا یُشْرِكْنَ بِاللّٰهِ شَیْـًٔا وَّ لَا یَسْرِقْنَ وَ لَا یَزْنِیْنَ وَ لَا یَقْتُلْنَ اَوْلَادَهُنَّ وَ لَا یَاْتِیْنَ بِبُهْتَانٍ یَّفْتَرِیْنَهٗ بَیْنَ اَیْدِیْهِنَّ وَ اَرْجُلِهِنَّ وَ لَا یَعْصِیْنَكَ فِیْ مَعْرُوْفٍ فَبَایِعْهُنَّ وَ اسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللّٰهَ ؕ إِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ.

৪. হে নবি! যখন মুমিনা নারীরা তোমার কাছে এসে এই মর্মে বাইয়াত করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, তারা জেনে শুনে কোন অপবাদ রচনা করে রটাবে না এবং সৎকাজে তারা তোমার অবাধ্য হবে না। তখন তুমি তাদের বাইয়াত গ্রহণ কর এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা মুমতাহিনা-৬০ : ১২)


আল হাদিস

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ  قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ   يَقُوْلُ مَنْ خَلَعَ يَدًا مِنْ طَاعَةٍ لَقِىَ الله يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا حُجَّةَ لَه وَمَنْ مَاتَ وَلَيْسَ فِيْ عُنُقِهِ بَيْعَةٌ مَاتَ مِيْتَةً جَاهِلِيَّةً ـ (مُسْلِمْ : بَابُ وُجُوْبِ مُلَازَمَةِ جَمَاعَةِ الْمُسْلِمِيْنَ)

১. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর "     বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ #    কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে তার হাতকে খুলে ফেলল, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এমনভাবে যে, তার বলার কিছু থাকবে না, আর যে ব্যক্তি বাইয়াতের বন্ধন ছাড়াই মারা গেল সে জাহেলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল। (মুসলিম: বাবু উজুবি মুলাযামাতি জামায়াতিল মুসলিমিন: ৩৪৪১)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ كُنَّا إِذَا بَايَعَنَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  عَلٰى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ يَقُوْلُ لَنَا فِيْمَا اسْتَطَعْتُمْ ـ (بُخَارِيْ : بَابُ كَيْفَ يُبَايِـعُ الْاِمَامُ النَّاسَ)

২. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ  #    এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করতাম শ্রবণ ও আনুগত্যের ওপর। আর তিনি আমাদেরকে সামর্থ্য অনুযায়ী উক্ত আমল করতে বলতেন। (বুখারি: বাবু কাইফা ইউবায়িউল ইমামুন নাসা, ৬৬৬২)

عَنْ عُبَادَةَ ابْنِ الصَّامِتِ قَالَ بَايَعْنَا النَّبِىَّ صَلَّى الله ﷺ  عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فِيْ الْعُسْرِ وَالْيُسْرِ وَالْمَنْشَطِ وَالْمَكْرَهِ وَعَلَى اَثَرَةٍ عَلَيْنَا وَعَلٰى أَنْ لَّا نُنَازِعَ الْاَمْرَ اَهْلَهُ وَ عَلٰى أَنْ نَّقُوْلَ بِالْحَقِّ اَيْنَمَا كُنَّا لَا نَخَافُ فِيْ اللهِ لَوْمَةَ لَائِمٍ- (مُسْلِمْ : بَابُ وَجُوْبِ طَاعَةِ الْاُمَرَاءِ)

৩. হজরত উবাদা ইবনে সামেত "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ  #    এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেছি শ্রবণ ও আনুগত্যের ব্যাপারে এবং এটা সচ্ছলতা-অসচ্ছলতা, আগ্রহ-অনাগ্রহ এবং নিজের তুলনায় অন্যকে প্রাধান্য দেয়া সর্বাবস্থায়-ই প্রযোজ্য। আমরা আরো বাইয়াত গ্রহণ করেছি এ মর্মে যে, আমরা কোন ব্যাপারে দায়িত্বশীলদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হব না এবং সর্বাবস্থায় সত্যের ওপর অটল থাকব। এ ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করব না। (মুসলিম, বাবু উজুবি তায়াতিল উমারা : ৩৪২৬)

عَنْ جَرِيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ بَايَعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فَلَقَّنَنِىْ فِيْمَا اسْتَطَعْتُ وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ- (بُخَارِيْ : بَابُ كَيْفَ يُبَايِعُ الْاِمَامُ النَّاسَ، بَابُ بَيَانِ اَنَّ الدِّيْنَ النَّصِيْحَةُ)

৪. হজরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবি করিম  #    এর নিকট শ্রবণ ও আনুগত্যের বাইয়াত গ্রহণ করেছি। অতপর তিনি আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যে আমি যেন সাধ্যমত এ কাজ করি এবং প্রত্যেক মুসলমানের কল্যাণ কামনা করি। (বুখারি, বাবু কাইফা ইউবায়িউল ইমামুন নাসা : ৬৬৬৪, মুসলিম, বাবু বায়ানি আন্নাদ দীনা আননাসিহাতু-৮৫)

عَنْ سَلَمَةَ قَالَ بَايَعَنَا النَّبِىَّ صَلَّى الله ﷺ  تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَقَالَ لِىْ يَا سَلَمَةُ اَلَا تُبَايِعُ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَدْ بَايَعْتُ فِي الْاَوَّلِ قَالَ وَفِي الثَّانِىْ- (بُخَارِيْ : بَابُ مَنْ بَايَعَ مَرَّتَيْنِ)

৫. হজরত সালামা "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা গাছের নিচে রাসূল  #    এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করলাম। অতপর তিনি আমাকে বললেন, হে সালামা! তুমি কি বাইয়াত গ্রহণ করবে না? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল #     আমি তো প্রথমবার বাইয়াত গ্রহণ করেছি। তিনি বললেন, দ্বিতীয়বার (বাইয়াত গ্রহণ) করবে না? (বুখারি : বাবু মান বাইয়া মাররাতাইন, ৬৬৬৮)

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ  اَنَّ اَعْرَابِيًّا بَايَعَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  عَلىَ الْاِسْلَامِ فَاَصَابَهُ وَعْكٌ فَقَالَ اَقِلْنِىْ بَيْعَتِىْ فَاَبَى ثُمَّ جَائَهُ فَقَالَ اَقِلْنِىْ بَيْعَتِىْ فَاَبَى فَخَرَجَ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلِّى اللهُ ﷺ  الْمَدِيْنَةُ كَالْكِيْرِ تَنْفِيْ خَبَثَهَا وَيَنْصَعُ طِيْبُهَا- (بُخَارِيْ : بَابُ بَيْعَةِ الْاَعْرَابِ)

৬. হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ "    থেকে বর্ণিত। একজন বেদুইন রাসূল  #    এর নিকট ইসলামের ওপর বাইয়াত গ্রহণ করল অতপর সে অসুস্থ হয়ে পড়ল। এতে সে রাসূল  #    এর নিকট এসে বলল, আমার বাইয়াত ফিরিয়ে নিন। রাসূলুল্লাহ  #    তাতে অস্বীকৃতি জানালেন। লোকটি আবার রাসূল  #    এর নিকট এসে বলল, আমার বাইয়াত ফিরিয়ে নিন। রাসূল  # আবার অস্বীকৃতি জানালে সে বেরিয়ে গেল। অতপর রাসূল  #    বললেন, মদীনা হলো কামারের হাপরের ন্যায় যা তার মরিচা বিদুরিত করে আর তার ভালো রূপটি বিকশিত করে। (বুখারি : বাবু বাইয়াতিল আ‘রাবি, ৬৬৬৯)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  ثَلَاثَةٌ لَّا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيْهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ رَجُلٌ عَلَى فَضْلِ مَاءٍ بِالطَّرِيقِ يَمْنَعُ مِنْهُ ابْنَ السَّبِيْلِ وَرَجُلٌ بَايَعَ اِمَامًا لَا يُبَايِعُهُ إِلَّا لِدُنْيَاهُ اِنْ اَعْطَاهُ مَا يُرِيْدُ وَفَى لَهُ وَإِلَّا لَمْ يَفِ لَهُ وَرَجُلٌ يُبَايِعُ رَجُلًا بِسِلْعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ فَحَلَفَ بِاللهِ لَقَدْ اُعْطِىَ بِهَا كَذَا وَكَذَا فَصَدَّقَهُ فَاَخَذَهَا وَلَمْ يُعْطَ بِهَا- (بُخَارِيْ : بَابُ مَنْ بَايَعَ رَجُلًا لَا يُبَايِعُهُ إِلَّا لِلدُّنْيَا)

৬. হজরত আবু হুরায়রা "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল  #    বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তিন ধরনের ব্যক্তির সাথে কথা বলবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। ১. এমন ব্যক্তি যার নিকট সফরে অতিরিক্ত পানি আছে অথচ তা থেকে কোন মুসাফিরকে দেয় না। ২. আর যে ব্যক্তি কেবল দুনিয়াবি স্বার্থে নেতার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে। তার কাক্সিক্ষত জিনিস তাকে দেয়া হলে সে বাইয়াত পূর্ণ করে অন্যথায় পূর্ণ করে না। ৩. আর যে ব্যক্তি আছরের পরে কারো নিকট কোন পণ্য বিক্রি করে আর আল্লাহর নামে শপথ করে বলে, আমি এত, এত কম দামে তা ক্রয় করেছি। ফলে ক্রেতা তাকে বিশ্বাস করে ক্রয় করে অথচ সে ঐ দামে ক্রয় করেনি। (বুখারি : মান বাইআয়া রাজুলান লাইবায়িহু ইল্লা লিদদুনিয়া, ৬৬৭২)
















১৭. আল্লাহর পথে ব্যয় : اَلْاِنْفَاقُ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ

আল-কুরআন

لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّٰی تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ شَیْءٍ فَإِنَّ اللّٰهَ بِه عَلِیْمٌক্স

১. তোমাদের ঐসব জিনিস, যা তোমরা ভালোবাস তা (আল্লাহর পথে) খরচ না করা পর্যন্ত তোমরা নেকি হাসিল করতে পার না। আর তোমরা যা কিছু খরচ করবে তা আল্লাহর অজানা থাকবে না। (সূরা আলে ইমরান-০৩: ৯২)

لَیْسَ عَلَیْكَ هُدٰىهُمْ وَ لٰكِنَّ اللّٰهَ یَهْدِیْ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ خَیْرٍ فَلِأَنْفُسِكُمْ ؕ وَ مَا تُنْفِقُوْنَ إِلَّا ابْتِغَآءَ وَجْهِ اللّٰهِ ؕ وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ خَیْرٍ یُّوَفَّ اِلَیْكُمْ وَ أَنْتُمْ لَا تُظْلَمُوْنَ.

২. তাদেরকে হিদায়াত করার দায়িত্ব তোমার নয়, কিন্তু আল্ল¬াহ যাকে চান হিদায়াত করেন এবং তোমরা যে সম্পদ ব্যয় কর, তা তোমাদের নিজেদের জন্যই। আর তোমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যয় কর এবং তোমরা কোন উত্তম ব্যয় করলে তা তোমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। আর তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। (সূরা বাকারা-০২ : ২৭২)

اَلَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ اَمْوَالَهُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ثُمَّ لَا یُتْبِعُوْنَ مَا أَنْفَقُوْا مَنًّا وَّ لَا اَذًی  لَّهُمْ اَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَ لَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَ لَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ.

৩. যারা তাদের মাল আল্লাহর পথে খরচ করে এবং এরপর তা বলে বেড়ায় না ও কষ্ট দেয় না, তাদের পুরস্কার তাদের রবের কাছে রয়েছে। তাদের কোন চিন্তা ও ভয়ের কারণ নেই। (সূরা বাকারা-০২: ২৬২)

مَثَلُ الَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ اَمْوَالَهُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِیْ كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِّائَةُ حَبَّةٍ وَاللّٰهُ یُضٰعِفُ لِمَنْ یَّشَآءُ وَاللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِیْمٌ.

৪. যারা আল্ল¬াহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা একটি বীজের মত, যা উৎপন্ন করল সাতটি শীষ, প্রতিটি শীষে রয়েছে একশ’ দানা। আর আল্ল¬াহ যাকে চান তার জন্য বাড়িয়ে দেন। আর আল্ল¬াহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। (সূরা বাকারা-০২ : ২৬১)

وَ أَنْفِقُوْا مِنْ مَّا رَزَقْنٰكُمْ مِّنْ قَبْلِ أَنْ یَّاْتِیَ اَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَیَقُوْلَ رَبِّ لَوْ لَا اَخَّرْتَنِیْ اِلٰی اَجَلٍ قَرِیْبٍ فَاَصَّدَّقَ وَ اَكُنْ مِّنَ الصّٰلِحِیْنَক্স وَ لَنْ یُّؤَخِّرَ اللّٰهُ نَفْسًا إِذَا جَآءَ اَجَلُهَا وَ اللّٰهُ خَبِیْرٌ بِمَا تَعْمَلُوْنَ.

৫. আমি তোমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি, তোমাদের কারো মৃত্যু আসার আগেই তা থেকে তোমরা খরচ কর। মৃত্যুর সময় সে বলে, হে আমার রব! আমাকে কেন আরেকটু সময় দিলে না, তাহলে আমি দান করতাম ও নেক লোকদের মধ্যে শামিল হতাম। অথচ যখন কারো (কাজ করার) সময় পূর্ণ হয়ে যায় আল্লাহ তাআলা তা কখনও বিলম্ব করেন না। আর তোমরা যা কর, আল্লাহ এর খবর রাখেন। (সূরা মুনাফিকুন: ৬৩: ১০-১১) 

الَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ فِی السَّرَّآءِ وَ الضَّرَّآءِ وَ الْكٰظِمِیْنَ الْغَیْظَ وَ الْعَافِیْنَ عَنِ النَّاسِ وَ اللّٰهُ یُحِبُّ الْمُحْسِنِیْنَ.

৬. যারা সব অবস্থায়ই নিজেদের মাল খরচ করে খারাপ অবস্থাই থাকুক আর ভালো অবস্থাই থাকুক; যারা রাগকে দমন করে এবং অপরের দোষ মাফ করে দেয়; এমন নেক লোক আল্লাহ খুব পছন্দ করেন। (সূরা আলে ইমরান-০৩: ১৩৪)

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا أَنْفِقُوْا مِمَّا رَزَقْنٰكُمْ مِّنْ قَبْلِ أَنْ یَّاْتِیَ یَوْمٌ لَّا بَیْعٌ فِیْهِ وَ لَا خُلَّةٌ وَّ لَا شَفَاعَةٌ وَ الْكٰفِرُوْنَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَ.

৭. হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ! আমি তোমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে খরচ কর, ঐ দিনটি আসার আগে, যেদিন কোনো কেনাবেচা হবে না, কোনো বন্ধুত্ব কাজে আসবে না এবং কোনো সুপারিশ চলবে না। আসলে তারাই জালিম, যারা কুফরির নীতি গ্রহণ করে। (সূরা বাকারা-০২:২৫৪)

وَ لَا یُنْفِقُوْنَ نَفَقَةً صَغِیْرَةً وَّ لَا كَبِیْرَةً وَّ لَا یَقْطَعُوْنَ وَادِیًا إِلَّا كُتِبَ لَهُمْ لِیَجْزِیَهُمُ اللّٰهُ اَحْسَنَ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ.

৮. আর তারা স্বল্প কিংবা অধিক যা-ই ব্যয় করে এবং অতিক্রম করে যে প্রান্তরই, তা তাদের জন্য লিখে দেয়া হয়, যাতে তারা যা আমল করত, আল্লাহ তাদেরকে তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান দেন। (সূরা তাওবা-৯ : ১২১)


আল হাদিস

عَنْ خُرَيْمِ بْنِ فَاتِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  مَنْ أَنْفَقَ نَفَقَةً فِيْ سَبِيْلِ اللهِ كُتِبَتْ لَه بِسَبْعِ مِأَةِ ضِعْفٍ ـ (تِرْمِذِيْ : بَابُ مَاجَاءَ فِيْ فَضْلِ النَّفَقَةِ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ) 

১. হজরত খুরাইম ইবনে ফাতেক "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, যে আল্লাহ তাআলার পথে একটি জিনিস দান করল, তার জন্য সাতশত গুণ সওয়াব লেখা হবে। (তিরমিজি : বাবু মা জা আ ফি ফাদলিন নাফাকাতি ফি সাবিলিল্লাহি, ১৫৫০)

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ  قَالَ جَاءَ رَجُلٌ اِلَى النَّبِيِّ صَلَّى الله ﷺ  فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ اَىُّ الصَّدَقَةِ اَعْظَمُ اَجْرًا؟ قَالَ أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيْحٌ شَحِيْحٌ تَخْشَى الْفَقْرَ وَتَاْمُلُ الْغِنَى وَلَا تُمْهِلُ حَتّٰى إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُوْمَ قُلْتَ لِفُلَانٍ كَذَا ولِفُلَانٍ كَذَا وَقَدْ كَانَ لِفُلَانٍ- (بُخَارِيْ : بَابُ فَضْلِ صَدَقَةِ الشَّحِيْحِ) 

২. হজরত আবু হুরায়রা "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবি করিম  #   এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল #   ! কোন অবস্থার দান ফলাফলের দিক থেকে সর্বোত্তম? রাসূল #    বললেন তোমার সুস্থ ও উপার্জনক্ষম অবস্থার দান যখন তোমার দরিদ্র হওয়ার ভয় থাকে এবং ধনী হওয়ারও আশা থাকে। তুমি সে পর্যন্ত অপেক্ষা করো না যে তোমার প্রাণ কণ্ঠনালী পর্যন্ত পৌঁছবে তখন তুমি বলবে, অমুকের জন্য এটা, তমুকের জন্য এটা, (অথচ ইতিমধ্যে) তা কারো কারো জন্য তা নির্ধারিত হয়ে গেছে। (বুখারি : বাবু ফাদলি সাদাকাতিশ সাহিহ, ১৩৩০)

عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  اَفْضَلُ دِيْنَارٍ يُنْفَقُهُ الرَّجُلُ دِيْنَارٌ يُنْفَقُهُ عَلَى عِيَالِهِ وَدِيْنَارٌ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى دَابَّتِهِ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَ دِيْنَارٌ يُنْفِقُهُ عَلَى اَصْحَابِهِ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ- (مُسْلِمْ : بَابُ فَضْلِ النَّفَقَةِ عَلَى الْعِيَالِ وَالْمَمْلُوْكِ) 

৩. হজরত সাওবান "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল  #   বলেছেন, সর্বোত্তম অর্থ হলো তা, যা কোন ব্যক্তি নিজের সন্তান সন্তুতি ও পরিবারের জন্য ব্যয় করে। সে অর্থও উত্তম, যা কোন ব্যক্তি জিহাদের উদ্দেশ্যে রক্ষিত পশুর জন্য ব্যয় করে। আর সে অর্থও উত্তম যা সে জিহাদে অংশগ্রহণকারী স্বীয় সঙ্গী-সাথীদের জন্য ব্যয় করে। (মুসলিম : বাবু ফাদলিন নাফাকাতি আলাল ইয়ালি ওয়াল মামলুকি, ১৬৬০)

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ  اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ قَالَ اللهُ أَنْفِقْ يَا ابْنَ اٰدَمَ اُنْفِقْ عَلَيْكَ ـ (بُخَارِيْ : بَابُ فَضْلِ النَّفَقَةِ عَلَى الْأَهْلِ) 

৪. হজরত আবু হুরায়রা "    থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ  #   বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি দান করতে থাক, আমিও তোমাকে দান করব। (বুখারি : বাবু ফাদলিন নাফাকাতি আলাল আহলি ৪৯৩৩)














১৮. মুমিনের গুণাবলী : صِفَاتُ الْمُؤْمِنِيْنَ

আল-কুরআন

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِیْنَ إِذَا ذُكِرَ اللّٰهُ وَ جِلَتْ قُلُوْبُهُمْ وَ إِذَا تُلِیَتْ عَلَیْهِمْ اٰیٰتُه زَادَتْهُمْ اِیْمَانًا وَّ عَلٰی رَبِّهِمْ یَتَوَكَّلُوْنَক্স  الَّذِیْنَ یُقِیْمُوْنَ الصَّلٰوةَ وَ مِمَّا رَزَقْنٰهُمْ یُنْفِقُوْنَক্স اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُؤْمِنُوْنَ حَقًّا لَهُمْ دَرَجٰتٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَ مَغْفِرَةٌ وَّ رِزْقٌ كَرِیْمٌ.

১. ঈমানদার তো ঐসব লোক, যাদের দিল আল্লাহর কথা শুনলে কেঁপে ওঠে, যখন তাদের সামনে আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করা হয় তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা তাদের রবের ওপর ভরসা রাখে, যারা নামাজ কায়েম করে এবং যা কিছু আমি তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে (আমার পথে) খরচ করে। তারাই সত্যিকার মুমিন। তাদের জন্য তাদের রবের কাছে বড় মর্যাদা, গুনাহের ক্ষমা ও উত্তম রিজিক আছে। (সূরা আনফাল, ০৮: ২-৪)

قَدْ اَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَ. الَّذِیْنَ هُمْ فِیْ صَلَاتِهِمْ خٰشِعُوْنَ. وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُوْنَ. وَ الَّذِیْنَ هُمْ لِلزَّكٰوةِ فٰعِلُوْنَ. وَ الَّذِیْنَ هُمْ لِفُرُوْجِهِمْ حٰفِظُوْنَ. إِلَّا عَلٰی اَزْوَاجِهِمْ اَوْ مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَیْرُ مَلُوْمِیْنَ. فَمَنِ ابْتَغٰی وَرَآءَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْعٰدُوْنَ. وَ الَّذِیْنَ هُمْ لِاَمٰنٰتِهِمْ وَ عَهْدِهِمْ رٰعُوْنَ. وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَلٰی صَلَوٰتِهِمْ یُحَافِظُوْنَ. اُولٰٓئِكَ هُمُ الْوٰرِثُوْنَ. الَّذِیْنَ یَرِثُوْنَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ.

২. অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে, যারা নিজদের সালাতে বিনয়াবনত। আর যারা অনর্থক কথাকর্ম থেকে বিমুখ। আর যারা যাকাতের ক্ষেত্রে সক্রিয়। আর যারা তাদের নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী। তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের মালিকানাধীন দাসী যার মালিক হয়েছে তারা ছাড়া, নিশ্চয় এতে তারা নিন্দিত হবে না। অতপর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। আর যারা নিজদের আমানতসমূহ ও অঙ্গীকারে যত্নবান। আর যারা নিজেদের সালাতসমূহ হিফাযত করে। তারাই হবে উত্তরাধিকারী। তারা ফিরদাউসের অধিকারী হবে। তারা সেখানে স্থায়ী হবে। (সূরা মুমিনুন, ২৩ : ১-১১)

اَلَّذِیْنَ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا إِنَّنَا اٰمَنَّا فَاغْفِرْلَنَا ذُنُوْبَنَا وَ قِنَا عَذَابَ النَّارِক্স  اَلصّٰبِرِیْنَ وَ الصّٰدِقِیْنَ وَ الْقٰنِتِیْنَ وَ الْمُنْفِقِیْنَ وَ الْمُسْتَغْفِرِیْنَ بِالْاَسْحَارِ.

৩. তারা ঐসব লোক, যারা বলে : হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, আমাদের গুনাহ্ মাফ কর এবং আমাদেরকে আগুনের আজাব থেকে বাঁচাও। এসব লোক ধৈর্যশীল, সত্যপন্থী, অনুগত, দানশীল ও শেষরাতে আল্লাহর কাছে গুণাহ মাফ চায়। (সূরা আলে ইমরান-০৩ : ১৬-১৭)  

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ اِخْوَةٌ فَاَصْلِحُوْا بَیْنَ اَخَوَیْكُمْ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ.

৪. মু’মিনরা তো একে অপরের ভাই। তাই তোমাদের ভাইদের মধ্যে সুসম্পর্ক বহাল করে দাও। আল্লাহকে ভয় কর। আশা করা যায়, তোমাদের ওপর দয়া করা হবে। (সূরা হুজুরাত : ৪৯: ১০)

إِنَّ الْمُسْلِمِیْنَ وَ الْمُسْلِمٰتِ وَ الْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ وَ الْقٰنِتِیْنَ وَ الْقٰنِتٰتِ وَ الصّٰدِقِیْنَ وَ الصّٰدِقٰتِ وَ الصّٰبِرِیْنَ وَ الصّٰبِرٰتِ وَ الْخٰشِعِیْنَ وَ الْخٰشِعٰتِ وَ الْمُتَصَدِّقِیْنَ وَ الْمُتَصَدِّقٰتِ وَ الصَّآىِٕمِیْنَ وَ الصّٰٓىِٕمٰتِ وَ الْحٰفِظِیْنَ فُرُوْجَهُمْ وَ الْحٰفِظٰتِ وَ الذّٰكِرِیْنَ اللّٰهَ كَثِیْرًا وَّ الذّٰكِرٰتِ ۙ اَعَدَّ اللّٰهُ لَهُمْ مَّغْفِرَةً وَّ اَجْرًا عَظِیْمًا.

৫. নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও নারী, মুমিন পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী, বিনয়াবনত পুরুষ  ও নারী, দানশীল পুরুষ ও নারী, সিয়ামপালনকারী পুরুষ ও নারী, নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী পুরুষ ও নারী, আল্ল¬াহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারী, তাদের জন্য আল্লাহ মাগফিরাত ও মহান প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন। (সূরা আহযাব-৩৩ : ৩৫)

وَ عِبَادُ الرَّحْمٰنِ الَّذِیْنَ یَمْشُوْنَ عَلَی الْاَرْضِ هَوْنًا وَّ إِذَا خَاطَبَهُمُ الْجٰهِلُوْنَ قَالُوْا سَلٰمًا- وَ الَّذِیْنَ یَبِیْتُوْنَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَّ قِیَامًا- وَ الَّذِیْنَ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامً- إِنَّهَا سَآءَتْ مُسْتَقَرًّا وَّ مُقَامًا- وَ الَّذِیْنَ إِذَاۤ أَنْفَقُوْا لَمْ یُسْرِفُوْا وَ لَمْ یَقْتُرُوْا وَ كَانَ بَیْنَ ذٰلِكَ قَوَامًا- وَ الَّذِیْنَ لَا یَدْعُوْنَ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَ وَ لَا یَقْتُلُوْنَ النَّفْسَ الَّتِیْ حَرَّمَ اللّٰهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَ لَا یَزْنُوْنَ ۚ وَ مَنْ یَّفْعَلْ ذٰلِكَ یَلْقَ اَثَامًاۙ- یُّضٰعَفْ لَهُ الْعَذَابُ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ وَ یَخْلُدْ فِیْهٖ مُهَانًا- إِلَّا مَنْ تَابَ وَ اٰمَنَ وَ عَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَاُولٰٓىِٕكَ یُبَدِّلُ اللّٰهُ سَیِّاٰتِهِمْ حَسَنٰتٍ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا- وَ مَنْ تَابَ وَ عَمِلَ صَالِحًا فَإِنَّهٗ یَتُوْبُ اِلَی اللّٰهِ مَتَابًا- وَ الَّذِیْنَ لَا یَشْهَدُوْنَ الزُّوْرَ ۙ وَ إِذَا مَرُّوْا بِاللَّغْوِ مَرُّوْا كِرَامًا- وَ الَّذِیْنَ إِذَا ذُكِّرُوْا بِاٰیٰتِ رَبِّهِمْ لَمْ یَخِرُّوْا عَلَیْهَا صُمًّا وَّ عُمْیَانًا- وَ الَّذِیْنَ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ اَزْوَاجِنَا وَ ذُرِّیّٰتِنَا قُرَّةَ اَعْیُنٍ وَّ اجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِیْنَ اِمَامًا.

৬. আর রহমানের বান্দা তারাই যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদেরকে সম্বোধন করে তখন তারা বলে ‘সালাম’। আর যারা তাদের রবের জন্য সিজদারত ও দণ্ডায়মান হয়ে রাত্রি যাপন করে। আর যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, তুমি আমাদের থেকে জাহান্নামের আজাব ফিরিয়ে নাও। নিশ্চয় এর আজাব হল অবিচ্ছিন্ন’। ‘নিশ্চয় তা অবস্থানস্থল ও আবাসস্থল হিসেবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট’। আর তারা যখন ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না। বরং মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে। আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে না এবং যারা আল্লাহ যে নাফ্সকে হত্যা করা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না। আর যারা ব্যভিচার করে না। আর যে তা করবে সে আজাবপ্রাপ্ত হবে। কিয়ামতের দিন তার আজাব বর্ধিত করা হবে এবং সেখানে সে অপমানিত অবস্থায় স্থায়ী হবে। তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর যে তাওবা করে এবং সৎকাজ করে তবে নিশ্চয় সে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আর যারা মিথ্যার সাক্ষ্য হয় না এবং যখন তারা অনর্থক কথা-কর্মের পাশ দিয়ে চলে তখন সসম্মানে চলে যায়। আর যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দিলে অন্ধ ও বধিরদের মত পড়ে থাকে না। আর যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন’। (সূরা ফুরকান, ২৫ : ৬৩-৭৪)

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ ثُمَّ لَمْ یَرْتَابُوْا وَ جٰهَدُوْا بِاَمْوَالِهِمْ وَ أَنْفُسِهِمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الصّٰدِقُوْنَ.

৭. মুমিন কেবল তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, তারপর সন্দেহ পোষণ করেনি। আর নিজেদের সম্পদ ও নিজেদের জীবন দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে। এরাই সত্যনিষ্ঠ। (সূরা হুজুরাত-৪৯ : ১৫)

اِنْ یَّنْصُرْكُمُ اللّٰهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَ اِنْ یَّخْذُلْكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِیْ یَنْصُرُكُمْ مِّنْ بَعْدِه وَ عَلٰی اللّٰهِ فَلْیَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُوْنَ.

৮. আল্লাহ যদি তোমাদেরকে সাহায্য করেন তাহলে কোন শক্তি তোমাদের ওপর বিজয়ী হতে পারবে না। আর তিনিই যদি তোমাদেরকে ত্যাগ করেন, তাহলে তাঁর পরে আর কে আছে, যে তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে। কাজেই যারা সাচ্চা মুমিন তাদেরকে আল্লাহর ওপরই ভরসা করা উচিত। (সূরা আলে ইমরান: ০৩:১৬০)

وَ مَا كَانَ الْمُؤْمِنُوْنَ لِیَنْفِرُوْا كَآفَّةً فَلَوْ لَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآىِٕفَةٌ لِّیَتَفَقَّهُوْا فِی الدِّیْنِ وَ لِیُنْذِرُوْا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوْۤا اِلَیْهِمْ لَعَلَّهُمْ یَحْذَرُوْنَ.

৯. আর মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে, তারা সকলে একসঙ্গে অভিযানে বের হবে। অতপর তাদের প্রতিটি দল থেকে কিছু লোক কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান আহরণ করতে পারে এবং আপন সম্প্রদায় যখন তাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করবে, তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা (গুনাহ থেকে) বেঁচে থাকে। (সূরা তাওবা-৯ : ১২২)

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ وَ إِذَا كَانُوْا مَعَهٗ عَلٰی اَمْرٍ جَامِعٍ لَّمْ یَذْهَبُوْا حَتّٰی یَسْتَاْذِنُوْهُ إِنَّ الَّذِیْنَ یَسْتَاْذِنُوْنَكَ اُولٰٓئِكَ الَّذِیْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ فَإِذَا اسْتَاْذَنُوْكَ لِبَعْضِ شَاْنِهِمْ فَاْذَنْ لِّمَنْ شِئْتَ مِنْهُمْ وَ اسْتَغْفِرْ لَهُمُ اللّٰهَ إِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ.

১০. মুমিন শুধু তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনে এবং তাঁর সাথে কোন সমষ্টিগত কাজে থাকলে অনুমতি না নিয়ে চলে যায় না। নিশ্চয় তোমার কাছে যারা অনুমতি চায় তারাই কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনে; সুতরাং কোন প্রয়োজনে তারা তোমার কাছে বাইরে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তাদের মধ্যে তোমার যাকে ইচ্ছা তুমি অনুমতি দেবে এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা নূর-২৪ : ৬২)

إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِیْنَ إِذَا دُعُوْۤا اِلَی اللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ لِیَحْكُمَ بَیْنَهُمْ أَنْ یَّقُوْلُوْا سَمِعْنَا وَ اَطَعْنَا ؕ وَ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ.

১১. মুমিনদেরকে যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি এ মর্মে আহ্বান করা হয় যে, তিনি তাদের মধ্যে বিচার, মীমাংসা করবেন, তাদের কথা তো এই হয় যে, তখন তারা বলে: ‘আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।’ আর তারাই সফলকাম। (সূরা নূর-২৪ : ৫১)


আল হাদিস

عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيْرٍ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهِ ﷺ  تَرَى الْمُؤْمِنِيْنَ فِيْ تَرَاحُمِهِمْ وَتَوَادِّهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ كَمَثَلِ الْجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى عُضْوًا تَدَاعَىَ لَه سَائِرُ جَسَدِه بِالسَّهْرِ وَالْحُمَّى- (بُخَارِيْ : بَابُ رَحْمَةِ النَّاسِ وَالْبَهَائِمِ)

১. হজরত নু’মান ইবনে বাশির "    হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ #  বলেছেন, তোমরা মুমিনদের পারস্পরিক দয়া, ভালোবাসা এবং হৃদ্যতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে একটি দেহের ন্যায় দেখতে পাবে, দেহের কোন অঙ্গ যদি পীড়িত হয়ে পড়ে তাহলে অপর অংগগুলোও জ্বর ও নিদ্রাহীনতাসহ তার ডাকে সাড়া দিয়ে থাকে। (বুখারি : বাবু রাহমাতিন নাছি ওয়াল বাহায়িমি, ৫৫৫২)

عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيْرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اَلْمُسْلِمُوْنَ كَرَجُلٍ وَاحِدٍ اِنِ اشْتَكٰى عَيْنُه اِشْتَكٰى كُـلُّه وَاِنِ اشْتَكٰى رَأْسُه اِشْتَكٰى كُـلُّه ـ (مُسْلِمْ : بَابُ تَرَاحُمِ الْمُؤْمِنِيْنَ  وَتَعَاطُفِهِمْ)

২. হজরত নু’মান ইবনে বাশির "    হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ #  বলেছেন, সকল মুসলমান একই ব্যক্তি সত্তার মত। যখন তার চোখে যন্ত্রণা হয়, তখন তার গোটা শরীরই তা অনুভব করে। যদি তার মাথা ব্যথা হয়, তখনও গোটা শরীরই তা অনুভব করে। (মুসলিম: বাবু তারাহুমিল মুমিনীনা ওয়া তায়াতুফি হিম, ৪৬৮৭)

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ  اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ اَلْمُؤْمِنُ مَألَفٌ وَلَا خَيْرَ فِيْمَنْ لَا يَأْلَفُ، وَلَا يُؤَلَفُ ـ (مِشْكَـاةُ الْمَصَابِيْحِ ـ بَابُ السَّلَامِ)

৩. হজরত আবু হুরায়রা "    থেকে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ #   বলেছেন, মুমিন ব্যক্তি ভালোবাসা ও দয়ার প্রতীক। ঐ ব্যক্তির মধ্যে কোন কল্যাণ নেই, যে কাউকে ভালোবাসে না এবং কারো ভালোবাসা পায় না। (মিশকাতুল মাসাবীহ: বাবুস সালাম, ৪৯৯৫)











১৯. তাকওয়া : اَلتَّقْوى

اَلتَّقْوى অর্থ ভয় করা, বিরত থাকা, আত্মশুদ্ধি, সাবধান হওয়া।

আল-কুরআন

یٰاَیُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنٰكُمْ مِّنْ ذَكَرٍ وَّ اُنْثٰی وَ جَعَلْنٰكُمْ شُعُوْبًا وَّ قَبَآىِٕلَ لِتَعَارَفُوْا إِنَّ اَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللّٰهِ اَتْقٰىكُمْ إِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌ خَبِیْرٌ.

১. হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (সূরা হুজুরাত-৪৯ : ১৩)

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ حَقَّ تُقٰتِه وَ لَا تَمُوْتُنَّ إِلَّا وَ أَنْتُمْ مُّسْلِمُوْنَ.

২. হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহকে তেমনি ভয় কর, যেমন ভয় করা উচিত। আর মুসলিম অবস্থায় ছাড়া যেন তোমাদের মৃত্যু না হয়। (সূরা আলে ইমরান- ০৩: ১০২) 

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَ لْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ إِنَّ اللّٰهَ خَبِیْرٌ مبِمَا تَعْمَلُوْنَ.

৩. হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করে চল! প্রত্যেকের খেয়াল রাখা উচিত যে, সে আগামী দিনের জন্য কী ব্যবস্থা করেছে। আল্লাহকে আরো ভয় করে চল। আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের সব আমলের খবর রাখেন। (সূরা হাশর-৫৯: ১৮) 

إِنَّ اللّٰهَ مَعَ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا وَّ الَّذِیْنَ هُمْ مُّحْسِنُوْنَ.

৪. নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে আছেন, যারা তাকওয়ার জীবনযাপন করে এবং যারা ইহসানের সাথে আমল করে। (সূরা নাহ্ল-১৬: ১২৮)

فَاتَّقُوا اللّٰهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَ اسْمَعُوْا وَ اَطِیْعُوْا وَ أَنْفِقُوْا خَیْرًا لِّأَنْفُسِكُمْ وَ مَنْ یُّوْقَ شُحَّ نَفْسِهٖ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ.

৫. অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর, শ্রবণ কর, আনুগত্য কর এবং তোমাদের নিজেদের কল্যাণে ব্যয় কর, আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়, তারাই মূলত সফলকাম। (সূরা তাগাবুন-৬৪ : ১৬)

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تُحِلُّوْا شَعَآئِرَ اللّٰهِ وَ لَا الشَّهْرَ الْحَرَامَ وَ لَا الْهَدْیَ وَ لَا الْقَلَآىِٕدَ وَ لَاۤ آٰمِّیْنَ الْبَیْتَ الْحَرَامَ یَبْتَغُوْنَ فَضْلًا مِّنْ رَّبِّهِمْ وَ رِضْوَانًا ؕ وَ إِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوْا وَلَا یَجْرِمَنَّكُمْ شَنَاٰنُ قَوْمٍ أَنْ صَدُّوْكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَنْ تَعْتَدُوْا وَ تَعَاوَنُوْا عَلَی الْبِرِّ وَ التَّقْوٰی وَ لَا تَعَاوَنُوْا عَلَی الْاِثْمِ وَ الْعُدْوَانِ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ إِنَّ اللّٰهَ شَدِیْدُ الْعِقَابِ.

৬. হে মুমিনগণ, তোমরা অসম্মান করো না আল্লাহর নিদর্শনসমূহের, হারাম মাসের, হারামে প্রেরিত কুরবানীর পশুর, গলায় চি‎হ্ন দেয়া পশুর এবং আপন রবের অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির অনুসন্ধানে পবিত্র গৃহের অভিমুখীদের। যখন তোমরা হালাল হও, তখন শিকার কর। কোন কওমের শত্রুতা যে, তারা তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে বাধা প্রদান করেছে, তোমাদেরকে যেন কখনো প্ররোচিত না করে যে, তোমরা সীমালঙ্ঘন করবে। সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা কর। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আজাব প্রদানে কঠোর। (সূরা মায়েদা-৫ : ২)

فَإِذَا بَلَغْنَ اَجَلَهُنَّ فَاَمْسِكُوْهُنَّ بِمَعْرُوْفٍ اَوْ فَارِقُوْهُنَّ بِمَعْرُوْفٍ وَّ اَشْهِدُوْا ذَوَیْ عَدْلٍ مِّنْكُمْ وَ اَقِیْمُوا الشَّهَادَةَ لِلّٰهِ ذٰلِكُمْ یُوْعَظُ بِهٖ مَنْ كَانَ یُؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَ مَنْ یَّتَّقِ اللّٰهَ یَجْعَلْ لَّهٗ مَخْرَجًا- وَّ یَرْزُقْهُ مِنْ حَیْثُ لَا یَحْتَسِبُ وَ مَنْ یَّتَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ فَهُوَ حَسْبُهٗ إِنَّ اللّٰهَ بَالِغُ اَمْرِهٖ قَدْ جَعَلَ اللّٰهُ لِكُلِّ شَیْءٍ قَدْرًا.

৭. অতপর যখন তারা তাদের ইদ্দতের শেষ সীমায় পৌঁছবে, তখন তোমরা তাদের ন্যায়ানুগ প‎ন্থায় রেখে দেবে অথবা ন্যায়ানুগ প‎ন্থায় তাদের পরিত্যাগ করবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে ন্যায়পরায়ণ দুইজনকে সাক্ষী বানাবে। আর আল্লাহর জন্য সঠিক সাক্ষ্য দেবে। তোমাদের মধ্যে যে আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান আনে এটি দ্বারা তাকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। (সূরা তালাক-৬৫ : ২-৩)

وَ الّٰٓـِٔیْ یَئِسْنَ مِنَ الْمَحِیْضِ مِنْ نِّسَآئِكُمْ اِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلٰثَةُ اَشْهُرٍ وَّ الّٰٓـِٔیْ لَمْ یَحِضْنَ وَ اُولَاتُ الْاَحْمَالِ اَجَلُهُنَّ أَنْ یَّضَعْنَ حَمْلَهُنَّ وَ مَنْ یَّتَّقِ اللّٰهَ یَجْعَلْ لَّهٗ مِنْ اَمْرِهٖ یُسْرًا.

৮. তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা ঋতুবর্তী হওয়ার কাল অতিক্রম করে গেছে, তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা যদি সংশয়ে থাক এবং যারা এখনও ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি তাদের ইদ্দতকালও হবে তিন মাস। আর গর্ভধারিনীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন। (সূরা তালাক-৬৫ : ৪)

ذٰلِكَ اَمْرُ اللّٰهِ أَنْزَلَهٗ اِلَیْكُمْ وَ مَنْ یَّتَّقِ اللّٰهَ یُكَفِّرْ عَنْهُ سَیِّاٰتِهٖ وَ یُعْظِمْ لَهٗ اَجْرًا.

৯. এটি আল্লাহর নির্দেশ, তিনি তা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। আর যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেন এবং তাকে মহা পুরস্কার দেন। (সূরা তালাক-৬৫ : ৫)

وَ مَنْ یُّطِعِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ وَ یَخْشَ اللّٰهَ وَ یَتَّقْهِ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْفَآئِزُوْنَ.

১০. আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই কৃতকার্য। (সূরা নূর-২৪ : ৫২)

اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ قِیْلَ لَهُمْ كُفُّوْۤا اَیْدِیَكُمْ وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَیْهِمُ الْقِتَالُ إِذَا فَرِیْقٌ مِّنْهُمْ یَخْشَوْنَ النَّاسَ كَخَشْیَةِ اللّٰهِ اَوْ اَشَدَّ خَشْیَةً وَ قَالُوْا رَبَّنَا لِمَ كَتَبْتَ عَلَیْنَا الْقِتَالَ لَوْ لَاۤ اَخَّرْتَنَاۤ اِلٰی اَجَلٍ قَرِیْبٍ قُلْ مَتَاعُ الدُّنْیَا قَلِیْلٌ وَ الْاٰخِرَةُ خَیْرٌ لِّمَنِ اتَّقٰی وَ لَا تُظْلَمُوْنَ فَتِیْلًا.

১১. তুমি কি তাদেরকে দেখনি যাদেরকে বলা হয়েছিল, তোমরা তোমাদের হাত গুটিয়ে নাও এবং সালাত কায়েম কর ও যাকাত প্রদান কর? অতপর তাদের ওপর যখন লড়াই ফরয করা হল, তখন তাদের একদল মানুষকে ভয় করতে লাগল আল্লাহকে ভয় করার অনুরূপ অথবা তার চেয়ে কঠিন ভয়। আর বলল, ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদের ওপর লড়াই ফরয করলেন কেন? আমাদেরকে কেন আরো কিছুকালের অবকাশ দিলেন না’? বল, ‘দুনিয়ার সুখ সামান্য। আর যে তাকওয়া অবলম্বন করে তার জন্য আখিরাত উত্তম। আর তোমাদের প্রতি সূতা পরিমাণ যুল্মও করা হবে না’। (সূরা নিসা-৪ : ৭৭)


আল হাদিস

عَنْ عَطِيَّةَ السَّعْدِىْ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَال قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا يَبْلُغُ الْعَبْدُ اَن يَّكُوْنَ مِنَ الْمُتَّقِيْنَ حَتّٰى يَدَعَ مَا لَا بَاْسَ بِه حَذَرًا لِمَا بِهِ الْبَاْسُ- (تِرْمِذِيْ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ صِفَةِ اَوَانِىْ الْحَوْضِ)

১. হজরত আতিয়া আসসা‘দী "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ #   বলেছেন, কোন বান্দাহ ততক্ষণ পর্যন্ত মুত্তাকী হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে গুনাহর আশঙ্কায় গুনাহ নেই এমন কাজও ছেড়ে দেবে। (তিরমিজি : বাবু মা জা আ ফি সিফাতি আওয়ানিল হাউদ, ২৩৭৫)

عَنْ عَائِشَةَ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ يَا عَائِشَةُ اِيَّاكِ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوْبِ فَإِنَّ لَهَا مِنَ اللهِ طَالِبًا ـ (اَلسِّلْسِلَةُ الصَّحِيْحَةُ لِلْاَلْبَانِىْ)

২. হজরত আয়েশা "   থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ #   তাকে বলেছেন, হে আয়েশা ছোটখাট গুনাহর ব্যাপারেও সতর্ক হও, কেননা এর জন্যও আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে। (সিলসিলাতুস সহীহা লিল আলবানী, ২৭৩১)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا تَحَاسَدُوْا وَلَا تَنَاجَشُوْا وَلَا تَبَاغَضُوْ وَلَا تَدَابَرُوْا وَلَا يَبِعُ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ وَكُوْنُوْا عِبَادَ اللهِ اِخْوَانًا اَلْمُسْلِمُ اَخُ الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُه وَلَا يَخْذُلُه وَلَا يَحْقِرُهُ اَلتَّقْوى هَاهُنَا وَيُشِيْرُ إِلٰى صَدْرِه ثَلَاثَ مَرَّاتٍ بِحَسْبِ امْرِءٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ اَخَاهُ الْمُسْلِمَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُه وَ مَالُه وَعِرْضُه- (مُسْلِمْ : بَابُ تَحْرِيْمِ ظُلْمِ الْمُسْلِمِ)

৩. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  # বলেছেন, তোমরা পরস্পরের প্রতি হিংসা পোষণ করো না, দালালি করো না, ঘৃণা বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না। কেউ কারও ওপর ক্রয়-বিক্রয় করো না। আল্লাহর বান্দাগণ ভাই ভাই হয়ে থাকো। মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তাকে জুলুম করতে পারে না, অপমান অপদস্ত করতে পারে না এবং তুচ্ছ জ্ঞান করতে পারে না। তাকওয়া এখানে এ কথাটি তিনি তিনবার বলে নিজের বক্ষের দিকে ইঙ্গিত করলেন। কোন ব্যক্তি খারাপ প্রমাণিত হওয়ার জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ জ্ঞান করে। প্রত্যেক মুসলিমের জীবন, ধন-সম্পদ ও মান-সম্মান অন্য সব মুসলিমের জন্য হারাম। (মুসলিম : বাবু তাহরিমি যুলমিল মুসলিম, ৪৬৫০)

عَنْ حَسَنِ بْنِ عَلِىٍّ قَالَ حَفِظْتُ مِنْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  دَعْ مَا يَرِيْبُكَ اِلَى مَا لَا يَرِيْبُكَ فَاِنْ الصِّدْقَ طَمَانِيْنَةٌ وَإِنَّ الْكِذْبَ رِيْبَةً- (تِرْمِذىْ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ صِفَةِ اَوَانِىْ الْحَوْضِ)

৪. হজরত হাসান ইবনে আলী "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল #   থেকে এ কথা মুখস্ত করে নিয়েছি যে, সন্দেহযুক্ত বিষয়টি বাদ দিয়ে সন্দেহমুক্ত বিষয় গ্রহণ কর। কেননা, সত্যতাই প্রশান্তির বাহন এবং মিথ্যাচার সন্দেহ সংশয়ের উৎস। (তিরমিজি : বাবু মাজাআ ফি সিফাতি আওয়ানিল হাওদ, ২৪৪২)

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِىْ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ إِنَّ الدُّنْيَا حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ وَإِنَّ اللهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيْهَا فَيَنْظُرُ كَيْفَ تَعْلَمُوْنَ فَاتَّقُوْا الدُّنْيَا وَاتَّقُوْا النِّسَاءَ فَإِنَّ اَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِىْ اِسْرَائِيْلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ- (مُسْلِمْ : بَابُ اَكْثَرِ اَهْلِ الْجَنَّةِ الْفُقَرَاءُ وَاَكْثَرِ اَهْلِ النَّارِ النِّسَاءُ وَبَيَانِ الْفِتْنَةِ بِالنَّسَاءِ)

৫. হজরত আবু সাঈদ খুদরী "   থেকে বর্ণিত। নবি করিম  #    বলেন, নিশ্চয়ই দুনিয়া মিষ্ট ও আকর্ষণীয়। আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে দুনিয়ায় তার প্রতিনিধি করেছেন, যাতে তিনি দেখে নেন তোমরা কেমন কাজ কর। কাজেই তোমরা দুনিয়া সম্পর্কে সতর্ক হও এবং নারীদের থেকে ও সতর্ক থাক। কারণ, বনী ইসরাইলের প্রথম ফিতনা নারীদের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছিল। (মুসলিম : বাবু আকছারি আহলিল জান্নাতি আল ফুকারা-৪৯২৫)

عَنْ عَبْدِ اللهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى الله ﷺ  اَنَّهُ كَانَ يَقُوْلُ اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ اَسْئَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى -(مُسْلِمْ : بَابُ التَّعَوُّذِ مِنْ شَرِّ مَا عُمِلَ وَمِنْ شَرِّ مَالَمْ يُعْمَلْ)

৬. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ "   থেকে বর্ণিত। নবি করিম  #    বলতেন, হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হেদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা চাই। (মুসলিম : বাবুত তায়াউযি মিন শাররি মা উমিলা ওয়া মিন শাররি মা লাম ইউমাল : ৪৮৯৫)












২০. পর্দা : اَلْحِجَابُ

আল কুরআন

قُلْ لِّلْمُؤْمِنِیْنَ یَغُضُّوْا مِنْ اَبْصَارِهِمْ وَ یَحْفَظُوْا فُرُوْجَهُمْ ذٰلِكَ اَزْكٰی لَهُمْ إِنَّ اللّٰهَ خَبِیْرٌ بِمَا یَصْنَعُوْنَ.

১. (হে নবি!) মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন নিজেদের চোখ নিচু রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য বেশি পবিত্র নিয়ম। তারা যা কিছু করে আল্লাহ এর খবর রাখেন। (সূরা নূর-২৪: ৩০) 

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَدْخُلُوْا بُیُوْتًا غَیْرَ بُیُوْتِكُمْ حَتّٰی تَسْتَاْنِسُوْا وَ تُسَلِّمُوْا عَلٰی اَهْلِهَا  ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنَ.

২. হে ঐসব লোক যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের ঘর ছাড়া অন্যদের ঘরে তাদের অনুমতি ছাড়া এবং তাদেরকে সালাম পাঠানো ছাড়া কখনও ঢুকবে না। এ নিয়ম তোমাদের জন্যই ভালো। আশা করা যায় যে, তোমরা এ বিষয়ে খেয়াল রাখবে। (সূরা নূর-২৪: ২৭)

وَ إِذَا بَلَغَ الْاَطْفَالُ مِنْكُمُ الْحُلُمَ فَلْیَسْتَاْذِنُوْا كَمَا اسْتَاْذَنَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ كَذٰلِكَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمْ اٰیٰتِه وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ.

৩. যখন তোমাদের সন্তানরা সাবালক হয়ে যায় তখন তারা অবশ্যই যেন তেমনিভাবে অনুমতি নিয়ে আসে, যেমনিভাবে তাদের বড়রা অনুমতি নিয়ে এসে থাকে। এভাবেই আল্লাহ তাঁর আয়াতগুলো তোমাদের সামনে স্পষ্ট করে দেন। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও মহাকুশলী। (সূরা নূর-২৪: ৫৯)

یٰاَیُّهَا النَّبِیُّ قُلْ لِّاَزْوَاجِكَ وَ بَنٰتِكَ وَ نِسَآءِ الْمُؤْمِنِیْنَ یُدْنِیْنَ عَلَیْهِنَّ مِنْ جَلَابِیْبِهِنَّ ؕ ذٰلِكَ اَدْنٰۤی أَنْ یُّعْرَفْنَ فَلَا یُؤْذَیْنَ وَ كَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا.

৪. হে নবি, তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বল, ‘তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজেদের ওপর ঝুলিয়ে দেয়, তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি পন্থা হবে। ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না। আর আল¬াহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব-৩৩ : ৫৯)

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَدْخُلُوْا بُیُوْتَ النَّبِیِّ إِلَّاۤ أَنْ یُّؤْذَنَ لَكُمْ اِلٰی طَعَامٍ غَیْرَ نٰظِرِیْنَ اِنٰىهُ ۙ وَ لٰكِنْ إِذَا دُعِیْتُمْ فَادْخُلُوْا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوْا وَ لَا مُسْتَاْنِسِیْنَ لِحَدِیْثٍ إِنَّ ذٰلِكُمْ كَانَ یُؤْذِی النَّبِیَّ فَیَسْتَحْیٖ مِنْكُمْ ؗ وَ اللّٰهُ لَا یَسْتَحْیٖ مِنَ الْحَقِّ وَ إِذَا سَاَلْتُمُوْهُنَّ مَتَاعًا فَسْـَٔلُوْهُنَّ مِنْ وَّرَآءِ حِجَابٍ ؕ ذٰلِكُمْ اَطْهَرُ لِقُلُوْبِكُمْ وَ قُلُوْبِهِنَّ ؕ وَ مَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُؤْذُوْا رَسُوْلَ اللّٰهِ وَ لَاۤ أَنْ تَنْكِحُوْۤا اَزْوَاجَهٗ مِنْۢ بَعْدِهٖۤ اَبَدًا إِنَّ ذٰلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللّٰهِ عَظِیْمًا.

৫. হে মুমিনগণ, তোমরা নবির ঘরসমূহে প্রবেশ করো না; অবশ্য যদি তোমাদেরকে খাবারের অনুমতি দেয়া হয় তাহলে (প্রবেশ কর) খাবারের প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা না করে। আর যখন তোমাদেরকে ডাকা হবে তখন তোমরা প্রবেশ কর এবং খাবার শেষ হলে চলে যাও আর কথাবার্তায় লিপ্ত হয়ো না; কারণ তা নবিকে কষ্ট দেয়, সে তোমাদের বিষয়ে সঙ্কোচ বোধ করে; কিন্তু আল্ল¬াহ সত্য প্রকাশে সঙ্কোচ বোধ করেন না। আর যখন নবিপত্নীদের কাছে তোমরা কোন সামগ্রী চাইবে তখন পর্দার আড়াল  থেকে চাইবে; এটি তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র। আর আল্ল-াহর রাসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তার (মৃত্যুর) পর তার স্ত্রীদেরকে বিয়ে করা কখনো তোমাদের জন্য সঙ্গত নয়। নিশ্চয় এটি আল¬াহর কাছে গুরুতর পাপ। (সূরা আহযাব-৩৩ : ৫৩)

یٰنِسَآءَ النَّبِیِّ لَسْتُنَّ كَاَحَدٍ مِّنَ النِّسَآءِ اِنِ اتَّقَیْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَیَطْمَعَ الَّذِیْ فِیْ قَلْبِهٖ مَرَضٌ وَّ قُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوْفًا -وَ قَرْنَ فِیْ بُیُوْتِكُنَّ وَ لَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِیَّةِ الْاُوْلٰی وَ اَقِمْنَ الصَّلٰوةَ وَ اٰتِیْنَ الزَّكٰوةَ وَ اَطِعْنَ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ إِنَّمَا یُرِیْدُ اللّٰهُ لِیُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَیْتِ وَ یُطَهِّرَكُمْ تَطْهِیْرًا.

৬. হে নবিÑপত্নিগণ, তোমরা অন্য কোন নারীর মত নও। যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে (পরপুরুষের সাথে) কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, তাহলে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা ন্যায়সংগত কথা বলবে। আর তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করবে এবং জাহেলী যুগের মত সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না। আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্ল¬াহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর। হে নবি পরিবার, আল্ল¬াহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতাকে দূরীভূত করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে। (সূরা আহযাব, ৩৩ : ৩২-৩৩)

وَٱلَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ.

৭. আর যারা (সফল মু’মিনদের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা) নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। (সূরা মুমিনূন-২৩: ৫) 

یٰبَنِیْ اٰدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَیْكُمْ لِبَاسًا یُّوَارِیْ سَوْاٰتِكُمْ وَ رِیْشًا وَ لِبَاسُ التَّقْوٰی ذٰلِكَ خَیْرٌ ذٰلِكَ مِنْ اٰیٰتِ اللّٰهِ لَعَلَّهُمْ یَذَّكَّرُوْنَ.

৮. হে আদম সন্তান! আমি তোমাদের প্রতি পোশাক নাজিল করেছি, যাতে তোমাদের শরীরের লজ্জাস্থান ঢাকা যায় এবং শরীরের হেফাজত ও সাজ-সজ্জা হয়। আর তাকওয়ার পোশাকই সবচেয়ে ভালো। এটা আল্লাহর নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। হয়তো লোকেরা এ থেকে উপদেশ নেবে। (সূরা আ’রাফ-০৭: ২৬)


আল হাদিস

عَنْ جَرِيْرٍ قَالَ سَأَلْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ عَنْ نَظْرَةِ الْفُجَأَةِ فَقَالَ اِصْرِفْ بَصَرَكَ ـ (اَبُوْ دَاودَ: بَابُ مَا يَؤُمَرُ بِه مِنْ غَضِّ الْبَصَرِ) 

১. হজরত জারীর ইবনে আবদুল্লাহ "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ  #   কে জিজ্ঞাসা করলাম, হঠাৎ যদি কোন মহিলার ওপর দৃষ্টি পড়ে তাহলে কী করতে হবে? তিনি আমাকে বললেন (কাল বিলম্ব না করেই) তুমি তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিবে। (আবু দাউদ: বাবু মা ইউমার বিহি মিন গাচ্ছিল বাছার, ১৮৩৬)

عَنْ عَلِـىٍّ قَالَ قَالَ لِـىْ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا تُتْبِـعِ النَّظْرَ النَّظْرَ فَإِنَّ الْاُوْلٰى لَكَ وَلَيْسَتْ لَكَ الْاٰخِرَةُ ـ (اَحْمَدْ: مُسْنَدِ عَلِـىٍّ رَضِيَ الله عَنْهُ)

২. হজরত আলী "    হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ #   আমাকে বললেন, (অপরিচিত নারীর প্রতি) একবার দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার দৃষ্টি নিক্ষেপ  করো না। কেননা প্রথম দৃষ্টি তোমার, পরবর্তী দৃষ্টি তোমার নয়। (মুসনাদে আহমাদ: মুসনাদে আলী (রা), ১২৯৮)

عَنْ عَبْدِ اللهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ اَلْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَإِذَا خَرَجَتْ اِسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ ـ (تِرْمِذِيْ: بَابُ مَا جَاءَ فِيْ كَرَاهِيَةِ الدُّخُوْلِ عَلَى الْمُغِيْبَاتِ) 

৩. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ "   থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, মহিলারা হলো পর্দায় থাকার বস্তু। যখন সে (পর্দা উপেক্ষা করে) বাহিরে আসে তখন শয়তান তাকে সুসজ্জিত করে দেখায়। (তিরমিজি: বাবু মা জা’আফি কারাহিয়াতিদ দুখুলি আলাল মুগিবাতি, ১০৯৩)

عَنْ اُمِّ سَلَمَةَ اَنَّهَا كَانَتْ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  وَ مَيْمُوْنَةَ قَالَتْ فَبَيْنَا نَحْنُ عِنْجَهُ اَقْبَلَ ابْنُ اُمِّ مَكْتُوْمٍ فَدَخَلَ ﷺ  اِحْتَجِبَا مِنْهُ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ اَلَيْسَ هُوَ اَعْمَى لَا يُبْصِرُنَا وَلَا يَعْرِفُنَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اَفَعَمْيَا وَاِنْ أَنْتُمَا اَلَسْتُمَا تُبْصِرَانِهَ- (تِرْمِذِيْ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ اِحْتِجَابِ النِّسَاءِ مِنَ الرِّجَالِ) 

৩. হজরত উম্মে সালামা "   থেকে বর্ণিত। একদা তিনি এবং হজরত মায়মুনা  "    রাসূলুল্লাহ  #    এর নিকটে ছিলেন। হজরত উম্মে সালামা "    বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ  #   এর নিকট থাকাবস্থায় হঠাৎ সেখানে আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম "   এসে প্রবেশ করলেন। (এটি পর্দার বিধান নাজিল পরবর্তী ঘটনা) তখন রাসূল #   আমাদেরকে বললেন, তোমরা উভয়ে লোকটি থেকে পর্দা কর। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল #    ! লোকটি তো অন্ধ, সে আমাদেরকে দেখেও না, চিনেও না। তখন রাসূলুল্লাহ  #    বললেন, তোমরা দুজনও কি অন্ধ যে, তাকে দেখতে পাচ্ছ না? (তিরমিজি : বাবু মা জা‘আ ফী ইহতিজাবিন নিসায়ি মিনার রিজাল, ২৭০২)

عَنْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ اَلْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَاِذَ خَرَجَتْ اِسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ-

৪. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ "  থেকে বর্ণিত নবি করিম #    বলেছেন, মহিলারা হলো পর্দায় থাকার বস্তু। সুতরাং তারা যখন বাহিরে আসে তখন শয়তান তাদেরকে সুসজ্জিত করে দেখায়। (তিরমিজি : ১১৭৩)
























২১. আনুগত্য : اَلْاِطَاعَةُ

اَلْاِطَاعَةُ অর্থ আদেশ নিষেধ পালন করা।


আল-কুরআন

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ وَ اُولِی الْاَمْرِ مِنْكُمْ  فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ فِیْ شَیْءٍ فَرُدُّوْهُ اِلَی اللّٰهِ وَ الرَّسُوْلِ اِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ ذٰلِكَ خَیْرٌ وَّ اَحْسَنُ تَاْوِیْلًا.

১. হে ঈমানদারেরা! (যদি তোমরা সত্যি আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমান এনে থাক তাহলে) আল্লাহকে মেনে চল এবং রাসূলকে মেনে চল। আর তোমাদের মধ্যে যাদের হুকুম দেয়ার অধিকার আছে তাদেরকেও (মানো)। তারপর যদি তোমাদের মধ্যে কোন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। এটাই সঠিক কর্মনীতি এবং শেষ ফলের দিক দিয়েও এটাই ভাল। (সূরা নিসা-০৪: ৫৯)

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ وَ لَا تُبْطِلُوْا اَعْمَالَكُمْক্স

২. হে ঈমানদারেরা! আল্লাহ ও রাসূলের কথামতো চল। আর নিজেদের আমল নষ্ট করো না। (সূরা মুহাম্মদ-৪৭: ৩৩)

وَ مَنْ یُّطِعِ اللّٰهَ وَ الرَّسُوْلَ فَاُولٰٓئِكَ مَعَ الَّذِیْنَ أَنْعَمَ اللّٰهُ عَلَیْهِمْ مِّنَ النَّبِیِّيْنَ وَ الصِّدِّیْقِیْنَ وَ الشُّهَدَآءِ وَ الصّٰلِحِیْنَ وَ حَسُنَ اُولٰٓئِكَ رَفِیْقًا.

৩. আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে তারা তাদের সাথে থাকবে, আল্লাহ যাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন নবি, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে। আর সাথী হিসেবে তারা হবে উত্তম। (সূরা নিসা-৪ : ৬৯)

مَنْ یُّطِعِ الرَّسُوْلَ فَقَدْ اَطَاعَ اللّٰهَ وَ مَنْ تَوَلّٰی فَمَاۤ اَرْسَلْنٰكَ عَلَیْهِمْ حَفِیْظًا.

৪. যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হল, তবে আমি তোমাকে তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক করে প্রেরণ করিনি। (সূরা নিসা-৪ : ৮০)

قُلْ اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ فَاِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا عَلَیْهِ مَا حُمِّلَ وَ عَلَیْكُمْ مَّا حُمِّلْتُمْ وَ اِنْ تُطِیْعُوْهُ تَهْتَدُوْا وَ مَا عَلَی الرَّسُوْلِ إِلَّا الْبَلٰغُ الْمُبِیْنُ.

৫. বল, ‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর।’ তারপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে সে শুধু তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তার আনুগত্য কর তবে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে। আর রাসূলের দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া। (সূরা নূর-২৪ : ৫৪)

وَ مَنْ یُّطِعِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَه وَ یَخْشَ اللّٰهَ وَ یَتَّقْهِ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْفَآىِٕزُوْنَ.

৬. যারা আল্লাহ ও রাসূলের হুকুম পালন করে, আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর নাফরমানি থেকে বেঁচে থাকে তারাই সফলকাম। (সূরা নূর-২৪: ৫২)

وَ اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَ الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ.

৭. আর আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো, আশা করা যায় তোমাদের ওপর রহমত করা হবে! (সূরা আলে ইমরান-০৩: ১৩২)

تِلْكَ حُدُوْدُ اللّٰهِ وَ مَنْ یُّطِعِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَه یُدْخِلْهُ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا وَ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ.

৮. এসব আল্লাহর সীমা। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মেনে চলবে তাকে আল্লাহ এমন সব বাগানে প্রবেশ করাবেন, যার নিচ দিয়ে ঝরনা বইতে থাকবে। তারা সেখানে চিরদিন থাকবে। আর এটাই বড় সফলতা। (সূরা নিসা-০৪: ১৩)

إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِیْنَ إِذَا دُعُوْۤا اِلَی اللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ لِیَحْكُمَ بَیْنَهُمْ أَنْ یَّقُوْلُوْا سَمِعْنَا وَ اَطَعْنَا ؕ وَ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ.

৯. মুমিনদেরকে যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি এ মর্মে আহ্বান করা হয় যে, তিনি তাদের মধ্যে বিচার, মীমাংসা করবেন, তাদের কথা তো এই হয় যে, তখন তারা বলে: ‘আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।’ আর তারাই সফলকাম। (সূরা নূর-২৪ : ৫১)

قَالَتِ الْاَعْرَابُ اٰمَنَّا قُلْ لَّمْ تُؤْمِنُوْا وَ لٰكِنْ قُوْلُوْۤا اَسْلَمْنَا وَ لَمَّا یَدْخُلِ الْاِیْمَانُ فِیْ قُلُوْبِكُمْ وَ اِنْ تُطِیْعُوا اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ لَا یَلِتْكُمْ مِّنْ اَعْمَالِكُمْ شَیْئًا إِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ.

১০. বেদুঈনরা বলল, ‘আমরা ঈমান আনলাম’। বল, ‘তোমরা ঈমান আননি’। বরং তোমরা বল, ‘আমরা আত্মসমর্পণ করলাম’। আর এখন পর্যন্ত তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি। আর যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর, তাহলে তিনি তোমাদের আমলসমূহের কোন কিছুই হ্রাস করবেন না। নিশ্চয় আল্লাহ অধিক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা হুজুরাত-৪৯ : ১৪)


আল হাদিস

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ عَلَى الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ فِيْمَا اَحَبَّ وَكَرِهَ مَا لَمْ يُؤْمَرْ بِمَعْصِيَةٍ فَإِذَا اُمِرَ بِمَعْصِيَةٍ فَلَا سَمْعَ وَلَا طَاعَةَ- (بُخَارِيْ : بَابُ السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ لِلْاِمَامِ مَا لَمْ تَكُنْ مَعْصِيَةً، مُسْلِمْ : بَابُ وَجُوْبِ طَاعَةِ الْاُمَرَاءِ فِيْ غَيْرِ مَعْصِيَةٍ وَتَحْرِيْمِهَا فِيْ الْمَعْصِيَةِ)

১. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর "    থেকে বর্ণিত। নবি  #    বলেছেন, দায়িত্বশীল যে পর্যন্ত কোন পাপ কাজের আদেশ না করবে সে পর্যন্ত তার আদেশ শুনা ও মেনে নেয়া প্রতিটি মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য, তা তার পছন্দ হোক বা নাই হোক। তবে সে যদি কোন পাপ কাজের আদেশ করে, তখন তার কথা শুনা বা আনুগত্য করার কোন প্রয়োজন নেই। (বুখারি : বাবু সাময়ি ওয়াত তায়াতি লিল ইমামি, ৬৬১১, মুসলিম : বাবু উজুবি তায়াতিল উমারা, ৩৪২৩)

عَنْ عَلِىٍّ اَنَّ النَّبِىَّ ﷺ بَعَثَ جَيْشًا وَاَمَّرَ عَلَيْهِمْ رَجُلًا فَاَوْقَدَ نَارًا وَقَالَ ادْخُلُوْهَا فَاَرَادُوْا أَنْ يَّدْخُلُوْهَا وَقَالَ آخَرُوْنَ إِنَّمَا فَرَرْنَا مِنْهَا فَذَكَرُوْا لِلنَّبِىِّ ﷺ فَقَالَ لِلَّذِيْنَ اَرَادُوْا اَن يَّدُخُلُوْهَا لَوْ دَخَلُوْهَا لَمْ يَزَالُوْا فِيْهَا اِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَقَالَ لِلْآخَرِيْنَ لَا طَاعَةَ فِيْ مَعْصِيَةٍ إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِيْ الْمَعْرُوْفِ- (بُخَارِيْ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ اِجَازَةِ خَبْرِ الْوَاحِدِ)

২. হজরত আলি "    থেকে বর্ণিত। নবি  #    একটি সেনাদল পাঠালেন এবং তাদের ওপর একজন দায়িত্বশীল নিযুক্ত করলেন। অতপর (দায়িত্বশীল) আগুন জ্বালিয়ে তাতে ঝাঁপ দেয়ার জন্য সবাইকে নির্দেশ দিল। তারা কয়েকজন তাতে ঝাঁপ দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করল, অপর কয়েকজন বলল, আমরা তো আগুন থেকে বাঁচার জন্যই পালিয়ে এসেছি (ইসলাম গ্রহণ করেছি)। অতপর তারা বিষয়টি রাসূল #    এর নিকট উল্লেখ করলেন। যারা আগুনে প্রবেশ করতে চেয়েছিল, রাসূলুল্লাহ #    তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, যদি তারা আগুনে প্রবেশ করত, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত তারা সে আগুনেই থাকত। অবশিষ্টদেরকে রাসূল #    বললেন, অন্যায় কাজের কোন আনুগত্য নেই। কেবল ভালো কাজেই আনুগত্য করা যাবে। (বুখারি : বাবু মাজাআ ফী ইজাযাতি খবরিল ওয়াহিদি, ৬৭১৬)

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ  اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ  قَالَ مَنْ اَطَاعَنِىْ فَقَدْ اَطَاعَ اللهَ وَمَنْ عَصَانِىْ فَقَدْ عَصَى اللهَ وَمَنْ يُّطِعِ الْاَمِيْرَ فَقَدْ اَطَاعَنِىْ وَمَنْ يَعْصِ الْاَمِيْرَ فَقَدْ عَصَانِىْ وَإِنَّمَا الْاِمَامُ جُنَّةٌ يُقَاتِلُ مِنْ وَرَائِه وَيُتَّقَى بِه فَاِنْ اَمَرَ بِتَقْوَى اللهِ وَعَدَلَ فَإِنَّ لَه بِذلِكَ اَجْرًا وَاِنْ قَالَ بَغَيْرِه فَإِنَّ عَلَيْهِ مِنْهُ- (بُخَارِيْ : بَابُ يُقَاتَلُ مِنْ وَرَاءِ الْاِمَامِ وَيُتَّقَى بِهِ)

৩. আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ  #   বলেছেন, যে আমার আনুগত্য করল সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। যে আমার অবাধ্য হলো, সে আল্লাহরই অবাধ্য হলো। যে আমীরের আনুগত্য করল, সে আমার আনুগত্য করল। আর যে আমীরের আদেশ অমান্য করল, সে প্রকৃতপক্ষে আমারই আদেশ অমান্য করল। আর নেতা হচ্ছে ঢালস্বরূপ। তার নেতৃত্বে যুদ্ধ করা হয় এবং তার মাধ্যমেই (শত্রু বাহিনী থেকে) রক্ষা পাওয়া যায়। যদি সে আল্লাহভীতি তথা তাকওয়ার আদেশ দেয় এবং ইনসাফ কায়েম করে, তবে নিশ্চয়ই সে তার প্রতিদান পাবে। আর যদি সে এর বিপরীত করে তাহলে এর দায়ভার তার উপরেই বর্তাবে। (বুখারি : বাবু ইউক্বাতালু মিন ওয়ারায়িল ইমামি, ২৭৩৭)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله ﷺ   يَقُوْلُ مَنْ خَلَعَ يَدًا مِنْ طَاعَةٍ لَقِىَ اللهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا حُجَّةَ لَهُ وَمَنْ مَاتَ وَلَيْسَ فِي عُنُقِه بَيْعَةٌ مَاتَ مِيْتَةً جَاهِلِيَّةً. (مُسْلِمْ : بَابُ وُجُوْبِ مُلَازَمَةِ جَمَاعَةِ الْمُسْلِمِيْنَ) 

৪. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর "   হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ #   কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে তার হাতকে খুলে ফেলল, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এমনভাবে যে তার বলার কিছুই থাকবে না। আর যে ব্যক্তি বাইয়াতের বন্ধন ছাড়াই মারা গেল সে জাহেলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল। (মুসলিম : বাবু উযুবি মুলাযামাতি জামায়াতিল মুসলিমীন, ৩৪৪১)

عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ بَايَعْنَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ  عَلٰى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فِيْ الْعُسْرِ وَالْيُسْرِ وَالْمَنْشَطِ وَالْمَكْرَةِ وَعَلٰى اَثَرَةٍ عَلَيْنَا وَعَلٰى أَنْ لَا نُنَازِعَ الْاَمْرَ اَهْلَه وَعَلٰى أَنْ نَّقُوْلَ بِالْحَقِّ اَيْنَمَا كُنَّا لَا نَخَافُ فِي اللهِ لَوْمَةَ لَائِمٍ- (مُسْلِمْ : بَابُ وَجُوْبِ طَاعَةِ الْاُمَرَاءِ) 

৫. হজরত উবাদা ইবনে সামেত "   হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল #    এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেছি শ্রবণ ও আনুগত্যের ব্যাপারে এবং এটা সচ্ছলতা অসচ্ছলতা, আগ্রহ, অনাগ্রহ এবং নিজের তুলনায় অন্যকে প্রাধান্য দেয়া সর্বাবস্থায়ই প্রযোজ্য। আমরা আরো বাইয়াত গ্রহণ করেছি এ মর্মে যে, আমরা কোন ব্যাপারে দায়িত্বশীলদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হব না এবং সর্বাবস্থায় সত্যের ওপর অটল থাকব। এ ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করব না। (মুসলিম : বাবু উযুবি তায়াতিল উমারা, ৩৪২৬)

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى الله ﷺ   قَالَ مَنْ رَاَى مِنْ اَمِيْرِه شَيْئًا يَكْرَهُه فَلْيَصْبِرُ عَلَيْهِ فَإِنَّهُ مَنْ فَارَقَ الْجَامَاعَةَ شِبْرًا فَمَاتَ إِلَّا مَاتَ مِيْتَتًا جَاهِلِيَّةً- (بُخَارِيْ : بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ سَتَرَوْنَ بَعْدِىْ اُمُوْرًا تُنْكِرُوْنَهَا)

৬. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস "   হতে বর্ণিত, নবি করিম  #    বলেছেন, যে ব্যক্তি তার দায়িত্বশীল থেকে এমন বিষয় দেখে, যা সে অপছন্দ করে তখন সে যেন ধৈর্যধারণ করে। কেননা যে ব্যক্তি সংগঠন থেকে এক বিঘত পরিমাণ দূরে সরে গেল এবং এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল, সে যেন জাহেলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল। (বুখারি : বাবু কাওলিন নাবিয়্যি ছা-তারাওনা বাদি উমুরান তুনকিরুনাহা, ৬৫৩১)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ كُنَّا إِذَا بَايَعْنَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ عَلٰى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ يَقُوْلُ لَنَا فِيْمَا اسْتَطَعْتُمْ- (بُخَارِيْ : بَابُ كَيْفَ يُبَايَعُ الْاِمَامُ النَّاسَ)

৭. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর "    হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ  #   এর নিকট শ্রবণ করা ও আনুগত্য করার ওপর বাইয়াত গ্রহণ করতাম, তখন তিনি আমাদের বলতেন, তোমরা সাধ্যমত আনুগত্য করবে। (বুখারি : বাবু কাইফা ইউবায়িয়ুল ইমামুন নাসা, ৬৬৬২)

عَنْ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ وَعَظَنَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ   مَوْعِظَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُوْنُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوْبُ فَقُلْنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ هذِه لَمَوْعِظَةُ مُوَدَّعٍ فَمَاذَا تَعْهَدُ اِلَيْنَا قَالَ قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا لَا يَزِيْغُ عَنْهَا بَعْدِىْ إِلَّا هَالِكٌ مَنْ يَّعِشْ مِنْكُمْ فَسَيَرَى اِخْتِلَافًا كَثِيْرًا فَعَلَيْكُمْ بِمَا عَرَفْتُمْ مِنْ سُنَّتِىْ وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّيْنَ عَضُّوْ عَلَيْهَا بِالنَّواجِذِ وَ عَلَيْكُمْ بِالطَّاعَةِ وَ اِنْ عَبْدًا حَبْشِيًّا فَإِنَّمَا الْمُؤْمِنُ كَالْجَمَلِ الْأَنِفِ حَيْثُمَا قِيْدَ اِنْقَادَ- (اِبْنُ مَاجَة : بَابُ اِتَّبَاعِ سُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّيْنَ)

৮. হজরত ইরবায ইবনে সারিয়া "  বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ #    আমাদের সামনে এক (হৃদয়গ্রাহী) বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এতে চক্ষুগুলো অশ্রু প্রবাহিত করেছে আর অন্তরগুলো কেঁপে উঠেছে। তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! (আমাদের মনে হচ্ছে) এটা বিদায়ী নসীহত! আমাদের থেকে আপনি কী প্রতিশ্রুতি কামনা করেন? তিনি বললেন, আমি তোমাদের এমন শুভ্রতার ওপর রেখে যাচ্ছি যার রাত্রি দিনের মতই স্বচ্ছ। আমার পর ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি ছাড়া কেউ এ থেকে বিচ্যুত হবে না। তোমাদের মধ্য থেকে যে জীবিত থাকবে সে অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের দায়িত্ব হবে আমার এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শকে আঁকড়ে ধরা, তোমরা দাঁত দিয়ে তা কামড়িয়ে ধরবে। (এ আদর্শের ওপর অটল থাকবে।) আর তোমাদের উচিৎ নেতার আনুগত্য করা, যদিও সে হাবশী গোলাম হয়। কেননা মুমিন হচ্ছে লাগাম লাগানো উটের মত, যেখানেই তাকে বাঁধা হয়, সেখানেই বশীভূত হয়। (ইবনে মাজাহ : বাবু ইত্তিবায়ি সুন্নাতিল খুলাফায়ির রাশিদীনাল মাহদিয়্যীন, ৪৩)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَال رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله ﷺ   عَلَيْكَ السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ فِيْ عُسْرِكَ وَيُسْرِكَ وَمَنْشَطِكَ وَمَكْرَهِكَ وَأَثَرَةٍ عَلَيْكَ- (مُسْلِمْ : بَابُ وُجُوْبِ طَاعَةِ الْاُمَرَاءِ فِيْ غَيْرِ مَعْصِيَةٍ وَتَحْرِيْمِهَا فِيْ الْمَعْصِيَةِ)

৮. হজরত আবু হুরায়রা "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, সুদিনে ও দুর্দিনে, সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টিতে এবং তোমার অধিকার খর্ব হওয়ার ক্ষেত্রেও শ্রবণ করা ও আনুগত্য করা তোমার জন্য অপরিহার্য। (মুসলিম : বাবু উযুবি তায়াতিল উমারা ফী গাইরি মা‘সিয়াতিন, ৩৪১৯)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ اَطَاعَنِىْ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ عَصَانِىْ فَقَدْ اَبىٰ-

৯. হজরত আবু হুরায়রা "     থেকে বর্ণিত, রাসূল  #    বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল। আর যে ব্যক্তি আমার বিরোধীতা করল সে যেন আমাকে অস্বীকার করল। (বুখারি শরীফ)








২২. পরামর্শ : اَلشُّوْرٰى


আল-কুরআন

فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللهِ لِنْتَ لَهُمْ  وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِیْظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوْا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِی الْاَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَکَّلْ عَلٰی اللهِ إِنَّ اللهَ یُحِبُّ الْمُتَوَکِّلِیْنَ 

১. হে রাসূল! এটা আল্লাহর বড়ই রহমত যে, আপনি এসব লোকের জন্য খুব নরম মনের হয়েছেন। তা না হয়ে যদি আপনি কড়া ও পাষাণ মনের অধিকারী হতেন তাহলে তারা সবাই আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত। তাদের দোষ মাফ করে দিন, তাদের পক্ষে মাগফিরাতের দোয়া করুন এবং দীনের কাজে তাদের সাথে পরামর্শ করুন। তারপর যখন আপনি কোনো মতের ওপর মজবুত সিদ্ধান্তে পৌঁছেন তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করুন। আল্লাহ ঐসব লোককে ভালোবাসেন, যারা তাঁরই ভরসায় কাজ করে। (সূরা আলে ইমরান-০৩: ১৫৯)

وَ الَّذِیْنَ اسْتَجَابُوْا لِرَبِّهِمْ وَ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَ اَمْرُهُمْ شُوْرٰی بَیْنَهُمْ وَ مِمَّا رَزَقْنٰهُمْ یُنْفِقُوْنَ 

২. আর যারা তাদের রবের হুকুম মেনে চলে ও নামাজ কায়েম করে নিজেদের সব কাজ পরস্পর পরামর্শের ভিত্তিতে চালায় এবং তাদেরকে যে রিজিক দেয়া হয়েছে তা থেকে খরচ করে। (সূরা শুরা-৪২: ৩৮)

لَا خَیْرَ فِیْ کَثِیْرٍ مِّنْ نَّجْوٰىهُمْ  إِلَّا مَنْ اَمَرَ بِصَدَقَةٍ اَوْ مَعْرُوْفٍ اَوْ اِصْلَاحٍ  بَیْنَ النَّاسِ وَمَنْ یَّفْعَلْ ذٰلِكَ ابْتِغَآءَ مَرْضَاتِ اللهِ فَسَوْفَ نُؤْتِیْـهِ اَجْرًا عَظِیْمًا 

৩. তাদের বেশির ভাগ গোপন শলা-পরামর্শেই কোন মঙ্গল থাকে না অবশ্য যদি কেউ গোপনে কাউকে দান-খয়রাত করার জন্য আদেশ করে অথবা কোন কাজ অথবা জনগণের মধ্যে সংশোধনমূলক কাজের তাগিদ দেয় (তাহলে তা ভাল) আর যদি কেউ এসব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করে তাহলে তাকে আমি বিরাট প্রতিদান দেবো। (সূরা নিসা-৪:১১৪) 

وَ الْوَالِدٰتُ یُرْضِعْنَ اَوْلَادَهُنَّ حَوْلَیْنِ كَامِلَیْنِ لِمَنْ اَرَادَ أَنْ یُّتِمَّ الرَّضَاعَةَ وَ عَلَی الْمَوْلُوْدِ لَهٗ رِزْقُهُنَّ وَ كِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ لَا تُكَلَّفُ نَفْسٌ إِلَّا وُسْعَهَا لَا تُضَآرَّ وَالِدَةٌۢ بِوَلَدِهَا وَ لَا مَوْلُوْدٌ لَّهٗ بِوَلَدِهٖ وَ عَلَی الْوَارِثِ مِثْلُ ذٰلِكَ ۚ فَاِنْ اَرَادَا فِصَالًا عَنْ تَرَاضٍ مِّنْهُمَا وَ تَشَاوُرٍ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْهِمَا وَ اِنْ اَرَدْتُّمْ أَنْ تَسْتَرْضِعُوْۤا اَوْلَادَكُمْ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْكُمْ إِذَا سَلَّمْتُمْ مَّاۤ اٰتَیْتُمْ بِالْمَعْرُوْفِ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ وَ اعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ.

৪. আর মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে, (এটা) তার জন্য যে দুধ পান করাবার সময় পূর্ণ করতে চায়। আর পিতার ওপর কর্তব্য, বিধি মোতাবেক মায়েদেরকে খাবার ও পোশাক প্রদান করা। সাধ্যের অতিরিক্ত কোন ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান করা হয় না। কষ্ট দেয়া যাবে না কোন মাকে তার সন্তানের জন্য, কিংবা কোন বাবাকে তার সন্তানের জন্য। আর ওয়ারিশের ওপর রয়েছে অনুরূপ দায়িত্ব। অতপর তারা যদি পরস্পর সম্মতি ও পরামর্শের মাধ্যমে দুধ ছাড়াতে চায়, তাহলে তাদের কোন পাপ হবে না। আর যদি তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে অন্য কারো থেকে দুধ পান করাতে চাও, তাহলেও তোমাদের ওপর কোন পাপ নেই, যদি তোমরা বিধি মোতাবেক তাদেরকে যা দেবার তা দিয়ে দাও। আর তোমরা আল্ল¬াহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্ল¬াহ তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা। (সূরা বাকারা-২ : ৩৩)









আল হাদিস

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺإِذَا كَانَ أُمَرَا ئُكُمْ خِيَارَكُمْ وَ اَغْنِيَاؤُكُمْ سُمَحَائَـكُمْ وَ أُمُوْرُكُمْ شُوْرٰى بَيْنَكُمْ فَظَهْرُ الْاَرْضَ خَيْرٌ لَّكُمْ مِنْ بَطْنِهَا وَ إِذَا كَانَ اُمَرَائُكُمْ شِرَارَكُمْ وَاَغْنِيَاؤُكُمْ بُخَلَائَـكُمْ وَ اُمُوْرُكُمْ إِلٰى نِسَائِكُمْ فَبَطْنُ الْارْضِ خَيْرٌ لَّكُمْ مِنْ ظَهْرِهَا ـ (تِرْمِذِيْ : بَابَ مَا جَاءَ فِي النَّهْىِ عَنْ سَبِّ الرِّيَاحِ ، ضَعَّفَهُ الْاَلْبَانِىْ)

১. হজরত আবু হুরায়রা "  থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ #   বলেছেন, যখন তোমাদের নেতারা হবেন ভালো মানুষ, ধনীরা হবেন দানশীল এবং তোমাদের কার্যক্রম চলবে পরামর্শের ভিত্তিতে তখন মাটির উপরিভাগ নিচের ভাগ হতে উত্তম হবে। আর যখন তোমাদের নেতারা হবে খারাপ লোক, ধনীরা হবে কৃপণ এবং নেতৃত্ব যাবে নারীদের হাতে, তখন পৃথিবীর উপরের অংশের চেয়ে নিচের অংশ হবে উত্তম। (তিরমিজি : বাবু মা জা’আ ফিন নাহি আন সাব্বির রিয়াহি, ২১৯২, আলবানী একে দুর্বল বলেছেন)

عَنْ عَائِشَةَ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺخَطَبَ النَّاسَ فَحَمِدَ الله وَ اَثْنٰى عَلَيْهِ وَ قَالَ مَا تُشِيْرُوْنَ عَلَىَّ فِيْ قَوْمٍ يَسُبُّوْنَ أَهْلِىْ مَا عَلِمْتُ عَلَيْهِمْ مِنْ سُوْءٍ قَطْ ـ (بُخَارِيْ : بَابَ قَوْلِ اللهِ تَعَالٰى (وَاَمْرُهُمْ شُوْرٰى بَيْنَهُمْ)

২. হজরত আয়েশা "   থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ #   লোকদের সামনে খুতবা দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পরে তিনি বললেন, যারা আমার পরিবারের কুৎসা করে বেড়াচ্ছে, তাদের সম্পর্কে আমার প্রতি তোমাদের কী পরামর্শ আছে? আমি কখনও তাদের মধ্যে কোনরূপ মন্দ কিছু দেখি নাই। (বুখারি: বাবু ক্বাওলিল্লাহি তাআলা ‘ওয়া আমরুহুম শুরা বাইনাহুম’ ৬৮২২)


২৩. ইহতেসাব : اَلْاِحْتِسَابُ

আল-কুরআন

اِقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِیْ غَفْلَةٍ  مُّعْرِضُوْنَ  

১. লোকদের হিসাব-নিকাশের সময় খুব কাছে এসে গেছে। অথচ তারা গাফলতির মধ্যে পড়ে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। (সূরা আম্বিয়া-২১: ১)

وَ لَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَجَعَلَكُمْ اُمَّةً وَّاحِدَةً وَّ لٰكِنْ یُّضِلُّ مَنْ یَّشَآءُ وَ یَهْدِیْ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ لَتُسْئَلُنَّ عَمَّا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ.

২. আল্লাহর যদি এটাই ইচ্ছা হতো (যে, তোমাদের মধ্যে কোনো রকম মতভেদ না হোক) তাহলে তোমাদেরকে তিনি একই উম্মত বানিয়ে দিতেন। কিন্তু যাকে ইচ্ছা তিনি গোমরাহ করেন, আর যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দেন। আর অবশ্যই তোমাদের সব আমল সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। (সূরা নাহল-১৬ : ৯৩)

وَ إِنَّه  لَذِكْرٌ لَّكَ وَ لِقَوْمِكَ وَ سَوْفَ تُسْئُلُوْنَ .

৩. আসলে সত্য হলো, এ কিতাব আপনার ও আপনার কওমের জন্য বিরাট মর্যাদার বিষয় এবং এ জন্য তোমাদেরকে শিগগিরই জবাবদিহি করতে হবে। (সূরা যুখরুফ-৪৩: ৪৪)

إِنَّ  اِلَیْنَا  اِیَابَهُمْ ক্স ثُمَّ  إِنَّ  عَلَیْنَا حِسَابَهُمْ .

৪. এদেরকে আমারই দিকে ফিরে আসতে হবে। এরপর তাদের হিসাব নেয়া আমারই দায়িত্ব। (সূরা গাশিয়াহ, ৮৮: ২৫-২৬)

ثُمَّ لَتُسْـئَلُنَّ یَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِیْمِ.

৫. তারপর সেদিন (দুনিয়ার সব) নিয়ামত সম্বন্ধে অবশ্যই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে। (সূরা তাকাসুর-১০২: ৮)

فَلَنَسْـَٔلَنَّ الَّذِیْنَ اُرْسِلَ اِلَیْهِمْ وَ لَنَسْئَلَنَّ الْمُرْسَلِیْنَ.

৬. সুতরাং আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করব যাদের নিকট রাসূল প্রেরিত হয়েছিল এবং অবশ্যই আমি প্রেরিতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। (সূরা আরাফ-৭ : ৬)


আল হাদিস

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ اَنَّهُ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْئُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَالْاِمَامُ رَاعٍ وَهُوَ مَسْئُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِه وَالرَّجُلُ فِيْ اَهْلِه رَاعٍ وَهُوَ مَسْئُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالْمَرْئَةُ فِيْ بَيْتِ زَوْجِهَا رَاعِيَةٌ وَهِىَ مَسْئُوْلٌ رَعِيَّتِهَا وَالْخَادِمُ فِيْ مَالِ سَيِّدِه رَاعٍ وَهُوَ مَسْئُوْلٌ رَعِيَّتِهِ قَالَ فَسَمِعْتُ هٰؤُلَاءِ مِنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَاَحْسِبُ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ وَالرَّجُلُ فِيْ مَالِ اَبِيْهِ رَاعٍ وَهُوَ مَسْئُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِه- (بُخَارِيْ : بَابُ الْعَبْجِ رَاعٍ فِيْ مَالِ سَيِّدِهِ وَلَا يَعْمَلُ إِلَّا بِاِذْنِه)

১. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর "   থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ #   কে বলতে শুনেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই যার যার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। শাসক একজন দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল, তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। স্ত্রী স্বামীর সংসারের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। আর চাকর তার মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। সেও তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। ইবনে ওমর "    বলেন, আমি এ কথাগুলো রাসূলুল্লাহ #    থেকে শুনেছি। আমার ধারণা হচ্ছে তিনি এ কথাও বলেছেন, কোন ব্যক্তি তার পিতার সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। সেও তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আর প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। (বুখারি : বাবুল আবদে রায়িন ফী মালি সায়্যিদিহি, ২২৩২)






২৪. সবর : اَلصَّبْرُ

আল-কুরআন

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اسْتَعِیْنُوْا بِالصَّبْرِ وَ الصَّلٰوةِ إِنَّ اللّٰهَ مَعَ الصّٰبِرِیْنَ.

১. হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্ল¬াহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। (সূরা বাকারা-২ : ১৫৩)

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اصْبِرُوْا وَ صَابِرُوْا وَ رَابِطُوْا وَ اتَّقُوْا اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ.

২. হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধর ও ধৈর্যে অটল থাক এবং পাহারায় নিয়োজিত থাক। আর আল্ল¬াহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও। (সূরা নাহল-১৬ : ৯৩)

فَاصْبِرْ صَبْرًا جَمِیْلًا

৩. অতএব তুমি উত্তমরূপে ধৈর্যধারণ কর।  (সূরা মা’আরিজ-৭০ : ৫)

وَ اصْبِرْ وَ مَا صَبْرُكَ إِلَّا بِاللّٰهِ وَ لَا تَحْزَنْ عَلَیْهِمْ وَ لَا تَكُ فِیْ ضَیْقٍ مِّمَّا یَمْكُرُوْنَ

৪. ধৈর্যের সাথে কাজ করতে থাক। তোমার এ সবর আল্লাহরই তাওফিকের ফল। তাদের কার্যকলাপে দুঃখবোধ করো না এবং তারা যত চালবাজি করছে তাতে মন ছোট করো না। (সূরা নাহল, ১৬ : ১২৭)

فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ اُولُوا الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ وَ لَا تَسْتَعْجِلْ لَّهُمْ كَاَنَّهُمْ یَوْمَ یَرَوْنَ مَا یُوْعَدُوْنَ لَمْ یَلْبَثُوْۤا إِلَّا سَاعَةً مِّنْ نَّهَارٍ بَلٰغٌ فَهَلْ یُهْلَكُ إِلَّا الْقَوْمُ الْفٰسِقُوْنَ.

৫. অতএব তুমি ধৈর্যধারণ কর, যেমন ধৈর্যধারণ করেছিল সুদৃঢ় সংকল্পের অধিকারী রাসূলগণ। আর তাদের জন্য তাড়াহুড়া করো না। তাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল, যেদিন তারা তা প্রত্যক্ষ করবে, মনে হবে তারা পৃথিবীতে এক দিনের কিছু সময় অবস্থান করেছে। সুতরাং এটা এক ঘোষণা, তাই পাপাচারী কওমকেই ধ্বংস করা হবে।  (সূরা আহকাফ-৪৬ : ৩৫)

وَ لَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِّنْ قَبْلِكَ فَصَبَرُوْا عَلٰی مَا كُذِّبُوْا وَ اُوْذُوْا حَتّٰی اَتٰىهُمْ نَصْرُنَا وَ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمٰتِ اللّٰهِ وَ لَقَدْ جَآءَكَ مِنْ نَّبَاِی الْمُرْسَلِیْنَ.

৬. আর অবশ্যই তোমার পূর্বে অনেক রাসূলকে অস্বীকার করা হয়েছে, অতপর তারা তাদেরকে অস্বীকার করা ও কষ্ট দেয়ার ক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করেছে, যতক্ষণ না আমার সাহায্য তাদের কাছে এসেছে। আর আল্লাহর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তনকারী নেই এবং অবশ্যই রাসূলগণের কিছু সংবাদ তোমার কাছে এসেছে। (সূরা আনআম-৬ : ৩৪)

یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِیْنَ عَلَی الْقِتَالِ اِنْ یَّكُنْ مِّنْكُمْ عِشْرُوْنَ صٰبِرُوْنَ یَغْلِبُوْا مِائَتَیْنِ وَ اِنْ یَّكُنْ مِّنْكُمْ مِّائَةٌ یَّغْلِبُوْۤا اَلْفًا مِّنَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا یَفْقَهُوْنَ.

৭. হে নবি, তুমি মুমিনদেরকে লড়াইয়ে উৎসাহ দাও, যদি তোমাদের মধ্য থেকে বিশজন ধৈর্যশীল থাকে, তারা দু’শ জনকে পরাস্ত করবে, আর যদি তোমাদের মধ্যে একশ’ জন থাকে, তারা কাফিরদের এক হাজার জনকে পরাস্ত করবে। কারণ, তারা (কাফিররা) এমন কওম যারা বুঝে না। (সূরা আনফাল-৮ : ৬৫)

فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَ لَا تَكُنْ كَصَاحِبِ الْحُوْتِ اِذْ نَادٰی وَ هُوَ مَكْظُوْمٌ.

৮. অতএব তুমি তোমার রবের হুকুমের জন্য ধৈর্যধারণ কর। আর তুমি মাছওয়ালার মত হয়ো না, যখন সে দুঃখে কাতর হয়ে ডেকেছিল। (সূরা কালাম-৬৮ : ৪৮)

وَ ذَرْنِیْ وَ الْمُكَذِّبِیْنَ اُولِی النَّعْمَةِ وَ مَهِّلْهُمْ قَلِیْلًا.

৯. আর ছেড়ে দাও আমাকে এবং বিলাস সামগ্রীর অধিকারী মিথ্যারোপকারীদেরকে। আর তাদেরকে কিছুকাল অবকাশ দাও। (সূরা মুয্যাম্মিল-৭৩ : ১১)




আল হাদিস

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَيْسَ الشَّدِيْدُ بِالصُّرْعَةِ إِنَّمَا الشَّدِيْدُ الَّذِيْ يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ- (بُخَارِيْ : بَابُ الْحَذَرِ مِنَ الْغَضَبِ، مُسْلِمْ : بَابُ فَضْلِ مَنْ يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ)

১. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ #   বলেছেন, যে  ব্যক্তি লোককে কুস্তিতে হারিয়ে দেয় সে বাহাদুর নয়, বরং প্রকৃত বাহাদুর তো সেই যে রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। (বুখারি : বাবুল হাযারি মিনাল গাদাবি, ৫৬৪৯, মুসলিম : বাবু ফাদলি মান ইয়ামলিকু নাফসাহু ইনদাল গাদাবি, ৪৭২৩)

عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَاْتِىْ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ اَلصَّابِرُ فِيْهِمْ عَلَى دِيْنِه كَالْقَابِضِ عَلٰى الْجَمْرِ- (تِرْمِذِيْ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ النَّهْىِ عَنْ سَبِّ الرِّيَاحِ)

২. হজরত আনাস ইবনে মালেক "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ #   বলেছেন, মানুষের নিকট এমন একটি সময় আসবে, যখন দীনের ওপর অবিচল ব্যক্তির দৃষ্টান্ত হবে হাতে জ্বলন্ত কয়লা ধারণকারী ব্যক্তির মত। (তিরমিজি : বাবু মা জা আ ফিন নাহয়ি আন সাব্বির রিয়াহ, ২১৮৬)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ اَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِىِّ اللهِ ﷺ اَوْصِنِىْ قَالَ لَا تَغْضَبْ فَرَدَّدَ مِرَارًا قَالَ لَا تَغْضَبْ- (بُخَارِيْ : بَابُ الْحَذَرِ مِنَ الْغَضَبِ)

৩. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবি  #   কে বলল, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি (রাসূল) বললেন, রাগ করো না। সে ব্যক্তি বারবার একই কথা বলতে থাকল আর নবি #    ও প্রতিবার বলেন, রাগ করো না। (বুখারি  : বাবুল হাযারে মিনাল গাদবি, ৫৬৫১)

عَنْ صُهَيْبٍ قَال قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَجَبًا لِاَمْرِ الْمُؤْمِنِ اَنَّ اَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لِاَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ اِنْ اَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَّه وَاِنْ اَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَه- (مُسْلِمْ : بَابُ الْمُؤْمِنِ اَمْرُهُ كُلُّهُ خَيْرٌ)

৪. হজরত সুহাইব "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ #    বলেছেন, মুমিনের ব্যাপারটা আশ্চর্যজনক। তার সমস্ত কাজই কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্যের ব্যাপার এরূপ নয়। তার জন্য আনন্দের কোন কিছু হলে সে আল্লাহর শোকর করে। তাতে তার মঙ্গল হয়। আবার ক্ষতিকর কিছু হলে সে ধৈর্য ধারণ করে, এটাও তার জন্য কল্যাণকর। (মুসলিম : বাবুল মুমিনি আমরুহু কুল্লুহ খাইর, ৫৩১৮)

عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَال قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا تَجَرَّعَ عَبْدٌ جَرْعَةً اَفْضَلَ عِنْدَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ جَرْعَةِ غَيْظٍ يَكْظِمُهَا اِبْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ تَعَالٰى- (اَحْمَدْ : مُسْنَدُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ)

৫. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল  #    বলেছেন, মানুষ যেসব বস্তুর ঢোক গ্রহণ করে তন্মধ্যে সেই ঢোকটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে উত্তম যেটি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্যে মানুষ গ্রহণ করে থাকে। (আহমাদ : মুসনাদে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর, ৫৮৪০)

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِىْ اَنَّ نَاسًا مِنَ الْأَنْصَارِ سَاَلُوْا  رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَاَعْطَاهُمْ ثُمَّ سَاَلُوْهُ فَاعْطَاهُمْ حَتّٰى إِذَا نَفِدَ مَا عِنْدَهُ قَالَ مَا يَكُنْ عِنْدِىْ مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ اَدَّخِرُه عَنْكُمْ وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللهُ وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللهُ وَمَنْ يَصْبِرْ يُصَبِّرْهُ اللهُ وَمَا اُعْطِىَ اَحَدٌ مِنْ عَطَاءٍ خَيْرٌ وَاَوْسَعُ مِنَ الصَّبْرِ- (مُسْلِمْ : بَابُ فَضْلِ التَّعَفُّفِ وَالصَّبْرِ)

৬. হজরত আবু সাঈদ খুদরী "   থেকে বর্ণিত। আনসারদের মধ্যে কিছু লোক রাসূলুল্লাহ  #    এর নিকট (কিছু সম্পদ) চাইলেন। তিনি তাদেরকে দিলেন। অতপর তারা আবারো চাইল তখন তিনি তাদেরকে দিলেন। এমনকি তাঁর নিকট যা ছিল, যখন তা শেষ হয়ে গেল তখন তিনি বললেন, আমার নিকট যখনি কোন সম্পদ থাকে তোমাদেরকে না দিয়ে তা আমি জমিয়ে রাখি না। আর যে ব্যক্তি চাওয়া থেকে মুক্ত থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে মুক্ত রাখেন। আর যে ব্যক্তি ধৈর্য্য ধারণের চেষ্টা করে আল্লাহ তাকে ধৈর্যের শক্তি দান করেন। কোন ব্যক্তিকে কল্যাণকর যা দেয়া হয়, তন্মধ্যে ধৈর্যই সবচেয়ে উত্তম ও প্রশস্ত। (মুসলিম : বাবু ফাদলিত তায়াফ্ফুফি ওয়াস সাবরি, ১৭৪৫)

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِىْ وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ ﷺ قَالَ مَا يُصِيْبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلَا وَصَبٍ وَلَا هَمٍّ وَلَا حُزْنٍ وَلَا اَذًى وَلَا غَمٍّ حَتّٰى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا إِلَّا كَفَّرَ اللهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ- (بُخَارِيْ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ كَفَّارَةِ الْمَرَضِ)

৭. হজরত আবু সাঈদ খুদরী "   ও আবু হুরায়রা "    থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, কোনো মুসলিম ব্যক্তি মানষিক বা শারীরিক কষ্ট পেলে, কোন শোক বা দুঃখ পেলে, অথবা চিন্তাগ্রস্থ হলে (সে যদি ধৈর্যধারণ করে তাহলে) প্রতিদানে আল্লাহ তাআলা তার সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন। এমনকি যদি সামান্য একটি কাঁটাও পায়ে বিঁধে তাও তার গুনাহ মাফের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। (বুখারি : বাবু মা জা আ ফি কাফফারাতিল মারাদি, ৫২১০)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا يَزَالُ الْبَلَاءُ بِالْمُؤْمِنِ وَالْمُؤْمِنَةِ فِيْ نَفْسِه وَوَلَدِه وَمَالِه حَتّٰى يَلْقٰى اللهَ وَمَا عَلَيْهِ خَطِيْئَةٌ- (تِرْمِذِيْ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ الصَّبْرِ عَلٰى الْبَلَاءِ)

৮. হজরত আবু হুরায়রা "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, মুমিন নর নারীর জান, মাল ও সন্তানের ওপর বিপদ আপদ আসতেই থাকে, অবশেষে আল্লাহর সাথে সে সাক্ষাৎ করে এমন অবস্থায় যে, তার আর কোন গুনাহ থাকে না। (তিরমিজি : বাবু মা জা আ ফিস সাবরি আলাল বালায়ি, ২৩২৩)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ يَقُوْلُ اللهُ تَعَالٰى مَا لِعَبْدِىْ الْمُؤْمِنِ عِنْدِىْ جَزَاءٌ إِذَا قَبَضْتُ صَفِيَّه مِنْ اَهْلِ الدُّنْيَا ثُمَّ احْتَسَبَهُ إِلَّا الْجَنَّةُ- (بُخَارِيْ : بَابُ الْعَمَلِ الَّذِيْ يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللهِ فِيْهِ سَعْدٌ)

৯. হজরত আবু হুরায়রা "    থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার মুমিন বান্দাহর জন্য আমার নিকট জান্নাত ছাড়া আর কোন পুরস্কার নেই, যখন আমি দুনিয়া থেকে তার প্রিয়জন নিয়ে নেই আর সে সাওয়াবের আশায় ধৈর্যধারণ করে। (বুখারি : বাবুল আমালিল লাজি ইউবতাগা বিহি ওয়াজহুল্লাহ, ৫৯৪৪)

عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِىَّ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ اللهَ قَالَ إِذَا ابْتَلَيْتُ عَبْدِىْ بِحَبِيْبَتَيْهِ فَصَبَرَ عَوَّضْتُهُ مِنْهُمَا الْجَنَّةَ يُرِيدُ عَيْنَيْهِ- (بُخَارِيْ : بَابُ فَضْلِ مَنْ ذَهَبَ بَصَرُهُ)

১০. হজরত আনাস ইবনে মালেক "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  #    কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি যখন আমার বান্দাহকে তার দুটি প্রিয় বস্তুর মাধ্যমে পরীক্ষা করি অর্থাৎ তার দুটি চোখের দৃষ্টি শক্তি নষ্ট করে দেই, আর তাতে সে সবর করে, তখন আমি তাকে এর বিনিময়ে জান্নাত দান করি। (বুখারি : বাবু ফাদলি মান যাহাবা বাসারুহু, ৫২২১)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ يُّرِيْدُ اللهُ بِه خَيْرًا يُصِبْ مِنْهُ- (بُخَارِيْ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ كَفَّارَةِ الْمَرَضِ)

১১. হজরত আবু হুরায়রা "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে বিপদে ফেলেন। (বাবু মা জা আ ফি কাফফারাতিল মারাদি, ৫২১৩)

عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدٌ مِنْكُمْ الْمَوْتَ لِضُرِّ نَزَلَ بِهِ فَاِنْ كَانَ لَا بُدَّ مُتَمَنِّيًا لِلْمَوْتِ فَلْيَقُلْ اَللّٰهُمَّ اَحْيِنِىْ مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِّىْ وَتَوَفَّنِىْ إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِّىْ- (بُخَارِيْ : بَابُ الدُّعَاءِ بِالْمَوْتِ وَالْحَيَاةِ)

১২. হজরত আনাস "    থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, তোমাদের কারও কোন বিপদ বা কষ্ট হলে সে যেন মৃত্যু কামনা না করে। যদি কেউ এরূপ করতেই চায়, সে যেন বলে হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জীবিত রাখ যতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত থাকা আমার জন্য কল্যাণকর। যখন আমার জন্য মৃত্যু কল্যাণকর তখন আমাকে মৃত্যু দাও। (বুখারি ; বাবুদ দুয়ায়ি বিল মাওতি ওয়াল হায়াতি, ৫৮৭৪)






















২৫. আত-তাওয়াক্কুল বিল্লাহ :  اَلتَّوَكُّلْ بِاللهِ

আল-কুরআন

وَّ یَرْزُقْهُ مِنْ حَیْثُ لَا یَحْتَسِبُ وَ مَنْ یَّتَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ فَهُوَ حَسْبُهٗ إِنَّ اللّٰهَ بَالِغُ اَمْرِهٖ ؕ قَدْ جَعَلَ اللّٰهُ لِكُلِّ شَیْءٍ قَدْرًا.

১. এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। (সূরা তালাক-৬৫ : ৩)

فَسَتَذْكُرُوْنَ مَاۤ اَقُوْلُ لَكُمْ وَ اُفَوِّضُ اَمْرِیْۤ اِلَی اللّٰهِ إِنَّ اللّٰهَ بَصِیْرٌۢ بِالْعِبَادِ.

২. আমি তোমাদেরকে যা বলছি, অচিরেই তোমরা তা স্মরণ করবে। আর আমার বিষয়টি আমি আল্ল¬াহর নিকট সমর্পণ করছি; নিশ্চয় আল্ল¬াহ তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে সর্বদ্রষ্টা। (সূরা মুমিন-৪০ : ৪৪)

اَلَّذِیْنَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوْا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ اِیْمَانًا وَّ قَالُوْا حَسْبُنَا اللّٰهُ وَ نِعْمَ الْوَكِیْلُ.

৩. যাদেরকে মানুষেরা বলেছিল যে, ‘নিশ্চয় লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে একত্র হয়েছে। সুতরাং তাদেরকে ভয় কর’। কিন্তু তা তাদের ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক’!  (সূরা আলে ইমরান-৩ : ১৭৩)

قَدْ كَانَتْ لَكُمْ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِیْۤ اِبْرٰهِیْمَ وَ الَّذِیْنَ مَعَهٗ اِذْ قَالُوْا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَءٰٓؤُا مِنْكُمْ وَ مِمَّا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَ بَدَا بَیْنَنَا وَ بَیْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَ الْبَغْضَآءُ اَبَدًا حَتّٰی تُؤْمِنُوْا بِاللّٰهِ وَحْدَهٗۤ إِلَّا قَوْلَ اِبْرٰهِیْمَ لِاَبِیْهِ لَاَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ وَ مَاۤ اَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللّٰهِ مِنْ شَیْءٍ رَبَّنَا عَلَیْكَ تَوَكَّلْنَا وَ اِلَیْكَ اَنَبْنَا وَ اِلَیْكَ الْمَصِیْرُ.

৪. ইবরাহীম ও তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। তারা যখন স্বীয় সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যা কিছুর উপাসনা কর তা হতে আমরা সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি; এবং উদ্রেক হল আমাদের-তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য; যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আন। তবে স্বীয় পিতার প্রতি ইবরাহীমের উক্তিটি ব্যতিক্রম: ‘আমি অবশ্যই তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব আর তোমার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আমি কোন অধিকার রাখি না।’ হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা আপনার ওপরই ভরসা করি, আপনারই অভিমুখী হই আর প্র্রত্যাবর্তন তো আপনারই কাছে। (সূরা মুমতাহিনা, ৬০ : ৪)

وَّ تَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ وَ كَفٰی بِاللّٰهِ وَكِیْلًا.

৫. আর তুমি আল্ল¬াহর ওপর তাওয়াক্কুল কর এবং কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। (সূরা আহযাব-৩৩ : ৩)

فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللّٰهِ لِنْتَ لَهُمْ ۚ وَ لَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِیْظَ الْقَلْبِ لَا نْفَضُّوْا مِنْ حَوْلِكَ ۪ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَ اسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَ شَاوِرْهُمْ فِی الْاَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ إِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِیْنَ.

৬. অতপর আল্ল¬াহর পক্ষ থেকে রহমতের কারণে তুমি তাদের জন্য নম্র হয়েছিলে। আর যদি তুমি কঠোর স্বভাবের, কঠিন হৃদয়সম্পন্ন হতে, তবে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমা কর এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরার্মশ কর। অতপর যখন সংকল্প করবে তখন আল্ল¬াহর ওপর তাওয়াক্কুল করবে। নিশ্চয় আল্ল¬াহ তাওয়াক্কুলকারীদেরকে ভালবাসেন। (সূরা আলে ইমরান-৩ : ১৫৯)

وَ لَىِٕنْ سَاَلْتَهُمْ مَّنْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ لَیَقُوْلُنَّ اللّٰهُ قُلْ اَفَرَءَیْتُمْ مَّا تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اِنْ اَرَادَنِیَ اللّٰهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كٰشِفٰتُ ضُرِّهٖۤ اَوْ اَرَادَنِیْ بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكٰتُ رَحْمَتِهٖ قُلْ حَسْبِیَ اللّٰهُ عَلَیْهِ یَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُوْنَ.

৭. আর তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে ‘আল্ল¬াহ’। বল, ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছÑ আল্ল¬াহ আমার কোন ক্ষতি চাইলে তোমরা আল্ল¬াহর পরিবর্তে যাদের ডাক তারা কি সেই ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমাকে রহমত করতে চাইলে তারা সেই রহমত প্রতিরোধ করতে পারবে’? বল, ‘আমার জন্য আল্ল¬াহই যথেষ্ট’। তাওয়াক্কুলকারীগণ তাঁর ওপরই তাওয়াক্কুল করে। (সূরা যুমার-৩৯ : ৩৮)

قُلْ یٰعِبَادِیَ الَّذِیْنَ اَسْرَفُوْا عَلٰی أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا مِنْ رَّحْمَةِ اللّٰهِ إِنَّ اللّٰهَ یَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِیْعًا إِنَّهٗ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِیْمُ.

৮. বল, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্ল-াহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্ল¬াহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’। (সূরা যুমার-৩৯ : ৫৩)


আল হাদিস

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ اَنَّهُ سَمِعَ نَبِىَّ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ لَوْ اَنَّكُمْ تَتَوَكَّلُوْنَ عَلٰى اللهِ حَقَّ تَوَكَّلِه لَرَزَقَكُمْ كَمَا يَرْزُقُ الطَّيْرَ تَغْدُوْ خِمَاصًا وَتَرُوْحُ بِطَانًا- (اَحْمَدُ : اَوَّلُ مُسْنَدِ عُمَرَ)

১. হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব "   থেকে বর্ণিত। তিনি নবি কারীম #    কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যদি সত্যিকারভাবে আল্লাহর ওপর ভরসা কর তবে তিনি পাখিদের মতই তোমাদের রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। প্রত্যুষে পাখিরা খালি পেটে বেরিয়ে যায় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে। (আহমদ : আওয়ালু মুসনাদে ওমর, ২০০)

عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ اَعْقِلُهَا وَاَتَوَكَّلُ اَوْ اُطَلِّقُهَا وَاَتَوَكَّلُ قَالَ اِعْقِلْهَا وَتَوَكَّلْ- (تِرْمِذِيْ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ صِفَةِ اَوَانِىْ الْحَوْضِ)

২. হজরত আনাস ইবনে মালেক "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল #   ! আমি কি উট বেঁধে রেখে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করব, না বন্ধনমুক্ত করে? তিনি বললেন, উট বেঁধে নাও, অতপর আল্লাহর ওপর ভরসা কর। (তিরমিজি : বাবু মা জা আ ফি সিফাতি আওয়ানিল হাওদি, ২৪৪১)

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ (حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيْلُ) قَالَهَا اِبْرَاهِيْمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ حِيْنَ اُلْقِىَ فِيْ النَّارِ وَقَالَهَا مُحَمَّدٌ ﷺ حِيْنَ قَالُوْا (إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوْا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ اِيْمَانً وَّقَالُوْا حَسْبُنَا اللهُ نِعْمَ الْوَكِيْلُ)- (بُخَارِيْ : بَابُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوْا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ)

৩. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস "   থেকে বর্ণিত। ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল’ এই দুআটি ইবরাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল তখন তিনি বলেছিলেন। আর মুহাম্মদ  #   এটি বলেছিলেন তাকে যখন বলা হয়েছিল, ‘মানুষ সকল তোমাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে অতএব তোমরা তাদের ভয় কর।’ (এ কথা শুনে) তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পেল এবং তারা বলল, ‘আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ঠ এবং তিনিই আমাদের উত্তম অভিভাবক।’ (বুখারি : বাবু ইন্নান নাসা ক্বাদ জামাউ লাকুম ফাখশাউহুম, ৪১৯৭)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ قَالَ اللهُ عَزَّ وَ جَلَّ إِذَا تَقَرَّبَ عَبْدِىْ مِنِّىْ شِبْرًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ ذِرَاعًا وَإِذَا تَقَرَّبَ مِنِّىْ ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ بَاعًا اَوْ بُوْعًا وَإِذَا اَتَانِىْ يَمْشِىْ اَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً- (مُسْلِمْ : بَابُ فَضْلِ الذِّكْرِ وَالدُّعَاءِ وَالتَّقَرُّبِ اِلَى اللهِ تَعَالٰى)

৪. হজরত আবু হুরায়রা "   রাসূল  #    থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যখন আমার বান্দা আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তখন আমি তাঁর দিকে এক হাত অগ্রসর হই, যখন সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, তখন আমি এক গজ অগ্রসর হই। আর যখন সে আমার দিকে পায়ে হেঁটে আসে, তখন আমি তার দিকে দৌঁড়িয়ে যাই। (মুসলিম : বাবু ফাদলিয যিকরি ওয়াদ দুআ-ই ওয়াত তার্কারুবি ইলাল্লাহি, ৪৮৫০)

عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ اَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ إِذَا خَرَجَ الرَّجُلُ مِنْ بَيْتِه فَقَالَ بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلٰى اللهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ قَالَ يُقَالُ حِيْنَئِذٍ هُدِيَتَ وَكُفِيْتَ وَوُقِيْتَ فَتَتَنَحّٰى لَه الشَّيْاطِيْنُ فَيَقُوْلُ لَه شَيْطَانٌ آخَرُ كَيْفَ لَكَ بِرَجٌلٍ قَدْ هُدِىَ وَكُفِي وَوُقِىَ- (اَبُوْ دَاودَ  : بَابُ مَا يَقُوْلُ إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِه)

৫. হজরত আনাস ইবনে মালিক "    বর্ণনা করেন, নবি করিম  #    বলেন, যখন কোনো ব্যক্তি তাঁর বাড়ি থেকে বের হয়ে বলে ‘আমি মহান আল্লাহর নামে (বের হলাম), তার ওপর ভরসা করলাম এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো শক্তি সামর্থ নেই তখন তাকে বলা হয়, তুমি হেদায়াত পেয়েছ, তোমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে এবং তোমাকে রক্ষা করা হয়েছে। অতপর শয়তান তার থেকে সরে যায় এবং এক শয়তান অন্য শয়তানকে বলে, ‘এমন ব্যক্তির ব্যাপারে তুমি কীভাবে সফল হবে যাকে বলা হয়েছে, ‘তুমি হেদায়াত পেয়েছ, তোমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে এবং তোমাকে রক্ষা করা হয়েছে। (আবু দাউদ : বাবু মা ইয়াকুলু ইযা খারাজা মিন বাইতিহি, ৪৪৩১)














২৬. ওয়াদা পালন : اِيْفَاءُ الْوَعْدِ

আল-কুরআন

وَ الَّذِیْنَ هُمْ لِاَمٰنٰتِهِمْ وَ عَهْدِهِمْ رٰعُوْنَ.

১. আর যারা নিজেদের আমানতসমূহ ও অঙ্গীকারে যত্নবান। (সূরা মুমিনুন-২৩ : ৮)

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَوْفُوْا بِالْعُقُوْدِ اُحِلَّتْ لَكُمْ بَهِیْمَةُ الْأَنْعَامِ إِلَّا مَا یُتْلٰی عَلَیْكُمْ غَیْرَ مُحِلِّی الصَّیْدِ وَ أَنْتُمْ حُرُمٌ إِنَّ اللّٰهَ یَحْكُمُ مَا یُرِیْدُ.

২. হে মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ কর। তোমাদের জন্য গৃহপালিত চতুস্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, তোমাদের নিকট যা বর্ণনা করা হচ্ছে তা ছাড়া। তবে ইহরাম অবস্থায় শিকারকে হালাল করবে না। নিশ্চয় আল্লাহ যা ইচ্ছা বিধান দেন। (সূরা মায়িদা-৫ : ১)

وَ لَقَدْ كَانُوْا عَاهَدُوا اللّٰهَ مِنْ قَبْلُ لَا یُوَلُّوْنَ الْاَدْبَارَ ؕ وَ كَانَ عَهْدُ اللّٰهِ مَسْئُوْلًا.

৩. আর এরা পূর্বেই আল্ল¬াহর সাথে অংগীকার করেছিল যে, তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না। আর আল্ল¬াহর সাথে কৃত অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। (সূরা আহযাব-৩৩ : ১৫)

وَ اَوْفُوْا بِعَهْدِ اللّٰهِ إِذَا عٰهَدْتُّمْ وَ لَا تَنْقُضُوا الْاَیْمَانَ بَعْدَ تَوْكِیْدِهَا وَ قَدْ جَعَلْتُمُ اللّٰهَ عَلَیْكُمْ كَفِیْلًا إِنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُ مَا تَفْعَلُوْنَ.

৪. আল্লাহর সাথে যখন কোনো মযবুত ওয়াদা কর তখন তা পালন কর। আর পাকা কসম খাওয়ার পর তা ভেঙ্গে ফেল না। অথচ তোমরা আল্লাহকে তোমাদের ওপর সাক্ষী বানিয়েছ। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ সবই জানেন। (সূরা নাহল, ১৬ : ৯১)

قُلْ اَرَءَیْتُمْ شُرَكَآءَكُمُ الَّذِیْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اَرُوْنِیْ مَا ذَا خَلَقُوْا مِنَ الْاَرْضِ اَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِی السَّمٰوٰتِ اَمْ اٰتَیْنٰهُمْ كِتٰبًا فَهُمْ عَلٰی بَیِّنَتٍ مِّنْهُ بَلْ اِنْ یَّعِدُ الظّٰلِمُوْنَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا إِلَّا غُرُوْرًا.

৫. বল, ‘তোমরা আল্ল¬াহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক, সেই শরীকদের কথা ভেবে দেখেছ কি? আমাকে দেখাও তারা যমীনের কী সৃষ্টি করেছে? অথবা আসমানসমূহের মধ্যে কি তাদের কোন অংশীদারিত্ব আছে? অথবা আমি কি তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছি, যার কোন সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর তারা আছে’? বরং যালিমরা একে অপরকে কেবল প্রতারণামূলক ওয়াদাই দিয়ে থাকে।  (সূরা ফাতির-৩৫ : ৪০)

وَ لَا تَقْرَبُوْا مَالَ الْیَتِیْمِ إِلَّا بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ حَتّٰی یَبْلُغَ اَشُدَّهٗ وَ اَوْفُوْا بِالْعَهْدِ ۚ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُوْلًا.

৬. আর তোমরা ইয়াতীমের সম্পদের কাছে যেয়ো না সুন্দরতম পন্থা ছাড়া, যতক্ষণ না সে বয়সের পূর্ণতায় উপনীত হয়। আর অঙ্গীকার পূর্ণ কর, নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। (সূরা বনি ইসরাইল-১৭ : ৩৪)




















আল হাদিস

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ اَخْلَفَ، وَإِذَا اُؤْتُمِنَ خَانَ- (بُخَارِيْ : بَابُ عَلَامَةِ الْمُنَافِقِ، مُسْلِمْ : بَابُ بَيَانِ خِصَالِ الْمُنَافِقِ)

১. হজরত আবু হুরায়রা "    নবি কারীম #    থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি। ১. যখন সে কথা বলে মিথ্যা কথা বলে। ২. যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে। ৩. আর যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় বিশ্বাসঘাতকতা করে। (বুখারি : বাবু আলামাতিল মুনাফিকি, ৩২, মুসলিম বাবু বায়ানি খিসালিল মুনাফিকে, ৮৯)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو اَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ اَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيْهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا وَمَنْ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِنَ الْمُنَافِقِ حَتّٰى يَدَعَهَ إِذَا اُؤْتُمِنَ خَانَ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَاِذَ عَاهَدَ غَدَرَ وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ- (بُخَارِيْ : بَابُ عَلَامَةِ الْمُنَافِقِ، مُسْلِمْ : بَابُ بَيَانِ خِصَالِ الْمُنَافِقِ)

২. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর "    বর্ণনা করেন, নবি করিম #    বলেন, চারটি গুণ যার মাঝে আছে সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মাঝে চারটির যে কোন একটি রয়েছে, তার মাঝে নিফাকের একটি চিহ্ন রয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তা না ছাড়ে। ১. যখন আমানত রাখা হয় খেয়ানত করে। ২. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে। ৩. যখন চুক্তি করে তা লংঘন করে। ৪. এবং যখন ঝগড়া করে গালাগালি করে। (বুখারি : বাবু আলামাতিল মুনাফিকে, ৩৩, মুসলিম : বাবু বায়ানি খিসালিল মুনাফিকি, ৮৮)

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ  ﷺ لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرْفَعُ لَه بِقَدْرِه اَلَا وَلَا غَادِرَ اَعْظَمُ غَدْرًا مِنْ اَمِيْرِ عَامَّةٍ- (مُسْلِمْ : بَابُ تَحْرِيْمِ الْغَدْرِ)

৩. হজরত আবু সাঈদ খুদরী "    বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ  #   বলেছেন, কিয়ামতের দিন প্রত্যেকটি প্রতারকের জন্যে (প্রতারণার নিদর্শনস্বরূপ) একটি করে পতাকা থাকবে। তার প্রতারণার পরিমাণ অনুযায়ী তাদের পতাকাসমূহ উচু-নিচু করা হবে। জেনে রাখ! জননেতার চেয়ে বড় কোন প্রতারক হতে পারে না। (মুসলিম: বাবু তাহরিমিল গাদরি, ৩২৭২)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ قَالَ اللهُ تَعَالَى ثَلَاثَةٌ اَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ اَعْطَى بِىْ ثُمَّ غَدَرَ وَرَجُلٌ بَاعَ حُرًّا فَاَكَلَ ثَمَنَهُ وَرَجُلٌ اِسْتَأْجَرَ اَجِيْرًا فَاسْتَوْفَى مِنْهُ وَلَمْ يُعْطِ اَجْرَهُ- (بُخَارِيْ : بَابُ اِثْمِ مَنْ بَاعَ حُرًّا)

৪. হজরত আবু হুরায়রা "    নবি করিম  #    থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন আমি স্বয়ং অবস্থান করব। ১. যে ব্যক্তি আমার নামে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তা ভঙ্গ করেছে। ২. যে ব্যক্তি কোন স্বাধীন ব্যক্তিকে বিক্রি করে তাঁর মূল্য ভোগ করেছে। ৩. যে ব্যক্তি কোন শ্রমিককে কাজে নিয়োগ করে পূর্ণ কাজ আদায় করে নেয়, অথচ তার বিনিময় দেয় না। (বুখারি : বাবু ইসমে মান বাআ হুররান, ২০৭৫)












২৭. আমানতদারি : اَلْاَمَانَةُ

আল-কুরআন

وَ الَّذِیْنَ هُمْ لِاَمٰنٰتِهِمْ وَ عَهْدِهِمْ رٰعُوْنَ.

১. আর যারা নিজেদের আমানতসমূহ ও অঙ্গীকারে যত্নবান। (সূরা মুমিনুন-২৩ : ৮)

إِنَّ اللّٰهَ یَاْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْاَمٰنٰتِ اِلٰی اَهْلِهَا وَ إِذَا حَكَمْتُمْ بَیْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوْا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللّٰهَ نِعِمَّا یَعِظُكُمْ بِهٖ إِنَّ اللّٰهَ كَانَ سَمِیْعاً ۢ بَصِیْرًا.

২. নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে। আর যখন মানুষের মধ্যে ফায়সালা করবে তখন ন্যায়ভিত্তিক ফায়সালা করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে কতইনা সুন্দর উপদেশ দিচ্ছেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (সূরা নিসা-৪ : ৫৮)

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَخُوْنُوا اللّٰهَ وَ الرَّسُوْلَ وَ تَخُوْنُوْۤا اَمٰنٰتِكُمْ وَ أَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ.

৩. হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের খিয়ানত করো না। আর খিয়ানত করো না নিজেদের আমানতসমূহের, অথচ তোমরা জান। (সূরা আনফাল-৮ : ২৭)

إِنَّا عَرَضْنَا الْاَمَانَةَ عَلَی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ الْجِبَالِ فَاَبَیْنَ أَنْ یَّحْمِلْنَهَا وَ اَشْفَقْنَ مِنْهَا وَ حَمَلَهَا الْاِنْسَانُ إِنَّهٗ كَانَ ظَلُوْمًا جَهُوْلًا.

৪. নিশ্চয় আমি আসমানসমূহ, যমীন ও পর্বতমালার প্রতি এ (কুরআন) আমানত পেশ করেছি, অতপর তারা তা বহন করতে অস্বীকার করেছে এবং এতে ভীত হয়েছে। আর মানুষ তা বহন করেছে। নিশ্চয় সে ছিল অতিশয় যালিম, একান্তই অজ্ঞ। (সূরা আহযাব, ৩৩ : ৭২)

وَ اِنْ كُنْتُمْ عَلٰی سَفَرٍ وَّ لَمْ تَجِدُوْا كَاتِبًا فَرِهٰنٌ مَّقْبُوْضَةٌ فَاِنْ اَمِنَ بَعْضُكُمْ بَعْضًا فَلْیُؤَدِّ الَّذِی اؤْتُمِنَ اَمَانَتَهٗ وَ لْیَتَّقِ اللّٰهَ رَبَّهٗ وَ لَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ وَ مَنْ یَّكْتُمْهَا فَإِنَّهٗۤ اٰثِمٌ قَلْبُهٗ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ عَلِیْمٌ.

৫. আর যদি তোমরা সফরে থাক এবং কোন লেখক না পাও, তাহলে হস্তান্তরিত বন্ধক রাখবে। আর যদি তোমরা একে অপরকে বিশ্বস্ত মনে কর, তবে যাকে বিশ্বস্ত মনে করা হয়, সে যেন স্বীয় আমানত আদায় করে এবং নিজ রব আল্ল¬াহর তাকওয়া অবলম্বন করে। আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না এবং যে কেউ তা গোপন করে, অবশ্যই তার অন্তর পাপী। আর তোমরা যা আমল কর, আল্ল¬াহ সে ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত। (সূরা বাকারা-২ : ২৮৩)


আল হাদিস

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ اَرْبَعٌ إِذَا كَانَ فِيْكَ لَا يَضُرُّكَ مَا فَاتَكَ مِنْ الدُّنْيَا حِفْظُ اَمَانَةٍ وَصِدْقُ حَدِيْثٍ وَحُسْنُ خَلِيْقَةٍ وَعِفَّةُ طُعْمَةٍ- (حَاكِمٌ : بَابُ اَرْبَعٌ إِذَا كَانَ فِيْكَ لَا يَضُرُّكَ)

১. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর "    নবি কারীম  #    থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, তোমার সাথে চারটি জিনিস থাকলে পৃথিবীর সব হারিয়ে ফেললেও তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ১. আমানতের সংরক্ষণ। ২. সত্যবাদিতা। ৩. উত্তম চরিত্র। ৪. পবিত্র রিজিক। (আল মুসতাদরাক লিল হাকিম : বাবুন আরবাউন ইয়া কানা ফিকা লা ইয়াদুরুকা, ৭৯৮৯)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اَدِّ الْاَمَانَةَ اِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ- (اَبُوْ دَاودَ  : بَابُ فِيْ الرَّجُلِ يَاْخُذُ حَقَّه)

২. হজরত আবু হুরায়রা "  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল  #    বলেছেন, যে তোমার নিকট আমানত রেখেছে, তার আমানত তাকে ফেরত দাও। আর যে ব্যক্তি তোমার আমানত আত্মসাৎ করে তুমি তার আমানত আত্মসাৎ করো না। (আবু দাউদ : বাবুন ফির রাজুলি ইয়াখুজু হাক্কাহু, ৩০৬৮)

عَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ قَالَ كَانَ بَيْنَ مُعَاوِيَةَ وَبَيْنَ اَهْلِ الرُّوْمِ عَهْدٌ وَكَانَ يَسِيْرُ فِيْ بِلَادِهِمْ حَتّٰى إِذَا انْقَضٰى الْعَهْدُ اَغَارَ عَلَيْهِمْ فَإِذَا رَجُلٌ عَلٰى دَابَّةٍ اَوْ عَلَى فَرَسٍ وَهُوَ يَقُوْلُ اللهُ اَكْبَرُ وَفَاءٌ لَا غَدْرٌ وَإِذَا هُوَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ فَسَاَلَهُ مُعَاوِيَةُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ  ﷺ يَقُوْلُ مَنْ كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَوْمٍ عَهْدٌ فَلَا يَحُلَّنَّ عَهْدًا وَلَا يَشُدَّنَّهُ حَتّٰى يَمْضِىَ اَمَدُهُ اَوْ يَنْبِذَ اِلَيْهِمْ عَلَى سَوَاءٍ قَالَ فَرجَعَ مُعَاويَةُ بِالنَّاسِ- (تِرْمِذِيْ : بَابُ مَا جَاءَ فِيْ الْغَدْرِ)

৩. হজরত সুলায়েম ইবনে আমের "   থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত মুয়াবিয়া ও রোমবাসীর মাঝে একটি চুক্তি লিপিবদ্ধ ছিল। চুক্তির মেয়াদ শেষ না হতেই মুয়াবিয়া "   তার বাহিনী নিয়ে রোম সীমান্তের দিকে রওয়ানা করেন। তার উদ্দেশ্য ছিল, চুক্তি মেয়াদ শেষ হতেই তিনি তাদের ধাওয়া করবেন। পথিমধ্যে তার নিকট উপস্থিত হলো এক ঘোড় সাওয়ার। তিনি বলেছেন, আল্লাহু আকবার। আল্লাহু আকবার চুক্তি রক্ষা করো, চুক্তি ভঙ্গ করো না। তার দিকে তাকাতেই মুয়াবিয়া "   দেখলেন, তিনি আমর বিন আবাসা "  । মুয়াবিয়া "    বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ  #   কে বলতে শুনেছি, যার সাথে কোন সম্প্রদায়ের চুক্তি তার পক্ষে চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে তাতে কোন পরিবর্তন সাধন করা বৈধ নয়। তার পরে এটাও বৈধ নয় যে, সে চুক্তি শত্রুর পক্ষে নিক্ষেপ করবে। হাদিস শুনে মুয়াবিয়া "   তার সৈন্য নিয়ে ফিরে আসলেন। (তিরমিজি : বাবু মা জা আ ফিল গাদরি, ১৫০৬)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا ضُيِّعَتِ الْاَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ قَالَ كَيْفَ اِضَاعَتُهَا يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ إِذَا اُسْنِدَ الْاَمْرُ اِلَى غَيْرِ اَهْلِه فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ- (بُخَارِيْ : بَابُ رَفْعِ الْاَمَانَةِ)

৪. হজরত আবু হুরায়রা "    বলেন, রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, যখন আমানত নষ্ট হয়ে যাবে, তখন তুমি কেয়ামতের অপেক্ষা কর। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল #   কীভাবে আমনত নষ্ট হয়? রাসূল #    বললেন, যখন অযোগ্য লোককে দায়িত্ব দেয়া হয়, তখন তুমি কেয়ামতের অপেক্ষা কর।  (বুখারি : বাবু রফয়িল আমানাতি, ৬০১৫)


























২৮. অহঙ্কারের পরিণাম : عَاقِبَةُ الْكِبْرِ

আল-কুরআন

وَاعْبُدُوا اللّٰهَ وَ لَا تُشْرِكُوْا بِهٖ شَیْئًا وَّ بِالْوَالِدَیْنِ اِحْسَانًا وَّ بِذِی الْقُرْبٰی وَ الْیَتٰمٰی وَالْمَسٰكِیْنِ وَالْجَارِ ذِی الْقُرْبٰی وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَ الصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِیْلِ وَمَا مَلَكَتْ اَیْمَانُكُمْ إِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُوْرَا.

১. তোমরা ইবাদাত কর আল্লাহর, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে, নিকট আত্মীয়ের সাথে, ইয়াতীম, মিসকীন, নিকট আত্মীয়Ñ প্রতিবেশী, অনাত্মীয়Ñ প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সাথে। নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদেরকে যারা দাম্ভিক অহঙ্কারী। (সূরা নিসা-৪ : ৩৬)

وَ لَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَ لَا تَمْشِ فِی الْاَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُوْرٍ.

২. ‘আর তুমি মানুষের দিক থেকে তোমার মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। আর যমীনে দম্ভভরে চলাফেরা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক, অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না’। (সূরা লুকমান-৩১ : ১৮)

 لِّكَیْلَا تَاْسَوْا عَلٰی مَا فَاتَكُمْ وَ لَا تَفْرَحُوْا بِمَاۤ اٰتٰىكُمْ وَ اللّٰهُ لَا یُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُوْرِ.

৩. যাতে তোমরা আফসোস না কর তার ওপর, যা তোমাদের থেকে হারিয়ে গেছে এবং তোমরা উৎফুল্ল না হও তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তার কারণে। আর আল্লাহ কোন উদ্ধত অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা হাদীদ-৫৭ : ২৩)

 إِنَّهُمْ كَانُوْۤا إِذَا قِیْلَ لَهُمْ لَاۤ اِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ یَسْتَكْبِرُوْنَথ وَ یَقُوْلُوْنَ اَئِنَّا لَتَارِكُوْۤا اٰلِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُوْنٍ.

৪. তাদেরকে যখন বলা হত, ‘আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই’, তখন নিশ্চয় তারা অহঙ্কার করত। আর বলত, ‘আমরা কি এক পাগল কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ছেড়ে দেব?’ (সূরা সাফ্ফাত, ৩৭ : ৩৫-৩৬)

فَادْخُلُوْۤا اَبْوَابَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا فَلَبِئْسَ مَثْوَی الْمُتَكَبِّرِیْنَ .

৫. এখন যা, দোযখের দরজা দিয়ে ঢুকে পড়। সেখানেই তোমাদেরকে চিরকাল থাকতে হবে। অহঙ্কারীদের জন্য তা বড়ই মন্দ ঠিকানা। (সূরা নাহল-১৬ : ২৯)

وَ كَمْ اَهْلَكْنَا مِنْ قَرْیَةٍ بَطِرَتْ مَعِیْشَتَهَا فَتِلْكَ مَسٰكِنُهُمْ لَمْ تُسْكَنْ مِّنْۢ بَعْدِهِمْ إِلَّا قَلِیْلًا وَ كُنَّا نَحْنُ الْوٰرِثِیْنَ.

৬. আর আমি কত জনপদকে ধ্বংস করেছি, যার বাসিন্দারা তাদের জীবন উপকরণ নিয়ে দম্ভ করত! এগুলো তো তাদের বাসস্থান। তাদের পরে (এখানে) সামান্যই বসবাস করা হয়েছে। আর আমিই চূড়ান্ত মালিকানার ওয়ারিস। (সূরা কাসাস-২৮ : ৫৮)

اِعْلَمُوْۤا اَنَّمَا الْحَیٰوةُ الدُّنْیَا لَعِبٌ وَّ لَهْوٌ وَّ زِیْنَةٌ وَّ تَفَاخُرٌۢ بَیْنَكُمْ وَ تَكَاثُرٌ فِی الْاَمْوَالِ وَ الْاَوْلَادِ كَمَثَلِ غَیْثٍ اَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهٗ ثُمَّ یَهِیْجُ فَتَرٰىهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ یَكُوْنُ حُطَامًا وَ فِی الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ شَدِیْدٌ وَّ مَغْفِرَةٌ مِّنَ اللّٰهِ وَ رِضْوَانٌ وَ مَا الْحَیٰوةُ الدُّنْیَاۤ إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُوْرِ.

৭. তোমরা জেনে রাখ যে, দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া কৌতুক, শোভাÑসৌন্দর্য, তোমাদের পারস্পরিক গর্বÑঅহঙ্কার এবং ধনÑসম্পদ ও সন্তানÑসন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র। এর উপমা হল বৃষ্টির মত, যার উৎপন্ন ফসল কৃষকদেরকে আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, তখন তুমি তা হলুদ বর্ণের দেখতে পাও, তারপর তা খড়Ñকুটায় পরিণত হয়। আর আখিরাতে আছে কঠিন আজাব এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর দুনিয়ার জীবনটা তো ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়। (সূরা হাদীদ-৫৭ : ২০)

اِلٰهُكُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ فَالَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ قُلُوْبُهُمْ مُّنْكِرَةٌ وَّ هُمْ مُّسْتَكْبِرُوْنَ.

৮. তোমাদের মাবুদ একজনই। কিন্তু যারা আখিরাতকে বিশ্বাস করে না, তাদের দিলে অস্বীকার কায়েম হয়ে আছে এবং তারা অহংকারী। (সূরা নাহল-১৬ : ২২)

وَ لَا تَمْشِ فِی الْاَرْضِ مَرَحًا إِنَّكَ لَنْ تَخْرِقَ الْاَرْضَ وَ لَنْ تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُوْلًا.

৯. আর যমীনে বড়াই করে চলো না; তুমি তো কখনো যমীনকে ফাটল ধরাতে পারবে না এবং উচ্চতায় কখনো পাহাড় সমান পৌঁছতে পারবে না। (সুর বনী ইসরাইল-১৭ : ৩৭)

تِلْكَ الدَّارُ الْاٰخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِیْنَ لَا یُرِیْدُوْنَ عُلُوًّا فِی الْاَرْضِ وَ لَا فَسَادًا وَ الْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِیْنَ.

১০. এই হচ্ছে আখিরাতের নিবাস, যা আমি তাদের জন্য নির্ধারিত করি, যারা যমীনে ঔদ্ধত্য দেখাতে চায় না এবং ফাসাদও চায় না। আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। (সূরা কাসাস-২৮ :  ৮৩)


আল হাদিস

عَنْ حَارِثَةَ ابْنِ وَهْبٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ الْجَوَّاظُ وَلَا الْجَعْظَرِىُّ- (اَبُوْ دَاودَ : بَابٌ فِيْ حُسْنِ الْخُلُقِ)

১. হজরত হারেসা ইবনে ওয়াহাব "    বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, অহঙ্কারী ও অহঙ্কারের মিথ্যা ভানকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (আবু দাউদ : বাবুন ফি হুসনিল খুলুক্বি, ৪১৬৮)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِيْ قَلْبِه مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ قَالَ رَجُلٌ إِنَّ الرَّجُلَ يُحِبُّ أَنْ يَّكُوْنَ ثَوْبُهُ حَسَنًا وَنَعْلُهُ حَسَنَةً قَالَ إِنَّ اللهَ جَمِيْلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ الْكِبْرُ بَطَرُ الْحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ- (مُسْلِمْ : بَابُ تَحْرِيْمِ الْكِبْرِ وَبَيَانِهِ)

২. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ "    নবি করিম  #    থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকারও রয়েছে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এক ব্যক্তি বললেন, কোন ব্যক্তি পছন্দ করে তার কাপড় সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক (তাও কি অহংকার?) রাসূলুল্লাহ #   বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। প্রকৃত পক্ষে অহঙ্কার হলো, আল্লাহর গোলামী থেকে বেপরোয়া হওয়া এবং মানুষকে অবজ্ঞা করা। (মুসলিম : বাবু তারিহমিল কিবরি ওয়া বায়ানিহি, ১৩১)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ  قَالَ قَالَ رَسُوْلَ اللهِ  ﷺ مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَالَاءَ لَمْ يَنْظُرِ اللهُ اِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَقَالَ اَبُوْ بَكْرٍ إِنَّ اَحَدَ شِقِّىْ ثَوْبِىْ يَسْتَرْخِىْ إِلَّا أَنْ اَتَعَاهَدَ ذَلِكَ مِنْهُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّكَ لَسْتَ تَصْنَعُ ذَلِكَ خُيَلَاءَ- (بُخَارِيْ : بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيْلًا)

৩. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর "    বলেন, রাসূল  #    বলেছেন, যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশত স্বীয় পরিধেয় বস্ত্র (লুঙ্গি, প্যান্ট, পায়জামা) মাটির ওপর দিয়ে টেনে চলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার দিকে তাকাবেন না। তখন হজরত আবু বকর "    বলেন, আমার লুঙ্গি অসতর্ক অবস্থায় ঢিলা হয়ে পায়ের গিরার নিচে চলে যায়, যদি না আমি তা ভালোভাবে বেঁধে রাখি। অতপর রাসূলুল্লাহ #  বলেছেন, তুমি তো তা অহঙ্কারবশত কর না। (বুখারি : বাবু ক্বাওলিন নাবী কুনতু মুত্তাখিযান খালীলান, ৩৩৯২)

عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَمَّا عُرِجَ بِىْ مَرَرْتُ بِقَوْمٍ لَهُمْ اَظْفَارٌ مِنْ نُحَاسٍ يَخْمُشُوْنَ وُجُوْهَهُمْ وَصُدُوْرَهُمْ فَقُلْتُ مَنْ هٰؤُلَاءِ يَاجِبْرِيْلُ قَالَ هٰؤُلَاءِ الَّذِيْنَ يَاْكُلُوْنَ لُحُوْمََ النَّاسِ وَيَقَعُوْنَ فِيْ اَعْرَاضِهِمْ- (اَبُوْ دَاودَ  : بَابٌ فِيْ الْغِيْبَةِ)

৪. হজরত আনাস ইবনে মালেক "    বলেন, রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, যখন আমার প্রভু আমাকে মিরাজে নিয়েছিলেন, তখন আমি এক শ্রেণির লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম, যাদের নখগুলো ছিলো পিতলের মত। যা দিয়ে তারা নিজেদের চেহারা ও বুকে খামছাচ্ছিল। আমি তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এরা সেইসব ব্যক্তি যারা দুনিয়াতে মানুষের গোশত খেত (অর্থাৎ গীবত করত) এবং তাদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলত। (আবু দাউদ : বাবুন ফিল গীবতি, ৪২৩৫)

عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ اَوْحٰى اِلَىَّ أَنْ تَوَاضَعُوْا حَتّٰى لَا يَبْغِىَ اَحَدٌ عَلٰى اَحَدٍ وَلَا يَفْخَرَ اَحَدٌ عَلَى اَحَدٍ- (اَبُوْ دَاودَ  : بَابٌ فِيْ التَّوَاضُعِ)

৫. হজরত ইয়াদ ইবনে হিমার "    থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  #   বলেছেন, আল্লাহ তাআলা এই মর্মে আমার নিকট অহি প্রেরণ করেছেন, তোমরা সকলে বিনয়ী হও। যাতে কেউ কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করতে না পারে এবং কেউ কারো কাছে গর্ব করতে না পারে। (আবু দাউদ : বাবুন ফিত তাওয়াযুয়ি, ৪২৫০)

عَنْ حَارِثَةَ بْنِ وَهْبٍ اَلْخُزَاعِىْ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ اَلَا اُخْبِرُكُمْ بِاَهْلِ الْجَنَّةِ كُلُّ ضَعِيْفٍ مُتَضَاعِفٍ لَوْ اُقْسَمَ عَلَى اللهِ لَاَبَرَّهُ اَلَا اُخْبِرُكُمْ بِاَهْلِ النَّارِ كُلُّ عُتُلٍّ جَوَّاظٍ مُسْتَكْبِرٍ- (بُخَارِيْ : بَابُ الْكِبْرِ)

৬. হজরত হারিসা ইবনে ওহাব খুযায়ী "    থেকে বর্ণিত। তিনি নবি করিম  #   থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল #   বলেছেন, আমি কি তোমাদের জানিয়ে দেব, জান্নাতের অধিকারী কারা? প্রত্যেক দুর্বল ও যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছে। তারা হল এমন যে, যদি তারা আল্লাহর নামে কসম করে, অবশ্যই আল্লাহ তা পূর্ণ করেন। আমি কি তোমাদের জানিয়ে দেব, জাহান্নামের অধিবাসী কারা? প্রত্যেক অহঙ্কারী, সীমালঙ্ঘনকারী, উদ্ধত লোক। (বুখারি: বাবুল কিবরি, ৫৬১০)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيْهِمْ قَالَ اَبُوْ مُعَاوِيَةَ وَلَا يَنْظُرُ اِلَيْهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ، شَيْخٌ زَانٍ وَمَلِكٌ كَذَّابٌ وَعَائِلٌ مُسْتَكْبِرٌ- (مُسْلِمْ : بَابُ بَيَانِ غِلَظِ تَحْرِيْمِ اِسْبَالِ الْاِزَارِ)

৭. হজরত আবু হুরায়রা "   থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল #   বলেছেন, তিন ধরনের লোক রয়েছে যাদের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা কথা বলবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না। বর্ণনাকারী আবু মুয়াবিয়া বলেন, তাদের দিকে তাকাবেনও না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ১. বিবাহিত ব্যভিচারী। ২. মিথ্যাবাদী শাসক। ৩. অহঙ্কারী দরিদ্র। (মুসলিম : বাবু বায়ানি গিলাযে তাহরিমি ইসবালিল ইযারে, ১৫৬)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ اَلْكِبْرِيَاءُ رِدَائِىْ وَالْعَظْمَةُ اِزَارِىْ فَمَنْ نَازَعَنِىْ وَاحِدًا مِنْهُمَا قَذَفْتُه فِي النَّارِ- (اَبُوْ دَاودَ  : بَابُ مَا جَاءَ فِي الْكِبْرِ)

৭. হজরত আবু হুরায়রা "    বলেন, রাসূল #   বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, অহঙ্কার হলো আমার চাদর। আর মহত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব হলো আমার পোশাক। যে ব্যক্তি এ দুটির কোন একটি নিয়ে আমার সহিত টানাটানি করে আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। (আবু দাউদ : বাবু মা জা আ ফিল কিবরি, ৩৫৬৭)






২৯. বিনয় ও নম্রতা : اَلتَّوَاضُعُ

আল-কুরআন

وَ اقْصِدْ فِیْ مَشْیِكَ وَ اغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ إِنَّ أَنْكَرَ الْاَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِیْرِ.

১. ‘আর তোমার চলার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন কর, তোমার আওয়াজ নীচু কর; নিশ্চয় সবচাইতে নিকৃষ্ট আওয়াজ হল গাধার আওয়াজ’। (সূরা লুকমান-৩১ : ১৯)

وَ اخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ.

২. আর মুমিনদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করে, তাদের প্রতি তুমি তোমার বাহুকে অবনত কর। (সূরা শুআরা-২৬ : ২১৫)

یٰاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مَنْ یَّرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِیْنِهٖ فَسَوْفَ یَاْتِی اللّٰهُ بِقَوْمٍ یُّحِبُّهُمْ وَ یُحِبُّوْنَهٗ اَذِلَّةٍ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ اَعِزَّةٍ عَلَی الْكٰفِرِیْنَ یُجَاهِدُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ لَا یَخَافُوْنَ لَوْمَةَ لَآئِمٍ ذٰلِكَ فَضْلُ اللّٰهِ یُؤْتِیْهِ مَنْ یَّشَآءُ وَ اللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِیْمٌ.

৩. হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার দীন থেকে ফিরে যাবে তাহলে অচিরেই আল্লাহ এমন কওমকে আনবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুমিনদের ওপর বিনম্র এবং কাফিরদের ওপর কঠোর হবে। আল্লাহর রাস্তায় তারা জিহাদ করবে এবং কোন কটাক্ষকারীর কটাক্ষকে ভয় করবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তাকে তা দান করেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।  (সূরা মায়িদা-৫ : ৫৪)

 فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللّٰهِ لِنْتَ لَهُمْ وَ لَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِیْظَ الْقَلْبِ لَا نْفَضُّوْا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَ اسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَ شَاوِرْهُمْ فِی الْاَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلٰی اللّٰهِ إِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِیْنَ.

৪. অতপর আল¬াহর পক্ষ থেকে রহমতের কারণে তুমি তাদের জন্য নম্র হয়েছিলে। আর যদি তুমি কঠোর স্বভাবের, কঠিন হৃদয়সম্পন্ন হতে, তবে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমা কর এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরার্মশ কর। অতপর যখন সংকল্প করবে তখন আল্ল¬াহর ওপর তাওয়াক্কুল করবে। নিশ্চয় আল্ল¬াহ তাওয়াক্কুলকারীদেরকে ভালবাসেন। (সূরা আলে ইমরান, ৩ : ১৫৯)

وَ عِبَادُ الرَّحْمٰنِ الَّذِیْنَ یَمْشُوْنَ عَلَی الْاَرْضِ هَوْنًا وَّ إِذَا خَاطَبَهُمُ الْجٰهِلُوْنَ قَالُوْا سَلٰمًا.

৫. আর রহমানের বান্দা তারাই যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদেরকে সম্বোধন করে তখন তারা বলে ‘সালাম’। (সূরা ফুরকান-২৫ : ৬৩)

مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللّٰهِ وَ الَّذِیْنَ مَعَهٗ اَشِدَّآءُ عَلَی الْكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَیْنَهُمْ تَرٰىهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا یَّبْتَغُوْنَ فَضْلًا مِّنَ اللّٰهِ وَ رِضْوَانًا سِیْمَاهُمْ فِیْ وُجُوْهِهِمْ مِّنْ اَثَرِ السُّجُوْدِ ذٰلِكَ مَثَلُهُمْ فِی التَّوْرٰىةِ وَ مَثَلُهُمْ فِی الْاِنْجِیْلِ كَزَرْعٍ اَخْرَجَ شَطْئَهٗ فَاٰزَرَهٗ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوٰی عَلٰی سُوْقِهٖ یُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِیَغِیْظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللّٰهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ مِنْهُمْ مَّغْفِرَةً وَّ اَجْرًا عَظِیْمًا.

৬. মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তার সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর; পরস্পরের প্রতি সদয়, তুমি তাদেরকে রুকূকারী, সিজদাকারী অবস্থায় দেখতে পাবে। তারা আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করছে। তাদের আলামত হচ্ছে, তাদের চেহারায় সিজদার চি‎হ্ন থাকে। এটাই তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত। আর ইনজীলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো একটি চারাগাছের মত, যে তার কঁচিপাতা উদগত করেছে ও শক্ত করেছে, অতপর তা পুষ্ট হয়েছে ও স্বীয় কাঠের ওপর মজবুতভাবে দাঁড়িয়েছে, যা চাষীকে আনন্দ দেয়। যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদেরকে ক্রোধান্বিত করতে পারেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপ্রতিদানের ওয়াদা করেছেন। (সূরা ফাত্হ-৪৮ : ২৯)


আল হাদিস

عَنْ عِيَاضٍ بْنِ حِمَارٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ اَوْحٰى اِلَىَّ أَنْ تَوَاضَعُوْا حَتّٰى لَا يَبْغِىْ اَحَدٌ عَلٰى اَحَدٍ وَلَا يَفْخَرَ اَحَدٌ عَلٰى اَحَدٍ- (اَبُوْ دَاوْدَ : بَابٌ فِيْ التَّوْاضُعِ)

১. হজরত ইয়াজ ইবনে হিমার "    থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  #    বলেছেন, আল্লাহ তাআলা আমার কাছে এই মর্মে অহি প্রেরণ করেছেন, তোমরা সকলে বিনয়ী হও। যাতে কেউ কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করতে না পারে এবং কেউ কারো কাছে গর্ব করতে না পারে। (আবু দাউদ : বাবুন ফিত তাওয়াজুয়ি, ৪২৫০)

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ وَمَا زَادَ اللهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلَّا عِزَّا وَمَا تَوَاضَعَ اَحَدٌ لِلّٰهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللهُ- (مُسْلِمْ : بَابُ اسْتِحْبَابِ الْعَفْوِ وَالتَّوَاضُعِ)

২. হজরত আবু হুরায়রা "    রাসূল  #    থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, দানের দ্বারা সম্পদ কমে না। ক্ষমা দ্বারা আল্লাহ বান্দার ইজ্জত ও সম্মান বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কিছু করেন না। আর যে (একমাত্র আল্লাহরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে) বিনয় ও নম্রতার নীতি অবলম্বন করে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। (মুসলিম : বাবু ইসতিহবাবিল আফউয়ি ওয়াত তাওয়াযুয়ি, ৪৬৮৯)










৩০. ইনসাফ : الْاِنْصَافُ

আল-কুরআন

إِنَّ اللّٰهَ یَاْمُرُ بِالْعَدْلِ وَ الْاِحْسَانِ وَ ا