১৫ মার্চ, ২০২২

ছাত্রলীগের নারী ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানি

 


ছাত্রলীগ বাংলাদেশের জন্য অভিশাপের নাম। এই সংগঠন একদিকে যেমন আমাদের যুবসমাজকে অন্যায়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তাদের অন্যায় ও জুলুমের ফলে আমাদের জনজীবন বিষাক্ত হয়ে উঠছে। ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া এক গৃহবধূকে ক্যা¤পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরদিন তার স্বামী শাহপরাণ থানায় ছাত্রলীগকর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উলে­খসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। প্রতিবাদে সরব হয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও অধিকার সংগঠন। এই ঘটনায় ৮ আসামির মধ্যে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক ও অর্জুন লস্কর, মিজবাহুল ইসলাম রাজন ও আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ১৯ বছর বয়সী ওই নববধূকে ধর্ষণ করে। রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম ধর্ষণে সহযোগিতা করে। ৮ আসামির সকলেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। বর্তমানে তারা সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছে।

২০১৪ থেকে ২০২১ পর্যন্ত গণমাধ্যমে  প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সিনোপসিস অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, এ সময়ে ছাত্রলীগের হাতে ছাত্রীরা-নারীরা ধর্ষিত, নির্যাতিত, শ্লীলতা হারিয়েছেন ও উত্যক্তের শিকার হয়েছেন অন্তত ৩০৯  জন। এমনকি শিক্ষিকা থেকে শুরু করে স্কুলের ইউনিফর্ম পরিহতি ছাত্রী ও শিশুরাও রেহাই পায়নি তাদের হাত থেকে। ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই থেকে জানুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের মধ্যে ১১৩ জন ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও বখাটেপনার অভিযোগে অভিযুক্ত।
 
২০১৮ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাতই মার্চ উপলক্ষে আজ আওয়ামী লীগের জনসভায় আসা নেতা-কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছে ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের কয়েকজন ছাত্রী। এসময় তাদের যৌন হয়রানি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের উদ্ধার করতে সামর্থ হয়। একইভাবে নিগ্রহের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও।
 
অদিতি বৈরাগীর হৃদয় বিদারক ফেসবুক স্ট্যাটাস
আওয়ামী নেতা-কর্মীদের হাতে যৌন হয়রানির শিকার ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রী অদিতি বৈরাগী তার ফেসবুকে লিখেছেন- “শান্তিনগর মোড়ে এক ঘন্টা দাড়ায়ে থেকেও কোনো বাস পাইলাম না। হেটে গেলাম বাংলামটর। বাংলামটর যাইতেই মিছিলের হাতে পড়লাম। প্রায় ১৫-২০ জন আমাকে ঘিরে দাড়াইলো। ব্যস! যা হওয়ার থাকে তাই। কলেজ ড্রেস পড়া একটা মেয়েকে হ্যারাস করতেসে এটা কেউ কেউ ভিডিও করার চেষ্টা করতেসে। কেউ ছবি তোলার চেষ্টা করতেসে। আমার কলেজ ড্রেসের বোতাম ছিড়ে গেসে । ওড়নার জায়গাটা খুলে ঝুলতেসে। ওরা আমাকে থাপড়াইসে। আমার শরীরে হাত দিসে। আমার দুইটা হাত এতগুলা হাত থেকে নিজের শরীরটাকে বাচাইতে পারে নাই। একটা পুলিশ অফিসার এই মলেস্টিং চক্রে ঢুকে আমাকে বের করে এন্ড একটা বাস থামায়ে বাসে তুলে দেয়। বাকিটা পথ সেইফ্লি আসছি। প্রচন্ড শরীর ব্যথা ছাড়া আর কোনো কাটাছেড়া নাই। মেন্টালি ভয়াবহ বিপর্যস্ত বাট শারীরিক ভাবে ভালো আছি। আমি এই শুয়োরদের দেশে থাকব না। জয় বাংলা বলে যারা মেয়ে মলেস্ট করে তাদের দেশে আমি থাকব না। থাকব না। থাকব না”

২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসএসসিতে কয়েকজন নারীকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
সিলেটের এমসি কলেজ কেন্দ্রে স্নাতক পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের হামলার শিকার হন শিক্ষার্থী খাদিজা ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজ কেন্দ্রে স্নাতক পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে হামলার শিকার হন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক (পাস কোর্স) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথার খুলি ভেদে করে মস্তিষ্কও জখম হয়। এই ঘটনায় বদরুলকে বহিষ্কার ও আদালত তাকে যাবজ্জীবন দিয়েছে। (প্রথম আলো, যুগান্তর, ইত্তেফাক, ইনকিলাব, নয়া দিগন্ত)

ধর্ষণ করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানিম হাসান তারেক
২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর, চুয়াডাঙ্গায় ধর্ষণচেষ্টার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছে সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক তারিক হাসান তারেক। শুক্রবার গভীর রাতে কলেজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, মদ্যপ অবস্থায় শুক্রবার রাতে কলেজ চত্বরে বসবাসরত এক পরিচারিকার ঘরে ঢুকে অবৈধ অস্ত্র দেখিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় ছাত্রলীগ নেতা তারেক। এ সময় ওই পরিচারিকার ছেলে বিষয়টি বুঝতে পেরে তারেককে হাতেনাতে ধরে ফেলে। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়ে তারেককে গণপিটুনি দেয় এবং তার চুল কেটে দিয়ে অন্ডকোষ ইট দিয়ে ছেঁচে দেয়। তবে ছাত্রলীগের আরও কিছু নেতা গিয়ে তারেককে উদ্ধার করে দ্রæত ওই এলাকা ত্যাগ করে। এ ঘটনায় ওই রাতেই থানায় মামলা দায়ের করেন নির্যাতিতা। মামলার বিবরণে এ তথ্যের সত্যতা মিলেছে। (বাংলা ট্রিবিউন)

২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১০নং হবিরবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর কবির ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। ওই ছাত্রী ময়মনসিংহের মুসলিম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা করে। অভিযুক্তরা ওই শিক্ষার্থীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে ওই কলেজছাত্রীর এক বান্ধবী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার প্রায় চার মাস পর ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে গত ১৫ মে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

২০১৭ সালের ১০ মার্চ ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনার পর গত ২৭ আগস্ট ভোলা সদর থানায় মামলা হয়। ওই ছাত্রী নিজেই বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করে। অভিযুক্ত রিয়াজ মাহমুদকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে গত ৩১ আগস্ট শহরের আবদুর রব স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ওই সময়ে নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

ধর্ষণের দায়ে আটক বরগুনার চার ছাত্রলীগ নেতা
২০১৭ সালের ১০ আগস্ট বরগুনা পাথরঘাটা কলেজের পাশের পুকুর থেকে অজ্ঞাত এক তরুণীর গলিত লাশ উদ্ধার হয়। পরে ওই তরুণীকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে বরগুনার পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগ নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক এ কথা জানান। গ্রেপ্তাররা হলো- পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহি আনাল দানিয়াল (২২), সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন (২১), সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম রায়হান (১৯), উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মো. মাহমুদ (১৮) ও কলেজের নৈশপ্রহরী জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৪)।

২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এরশাদনগর এলাকায় ওয়ার্ড পর্যায়ের ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে উঠে। পরে তাকে আটক করে পুলিশ। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা পারভেজ মাসুদ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৯নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে তার দলের স্কুল কমিটির এক নেত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম রিয়াদ হোসেন। সে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।
৮ নভেম্বর বুধবার রাতে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজবাড়ী জেলার রামকান্তপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
 
পুলিশের হাতে আটক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন হাওলাদার
২৮ ডিসেম্বর শরীয়তপুরে ছয় নারীকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও সেসব দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় গ্রেফতার হয় শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন হাওলাদার। উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মী, পুলিশ ও কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরিফ হোসেন গোসলখানায় গোপন ক্যামেরা রেখে স্থানীয় এক নারীর অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে। ওই ভিডিও দেখিয়ে পরে তাকে ধর্ষণ করে। এছাড়া আরিফের কলেজপড়ুয়া চাচাত বোন এবং এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীও তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন।

২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে সংগঠনের ২০-২৫ জনের একটি দল উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে যান। তারা উপাচার্যকে কক্ষে পাঠিয়ে আন্দোলনকারীদের করিডর থেকে সরিয়ে দেন। এরই মধ্যে ছাত্রলীগের কয়েক’শ কর্মী এসে জড়ো হন। এরপর তারা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এসময় ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং গায়ের পোশাক ছিঁড়ে ফেলে।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা
জয়বাংলা শ্লোগানে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে এভাবে নারী নিগ্রহের ঘটনা সত্যিই দেশবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। ভাবতে শেখাচ্ছে ‘জয়বাংলা’ কি ধর্ষকদের শ্লোগান? ধর্ষণ আর নারী নিগ্রহের ঘটনা কি এই শ্লোগানধারীদের ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়াবে?

শেখ হাসিনার সোনার ছেলেদের ধর্ষণকান্ডের আরো কিছু খন্ডচিত্র দেখি 

পাঁচ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার একটি গ্রামে একজন গৃহবধূকে (৩০) রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে থানায় ওই পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন গৃহবধূ। ওই গৃহবধূর স্বামী সম্প্রতি একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন। তাঁর জামিনের ব্যাপারে গত সোমবার এক আত্মীয় ৩৭ হাজার টাকা নিয়ে গৃহবধূর বাড়িতে যান। কোনোভাবে খবরটি জেনে ওই দিন রাত নয়টার দিকে ওই পাঁচজন বাড়িটিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে গৃহবধূর শিশুসন্তান, শাশুড়ি ও আত্মীয়কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। পরে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গৃহবধূ ও আত্মীয়কে বিবস্ত্র করে ছবি তোলেন ও মারধর করেন। মারধর শেষে রাতভর গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন তাঁরা।
২৬ মার্চ ২০১৪/ প্রথম আলো 

স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণ, ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২
চিকিৎসা নিতে রাজধানীতে এসে হোটেলকক্ষে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ (২৬)গত রোববার গভীর রাতে মগবাজারের এক আবাসিক হোটেলে পাশের কক্ষে স্বামীকে বেঁধে রেখে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ ওই কক্ষ থেকে মহানগর ছাত্রলীগের এক নেতা ও তাঁর এক সহযোগীকে ছুরিসহ গ্রেপ্তার করেছে রমনা থানার পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন (২৭) ও তাঁর সহযোগী উজ্জ্বল মিয়া (৩৩)তাঁদের সোমবার আদালতে পাঠালে আদালত তাঁদের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন গতকাল মঙ্গলবার থেকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে
১১ জুন ২০১৪/ প্রথম আলো 

তরুণীকে অপহরণ করে বনে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ
টাঙ্গাইলে এক তরুণীকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে মধুপুর বনে নিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন ওই তরুণী। মধুপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, গতকাল সোমবার মেয়েটি তাঁর চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে মধুপুর গঙ এলাকার ঘুঘুর বাজার নামক স্থানে এক আত্মীয়ের বাডড়তে যাচ্ছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সঙকের বঙবাইদ নামক স্থানে পৌঁছালে জলছত্র এলাকার আরিফ হোসেন (২৪) ও আমিনুল ইসলাম (২৩) তাঁদের পথরোধ করেন। তাঁরা মেয়েটির ভাইকে হুমকি দিয়ে মেয়েটিকে মধুপুর বনের ভেতর নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরই সঙকের ওই স্থান দিয়ে মধুপুর থানা পুলিশের একটি টহল ভ্যান যাচ্ছিল। তখন মেয়েটির ভাই পুলিশ ভ্যান থামিয়ে বোনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। পুলিশ বনে ঢুকে ওই দুই যুবককে আটক করে। মেয়েটিকে উদ্ধার করে মধুপুর থানায় আনা হয়।
১৩ অক্টোবর ২০১৫/ প্রথম আলো

ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগ নেতা রিমান্ডে
সাভার থানায় হওয়া ধর্ষণ মামলার আসামি ধামরাই থানা ছাত্রলীগের সভাপতি লায়ন পারভেজকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে পুলিশ তাঁকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আফরোজা খাতুন এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ধর্ষণের শিকার হওয়া নারী সাভারের একটি বিপণিবিতানে কেনাকাটা করতে যান। সেখান তাঁর সাবেক স্বামী ও লায়ন পারভেজ তাঁকে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান । পরে সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার বাসায় নিয়ে গিয়ে পারভেজের সহায়তায় তাঁর সাবেক স্বামী তাঁকে ধর্ষণ করে হত্যার চেষ্টা করে। সাভার থানার পুলিশ জানায়, ওই নারী কৌশলে ওই বাসা থেকে পালিয়ে যান। পরে তিনি তাঁর সাবেক স্বামী ও ছাত্রলীগের নেতার বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন।
৪ এপ্রিল ২০১৬/ প্রথম আলো 

গাজীপুরে ধর্ষণের মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
গাজীপুরে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় জেলা ছাত্রলীগের এক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা পশ্চিমখন্ড এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, একরামুল প্রায় এক বছর ধরে একটি মেয়েকে নিয়ে রূপনগর থানা এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। একপর্যায়ে মেয়েটি বিয়ের জন্য একরামুলকে চাপ দেন। কিন্তু একরামুল তাতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর মেয়েটি ১৭ মে একরামুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
২৫ মে ২০১৬/ প্রথম আলো

পানছড়িতে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
ড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৫) বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনকে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। গত সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। তোফাজ্জল উল্টাছড়ি ইউপির বাসিন্দা। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা গতকাল মঙ্গলবার বাদী হয়ে তোফাজ্জলকে আসামি করে পানছড়ি থানায় মামলা করেন। পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জব্বার বলেন, তোফাজ্জল ওই ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সোমবার রাত ১১টার দিকে তোফাজ্জল গোপনে মেয়েটির ঘরে ঢুকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে মেয়েটির বড় ভাই টের পেয়ে তোফাজ্জলকে আটক করেন। বিষয়টি জানার পর এলাকাবাসী গিয়ে তাঁকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তোফাজ্জলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। ওসি জানান, আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১৩ জুলাই ২০১৬/ প্রথম আলো 

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পিরোজপুর শহরে আবাসিক হোটেলে নিয়ে গত মঙ্গলবার এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বরগুনার আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পিরোজপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাচনাইন পারভেজ বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে গতকাল বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

থানা-পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানায়, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনের মাধ্যমে আমতলীর এক যুবকের (৩০) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মঙ্গলবার মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই যুবক ও তাঁর বন্ধু ছাত্রলীগের নেতা মোটরসাইকেলে করে পিরোজপুর শহরে নিয়ে এসে একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তাঁরা।
১০ নভেম্বর ২০১৬/ প্রথম আলো 

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ
ওই ছাত্রী একটি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষার কেন্দ্র পড়েছে সরকারি ভিকু মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয়। এ সময় কেন্দ্রের মধ্যেই ছাত্রলীগ নেতা সুজন মিয়া ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন। খবর পেয়ে ওই ছাত্রীর মামা ও যুবলীগের নেতা তাঁর কয়েকজন অনুসারীকে নিয়ে সেই কলেজে যান। এরপর সুজনকে মারধর করে অধ্যক্ষের কক্ষে নিয়ে যান তিনি। খবর পেয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন খান ওরফে মহিদসহ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কলেজে যান। এরপর তাঁরা কলেজের মূল ফটকে তালা দেন। পরে কলেজে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
২২ মে ২০১৭/ প্রথম আলো 

ভালুকায় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার একটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৫ মে মামলা হয়। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এজাহার সূত্রে ও ওই ছাত্রীর বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেয়েটি ময়মনসিংহ শহরের একটি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। ছাত্রলীগের ওই নেতা মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করতেন। গত ১১ জানুয়ারি ওই নেতা তাঁর এক বন্ধুকে নিয়ে কলেজের সামনের সড়ক থেকে মেয়েটিকে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যান। পরে মাইক্রোবাসটির ভেতরে ওই নেতা মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় সড়কের ওপর ফেলে রেখে ওই নেতা ও তাঁর বন্ধু চলে যান। পরে মেয়েটিকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
২৪ মে ২০১৭/ প্রথম আলো 

নববধূকে ধর্ষণের মামলা: ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার
নিবার রাতে স্বামীকে আটকে রেখে নববধূকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সুমনের বিরুদ্ধে। নববধূর স্বামী অভিযোগ করেন, সুমন তাঁর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁকে এবং তাঁর ফুপুকে আটকে রেখে তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন সুমন। বানারীপাড়া থানার পরিদর্শক সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সুমনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
১৭ জুলাই ২০১৭/ প্রথম আলো 

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
গাজীপুরের টঙ্গীতে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার পারভেজ মাসুদ (২২) গাজীপুর সিটির ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, পারভেজের বিরুদ্ধে শিগগিরই দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাত্রীর বাবার ভাষ্য, গতকাল রোববার সন্ধ্যার দিকে পারভেজ মাসুদ মেয়েটিকে বাড়িতে ডেকে নেন। পরে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে ঘটনা তার মাকে খুলে বলে। পরে বিষয়টি টঙ্গী থানার পুলিশকে জানানো হয়। মেয়েটিকে রাতেই টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭/ প্রথম আলো 

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ছাত্রলীগের এক নেতাসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের শিকার এক নারী এ ব্যাপারে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। আজ বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী এ অভিযোগ করেন, উপজেলার আটিয়া মাজারে মেলায় গিয়ে আটিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সেলিমের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে সেলিম ওই নারীকে বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দেন। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে ওই নারী জেলা শহরের একটি বাসায় একাই থাকতেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর সেলিম ও তাঁর বন্ধু শেখ শিপন ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই নারী চিৎকারের চেষ্টা করলে সেলিম ও শিপন তাঁর হ্াত-মুখ বেঁধে ফেলেন। পরে সেলিম ওই নারীকে ধর্ষণ করেন এবং তাঁর কথামতো শিপন মুঠোফোনে ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও করেন। 
১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭/ প্রথম আলো 

ছয় নারীকে ধর্ষণের ভিডিও ছড়ালেন ছাত্রলীগ নেতা!
নাম তাঁর আরিফ হোসেন হাওলাদার (২২)। তিনি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, গোসলখানায় গোপন ক্যামেরা লাগিয়ে গৃহবধূর ভিডিও ধারণ করেন প্রথমে। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে তাঁকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেন। সেটাও গোপনে ভিডিও করেন। সেই ভিডিও এখন এলাকার মানুষের হাতে হাতে। এভাবে ফাঁদে ফেলে ছয়জন নারীকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে। গত ১৫ অক্টোবর থেকে ধর্ষণের ভিডিওগুলো গ্রামের মানুষের মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়ে।
১০ নভেম্বর ২০১৭/ প্রথম আলো 

তরুণীকে ধর্ষণ-হত্যায় চার ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কার
বরগুনার পাথরঘাটা কলেজে অজ্ঞাত এক তরুণীকে ধর্ষণ শেষে হত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামি ছাত্রলীগের চার নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে ছাত্রলীগের জরুরি সভায় তাঁদের বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত ওই চারজন হলেন, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহিআনান দানিয়াল (২২), সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন (২১), ২ নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম রায়হান (১৯) ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক মোহাম্মদ মাহমুদ (১৮)। গত ১০ আগস্ট পাথরঘাটা কলেজের পেছনে খাসপুকুর থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত পরিচয় এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তরুণীকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহিআনান দানিয়ালসহ ছাত্রলীগের চার নেতাকে পুলিশ গত শনি ও রোববার আটক করে। এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই কলেজের নৈশ প্রহরী জাহাঙ্গীর হোসেনকে আটক করে পুলিশ। তাঁর দেওয়া জবানবন্দির জের ধরে এই চার নেতাকে আটক করা হয়।
১৩ নভেম্বর ২০১৭/ প্রথম আলো

নেত্রীকে ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত এক নেতাকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জেলার বেলকুচি উপজেলার দলীয় এক নেত্রীকে ধর্ষণ করেছিলেন। অভিযুক্ত রিয়াদ হোসেন সিরাজগঞ্জ ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। ধর্ষণ মামলা হওয়ার পর তাঁকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। সোমবার পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রিয়াদকে গতকাল রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
১২ মার্চ ২০১৮

ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছিলেন ছাত্রলীগ কর্মী 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়টির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে শহীদুল্লাহ্ কলা ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে ওই ছাত্রী অভিযোগ করেন।

ছাত্রলীগের মতিহার হল শাখার সদস্য ও ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. মানিক আহমেদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। কয়েকবার চেষ্টা করেও অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগ কর্মী মো. মানিক আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ / প্রথম আলো 

বিধবাকে ধর্ষণের পর খুন : ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিধবা নাজমা আক্তারকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে খুন করার ঘটনার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা আবু শিহাবকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় টাঙ্গাইল শহর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে আবু শিহাবকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া আবু শিহাব সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। আবু শিহাব উপজেলার মুচারিয়া পাথার গ্রামের বাসিন্দা। এদিকে নাজমা খুনের আরেক আসামি হাবিবুর রহমানকে গতকাল বিকেলে তিন দিনের রিমান্ডে এনেছে পুলিশ।

২১ এপ্রিল ওই মামলার আসামি আলমগীর হোসেন টাঙ্গাইল আদালতে ছাত্রলীগ নেতা আবু শিহাবের নেতৃত্বে সাত তরুণ মিলে নাজমা আক্তারকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে হত্যা করেন বলে বিচারিক হাকিমের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। নাজমার স্বামী নছর আলী ১০ বছর আগে মারা যান। গত বছরের ৫ অক্টোবর সখীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিমা বংকী গ্রামের নিজ বাসা থেকে পুলিশ নাজমা আক্তারের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।
২৭ এপ্রিল ২০১৯/ প্রথম আলো 

ছাত্রলীগ নেতার শাস্তির দাবিতে চিকিৎসকদের বিক্ষোভ
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে এক সহকর্মীর পেটে ব্যথার চিকিৎসা নিতে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান সিলেটের দক্ষিণ সুরমা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সরোয়ার হোসেন চৌধুরী। এ সময় তাঁদের সঙ্গে আরও ১০-১২ জন যুবক ছিলেন। এ সময় হাসপাতালের এক শিক্ষানবিশ চিকিৎসক অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে অপেক্ষা করতে বলেন। এ নিয়ে চিকিৎসক ও সরোয়ারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে ধর্ষণ ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। হাসপাতালের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সিলেট কোতোয়ালি থানায় ছাত্রলীগ নেতা সরোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হাসপাতালের পরিচালকসহ একাধিক চিকিৎসক থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। থানায় বিষয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করেছে।
১১ মে ২০১৯/ প্রথম আলো 

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রলীগ নেতা হলেন মো. সোহেল হোসেন (৩১)। তিনি শাহরাস্তি উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক। সোহেল সেনগাঁও গ্রামে একটি মাছের খামার করেছেন। সেখানে নেতা-কর্মীদের নিয়ে সময় কাটান।
৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯/ প্রথম আলো

মনপুরায় স্পিডবোটের নারীযাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ
ভোলার মনপুরা উপজেলায় স্পিডবোটের চার যাত্রী এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণ করছেন বলে মালিককে খবর দেন স্পিডবোটের চালক। খবর পেয়ে মালিক এসে ওই চারজনকে মারধর করে ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে নিজেও ধর্ষণ করেন ওই নারীকে। গতকাল শনিবার বেলা একটার দিকে উপজেলার চর পিয়ালে এক বাগানের মধ্যে গণধর্ষণের এ অভিযোগ উঠেছে। পাঁচজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের সহায়তা করার অভিযোগে গতকাল রাতে মনপুরা থানায় মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ।

ধর্ষণের অভিযোগে যাঁদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে তাঁরা হলেন মনপুরা উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং স্পিডবোটের মালিক নজরুল ইসলাম (৩০), মো. বেলাল পাটোয়ারী (৩৫), মো. রাশেদ পালোয়ান (২৫), মো. শাহীন খান (২২) ও মো.কিরন (২৬)। ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে মামলার আসামি হলেন স্পিডবোটের চালক মো. রিয়াজ। 
২২ অক্টোবর ২০১৯/ প্রথম আলো

কুমিল­ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার
কুমিল­ার লালমাই উপজেলায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগ নেতা জয়নাল আবেদিন জয়কে গ্রাম্য সালিশি বৈঠকে জুতাপেটা করা হয়েছে। জুতাপেটার ৪১ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সংগঠন থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জয়নাল আবেদিন জয় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। তিনি কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে। এছাড়াও জয় নিজেকে কুমিল­ার স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার উপজেলার সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
২৫ আগস্ট ২০২০/ আজকের কুমিল্লা

রংপুর ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ
রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির বিরুদ্ধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নিজে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণের অভিযোগ করেন। বিষয়টি রংপুর জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। 
৭ সেপ্টেম্বর ২০২০/ মানবজমিন

ধর্ষণ মামলায় ঢাকা উত্তরের ছাত্রলীগ নেতা রিমান্ডে
কাজের মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সবুজ আল সাহাবাসহ (২৮) ২ জনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহ¯পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডল এ আদেশ দেন। এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ৭ দিন রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই রোকসানা আক্তার রুনা। শুনানি শেষে আদালত আসামি সবুজের ৫ দিন ও সবুজের সহযোগী বিবি ফাতেমা ওরফে ঝুমুরের ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এদিকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সবুজ আল সাহাবাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
২ অক্টোবর ২০২০/ যুগান্তর

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগ নেতা ফেরদৌস মোহাম্মদ শ্রাবণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী। শনিবার (১৪ নভেম্বর) রাতে নগরীর মতিহার থানায় এ মামলা রেকর্ড করা হয়। ফেরদৌস মোহাম্মদ শ্রাবণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং রাবি ছাত্রলীগের মানবস¤পদ উন্নয়ন বিষয়ক স¤পাদক। তার বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা এলাকায়।
১৫ নভেম্বর ২০২০/ পুর্বপশ্চিমবিডি

ভাবিকে ধর্ষণচেষ্টায় রায়পুরা পৌর ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
ভাবিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নরসিংদীর রায়পুরা পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক স¤পাদক দিপু মিয়াকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহ¯পতিবার ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে দিপু মিয়াকে আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে রাতে রায়পুরা পৌর এলাকার রামনগরহাটি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শুক্রবার বিকালে নরসিংদী জুটিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রিট অনামিকা চৌধুরীর আদালতে হাজির করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
২৭ নভেম্বর ২০২০/ কালেরকণ্ঠ

হাটহাজারী ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা
এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাটহাজারীতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুর রহমান রাসেলের (৩২) বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৯ (১) ধারায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও অবৈধ গর্ভপাতের অভিযোগ এনেছেন বাদী। গত বুধবার মামলাটি করেন একই উপজেলার পূর্ব মেখল গ্রামের বাসিন্দা ওই নারী। পরে আদালত অভিযোগটি সরাসরি এফআইআর হিসেবে নেয়ার জন্য হাটহাজারী থানাকে নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত আরিফুর রহমান রাসেল হাটহাজারী পৌরসভার মোহাম্মদ মিয়াজির বাড়ীর শামসুল আলমের ছেলে।
২৯ জানুয়ারি ২০২০/ মানবজমিন

ধর্ষণচেষ্টার মামলা করায় নারীকে পেটালেন ছাত্রলীগ নেতা
কুমিল­ায় ধর্ষণচেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতা মো. রনির বিরুদ্ধে। তিনি কুমিল­া দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি। ওই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগে গত ৩১ জানুয়ারি কুমিল­ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলাটি করেন ভুক্তভোগী নারী। এ ঘটনায় আগামী ২৭ ফেব্র“য়ারি বাদী ও অভিযুক্তদের ওই সেলে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেয় পুলিশ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্র“য়ারি) রাতে রনি ওই নারীকে মারধর করেন। তিনি বর্তমানে কুমিল­া জেনারেল (সদর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
২৫ ফেব্র“য়ারি ২০২১/ সময় নিউজ টিভি

রামগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কলেজছাত্রী
ল²ীপুরের রামগঞ্জে দ্বাদশ শ্রেণির কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-স¤পাদক মহসিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় মাতব্বরদের চাপে ওই কলেজছাত্রী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের দল্টা গ্রামের তিনই ভ‚ঁইয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সকালে সরজমিন ঘটনাস্থলে গেলে উপজেলার ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মিঠু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
২৬ ফেব্র“য়ারি ২০২১/ মানবজমিন

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
গুড়ার ধুনট উপজেলায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক স্কুলছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের পর ওই ছাত্রলীগ নেতা আকাশ খান ফারুককে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আকাশ উপজেলার মোহনপুর দক্ষিন পাড়ার আমির হোসেন মাষ্টারের ছেলে। সে বগুড়া আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের øাতক বিজ্ঞান শাখার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য।
১ মার্চ ২০২১/ আমার সংবাদ

বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ
বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন এক তরুণী। সোমবার রাতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ দায়ের এবং মামলা রুজুর আবেদন করেন ওই তরুণী। মামলার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণী উলে­খ করেন, বিয়ের আশ্বাস দেখিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি জসীম জোর করে নগরীর ২৯নং ওয়ার্ডস্থ তরুণীর বাসায় ঢুকে জোর করে ধর্ষণ করে ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। এতে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়লে জসীম তাকে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়াতে থাকে। একপর্যায়ে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গর্ভপাত করায়।
২০ এপ্রিল ২০২১/ যুগান্তর

মেয়েকে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবাকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার মারধর
মাদারীপুরের শিবচরে ৯ম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনার বিচার চাওয়ায় অভিযুক্তর হাতে উল্টো মারধরের শিকার হয়েছেন নির্যাতিতার পিতা। অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
২৯ মে ২০২১/ ডিবিসি টিভি

স্বামীকে বেধে রেখে নববধূকে ধর্ষণ, রিমান্ডে ছাত্রলীগ নেতা
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার টিক্কাপুর হাওরে স্বামীকে বেঁধে নববধূকে গণধর্ষণের মামলায় ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা সোলায়মান হোসেন রনিসহ (২২) দুইজনকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।সোমবার হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আসমা বেগম এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে নেওয়া অন্যজন হলেন শুভ মিয়া। এ মামলায় আরও ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
৭ সেপ্টেম্বর ২০২১/ যুগান্তর   


ছাত্রলীগের খুনের রাজনীতি



ছাত্রলীগ যেন একটি সব্যসাচী দল। যাদের কাছে খুন, রগ কাটা, নির্যাতন একটি সহজ ও রুটিন কাজে পরিণত হয়েছে। জাতীয় পত্রিকা ও গণমাধ্যমগুলোর রিপোর্টে এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে। দৈনিক প্রথম আলো, যুগান্তর ও সাপ্তাহিক সোনার বাংলার রিপোর্ট ও কেস স্টাডিতে দেখা যায় গত ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ একাই খুন করেছে অন্তত ২৫৩ জনকে। এর মধ্যে একটা বড় অংশ নিজ দলের নেতাকর্মী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী ঘৃণিত জঙ্গি সংগঠনসমূহের টোটাল স্টুডেন্টস হত্যা, এমনকি জঙ্গিদের হাতে সাধারণ মানুষ হত্যার হার, সংঘর্ষের হার ও হতাহতের হারকে ছাত্রলীগ ছাড়িয়ে গেছে মাত্র ১৩ বছরে।

প্রতি বছরেই তারা খুন করেছে প্রায় ১৮ জনকে। প্রকাশ্যে বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ড, ঢাবির মেধাবী ছাত্র আবু বকর হত্যাকান্ডে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। তাছাড়া ২০১০ সালে বরিশাল পলিটেকনিকে দু’পক্ষের সংঘর্ষের সময় নজরুল ইসলামকে ধরে রেখে চুরি দিয়ে মুহুর্মুহু কোপানির দৃশ্য মানুষের মনে বীভৎসতার নতুন চিত্র তুলে ধরে। তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি শিশু ও সাংবাদিকও। ছাত্রলীগ নেতা তপুর নির্দেশে এসপি ফজলুল করিমকে হত্যা করা হয়।

ছাত্র সংগঠনটি শিক্ষা ও প্রগতির পথ ছেড়ে রুপান্তরিত হয় কিলিং মিশিনে। দৈনিক প্রথম আলোর রিপোর্টে দেখা যায়, ২০০৯-২০১৪ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরে সংঘর্ষ হয় অন্তত ৪৩২ টি, আহত হয় ১ হাজার ৫শতাদিকেরও বেশি। প্রথম পাঁচ বছরে খুন হয়েছে ৫৫ জন, কিন্তু পরবর্তী ৫ বছরে খুন হয় ১২৯ জন; যা প্রথম ৫ বছেরর খুনের সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি। দ্যা ডেইলি স্টার বাংলার রিপোর্টে দেখা যায় প্রথম আট বছরে ছাত্রলীগ হত্যা করে ১২৫ জনেরও বেশি। শুধু ২০১৮ সালেই ছাত্রলীগ হত্যা করে ৩১ জনকে(নভেম্বর পর্যন্ত)। প্রথম পাঁচ বছরের আহত(১,৫০০’র অধিক) ও সংঘর্ষের সংখ্যা দেখে বুঝা যায় শেষ পাঁচ বছরে আহত ও সংঘর্ষের সংখ্যা কেমন হতে পারে; যেখানে খুন হয়েছে দ্বিগুণের বেশি।

কেন খুনোখুনি করে ছাত্রলীগ?
পত্রিকাসমূহের রিপোর্ট ও কেস স্টাডিতে উঠে আসে এসব হত্যার পিছনে রয়েছে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার, দলীয় কোন্দল, মাদকাসক্তি, অস্ত্রবাজি, পদের লোভ ও নারীঘটিত সমস্যা। হত্যাকান্ডের বিচারে না হওয়া আর হলেও প্রকৃত অপরাধীদের যথোপযুক্ত শাস্তি না হওয়ায় তাদের খুনের পরিমাণ দিনদিন বেড়েই চলেছে। প্রথম আলোর তথ্যমতে, শুধু ২০১৮ সালের ২৬শে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসেই তারা হত্যা করেছে ৩১ জনকে। সাধারণ মানুষের মনে এখন প্রশ্ন জেগেছে আর কত খুন হলে, আর কত স্বজন হারালে ছাত্রলীগকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নত করে নিষিদ্ধ করা হবে। প্রথম আলোর কেস স্টাডিতে উঠে আসে ছাত্রলীগের হত্যাকাণ্ড ও অন্তকোন্দলের ঘটনায় একশরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে বারে বারে; শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ব্যহত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহে।

কিছু আলোচিত হত্যাকাণ্ড
২০০৯ সালের ১৩ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান নোমানীকে হত্যার মধ্যে দিয়ে ছাত্রলীগ খুনের যাত্রা শুরু করে, ৮ ফেব্রুয়ারি চবিতে দুই শিবিরকর্মী মুজাহিদ ও মাসুদকে, ৩১ মার্চ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ওরফে রাজীবকে খুন করে ছাত্রলীগ। এছাড়া ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রমৈত্রীর সহ-সভাপতি রেজানুল ইসলাম চৌধুরী, ৮ জানুয়ারি জাবির ছাত্রলীগ কর্মী জুবায়ের আহমেদকে, ২১ জানুয়ারি পাবনা টেক্সটাইল কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী মোস্তফা কামাল শান্ত, ৮ ফেব্র“য়ারি (ছাত্রলীগের দাবি) ফারুক হোসেন, ১১ ফেব্রুয়ারি রাবির মহিউদ্দিন, ২৮ মার্চ হারুন অর রশিদ কায়সার, ১৫ এপ্রিল আসাদুজ্জামান, ১৫ আগস্ট নাসিম এবং ১৬ জুলাই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হন ছাত্রলীগ কর্মী সোহেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ-পুলিশের সংঘর্ষে নির্মমভাবে খুন হন নিরীহ ও মেধাবী ছাত্র আবু বকর। ১২ জুলাই সিলেট এমসি কলেজে ছাত্রলীগ কর্মী পলাশকে খুন করে।

২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী আকন্দ নিজ কক্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এই ছাত্র পরবর্তী সম্মেলনে সংগঠনের ওই হল শাখার সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পদ নিয়ে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অন্তঃকোন্দলেই প্রাণ হারান তিনি। এ হত্যাকাণ্ডের বহু বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ।

২০১০ সালের ১৫ আগস্ট ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম হলের তিনতলার ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হলে ছাত্রলীগ নেতা নাসিরুল্লাহ নাসিম মারা যান।

২০১৪ সালের ১৪ জুলাই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈমুল ইসলামকে। ঘটনায় জড়িত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই হত্যার বিচার তো দূরের কথা অভিযোগ পত্রই তৈরি করতে পারেনি পুলিশ।

২০১৪ বছরের ৩১ আগস্ট ঢাকায় সমাবেশ শেষ করে ফেরার পথে ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা তৌকির ইসলামকে। আসনে বসা নিয়ে বিবাদের সূত্র ধরে সাতকানিয়া ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী তাঁকে ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলে দেন। তাঁকে টঙ্গীর নিমতলী থেকে উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পর মারা যান তৌকির। এ ঘটনায় কোনো মামলা পর্যন্ত হয়নি।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিজেদের সংঘর্ষে প্রথম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ওই বছরের ৩০ মার্চ। ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিহত হন কলেজ ছাত্রলীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আসাদ। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় কলেজ। কিন্তু ওই ঘটনারও কোনো সুরাহা হয়নি।

এ ছাড়া ২০১০ সালের ১২ জুলাই সিলেট এম সি কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী উদয়েন্দু সিংহকে কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একটি অংশ। একই বছরের ১৯ জুলাই রাজধানীর গোড়ানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হন ছাত্রলীগের নেতা আলী রেজা। ২০১১ সালের ৯ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের কর্মী জুবায়ের আহমেদ একই সংগঠনের কর্মীদের হামলায় নিহত হন। ২০১২ সালের ১৬ জুলাই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগের নেতা আবদুলাহ আল হাসান সোহেল মারা যান।

ছাত্রলীগের হত্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ড ছিল প্রকাশ্যে মিডিয়ার সামনে কুপিয়ে বিশ্বজিৎ হত্যা। রাজনীতি যে এত নিষ্ঠুর, মানুষ যে এত নৃশংস এবং একটি ছাত্রসংগঠন যে এমন দানব হতে পারে, তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। বিশ্বজিৎ দাস নামের যে যুবকটি রোববার ভোরে বাসা থেকে নিজের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন, তিনি কি ঘুণাক্ষরেও চিন্তা করছিলেন, মৃত্যুদূত তাঁর সামনে অপেক্ষা করে আছে। আর সেই মৃত্যুদূতের নাম ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ নামধারী কতিপয় দুর্বৃত্ত তাঁকে পিটিয়ে, কুপিয়ে পুরো শরীর রক্তাক্ত করে হত্যা করেছে। রক্তে পুরো শরীর, জামাকাপড় ভেসে যাচ্ছে, তিনি করজোড়ে ক্ষমা চাইছেন, বারবার বলছেন, ‘আমি রাজনীতি করি না, আমি ছাত্রদল বা শিবির করি না, আমি হিন্দু। আমি দরজিখানায় কাজ করি।’ কিন্তু ছাত্রলীগের বীর পুঙ্গবেরা তাঁকে ক্ষমা করেনি। সর্বশক্তি নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। যখন যুবকটি তাদের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে কাছের হাসপাতালে যেতে চাইলেন তাতেও তারা বাদ সাধল। ওরা তাঁকে চিকিৎসাও নিতে দেবে না।

এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে দেশের মানুষ ভেবেছিলো এই হত্যার হয়তো সঠিক বিচার হবে। ছাত্রলীগের হত্যাকাণ্ডের মধ্যে শুধু এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছিলো। কিন্তু হাসিনা সরকার বিচারালয়কে ব্যবহার করে সমস্ত ছাত্রলীগের খুনীদের সাজা মওকুফ করে নিয়েছে। যাদের সাজা হয়েছে তারা সবাই পলাতক। নামে পলাতক হলেও তারা আসলে পলাতক নয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের এরেস্ট করছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু বকর হত্যার ঘটনা ঘটে ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। সেদিন এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মেধাবী ছাত্র আবু বকর নিহত হন। বহু বছর পেরিয়ে গেলেও ওই ঘটনার বিচার হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিলেও বিচার পায়নি আবু বকরের পরিবার।

বকরের বাবা রুস্তম আলী (৭০) আক্ষেপ করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা মারামারি করল, তারা ক্লাস করে, রাজনীতি করে। কিন্তু আমার সোনার ছেলে মইর‌্যা গেল, কোনো বিচার নাই। আমি একটা দিনমজুর। আমার জজ-ব্যারিস্টার, এমপি-মিনিস্টার নাই। আমি ক্যামনে তাদের সাথে পারমু?’

২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন বাসায় দিয়াজ ছাড়া পরিবারের আর কেউ ছিল না।

ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দিয়াজ গ্রুপের প্রধান দিয়াজ ইরফান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫ কোটি টাকার টেন্ডারের বলি হয়েছেন!

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী আত্মহত্যা করেননি, তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে—দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রোববার বিকেলে প্রথম আলোকে এ কথা বলেছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির।

ছাত্রলীগের খুনের কিছু খন্ডচিত্র 

সিলেটে অভ্যন্তরীণ বিরোধে ফের ছাত্রলীগ কর্মী খুন
সিলেটে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধে খুন হয়েছেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র  ও ছাত্রলীগ কর্মী কাজী হাবীব। মঙ্গলবার রাত ১১টায় নগরীর নয়াসড়ক মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। কোতোয়ালী থানার ওসি সোহেল আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত হাবীব সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর শামীমাবাদে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাঠে হোসাইন আহমদ সাগর ও সোহেলের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগ কর্মী হাবীবের উপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তারা। পরে আশপাশের শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
২০ জানুয়ারি ২০১৬/ বাংলা ট্রিবিউন

পলাশ থেকে মিয়াদ ছাত্রলীগের হাতে ১০ খুন! কমিটি বিলুপ্ত: তদন্ত কমিটি গঠন
২০১০ সালের ১২ জুলাই সিলেট নগরীর টিলাগড়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে নিজ সংগঠনের ক্যাডারদের ছুরিকাঘাতে খুন হন উদেয়েন্দু সিংহ পলাশ। এমসি কলেজের গণিত বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী ছিলেন উদয়েন্দু সিংহ পলাশ। ২০০৮ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটাই ছিল ছাত্রলীগের হাতে প্রথম প্রাণহানীর ঘটনা। উদয়েন্দু সিংহ পলাশ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ছাত্রলীগের ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা বীরেশ্বর সিংহ। পরবর্তীতে মূল অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এই মামলার বিচার আজও শেষ হয়নি। এরপর গত ৭ বছরে ছাত্রলীগের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৯ জন। এর মধ্যে একজন ব্যবসায়ী ছাড়া বাকি সবাই নিজ সংগঠনের নেতাকর্মী। ৭ বছরে ১০টি খুনের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোন হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হয়নি। ফলে এসব হত্যাকান্ডের বিচার নিয়ে নিহতের পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
১৯ অক্টোবর ২০১৭/ সিলেটের দিনকাল 

কলেজছাত্র খুন: ছাত্রলীগ নেতার বাসা থেকে রক্তমাখা অস্ত্র উদ্ধার
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পুলিশ প্রথম থেকেই ছাত্রলীগ নেতা অনন্ত শ্রাবন বিষুকে সন্দেহ করে আসছিল। এই বিষুর ভাড়া করা বাসা থেকেই গতকাল রোববার (১৮ নভেম্বর) রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রক্তমাখা অস্ত্রসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে।
১৯ নভেম্বর ২০১৮/ সিলেট ভয়েস

নারীঘটিত বিরোধে খুন ছাত্রলীগ নেতা রাকিব
নারীঘটিত বিরোধে ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেন হামজাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ ঘটনায় সজীব ও জসিম নামে দু'জন এবং অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে বনানী থানায় মামলা করেছেন নিহতের বাবা আলতাফ হোসেন। তবে জড়িত কেউ এখনও গ্রেফতার হয়নি। এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর মহাখালীর কড়াইলের টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে রাকিব ও তার বন্ধু নূর ইসলামকে উপর্যুপরি কোপায় সজীব ও জসিম এবং অজ্ঞাত পাঁচ-ছয়জন। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। নূর ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
৭ ডিসেম্বর ২০১৮/ সমকাল 

মেয়েকে উত্ত্যক্তের ঘটনায় বাবা খুন, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ব্যক্তি মারা যান। দুপুরে উপজেলার পাটগ্রাম এলাকায় হামলার শিকার হন তিনি। পুলিশ অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত ব্যক্তির নাম আবদুর রউফ (৪৫)। গ্রেপ্তার হয়েছেন আমিনুল ইসলাম (২৮)। তিনি কাজিপুর পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।
২ অক্টোবর ২০১৯/ প্রথম আলো 

স্কুল ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করলো ছাত্রলীগ সভাপতি
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটিতে সভাপতির পদ পেয়েই বেপরোয়া থেকে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম মিসবাহ। গত ২৭ মে ২০২০ বুধবার পাঠাগারে জুয়া খেলার প্রতিবাদ করায় আইয়ুব আলী নামের ১৫ বছরের এক স্কুল ছাত্রকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠে। নিহত পরিবারের অভিযোগ কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন  ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম মিসবাহ পিস্তল দিয়ে আইয়ুবের মাথায় গুলি করলে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। 
৩০ মে ২০২০/ দৈনিক আধুনিক বাংলা 

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে খুন, নির্যাতন, নৃশংসতার পাঁচ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। তাদের কর্মীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন ও নির্যাতনের অনেক ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বার বার সংবাদ শিরোণাম হয়েছে। যারা এরকম ঘটনার শিকার হয়েছেন তাদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ যেমন আছেন, তেমনি নিজের দলের অনেক নেতা-কর্মীও রয়েছেন। গণমাধ্যমে সমালোচনা-বিতর্কের ঝঙ উঠলেও এসব ঘটনায় দায়ীদের খুব কম ক্ষেত্রেই বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।
৮ অক্টোবর ২০১৯/ বিবিসি বাংলা

১০ বছরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের যত খুন!
গত ১০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বুয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ (চবি) দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে লাশ হয়েছেন ২৪ জন শিক্ষার্থী।এই ২৪ জনের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ জন, রাজশাহীতে ৫ জন, ময়মনসিংহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন, দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও ৩ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব হত্যাকান্ডের ১৭টি ঘটেছে ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে! বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, লেজুড়ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির কারণেমূলত এসব হত্যাকান্ড ঘটেছে।
৮ অক্টোবর ২০১৯/ যুগান্তর

বুয়েট ছাত্র আবরার খুন, ১১ নেতা ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ছত্রলীগ থেকে ১১ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংগঠনটির ১১ জন নেতা-কর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার রাতে ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অনাকাঙ্খিত ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতাসিম ফুয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদেী হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপ সমাজসেবা সম্পাদক মোশাররফ সকাল, উপ দপ্তর সম্পাদক  মুজতবা রাফিদ, সদস্য মুনতাসির আল জেমি, সদস্য এহতেমামুল রাব্বি তানিম ও মুজাহিদুর রহমান।
৮ অক্টোবর ২০১৯/ ক্যাম্পাস লাইভ

বিগত ১০ বছরে ছাত্রলীগের হাতে খুন ৩৩ মেধাবী ছাত্র
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গত ১০ বছরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খুন হয়েছেন ৩৩ জন মেধাবী ছাত্র। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের আধিপত্য বিস্তার, সিট দখল, হল দখল নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি মূলত এসব হত্যাকান্ডের প্রধান কারণ।
১৪ অক্টোবর ২০১৯/ সংগ্রাম 

‘ছাত্রলীগ মানেই খুন-র‌্যাগিং’
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ছাত্ররাজনীতি থাকলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকান্ড হতো না। রাত আটটার সময় আবরারকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন যদি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল, বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠন থাকতো তাহলে আবরারকে ধরে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ-মিছিল বের হতো, সাংবাদিকদের ফোন দেওয়া হতো, পুলিশ আসতো। আবরার হত্যা হয়তো ঠেকানো যেত। তিনি আরও বলেন, আবরার হত্যাকান্ড এখন সমগ্র জাতির ওপর চাপিয়ে দেয়ার ষঙযন্ত্র চলছে। এই হত্যাকান্ড ছাত্রলীগ ঘটিয়েছে। এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে আর কোনো রাজনৈতিক ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন জডড়ত ছিল না। তাই ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার কথা ছিল। কিন্তু ষঙযন্ত্র করে সমগ্র ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।
১৭ অক্টোবর ২০১৯/ আমার সংবাদ 

যশোরে ছাত্রলীগ নেতাদের কোন্দলে যুবক খুন
যশোরে ছাত্রলীগের দুই নেতার মাটি কেনাবেচার ব্যবসার বিরোধের কোন্দলে এক যুবক খুন হয়েছে। তবে এতে জড়িত থাকা সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করলেও পরিচয় জানায়নি পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের গ্রামের মাস্টারপাড়ায় ব্যবসায়িক কোন্দল নিয়ে এই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিএম সবুজ হাসান ও বর্তমান সভাপতি শাহিন হাসানের পক্ষের মধ্যে সমঝোতা বৈঠককালে এ হত্যাকান্ড ঘটে বলে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
১০ ডিসেম্বর ২০১৯/ বিডিনিউজ২৪ 

ছাত্রদল নেতা অভি হত্যা মামলায় ৪ ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেফতার
চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানা ছাত্রদল নেতা অভি হত্যা মামলায় ৪ ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতারকে করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন- মো. শাহরিয়ার ফারদিন প্রকাশ তুহিন (১৯), মো. ইয়াছিন আরাফাত প্রকাশ টিটু (৩০), মো. ইরফান প্রকাশ বাবু (২৩) ও মো. ইব্রাহিম মুন্না (২৬)। পুলিশ জানায়, গ্রেফতার চারজন নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী বলে পরিচয় দেয়। 
৩ জুলাই ২০২০/ জাগো নিউজ 

ভাইকে খুন, বোনকে নিপীড়নের অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে
চট্টগ্রামের আকবর শাহ এলাকায় ছোট বোনকে কুপ্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় বখাটের হামলায় খুন হয়েছেন বড় ভাই। এই হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করায় উল্টো বাদির পরিবারকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এ হত্যা নিয়ে কতিপয় পুলিশ কর্তাদের অবহেলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে রেশমী আক্তার নামের এক তরুণী। সোমবার (৩১ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই তরুণী অভিযোগ করে বলেন, হত্যামামলা দায়েরের পর আকবরশাহ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল সিদ্দিক প্রকাশ মেন্টাল জুয়েল, একই এলাকার শহীদ প্রকাশ গুটি, মেম্বার শহীদসহ এলাকার বখাটেরা আমাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি লোকমান আলী, সাধারণ স¤পাদক কাজী আলতাফসহ কতিপয় কিছু আওয়ামী লীগ 
নেতা অপরাধীদের পক্ষ নিয়ে আমাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। 
২ সেপ্টেম্বর ২০২০/ চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চট্টগ্রামে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন, দুজনই ছাত্রলীগের
ছাত্রলীগের স্থানীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে আনোয়ারা উপজেলা সদরের মা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে কৌশলে ডেকে আনা হয় আশরাফকে। এ সময় সন্দেহভাজন নয়ন সরকার ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন আশরাফকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানোর পর সেখানেই মৃত্যু ঘটে আশরাফের।
২০ ফেব্র“য়ারী ২০২১/ চট্টগ্রাম প্রতিদিন

বগুড়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু
বৃহ¯পতিবার ধুনট উপজেলায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সেখানে ছাত্রলীগের ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশে  যাওয়ার পথে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম স¤পাদক তাকবীর ইসলামের মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য জাহিদ হাসানের মোটরসাইকেলের। এতে দুই নেতার মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে ধুনট থেকে বগুড়া শহরের সাতমাথায় ফেরার পর সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের নেতা আবদুর রউফ ও তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে তাকবীর ইসলাম ও তাঁর সমর্থকদের  সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে তাকবীর ইসলাম খানকে ছুরিকাহত করা হয়।
১৬ মার্চ ২০২১/ প্রথম আলো

মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা করল 'ছাত্রলীগের' কিশোর গ্যাং
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় মোহাম্মদ শাহজাহান (৬০) নামে আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে খুন করেছে একই এলাকার ছাত্রলীগের কিশোর গ্যাংশুক্রবার সকালে উপজেলার ৫নং ওচমানপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ 
শাহজাহান ওচমানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ স¤পাদক ও বর্তমান সদস্য।
২৮ মে ২০২১/ ঢাকা নিউজ ৭১

সিলেটে রাহাত হত্যা: প্রধান আসামি ছাত্রলীগ কর্মী সাদি গ্রেফতার
বৃহ¯পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের মূল ফটকের ভেতরে ছুরিকাঘাতে খুন হন পুরান তেতলি গ্রামের সুরমান মিয়ার ছেলে ও কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয়বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আরিফুল ইসলাম রাহাত। তাকে উপুর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় একই কলেজের বহিস্কৃত ছাত্র ও ছাত্রলীগের কর্মী সামসুদ্দোহা সাদি ও তার সহযোগীরা।
২৭ অক্টোবর ২০২১/ যুগান্তর    

২১ ফেব, ২০২২

একুশের নিহতদের খুন করেছে কারা?


মূল ঘটনায় যাওয়ার আগে একটি ভিন্ন ঘটনায় নজর দেই। ২৪ নভেম্বর যাত্রাবাড়ি, ১৯৭৪ সাল, ভয়ানক বিস্ফোরণ হয় একগুচ্ছ বোমার। বোমার নাম আলোচিত নিখিল বোমা। সে বোমার জনক নিখিল রঞ্জন সাহা। বুয়েটের মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের তরুণ লেকচারার। জাসদ করতেন। ২৬ নভেম্বর হরতালকে কেন্দ্র করে দেশকে ব্যাপক অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা গ্রহন করে জাসদ। প্রচুর বোমা দরকার। কিন্তু বোমা বানাবে কে?

সেই গুরুদায়িত্ব গ্রহন করে নিখিল। নিখিল আগে থেকেই বোমা বানায়। পদ্ধতিও ছিল স্থুল। পাতলা এক টুকরো মার্কিন কাপড় চিনি দিয়ে ভিজিয়ে এবং পরে শুকিয়ে মাড় দেয়া কাপড়ের মত করে শক্ত করা হতো। এর ভেতর ধাতব স্প্রিন্টার ঢুকিয়ে দেয়া হতো। তারপর মেশানো হতো পটাশিয়াম ক্লোরেট। জ্যাকেটের মধ্যে কয়েকটা ফোকর রাখা হতো। প্রতিটি ফোকরে অ্যম্পুলের ভেতর থাকতো সালফিউরিক এসিড। এটা ডেটোনেটরের কাজ করতো।

সলতের মধ্যে আগুন লাগিয়ে ছুঁড়ে দিলে তৎক্ষণাৎ কাজ করতো। আর যদি টাইম বোমা বানানোর প্রয়োজন পড়তো তবে কনডম ব্যবহার করা হতো। সেক্ষেত্রে অ্যম্পুলগুলো কনডমে রাখা হতো। হিসেব করে দেখা গেল কনডম থেকে গড়িয়ে এসিড বেরিয়ে আসতে দু'মিনিট সময় লাগে। যদি মনে করা হতো দু'মিনিট পর বিস্ফোরন করা লাগবে তাহলে একটা কনডম, আর যদি চার মিনিট তাহলে দুটো কনডম ব্যবহার করা হতো।

নিখিল তার দুই সহযোগী কাইয়ুম আর নয়নকে নিয়ে বোমা তৈরি করে যাচ্ছিল। হঠাৎ ভুলবশত একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এরপর তৈরি হয়ে যাওয়া একে একে অনেকগুলো। কাইয়ুম ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। মারাত্মক আহত হয় নিখিল। নয়ন নিখিলকে নিয়ে হাসপাতালে যায়।

মাইনুদ্দিন খান বাদলের বাবা পুলিশের বড় অফিসার। সেই পাওয়ার খাটিয়ে নিখিলের বন্ধু সেজে পরদিন তাকে দেখতে যায় বাদল। নিখিল জানায় পুলিশের লোকেরা তার ডায়েরি পেয়েছে। তাই নিখিল বাদলসহ অন্যান্য নেতাদের সরে থাকতে বলেছে। নিখিল আরো জানিয়েছে সে এখনো কিছু পুলিশকে বলেনি। তবে পুলিশ বেপরোয়াভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যাচ্ছে। বাদল ঠিক এই তথ্যের জন্যই সেখানে গিয়েছে। এর পরদিন একটু সুস্থ হয়ে ওঠা বুয়েটের শিক্ষক নিখিল বিষ প্রয়োগে খুন হন। নিখিলের কাছ থেকে জাসদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা মুজিবের পুলিশের কাছে চলে যাবে তাই জাসদই তাকে হাসপাতালে খুন করে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে।[১]

নিখিলের আলোচিত সৃষ্টি এবং যাদের জন্য সৃষ্টি তারাই হত্যা করে নিখিলকে। এভাবেই মৃত্যুবরণ করে নিখিল ও নিখিলের হতদরিদ্র খেতমজুর বাবার পরিবারের স্বপ্ন। নিখিলদের বাড়ি ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জিলার নবীনগর থানার বিটনগর গ্রামে।

আরেক সহকর্মী কাইয়ুম থাকতেন পলাশীর সরকারি কলোনীতে। রেডিওতে খবর শুনে তার মা যাত্রাবাড়িতে যান লাশ দেখতে। কাইয়ুমের বাবা সরকারি চাকুরি করতেন, থাকতেনও সরকারি কোয়ার্টারে। কাইয়ুমের মা মানুষের জটলার মধ্যে দাঁড়িয়ে তার ছেলেকে দেখেছিলেন। কিন্তু মুজিবের পুলিশের ভয়, কাইয়ুমের বাবার চাকুরি ও কোয়ার্টার নিয়ে ঝামেলা হতে পারে এজন্য নিজের ছেলে বলে পরিচয় দেয়ার সাহস পাননি। জাসদের পক্ষ থেকেও কেউ যে এগিয়ে আসবে এমন কাউকে পাওয়া যায়নি। 

আজকের মূল ঘটনা নিখিল কিংবা বোমা নয়। ১৯৭৪ সালে যারা জাসদ করতো তাদের বড় ভাইরা ২২ বছর আগে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন করেছিল। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মৃত্যুবরণ করেন রফিক, সালাম, বরকত, ওহিউল্লাহরা। এদের কারা হত্যা করেছে এই প্রশ্ন আমি নতুন করে তুলতে চাই। 

সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে জড়ো হয়। তারা ১৪৪ ধারা জারির বিপক্ষে স্লোগান দিতে থাকে এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সমাবেশ চালাতে থাকে। পুলিশ অস্ত্র হাতে সভাস্থলের চারদিক ঘিরে রাখে। পুলিশের নমনীয় অবস্থান দেখে ছাত্রলীগ তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সমাবেশে যোগ দেয়। বিভিন্ন অনুষদের ডীন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ঐসময় উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রলীগ যোগ দিলে সমাবেশের আকার অনেক বড় হয়ে যায়। তাই এগারটার দিকে ছাত্ররা গেটে জড়ো হয়ে প্রশাসনের প্রতিবন্ধকতা ভেঙে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ছাত্রদের সতর্ক করে দেয়। অনেক ছাত্র ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে গেলেও বাকিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পুলিশ দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। উপাচার্য তখন পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ বন্ধ করতে অনুরোধ জানান এবং ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেন। উপাচার্যের কথা পুলিশ শুনলেও বিচ্ছিন্নতাবাদী, জাতীবাদী ও বাম্পন্থী ছাত্ররা শুনেনি। [২] 

পুলিশ পিছিয়ে গেলে ছাত্ররা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। এ সময় কয়েকজনকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার শুরু করলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এবার পুলিশ  অনেক ছাত্রকে গ্রেফতার করে এবং তেজগাঁও নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়। দুপুরের দিকে আইন পরিষদের সদস্যরা আইনসভায় যোগ দিতে এলে ভাষা আন্দোলনকারীরা তাদের বাধা দেয়। অনেককে হেনস্তা করে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিন্তু পরিস্থিতির ভয়ানক পরিবর্তন ঘটে যখন ছাত্ররা দলবল নিয়ে আইনসভার (পার্লামেন্ট) দখল নিতে যায়। 

আইনসভার ওপর বাম ছাত্ররা ক্ষ্যাপা কারণ বাংলা আইনসভার বাঙালি সদস্যরা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে পছন্দ করেনি। বাম ছাত্ররা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়া শুরু করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।[৩] এ সময় ছাত্রদের আক্রমণে লুটিয়ে পড়ে সেক্রেটারিয়েটের পিয়ন[৪] আব্দুস সালাম। যাকে এখন ভাষা শহীদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের সামলাতে ব্যর্থ হয়ে আইনসভার সদস্য নিরাপত্তায় গণপরিষদ ভবনের দিকে অগ্রসররত মিছিলের উপর পুলিশ গুলি চালায়। এতে অনেকে আহত হয় এবং প্রতিবাদকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়। 

প্রচলিত ইতিহাসে বলা হয় পুলিশের গুলিবর্ষণে রফিক উদ্দিন, আব্দুল জব্বার এবং আবুল বরকত গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এছাড়া অহিউল্লাহ নামেও একজন বালক পুলিশের গুলিতে নিহত হন। 

বর্তমান জগন্নাথ হল ছিল ১৯৫২ সালের সেক্রেটারিয়েট ও আইনসভা [৫]। সেখানে হামলা চালিয়েছে ভাষা আন্দোলনকারীরা। সেক্রেটারিয়েটের পিয়ন আব্দুস সালাম নিহত হওয়ার পর পুলিশ নিরাপত্তা রক্ষার্থে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি চালায়। যারা সেসময় প্রমিনেন্ট ভাষা আন্দোলনকারী ও সামনের সারিতে ছিল তারা কেউ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে প্রমাণ ইতিহাসে নেই। একাধিক ভাষা আন্দোলনকারীদের বয়ানে এটা সুস্পষ্ট যে, বর্তমান শহীদ মিনার এলাকায় শুধুমাত্র সংঘর্ষ হয়। 

তাহলে ঢাকা মেডিকেলের হোস্টেলে কেন কথিত ভাষা আন্দোলনকারীরা মৃত্যুবরণ করলো? প্রশ্ন তুলতে চাই কারা তাদের হত্যা করলো? 

আমরা যদি সেসময় খুন হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় নিতে চাই তাহলে প্রশ্নের যৌক্তিকতা আরো স্পষ্ট হবে। প্রথমে খুন হন ঢাকা মেডিকেলের হোস্টেলে খুন হন রফিক উদ্দিন। হোস্টেলের ভেতর গিয়ে পুলিশ গুলি চালিয়েছে এমন অভিযোগ কখনোই পাওয়া যায় নি। অভিযোগ ছিল পুলিশ মিছিলে গুলি চালিয়েছে। অথচ রাস্তায় মিছিলে থাকা কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি। রফিক ১৯৪৯ সালে বায়রা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাশ করেন। পরে স্থানীয় দেবেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন কিন্তু পড়ালেখা শেষ করেন নি। [৬] 

ঢাকায় এসে বাবার সাথে প্রেসের ব্যবসায়ে যুক্ত হন। তিনি ছাত্র ছিলেন না। তার ভাষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকার রেকর্ডও ছিল না। যদিও নতুনভাবে এই আওয়ামী সরকার আসার পর রফিককে জগন্নাথ কলেজের হিসাব বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। অথচ তার উচ্চ মাধ্যমিক পাশের খবর নেই।

এরপর আব্দুল জব্বারের লাশের খবর পাওয়া যায়। তিনি ২১ ফেব্রুয়ারির আগের দিন তার ক্যন্সার আক্রান্ত শাশুড়িকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন চিকিৎসা করাতে। তিনি পাকিস্তান সরকারের আনসার বাহিনীতে চাকুরি করতেন। আনসার কমান্ডার আব্দুল জব্বার ঢাকা মেডিকেলে ছিলেন। তাকে সেখানেই কে বা কারা গুলি করে হত্যা করে। তার লাশ ঢাকা মেডিকেলের হোস্টেলে পড়ে ছিল। সেখান থেকে জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। [৭]

ময়মনসিংহ থেকে আসা সরকারি চাকুরে এই আব্দুল জব্বারের ভাষা আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাকেও খুন হতে হলো অজানা কারনে সংঘর্ষের স্থান থেকে দূরে। 

আবুল বরকত ছিলেন ২১ ফেব্রুয়ারি খুন হওয়া একমাত্র ছাত্র। যিনি ঢাবিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন। তিনি আমাদের দেশের মানুষ নন, মুহাজির ছিলেন। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান ভাগ হলে তাঁর পরিবার ভারত থেকে ঢাকায় এসে বসবাস শুরু করেন। প্রচলিত ইতিহাস মতে তিনি ভাষা আন্দোলনকারী ছিলেন এবং পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু একাধিক ভাষা সৈনিকদের জবানিতে পাওয়া যায় তিনি ভাষা আন্দোলনবিরোধী ও পুলিশের ইনফর্মার ছিলেন।[৮][৯] এই দাবির পক্ষে প্রমিনেন্ট মানুষ হলেন দুইজন, ভাষা আন্দোলনের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ তোয়াহা (সভাপতি, কমিউনিস্ট পার্টি) এবং ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক। এই আবুল বরকতও ঘটনাস্থলে নিহত না হয়ে মেডিকেলের হোস্টেলে খুন হন। 

যাই হোক সর্বশেষ ২১ ফেব্রুয়ারিতে খুন হন অহিউল্লাহ নামের একজন শিশু। বয়স আট কি নয় বছর। তার বাবা হাবিবুর রহমান পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রি। ঢাকার নবাবপুর রোডে খোশমহল রেস্টুরেন্টের সামনে গুলিবিদ্ধ হয় নিষ্পাপ এ শিশুটি। ঘাতকের গুলি লাগে অহিউল্লাহর মাথায়। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে অহিউল্লাহ। তার মৃত্যুর কারণও অজানা। 

২১ শে ফেব্রুয়ারির খুনের মাধ্যমে শেষ হয়নি একুশের খুনীদের রক্তের লালসা। মিছিলে পুলিশের বাধার প্রতিবাদে পরেরদিন অর্থাৎ ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারিও ভাষা আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। পুলিশ লাঠিচার্য করে সেই মিছিল ছত্রভঙ্গ করে। সেদিনও খুন হন একজন। তিনিও আবুল বরকতের মতো এদেশের মানুষ নন। তিনি দেশভাগের জন্য ভারত থেকে আসা মুহাজির। তার নাম শফিউর রহমান। 

শফিউর রহমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কোন্নগরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।কলকাতা গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজ থেকে আই.কম পাস করে তিনি চব্বিশ পরগনা সিভিল সাপ্লাই অফিসে কেরানি পদে চাকরি গ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তিনি ঢাকা চলে আসেন এবং ঢাকা হাইকোর্টের হিসাবরক্ষণ শাখায় কেরানির চাকরিতে যোগ দেন।

১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শফিউর রহমান তখন সাইকেল যোগে ঐ পথে অফিসে যাচ্ছিলেন। তখন কে বা কারা তাঁকে পেছন থেকে গুলি করে। তিনি পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঐদিন সন্ধ্যা ৭টায় তিনি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।[১০] তিনি কখনো ভাষা আন্দোলন করেননি ও আন্দোলনকারীদের সাথে যুক্ত ছিলেন না। 
কী এক আজিব অবস্থা! বর্তমান চালু ইতিহাসে পুলিশ মিছিলে গুলি করে। অথচ ভাষা আন্দোলনের সময় নিহত হওয়া কেউই মিছিলে ছিল না। কেউই ভাষা আন্দোলন করেননি। আর যারা মিছিলে ছিল তারা কেউই নিহত হওয়া তো দূরের কথা, গুলিবিদ্ধও হননি। যারা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের নেতৃত্ব দিয়েছেন, মিছিল করেছেন, মিছিলের সামনে থেকেছেন তারা গ্রেপ্তার ও লাঠিচার্জের শিকার হলেও গুলির শিকার হননি।  

খুন হওয়া মানুষদের পরিচিতি, অবস্থান, খুন হওয়ার স্থান নির্দেশ করে এরা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে খুন হয়নি। ঘোলাটে পরিস্থিতির সুযোগে কেউ তাদের খুন করেছে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নুরুল আমিন একজন বাঙালি ছিলেন। বাঙ্গালিদের প্রতি বিদ্বেষবশত তিনি খুনের নির্দেশ দিবেন এটা অমূলক ধারণা। ২১ ফেব্রুয়ারির মৃতরা কি আসলেই পুলিশের গুলিতে ইন্তেকাল করেছে? নাকি কমিউনিস্টরা পরিস্থিতি তাদের পক্ষে নিয়ে আসার জন্য কিছু নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে? 

উপরের নিখিলের ঘটনা উল্লেখ করেছি শুধু এটা অনুধাবন করার জন্য যে, বাম সন্ত্রাসীরা যে কোনো কাজ করতে পারে। এমনকি নিজ দলের বড় সম্পদকেও অবলীলায় খুন করতে পারে। আর সাধারণ মানুষকে খুন করে আন্দোলনের ফলাফল নিজেদের দিকে নিয়ে আসা তো মামুলি ব্যাপার।

তথ্যসূত্র : 
১. জাসদের উত্থান পতন / মহিউদ্দিন আহমেদ / পৃষ্ঠা ১৪৫ 
২. ১৪৪ ধারা ভঙ্গ / জাহীদ রেজা নূর / প্রথম আলো / ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
৩. পূর্ববাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি / ৩য় খন্ড / বদরুদ্দীন উমর / সূবর্ণ প্রকাশন / পৃ. ২৩৩ 
৪. ভাষা আন্দোলন / বাংলাপিডিয়া 
৫. The All-Pakistan Legal Decisions. 1949. p. 6.
৬. আহমদ, রফিক উদ্দিন / বাংলাপিডিয়া 
৭. জববার, আবদুল / বাংলাপিডিয়া 
৮. ভাষা আন্দোলন : সাতচল্লিশ থেকে বায়ান্ন / মোস্তফা কামাল/  পৃ.-৮১
৯. সাক্ষাৎকারে সরদার ফজলুল করিম/ https://arts.bdnews24.com/archives/2092
১০. রহমান, শফিউর / বাংলাপিডিয়া 


১৬ ফেব, ২০২২

খিলাফত পর্ব-১৯ : উমার রা.-এর সময়ে সুবিচারের কিছু নমুনা

উমার রা. সত্যের ব্যাপারে অনেক কঠোর ছিলেন। তিনি শাসন ও শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে কাউকে তোয়াক্কা করতেন না। তাঁর এই কঠোরতাকে তিনি নিজেই ভয় পেতেন মাঝে মধ্যে। তাঁর কাছে মনে হতো তিনি অন্যান্য বাদশাহদের মতো বাদশাহ হয়ে গেছেন। এই অনুভূতি তাঁকে পীড়া দিত। তখন তিনি হন্য হয়ে অভিজ্ঞ সাহাবাদের কাছে জিজ্ঞাসা করতেন তোমাদের কী মনে হয়, আমি কি খলিফা থেকে বাদশাহ হয়ে গেছি? 

উত্তরে এক সাহাবা তাঁকে জানালেন, এই দু'য়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। খলিফা যা নেয় তা ন্যয়সঙ্গতভাবে নেয়। যা দেয় তাও ন্যয়সঙ্গতভাবে দেয়। আলহামদুলিল্লাহ আপনি এরকম। বাদশাহরা জুলুম করে। একজনেরটা নিয়ে আরেকজনকে দেয়। আরেকবার সালমান ফারসি রা.-কে উমার রা. একই কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাষ্ট্র থেকে ১ দিরহামও যদি বেশি নেন অথবা ১ দিরহামও যদি অন্যায়ভাবে খরচ করেন তবে আপনি খলিফা নন, বাদশাহ। উমার রা. এই অনুভূতিই তাঁকে খলিফা হিসেবে মহিমান্বিত করে তুলেছে। 

উমার রা.-এর ১০ বছরের শাসনামল ছিল তাই আদর্শ রাষ্ট্রের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মহানবী সা. -এর সময়ে একই সমাজের মানুষ নিয়ে ছোট রাষ্ট্র গঠিত হওয়ায় রাষ্ট্রের অনেক বিষয় বিকশিত হওয়ার দরকার হয়নি। যা উমার রা.-এর সময়ে পূর্ণাঙ্গতা পায়। আবার আবু বকর রা. ছিলেন মাত্র আড়াই বছরের খলিফা। এই আড়াই বছরে তিনি বিদ্রোহ দমন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ব্যয় করতে হয়েছে। ফলে তাঁর সময়েও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা বিকশিত হয় নি। 

শুরাভিত্তিক সিদ্ধান্ত :
ইসলামে স্বৈরাচারিতার স্থান নেই। মুহাম্মদ সা. আল্লাহর মনোনীত রাসূল হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনায় শুরার সাহায্য নিতেন। এমনও হতো যে, মুহাম্মদ সা.-এর নিজের প্রস্তাবনা বাদ পড়ে যেত। উমার রা.-ও সেভাবে শুরাভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন। শুরা মেম্বার নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি কখনোই তোষামোদকারীদের স্থান দিতেন না। এক্ষেত্রে তিনি ইসলামের প্রাথমিক সময়ের মুসলিদের গুরুত্ব দিতেন। তবে মেইন ফোকাস ছিল কুরআনের জ্ঞান। যাদের কুরআনের জ্ঞান বেশি ছিল তারাই শুরা মেম্বার হতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যুবক হোক কি বয়স্ক, কেউ যদি কুরআনের জ্ঞানে জ্ঞানী হতেন, তিনি উমারের পরামর্শ সভার সদস্য হওয়ার সুযোগ পেতেন। উমার রা. নিজে পরামর্শ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন এবং প্রাদেশিক গভর্নরদেরও একইভাবে প্রদেশ পরিচালনার নির্দেশ দিতেন। 

সমতা : 
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি মানুষ সমান। লিঙ্গ, বর্ণ, বংশ, ভাষা, ক্ষমতা ইত্যাদি দিয়ে ভেদাভেদ হারাম। উমার রা. এর শাসনামলে একবার মদিনায় দুর্ভিক্ষ শুরু হয়। সেসময় উমার রা. অভাবীদের দুঃখ ভাগ করে নিতে নিজের লাইফস্টাইল একেবারে গরীবদের কাতারে নামিয়ে এনেছেন। তিনি নিজে ও তাঁর পরিবারের জন্য ঘি, দুধ ও দই নিষিদ্ধ করে দেন। নতুন পোষাকও নিষিদ্ধ করে দেন। তিনি বলেন, তারা যে কষ্টে ভুগছে, আমি যদি সে কষ্টে না ভুগি তবে কীভাবে তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হবো? 

উমার রা. সাধারণত ঘি আর রুটি খেতেন। কিন্তু যখন বাজারে ঘি অপ্রতুল হয়ে যেত, বেশি দাম হয়ে যেত তখন তিনি জলপাইয়ের তেল দিয়ে রুটি খেতেন। এতে তাঁর পেটের সমস্যা। গুড়গুড় ডাক দিত। তিনি পেটকে শাসিয়ে বলতেন, যত পারো গুড় গুড় করো, কিন্তু লোকেরা যতক্ষণ না ঘি খেতে পারবে ততক্ষণ তুমিও ঘি পাবে না। 

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, একবার উমার হজে গেলে সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া তাকে কিছু খাবার পরিবেশন করলেন। বড় এক থালা ভর্তি খাবার নিয়ে হাজির হলো চারজন দাস।  উমার রা. খাবার শুরু করতে গিয়ে দেখলেন ঐ কর্মচারীরা দাঁড়িয়ে আছেন। উমার রা. জিজ্ঞেস করলেন, তারা কি আপনার সাথে খেতে বসবে না?  তিনি উত্তর করলেন, না। তারা তো আমাদের অধস্তন। এতে উমার রা. ক্ষিপ্ত হন। তিনি বলেন, এসব লোক কারা যারা দাসদের ওপরে নিজেদেরকে প্রাধান্য দেয়। আল্লাহ যেন তাদের শাস্তি দেন। এই বলে তিনি দাসদের নির্দেশ দেন, তোমরা আমাদের সাথে খেতে বসো। 

উমার রা. একবার বাইতুলমালের সম্পদ বিতরণ করছিলেন। প্রচুর ভিড়। সবাই লাইন ধরে নিজেদের হক বুঝে নিচ্ছিল। এমন সময় প্রখ্যাত সাহাবী সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস রা. লাইন ভেঙ্গে সামনে চলে এলেন। উমার রা. তাঁর হাতের লাঠি দিয়ে তাঁকে গুঁতো দিয়ে ভয়ঙ্করভাবে তিরস্কার করলেন। জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবীর ব্যাপারেও উমার রা. কোনো ছাড় দেননি।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা : 
যদিও উমার রা. কঠোর শাসক ছিলেন তবুও সাধারণ মানুষ তাঁর আমলে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও শাসকের সমালোচনা করতে পারতেন। কারণ তাঁর কঠোরতা ছিল হকের খাতিরে। তাঁর শাসনে বহু মানুষ রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। উমার রা. তাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবাদের মুখে তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেছিলেন। একবার তিনি বিয়ের মোহরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করতে চাইলেন এবং সেটা হলো ৪০ উকিয়া। তিনি বলেছেন এর বেশি যদি কোনো নারী মোহর নেয় তবে বাড়তি মোহর বাইতুল মালে জমা হবে। কিন্তু মহিলাদের যৌক্তিক প্রতিবাদের মুখে পিছু হটেছেন উমার রা.। 

একবার বাইতুলমাল থেকে সকল জনগণের জন্য কাপড় বরাদ্দ হয়। সকলে সমান কাপড় পায়। ঐ কাপড় দিয়ে পরিপূর্ণ জোব্বা তৈরি করা যায়নি। কিন্তু কিছুদিন পর দেখা গেল ঐ কাপড় দিয়ে উমার রা. পরিপূর্ণ জোব্বা তৈরি করে খুতবা দিতে দাঁড়িয়েছেন। তখন এক লোক দাঁড়িয়ে বললো, হে আমীরুল মু'মিনিন! আল্লাহকে ভয় করুন। আমি আপনার খুতবা শুনবো না। উমার রা. বললেন, কেন হে আল্লাহর বান্দা? বাইতুলমালের কাপড় দিয়ে আমাদের কারো জামা হয় নি। আপনার কীভাবে হলো? উমার রা. বললেন, এর জবাব আমার ছেলে আব্দুল্লাহ দিবে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. দাঁড়িয়ে বললেন, আমি আমার কাপড় আমার বাবাকে দিয়েছি। তাতে তার পরিপূর্ণ জামা তৈরি হয়েছে। 

এবার উমার রা. বললেন, এবার কি আপনারা আমার খুতবা শুনবেন? সবাই সমস্বরে বললো। ইয়া আমিরুল মুমিনিন! অবশ্যই। আমরা আপনার কথা শুনবো ও মানবো। উমার রা.-এর শাসনামলে তাঁর বিরুদ্ধে ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে কেউ ভয় পেত না। কতটা সুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে অর্ধেক পৃথিবীর শাসকের সামনে চোখ চোখ রেখে প্রতিবাদ করতো সাধারণ জনগণ।  

হিজরি সন গণনা : 
১৬ হিজরির শাবান মাসের ঘটনা। তখন অবশ্য ১৬ হিজরি বলে কিছু ছিল না। একটি অফিসিয়াল সার্কুলার হাজির হলো উমার বিন খাত্তাব রা.-এর সামনে। সেখানে মাসের নাম লেখা ছিল কিন্তু সনের নাম ছিল না। উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হলো এটি কোন সনের সার্কুলার! উমার রা. বললেন এটি এখনই সমস্যা তৈরি করছে। ভবিষ্যতে তো এটি বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়াবে। এর সমাধান কী? এর কোন সদুত্তর পাওয়া যায় নি সেসময়। 

তৎকালীন আরবে সুনির্দিষ্ট কোন সন প্রথা প্রচলিত ছিল না। বিশেষ ঘটনার নামে বছরগুলোর নামকরণ করা হতো। যেমন- বিদায়ের বছর, অনুমতির বছর, ভূমিকম্পের বছর, হস্তীর বছর ইত্যাদি। মহানবী সা. যখন পৃথিবীতে এসেছেন আরববাসী তখন ‘হস্তীর বছর’ থেকে কাল গণনা করছিল। এরপর ফিজার যুদ্ধ দিয়েও সাল গণনা হতো। যেমন তারা বলতো হস্তীর বছরের তিন বছর পরে আমার মেয়ের জন্ম। ফিজার যুদ্ধের আগের বছর আমাদের বিয়ে হয়েছে ইত্যাদি। 

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমার ফারুক রা. যখন খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন বহু দূর-দূরান্ত পর্যন্ত নতুন নতুন রাষ্ট্র ও ভূখন্ড ইসলামী খেলাফতের অন্তর্ভুক্ত হয়। রাষ্ট্রের জরুরি দলিল, কাগজপত্র ইত্যাদিতে কোন সন উল্লেখ না থাকায় অসুবিধার সৃষ্টি হতো। আবার বসরার (ইরাক) গভর্নর মুসা আল আশয়ারি রা. রাষ্ট্রনায়ক উমার ফারুক রা.-কে লিখে পাঠালেন, আপনি পাঠানো চিঠিতে সন না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। তিনি এক্ষেত্রে গ্রিসকে অনুসরণ করার পরামর্শ দেন।  

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমীরুল মুমেনিন একটি বিশেষজ্ঞ মিটিং আহ্বান করলেন এই সমস্যা সমাধানে। এখানে বিজ্ঞ সাহাবা ও পন্ডিত ব্যক্তিদের আহ্বান জানান হয়েছে।  সোলার ক্যালেন্ডার নাকি লুনার ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হবে? কোন ঘটনাকে সাক্ষী রেখে বছর গণনা শুরু হবে? কোন মাসকে প্রথম মাস হিসেবে ধরা হবে? ইত্যাদি সব জটিল সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে সেই মিটিং-এ।        

হিজরতের ১৬ বছর পর ১০ জমাদিউল আউয়ালে আসলো সেই ঐতিহাসিক দিন। যেহেতু আরবের মানুষ ও সাহাবীরা চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করতো এবং আমাদের ইবাদতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তারিখ চাঁদের সাথে সম্পর্কিত তাই সৌর ক্যালেন্ডার বাদ পড়ে যায় শুরুতেই। মহানবী সা.-এর জন্ম, নব্যুয়ত, হিজরত ও মৃত্য—এ চারটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার যেকোন একটি হতে হিজরি সন গণনা করার প্রস্তাব উত্থাপিত হলো। 

কিন্তু সমস্যা হলো জন্ম ও নবুয়তের তারিখ নিয়ে মতপার্থক্য আছে। আর মৃত্যু শোকের সিম্বল। অতএব হিজরতের মাধ্যমেই সন গণনা শুরু করার পক্ষে সাহাবার একমত হলেন। হিজরতের বছর থেকে সন গণনার পরামর্শ দেন বিজ্ঞ সাহাবী সাইয়্যেদেনা আলী রা.। কারণ ঐদিন থেকে আমাদের নবী হজরত মুহাম্মদ সা. শাসনক্ষমতা গ্রহণ করতে শুরু করেন এবং মুসলিমরা রাষ্ট্রীয় শক্তি অর্জন করে। সেজন্যই দিনটি মুসলিমদের কাছে চিরস্মরণীয়। আর পবিত্র মাস মহররমকে ১ম মাস হিসেবে নির্ধারণ করতে একমত হন সাহাবারা।

সিদ্ধান্ত হলো যে বছর মুহাম্মদ সা. হিজরত করে মদিনায় এসেছেন সে বছরের মহররমের ১ তারিখ থেকে হিজরি বর্ষ গণনা করা হবে। হিসেব করে দেখা গেল ১ হিজরির ১ মহররম অর্থাৎ প্রথম দিনটি ছিল জুমাবার, জুলিয়ান দিনপঞ্জি অনুসারে ১৬ জুলাই ৬২২ খ্রিস্টাব্দ। আর এই সিদ্ধান্তটি নেয়া হয় ঘটনার ১৬ বছর পর ৯ জুন ৬৩৭ সালে। সেদিনই বিশেষজ্ঞরা হিসেব করে দেখলো সেদিন ছিল ১০ জমাদিউল আউয়াল, ১৬ হিজরি। 

গোপন বৈঠকের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা : 
একবার মদিনায় থাকা কুরাইশরা নিজেদের নিয়ে একটি ঘরে গোপন সভা করেছিল। খবর পেয়ে উমার রা. তাদের সতর্ক করে দিলেন। ঘোষণা করে দিলেন এমন বৈঠক যেন আর কেউ না করে। এগুলো বিচ্ছিন্নতাবাদের জন্ম দিবে। মুসলিমদের মধ্যে গ্রুপিং তৈরি হবে ও ঐক্য বিনষ্ট হবে। তিনি আরো বলেছেন, তোমাদের বৈঠকগুলো উন্মুক্ত করে দাও। সবাই মিলে একসাথে বসো। এতে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা বাড়বে, মানুষের কাছে তোমাদের সম্মান বাড়বে। 

বাজার ব্যবস্থাপনা : 
উমার রা. এর সময়ে মুসলিমদের বাজারে প্রচুর বিদেশী নওমুসলিম ও অমুসলিম ব্যবসায়ী আসতো। উমার রা. তাদেরকে ইসলামী নিয়মকানুন ও নিষিদ্ধ সুদ সম্পর্কে শিক্ষা দিতেন ও তাদেরকে ইসলামী অর্থব্যবস্থা মেনে চলতে বাধ্য করতেন। মজুদদারী, প্রতারণা ও জুলুম ঠেকাতে বাজারে টহলের ব্যবস্থা করতেন। কেউ যাতে অতিরিক্ত দাম না হাঁকে সেই ব্যবস্থা রাখতেন। ব্যবসায়ীদের মালপত্রের নিরাপত্তা ও এক শহর থেকে আরেক যাতায়াতের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম করে দিয়েছেন। 

মুসাফিরদের জন্য ব্যবস্থাপনা : 
উমার রা. সময়ে এক শহর থেকে আরেক শহরে যাতায়াতের মধ্যবর্তী বসতিগুলোতে মুসাফিরখানা তৈরি করেছেন, যাতে মুসাফিররা বিপদে পড়লে এখান থেকে সাহায্য পায়। তারা এখানে ঘোড়া বদলের সুযোগ পেত। বিশ্রামের সুযোগ পেত। এছাড়া উমার রা. গরীব মুসাফিরদের জন্য বাইতুলমাল থেকে উটের ব্যবস্থা রেখেছিলেন। যাতে তারা প্রয়োজনীয় সফর করতে পারে। 

ব্যবসা :
উমার রা.-এর সময়ে মুসলিমদের আয় বেড়ে যায়। রাষ্ট্র থেকে যে ভাতা পেত তাতে অনেকের জিবিকা নির্বাহ হয়ে যেত। তাই তারা আর ব্যবসার দিকে নজর দিত না। এই সুযোগে মুসলিমদের বাজারে বিদেশী ব্যবসায়ীদের আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়। এই বিষয় নিয়ে উমার রা. বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি কুরাইশদের কড়া নির্দেশ দেন তারা যাতে নিষ্ঠার সাথে ব্যবসা করে ও ব্যবসা ছেড়ে না দেয়।  ব্যবসায়ীরা অজুহাত দেখিয়ে বললেন, বিজয় দানের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের ব্যবসায়ের ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। উমার রা. বলেন, হে কুরাইশরা! এভাবে তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর কাউকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দিয়ো না। বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্ষমতার তিনভাগের এক ভাগ। আল্লাহর কসম করে বলছি, যদি এভাবে চলতে থাকে তোমরা তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। 

রাতের টহল : 
উমার রা.-এর সুশাসনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো তিনি জনগণের পরিস্থিতি দেখতে রাতে টহল দিতেন। এই টহলে তিনি যেমন অপরাধীদের পাকড়াও করতে পারতেন তেমনি অভাবী মানুষদের সন্ধান পেতেন। তিনি টহলের সময় কাউকে বিপদ্গ্রস্থ অবস্থায় পেলে সাহায্য করতেন। এরকম টহলের কারণে অনেক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন, অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

টহল দেওয়ার সময় তিনি এক ঘর থেকে প্রায়ই বাচ্চার কান্না শুনতে পেলেন। এরপর সেই ঘরে গিয়ে বাচ্চার মাকে জিজ্ঞেস করলেন কেন বাচ্চা এভাবে কাঁদছে। বাচ্চার মা উত্তর করলো, সে দুধ ছাড়ানোর চেষ্টা করছে এই কারনে বাচ্চা কাঁদছে। তিনি বাচ্চার বয়স জানতে চাইলেন। বয়স শুনে তিনি বললেন, দুধ ছাড়ানোর জন্য তাড়াহুড়ো করো না। মা উত্তর করলো, দুধ না ছাড়ালে তো আপনি তার ভাতা দিবেন না। তখন নিয়ম ছিল কোনো শিশু জন্ম নেওয়ার পর যখন তার দুধ ছাড়ানো হবে তখন থেকে সে নাগরিক ভাতা পাবে। 

গরীব মায়েরা তাই আগে দুধ ছাড়ানোর চেষ্টা করতো যাতে বাচ্চার নাগরিক ভাতা উত্তোলন করা যায়। পরদিন ফজর নামাজ পড়তে গেলে আরেক বাচ্চা এতো কেঁদেছিল যে, নামাজে ডিস্টার্ব হয়েছে। নামাজ শেষ উমার রা. মনে মনে বললেন, হতভাগা উমার! কত মুসলিম বাচ্চাকে না জানি তুমি মেরে ফেলছো! এরপর ঘোষক দিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানালেন, কোনো মা যাতে দুধ ছাড়ানোর ব্যাপারে তাড়া না করে। আর এখন থেকে বাচ্চা জন্ম নেওয়ার সাথে সাথেই তার ভাতা চালু হয়ে যাবে। 

এক বাড়িতে এক গৃহবধূর কান্নার আওয়াজ পেলেন। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন, ঐ মহিলা যুদ্ধে থাকা স্বামীর জন্য কান্না করছিল। রাতেই তিনি তার মেয়ে উম্মুল মুমিনিন হাফসা রা.-এর ঘরে গেলেন। জিজ্ঞাসা করলেন একজন মেয়ে তার স্বামীর অনুপস্থিতি কতদিন সহ্য করতে পারে? উত্তরে তাঁর মেয়ে বললেন, বড়জোর তিন মাস। চতুর্থ মাসে তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাবে। এরপর উমার রা. নিয়ম করলেন, কোনো সৈন্য যাতে চার মাসের বেশি সময় পরিবার থেকে দূরে না থাকে। 

শিক্ষাকেন্দ্র ও মসজিদ স্থাপন : 
উমার রা. মক্কা মদিনাসহ নতুন বিজিত সব শহরে প্রচুর মসজিদ ও শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। যাতে মুসলিমরা ইসলামে মূল চেতনা থেকে বিচ্যুত না হয়। জ্ঞান বিজ্ঞানে যাতে এগিয়ে থাকে। তবে ফিকহ ও ফতওয়ার জন্য তিনি মদিনাকেই নির্দিষ্ট করেছেন। যাতে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। 

অবকাঠামো উন্নয়ন : 
উমার রা. অবকাঠামো উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি মসজিদে নববীকে বড় করেন। এর জন্য তিনি আব্বাস রা.-এর ঘরকে অধিগ্রহণ করেন। মসজিদকে শক্ত ও মজবুত করেন। মেঝে আগে ছিল মাটির ও ধুলোময়। উমার রা. সেখানে পাথর বসিয়ে পাকা মেঝে তৈরি করে দেন। এতে মুসল্লিদের ইবাদাত করা সহজ ও আরামদায়ক হয়। কাবা শরিফেও তিনি সংস্কার করেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেন। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ডাক ও কুরিয়ার ব্যবস্থা চালু করেন। কৃষির স্বার্থে পুরো মুসলিম সাম্রাজ্যে পানি সরবরাহের জন্য প্রচুর খাল খনন করেন। এর মাধ্যমে পানি মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থাও সুগম হয়।   

১১ ফেব, ২০২২

ছাত্রশিবিরের সভাপতিদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামী ছাত্রশিবির ৪৫ বছর পার করেছে। এই বছরগুলোতে ছাত্রশিবির ৩১ জন কেন্দ্রীয় সভাপতি পেয়েছে। এরা প্রায় ইসলামী আন্দোলনে ভূমিকা রেখে চলেছেন। এর মধ্যে একজন জামায়াতের সাথে যুক্ত হননি। আরেকজন জামায়াত ত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। এই দুইজন বাদে বাকীরা জামায়াতের সাথে যুক্ত আছে। জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করা দুইজনের মধ্যে একজন ইসলামপন্থী রাজনীতি করেন অন্যজন সেক্যুলার রাজনীতি করেন।    


১. শহীদ মীর কাসেম আলী

মীর কাসেম আলীকে দায়িত্ব দিয়েই ইসলামী ছাত্রশিবির তার যাত্রা শুরু করে। ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭ সাল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ পর্যন্ত তিনি সভাপতি ছিলেন। এদেশে রাবেতাসহ ইসলামী এনজিওগুলোর কার্যক্রম শুরু করা থেকে শুরু করে ইসলামী ব্যাংক ও ইবনে সিনার মতো প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে তাঁর ভূমিকা ছিল। ফ্যাসীবাদী হাসিনা সরকার সাজানো ও কথিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় তাঁকে হত্যা করেছে ২০১৬ সালে। শাহদাতের সময় তিনি জামায়াতের সর্বোচ্চ ফোরাম 'কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে'র সদস্য ছিলেন। তিনি মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।


২. শহীদ মুহাম্মদ কামারুজ্জামান 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২য় সভাপতি ছিলেন শহীদ কামারুজ্জামান। তিনি অক্টোবর ১৯৭৮ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন। তিনি ঢাবিতে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দৈনিক সংগ্রামের নির্বাহী সম্পাদক এবং 'সাপ্তাহিক সোনার বাংলার' সম্পাদক ছিলেন। ১১ এপ্রিল ২০১৫ সালে তাঁকে হত্যা করে স্বৈরাচার হাসিনা সরকার। তাঁর বাড়ি শেরপুর জেলায়।


৩. মাওলানা মুহাম্মদ আবু তাহের

৩য় সভাপতি হিসেবে ছাত্রশিবির পেয়েছে মাওলানা আবু তাহের ভাইকে। তিনি ১০ মে ২০২০ সালে ইন্তেকাল করেন। তিনি শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন। আল জাবের ইনস্টিটিউট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। মাওলানা আবু তাহের চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শমসের পাড়া মেডিকেল হাসপাতালসহ বহু ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ার সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি অক্টোবর ১৯৭৯ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৮১ পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রাম।  


৪. মুহাম্মদ এনামুল হক মঞ্জু 

এনামুল হক মঞ্জু ভাই অক্টোবর ১৯৮১ থেকে জানুয়ারী ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইরানে ঘটে যাওয়া ইসলামী বিপ্লবে আন্দোলিত হয় ছাত্রশিবির। এই নিয়ে ছাত্রশিবির কিছু দায়িত্বশীল ও জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সাথে মতবিরোধ হয়। সেই সূত্র ধরে মাত্র সাড়ে তিন মাসেই তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি জামায়াতের সাথে যুক্ত হন এবং ১৯৯১ সালে কক্সবাজার ১ আসন জামায়াতের মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি কক্সবাজার জামায়াতের সাথে কাজ করেন। 


৫. আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চু 

এনামুল হক মঞ্জু ভাইয়ের পদত্যাগে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সভাপতি হন ঢাকা ভার্সিটির সভাপতি থাকা আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চু। তিনি জানুয়ারী ১৯৮২ থেকে মে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন। বাচ্চু ভাই বিপ্লবের সমর্থক ছিলেন। ইরানের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা নিয়ে এদেশে ইসলামী বিপ্লব করতে চেয়েছেন। এই চাওয়ার মধ্যে ছিলেন আল্লামা সাঈদীও। কিন্তু জামায়াতের শুরার সিদ্ধান্ত ছিল মাত্র ৫% সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল করা অনুচিত হবে। অন্যায় হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রায় সবাই মুসলিম হওয়ায় বিপ্লব করতে হলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে ও হত্যা করতে হবে, যেটা উচিত নয়। মুসলিম মধ্যে ক্ষমতা পাবে তারাই যাদের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় আসবে। অস্ত্রের জোরে মুসলিমদের নেতা হওয়ার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে জামায়াত। কিন্তু কেউ কেউ সেটা মানতে রাজি হননি তৎকালীন সরকারকে তাগুত হিসেবে বিবেচনা করে। 


জামায়াতের সিদ্ধান্ত ইসলামী ছাত্রশিবির মানতে বাধ্য কিনা এই মর্মে ছাত্রশিবিরে মতবিরোধ তৈরি হয়। এই মতবিরোধের জেরেই এনামুল ভাই পদত্যাগ করেন। বাচ্চু ভাই দেখলেন ছাত্রশিবিরের বেশিরভাগের ইচ্ছা বিপ্লবে দিকে। কিন্তু তারা যখন  বিদায় নিয়ে জামায়াতে যোগ দেয় তখন তাদের বিপ্লবের ইচ্ছে নষ্ট হয়ে যায়। তাই বাচ্চু ভাই জামায়াতের লেজুড়বৃত্তি ত্যাগ করতে চেয়েছেন।


এই পরিস্থিতিতে তিনি বিপ্লবের চেতনা টিকিয়ে রাখতে দুই সংগঠনের মধ্যবর্তী একটি সংগঠন গোপনে প্রতিষ্ঠা করেন। এর নাম দেন যুবশিবির। তাঁর ইচ্ছে ছিল ছাত্রশিবির শেষ করে বিপ্লবী কর্মীরা যুবশিবিরে যোগ দেবে। এতে বিপ্লবের চেতনা ঠিক থাকবে। মূলত এই যুবশিবিরই হবে ইরানী বিপ্লবের ১ম সারির যোদ্ধা। 


এই গোপন সংগঠনের কথা ফাঁস হয়ে গেলে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়। এবার অভিযোগ আসে আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চু ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ। কার্যকরী পরিষদের অধিবেশনে আলোচনা করা ছাড়া নতুন সংগঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে অনাস্থার শিকার হন। অনাস্থার প্রেক্ষিতে সংবিধান অনুযায়ী কার্যকরী পরিষদ বনাম কেন্দ্রীয় সভাপতি ভোট হয়। সদস্যদের ভোটে হেরে যান বাচ্চু ভাই। তাঁর সদস্য পদ বাতিল হয় এবং তিনি ছাত্রশিবির ছাড়তে বাধ্য হন। 


বাচ্চু ভাই ও যুবশিবিরের ভাইরা এই ইতিহাসকে ভায়োলেট করেছেন। তারা ইরানী বিপ্লবের ইস্যু গোপন করে ৮২'র ঘটনার জন্য শুধু জামায়াতের লেজুড়বৃত্তিকেই ইস্যু করেন এখন। মাঝেমধ্যে একাত্তরকেও অযাচিতভাবে টেনে আনেন। 


ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর তিনি কিছুদিন যুবশিবিরকে টেনে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখানে কোনো সফলতা না পেয়ে খেলাফত মজলিসে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি খেলাফত মজলিসের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর ছিলেন। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়। 


৬. সাইফুল আলম খান মিলন 

বাচ্চু ভাইয়ের সদস্যপদ বাতিল হওয়ার পর সদস্যদের ভোটে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন মিলন ভাই। মিলন ভাই মে ১৯৮২ সাল থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে ফিতনা দূর হয় এবং ছাত্রশিবির তার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসে। কর্মজীবনে মিলন ভাই ইবনে সিনার পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদ সদস্য।      


৭. মুহাম্মদ তাসনিম আলম 

ইসলামী ছাত্রশিবির ৭ম কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে পায় মুহাম্মদ তাসনিম আলমকে। তিনি অক্টোবর ১৯৮৪ সাল থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য। তিনি সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ছিলেন। তাঁর বাড়ি নাটোরে। 


৮. ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ্ মোহাম্মদ তাহের 

৮ম কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ্ মোহাম্মদ তাহের। তিনি অক্টোবর ১৯৮৫ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ডা. তাহের ১৯৮৮-৯২ পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামী ফেডারেশন অফ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন (আইআইএফএসও) এর এশিয়ার ডিরেক্টর নির্বাচিত হন। পরে তিনি ১৯৯২-১৯৯৫ পর্যন্ত আইআইএফএসও এর নির্বাচিত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আইআইএফএসও'র মহাসচিবের পাশাপাশি তিনি একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার ওয়ামী (বিশ্বব্যাপী মুসলমান যুব পরিষদ) -এর পরিচালক ছিলেন। তিনি একজন ব্যবসায়ী। তিনি ২০০১ সালে কুমিল্লা-১২ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  


৯. মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম 

মাওলান শামসুল ইসলাম অক্টোবর ১৯৮৭ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। শামসুল ইসলাম আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সালে তিনি চট্টগ্রাম -১৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর। 


১০. ডা. আমিনুল ইসলাম মুকুল

ইসলামী ছাত্রশিবিরে দশম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডা. আমিনুল ইসলাম মুকুল। তিনি অক্টোবর ১৯৮৯ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি প্রবাসে আছেন এবং সেখানে জামায়াতের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সময়ে ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সেশন 'অক্টোবর থেকে সেপ্টেম্বর' পরিবর্তিত হয়ে 'জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর' করা হয়।   


১১. আবু জাফর মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ 

এগারোতম সভাপতি হিসেবে আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ জানুয়ারী ১৯৯২ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯২ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে জনপ্রিয় জাতীয় কিশোর পত্রিকা 'কিশোর কণ্ঠ' প্রকাশিত হয়। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে তিনি দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের পরিচালক। জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরীর নায়েবে আমীর। তাঁর বাড়ি ভোলায়। 


১২. ব্যারিস্টার হামিদ হোসাইন আজাদ 

ব্যরিস্টার হামিদ হোসাইন আজাদ দ্বাদশ সভাপতি হিসেবে জানুয়ারী ১৯৯৩ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৩ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি লন্ডনে প্রবাস জীবন ও আইন পেশায় নিয়োজিত হন। সেখানে জামায়াতের কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হন এবঙ্গ ইন্টারন্যশনাল দাওয়াহ কার্যক্রমের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক আন্তর্জাতিক চ্যারিটি সংস্থা “মুনতাদা এইড” এর সিইও। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামে। 


১৩. রফিকুল ইসলাম খাঁন 

রফিকুল ইসলাম খাঁন জানুয়ারী ১৯৯৪ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৫ পর্যন্ত তেরোতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন ব্যবসায়ী। তিনি তাঁর জন্মস্থান সিরাজগঞ্জে নানান সামাজিক সংগঠন ও বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।    


১৪. মুহাম্মদ শাহজাহান 

চৌদ্দতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি জানুয়ারী ১৯৯৬ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি কক্সবাজার ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাড়ি কক্সবাজার।


১৫. মতিউর রহমান আকন্দ 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের পনেরতম সভাপতি ছিলেন মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি জানুয়ারী ১৯৯৮ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আইনপেশার সাথে জড়িত। এছাড়া ঢাকার ফুয়াদ আল খতীব হাসপাতালের এমডি ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের নির্বাহী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহ।


১৬. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের 

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ছিলেন ষোলতম কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি জানুয়ারী ২০০০ থেকে ডিসেম্বর ২০০০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি। যুবায়ের ভাই তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নোয়াখালীতে সফর করেন। তিনি ছিলেন আমার দেখা প্রথম কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি আইনপেশা ও অন্যান্য ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাড়ি সিলেটে।  


১৭. নুরুল ইসলাম বুলবুল 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সতেরতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নুরুল ইসলাম বুলবুল ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০০১ থেকে ডিসেম্বর ২০০২ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য। তাঁর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। 


১৮. মুজিবুর রহমান মনজু 

জামায়াতের সাথে না থাকা আরেকজন কেন্দ্রীয় সভাপতি হলেন মুজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি ছাত্রশিবিরের আঠারতম সভাপতি। জানুয়ারি ২০০৩ থেকে ডিসেম্বর ২০০৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দিগন্ত টেলিভিশনে কর্মরত ছিলেন। জামায়াতে যতদিন ছিলেন ততদিন প্রকাশ্যে ও অন্তরালে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সমালোচনা করতেন। এভাবে সমালোচক হিসেবে নাম করেন। ২০১৭ সালে জামায়াতের সাবেক আমীর শহীদ নিজামীর মিথ্যা সমালোচনা করে আবার আলোচনায় আসেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জামায়াত ভাঙার ষড়যন্ত্রের কারণে তাঁর রুকন পদ স্থগিত করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি জামায়াত থেকে বের হয়ে যান। বর্তমানে তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টি নামে একটি উদ্যমী রাজনৈতিক দলের সদস্য সচিব। তাঁর বাড়ি ফেনী। 


১৯. মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন 

মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ইসলামী ছাত্রশিবিরের উনিশতম সভাপতি। তিনি জানুয়ারী ২০০৪ থেকে ডিসেম্বর ২০০৫ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর। তাঁর বাড়ি সিলেটে। 


২০. ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশতম সভাপতি ছিলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০০৬ থেকে ডিসেম্বর ২০০৭ পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর হাতে ২০০৭ সালে আমার সদস্য শপথ হয়। তিনি বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেডে কর্মরত। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য। তাঁর বাড়ি পটুয়াখালীতে।


২১. মো. জাহিদুর রহমান 

একুশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. জাহিদুর রহমান ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০০৮ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইবনে সিনায় কর্মরত। বর্তমানে তিনি জামায়াতের শুরা সদস্য। তাঁর বাড়ি মানিকগঞ্জ।  


২২. ড. মুহাম্মাদ রেজাউল করিম 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের বাইশতম সভাপতি ছিলেন রেজাউল করিম ভাই। তিনি জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সহকারী সম্পাদক। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি। তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। 


২৩. ডা. ফখরুদ্দীন মানিক 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৩তম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফখরুদ্দিন ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০১১ থেকে ডিসেম্বর ২০১১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাড়ি ফেনী।  


২৪. মুহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন 

নির্যাতিত নেতা দেলোয়ার ভাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৪তম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জানুয়ারী ২০১২ থেকে ডিসেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি গ্রেপ্তার হন ও ভয়াবহ নির্যাতনের মুখোমুখি হন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি। তাঁর বাড়ি ঠাকুরগাঁও। 


২৫. মুহাম্মাদ আব্দুল জাব্বার 

মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার ভাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৫তম কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি জানুয়ারী ২০১৪ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রাম।


২৬. আতিকুর রহমান 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের ছাব্বিশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আতিকুর রহমান ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শ্রমিক সংগঠন 'বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনে'র কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জামায়াতের শুরা সদস্য। তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। 


২৭. ইয়াসিন আরাফাত 

ইয়াসিন আরাফাত ভাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাতাশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জানুয়ারী ২০১৭ থেকে ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জামায়াতের শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লায়। 


২৮. ড. মোবারক হোসাইন 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের আটাশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোবারক হোসাইন ভাই। তিনি জানুয়ারী ২০১৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের শুরা সদস্য ও থানা আমীর। তাঁর বাড়ি কুমিল্লায়।   


২৯. পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম 

সিরাজুল ইসলাম ভাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঊনত্রিশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জানুয়ারী ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বুয়েট থেকে তিনি ছিলেন একমাত্র সভাপতি। তিনি একটি অনলাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের জনশক্তি ও ইঞ্জিনিয়ার ফোরামের দায়িত্বশীল। তাঁর বাড়ি পাবনায়।


৩০. সালাহউদ্দিন আইউবী 

ছাত্রশিবির থেকে সর্বশেষ বিদায় নিয়েছেন তিরিশতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সালাহদ্দিন আইয়ুবি। তিনি জানুয়ারী ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জামায়াতের গাজীপুর মহানগরীতে যোগ দিয়েছেন। তাঁর বাড়ি গাজীপুর।    


৩১. হাফেজ রাশেদুল ইসলাম 

রাশেদুল ইসলাম ভাই ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব নিয়েছেন। ৩১ জন সভাপতির মধ্যে তিনি একমাত্র কুরআনে হাফেজ। তাঁর বাড়ি শেরপুর।