২৬ আগস্ট, ২০১৬

আপন আলোয় শেখ মুজিব



শেখ সাহেব নিজের মূল্যায়ন যেভাবে করেছেন বা নিজের সম্পর্কে যা বলেছেন বা যা লিখেছেন তার কিছু সংকলন করা হয়েছে এখানে।

ঘটনা #০১
"... দুই দলের নেতৃবৃন্দের একজায়গায় বসা হল, উদ্দেশ্য আপোষ করা যায় কিনা? বগুড়ার ফজলুল বারীকে (এখন পূর্ব বাংলার গভর্ণর মোনেম খান সাহেবের মন্ত্রী হয়েছেন) সভাপতি করে আলোচনা চললো। কথায় কথায় ঝগড়া, তারপর মারামারি হল, শাহ সাহেব অনেক গুন্ডা জোগাড় করে এনেছিলেন। আমরা বলেছিলাম, যদি গুন্ডামি করা হয় তবে কলকাতায় তাকে থাকতে হবে না। শেষ পর্যন্ত আপোষ হল না॥" - (অসমাপ্ত আত্মজীবনী / পৃ: ৩০)

ঘটনা #০২
"... আমি কিছু সংখ্যক ছাত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। খবর যখন রটে গেল লীগ মন্ত্রিত্ব নাই , তখন দেখি টুপি ও পাগড়ী পরা মাড়োয়ারিরা বাজি পোড়াতে শুরু করেছে এবং হৈচৈ করতে আরম্ভ করেছে। সহ্য করতে না পেরে , আরো অনেক কর্মী ছিল, মাড়োয়ারিদের খুব মারপিট করলাম, ওরা ভাগতে শুরু করলো। জনাব মোহাম্মাদ আলী বাইরে এসে আমাকে ধরে ফেললেন এবং সকলকে বুঝাতে চেষ্টা করলেন॥" - (অসমাপ্ত আত্মজীবনী / পৃ: ৩৩)

ঘটনা #০৩
"... কাউন্সিল সভা যখন শুরু হল, মওলানা আকরম খাঁ সাহেব কিছু সময় বক্তৃতা করলেন। তারপরই আবুল হাশিম সাহেব সেক্রেটারি হিসেবে বক্তৃতা দিতে উঠলেন। কিছু সময় বক্তৃতা দেওয়ার পরই নাজিমুদ্দিন সাহেবের দলের কয়েকজন তার বক্তৃতার সময় গোলমাল করতে আরম্ভ করলেন। আমরাও তার প্রতিবাদ করলাম, সাথে সাথে গন্ডগোল শুরু হয়ে গেল। সমস্ত যুবক সদস্যই ছিল শহীদ সাহেবের দলে, আমাদের সাথে টিকবে কেমন করে! নাজিমুদ্দিন সাহেবকে কেউ কিছু বললো না। তবে তার দলের সকলেরই কিছু কিছু মারপিট কপালে জুটেছিল।

আমি ও আমার বন্ধু আজিজ সাহেব দেখলাম, শাহ আজিজুর রহমান সাহেব ছাত্রলীগের ফাইল নিয়ে নাজিমুদ্দিন সাহেবের পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি ও আজিজ পরামর্শ করছি শাহ সাহেবের কাছ থেকে এই খাতাগুলি কেড়ে নিতে হবে, আমাদের ছাত্রলীগের কাজে সাহায্য হবে। নাজিমুদ্দিন সাহেব যখন চলে যাচ্ছিলেন, শাহ সাহেবও রওয়ানা করলেন, আজিজ তাঁকে ধরে ফেলল। আমি খাতাগুলি কেড়ে নিয়ে বললাম, কথা বলবেন না, চলে যাবেন॥" - (অসমাপ্ত আত্মজীবনী / পৃ: ৪৪)

ঘটনা #০৪
"... শহীদ সাহেব আসছেন, তাকে সংবর্ধনা দিব, যদি কেউ পারে যেন মোকাবেলা করে। আমি রাতে লোক পাঠিয়ে দিলাম। যেদিন দুপুরে শহীদ সাহেব আসবেন সেদিন সকালে কয়েক হাজার লোক সড়কি, বল্লম, দেশী অস্ত্র নিয়ে হাযির হল। সালাম সাহেবের লোকজনও এসেছিল। তিনি বাঁধা দেবার চেষ্টা করেন নাই। তবে, শহীদ সাহেব, হাশিম সাহেব ও লাল মিয়া সাহেবের বক্তৃতা হয়ে গেলে সালাম সাহেব যখন বক্তৃতা করতে উঠলেন তখন 'সালাম সাহেব জিন্দাবাদ' দিলেই আমাদের লোকেরা 'মূর্দাবাদ' দিয়ে উঠল। দুই পক্ষে গোলমাল শুরু হল। শেষ পর্যন্ত সালাম সাহেবের লোকেরা চলে গেল। আমাদের লোকেরা তাদের পিছে ধাওয়া করল। শহীদ সাহেব মিটিং ছেড়ে দুই পক্ষের ভিতর ঢুকে পড়লেন। তখন দুই পক্ষের হাতেই ঢাল, তলোয়ার রয়েছে। কতজন খুন হবে ঠিক নাই। শহীদ সাহেব এইভাবে খালি হাতে দাঙ্গাকারী দুই দলের মধ্যে চলে আসতে পারেন দেখে সকলে আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল॥" - (অসমাপ্ত আত্মজীবনী / পৃ: ৪৬)

ঘটনা #০৫
"... একদিন নুরুদ্দিন, নুরুল আলম ও কাজী ইদ্রিস সাহেব আমাকে ডেকে পাঠালেন বেঙ্গল রেস্টুরেন্টে, আমার বাসার কাছে। জিজ্ঞাসা করলাম, 'ব্যাপার কি?' ওরা আমাকে বলল, 'সর্বনাশ হয়ে গেছে, আবুল হাশিম সাহেব প্রেস বিক্রি করে ফেলতে চান, আমরা চাঁদা তুলে প্রেস করেছি, মুখ দেখাব কি করে?' আমি বললাম, 'আমি কি করব?' সকলে বলল, 'তোমাকে বাঁধা দিতে হবে।' বললাম, 'আমি কেন বাঁধা দেব? আমি পাকিস্তানে চলে যাব আর কবে দেখা হবে ঠিক নাই। আমার প্রয়োজন কি? তোমরা হাশিম সাহেবের খলিফা, আমার নাম তো পূর্বেই কাটা গেছে, আর কেন?' সকলে বলল, 'তুমি বললেই আর ভয়েতে বিক্রি করবে না।' বললাম, 'ঠিক আছে আমি অনুরোধ করতে পারি।'

পরের দিন মিল্লাত প্রেসে গিয়ে হাশিম সাথে দেখা করি। পাশের ঘরে আমার সহকর্মীরা চুপ করে আছে, শুনবে আমাদের কথা। আমি খুব শান্তভাবে তাকে বললাম, 'প্রেসটা নাকি বিক্রি করবেন?' বললেন, 'উপায় কি? প্রত্যেক মাসেই লোকসান যাচ্ছে, কি করি? আর চালাবে কে?' আমি বললাম, 'খন্দকার নুরুল আলম তো ম্যানেজার হয়ে এতকাল চালাল। খরচ কমিয়ে ফেলল। প্রেসটা বিক্রি করে দিলে কর্মচারীদের থাকবে কি? আর আমরা মুখ দেখাতে পারব না। সমস্ত বাংলাদেশ থেকে চাঁদা তুলেছি, লোকে আমাদের গালি দিবে।' হাশিম সাহেব হঠাৎ রাগ করে ফেললেন এবং বললেন, 'আমাকে বেচতেই হবে, কারণ দেনা শোধ করবে কে?' আমি বললাম, 'কয়েকমাস পূর্বে যে প্রেসটা বিক্রি হল তাতে দেনা শোধ হয় নাই?' তিন ভীষণ রেগে গেলেন, আমারও রাগ হল। উঠে আসার সময় বলে এলাম, 'প্রেস বিক্রি করতে গেলে আমি বাঁধা দেব, দেখি কে আসে এই মিল্লাত প্রেসে?' হাশিম সাহেব খুব দু:খ পেলেন আমার কথায়।

পরের দিন ঐ বন্ধুরা আবার আমার কাছে এসে বলল, 'হাশিম সাহেব খানা খান না। শুধু বলেন, মুজিব আমাকে অপমান করল। তুই আবার দেখা কর, আর বলে দে, যা ভাল বোঝেন করেন।' আমি বললাম, 'তোমরা খেলা পেয়েছ?" - (অসমাপ্ত আত্মজীবনী / পৃ: ৭৯)

ঘটনা #০৬
"... শামসুল হক সাহেব ও আমি দুইজনই একগুঁয়ে ছিলাম। দরকার হলে সমানে হাতও চালাতে পারতাম আর এটা আমার ছোটকাল থেকে বদ অভ্যাস ছিল॥" - (অসমাপ্ত আত্মজীবনী / পৃ: ৯৫)

ঘটনা #০৭
"... আমি মনকে কিছুতেই সান্ত্বনা দিতে পারছি না। কারণ, শহীদ সাহেব আইনমন্ত্রী হয়েছেন কেন? রাতে পৌঁছে আমি তার সাথে দেখা করতে যাই নাই। দেখা হলে কি অবস্থা হয় বলা যায় না। আমি তার সাথে বেয়াদবি করে ফেলতে পারি। পরের দিন সকাল নয়টায় আমি হোটেল মেট্রোপোলে তার সঙ্গে দেখা করতে যাই। তিনি বাইরে যাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। আমাকে দেখে বললেন, 'গতরাতে এসেছ শুনলাম, রাতেই দেখা করা উচিত ছিল।' আমি বললাম, 'ক্লান্ত ছিলাম আর এসেই বা কি করব, আপনি তো এখন মোহাম্মদ আলী সাহেবের আইনমন্ত্রী।' তিনি বললেন, 'রাগ করছ, বোধহয়।' বললাম, 'রাগ করব কেন স্যার? ভাবছি সারা জীবন আপনাকে নেতা মেনে ভুলই করেছি কি না?' তিনি অমার দিকে চেয়ে বললেন, 'বুঝেছি, আর বলতে হবে না, বিকেল তিনটায় এস, অনেক কথা আছে॥" - (অসমাপ্ত আত্মজীবনী । পৃ: ২৮৫)

Kumar Parveen ভাই এর সংকলন থেকে।

২২ আগস্ট, ২০১৬

একটি হিন্দুবাড়ির গল্প


রাজেশ ফার্মা। মেইন রোডের পাশে বড় ঔষধের দোকান। বেচাকেনা ভালো। সত্ত্বাধিকারী রাজেশ রায় যতটা পরিচিত দোকানের জন্য তার চাইতে বেশী পরিচিত শিক্ষক হিসেবে। জিলা স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক। বিজ্ঞান পড়ান। দিনরাত খুব ব্যস্ততার মধ্যেই তাকে কাটাতে হয়। সকালে দুই ব্যাচ প্রাইভেট পড়ান। এরপর স্কুল। বিকেলে আবার ঔষধের দোকানে সময় দেন। বরাবরই তিনি হিসেবী মানুষ। ইদানিং আরো বেশী হিসেবী। ছেলে পরান দাঁড়িয়ে আছে দোকানের সামনে প্রায় আধাঘন্টা। তার সাইকেলের টায়ার ফেটে গেছে। সারাতে হবে। কিন্তু রাজেশ সাহেব এত সহজে টাকা ছাড়তে রাজি নন। তার দাবী পরানের অসাবধানতার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। অতঃএব এর দায় তাকে নিতে হবে। সে আগামী দু’দিন টিফিনের জন্য যা টাকা পাবে তা দিয়ে টিফিন না খেয়ে সাইকেল সারাতে হবে। এটাই তার প্রাপ্য শাস্তি। 

ছেলে পরানও নাছোড়বান্দা। কিছুতেই সে তার বাবার কথা মানতে রাজি নয়। তার দাবী এই সাইকেলে করে গতকাল অতিরিক্ত ভারবহনের কারণেই এই দূর্ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত ভারবহন বলতে এক মণ ওজনের চাউলের বস্তা গতকাল নিতে হয়েছে। রাজেশ সাহেব সাধারণত যেদিন চাউল কিনতে হয় সেদিন পরানকে নিয়ে যান। তিনি বাজার করে চাউল ছাড়া অন্যান্য সদাই রিকশায় করে নিয়ে আসেন। আর চাউলের বস্তা তুলে দেন পরানের সাইকেলে। এতে বিশ টাকা সেইভ হয়। নানা তর্ক, যুক্তি, পাল্টা যুক্তি শেষে টাকা দিতে বাধ্য হলেন রাজেশ সাহেব। ছেলে পরান টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় বলে গেছে আর কোনদিন নাকি সে চাউলের বস্তা সাইকেলে তুলবে না। 

সখীপুরে হিন্দুবাড়ি একটাই। আর এই বাড়ির প্রধান রাজেশ সাহেব। এখানে সবাই তার আত্মীয় স্বজন। সবার চাইতে বেশী টাকা উপার্জন করা সত্ত্বেও রাজেশ সাহেবের ঘরই সবচেয়ে মলিন। তিনি খরচ করেন কম। তার ধারণা বাংলাদেশে টাকা খরচ করা ঠিক না। তিনি তার দেশ বলতে ভারতকেই বুঝেন। ভারতীয় জিনিস ছাড়া কোন জিনিস কেনেন না। তার চাকরী আছে আর আট মাস। এরপর তার ইচ্ছা তিনি ভারত চলে যাবেন পুরো গোষ্ঠীসহ। তাই তিনি টাকা জমাতে থাকেন বহু বছর জুড়ে। 

রাজেশ সাহেবের চাচাতো ভাইরা স্বর্ণের ব্যবসা করেন। তাদের সাথেও তিনি ভারত যাওয়ার বিষয়টা শেয়ার করেন। তারাও সানন্দে রাজি হয়। গোপনে শুরু হয় গুছানোর কাজ। তাদের দেশ ছাড়ার বিষয়টা কঠিনভাবে গোপন রাখে তারা। দেখতে দেখতে সময় চলে যায়। রাজেশ সাহেবের চাকরী শেষ হয়ে যায়। পেনশনের টাকা একত্রেই সব তুলে নেন। একদিন তার দোকান বিক্রী করে দেন। প্রতিবেশীরা সবাই হায় হায় করে। রাজেশ সাহেব বলেন ছোট চাচাতো ভাইকে বিদেশ পাঠাবো তো... তাই কিছু টাকার জরুরী দরকার ছিল। এজন্যই দোকান বিক্রী। আসল কথা গোপন করে। 

এলাকার খন্দকার সাহেব ডাক্তারির পাশাপাশি মোটামুটি জমির কারবার করেন। একদিন খুব সকালে রাজেশ সাহেব এসে উপস্থিত খন্দকার সাহেবের বাড়িতে। বয়সের দিক দিয়ে খন্দকার সাহেব একটু ছোট হলেও দুজনেই ছোটবেলা থেকে বন্ধু। সাদরে অভ্যর্থনা জানালেন খন্দকার সাহেব। রাজেশ সাহেব ইনিয়ে বিনিয়ে যা বললেন তার সার সংক্ষেপ হলো তার বউয়ের ক্যান্সার ধরা পড়েছে। বাংলাদেশে ভালো চিকিৎসা নেই। ভারত নিয়ে যেতে হবে। টাকা দরকার। অনেক টাকা। খন্দকার সাহেব ব্যথিত হলেন খুব। নিজে থেকেই বেশ কিছু টাকা ঋণ দিতে চাইলেন। কিন্তু রাজেশ সাহেব বললেন তিনি বাড়ি বিক্রী করে দিতে চান। ঋণ নিয়ে ছোট থাকতে চান না। 

খন্দকার সাহেব অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন তবে থাকবেন কই? তিনি জবাব দিলেন সব কিছু ঠিকঠাক হলে এবং চিকিৎসা শেষে ফিরতে পারলে তার শ্বশুর বাড়িতে কিছু জমি আছে। সেখানে থাকার বন্দোবস্ত হবে। আর ফিরে আসলে চাচাতো ভাইদের সাথে স্বর্ণের ব্যবসা করবে। এর মধ্যে পরাণ নিশ্চয়ই চাকরী-বাকরী কিছু জুটাতে পারবে। তাই আর সমস্যা হবে না। তাই ভগবানের উপর ভরসা রেখে বাড়ি বিক্রয় করতে চায়। তার ক্যাশ টাকা লাগবে। তাই বাজারে যা দাম তার চাইতে কিছু কম হলেও তিনি ছেড়ে দিবেন। খন্দকার সাহেবের রাজী না হওয়ার কারণ নেই। রাজেশ সাহেব অত্যান্ত খুশি হলেন, যাওয়ার সময় বলে গেলেন ক্যন্সারের বিষয়ে এবং বাড়ি বিক্রয়ের বিষয়ে যেন কাউকে কিছু জানানো না হয়। কারণ ডাক্তারের পরামর্শে রোগের বিষয়টা রোগীর কাছে গোপন রাখা হয়েছে। সাবধান করে গেলেন, আপনি বৌদিকেও বলবেন না। মেয়েরা পেটে কথা রাখতে পারেনা। 

আরো কিছুদিন পরের কথা। একদিন সকালে খন্দকার সাহেব বারান্দায় বসে চা খাচ্ছেন। হঠাৎ কাজের ছেলেটা এসে খবর দিল রায় বাড়ির সবাই হাওয়া হয়ে গেছে। খন্দকার সাহেব অবাক হলেন যাওয়ার কথাতো শুধু রাজেশের। কিন্তু পুরো বাড়ি হাওয়া হয়ে যাওয়ার কারণ তিনি বুঝতে পারেন নি। যাই হোক মনে মনে ঠিক করলেন আজ বিকেলেই তিনি রাজেশ সাহেবের বাড়ির দখল নিবেন। এই কথা চিন্তা করতেই হঠাৎ তার মনে হলো রাশেজের বউয়ের কথাতো সাজেদাকে বলা হয়নি। তিনি উঠে গিয়ে দ্রুত স্ত্রী সাজেদা বললেন রাজেশের স্ত্রীর ক্যন্সারের কথা এবং তার বাড়ি ক্রয় করার কথা। হায় হায় বলে আর্তনাদ করে উঠলেন সাজেদা। হিন্দুদের তুমি চেন নাই। এরা দশজনের কাছে জমি বিক্রী করে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। তুমি ওর কথায় আমাকে পর্যন্ত বললে না। 

সাজেদার কথার কোন গুরুত্বই দিলেন না খন্দকার সাহেব। তিনি রাজেশকে চিনেন। সেই ছোটবেলা থেকে। রাজেশ একটু কৃপণ কিন্তু তাই বলে তাকে প্রতারক তাকে কোনদিন মনে হয়নি। তাছাড়া সে স্কুল শিক্ষক। সামান্য মূল্যবোধ তো তার থাকবেই। নিজের ব্যস্ততায় ঐ পুরো সপ্তাহ রাজেশের বাড়ির মুখো হতে পারেননি। একদিন শুক্রবার আমিনকে (জমি জরিপকারী) ডেকে পাঠালেন। আমিন আসলে রাজেশের বাড়ির কথা বললেন। আমিন চোখ কপালে তুলে বললো আপনিও কিনেছেন সেই জমি? খন্দকার সাহেব অবাক হয়ে বললেন, আপনিও মানে? আমি ছাড়া অন্য কেউ কিনেছে নাকি? আমিন বললো, চলেন গিয়ে দেখেন সেখানে কি হচ্ছে? 

রায় বাড়িতে মনে হয় যেন মেলা বসছে। লোকে লোকারণ্য। প্রায় সবাই মারমুখী। জানা গেল রাজেশের জমি কিনেছে চারজন। তার চাচাতো ভাইদের জমি কিনেছে আট জন। আরো বারো জনের কাছ থেকে তারা ৫০ লক্ষ টাকা লোন করে পালিয়ে গেছে। খন্দকার সাহেব জমির দখল নিতে চাইলেন। অন্য তিনজন মালিক খন্দকার সাহেবকে চরম অপমান করলো। তাদের দাবী রাজেশ চলে যাওয়ার খবর পেয়ে তার সম্পদ ভোগ করতে ছুটে গিয়েছেন তিনি। যদি তিনি সত্যই কিনে থাকেন তাহলে এতদিন পরে আসলেন কেন? ভীষন অপমানিত হয়ে রায় বাড়ি থেকে ফিরে আসলেন খন্দকার সাহেব। হার মানতে রাজি হননি। 

মামলা ঠুকে দিলেন। একে একে সবাই কোর্টে আসলো। রাজেশের জমি নিয়ে মামলা চলতে লাগলো চার জনের মধ্যে। কেউ কাউরে নাহি ছাড়ে, সমানে সমান লড়াই চলতে লাগলো। এভাবে বছর বছর পার হতে লাগলো। খন্দকার সাহেব ভালো করে নিয়মমত রাজেশ থেকে সব কাগজপত্র বুঝে নিলেও বাকীরা এই বিষয়ে অতটা নজর দেয়নি। তাই খন্দকার সাহেবের কাগজের জোর ছিল বেশী। খন্দকার সাহেব টাকাও খরচ করেছেন দেদারছে। উকিল নিয়োগ করেছেন তার উকিল বন্ধুকে। তিনিও বেশ পরিশ্রম করেছেন। সব মিলিয়ে রায় এলো খন্দকার সাহেবের পক্ষেই। তিনি দখলেও নিয়েছেন। দখলে নিয়েই নীতিবান মানুষ খন্দকার সাহেব অপর তিন ব্যক্তিকে ডাকলেন। কে কত দিয়ে কিনেছে, কার কত খরচ হয়েছে মামলায়, সব বিবেচনায় একটা ফয়সালা করলেন। সিদ্ধান্ত হলো এখানে বহুতল ভবন হবে সবার অংশগ্রহনে। খন্দকার সাহেবেই এই বদান্যতায় সবাই খুশি এবং তাদের মধ্যে আর কোন ঝামেলা রইলো না। তারাও আর এ বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতে গেল না। 

এদিকে রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হলো। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলো। কয়েকবছর ঠিকঠাক চললেও ধীরে ধীরে স্বৈরাচারী হয়ে উঠে সরকার। খন্দকার সাহেব সরকার বিরোধী লোক হিসেবে একটু কোণঠাসা হয়ে আছেন। তবে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতার চাইতে ভালোই আছেন। তিনি নিজের বাসায় থাকতে পারেন। অন্যরা নিজের বাসায়ই থাকতে পারে না পুলিশের ভয়ে। রাজনীতি করা তো দূরের বিষয়। খন্দকার সাহেব ডাক্তার মানুষ। বহু মানুষের সেবা করেন এমনকি আওয়ামীলীগেরও। বিপদে সবাই তাকে কাছে পেতে চায়। এটাই খন্দকার সাহেবের ভালো থাকার কারণ। 

এদিকে রাজেশের অবস্থা ভালো না। কলকাতায় সে নিজের ঠাঁই করে নিতে পারেনি। চাচাতো ভাইরা মোটামুটি ব্যবসা ধরে ফেলেছে। তবে অবস্থা মোটেই সন্তোষজনক নয়। রাজেশ কিছুই করতে পারেন নি। এদিকে বয়সও বেড়ে গেছে। আগের মত পরিশ্রম করতে পারেন না। কলকাতায় টুকটাক আয় যা হয় তার চাইতে খরচ বেশী। জমানো টাকা ক্রমেই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে আসা ছাড়া গতি নেই। আবার যে কান্ড করে এসেছে বাংলাদেশে মুখ দেখানোর বা ঠাঁই পাওয়ার কোন অবস্থা নেই। তারপরও তার আশা বাংলাদেশের কোন না কোন অংশে তার ঠাঁই হবে। কারণ বাংলাদেশে কাজ পাওয়া ভারতের চাইতে অনেক সোজা। ছাত্র পড়িয়েও কোন রকম দিন কাটানো যাবে। 

রাজেশ সাহেবের আফসোসের এখন সীমা নাই। তিনি আসলে কিসের জন্য আফসোস করবেন ভেবে পান না। প্রতারণার জন্য কখনো কখনো আফসোস করেন, ভাবেন ঐ প্রতারণা না করলে আজ তিনি এলাকায় আবার সম্মানের সাথে গৃহিত হতেন। পড়ানোর জন্য ছাত্র পেতেন অনায়াসে, আবার ঔষধের দোকানটাও চালু করতে পারতেন। আবার আফসোস করেন বাংলাদেশ ছাড়ার সিদ্ধান্তের জন্য। ঐ ভুল সিদ্ধান্তটা মাথায় না আসলে আজ তিনি কত আরামে থাকতে পারতেন। অবশ্য তিনি বুঝতে পারেন নি কলকাতার মানুষেরা এতটা খাইস্টা হবে। ওরা যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দুদের মানুষই মনে করে না এটা তিনি ভাবতেই পারেন নি। এই আফসোসের মধ্যেই একদিন তার মাথায় উঁকি দিল আরেক শয়তানি বুদ্ধি। 

একদিন রাজেশকে দেখা গেল সখিপুরে, না কোন হতাশাগ্রস্থ বৃদ্ধকে কেউ দেখেনি। সবাই দেখেছে বিজয়ীর বেশে আসছে রাজেশ। সাথে একগাদা পুলিশ আর জনা দশেক সাংবাদিক আর আওয়ামীলীগ নেতার চ্যালা-চামুন্ডারা। রাজেশ তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে গেল তার সাবেক ঘরের কাছে যেখানে এখন বহুতল বাড়ি করছেন খন্দকার সাহেব। এসে কেঁদে কেঁদে বর্ণনা দিলেন কিভাবে খন্দকার সাহেব আট বছর আগে তাদের পুরো গোষ্ঠীকে নির্যাতন করে তাড়িয়ে দিয়েছে। দেশব্যাপী খবর ছড়িয়ে পড়লো মিডিয়ার কল্যাণে। রাজেশের দুঃখে দুঃখী হয়ে উঠলো পুরো দেশ। 

আওয়ামীলীগ নেতা দখলে নিল পুরো সম্পত্তি। রাজেশকে একটু জায়গা দিল। রাজেশ আবার এলাকায় বীরদর্পে চলাফেরা করতে লাগলো। সে এখন সখীপুরের দন্ডমুন্ডের কর্তা। একে একে সব হারাতে লাগলেন খন্দকার সাহেব। নিজের চেম্বার, ব্যবসাপাতি, এমনকি ভিটেমাটিও। তার স্থান হয় কারাগারে। সাজেদা তার ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে বহুদিনের গড়া নিজের সংসার ছেড়ে চলে যান অন্য শহরে তার বড় ছেলের কাছে। 

অনেকদিন পরের কথা। এতদিনে বহু জল বহু দিকে গড়িয়েছে। খন্দকার সাহেব বয়সের ভারে ন্যুজ। ছেলের বাসায়ই থাকেন। আগের মত চেম্বারে গিয়ে এবং হাসপাতালে গিয়ে রোগী দেখেন না। বাড়িতে কিছু রোগী আসে তাদের চিকিৎসাপত্র দেন। অবসর কাটে নাতীদের সাথে গল্প করে আর বই পড়ে। একদিন সকালে সস্ত্রিক হাঁটছেন পার্কে। হঠাৎ পার্কের বাইরে এক বৃদ্ধ ভিক্ষুককে দেখে চমকে উঠেন। সাজেদাকে দেখান। তারপর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পাশ কেটে চলে যান।

১৬ আগস্ট, ২০১৬

একজন আফগান বীরের গল্প


আমরা আফগানিস্তানের রুশ আক্রমনের কথা জানি। আরো জানি আফগান মুজাহিদদের কথা। অনেকে অবশ্য ভুলভাবে জানি এই আফগান মুজাহিদরাই তালিবান। কিন্তু তা নয়। আজ আমরা জানবো এক আফগান বীরের কথা যিনি আফগানিস্তান থেকে অত্যাচারী বাদশাহ দাউদ খানকে সরানোর ব্যাপারে এবং রুশ বাহিনীকে হটানোর পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পাঞ্জশিরের সিংহ খ্যাত এই আফগান বীরের নাম আহমদ শাহ মাসউদ। তিনি ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও সামরিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ সালের সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং একই সময়ের গৃহযুদ্ধের বছরগুলোতে একজন শক্তিশালী সামরিক কমান্ডার দায়িত্বপালন করেন। কখনোই তিনি আফগানে বিদেশী হস্তক্ষেপ সহ্য করেননি। এজন্যই আল কায়েদা নামের বিদেশী চরেরা তাকে খুন করেছে ২০০১ সালে। 

কমিউনিস্টবিরোধী যুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্যে তাঁকে ‘শেরে পাঞ্জশির’ বা পাঞ্জশিরের সিংহ নামে ডাকা হয়। আহমদ শাহ মাসউদ ১৯৫৩ সালের ২রা জানুয়ারি পানশিরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা দোস্ত মুহাম্মদ খান আফগান রয়্যাল আর্মিতে কর্নেল ছিলেন। আহমদ শাহ কাবুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন জামায়াতে ইসলামির ছাত্র সংগঠন সয্‌মান-ই জোওয়ানান-ই মুসলমান (Organization of Muslim Youth)- এ যুক্ত হন। তখন জামায়াতে ইসলামির আমীর ছিলেন অধ্যাপক বুরহানউদ্দিন রব্বানী। ১৯৭৫ সালের দিকে জামায়াতে ইসলামি ও গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের নেতৃত্বাধীন হিয্‌বে ইসলামির মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এসময় হিয্‌বে ইসলামির কর্মীরা আহমদ শাহ মাসুদকেকে হত্যা করার চেষ্টা করে। সেযাত্রা তারা ব্যার্থ হয়। সত্তরের দশক থেকেই বাদশাহ দাউদ খানের বিরুদ্ধে জনগন আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। দাউদ খানের অত্যাচারও বাড়তে থাকে। ১৯৭৮ সালের ২৭ এপ্রিল দাউদ খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান মধ্যে দিয়ে তার দীর্ঘ অত্যাচারের অবসান হয়। সেনাবাহিনী জনগণের পক্ষে অবস্থান নেন। আফগানিস্তানের যুব নেতা আহমদ শাহ মাসুদ গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে আফগানিস্তানের তরুণ যুবারা দিনের পর দিন দাউদ খানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে।  

এই অভ্যুত্থানের পরও আফগানিস্তানে কাঙ্ক্ষিত শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি। অভ্যুত্থানের পরে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে মস্কোপন্থী বাম দল পিপলস্‌ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ক্ষমতায় আসে। তারা সমাজতন্ত্রের বিস্তার এবং সেভাবে নীতি নির্ধারণ করতে চাইলে দেশের ইসলামি দলগুলোর সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এসময় সমাজতন্ত্রী সেনারা প্রায় এক লাখ ইসলামপন্থী মানুষকে নির্দয়ভাবে খুন করে। এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে আফগানরা নতুনভাবে সংগঠিত হয়। ১৯৭৯ সালে ২৪ টি প্রদেশে আফগানরা প্রতিরোধ শুরু করে। অর্ধেকের বেশি সেনাবাহিনী সদস্য পক্ষ ত্যাগ করে। ৬ই জুলাই আহমদ শাহ মাসউদ পাঞ্জশিরে দলত্যাগী সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এবং সাধারণ মুসলিম জনতাকে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পিছু হটতে থাকে বাম সেনাবাহিনী। তাদের সাহায্যে সে বছরই ডিসেম্বর মাসে রাশিয়া আফগানিস্তানে সেনা প্রেরণ করে। সরকারবিরোধীদের নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে রুশ বাহিনী। সম্মুখ যুদ্ধে সফল না হয়ে মাসউদ গেরিলা যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। আফগানিস্তানের অন্যান্য অংশে যুদ্ধ চলতে থাকলেও রুশ প্রতিরোধ আন্দোলনের মূল কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠেন আহমদ শাহ মাসউদ। 

দশ বছর ধরে চলা যুদ্ধের শেষ দিকে মুজাহিদদের সাহায্যে এগিয়ে আসে আমেরিকার মদদপুষ্ট আল-কায়েদা। তাদের আর্থিক ও অস্ত্রের সাহায্য পেয়ে অন্যান্য গেরিলা যোদ্ধারা শক্তিশালী হয়ে উঠে। রুশরা এতদিন শুধুমাত্র মাসউদ ছাড়া অন্যান্যদের খুব একটা গোনায় ধরতো না। কিন্তু পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে তারা অন্যান্য দিকে নজর দিলে মাসউদ যুদ্ধে সফলতা পেতে থাকেন। একের পর এক এলাকা থেকে রুশদের বিতাড়িত করতে থাকেন। তার ক্রমাগত আক্রমনে রুশরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা ১৯৮৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। তারপরও পিপলস্‌ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সরকার মুজাহিদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে। ১৯৯২ সালে ১৭ই এপ্রিল তাদের চুড়ান্ত পরাজয় হয়। 

২৪ শে এপ্রিল পেশোয়ারে সমাজতন্ত্রবিরোধী দলগুলোর মধ্যে শান্তি ও ক্ষমতাবন্টন চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ-চুক্তিতে জামায়াতে ইসলামীর আমীর বুরহান উদ্দিন রব্বানী প্রেসিডেন্ট, আহমদ শাহ মাসউদকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও গুল্বুদ্দিন হেকমতিয়ারকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়। কিন্তু হেকমতিয়ার এ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। পরে আল কায়েদা প্রধান বিন লাদেনের প্ররোচনায় এবং গোপন ষড়যন্ত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মূলত তখন হেকমতিয়ার চুক্তিতে না আসলে আহমদ শাহ মাসউদের সাথে তার যুদ্ধ অবধারিত ছিল। আহমদ শাহ মাসউদ তাকে পর্যদুস্থ করে ফেলতে পারবেন। তাই বিন লাদেন তাকে সময় নিয়ে এবং সরকারি সুবিধা নিয়ে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। 

বিন লাদেনের কথামত হেকমতিয়ার সরকারি সুবিধা নিয়েই জামায়াতে ইসলামী তথা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। এদিকে চরম গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে আল কায়েদা তালিবানের উত্থান ঘটায় আফগানিস্থানে। ১৯৯৬ সালে শুরুর দিকে তালিবান-আল কায়েদা যৌথভাবে আফগানিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে হামলা করে। একদিকে হেকমতিয়ার অন্যদিকে লাদেন-মোল্লা ওমর, তাদের মাথার উপরে আবার সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা। সব মিলিয়ে ১৯৯৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার পরাজিত হয়। তালেবান ক্ষমতা দখল করে। 

পুরো আফগানিস্তান থেকে ক্ষমতাচ্যুত হলেও আহমদ শাহ মাসউদ পাঞ্জশিরের কর্তৃত্ব ছাড়েন নি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি আমেরিকার মদদপুষ্ট আল কায়েদা এবং তালেবানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছেন। ২০০১ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর (টুইন টাওয়ারে হামলার মাত্র দুই দিন আগে) উত্তর আফগানিস্তানের তাখার প্রদেশে খাজা বাহাউদ্দিন এলাকায় আত্মঘাতি হামলায় আহমদ শাহ মাসউদ শাহদাত বরণ করেন। আল কায়েদার সন্ত্রাসীরা এই মহান বীর ইসলামের মহান সৈনিককে হত্যা করে। তাকে এর আগে বহুবার কেজিবি, আইএসআই, আফগান কমিউনিস্ট কেএইচএডি, তালেবান ও আল-কায়েদা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের সেসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তাঁর জন্মস্থান বাজারাকেই তাঁকে দাফন করা হয়। তিনিই একমাত্র আফগান নেতা যিনি কখনো আফগানিস্তানের বাইরে থাকেন নি। 

আল্লাহ তায়ালা এই মহান বীরকে সম্মানিত করুন। জান্নাতে সর্বোচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করুন। আফগানিস্তানকে বিদেশী এবং ইসলামবিরোধী শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

মুমিনের সাংগঠনিক গুণাবলী, পর্ব ০১


সংগঠন শব্দের সাধারণ অর্থ সংঘবদ্ধ করণ। এর বিশেষ অর্থ দলবদ্ধ বা সংঘবদ্ধ জীবন। ইকামাতে দ্বীনের কাজ আঞ্জাম দেয় যে সংগঠন তাকেই বলা হয় ইসলামী সংগঠন। ইসলামী সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে ইকামাতে দীনের সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য ফরয। সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দীন কায়েম হতে পারে না। সংগঠিত উদ্যোগ ছাড়া ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও সৌন্দর্য বিকাশ সাধন সম্ভবপর নয়।

সংগঠন সম্পর্কে আল্লাহর নির্দেশ, তোমরা সংঘবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে (অর্থাৎ ইসলামকে) আঁকড়ে ধর”-আল ইমরান ১০৩
সংগঠন সর্ম্পকে আল্লাহর রাসূলের (সা) বাণী, ‘আমি তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি আল্লাহ আমাকে ঐগুলোর নির্দেশ দিয়েছেন। (বিষয়গুলো হচ্ছে) সংগঠন, নেতার নির্দেশ শ্রবণ, নেতার নির্দেশ পালন, আল্লাহর অপছন্দনীয় সবকিছু বর্জন এবং আল্লাহর পথে জিহাদ। যেই ব্যক্তি ইসলামী সংগঠন ত্যাগ করে এক বিঘৎ পরিমাণ দূরে সরে গেছে সে নিজের গর্দান থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলেছে, তবে সে যদি সংগঠনে প্রত্যাবর্তন করে তো স্বতন্ত্র কথা। 

“আর যে ব্যক্তি জাহিলিয়াতের দিকে আহবান জানায় সে জাহান্নামী” সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করিলেন, “হে আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম এবং সাওম পালন করা সত্ত্বেও?” আল্লাহর রাসূল বললেন, “সালাত কায়েম, সাওম পালন এবং মুসলিম বলে দাবী করা সত্ত্বেও। ” -আহমাদ ও হাকেম 

“তিনজন লোক কোন নির্জন প্রান্তরে থাকলেও একজনকে আমীর না বানিয়ে থাকা জায়েয নয়।”“তিনজন লোক সফরে বের হলে তারা যেন তাদের একজনকে আমীর বানিয়ে নেয়।”-সুনানু আবী দাউদ

“যে ব্যক্তি জান্নাতের আনন্দ উপভোগ করতে চায় সে যেন সংগঠনকে আঁকড়ে ধরে”। -সহীহ মুসলিম

“যেই ব্যক্তি জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে তার মৃত্যু হবে জাহিলিয়াতের মৃত্যু”। -সহীহ মুসলিম

সংগঠন সর্ম্পকে হযরত উমারের (রা) উক্তি, “সংগঠন ছাড়া ইসলাম নেই। নেতৃত ছাড়া সংগঠন নেই। আনুগত্য ছাড়া নেতৃত্ব নেই।”

এ সব আয়াত, হাদিস এবং উক্তি থেকে প্রমাণিত হয় যে-

(১) মুমিনদের সংঘবদ্ধ জীবন যাপন করতে হবে। 
(২) এককভাবে জীবনযাপন করার অধীকার তাদের নেই। 
(৩) একক জীবস যাপনকারী শয়তানের শিকারে পরিণত হয়। 
(৪) ইসলামী সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া জাহিলিয়াতে প্রত্যাবর্তনের শামিল। 
(৫) সংঘবদ্ধভাবে জীবন যাপন জান্নাত প্রাপ্তির অন্যতম পূর্বশর্ত। 

ইসলামী সংগঠনের অর্ন্তভুক্ত হওয়া কোন শখের ব্যাপার নয়। ইসলামী সংগঠনের অর্ন্তভুক্ত না হওয়া আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের(সা) নির্দেশের সুস্পষ্ট লংঘন। পক্ষান্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা) প্রতি ঈমানের অনিবার্য দাবী হচ্ছে সংঘবদ্ধ জীবন যাপন। এই সংঘবদ্ধ জীবন যাপনে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা অতিশয় জরুরী। 

১। নেতৃত্ব বা পদের প্রতি লোভী হওয়া যাবে না 
কিয়ামতের দিন যেদিন বিচারক হবেন স্বয়ং আল্লাহ সুহবাহানাল্লাহু তায়ালা সেদিন নেতার জবাবদিহি একজন সাধারণ মুমিনের জবাবদিহীর চেয়ে কঠোরতর হবে। এই জবাবদিহি সম্পর্কে সত্যিকার অর্থে সচেতন কোন ব্যক্তি নেতৃত্ব-পদ লাভের আকাংখা পোষণ করবে, এটা স্বাভাবিক নয়। যদি কোন ব্যক্তির কথা আচরণ থেকে প্রমাণিত হয় যে নেতৃত্ব পদের প্রতি তার লোভ রয়েছে তাহলে বুঝতে হবে যে সেই ব্যক্তি ব্যাধিগ্রস্থ। একমাত্র আত্মপুজারী বা স্বার্থান্ধ ব্যক্তিই ইসলামী সংগঠনের নেতৃত্ব পদ লাভের জন্য প্রার্থী হতে পারে। এই ধরনের কোন ব্যক্তি যাতে ইসলামী সংগঠনের কোন পদ পেতে না পারে সেই ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল(সা) সদা-সতর্ক ছিলেন। 

রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন, “হে আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ, নেতৃত্ব পদ প্রার্থী হয়ো না। কারণ প্রার্থী না হয়ে নেতৃত্ব প্রদত্ত হলে তুমি এই ব্যাপারে সহযোগীতা পাবে। আর প্রার্থী পয়ে নেতৃত্ব পদ পেলে তোমার ওপরই যাবতীয় দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হবে। ” সহীহ মুসলীম

তিনি আরো বলেছেন, “আল্লাহর শপথ, আমরা এমন কোন লোকের ওপর এই কাজের দায়িত্ব অর্পণ করবো না যে এর জন্য প্রার্থী হয় বা অন্তরে এর আকাংখা পোষণ করে।” সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম

পদ লোভী ব্যক্তি দল বা রাষ্ট্রের নেতৃত্ব পদ লাভ করলে সে তা বিনাশই করে ছাড়ে। তদুপরি সে তার আখিরাতেও বরবাদ করে। এই সম্পর্কেই আল্লাহর রাসুল(সা)বলেছেন, 

“অচিরেই তোমরা নেতৃত্ব পদের অভিলাষী হয়ে পড়বে। আর কিয়ামাতের দিন এটা তোমাদের জন্য লজ্জা ও দু:খের কারণ হবে।” -(সহীহুল বুখারী)

২। নেতৃত্বের জন্য যোগ্য ব্যক্তিকে বাছাই করা। 
সূরা আন নিসায় ৫৮ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে হে মুসলিমগণ ! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় আমানত তার হকদারদের হাতে ফেরত দেবার নির্দেশ দিচ্ছেন। নেতৃত্ব প্রদানের দায়িত্বও একটি আমানত। নেতা বাছাইয়ের নিয়ম বা প্রক্রিয়া আমরা সালাত থেকে পেয়ে থাকি। সালাতেও ইমাম বা নেতা নির্বাচন করতে হয়। 

যে গুণাবলী থাকলে কোন ব্যক্তি নেতা হতে পারবে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গুণগুলো রাসূল সা. সুন্দরভাবে মুসলমানদের জানিয়ে দিয়েছেন, নামাজের ইমাম হওয়ার গুণাবলী বর্ণনাকারী নিম্নের হাদীসগুলোর মাধ্যমে-

হযরত আবু মাসউদ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : মানুষের ইমামতি করবে সে-ই, যে কুরআন ভাল পড়ে। যদি কুরআন পড়ায় সকলে সমান হয়, তবে যে সুন্নাহ বেশি জানে। যদি সুন্নাহেও সকলে সমান হয়, তবে যে হিজরত করেছে সে। যদি হিজরতেও সকলে সমান হয়, তবে যে বয়সে বেশি। কেউ যেন অপর ব্যক্তির অধিকার ও সেইস্থলে ইমামতি না করে এবং তার বাড়িতে তার সম্মানের স্থলে অনুমতি ব্যতীত না বসে। (মুসলিম)

হযরত আবু সায়ীদ খুদরী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : যখন তিন ব্যক্তি হবে, তখন যেন তাদের মধ্য হতে একজন ইমামতি করে এবং ইমামতির অধিকার তার, যে কুরআন অধিক ভাল পড়ে। (মুসলিম)যে গুণাবলী থাকলে কোন ব্যক্তি নেতা হতে পারবে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গুণগুলো রাসূল সা. সুন্দরভাবে মুসলমানদের জানিয়ে দিয়েছেন, নামাজের ইমাম হওয়ার গুণাবলী বর্ণনাকারী নিম্নের হাদীসগুলোর মাধ্যমে-

১. শুদ্ধ করে কুরআন পড়াসহ কুরআনের জ্ঞান থাকা,
২. হাদীসের জ্ঞান থাকা,
৩. হিজরত করা এবং
৪. বয়স। 

কুরআনের জ্ঞান ও হাদীসের জ্ঞান থাকা খুব সহজে বুঝা গেলেও হিজরত আমাদের সাধারণত বুঝাটা একটু কষ্টকর। মদীনার প্রাথমিক সময়ে হিজরত ছিল সবচেয়ে বড় আমল যা করতে সবচেয়ে বেশী ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। হিজরত করেছেন তারা যারা দ্বীন কায়েমের জন্য তাদের সকল সহায় সম্পত্তি আত্মীয় স্বজন বিসর্জন দিয়েছেন। এখনো আমাদের দেশে যারা দ্বীন কায়েমের পথে নিয়োজিত আছেন। শ্রম দিচ্ছেন ত্যাগ স্বীকার করছেন তারা নেতা হওয়ার জন্য অধিকতর যোগ্য। 

মুসলিম সমাজ বা দেশের নেতা তথা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার পরিষদের নেতা কী পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন করতে হবে সেটি মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন নামাজের ইমাম নির্বাচনের পদ্ধতির মাধ্যমে, যা প্রত্যেক নামাজীকে প্রতিদিন পাঁচবার অনুশীলন করতে হয়। নামাজের ইমাম নির্বাচনের ঐ পদ্ধতি রাসূল সা. জানিয়ে দিয়েছেন নিম্নের হাদীসগুলোর মাধ্যমে,

ইবনে উমর রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, তিন ব্যক্তির নামাজ কবুল হবে না। যে কোন গোত্র বা জাতির ইমাম হয়েছে অথচ তারা তাকে পছন্দ করে না, যে নামাজ পড়তে আসে দিবারে। আর দিবার হল- নামাজের উত্তম সময়ের পরের সময়কে এবং যে কোন স্বাধীন নারীকে দাসীতে পরিণত করে। (আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)।

আবু উমামা রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, তিন ব্যক্তির নামাজ তাদের কানের সীমা অতিক্রম করে না (অর্থাৎ কবুল হয় না) পলাতক দাস যতক্ষণ না সে ফিরে আসে, যে নারী রাত্রি যাপন করেছে অথচ তার স্বামী তার ওপর অসন্তুষ্ট এবং গোত্র বা জাতির ইমাম কিন্তু মানুষ তাকে পছন্দ করে না। (তিরমিযী)

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, তিন ব্যক্তির নামাজ তাদের মাথার উপর এক বিঘতও ওঠে না অর্থাৎ কখনই কবুল হয় না। ক. যে ব্যক্তি কোন গোত্র বা জাতির ইমাম হয় কিন্তু তারা তাকে পছন্দ করে না, খ. সেই নারী যে রাত্রি যাপন করেছে অথচ তার স্বামী সঙ্গত কারণে তার ওপর নাখোশ এবং গ. সেই দুই ভাই যারা পরস্পরে বিচ্ছিন্ন। (ইবনে মাজাহ)

উপরিউক্ত হাদীসগুলো থেকে একথা স্পষ্ট কোন ব্যক্তির ইমামতির যোগ্যতা থাকার পরও মুক্তাদী বা অনুসারী বা জনগনের ভোট বা সমর্থন জরুরী। অধিকাংশ জনগনের সমর্থন না থাকলে তিনি ইমামতি তথা নেতা হওয়ার যোগ্যতা হারান। 

এই সকল হাদীসের আলোকে স্পষ্টভাবে ইমাম নির্বাচনের ব্যাপারে যে বিধি-বিধান বের হয়ে আসে এবং যা প্রতিটি মুসলমান বাস্তব আমলের ভিত্তিতে দিনে পাঁচবার অনুসরণ করছে, তা হচ্ছে-

ক. ভোট বা সমর্থনের মাধ্যমে সকল বা অধিকাংশ মুক্তাদি যাকে পূর্বোল্লিখিত গুণাগুণসমূহের ভিত্তিতে অধিকতর যোগ্য মনে করবেন তিনি নামাজের ইমাম হবেন। আর এই সমর্থন দিতে হবে সকল রকম অন্যায় প্রভাব মুক্ত হয়ে।

খ. ঐ পদ্ধতি অনুসরণ করে ইমাম নির্বাচন করা ইসলামের একটি মৌলিক বিধান। কারণ, রাসূল সা. বলেছেন, ঐ পদ্ধতি অনুসরণ না করে যে ইমাম হবে, তার নামাজ কবুল হবে না। সুতরাং তাকে জাহান্নামে যেতে হবে অর্থাৎ তার সকল কর্মকাণ্ড ব্যর্থ হবে।

নামাজের অনুষ্ঠান থেকে আল্লাহ মুসলমানদের বিভিন্ন শিক্ষা দিতে চেয়েছেন। আর নামাজের ইমাম নির্বাচনের বিধি-বিধানের মাধ্যমে মহান আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন, সমাজের নেতা নির্বাচন করার বিধি-বিধান। তাহলে সমাজের নেতা নির্বাচনের সেই বিধি-বিধানগুলো হবেঃ

ক. নেতা নির্বাচিত করতে হবে সকল বা অধিকাংশ ঈমানদার মুসলমানের সমর্থন তথা ভোটের মাধ্যমে।

খ. সকল বা অধিকাংশ ঈমানদার মুসলমান ঐ ভোটের মাধ্যমে জানাবেন কোন ব্যক্তি তাদের মতে নেতা হওয়ার জন্যে পূর্বোল্লিখিত গুণাগুণের ভিত্তিতে অধিকতর যোগ্য।

গ. ঐ ভোটগ্রহন হতে হবে সকল প্রকার অন্যায় প্রভাবমুক্তভাবে।

৩। কার্যকরী কমিটি গঠনে নেতার পছন্দকে গুরুত্ব দেয়া 
সূরা ত্বহার ২৯ থেকে ৩২ নম্বর আয়াতে এবং সূরা আল ফুরকানের ৩৫ নং আয়াতে এই বিষয়ে মুমিনদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। মূসা আঃ আল্লাহর তায়ালার কাছে আবেদন জানালেন আমার বংশের লোকদের মধ্যে একজনকে, আমার ভাই হারুনকে, আমার সহযোগী বানিয়ে দিন। তার দ্বারা আমার হাতকে শক্তিশালী করুন এবং তাকে আমার কাজে শরীক বানিয়ে দিন। আল্লাহ তায়ালা তার এই আবেদন কবুল করে বললেন, 
হে মুসা তুমি যা চেয়েছো তা তোমাকে দেয়া হলো।

নেতা যাদের নিয়ে কাজ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবেন অথবা যাদের নিয়ে কাজ করতে কমফোর্ট ফীল করবেন তাদের নিয়ে কাজ করলে নেতার কাজ করা সহজ হয়। মুসা আঃ যা চেয়েছেন আল্লাহ তায়ালা সে ইচ্ছা কবুল করেছেন। কার্যকরী কমিটি গঠনের ব্যাপারে তাই নেতার পছন্দকে গুরুত্ব দেয়া দরকার। 

৪। পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা 
আল্লাহ্ তায়ালা বলেন,“এবং তারা নিজেদের সব কাজ পরস্পর পরামর্শের ভিত্তিতে চালায়।”(সূরা শূরাঃ৩৮)

এ বিষয়টিকে এখানে ঈমানদারদের সর্বোত্তম গুণাবলীর মধ্যে গণ্য করা হয়েছে এবং সূরা আল ইমরানে (আয়াত ১৫৯) এর জন্য আদেশ করা হয়েছে। এ কারণে পরামর্শ ইসলামী জীবন প্রণালীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। পরামর্শ ছাড়া সামষ্টেক কাজ পরিচালনা করা শুধু জাহেলী পন্থাই নয়, আল্লাহর নির্ধারিত বিধানের সুস্পষ্ট লংঘন। ইসলামে পরামর্শকে এই গুরুত্ব কেন দেয়া হয়েছে? এর কারণসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করলে আমাদের সামনে তিনটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায়ঃ

এক. যে বিষয়টি দুই বা আরো বেশী লোকের স্বার্থের সাথে জড়িত সে ক্ষেত্রে কোনো এক ব্যক্তির নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের উপেক্ষা করা যুলুম। যৌথ ব্যাপারে কারো যা ইচ্ছা তাই করার অধিকার নেই। ইনসাফের দাবী হচ্ছে, কোনো বিষয়ে যতো লোকের স্বার্থ জড়িত সে ব্যাপারে তাদের সবার মতামত গ্রহণ করতে হবে এবং তাতে যদি বিপুল সংখ্যক লোকের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট থাকে তাহলে তাদের আস্থাভাজন প্রতিনিধিদেরকে পরামর্শের মধ্যে শামিল করতে হবে।

দুই. যৌথ ব্যাপারে মানুষ স্বেচ্ছাচারিতা করার চেষ্টা করে অন্যদের অধিকার নস্যাত করে নিজের ব্যক্তিস্বার্থ লাভ করার জন্য, অথবা এর কারণ হয় সে নিজেকে বড় একটা কিছু এবং অন্যদের নগণ্য মনে করে। নৈতিক বিচারে এই দুটি জিনিসই সমপর্যায়ের হীন। মু’মিনের মধ্যে এ দুটির কোনেটিই পাওয়া যেতে পারেনা। মু’মিন কখনো স্বার্থপর হয়না। তাই সে অন্যদের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করে নিজে অন্যায় ফায়দা চাইতে পারেনা এবং অহংকারী বা আত্মপ্রশংসিতও হতে পরেনা যে নিজেকেই শুধু মহাজ্ঞানী ও সবজান্তা মনে করবে।

তিন, যেসব বিষয় অন্যদের অধিকতর ও স্বার্থের সাথে জড়িত সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি বড় দায়িত্ব। যে ব্যক্তি আল্লহ্কে ভয় করে এবং একথা জানে যে এর জন্য তাকে তার প্রভুর কাছে কতো কঠিন জবাবদিহি করতে হবে সে কখনো একা এই শুরুভার নিজের কাঁধে উঠিয়ে নেবার দুঃসাহস করতে পারেনা। এ ধরনের দুঃসাহস কেবল তারাই করে যারা আল্লাহর ব্যাপারে নির্ভিক এবং আখিরাত সম্পর্কে চিন্তাহীন। খোদাভীরু ও আখিরাতের জবাবদিহির অনুভূতি সম্পন্ন লোক কোনো যৌথ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কিংবা তাদের নির্ভরযোগ্য প্রতিনিধিদেরকে পরামর্শ গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই ইনসাফ ভিত্তিক সিদ্ধান্ত কিংবা তাদের নির্ভরযোগ্য প্রতিনিধিদেরকে পরামর্শ গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই শরীফ করার চেষ্টা করবে যাতে সর্বাধিক মাত্রায় সঠিক, নিরপেক্ষ এবং ইনসাফ ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়। এ ক্ষেত্রে যদি অজ্ঞাতসারে কোনো ত্রুটি হয়েও যায় তাহলে কোনো এক ব্যক্তির ঘাড়ে তার দায়দায়িত্ব এসে পড়বেনা।

এ তিনটি কারণ এমন, যদি তা নিয়ে কেউ গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করে তাহলে অতি সহজেই সে একথা উপলব্ধি করতে পারবে যে, ইসলাম যে নৈতিক চরিত্রের শিক্ষা দেয় পরামর্শ তার অনিবার্য দাবী এবং তা এড়িয়ে চলা একটি অতি বড় চরিত্রহীনতার কাজ। ইসলাম কখনো এ ধরনের কাজের অনুমতি দিতে পারেনা। ইসলামী জীবন পদ্ধতি সমাজের ছোট বড় প্রতিটি ব্যাপারেই পরামর্শের নীতি কার্যকরী হোক তা চায়। পারিবারিক ব্যাপার হলে সে ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী পরামর্শ করে কাজ করবে এবং ছেলেমেয়ে বড় হলে তাদেরকেও পরামর্শে শরীফ করতে হবে। খান্দান বা গোষ্ঠীর ব্যাপার হলে সে ক্ষেত্রে গোষ্ঠীর সমস্ত বুদ্ধিমান ও বয়ঃপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মতামত গ্রহণ করতে হবে। যদি একটি গোত্র বা জাতিগেষ্ঠী কিংবা জনপদের বিষয়াদি হয় এবং তাতে সব মানুষের অংশগ্রহণ সম্ভব না হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব পঞ্চায়েত বা সভা পালন করবে যেখানে কোনো সর্বসম্মত পন্থা অনুসারে সংশিষ্ট আস্থাভাজন প্রতিনিধিরা শরীফ হবে। গোটা জাতির ব্যাপার হলে তা পরিচালনার জন্য সবার ইচ্ছানুসারে তাদের নেতা নিযুক্ত হবে জাতীয় বিষয়গুলোকে সে এমন সব ব্যক্তিবর্গের পরামর্শ অনুসারে পরিচালনা করবে জাতি যাদেরকে নির্ভরযোগ্য মনে করে এবং সে ততক্ষণ পর্যন্ত নেতা থাকবে যতক্ষণ জাতি তাকে নেতা বানিয়ে রাখতে চাইবে।

২য় পর্ব পড়ুন

১৪ আগস্ট, ২০১৬

শহীদ আবদুল মালেকের আলোড়ন সৃষ্টি করা ৫ মিনিট


কালো বর্ণের এই মানুষটিকে কোনদিন দেখিনি। দেখার কথাও না। তিনি যে বছর শাহদাত বরণ করেন সে বছর আমার মায়ের জন্ম। কিন্তু এক অজানা ভালোবাসা লোকটার প্রতি। তার গল্প শুনলে, লাইফ স্টাইল নিয়ে আলোচনা হলে বুকের ভেতর হু হু করে উঠে। আবেগে দুই চোখ বন্ধ হয়ে আসে। মন তখন চিৎকার করে বলে উঠে তোমাদের পরাজয় নেই, হতে পারে না। মালেক ভাইরা যে কাফেলার মশাল নিয়ে হাঁটছে সে কাফেলার পরাজয় হতে পারেনা। তারা দূর্দম, তারা অজেয়।

সাহাবাদের গল্প শুনেছি আর মালেক ভাইয়ের গল্প শুনেছি। সাহাবাদের জীবনের প্রতিফলন এত অসাধারণভাবে নিজের জীবনে ঘটিয়েছেন তিনি। আল্লাহু আকবার। শহীদেরা এমনই...। শহীদেরা মরেন না। তাদের মৃত্যু নেই এই কথা বুঝার জন্য মালেক ভাইয়ের দিকে তাকালেই হয়। এখনো নিরবিচ্ছিন্নভাবে দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছেন। এখনো আমরা তার বক্তব্যে আন্দোলিত হই, উৎসাহিত হই, নতুন করে ইসলামী আন্দোলনে জীবন বিলিয়ে দেওয়ার শপথ নেই।

১৯৬৯ সালের ১২ আগষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে শিক্ষাব্যবস্থা সংক্রান্ত একটি কর্মশালায় ৫ মিনিটের এই বক্তব্য রেখে আলোড়ন সৃষ্টি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়নের মেধাবী তরুন শহীদ আব্দুল মালেক। 

এই বক্তব্যের পর ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ এবং জোর সমথর্ন সৃষ্টি হয়। প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে বাম সেকুলার পন্থী নেতারা সোহরাওয়ার্দীর উদ্যানে ফেরার পথে রড, হকিস্টিক দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে আব্দুল মালেক কে। ২ দিন পর ঢাকার পিজি হাসপাতালে শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন আব্দুল মালেক। 

চলুন সেই আলোড়ন সৃষ্টি করা বক্তব্যটি পড়া যাক... 

নতুন ঘোষিত শিক্ষানীতির Ideological basis সম্পর্কে এখানে আলোচনা হতে যাচ্ছে। 

এখানে এই basis সম্পর্কে শিক্ষানীতিতে যেটা বলা হয়েছে যে, “Pakistan must aim at ideological unity not at ideological vacuum”. It must impart a unit and integrated system of education which can impart education on the common set of cultural value based on teaches of Islam.

আমার মনে হয় আজকে যারা এখানে আলোচনা করেছেন তাদের পক্ষ থেকে এমন অনেকগুলো অযৗক্তিক বিষয় এর অবতারণা করা হয়েছে এ প্রসঙ্গে। Common set of cultural value বলতে হয়তো কেউ বুঝেছেন one side of cultural value. কিন্তু তাদের এটা মনে রাখা দরকার common set value মানে one side of cultural value নয়। One side of cultural value সোভিয়েত রাশিয়াতে রয়েছে যেখানে একটা politarianism society. আর সেখানে বিভিন্ন রাষ্ট্র যেগুলো রয়েছে অঙ্গরাজ্যগুলোর culture কে সম্পুর্নভাবে ধ্বংস করে দিয়ে সেখানে একটা one side of cultural value তৈরী করা হয়েছে। আমরা এটার বিরোধী। আমরা বলতে চাই common set of cultural value, not one side of cultural value.

এর পরবর্তী পর্যায়ে আমি আলোচনা করতে চাই যে, আসলে শিক্ষার উদ্দেশ্য কি? আমি এখানে অন্য কোন বিষয় না আলোচনা করে শুধুমাত্র মহা কবি মিল্টনেরই একটা কথাই আলোচনা করতে চাই। তিনি বলেছিলেন, “Education is the harmonious development of body, mind and soul. এই body, mind and soul এর the harmonious development কোন Ideology বা কোন আদর্শ ছাড়া হতে পারে? এটা যারা Ideological শিক্ষাব্যবস্থা চান না তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা।

এর পরে এসে আমি আপনাদের সামনে যে জিনিসটা আলোচনা করতে চাই তা হল যে মিল্টনের এ সংজ্ঞাকে সামনে রেখে আমরা যদি দেখি তাহলে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যক্তি চেতনা এবং সঠিক ব্যাক্তিত্ব সৃষ্টি করার মাধ্যমে জাতীয় চেতনা এবং জাতীয় মতের সৃষ্টি করা। এর পরে শিক্ষার্থী যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে mental, physical এবং moral ট্রেনিং দিয়ে তাদেরকে একটা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাতে করে তারা ভবিষতে জনসমষ্টির সাথে একটা common cultural এবং ideological basis একটা bridge তৈরী করতে পারে। এবং এখনকার যে আদর্শ রয়েছে সেটা যাতে ধীরে ধীরে increase হতে পারে ভবিষতের দিকে। এরকমই একটা পরিকল্পনা রয়েছে মিল্টনের এই সংজ্ঞার ভিতর দিয়ে।

এরপরে আমি আপনাদের সামনে আলোচনা করতে চাই ধমর্হীন শিক্ষাব্যবস্থার যারা প্রবক্তা তারা পাশ্চাত্যের সমাজের দিকে তাকিয়ে দেখুন যে পাশ্চাত্যে সমাজে liberal education এর নাম দিয়ে যে শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ণ করা হয়েছে সেই শিক্ষাব্যবস্থায় আমেরিকার একজন Philosopher, social philosopher তিনি বলেছেন শিক্ষা সম্পর্কে যে, Three kinds of progress are significant; progress in knowledge & technology; progress in socialization of man and progress in spirituality. The last is the most important. আর এই ভদ্রলোকের নাম হচ্ছে Albert Richard. তিনি যে বই লিখেছেন তার নাম হচ্ছে ‘Visiting of random part of life’. এরপর এসে তিনি বতর্মান আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষাব্যবস্থা যে, secular এবং liberal শিক্ষাব্যবস্থা যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সেখান থেকে turning point এ শিক্ষাকে ideological orient করার জন্য বলেছেন। এজন্য পরামর্শ দিয়েছেন, Our age must achieve spiritual renewal. A new Renesa must come. The Renesa in which mankind is covered with the ethical action, the supreme truth and the supreme utilitarianism. By which mankind will be revaluated. এই spiritual revaluation ছাড়া mankind এর কোন বিকল্প হতে পারে না- তিনি এটা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন। 

তো আমার মনে হয় আর কোন কথা এখানে আলোচনা করার প্রয়োজন নেই যে, যে পাশ্চাত্যে ধমর্হীন শিক্ষাব্যবস্থায়, তথাকথিত লিবারেল এডুকেশনে যিনি শিক্ষিত তিনি বতর্মান শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে; সেই পাশ্চাত্যের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে এ কথাগুলো বলেছেন। 
তো আমার কথা হচ্ছে পাকিস্তানের বুকে বাইশ বছর যাবৎ পর্যন্ত এ সেকুলার এবং ধমর্হীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত ছিল। এই শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের সমাজে এমন কতগুলো macular brain child এবং brown Englishman তৈরী করেছে যাদের মুখ থেকে আমরা ধমর্হীন শিক্ষাব্যবস্থার কথা শুনছি। জেনে রাখা দরকার এ শিক্ষাব্যবস্থা যখন প্রবর্তন করা হয় আজ থেকে দেড়শ বছর আগে তখন এই শিক্ষাব্যবস্থা যখন fail করলো মুসলমানদের মধ্যে তখন স্যার উইলিয়াম হান্টারকে assessment করতে দেয়া হয়েছিল। 

তিনি কি কথাগুলো বলেছিলেন দেখুন, তিনি বলেছেন, ‘The truth is that our system of public instruction is appose to the tradition on to that requirement and hatful to the religion of the Mussulmen’.

তো যারা বলেন যে ইসলামের Ideology কি? তাদেরকে আমি শুধু এই প্রশ্ন করব যে আপনারা একটু তার ইতিহাস একবার পর্যালোচনা করুন। ইসলামের ইতিহাস দেখে তার পরে বলুন ইসলামের ideology কী? এটার একটা বিরাট রকমের পরিস্কার instruction রয়েছে। আর Islamic ideology বা Islamic culture এর ভিত্তিতে যে সমাজ ও সোসাইটি গড়ে উঠেছিল সেখানে তার স্থানীয় culture বা স্থানীয় সংস্কৃতিরও সেখানে দাম ছিল এবং তাদেরকেও বিকাশ করার জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। সোভিয়েত রাশিয়ার মত সেখানে one side of culture করা হয়নি; common set of culture করা হয়েছিল। 

আজ আমার শেষ বক্তব্য হচ্ছে, পাকিস্তান আমরা পেয়েছি যে জন্য, যে উদ্দেশ্য সেখানে ১৯৩৮ সালে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক সাহেব পাটনা সম্মেলনে ঘোষণা করেছিলেন যে আমরা পাকিস্তান এর বুকে একটি ইসলামিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চাই।
............................................................ 

আসুন মালেক ভাইয়ের কিছু বিখ্যাত উক্তি পড়ি।
"জানি আমার কোন দুঃসংবাদ শুনলে মা কাঁদবেন, কিন্তু উপায় কি বলুন? বিশ্বের সমস্ত শক্তি আল্লাহর দেয়া জীবন বিধানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। আমরা মুসলমান যুককরা বেঁচে থাকতে তা হতে পারেনা"।

"হয় বাতিলের উৎখাত করে সত্যের প্রতিষ্ঠা করবো, নচেৎ সে চেষ্টায় আমাদের জীবন শেষ হয়ে যাবে"

"আমার প্রিয় ক্যাম্পাসের ছাত্রদেরকে ইসলামের দিকে আমার ডান হাত দিয়ে ডাকবো, ইসলামের শত্রুরা যদি আমার ডান হাতটি কেটে ফেলে তাহলে বাম হাত দিয়ে ডাকবো। ওরা যদি আমার বাম হাতটিও কেটে ফেলে তাহলে দুটো পা দিয়ে হলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ইসলামের সুমহান আদর্শের দিকে ডাকবো। ওরা যদি আমার দুটো পাও কেটে ফেলে তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এই ক্যাম্পাসের প্রতিটি ছেলেকে ইসলামের দিকে ডাকবো। ওরা যদি আমার চলার গতি স্তব্দ করে দেয় তাহলে আমার যে দুটো চোখ বেঁচে থাকবে সে চোখ দুটো দিয়ে হলেও ছাত্রদেরকে ইসলামের প্রতি ডাকবো। আমার চোখ দুটিকেও যদি ওরা উপড়ে ফেলে তাহলে হৃদয়ের যে চোখ রয়েছে তা দিয়ে হলেও আমি আমার জীবনের শেষ গন্তব্য জান্নাতের দিকে তাকিয়ে থাকবো"

"সৎগুণ ও সৎবৃত্তির বিকাশে মানুষের জীবন মনুষ্যত্বে ও মহত্বে পূর্ণ করে জীবন ও জগতের কল্যাণ সাধনই আদর্শ জীবনের চরম লক্ষ্য, পরম উদ্দেশ্য"

"মায়ের বন্ধন ছাড়া আমার আর কিছুই নেই। বৃহত্তর কল্যাণের পথে সে বন্ধনকে ছিঁড়তে হবে। কঠিন শপথ নিয়ে আমার পথে আমি চলতে চাই। আশির্বাদ করবেন, সত্য প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রামে যেন আমার জীবনকে আমি শহীদ করে দিতে পারি"

"আমার মা এবং ভাইরা আশা করে আছেন, আমি একটা বড় কিছু হতে যাচ্ছি। কিন্তু মিথ্যা সে সব আশা। আমি চাইনে বড় হতে, আমি ছোট থেকেই স্বার্থকতা পেতে চাই"

"আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসগুলোর চেয়ে ইসলামী ছাত্রসংঘের অফিস আমার জীবনে বেশী গুরুত্বপূর্ণ"

"আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, যাতে কারাগারের নীরন্ধ্র অন্ধকার, সরকারি যাঁতাকলের নিষ্পেষন আর ফাঁসীর মঞ্চও যেন আমাকে ভড়কে দিতে না পারে"।

"সংগ্রামের জিন্দেগী, মঞ্জিল তো অনেক দূরে। কুরআনের ডাকে, সেই পথে তীব্র গতিতে ছুটে চল"

"কেবল নফল ইবাদত আর তাসবীহ পড়ে ঐ তাসবীহর দানার উপর ইসলাম কায়েম হবেনা"

আল্লাহ তায়ালা এই মহান মানুষটিকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। আমীন 






# প্রেরণার বাতিঘর হতে সংগৃহীত 

৭ আগস্ট, ২০১৬

মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যাদের অবস্থান। পর্ব-০২


পৃথিবীর এক আজব দেশ বাংলাদেশ। এখানের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী স্বাধীনতা না চাইলেও তারা স্বাধীন হয়ে যায়। বিষয়টা জটিল মনে হলেও অতটা জটিল নয়। পাকিস্তান আমল এবং জামায়াত এই পোস্টটা পড়লে জটিলতা কিছুটা কেটে যাবে বলে আমার ধারণা।রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের একটা অংশ, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী, জামায়াতে ইসলামী, ওলামায়ে ইসলাম, পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি, জাতীয় দল, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, পূর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি ইত্যাদি দল স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এ ছাড়াও ইসলামপন্থী মানুষ, মুসলিম জাতীয়তাবোধ সম্পন্ন মানুষ এবং চীনপন্থী সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী মানুষেরা স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেন। রাজা ত্রিদিব রায়ের সকল চাকমা প্রজাসহ অন্যান্য প্রায় সকল উপজাতি পাকিস্তান রক্ষার ভূমিকা রাখেন। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সকল মানুষ পাকিস্তানের ভাঙ্গন ঠেকাতে তৎপর ছিলেন।

ধর্মীয় ব্যাক্তিত্ব: 
১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের বিপক্ষে শুধু ইসলামপন্থী ও মুসলিম জাতীয়তাবাদী দলসমূহ ছিল তা নয়, প্রায় সকল ধরণের ইসলামী ব্যাক্তিত্ব স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষে ছিলেন। যারা কোন রাজনীতি করেননি এমনকি ইসলামে রাজনীতি হারাম বলে মনে করতেন সে ধরণের আলেম, পীর মাশায়েখ পাকিস্তানের অখন্ডতার পক্ষে ছিলেন। চরমোনাই এর পীর, শর্ষীনার পীর থেকে শুরু করে ফুলতলীর পীর মাওলানা আবদুল লতিফ ফুলতলী, মাওলানা সৈয়দ মোস্তফা আলী মাদানী, মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর, মাওলানা মুফতি দ্বীন মোহাম্মদ খান, মাওলানা আনিসুর রহমান, মাওলানা আশ্রাফ আলী, মাওলানা আমিনুল হক, মাওলানা মাসুম, মাওলানা নূর আহমদ, মাওলানা আব্দুল মান্নান (জমিয়াতুল মোদারেছীন), মাওলানা সিদ্দীক আহমদ, মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুস, মাওলানা আজিজুল হক সহ শত শত আলিম পাকিস্তান ভেঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশ করার বিপক্ষে ছিলেন[৩৪]। 

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী:
ইসলামপন্থীদের মতই এদেশে বৌদ্ধ ধর্মের অনুরাগীরা পাকিস্তানের অখন্ডতায় বিশ্বাসী ছিলেন। এই ধর্মের ধর্মীয় গুরু ও বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের নেতা বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরো বলেন, পাঁচ লাখ বৌদ্ধের প্রিয় মাতৃভূমি পাকিস্তান চিরদিন পাকিস্তান বৌদ্ধদের পবিত্র স্থান হয়েই থাকবে। বৌদ্ধরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে দেশকে দুস্কৃতিকারীদের হাত থেকে রক্ষা করবে[৩৫]। 

বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরো, প্রফেসর ননী গোপাল বড়ুয়া এবং অন্যান্য নেতারা যখন কোন সফরে যেতেন তাদের নিরাপত্তার জন্য সবসময় পুলিশ ও কমান্ডো বাহিনী থাকতো। সে সময় চট্টগ্রাম জেলার অনেক বৌদ্ধ গ্রামে ‘চীনা বৌদ্ধ’ বলে বড় বড় ব্যানার রাখা রাখা হতো। ডিসেম্বরে পাকিস্তান ভারত যুদ্ধ শুরু হলে বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরো অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে থাকা আওয়ামী বুদ্ধিজীবী পিজি হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক প্রফেসর নূরুল ইসলামের কৃপায় হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিস্থিতি একেবারে শান্ত না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালেই ছিলেন[৩৬]। 

বুদ্ধিজীবী এবং অন্যান্য পেশাজীবী: 
যুদ্ধের সময় প্রায় সকল বুদ্ধিজীবী সুবিধাভোগীর ভূমিকায় অবস্থান নেন। বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে নিয়িমিত ক্লাস হয়। প্রায় সকল শিক্ষক পাকিস্তানের অখন্ডতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ক্লাস চালু রাখেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বেশ কিছু শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের আবাসিক ভবন থেকে অপহৃত হওয়াই প্রমাণ করে তারা মূলত পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছেন। আবার বাংলাদেশ হওয়ার সাথে সাথেই দল বদল করে বিপরীত শিবিরে তাদের জোরালো অবস্থান মোটামুটি বেশ চমকপ্রদ এবং বিরল। 

শিবনারায়ন দাস যিনি নিউক্লিয়াস সদস্য ছিলেন, তিনি বলেছেন, “কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা কম ছিল না, কিন্তু তারা ব্যস্ত ছিলেন পাকিস্তানের সংহতি এবং তমুদ্দুনকে বাঁচিয়ে রেখে আদমজী, ইস্পাহানীর পুরষ্কার নেবার প্রতিযোগীতায়”[৩৭] 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডঃ এম এন হুদা, ডঃ এ বি এম হাবিবুল্লাহ, ডঃ এম ইন্নাস আলী, ডঃ এ কে এম নাজমুল করিম, ডঃ মফিজুল্লাহ কবীর, অধ্যাপক আতিকুজ্জামান খান, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, ডঃ কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, ডঃ মুহাম্মদ এনামুল হক, ডঃ নীলিমা ইব্রাহীম, ডঃ এস এম আজিজুল হক, ডঃ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, ডঃ এ কে রফিকুল্লাহ সহ সকল শিক্ষক কাজে যোগদান করেছেন।[৩৮,৩৯]

জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীসহ রাবির প্রায় সকল শিক্ষক কাজে যোগদান করেছেন। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, “আমরা আমাদের প্রিয়ভূমি পাকিস্তানকে খন্ড করার অভিসন্ধির তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। রাজনৈতিক চরমপন্থীদের একতরফা স্বাধীনতা ঘোষনায় আমরা দুঃখ পেয়েছি ও হতাশ হয়েছি।”[৩৯]

বিচারপতি কে এম সোবহান, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী ও কবি শামসুর রাহমান যারা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন বজায় রেখে যুদ্ধের পর বড় বড় মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন তাদের সম্পর্কে ডঃ মাহবুবুল্লাহ বলেন, “কে এই কে এম সোবহান? যিনি ৭১ সালে সেনা শাসকের অধীনে পূর্ব-পাকিস্তানের বিচারক হিসেবে শপথ নিয়েছেন, সেই কে এম সোবহানের মুখে স্বাধীনিতার স্বপক্ষ উচ্চারণ শোভা পায় না

কে এই কবীর চৌধুরী? তার কাজ হচ্ছে প্রত্যেকটি সরকারের সেবা করা। আইয়ুব খাঁ থেকে শুরু করে ইয়াহিয়া খাঁ, মোনেম খাঁ পর্যন্ত প্রত্যেককে তিনি সেবাদান করেছেন। তিনি আজ যখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে কথা বলেন তখন প্রশ্ন করতে হয় কেন তখন তিনি বাংলা একাডেমীর দায়িত্ব পালন করেছেন?

আজকে যখন শামসুর রাহমান তালেবানী হামলার শিকার হন বলে দাবী করেন, মিথ্যাচার করেন, তখন প্রশ্ন করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের সময় শামসুর রাহমানকে যখন আমি বলেছিলাম সীমান্তের ওপারে যেতে এবং আমি তাকে সাহায্য করব, কেন তিনি ঢাকার মাটিকে আঁকড়ে ধরে ‘দৈনিক পাকিস্তানে’ মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সম্পাদকীয় রচনা করেছেন?”।[৪০] 

মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ওয়েবসাইট অনুসারে “হাইকোর্টের ৩৮ জন আইনজীবী এক যুক্ত বিবৃতিতে পাকিস্তানের ঘরোয়া বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপকে নগ্ন ও নির্লজ্জ অভিহিত করে এর প্রতিবাদ জানায় এবং সম্ভাব্য সকল উপায়ে দুষ্কৃতিকারীদের বাধাদানের জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান”।[৩৯]

সেসময়ের কিছু বিখ্যাত ও পন্ডিত ব্যাক্তি যারা নিজেদের অবস্থান পাকিস্তানের পক্ষে রেখেছেন। 

Ø বিচারপতি কে এম সোবহান। ১৯৭১ সালে সেনা শাসনের অধীনে পুর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।[৪০]

Ø কবীর চৌধুরী। বাংলা একাডেমীর পরিচালক হিসেবে ৭১ এ দায়িত্ব পালন করেন।[৪০,৪১] 

Ø শামসুর রাহমান। ১৯৭১ এ দৈনিক পাকিস্তানের উপ-সম্পাদক ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিদিনকার সম্পাদকীয় রচনা করতেন।[৪০]

Ø বিচারপতি বি এ সিদ্দিকী। পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি হিসেবে জেনারেল টিক্কা খানকে এবং গভর্ণর ডাঃ এ এম মালিককে শপথ বাক্য পাঠ করান।[৪২]

Ø বিচারপতি নাঈম উদ্দিন আহমেদ। ১৯৭১ সালে হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে শপথ নেন।[৪৩] 

Ø আহমেদুল কবীর। দৈনিক সংবাদের সম্পাদক। মোজাফফর ন্যাপের নেতা।[৪৪]

Ø আনোয়ার জাহিদ। সাংবাদিক। ভাসানী ন্যাপের নেতা।[৪৪] 

Ø ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে দায়িত্ব পালন করা বিচারপতিদের মধ্যে আরো ছিলেন আব্দুল মতিন, মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, খন্দকার মুসা খালেদ, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।[৪৫]

Ø মুনীর চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৭ মে পাকিস্তানের পক্ষে ও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে বিবৃতি দেন ৫৫ জন প্রথিতযশা শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।[৪৬,৪৭]

Ø ডঃ সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, উপাচার্য, রাবি। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ, লেখক এবং নাট্যকার। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø এম কবীর, বিভাগীয় প্রধান, ঢাবি। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø ডঃ মীর ফখরুজ্জামান, বিভাগীয় প্রধান, মনস্তত্ব, ঢাবি। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø ডঃ কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, রিডার, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø নূরুল মোমেন, নাট্যকার, সিনিয়র লেকচারার, আইন বিভাগ, ঢাবি। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø জুলফিকার আলী, বাংলা একাডেমী। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø আহসান হাবিব, বিখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক।৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø খান আতাউর রহমান, চিত্র পরিচালক, অভিনেতা ও সঙ্গীত পরিচালক। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø শাহনাজ রহমতুল্লাহ, বিখ্যাত গায়িকা। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø আশাকার ইবনে শাইখ, নাট্যকার, সিনিয়র লেকচারার, ঢাবি। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø ফরিদা ইয়াসমিন, বিখ্যাত গায়িকা। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø আব্দুল আলীম। বহু পল্লী গানের রচয়িতা, বিখ্যাত গায়ক। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø আব্দুল্লাহ ইউসুফ ইমাম, চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, লেখক। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø এ এইচ চৌধুরী, চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, লেখক। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø ডঃ মোহর আলী, রিডার, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø ডঃ আশরাফ সিদ্দিকী, বাংলা উন্নয়ন বোর্ড, ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø খন্দকার ফারুখ আহমাদ, গায়ক, ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]]

Ø সৈয়দ আব্দুল হাদী, গায়ক, ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø নীনা হামিদ, গায়িকা, ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø এম এ হামিদ, গায়ক, ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø লায়লা আর্জুমান্দ বানু, গায়িকা, ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø শামুসুল হুদা চৌধুরী, চীফ ইনফরমেশন অফিসার। পরে জাতীয় সংসদের স্পীকার। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø বেদারউদ্দিন আহমাদ, শিল্পী। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø সাবিনা ইয়াসমিন, বিখ্যাত গায়িকা, ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø ফেরদৌসী রহমান, বিখ্যাত গায়িকা, ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø মোস্তাফা জামান আব্বাসী, বিখ্যাত গায়ক, ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø সরদার জয়েন উদ্দিন, গল্পকার, ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø সৈয়দ মুর্তজা আলী, লেখক, সাহিত্য সমালোচক। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø তালিম হোসেন, কবি, পরিচালক, নজরুল একাডেমী। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø শাহেদ আলী, ছোট গল্পকার, পরিচালক, ইসলামী একাডেমী (যা পরে ইসলামী ফাউন্ডেশন হয়)। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø কবি আব্দুস সাত্তার। সম্পাদক, মাহে নও। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø ফররুখ শীয়র, নাট্যকার, সুপার ভাইজার, রেডিও পাকিস্তান।[৪৬,৪৭]

Ø কবি ফররুখ আহমেদ, ইসলামী রেনেসাঁর কবি, অনুষ্ঠান পরিচালক, রেডিও পাকিস্তান। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø আব্দুস সালাম, সম্পাদক, পাকিস্তান অবজারভার, ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø এ জি বদরুদ্দিন, সম্পাদক, মর্ণিং নিউজ, ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø আবুল কালাম শামসুদ্দিন, সম্পাদক, দৈনিক পাকিস্তান। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø ফতেহ লোহানী, চিত্র পরিচালক, অভিনেতা, প্রেসিডেন্ট স্বর্ণপদক প্রাপ্ত। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø হেমায়েত হোসেন, লেখক, সম্পাদক, এলান। রেডিও পাকিস্তান। ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø বি এম রহমান, লেখক, ৫৫ জন বিবৃতি প্রদানকারীদের একজন।[৪৬,৪৭]

Ø এছাড়াও বিবৃতি প্রদানকারীদের মধ্যে ছিলেন মবজুলুল হোসেন, আকবর উদ্দিন, আকবর হোসেন, এ এফ এম আব্দুল হক, অধ্যক্ষ এ কিউ এম আদম উদ্দিন, আলী মনসুর, কাজী আফসার উদ্দিন আহমাদ, সানাউল্লাহ নূরী, শামসুল হক, সরদার ফজলুল করীম, বদিউজ্জামান, শফিক কবির, ফওজিয়া খান, লতিফা চৌধুরী।[৪৬,৪৭]

Ø ডঃ এম এ ওয়াজেদ মিয়া, শেখ হাসিনার স্বামী। আনবিক শক্তি কমিশনের চাকরীতে নিয়োজিত ছিলেন।[৪৮]

Ø প্রফেসর ডাঃ নুরুল ইসলাম, পাকিস্তান সরকারের অনুগত থেকে পিজির পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আহত সেনাবাহিনীর অফিসারদের চিকিৎসক ছিলেন। পরবর্তিতে শেখ মুজিব তাকে ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ দেন।[৪৯]

Ø ইত্তেফাক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা মানিক মিয়ার দুই ছেলে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন এবং আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দুইজনই পাকিস্তানপন্থী ছিলেন।[৫০] আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বর্তমানে বাংলাদেশের মন্ত্রী। 

Ø সেলিনা হোসেন, বাংলা একাডেমীতে কর্মরত ছিলেন।[৫১]

Ø এডভোকেট আব্দুস সালাম, শেখ মুজিবের মামা, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পিপিপি তে যোগ দেন এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেন।[৫২,৪৪] 

সংবাদপত্র
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলায় প্রকাশিত সকল পত্রিকা পাকিস্তানের পক্ষে ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে ছিল দৈনিক আযাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক পূর্বদেশ উল্লেখযোগ্য। দৈনিক আযাদ এবং দৈনিক পূর্বদেশ ছিল মুসলিম জাতীয়তাবাদী, দৈনিক সংগ্রাম ছিল জামায়াতের মুখপত্র, দৈনিক পাকিস্তান ছিল সরকারি আর দৈনিক ইত্তেফাক ছিল আওয়ামীলীগের মুখপত্র। সবচেয়ে বেশী অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে এবং ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ বিরুদ্ধে জাতীয় শত্রু হিসেবে গণ্য করে প্রচারণা চালায় দৈনিক পূর্বদেশ। ইত্তেফাক পত্রিকার ভূমিকা, স্বাধীনতার বিরোধীতা, তাজউদ্দিনের বিমাতাসুলভ আচরণ, শেখ মুজিবের ক্ষমা ইত্যাদি নিয়ে লিখেছেন আব্দুল গাফফার চৌধুরী।[৫০]

যাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীতার বড় অভিযোগ তারা হলেন পূর্বদেশ ও Pakistan observer এর মালিক হামিদুল হক চৌধুরী, Pakistan observer এর সম্পাদক মাহবুবুল হক, পূর্বদেশ সম্পাদক এহতেশাম হায়দার চৌধুরী, দৈনিক পাকিস্তান সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন, দৈনিক আযাদ সম্পাদক সৈয়দ শাহদাত হোসেন এবং দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আখতার ফারুক। 

সরকারী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাঃ 
১৯৭১ সালে প্রায় দু’শ জন সি এস পি ছিলেন যারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান হতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ডঃ আকবর আলী খানের মতে তাদের মধ্যে মাত্র তের জন স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে ছিলেন।[৫৩] এছাড়া ই পি সি এস ৬২ জন এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে মাত্র ৫১ জন স্বাধীনতার পক্ষে ছিল।[৫৪] যারা তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানে বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন এবং স্বাধীনতার বিপক্ষে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে তিন শতাধিক কর্মকর্তার তালিকা পাওয়া যায় এম আর আখতার মুকুলের চরমপত্র বইতে।[৫৫] মজার বিষয় হলো এদের মধ্যে কেউ পরবর্তী জীবনে এই কারণে কোন শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় নি। এই তালিকার প্রায় সবাইকে শেখ মুজিব স্বাধীন বাংলাদেশের সচিব বানিয়েছে। এর মধ্যে নুরুল ইসলাম অনু যিনি টিক্কা খানের পি এস ছিলেন শেখ মুজিব তাকে নিজের পি এস বানিয়ে নেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা, ব্যাংক এশিয়ার ভাইস চেয়ারম্যান।[৫৬,৫৭] 

পার্বত্য উপজাতিঃ 
সকল উপজাতি জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সরাসরি বিরোধীতা করে। চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্যই শুধু দেখাননি, তিনি পাক সামরিক বাহিনীকে পার্বত্য অঞ্চলে নিয়ে যান। তিনি বাংলাদেশ হওয়ার পর পাকিস্তানে চলে যায় পাকিস্তানের মন্ত্রীসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[৫৮] আওয়ামীলীগের উপজাতি এমপি আউং শু প্রু চৌধুরী পাকিস্তানের অখন্ডতায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং তিনি মালেক মন্ত্রীসভার সদস্য ছিলেন। পার্বত্য জেলা সমূহের সকল উপজাতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এতটাই বিরোধী ছিল যে, পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী ও সহায়তাকারী বাহিনী ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করলেও তারা এই ঘটনায় তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি। তারা যে সকল শর্তে আত্মসমর্পন করে তা হল, 
১- স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতার জন্য উপজাতিদের কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবেনা 
২- বাঙ্গালীরা যাতে তাদের আক্রমন করতে না পারে সেজন্য ভারতীয় বাহিনীকে তাদের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। 
৩- তাদের রাজ পরিবার সমূহের উপর কোন আক্রমন করা যাবেনা বা তাদের মর্যাদা বিনষ্ট করা যাবে না। 
৪- নাগা ও মিজো দমনের নামে ভারতীয় বাহিনী কোন উপজাতি সদস্যকে হয়রানী করতে পারবে না।[৫৮]

তথ্য উৎস: 
৩৪- বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলিম সমাজের ভূমিকা ও প্রভাব(১৯৭২-২০০১)/ ড. তারেক মোহাম্মদ তাওফীকুর রহমান/ পৃঃ-২৪
৩৫- বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ : বহুমাত্রিক বিশ্লেষন/ এম আই হোসেন/ পৃঃ- ১২৩-১২৪
৩৬- স্বাধীনতা সংগ্রামে পার্বত্য চট্টগ্রাম/ এস এস চাকমা/ আমাদের একাত্তর (সংকলন)/ সম্পাদনা: মহিউদ্দিন আহমদ/ পৃঃ- ৩১৭-৩১৯ 
৩৭- মনের মত যুদ্ধ করতে পারিনি/ শিবনারায়ন দাস/ আমাদের একাত্তর (সংকলন)/ সম্পাদনা: মহিউদ্দিন আহমদ/ পৃঃ- ১৭
৩৮- বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ : বহুমাত্রিক বিশ্লেষন/ এম আই হোসেন/ পৃঃ- ১২৫
৩৯- মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ওয়েবসাইট 
৪০- দুঃসময়ের কথাচিত্র সরাসরি/ ড. মাহবুবুল্লাহ ও আফতাব আহমেদ/ পৃঃ- ১৯৭,১৯৮ 
৪১- চরমপত্র/ এম আর আখতার মুকুল/ পৃঃ- ৩৪৮ 
৪২- মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ওয়েবসাইট/ পয়লা জুন 
৪৩- স্বাধীনতা সংগ্রামে পার্বত্য চট্টগ্রাম/ এস এস চাকমা/ আমাদের একাত্তর (সংকলন)/ সম্পাদনা: মহিউদ্দিন আহমদ
৪৪- মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ওয়েবসাইট/ ১২ অক্টোবর 
৪৫- সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট 
৪৬- একাত্তরের ঘাতক ও দালালেরা কে কোথায়?/ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশ কেন্দ্র/ পঞ্চম মুদ্রণ/ পৃঃ- ১৪২-১৪৬
৪৭- চরমপত্র/ এম আর আখতার মুকুল/ পৃঃ- ৫১
৪৮- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ/ ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া 
৪৯- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ/ ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া/ পৃঃ- ১০৯ 
৫০- ইতিহাসের রক্ত পলাশ ১৫ আগস্ট পঁচাত্তর/ আব্দুল গাফফার চৌধুরী/ পৃঃ- ৩১-৩২ 
৫১- আমাদের একাত্তর (সংকলন)/ সম্পাদনা: মহিউদ্দিন আহমদ 
৫২- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ/ ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া/ পৃঃ- ১০৪
৫৩- বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ : বহুমাত্রিক বিশ্লেষন/ এম আই হোসেন/ পৃঃ- ১৩১- ১৩২
৫৪- বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১/ এইচ টি ইমাম/ পৃঃ-১৩৯
৫৫- চরমপত্র/ এম আর আখতার মুকুল/ পৃঃ- ৩৩৩-৩৪৭ 
৫৬- বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ : বহুমাত্রিক বিশ্লেষন/ এম আই হোসেন/ পৃঃ- ১৪১
৫৭- http://www.bankasia-bd.com/home/nurul_islam অ্যাকসেস ইন ৭/৮/১৬
৫৮- স্বাধীনতা সংগ্রামে পার্বত্য চট্টগ্রাম/ এস এস চাকমা/ আমাদের একাত্তর (সংকলন)/ সম্পাদনা: মহিউদ্দিন আহমদ/ পৃঃ- ৩২১